📄 নূহের (আ.) দু’আ
قَالَ رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ
নূহ বলেন, 'হে আমার পালনকর্তা! যা আমার জানা নেই, এমন কোনো দরখাস্ত করা হতে আমি আপনার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, দয়া না করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের দলে শামিল হবো। - সূরা হুদ, ১১:৪৭
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলাকে (সিদ্ধান্তের ব্যাপারে) প্রশ্ন তোলার ব্যাপারে নূহ (আ.) আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেন। চিন্তা-ভাবনা যখন একটি পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন আমাদের মাথায় নানা ধরনের চিন্তার আবির্ভাব ঘটে। আল্লাহ সম্পর্কে, তাঁর বিচার-ফায়সালা নিয়ে নানা উদ্ভট চিন্তা এবং এমন ধরনের প্রশ্নের উদ্ভব ঘটে, যা বিনয় ও সম্মানের মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়। যখন আমরা আল্লাহকে সম্বোর্ডন করবো কিংবা তাঁকে ডাকবো, তখন আমাদেরকে অবশ্যই বিনয় ও সম্মান প্রদর্শন করাটা আবশ্যক।
📄 দুই ধরনের সওয়াল রয়েছে
সওয়াল দুই ধরনের রয়েছে:
১. প্রশ্ন
২. অনুরোধ
নবী নূহ (আ.) প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে কোনো প্রশ্ন করছেন না, বরং তিনি অত্যন্ত বিনয় ও সম্মানের সাথে এই অনুরোধ জানাচ্ছেন যে,
'হে আল্লাহ, আমার হৃদয়কে এমন কিছুর ভালবাসা থেকে রক্ষা করুন, যা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই যে, তা আমার জন্য ভালো কি মন্দ।'
'হে আল্লাহ, আমাকে এমন কিছু থেকে রক্ষা করুন, যা সম্পর্কে আমার জ্ঞান নেই।'
'হে আল্লাহ, আমাকে এমন কিছু ভালোবাসার হাত থেকে রক্ষা করুন, যা আপনি ভালোবাসেন না।'
আল্লাহ আমাদের ইলম বা জ্ঞান দিয়েছেন এবং এই জ্ঞানের সাহায্যে আমাদের উচিত আমাদের আবেগ ও চিন্তা-চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করা, বিশেষভাবে যখন আমরা সংবেদনশীল ও আবেগঘন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই।
📄 প্রথম দৃশ্যপট (বিপথগামী ইচ্ছা)
আল্লাহ আমাদেরকে জ্ঞান দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের মন যা চায়, আমরা তা করতে চাই, এ ব্যাপারে কুর'আন কি বলে তা আমাদের জানার দরকার নেই কিংবা আমরা তার তোয়াক্কা করি না। আমাদের ইচ্ছা ও অনুভূতি যা বলে, আমরা যদি সেটাই করতে নেমে পড়ি, তবে ধরে নিতে হবে যে আমাদের কামনা ও বাসনা আমাদের উপর চেপে বসেছে। এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বুঝতে হবে যে, আমরা এই নূহের (আ.) এই দু'আ থেকে কিছুই শিখছি না।
যখন আমরা কোনো জিনিস করার ইচ্ছা করি, কিন্তু এটা যাচাই করি না যে, ওই জিনিসটি আল্লাহ তা'আলার দেওয়া শিক্ষা মোতাবেক কিনা, তখন আমরা নিশ্চিতভাবে পথভ্রষ্ট হবো। আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা, তিনি গোটা বিশ্বের বাদশাহ, তিনি ভালো করেই জানেন যে, কোনটা আমাদের জন্য কল্যাণকর আর কোনটা অকল্যাণকর। যখন আমরা আল্লাহ তা'আলার মর্জিকে উপেক্ষা করে কোনো কাজ করি, তখন আমরা নিজেদেরকে সব সময় উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে পাই।
📄 দ্বিতীয় দৃশ্যপট (হেদায়েত বা দিক-নির্দেশনাসমৃদ্ধ ইচ্ছা)
আল্লাহ আমাদেরকে জ্ঞান দিয়েছেন এবং কুর'আন থেকে আমরা তাঁর পবিত্র বার্তা জানতে পারি, জানতে পারি তাঁর শিক্ষা এবং তিনি কোন জিনিস পছন্দ করেন আর কোন জিনিস করেন না। যখন আমরা কোনো কিছু করার ইচ্ছা করি এবং তা আল্লাহর দেওয়া শিক্ষা মোতাবেক কিনা, তা জেনে নিই, তখন তা আমাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে এবং ওই কাজটি করার ক্ষেত্রে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির বিষয়টিকে সর্বাগ্রে রাখি, তখন কাজটিতে আল্লাহর তরফ থেকে বরকত নেমে আসে。