📘 নবীদের দুআ 📄 আল্লাহর জবাব

📄 আল্লাহর জবাব


قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنِّي أَعِظُكَ أَن تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ

জবাবে নূহকে বলা হলো, 'হে নূহ! নিশ্চয় সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চয়ই সে দুরাচার! তাই আমার কাছে এমন দরখাস্ত করবেন না, যার খবর তুমি জানো না। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তুমি অজ্ঞদের দলভুক্ত হয়ো না।' - সূরা হুদ, ১১:৪৬

আল্লাহ নূহের (আ.) অবাধ্য পুত্রের ব্যাপারে বলেন, 'তাঁর আচরণ নেক বান্দাদের মতো ছিল না।' আল্লাহ পিতামাতাকে সন্তানের দায়িত্ব এজন্য দেন যে, যাতে তারা তাদেরকে লালন-পালন করে এবং সদাচারী ও যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর যথাযথ প্রশিক্ষণ লাভ করতে পারে। পিতামাতার নেওয়া যাবতীয় প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সন্তান যদি শিষ্টাচারী ও নেককার না হয়, তবে সন্তানকে উপযুক্ত মানুষ বানানোর যে দায়িত্ব পিতামাতাকে দেওয়া হয়েছে, তা ফলপ্রসূ বা সফল হয়নি। সন্তান যেহেতু পিতামাতার হাতে গড়া জিনিস, সে মোতাবেক এ কাজটিকে মূল্যহীন কাজের সাথে তুলনা করা যায়। নূহের (আ.) পুত্র তেমন হননি, যেমনটি তাঁর পিতা তাকে বানাতে চেয়েছেন। যেহেতু যাবতীয় প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নূহের (আ.) প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, সে দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর পুত্র তাঁর পরিবারভুক্ত নয়। আর তাই মহাপ্লাবন শুরু হওয়ার সাথে সাথে ওই অবাধ্য পুত্রের সাথে নবী নূহের (আ.) রক্তের যাবতীয় অধিকারকে কর্তন করা হয় এবং তাকে মহাপ্লাবনের আজাব আস্বাদন করানো হয়।

নূহের (আ.) উদ্দেশ্যে আল্লাহর এ সতর্কবার্তার মর্ম এই নয় যে, নূহ (আ.) ঈমানি দুর্বলতায় ভুগছিলেন অথবা তাঁর ঈমানে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে কিংবা অজ্ঞ লোকদের মতোই তাঁর বিশ্বাস ছিল। বরং এতে নূহের (আ.) উচ্চতর নৈতিকতার প্রমাণ মেলে। অন্যান্য নবীর মতো নূহ (আ.)-ও একজন মানুষ ছিলেন, তাই তিনি স্বাভাবিক মানবীয় দুর্বলতায় ভুগছিলেন অর্থাৎ সন্তানের প্রতি পিতামাতার ভালোবাসা। এজন্য তিনি তাঁর পালনকর্তাকে অনুরোধ করেন, যাতে তিনি তাঁর পুত্রকে মহাপ্লাবন থেকে উদ্ধার করেন। আল্লাহ তাকে সতর্ক করে দেন। কেননা, একজন নবীর উচ্চ নৈতিক চরিত্রের দাবি এটাই যে, তিনি নিজের রক্তের সম্পর্কের জন্যেও কোনো অনুরোধ করবেন না, যদি তারা ঈমানের বদলে কুফরি ও শিরক বেছে নেয়। আর তাই যখনই তাকে সতর্ক করা হয় সাথে সাথেই তিনি উপলব্ধি করেন যে, তিনি মানবীয় দুর্বলতার কারণে নবীর উচ্চ পদ থেকে একজন পিতার স্তরে নেমে এসেছেন। তৎক্ষণাৎ নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি অনুতাপ করেন এবং এমনভাবে আচরণ করতে থাকেন, যেন কিছুক্ষণ আগে তাঁর পুত্র মহাপ্লাবনে ডুবে মারা যায়নি। নবী নূহের (আ.) এমন চরিত্র আমাদের নিকট স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য নবী ছিলেন। তিনি আবার নিজের নববী চরিত্রের উচ্চ মাকামে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সত্যকে অস্বীকার করা ও তাওহিদের পরিবর্তে শিরককে বেছে নেওয়া পুত্রের জন্য আল্লাহর দরবারে অনুরোধ করার জন্য ক্ষমা চান।

