📄 ভূমিকা
ইব্রাহিমের (আ.) কথা স্মরণ করুন, তিনি বলেছেন, 'যে আমাকে অনুসরণ করে, সে আমার পরিবারের অংশ হয়ে যায়।' নবীদের পরিবার রক্তের সম্পর্ক দ্বারা গঠিত হয় না, বরং তাদের পরিবার ঈমানের দ্বারা গঠিত হয়।
আমরা সকলেই নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর সাথে যুক্ত। কারণ, এই স্বীকৃতি দিই যে, তিনি (ﷺ) আল্লাহর রাসূল। আমরা আবু তালিব ও তাঁর পরিবারের কিছু সদস্য, যাদের সাথে নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, তাদের থেকেও আমরা আমাদের নবী (ﷺ)-এর সাথে বেশি সম্পর্কিত, যেহেতু তারা ঈমান আনেনি এবং আমরা ঈমান এনেছি।
প্রকাশকের কথা
উস্তাদ নোমান আলী খান বর্তমান সময়ের একজন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও দায়ী। তাঁর সম্পর্কে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। ইন্টারনেটের বদৌলতে আমরা সকলেই কম বেশি তাঁকে জানি।
১৯৭৮ সালে পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এই ইসলামি ব্যক্তিত্ব কুর'আনের শৈল্পিক মাহাত্ম্য সকলের সামনে তুলে ধরার জন্য বিশেষভাবে নন্দিত। বর্তমানে তিনি Bayyinah Institute-এর মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে আরবি ভাষার জ্ঞান বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
আমাদের আলোচ্য বইটি উস্তাদ নোমান আলী খানের নির্বাচিত কিছু ভাষণ বা লেকচারের অনুবাদ।
নবী ও রাসূলদের করা কুর'আনে উল্লিখিত বিভিন্ন দু'আর প্রেক্ষাপট ও গূঢ় তাৎপর্য এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে, যা সত্যই চমকপ্রদ। বইটির বিষয়বস্তু কুর'আনের মর্ম উপলব্ধিতে সহায়ক বলে 'মুসলিম ভিলেজ' প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশ করতে পেরে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।
বইটির বহুল প্রচার কামনা করছি এবং বইটির মুদ্রণে কোনো ভুলত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে পাঠকগণকে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করছি। আল্লাহ তা'আলা আমাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমিন।
- মুহাম্মদ মামুন বেপারী
📄 প্রকাশকের কথা
উস্তাদ নোমান আলী খান বর্তমান সময়ের একজন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও দায়ী। তাঁর সম্পর্কে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। ইন্টারনেটের বদৌলতে আমরা সকলেই কম বেশি তাঁকে জানি।
১৯৭৮ সালে পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এই ইসলামি ব্যক্তিত্ব কুর'আনের শৈল্পিক মাহাত্ম্য সকলের সামনে তুলে ধরার জন্য বিশেষভাবে নন্দিত। বর্তমানে তিনি Bayyinah Institute-এর মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে আরবি ভাষার জ্ঞান বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
আমাদের আলোচ্য বইটি উস্তাদ নোমান আলী খানের নির্বাচিত কিছু ভাষণ বা লেকচারের অনুবাদ।
নবী ও রাসূলদের করা কুর'আনে উল্লিখিত বিভিন্ন দু'আর প্রেক্ষাপট ও গূঢ় তাৎপর্য এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে, যা সত্যই চমকপ্রদ। বইটির বিষয়বস্তু কুর'আনের মর্ম উপলব্ধিতে সহায়ক বলে 'মুসলিম ভিলেজ' প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশ করতে পেরে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।
বইটির বহুল প্রচার কামনা করছি এবং বইটির মুদ্রণে কোনো ভুলত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে পাঠকগণকে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করছি। আল্লাহ তা'আলা আমাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমিন।
- মুহাম্মদ মামুন বেপারী
📄 নবী নূহের (আ.) দু’আ
