📄 নৌকা তৈরি
নূহের (আ.) সম্প্রদায়ের লোকেরা এতটা বিগড়ে গিয়েছিল যে, তিনি তাদের ব্যাপারে আশা ছেড়ে দেওয়া অথবা তাদের হেদায়তের জন্য দু'আ করা ছাড়া আর কোনো পথ রইলো না। হাদিস অনুসারে, প্রত্যেক নবী-রাসূল তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের জন্য দু'আ করার সুযোগ পেতেন, যা সর্বদা মঞ্জুর করা হতো। নূহ (আ.) ঠিক সেই দু'আটি তাঁর নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের ধ্বংসের জন্য ব্যবহার করেন। এমনটি তিনি রাগ বা তাদের প্রতি বিদ্বেষ থেকে করেননি, বরং তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন যে, তাদের অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ এতদূর গড়িয়েছে যে, তাদের জন্য সংশোধনের সকল রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।
আল্লাহ নূহের (আ.) দু'আ কবুল করেন। ইবনে আব্বাস (রা)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, যখন বৃষ্টি শুরু হয়, তখন বন্য প্রাণী, গৃহপালিত প্রাণী থেকে শুরু করে পাখিরা পর্যন্ত নূহের (আ.) কাছে আসে এবং তাঁর অধীনস্থ হয়। আল্লাহর আদেশে মোতাবিক তিনি প্রতিটি প্রজাতির একটি পুরুষ ও একটি নারীসহ একজোড়া করে নৌকায় তুলেন। নৌকার নিচের অংশটি ছিল প্রাণিদের জন্য, মাঝের অংশটি মানুষের জন্য এবং উপরের অংশটি পাখিদের জন্য।
📄 মহাপ্লাবন
এরপর যা ঘটেছিল, তা অনুমান করা যেতে পারে। আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো জায়গা কোথাও নেই; পালানোর জন্য নেই অন্য কোনো নৌকা। নূহের (আ.) নৌকা ছাড়া সবই যেন মৃত্যুফাঁদ। প্লাবন শুরু হওয়ার সাথে সাথে নূহের (আ.) নৌকাটি ভেসে উঠল এবং আল্লাহর আদেশে তা পরিণত হলো মুমিনগণ ও তাদের নবীর জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এমন পরিস্থিতিতে কাফেরদের কি হয়েছিল? আমরা খুব সহজেই তাদের ভয় ও আতংকের অবস্থাটা কল্পনা করতে পারি। পানির উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে সবার মধ্য থেকে চিন্তা করার শক্তিটুকু গায়েব হতে থাকে এবং সকলে নিজেকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। অল্প বয়স্ক, দুর্বল ও বৃদ্ধরা ওই প্লাবনে ডুবে যায়। যারা সবল ও শক্তিশালী ছিল, তারা নিকটবর্তী উঁচু পাহাড়ে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়।
আল্লাহ তা'আলা নূহ (আ.)-কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে সুরক্ষিত রাখা হবে। কিন্তু নূহের (আ.) এক পুত্র নৌকতে উঠেনি এবং সে কাফেরদের সাথে থাকাকেই পছন্দ করেছিল। নিজ পুত্রের জীবন রক্ষার তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। তিনি নিজের সন্তানকে চোখের সামনে ডুবে যেতে দেখে অস্থির হয়ে পড়েন। এমন বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে তিনি আকুল হয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করেন:
وَنَادَى نُوحٌ رَّبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ
নূহ (আ.) তাঁর রবকে বললেন, 'হে রব! আমার পুত্র তো আমার পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত; আর আপনার ওয়াদাও নিঃসন্দেহে সত্য এবং আপনিই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিচারক।'- সূরা হুদ, ১১:৪৫
