📘 নবীজীর হাসি 📄 আনসার সাহাবীদের একত্রিত হওয়া দেখে নবীজীর হাসি

📄 আনসার সাহাবীদের একত্রিত হওয়া দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আমর ইবনে আওফ আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহকে বাহরাইন প্রেরণ করেন যেন তিনি সেখান থেকে জিযিয়া বা অমুসলিমদের উপর আরোপিত কর উসল করে আনেন। তিনি সেখান থেকে জিযিয়া উসল করে আনেন। যখন আনসার সাহাবীগণ জানতে পারলেন যে, আবু উবাইদা (রা.) এসেছেন, তখন তারা সবাই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ফজরের নামায পড়ে তাঁর সামনে বসলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দেখে হেসে দিলেন। তারপর বলেন, আমার মনে হয়, তোমরা খবর পেয়েছ যে, আবু উবায়দা বাহরাইন থেকে কিছু নিয়ে এসেছেন। সাহাবারা জবাব দিলেন- জি হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ!

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদেরকে সুসংবাদ দিচ্ছি, তোমরা এমন ব্যাপারে আশান্বিত থাক যা তোমাদেরকে খুশি করে দেবে। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দরিদ্রতার ভয় করি না। বরং তোমাদের সামনে দুনিয়া প্রসারিত হওয়ার ব্যাপারে আমি ভীত। তোমাদের পূর্বসুরীদের সামনে যেভাবে দুনিয়া প্রসারিত হয়ে গিয়েছিল। তোমরা ধীরে ধীরে দুনিয়ার মোহে পড়ে যাবে। তোমাদের পূর্বসুরীদের মতো। তারপর দুনিয়া তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে। যেমন তোমাদের পূর্বসুরীদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। [বুখারী, মুসলিম, তারগীব ও হায়াতুস সাহাবা: ২: ২৯২]

📘 নবীজীর হাসি 📄 হযরত আবু বকর ও উমর (রা.)কে দেখে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আবু বকর ও উমর (রা.)কে দেখে নবীজীর হাসি


হযরত আনাস (রা.) বলেন- নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুহাজির ও আনসার সাহাবাদের মধ্যে আবু বকর ও উমর (রা.)ও বসা থাকতেন। নবীজী আগমন করলে এ দু'জন ছাড়া আর কেউ তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাতেন না। এঁরা দু'জন নবীজীকে দেখতেন আর নবীজীও তাঁদেরকে দেখতেন। তাঁরা নবীজীকে দেখে হাসতেন। নবীজীও তাঁদেরকে দেখে মুচকি হাসি দিতেন।

হযরত বারা ইবনে আযিব (রা.) বলেন- আমরা নবীজীর মজলিসে এমনভাবে চুপচাপ বসে থাকতাম যেন আমাদের মাথায় পাখি বসে আছে, আর নড়লেই তা উড়ে যাবে। কেউ কোন কথা বলছে না। তখন হঠাৎ কিছু লোক নবীজীর কাছে আসলো। তারা জিজ্ঞেস করলো- আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় বান্দা কে? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী। [হাকীম, তিরমিযী, তাবারানী, ইবনে হিব্বান, আবু ইয়ালা, শিফা লিল ক্বাযী ইয়াজ, তরজুমানুস সুন্নাহ, কানযুল উম্মাল: ৭: ১১১, হায়াতুস সাহাবা: ২: ৩৬৪]

📘 নবীজীর হাসি 📄 হযরত সাফিনার কাজে নবীজীর হাসি

📄 হযরত সাফিনার কাজে নবীজীর হাসি


হযরত সাফিনাহ (রা.) বর্ণনা করেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সিঙা লাগিয়ে বিষাক্ত রক্ত বের করালেন। সেটা আমাকে দিয়ে বললেন- এটা এমন জায়গায় মাটিচাপা দিয়ে দাও যেন কোন প্রাণী এর নাগাল না পায়। আমি নবীজীর থেকে সরে আড়াল হয়েই তা পান করে ফেললাম। পরে নবীজীকে ঘটনাটি বললে তিনি শুনে হেসে দিলেন।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন- তাঁর পিতা মালিক ইবনে সিনান (রা.) ওহুদের যুদ্ধে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহত হন এবং চেহারা থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল তখন তিনি তাঁর রক্ত চুষতে ছিলেন। আর গিলে খাচ্ছিলেন। তাঁকে বলা হলো, আপনি নবীজীর রক্ত চুষছেন? তিনি বলেন- হ্যাঁ, আমি হুযুরের রক্ত পান করছি। এটা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার রক্ত তার রক্তের সাথে মিশে গিয়েছে। এখন আর জাহান্নামের আগুন তার গায়ে লাগবে না। [তাবারানী, মাজমাউয যাওয়াইদ লিল হায়ছামী, হায়াতুস্ সাহাবা: ২: ২৬৭]

📘 নবীজীর হাসি 📄 হযরত আবদুল্লাহর কাজে নবীজীর হাসি

📄 হযরত আবদুল্লাহর কাজে নবীজীর হাসি


হযরত উমর (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি ছিল। লোকেরা তাকে গাধা বলতো। সে নবীজীকে পেলে হাসাত। মদ পান করার অপরাধে নবীজী তাকে বেত্রাঘাতও করেন। একদিন তাকে নবীজীর দরবারে মদপান করার অপরাধে হাজির করা হলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেন। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহ! তার প্রতি অভিশাপ নাযিল কর। তাকে বারবার একই অপরাধে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। (শাস্তি ভোগ করছে অথচ মদ ছাড়ছে না।)

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- তার প্রতি অভিশাপ দিও না। আল্লাহর কসম! তুমি জান না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বন্ধু মনে করে।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, গাধা নামে প্রসিদ্ধ এক ব্যক্তি ছিল। সে নবীজীর জন্য ঘি এবং মধু পাত্র ভরে এনে হাদিয়া হিসেবে পেশ করতো। ঘি এবং মধু বিক্রেতা তার কাছে যখন এর মূল্য দাবী করতো তখন সে বিক্রেতাকে নিয়ে নবীজীর দরবারে হাজির হয়ে নবীজীকে বলতো- হে আল্লাহর রাসূল! তাকে তার পণ্যের মূল্য পরিশোধ করে দিন। তার এ কাজ দেখে নবীজী হাসতেন এবং এর মূল্য পরিশোধ করে দেয়া হতো। একদিন মদ পান করার অভিযোগে তাকে নবীজীর দরবারে হাজির করা হলো। এক ব্যক্তি বলে উঠলো- আল্লাহ তার প্রতি অভিশাপ করুন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- এমন বলো না। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে। [বুখারী, ইবনে জবীর, বাইহাকী, আবু ইয়ালা, কানযুল উম্মাল: ৩ ১০৭, হায়াতুস্ সাহাবা: ২: ৪৭৯]

ফন্ট সাইজ
15px
17px