📄 মুযদালিফায় একসাথে দুই সালাত আদায় এবং সেখানে রাত্রি যাপন
৬৮- এভাবে তিনি মুযদালিফায় এলেন। অতপর এক আযান ও দুই ইকামতসহ মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করলেন এবং এ দুই সালাতের মাঝখানে তিনি কোন তাসবীহ বা নফল সালাত আদায় করলেন না।
৬৯- এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ শুয়ে পড়লেন। এভাবেই সুবহে সাদেক উদিত হল। ফজরের সময় সুস্পষ্ট হওয়ার পর (আওয়াল ওয়াক্তে) আযান ও ইকামতের পর ফজরের সালাত আদায় করলেন।
৭০- অতপর তিনি কাসওয়ায় আরোহন করে মাশ'আরে হারামে এলেন।৯৩ অতপর তিনি তাতে আরোহন করলেন। '৯৪
৭১- এরপর তিনি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করলেন। 'অতপর আল্লাহর প্রশংসা করলেন। '৯৫ তাঁর মহত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও একত্ববাদের ঘোষণা দিলেন। পূর্ব আকাশ পূর্ণ ফর্সা হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে উকূফ করলেন।
৭২- 'তিনি বললেন,
قَدْ وَقَفْتُ هَهُنَا وَالْمُزْدَلِفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفُ
'আমি এখানে উকূফ করেছি; তবে মুযদালিফার পুরোটাই উকূফের স্থান। '৯৬
টিকাঃ
৯৩. মাশআরে হারাম দ্বারা উদ্দেশ্য 'কুযাহ' নামক স্থান। এটি মুযদালিফার একটি প্রসিদ্ধ পাহাড়। সকল সীরাতবিদ ও মুফাসসিরের মতে, সমগ্র মুযদালিফাকেই মাশআরে হারাম বলে। ইমাম নাববী রহ.।
২৫. আবূ দাউদ।
৯৫. আবূ দাউদ।
📄 জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপের উদ্দেশ্যে মুযদালিফা থেকে রওয়ানা
৭৩- অতপর তিনি সূর্য উঠার পূর্বেই 'মুযদালিফা'৯৭ থেকে মিনার দিকে রওয়ানা হলেন।৯৮ 'আর তিনি ছিলেন শান্ত ও সুস্থির। '৯৯
৭৪- তিনি ফযল ইবন আববাস রা কে নিজের উটনীর পেছনে বসালেন।১০০ আর তিনি ছিলেন সুন্দর চুল ও উজ্জ্বল ফর্সা চেহারার অধিকারী।
৭৫- রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন মিনার দিকে রওয়ানা হলেন। তখন তাঁর কাছ দিয়ে কতিপয় মহিলা চলতে লাগল, আর ফযল তাদের দিকে তাকাতেন লাগলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর হাত ফযলের চেহারায় রাখলেন। তখন ফযল তার চেহারা অন্য দিকে ফিরিয়ে নিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর হাত অন্য দিক থেকে সরিয়ে ফযলের চেহারার ওপর আবার রেখে যেদিকে তিনি তাকাচ্ছিলেন সেদিক থেকে তার চেহারা ঘুরিয়ে দিলেন।
৭৬- অবশেষে তিনি মুহাম্সার উপত্যকার মধ্যস্থলে১০১ পৌঁছলে উটের গতি কিছুটা বাড়িয়ে দিলেন এবং বললেন,
''''তোমরা শান্ত ও সুস্থিরভাবে চল।' عَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ
টিকাঃ
৯৬. নাসাঈ।
৯৭. বাইহাকী।
৯৮. সূর্যোদয়ের পূর্বে মুযদালিফা থেকে প্রস্থান মুশরিকদের নিয়মের বিপরীত করার লক্ষ্যেই ছিল, কেননা মুশরিকরা মুযদালিফা ত্যাগ করতো সূর্যোদয়ের পর। রাসূল ﷺ বলেছেন, 'আমাদের আদর্শ ওদের থেকে ভিন্ন।'
৯৯. আবূ দাউদ।