বিশ্লেষণ: 'হে আমার প্রভু, অবশ্যই আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য। আপনি আমার পরিবারকে উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি আপনার সিদ্ধান্তকে বিশ্বাস করি এবং আমি আপনার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ পোষণ করি না, তবে আমি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত। সে আমার পুত্র এবং পুত্র তো পরিবারের একটি অংশ, আর আপনিই তো আমাকে আমার পরিবারকে উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অর্থাৎ আপনার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আমার পরিবারের সদস্যরা এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে, তাই আমার পুত্রকে এ মহাপ্লাবন থেকে বাঁচান, যেহেতু সে আমার পরিবারেরই একজন সদস্য।'
'আপনিই সর্বোত্তম শাসক এবং আপনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং আপনার ঘোষিত রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনের কোনো সুযোগ নেই। আপনি সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান শাসক। আর আপনার সমস্ত সিদ্ধান্ত জ্ঞান ও পরম ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত।'
📄 আবেদনটির গভীরতা উপলব্ধি
আমাদেরকে এটা স্বীকার করতে হবে যে, নূহ (আ.) যতটা মহান নবী ছিলেন, ঠিক ততটাই তিনি একজন পিতাও ছিলেন বটে। তিনি তাঁর পরিবার এবং বিশেষত তাঁর সন্তানদের ভালোবাসতেন। সন্তানেরা যতই পথভ্রষ্ট হোক না কেন, কিংবা যতটা পাপী ও বিদ্রোহী হয়ে উঠুক না কেন, পিতামাতা হিসেবে আমরা কখনই তাদের কষ্ট সহ্য করতে পারি না। কোনো পিতামাতাই তাদের চোখের সামনে নিজেদের সন্তানের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেন না। এমন আবেগঘন, বেদনাদায়ক ও অসহায় পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে যে আর্তনাদ করা হয়েছে, তা এসেছে এক পিতার পক্ষ থেকে, যিনি তাঁর পুত্রকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। নূহ (আ.) না আল্লাহকে অমান্য করেছেন, আর না তিনি তাঁর কর্তৃত্বকে অস্বীকার করেছেন। বরং তিনি শেষ আশা হিসেবে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করেছেন, যিনিই পারেন তাঁর পুত্রের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে। এটা ছিল পিতার পক্ষ থেকে আল্লাহর নিকট বিনয়ের আহাজারি।
- আল্লাহর সাথে কথা বলার সময় সর্বদা বিনয়ী কণ্ঠ ব্যবহার করতে হবে
- আল্লাহর সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে রাগান্বিত বা অমার্জিত কণ্ঠ ব্যবহারের তো প্রশ্নই আসে না
শিক্ষা:
পরিস্থিতি যতই কঠিন হয়ে উঠুক না কেন; আল্লাহর সাথে আমাদের যে ধরনের কণ্ঠস্বর ব্যবহারের কথা আমরা ঠিক তেমন মার্জিত কণ্ঠস্বর দ্বারাই যেন তাঁকে আহ্বান করি। আপনি আল্লাহর জন্য এমন কণ্ঠস্বর ব্যবহার করতে পারবেন না, যা তাঁর পরিকল্পনা ও ইচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, আর না আপনি তাঁর সাথে রাগ দেখাতে পারেন। কেননা, আপনি এমন সত্তার সাথে কথা বলছেন, যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি আপনার ভিতর ও বাহির সবই জানেন। আপনি নিজেকে যতটা না ভালোবাসেন, তাঁর থেকেও তিনি আপনাকে বেশি ভালোবাসেন। আপনি আপনার সন্তানকে যতটা ভালোবাসেন, তিনি তার থেকেও তাদেরকে বেশি ভালোবাসেন। কেননা, সবই যে তাঁর আপন হাতে গড়া সৃষ্টি।
আল্লাহ 'আর-রহমান', যখন তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন, তখনও তাঁর রহমত ও ভালোবাসা ওইসব সৃষ্টির জন্য বহাল ছিল, কিন্তু তাঁর রহমত ও ভালোবাসার মাত্রা বা ডাইমেনশন মানুষের উপলব্ধি সীমার বাহিরে। আল্লাহ তা'আলার এমন রহমত ও ভালোবাসা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও যখন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, এই বান্দা উদ্ধার হওয়ার যোগ্য নয়, তখন আমাদেরকে তাঁর ফয়সালা মেনে নিতে হবে এবং আমাদের জন্য উচিত হবে না, তাঁর রহমত ও ভালোবাসা নিয়ে কোনো রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগা।
সবকিছুই আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা'আলার এবং সবকিছুই তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করবে। আমাদের সন্তান প্রকৃতপক্ষে আমাদের নয়, বরং তারা আল্লাহর তরফ থেকে আমাদের নিকট প্রেরিত আমানত। আমরা অবশ্যই তাদের লালন-পালন করবো, তাদের যত্ন নেবো, তাদের যতটুকু হক আছে, তা আদায় করবো, কিন্তু আমরা তাদের মালিক নই। তাদের জন্য কোনটা উত্তম হবে, সে ব্যাপারে তিনিই একমাত্র সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কেননা, এই দুনিয়াতে ও আখিরাতে কোন জিনিসটি উত্তম, তা আল্লাহ হতে আর কে ভালো জানে?
একটি প্রশ্ন:
আল্লাহ তা'আলা যখন নূহ (আ.)-কে তাঁর স্ত্রীর ব্যাপারটি জানালেন যে, সে কাফিরদের অন্তর্গত, তখন তিনি কেন তাঁর পুত্রর ডুবে যাওয়ার বিষয়টি তাকে জানালেন না?
উত্তর:
নবী-রাসূলগণকে বিশেষ বিশেষ পরীক্ষা ও কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, যেন তাদের অভিজ্ঞতাগুলো সংরক্ষিত হয় এবং যখন আমরা সেগুলো পাঠ করি, তখন আমরা তাদের কষ্ট ও যন্ত্রণাগুলো অনুভব করতে পারি এবং সেগুলো থেকে হেদায়েত গ্রহণ করতে পারি। আল্লাহ তা'আলা মানবজাতির জন্য আদর্শ বা রোল মডেল হিসেবে নবী-রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছেন, তাই তাদেরকে তিনি এমনসব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে নেন, যাতে থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি এবং যখন আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো, তখন কিভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে, তা শিখতে পারি।
পরিবার:
ইব্রাহিমের (আ.) কথা স্মরণ করুন, তিনি বলেছেন, 'যে আমাকে অনুসরণ করে, সে আমার পরিবারের অংশ হয়ে যায়।' নবীদের পরিবার রক্তের সম্পর্ক দ্বারা গঠিত হয় না, বরং তাদের পরিবার ঈমানের দ্বারা গঠিত হয়। আমরা সকলেই নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর সাথে যুক্ত। কারণ, এই স্বীকৃতি দিই যে, তিনি (ﷺ) আল্লাহর রাসূল। আমরা আবু তালিব ও তাঁর পরিবারের কিছু সদস্য, যাদের সাথে নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, তাদের থেকেও আমরা আমাদের নবী (ﷺ)-এর সাথে বেশি সম্পর্কিত, যেহেতু তারা ঈমান আনেনি এবং আমরা ঈমান এনেছি।
আল্লাহর প্রতি ঈমান + আল্লাহর প্রেরিত রাসূলগণে ঈমান = ঈমান রক্তের চেয়েও ঘন
📄 আল্লাহর জবাব
قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنِّي أَعِظُكَ أَن تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ
জবাবে নূহকে বলা হলো, 'হে নূহ! নিশ্চয় সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চয়ই সে দুরাচার! তাই আমার কাছে এমন দরখাস্ত করবেন না, যার খবর তুমি জানো না। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তুমি অজ্ঞদের দলভুক্ত হয়ো না।' - সূরা হুদ, ১১:৪৬
আল্লাহ নূহের (আ.) অবাধ্য পুত্রের ব্যাপারে বলেন, 'তাঁর আচরণ নেক বান্দাদের মতো ছিল না।' আল্লাহ পিতামাতাকে সন্তানের দায়িত্ব এজন্য দেন যে, যাতে তারা তাদেরকে লালন-পালন করে এবং সদাচারী ও যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর যথাযথ প্রশিক্ষণ লাভ করতে পারে। পিতামাতার নেওয়া যাবতীয় প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সন্তান যদি শিষ্টাচারী ও নেককার না হয়, তবে সন্তানকে উপযুক্ত মানুষ বানানোর যে দায়িত্ব পিতামাতাকে দেওয়া হয়েছে, তা ফলপ্রসূ বা সফল হয়নি। সন্তান যেহেতু পিতামাতার হাতে গড়া জিনিস, সে মোতাবেক এ কাজটিকে মূল্যহীন কাজের সাথে তুলনা করা যায়। নূহের (আ.) পুত্র তেমন হননি, যেমনটি তাঁর পিতা তাকে বানাতে চেয়েছেন। যেহেতু যাবতীয় প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নূহের (আ.) প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, সে দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর পুত্র তাঁর পরিবারভুক্ত নয়। আর তাই মহাপ্লাবন শুরু হওয়ার সাথে সাথে ওই অবাধ্য পুত্রের সাথে নবী নূহের (আ.) রক্তের যাবতীয় অধিকারকে কর্তন করা হয় এবং তাকে মহাপ্লাবনের আজাব আস্বাদন করানো হয়।
নূহের (আ.) উদ্দেশ্যে আল্লাহর এ সতর্কবার্তার মর্ম এই নয় যে, নূহ (আ.) ঈমানি দুর্বলতায় ভুগছিলেন অথবা তাঁর ঈমানে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে কিংবা অজ্ঞ লোকদের মতোই তাঁর বিশ্বাস ছিল। বরং এতে নূহের (আ.) উচ্চতর নৈতিকতার প্রমাণ মেলে। অন্যান্য নবীর মতো নূহ (আ.)-ও একজন মানুষ ছিলেন, তাই তিনি স্বাভাবিক মানবীয় দুর্বলতায় ভুগছিলেন অর্থাৎ সন্তানের প্রতি পিতামাতার ভালোবাসা। এজন্য তিনি তাঁর পালনকর্তাকে অনুরোধ করেন, যাতে তিনি তাঁর পুত্রকে মহাপ্লাবন থেকে উদ্ধার করেন। আল্লাহ তাকে সতর্ক করে দেন। কেননা, একজন নবীর উচ্চ নৈতিক চরিত্রের দাবি এটাই যে, তিনি নিজের রক্তের সম্পর্কের জন্যেও কোনো অনুরোধ করবেন না, যদি তারা ঈমানের বদলে কুফরি ও শিরক বেছে নেয়। আর তাই যখনই তাকে সতর্ক করা হয় সাথে সাথেই তিনি উপলব্ধি করেন যে, তিনি মানবীয় দুর্বলতার কারণে নবীর উচ্চ পদ থেকে একজন পিতার স্তরে নেমে এসেছেন। তৎক্ষণাৎ নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি অনুতাপ করেন এবং এমনভাবে আচরণ করতে থাকেন, যেন কিছুক্ষণ আগে তাঁর পুত্র মহাপ্লাবনে ডুবে মারা যায়নি। নবী নূহের (আ.) এমন চরিত্র আমাদের নিকট স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য নবী ছিলেন। তিনি আবার নিজের নববী চরিত্রের উচ্চ মাকামে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সত্যকে অস্বীকার করা ও তাওহিদের পরিবর্তে শিরককে বেছে নেওয়া পুত্রের জন্য আল্লাহর দরবারে অনুরোধ করার জন্য ক্ষমা চান।