📘 নবীদের দুআ 📄 ইউসুফের (আ.) সাথে নারীদের সাক্ষাৎ

📄 ইউসুফের (আ.) সাথে নারীদের সাক্ষাৎ


ইউসুফ (আ.) ও মন্ত্রীর সুন্দরী ও অভিজাত স্ত্রীর মধ্যে যা ঘটেছিল, ওই বিষয়টি অতিশীঘ্রই ফাঁস হয়ে যায় এবং শহরের অভিজাত নারীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ চালাতে থাকে যে, কিভাবে সে নিজের খ্যাতি, মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে একজন দাসের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে?

এই আলোচনা শীঘ্রই মন্ত্রীর স্ত্রীর কানে পৌঁছায়। একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ নারী হিসেবে শহরের রাজনীতির কলা-কৌশলের ব্যাপারে পারদর্শী হওয়ায় তিনি ওইসব অভিজাত নারীর সমালোচনা দ্বারা দমে যাওয়ার কেউ ছিলেন না। তাই তিনি তাদেরকে শিক্ষা দেবার জন্য একটি সুক্ষ্ম পরিকল্পনা তৈরি করেন। তিনি তাদেরকে নিজ প্রাসাদে ভোজ উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য নিমন্ত্রণ জানান। যখন তারা তাঁর প্রাসাদে উপস্থিত হয়, তখন তিনি তাদের প্রত্যেকের হাতে ফল কাটার জন্য একটি ছুরি দিয়ে দেন।

فَلَمَّا سَمِعَتْ بِمَكْرِهِنَّ أَرْسَلَتْ إِلَيْهِنَّ وَأَعْتَدَتْ لَهُنَّ مُتَّكَةً وَآتَتْ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِّنْهُنَّ سِكِّينًا وَقَالَتِ اخْرُجْ عَلَيْهِنَّ فَلَمَّا رَأَيْنَهُ أَكْبَرْنَهُ وَقَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ وَقُلْنَ حَاشَ لِلَّهِ مَا هَذَا بَشَرًا إِنْ হাযা إِلَّا مَلَكٌ كَرِيمٌ

'যখন সে তাদের চক্রান্ত শুনলো, তখন তাদেরকে ডেকে পাঠাল এবং তাদের জন্যে একটি ভোজসভার আয়োজন করলো। সে তাদের প্রত্যেককে একটি ছুরি দিয়ে বললো, ইউসুফ এদের সামনে চলে এসো। যখন তারা তাকে দেখলো, হতভম্ব হয়ে গেল এবং আপন হাত কেটে ফেললো। তারা বললো, কখনই নয়! এ ব্যক্তি মানব নয়। এ তো কোনো মহান ফেরেশতা।' - সূরা ইউসুফ, ১২:৩১

ইউসুফ (আ.)-কে তাদের সামনে আসতে বলা হয় এবং তাঁর এ আদেশ মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। তারা তাকিয়ে তাকিয়ে তাঁর সৌন্দর্য দেখছিল এবং ভুলে গিয়েছিল যে, তাদের হাতে ছুরি আছে। ওই নারীরা তাঁর আকৃতি ও রূপ দ্বারা এতটাই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল যে, তারা ফল কাটার বদলে নিজেদের হাত কেটে ফেলে এবং তারা ইউসুফ (আ.)-কে ফেরেশতা হিসেবে বর্ণনা দিতে শুরু করে। আত্মবিশ্বাসী ও অহংকারী আজিজের স্ত্রী তাঁর অতিথিদের দিকে উল্লসিত হয়ে বলেন:

قَالَتْ فَذَلِكُنَّ الَّذِي لُمْتُنَّنِي فِيهِ وَلَقَدْ رَاوَدتُّهُ عَن نَّفْسِهِ فَاسْتَعْصَمَ وَلَئِن لَّمْ يَفْعَلْ مَا آمُرُهُ لَيُসْجَنَنَّ وَلَيَكُونًا مِّنَ الصَّاغِرِينَ

'এ তো ওই ব্যক্তি, যার জন্যে তোমরা আমাকে ভর্ৎসনা করছিলে। আমি ওরই মন জয় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে। আর আমি যা আদেশ দেই, সে যদি তা না করে, তবে অবশ্যই সে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হবে এবং হবে লাঞ্ছিত।' - সূরা ইউসুফ, ১২:৩২