নবী নূহ (আ.)-কে তাঁর সম্প্রদায়কে সত্য ও সরল পথে ফিরিয়ে আনতে প্রেরণ করা হয়। তাঁর সম্প্রদায় সর্বপ্রথম মূর্তিপূজা গ্রহণ করেছিল। নূহ (আ.)-কে আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম নবীগণের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি তাঁর জাতিকে দীর্ঘ ৯৫০ বছর ধরে তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। আমাদের মাঝে যারা ইসলামের বাণী অন্যের কাছে ছড়িয়ে দিতে গিয়ে অধৈর্য হয়ে পড়েন, নূহের (আ.) ঘটনাতে তাদের জন্য দুর্দান্ত এক উপদেশ রয়েছে। নূহ (আ.) তাঁর জাতির কাছে রিসালাতের বার্তা পৌঁছানোর যাবতীয় পন্থা ব্যবহারের পর যখন এটা স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, এ জাতি সত্যকে গ্রহণ করবে না, তখনই তাদের উপর আল্লাহর আজাব নেমে এসেছিল।
নূহের (আ.) ঘটনা এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, তাঁর নাম কুর'আনে ৪২-বার এসেছে এবং মোট ১১৫-টি আয়াত তাঁর ও তাঁর সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্কিত। এছাড়াও কুর'আনের ২১-তম সূরার নাম তাঁর নামে রাখা হয়। বর্ণিত আছে যে, নূহ (আ.) তাঁর জীবনকালে নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের থেকে যে পরিমাণ শারীরিক ও মৌখিক নির্যাতন সহ্য করেছিলেন, তা অন্য কোনো নবী করেননি।
সর্বকালের নিকৃষ্টতম জাতি হিসেবে আল্লাহ নূহের (আ.) জাতির কথা উল্লেখ করেন। তাদের কাছে রিসালাতের বার্তা শোনা ও গ্রহণের মাধ্যমে সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার দীর্ঘতম সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেনি। তারা চরম বিদ্রোহী ও ভীষণ পাপাচারী ছিল। আদমের (আ.) পরে আসা জাতির মাঝে তারাই ছিল প্রথম জাতি। হাদিসে বর্ণিত আছে, 'নূহের (আ.) সম্প্রদায়ের নেক লোকেরা মারা গেলে, শয়তান তাদের অন্তরে এ কুমন্ত্রণা দিতো যে তোমরা যেখানে বসে মজলিশ করো, সেখানে কতিপয় মূর্তি স্থাপন করো এবং ওইসব পুণ্যবান লোকের নামেই এগুলোর নামকরণ করো। কাজেই তারা তাই করতো। কিন্তু তখনও ওইসব মূর্তির পূজা করা হতো না। তবে মূর্তি স্থাপনকারী লোকগুলো মারা গেলে এবং মূর্তিগুলোর ব্যাপারে সত্যিকারের জ্ঞান বিলুপ্ত হলে লোকেরা সেগুলোর পূজা আরম্ভ করে দেয়।' (সহিহ বুখারি)
প্রাচীন তাফসিরবিদদের মতে নবী নূহের (আ.) মাহাত্ম্যের কারণগুলোর মাঝে কিছু কারণ নিম্নরূপ:
১. দাদা ইদ্রিসের (আ.) পরে প্রেরিত প্রথম নবী।
২. ৯৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দ্বীনের প্রচারকারী প্রথম ও একমাত্র নবী।
৩. শিরকের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক করা প্রথম নবী।
৪. প্রথম শরিয়াহ আইন নিয়ে আসা নবী।
৫. নিজ জাতির দ্বারা নিগৃহীত প্রথম নবী।
৬. প্রথম নবী, যার জাতিকে আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা'আলা ঐশ্বরিক আজাব দিয়েছিলেন।
৭. প্রথম নবী, যিনি তাঁর নিজ সম্প্রদায়ের ধ্বংসের জন্য দু'আ করেছিলেন।
নূহ (আ.) আপন সম্প্রদায় দ্বারা প্রতিনিয়ত প্রত্যাখ্যাত হতে থাকেন এবং তাদের দ্বারা তিনি কঠোরভাবে নির্যাতিত হন; তথাপি তিনি হাল ছেড়ে দেননি। নূহ (আ.) ও তাঁর সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মাঝে বিরোধ তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। আল্লাহদ্রোহীরা তাদের অন্তর ও বাহ্যিক কর্ণকে একবারে বন্ধ করে দেয় এবং তারা নূহের (আ.) প্রচারিত তাওহিদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে। নবীর প্রতি বিদ্বেষ ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার আকাঙ্ক্ষা তাদেরকে সত্যকে মেনে নিতে বাধা দেয়, যদিও তাদের নিকট সত্য অত্যন্ত পরিষ্কার ছিল।
তাদের এমন বিদ্বেষ ও শত্রুতার বিরুদ্ধে নূহের (আ.) পক্ষ থেকে আল্লাহ তা'আলার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও আস্থা ছাড়া আর কোনো প্রতিরোধ ছিল না। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, আল্লাহ তা'আলা সবকিছুর নিয়ন্ত্রা। ধৈর্য সহকারে তিনি যাবতীয় অবমাননা সহ্য করতে থাকেন এবং প্রতিনিয়ত আল্লাহ তা'আলার কাছে সাহায্য ও আশ্রয় চাইতে থাকেন।
قَالَ رَبِّ انصُرْنِي بِمَا كَذَّبُونِ
'হে আমার রব! যারা আমাকে অস্বীকার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন।' - সূরা মুমিনূন, ২৩:২৬
দু'আর পাশাপাশি তাকে আল্লাহ তাকে যে মিশন দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তিনি সে দায়িত্ব অত্যন্ত যত্ন ও ধৈর্যের সাথে চালিয়ে যেতে থাকেন।