📄 পৃথিবীর দিকে যাত্রা
জীবনের যে চক্রটি দুনিয়াতে ঘটতে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) সম্যক অবগত আছেন এবং তারা পৃথিবীর জীবনের জন্য প্রস্তুত। এই পৃথিবীতে বাস করতে গেলে কি কি ঘটতে পারে, এটা ছিল তার একটি প্রিভিউ বা পূর্ব উপস্থাপনা। শয়তান তাদেরকে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করে তাদেরকে পাপলিপ্ত করাতে চাইবে, কিন্তু যখনই তারা ভুল করবে বা বিপথগামী হবে, তখনই তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে এবং সত্য পথে ফিরে আসবে:
قَالَ اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ
'তিনি বললেন, 'তোমরা পরস্পর শত্রুরূপে নেমে যাও। তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে কিছু সময়ের জন্য বাসস্থান ও জীবিকা আছে।' - সূরা আরাফ, ৭: ২৪
📄 আল্লাহর আনুগত্য এবং শয়তানের প্রতি দুশমনি জান্নাতে ফেরার একমাত্র পথ
আল্লাহ আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-কে নানাভাবে প্রস্তুত করেন। তিনি তাদেরকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) ও পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কিভাবে লড়াই করতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা দান করেন। আদম (আ.)-কে তিনি সবকিছুর নাম শেখান এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য ও উপযোগিতা সম্পর্কে নির্দেশনা দেন। পৃথিবীর তত্ত্বাবধায়ক ও আল্লাহর নবী হিসেবে আদম (আ.) নিজের পদ গ্রহণ করেন। আল্লাহর প্রথম নবী হিসেবে নিজের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে কিভাবে আল্লাহর ইবাদাত করতে হয় এবং অপরাধ করলে কিভাবে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাইতে হয়, তা শেখানোর দায়িত্ব তাঁর ছিল। আদম (আ.) পৃথিবীতে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরিবারের দায়িত্ব পালন করেন এবং কিভাবে পৃথিবীতে খাপ খাইয়ে নিতে হয় এবং তাঁর যত্ন নিতে হয়, তা শিখেন। তাঁর দায়িত্ব আবাদ করা, নির্মাণ করা ও জনবসতি গড়ে তোলা। তিনি আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেক সন্তানদের লালন-পালন করতে থাকেন এবং সেইসাথে পৃথিবীর যত্ন ও উন্নতি সাধন করতে থাকেন।
এভাবেই আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। এই সবুজ, সজীব গ্রহে তাদের থেকে যেসব মানুষ আসবে, তারা বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করবে এবং তারা দুনিয়াতে ভাল ও মন্দের লড়াইকে কিয়ামতের আগ পর্যন্ত জারি রাখবে। এর উপরই তারা মারা যাবে। তাদের নশ্বর দেহসমূহ মাটিতে সমাহিত হবে এবং সেখান থেকেই তারা শেষ বিচারের দিনে পুনরুত্থিত হবে।
আমাদের প্রথম পিতামাতার উপর আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি বর্ষিত হোক।