ইউসুফ (আ.) নিজের পবিত্র তারুণ্যসহ রাজধানীর অভিজাত নারীদের সামনে এমন এক সুন্দর বদনখানা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, যা এই দুনিয়ার সকল সৌন্দর্যকে হার মানায়। এই পরিস্থিতিতে তিনি আল্লাহ তা'আলাকে আহ্বান করেন এবং দু'আ করেন:

قَالَ رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُن مِّنَ الْجَاهِلِينَ

'ইউসুফ বললো, হে (আমার) পালনকর্তা! তারা আমাকে যে কাজের দিকে আহবান করছে, তাঁর চাইতে আমি কারাগারকেই পছন্দ করি। যদি আপনি তাদের চক্রান্ত আমার উপর থেকে প্রতিহত না করেন, তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বো এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো' - সূরা ইউসুফ, ১২:৩৩

হযরত ইউসুফের (আ.) এই দু'আটির পূর্ণ তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হলে, ইউসুফ (আ.)-কে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তাঁর একটি দৃশ্যপট নিজেদের কল্পনাতে ফুটিয়ে তুলতে হবে। কুর'আনের এই আয়াতগুলোর আলোকে দৃশ্যপটটি এরূপ হবে:

বিশ বছরের সুদর্শন যুবক, যিনি জোরপূর্বক দাসত্ব ও নির্বাসনের অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে যৌবনের স্বাস্থ্য ও তেজ নিয়ে মরুভূমি থেকে মিশরে প্রবেশ করেছেন। ভাগ্য তাকে ওই সময়ের সর্বাধিক সভ্য দেশের রাজধানীর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেয়। ওই পরিবেশে সুদর্শন এই তরুণটি জীবনের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। যে বাড়িতে তাকে থাকতে হবে, সেই বাড়ির নারী গৃহকর্ত্রী প্রেমে পড়ে যায় এবং তাকে প্রলুব্ধ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে তাঁর সৌন্দর্য্যের খ্যাতি পুরো রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং শহরের অন্যান্য অভিজাত নারীও তাঁর সৌন্দর্য্যে বিমোহিত হয়। আর এভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠে। লালসার ফাঁদ তাঁর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। সব ধরনের কৌশল তাঁর আবেগকে উত্তেজিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সে যেখানেই যায় সেখানেই যেন লালসার পাপ তাকে আক্রমণের জন্য ওৎ পেতে আছে।

কিন্তু ঈমানদার এই যুবক শয়তানের সৃষ্ট এসব অগ্নিপরীক্ষা সফলতার সাথে পাড়ি দিয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণের এক উজ্জ্বল নিদর্শন প্রদর্শন করে, যা সত্যই প্রশংসনীয়। তবে এখানে প্রশংসার সবচেয়ে বড় দিকটি হচ্ছে: এমন লালসাময় পরিস্থিতিতে নিজের ঈমানকে অটুট রাখার পাশাপাশি তিনি নিজের ঈমান নিয়ে কোনো ধরনের গর্ব বা আত্ম-অহমিকায় ভেসে যাচ্ছেন না। বরং তিনি বিনীতভাবে আল্লাহ তা'আলার নিকট এই বলে দু'আ করেন যে, হে আমার রব, আমি দুর্বল, আমি আশঙ্কা করি এই প্রলোভনগুলি আমাকে আয়ত্ত করে ফেলতে পারে। আর এমন পাপে জড়ানোর চেয়ে আমি তো জেলখানাকে উত্তম হিসেবে বেছে নেবো। প্রকৃতপক্ষে, এটা ছিল ইউসুফের (আ.) প্রশিক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এই অগ্নিপরীক্ষা তাঁর সুপ্ত গুণগুলোকে বের করে আনে, যেগুলো সম্পর্কে তিনি নিজেও অজ্ঞাত ছিলেন। এরপরই তিনি বুঝতে পারেন যে, আল্লাহ তা'আলা তাকে সততা, বিশ্বস্ততা, ধর্মভীরুতা, দানশীলতা, ন্যায়নিষ্ঠা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, মানসিক ভারসাম্যের মতো উচ্চ গুণাবলী দান করেছেন এবং যখন তিনি মিশরে ক্ষমতা লাভ করেন, তখন তিনি এসব গুণের পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন।

শিক্ষা:
যখন আমরা নিজেদেরকে সঠিক পরিবেশ ও সৎকর্মপরায়ণদের দ্বারা ঘিরে রাখি, তখন আমাদের জন্য এই পথে নিজেদেরকে সমুন্নত রাখাটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, কারণ আমাদেরকে যে দ্বীন তথা ইসলাম দেওয়া হয়েছে, তা মূলত ফিতরাত বা স্বভাব ধর্ম, আর তাই সহজাতভাবেই আমাদের থেকে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য চলে আসে। অন্যদিকে আমরা যদি নিজেদেরকে মন্দ পরিবেশ ও অসৎ মানুষের সহচর্যে রাখি, তবে আমাদের সহজাত প্রকৃতি দূষিত হয়ে পড়ে এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই আমাদের জন্য এমন মানুষদের সঙ্গ ত্যাগ করা আবশ্যক, যাদের সঙ্গ আমাদেরকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে গাফেল রাখে। আমাদের উচিত এমন মানুষদের আশেপাশে থাকা, যারা আমাদেরকে ফিতরাতের পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করে।

ইউসুফ (আ.) জানতেন, তাঁর সকল মর্যাদা আল্লাহ তা'আলার হাতে এবং কেবল তিনিই তা কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তিনি নিজের মর্যাদার জন্য বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন, বরং তিনি তাঁর ঈমানকে এসব পাপী মানুষের কবল থেকে হেফাজতের বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই তিনি নিজের ঈমান ও আল্লাহর আনুগত্যের স্বার্থে এমন পরিবেশে থাকার চেয়ে কারাগারে যাওয়াকেই শ্রেয় মনে করেন এবং সেখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন।

📘 নবীদের দুআ 📄 ইউসুফের (আ.) সাথে পিতা ইয়াকুব (আ.) এবং পরিবারের সদস্যদের পুনর্মিলন

📄 ইউসুফের (আ.) সাথে পিতা ইয়াকুব (আ.) এবং পরিবারের সদস্যদের পুনর্মিলন


আসুন আমরা ইউসুফ (আ.) এই আরেকটি দু'আ পর্যালোচনা করি, তবে তাঁর তাৎপর্য উপলব্ধি করতে আমাদেরকে কিছুটা পেছনে ফিরে যেতে হবে।

ইউসুফ (আ.) যেসব পরিস্থিতি পার করছেন, আসুন আমরা সেগুলোর দিকে একটু নজর দিই:
১. (বাল্যকাল) নিজের ভাইয়েরা তাকে কুয়ার মধ্যে ফেলে দেয়।
২. কুয়া থেকে উদ্ধার করে তাকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
৩. (তরুণ) মন্ত্রীর স্ত্রী তাকে ব্যভিচারের জন্য প্রলোভন দেখায়।
৪. এমন পরিবেশের মুখোমুখি হন, যার চতুর্দিক কামুক নারীদের পদচারণায় মুখর।
৫. (প্রাপ্তবয়স্ক) মিথ্যা অভিযোগে বছরের পর বছর কারারুদ্ধ করে রাখা হয়।
৬. কারাগারের সাথি বিশ্বাসঘাতকতা করে, যাকে ইউসুফ (আ.) সাহায্য করেছিলেন।

ইউসুফ (আ.) শৈশব থেকে যৌবন অবধি যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান এবং পিতা ইয়াকুবের (আ.) সাথে পুনরায় মিলিত হওয়ার মাধ্যমে ইউসুফের (আ.) ঘটনাটি একটি সুন্দর পরিণতি লাভ করে। কিন্তু এই পুনর্মিলনের আগে আশ্চর্যজনক কিছু ঘটনা ঘটে, যা এই পুনর্মিলনকে বাস্তবে রূপ দিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউসুফ (আ.) তাঁর পিতা ও তাঁর পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার পর যে দু'আ করেন, তাঁর প্রকৃত হাকিকত উপলব্ধি করতে হলে আমাদেরকে ওই ঘটনাগুলো জানতে হবে এবং এজন্য একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে।

📘 নবীদের দুআ 📄 ফিরে দেখা

📄 ফিরে দেখা


উপযুক্ত সময়েই ইউসুফ (আ.)-কে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, তবে ওই সময়ে এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মিশরের বাদশাহ একটি স্বপ্ন দেখেন, যা ইউসুফ (আ.)-কে পুরো সম্মান ও মর্যাদার সাথে জেল থেকে বের করে আনার মূল কারণ হয়ে ওঠে:

وَقَالَ الْمَلِكُ إِنِّي أَرَى سَبْعَ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعَ سُنبُلَاتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَفْتُونِي فِي رُؤْيَايَ إِن كُنتُمْ لِلرُّؤْيَا تَعْبُرُونَ

'বাদশাহ বললো, আমি স্বপ্নে দেখলাম, সাতটি মোটাতাজা গাভী, এদেরকে সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে যাচ্ছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুষ্ক। হে পরিষদবর্গ! তোমরা আমাকে আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলো, যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী হয়ে থাকো।' - সূরা ইউসুফ, ১২:৪৩

বাদশার সভাসদরা বাদশাহর মতোই হতবাক হয়ে যায় এবং এই স্বপ্নকে কল্পনাপ্রসূত আখ্যা দিয়ে তারা বলে, এই স্বপ্ন ব্যাখ্যার উপযোগী নয় (সূরা ইউসুফ, ১২:৪৪)। ইউসুফের (আ.) সাথে কারাগারে ছিল এমন এক মদ-পরিবেশক যখন বাদশাহর এমন স্বপ্নের কথা শুনে, তখন তাঁর মনে ইউসুফের (আ.) কথা ভেসে ওঠে, যেহেতু কারাগারে বহু বছর আগে ইউসুফ (আ.) একবার এই লোকের দেখা স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। সে নিজে থেকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে এগিয়ে আসে এবং বলে তাকে যেন ইউসুফের (আ.) কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। লোকটি কারাগারে ফিরে আসেন এবং ইউসুফের (আ.) কাছে স্বপ্নটির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে এর ব্যাখ্যা দিতে অনুরোধ করেন, যাতে তিনি দরবারের লোকদেরকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানাতে পারেন (সূরা ইউসুফ, ১২:৪৬)।

📘 নবীদের দুআ 📄 ইউসুফের (আ.) দ্বারা স্বপ্নের ব্যাখ্যা

📄 ইউসুফের (আ.) দ্বারা স্বপ্নের ব্যাখ্যা


ইউসুফের (আ.) দেওয়া ব্যাখ্যা যে সঠিক, তা বাদশাহ ও তাঁর পরিষদ বুঝতে সক্ষম হয় এবং একই সাথে ইউসুফ (আ.)-কে অন্যায়ভাবে বন্দী করা যে কতটা ভুল ছিল, তা তারা উপলব্ধি করে। আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের বদৌলতেই ইউসুফ (আ.) বাদশাহের দেখা এই স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হন।

قَالَ تَزْرَعُونَ سَبْعَ سِنِينَ دَأَبًا فَمَا حَصَدتُّمْ فَذَرُوهُ فِي سُنبুলোহি إِلَّا قَلِيلًا مِمَّا تَأْكُلُونَ ﴿৪৭﴾ ثُمَّ يَأْتِي مِن بَعْدِ ذَلِكَ سَبْعٌ شِدَادٌ يَأْكُلْنَ مَا قَدَّمْتُمْ لَهُنَّ إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّا تُحْصِنُونَ ﴿৪৮﴾ ثُمَّ يَأْتِي مِن بَعْدِ ذَلِكَ عَامٌ فِيهِ يُغَاثُ النَّاسُ وَفِيهِ يَعْصِرُونَ

'ইউসুফ বললো, তোমরা সাত বছর উত্তমরূপে চাষাবাদ করবে। অতপর যা কাটবে, তাঁর মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা খাবে, তা ছাড়া অবশিষ্ট শস্য শীষসমেত রেখে দেবে। এবং এরপরে আসবে দুর্ভিক্ষের সাত বছর; তোমরা এ দিনের জন্যে যা রেখেছিলে, তা খেয়ে যাবে, কিন্তু অল্প পরিমাণ ব্যতীত, যা তোমরা তুলে রাখবে। এর পরেই আসবে একবছর, এতে মানুষের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং এতে তারা রস নিঙড়াবে (জলপাই ও আঙ্গুর)।' - সূরা ইউসুফ, ১২:৪৭-৪৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px