📘 নবীদের দুআ 📄 নূহের (আ.) দু’আ

📄 নূহের (আ.) দু’আ


قَالَ رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ

নূহ বলেন, 'হে আমার পালনকর্তা! যা আমার জানা নেই, এমন কোনো দরখাস্ত করা হতে আমি আপনার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, দয়া না করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের দলে শামিল হবো। - সূরা হুদ, ১১:৪৭

ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলাকে (সিদ্ধান্তের ব্যাপারে) প্রশ্ন তোলার ব্যাপারে নূহ (আ.) আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেন। চিন্তা-ভাবনা যখন একটি পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন আমাদের মাথায় নানা ধরনের চিন্তার আবির্ভাব ঘটে। আল্লাহ সম্পর্কে, তাঁর বিচার-ফায়সালা নিয়ে নানা উদ্ভট চিন্তা এবং এমন ধরনের প্রশ্নের উদ্ভব ঘটে, যা বিনয় ও সম্মানের মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়। যখন আমরা আল্লাহকে সম্বোর্ডন করবো কিংবা তাঁকে ডাকবো, তখন আমাদেরকে অবশ্যই বিনয় ও সম্মান প্রদর্শন করাটা আবশ্যক।

📘 নবীদের দুআ 📄 দুই ধরনের সওয়াল রয়েছে

📄 দুই ধরনের সওয়াল রয়েছে


সওয়াল দুই ধরনের রয়েছে:
১. প্রশ্ন
২. অনুরোধ

নবী নূহ (আ.) প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে কোনো প্রশ্ন করছেন না, বরং তিনি অত্যন্ত বিনয় ও সম্মানের সাথে এই অনুরোধ জানাচ্ছেন যে,
'হে আল্লাহ, আমার হৃদয়কে এমন কিছুর ভালবাসা থেকে রক্ষা করুন, যা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই যে, তা আমার জন্য ভালো কি মন্দ।'
'হে আল্লাহ, আমাকে এমন কিছু থেকে রক্ষা করুন, যা সম্পর্কে আমার জ্ঞান নেই।'
'হে আল্লাহ, আমাকে এমন কিছু ভালোবাসার হাত থেকে রক্ষা করুন, যা আপনি ভালোবাসেন না।'

আল্লাহ আমাদের ইলম বা জ্ঞান দিয়েছেন এবং এই জ্ঞানের সাহায্যে আমাদের উচিত আমাদের আবেগ ও চিন্তা-চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করা, বিশেষভাবে যখন আমরা সংবেদনশীল ও আবেগঘন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই।

📘 নবীদের দুআ 📄 প্রথম দৃশ্যপট (বিপথগামী ইচ্ছা)

📄 প্রথম দৃশ্যপট (বিপথগামী ইচ্ছা)


আল্লাহ আমাদেরকে জ্ঞান দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের মন যা চায়, আমরা তা করতে চাই, এ ব্যাপারে কুর'আন কি বলে তা আমাদের জানার দরকার নেই কিংবা আমরা তার তোয়াক্কা করি না। আমাদের ইচ্ছা ও অনুভূতি যা বলে, আমরা যদি সেটাই করতে নেমে পড়ি, তবে ধরে নিতে হবে যে আমাদের কামনা ও বাসনা আমাদের উপর চেপে বসেছে। এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বুঝতে হবে যে, আমরা এই নূহের (আ.) এই দু'আ থেকে কিছুই শিখছি না।

যখন আমরা কোনো জিনিস করার ইচ্ছা করি, কিন্তু এটা যাচাই করি না যে, ওই জিনিসটি আল্লাহ তা'আলার দেওয়া শিক্ষা মোতাবেক কিনা, তখন আমরা নিশ্চিতভাবে পথভ্রষ্ট হবো। আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা, তিনি গোটা বিশ্বের বাদশাহ, তিনি ভালো করেই জানেন যে, কোনটা আমাদের জন্য কল্যাণকর আর কোনটা অকল্যাণকর। যখন আমরা আল্লাহ তা'আলার মর্জিকে উপেক্ষা করে কোনো কাজ করি, তখন আমরা নিজেদেরকে সব সময় উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে পাই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px