📘 নবীদের দুআ 📄 দু’আর পঞ্চম অংশ: আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন

📄 দু’আর পঞ্চম অংশ: আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন


মিশরের অর্থমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে এখন ইউসুফের (আ.) সব রয়েছে। তিনি ক্ষমতা, মর্যাদা ও আভিজাত্য পেয়েছেন, পুনরায় মিলিত হয়েছেন প্রিয় পিতা ও পরিবারের সাথে। তাঁর এখন আর কি চাওয়া থাকতে পারে?

কিন্তু তিনি আল্লাহর কাছে ঈমানদার হিসেবে মৃত্যুবরণ করার আর্জি পেশ করলেন। যখন সবকিছু স্বাভাবিক হতে থাকে, পরিস্থিতি অনুকূলে আসতে শুরু করে, তখন আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়াটা আমাদের জন্য বেশ সহজ হয়ে পড়ে। বিষয়টি ইউসুফ (আ.) বুঝতে পারেন, তাই তিনি এই আন্তরিক দু'আটি করেন, যেখানে তিনি চেয়েছেন ঈমানদার হিসেবে মৃত্যুবরণ করতে।

শিক্ষা:
যখন সময় ভাল হতে থাকে, প্রায়শই আমরা তখন আল্লাহ তা'আলার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে থাকি। আমরা আল্লাহকে ভুলে নিজেদের জীবন সংগ্রামে মগ্ন হয়ে পড়ি। অন্ধকারকে দূরে হটিয়ে আল্লাহ আমাদেরকে যে আলোর সন্ধান দিয়েছেন এবং আমাদের উপর তিনি প্রতিনিয়ত যে রহমত ও করুণা বর্ষণ করে যাচ্ছেন, তা ভুলে যাওয়া আমাদের জন্য চরম অকৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। আল্লাহর সাহায্য ও করুণার দ্বারাই আমরা আমাদের জীবনের সকল প্রতিবন্ধকতা পার করি। পরিশেষে, আমরা যদি ঈমানদার হিসেবে আল্লাহর নিকট পৌঁছাতে না পারি, তবে আমরা যত অর্জনই করি না কেন, তা মূল্যহীন।

📘 নবীদের দুআ 📄 দু’আর ষষ্ঠ অংশ: এবং শেষ পর্যন্ত আমাকে সৎকর্মীদের সাথে মিলিত করুন

📄 দু’আর ষষ্ঠ অংশ: এবং শেষ পর্যন্ত আমাকে সৎকর্মীদের সাথে মিলিত করুন


বেশিরভাগ নবী এবং তাদের অনুগত সাহাবিগণ পাপাচারে পূর্ণ পরিবেশ ও মন্দ লোকদের দ্বারা বেষ্টিত ছিলেন। ইউসুফ (আ.)-ও শৈশব থেকেই একই অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছেন। তাকে নিয়ে তাঁর ভাইয়েরা হিংসা করতো এবং ষড়যন্ত্র করে তারা তাকে কুয়াতে ফেলে দেয়। এরপর একদল লোক তাকে উদ্ধার করে এবং নিজেদের লাভের কথা ভেবে তাকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়। অতপর তিনি মন্ত্রীর গৃহে আশ্রয় পান এবং সেখানে মন্ত্রীর স্ত্রীর তাকে প্রলুব্ধ করতে চেষ্টা চালায়। কিন্তু সুবিধা করতে না পেরে সে শহরের অভিজাত নারীদের ডেকে এনে পরিস্থিতিকে আর কঠিন করার চেষ্টা করে। যার ফলে ইউসুফ (আ.) কারাগারে পর্যন্ত নিক্ষিপ্ত হন।

কিন্তু ইউসুফ (আ.) ভালোভাবেই অবগত ছিলেন যে, এসবই আল্লাহর পরিকল্পনা। আল্লাহ বিনা কারণে তাকে এমন মন্দ পরিবেশ ও নোংরা মানসিকতার মানুষদের দ্বারা বেষ্টিত করেননি। বরং এসবই ছিল তাঁর জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। তিনি দেখতে চান কিভাবে আপনি আপনার সেরাটা বের করে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন এবং সবর তথা ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জীবনে সত্য ও ন্যায়কে ধারণ করেন।

ইউসুফ (আ.) মৃত্যুর পরের জীবনে শুধু নেক ও সৎ লোকদের সাথে পুনরুত্থিত হতে চেয়েছেন। তিনি জানতেন, পৃথিবীতে তাঁর উদ্দেশ্য পূরণের জন্য খারাপ পরিবেশে থাকা অসুবিধাজনক নয়, যদি আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ন্যায় ও সত্যের আলো সবদিকে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

শিক্ষা:
সূরা আন-নূরে ঈমানদার ব্যক্তিকে আলোকবর্তিকার সাথে তুলনা করা হয়েছে। তাই আমাদের জন্য আদর্শ হচ্ছে এমন ব্যক্তি হওয়া, যে কিনা অন্ধকার পরিবেশে আলো ছড়িয়ে দেবে। আশেপাশের লোকদের সাথে ভালো ব্যবহার করা, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার সাথে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ প্রদান ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ করার ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়াটাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আমাদের দায়িত্ব হবে সত্য ও ন্যায়কে ধারণ করা এবং নিজেদেরকে ওই আলোকবর্তিকায় রূপান্তরিত করা, যা অন্ধকারে আলো ছড়াবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية