📄 দুই ধরনের সওয়াল রয়েছে
সওয়াল দুই ধরনের রয়েছে:
১. প্রশ্ন
২. অনুরোধ
নবী নূহ (আ.) প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে কোনো প্রশ্ন করছেন না, বরং তিনি অত্যন্ত বিনয় ও সম্মানের সাথে এই অনুরোধ জানাচ্ছেন যে,
'হে আল্লাহ, আমার হৃদয়কে এমন কিছুর ভালবাসা থেকে রক্ষা করুন, যা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই যে, তা আমার জন্য ভালো কি মন্দ।'
'হে আল্লাহ, আমাকে এমন কিছু থেকে রক্ষা করুন, যা সম্পর্কে আমার জ্ঞান নেই।'
'হে আল্লাহ, আমাকে এমন কিছু ভালোবাসার হাত থেকে রক্ষা করুন, যা আপনি ভালোবাসেন না।'
আল্লাহ আমাদের ইলম বা জ্ঞান দিয়েছেন এবং এই জ্ঞানের সাহায্যে আমাদের উচিত আমাদের আবেগ ও চিন্তা-চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করা, বিশেষভাবে যখন আমরা সংবেদনশীল ও আবেগঘন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই।
📄 প্রথম দৃশ্যপট (বিপথগামী ইচ্ছা)
আল্লাহ আমাদেরকে জ্ঞান দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের মন যা চায়, আমরা তা করতে চাই, এ ব্যাপারে কুর'আন কি বলে তা আমাদের জানার দরকার নেই কিংবা আমরা তার তোয়াক্কা করি না। আমাদের ইচ্ছা ও অনুভূতি যা বলে, আমরা যদি সেটাই করতে নেমে পড়ি, তবে ধরে নিতে হবে যে আমাদের কামনা ও বাসনা আমাদের উপর চেপে বসেছে। এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বুঝতে হবে যে, আমরা এই নূহের (আ.) এই দু'আ থেকে কিছুই শিখছি না।
যখন আমরা কোনো জিনিস করার ইচ্ছা করি, কিন্তু এটা যাচাই করি না যে, ওই জিনিসটি আল্লাহ তা'আলার দেওয়া শিক্ষা মোতাবেক কিনা, তখন আমরা নিশ্চিতভাবে পথভ্রষ্ট হবো। আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা, তিনি গোটা বিশ্বের বাদশাহ, তিনি ভালো করেই জানেন যে, কোনটা আমাদের জন্য কল্যাণকর আর কোনটা অকল্যাণকর। যখন আমরা আল্লাহ তা'আলার মর্জিকে উপেক্ষা করে কোনো কাজ করি, তখন আমরা নিজেদেরকে সব সময় উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে পাই।
📄 দ্বিতীয় দৃশ্যপট (হেদায়েত বা দিক-নির্দেশনাসমৃদ্ধ ইচ্ছা)
আল্লাহ আমাদেরকে জ্ঞান দিয়েছেন এবং কুর'আন থেকে আমরা তাঁর পবিত্র বার্তা জানতে পারি, জানতে পারি তাঁর শিক্ষা এবং তিনি কোন জিনিস পছন্দ করেন আর কোন জিনিস করেন না। যখন আমরা কোনো কিছু করার ইচ্ছা করি এবং তা আল্লাহর দেওয়া শিক্ষা মোতাবেক কিনা, তা জেনে নিই, তখন তা আমাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে এবং ওই কাজটি করার ক্ষেত্রে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির বিষয়টিকে সর্বাগ্রে রাখি, তখন কাজটিতে আল্লাহর তরফ থেকে বরকত নেমে আসে。
📄 শিক্ষা
নূহ (আ.) আল্লাহর নিকট এই আবেদন করছেন যে, তিনি যেন তাঁর অন্তরকে ভিন্ন ধরনের ভালবাসা দিয়ে পূর্ণ করেন। আল্লাহ যা পছন্দ করেন, তিনি সে ধরনের ইচ্ছা করতে চান। তিনি চান আল্লাহ যেন তাঁর ভালোবাসার ধরনকে বদলে দেন, যেহেতু তিনি নিজে তাঁর অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম নন, বরং আল্লাহই পারেন মানুষের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে। একইসাথে তিনি আল্লাহর দরবারে ক্ষমাও চাচ্ছেন, অন্যথায় তিনি যে ক্ষতিগ্রস্তদের দলভুক্ত হয়ে যাবেন।
যখন আমরা আমাদের অন্তরকে আল্লাহর আনুগত্য করতে দিই, আসলে সেটাই আত্মসমর্পণ। যদিও তা সহজ কোনো কাজ নয়। কিন্তু আমাদেরকে তা অর্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে, তবেই আমাদের পক্ষে উত্তম ও নেককার মানুষ হওয়া সম্ভব এবং এমনটি আমাদের জীবনে বয়ে আনবে আল্লাহর তরফ থেকে রহমত ও অনুগ্রহ।