১০০. এ হাদীস এবং পূর্বে বর্ণিত ৫৬ নং হাদীস থেকে বুঝা যায় বাহনের পেছনে কাউকে নিতে কোনো অসুবিধা নেই।
📄 বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ
৭৭- 'তারপর তিনি মাঝপথ ধরে চলতে লাগলেন১০৩, যা বড় জামরার কাছ দিয়ে বের হয়ে গেছে।'১০৪ অবশেষে তিনি গাছের সন্নিকটে অবস্থিত জামরায় এসে পৌঁছলেন।
৭৮- অতপর 'সূর্য পূর্ণ আলোকিত হওয়ার পর'১০৫ তিনি বড় জামরাতে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন।
৭৯- প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় 'আল্লাহু আকবার' বললেন। প্রত্যেকটি কঙ্কর ছিল বুটের ন্যায়।১০৬
৮০- তিনি তাঁর বাহনে আরোহন অবস্থায় উপত্যকার মধ্যভাগ থেকে কঙ্কর নিক্ষেপ করেন 'আর তিনি'১০৭ বলছিলেন,'
لِتَأْخُذُوا مَنَاسِكَكُمْ فَإِنِّي لَا أَدْرِي لَعَلَّى لَا أَحُجُ بَعْدَ حَجَّتِي هَذِهِ
'তোমরা তোমাদের হজের বিধি-বিধান শিখে নাও। কারণ আমি জানি না, হয়ত আমি এই হজের পরে আর হজ করতে পারব না।'১০৮
৮১- জাবের রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ 'তাশরীকের সব দিনেই'১০৯ 'সূর্য হেলে যাওয়ার পরে'১১০ কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন১১১।
৮২- 'তিনি আকাবা তথা বড় জামরাতে কঙ্কর নিক্ষেপকালে সুরাকা তাঁর সাথে সাক্ষাত করলেন। অতপর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, এটা কি খাস করে আমাদের জন্য? তিনি বললেন,
''''না, বরং সবসময়ের জন্য। لاَ بَلْ لأَبَدٍ
টিকাঃ
১০১. এই স্থানে আবরাহার হস্তি বাহিনীকে আল্লাহ তা'আলা ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। ইবনুল-কায়ি্যম রহ. বলেন, মুহাম্সার মিনা ও মুযদালিফার মাঝখানে অবস্থিত। এটা মিনা বা মুযদালিফার অন্তর্ভুক্ত নয়।
১০২. দারেমী।
১০৩. ইমাম নাববী রহ. বলেন, এ থেকে জানা গেল, আরাফা থেকে ফেরার সময় এ পথে আসা অর্থাৎ এক পথ দিয়ে যাওয়া এবং আরেক পথ দিয়ে ফেরা সুন্নত।
১০৪. নাসাঈ, আবূ দাউদ।
১০৫. মুসনাদে আহমদ, মুসলিম, আবূ দাউদ।
১০৬. ইমাম নাববী রহ. বলেন, পাথরগুলো ছিল শিমের বিচির মতো। সুতরাং এরচেয়ে বড় বা ছোট না হওয়া সুন্নত। তবে এরচেয়ে ছোট বা বড় হলেও তা জায়িজ হবে।
১০৭. নাসাঈ।
১০৮. মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ।
১০৯. মুসনাদে আহমদ।
১১০. মুসলিম।
১১১. যিলহজ মাসের ১১-১২-১৩ তারিখের দিনগুলোকে আইয়্যামে তাশরীক বলা হয়।
📄 পশু যবেহ ও মাথা মুন্ডন
৮৩- অতপর তিনি পশু যবেহের স্থানে গেলেন। তারপর নিজ হাতে তেষট্টিটি 'উট'১১৩ যবেহ করলেন।
৮৪- অতপর আলী রা. কে অবশিষ্টগুলো যবেহ করার দায়িত্ব দিলেন তিনি তাকে নিজের হাদীতে শরীক রাখলেন।
৮৫- এরপর প্রত্যেক যবেহকৃত উট থেকে এক টুকরো করে নিয়ে রান্না করতে নির্দেশ দিলেন। তখন টুকরোগুলো এক পাতিলে রেখে রান্না করা হল। অতপর দুজনে তার শুরবা পান করলেন।১১৪
৮৬- এক বর্ণনায় রয়েছে, 'জাবের রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে একটি গাভি যবেহ করেন।'১১৫
৮৭- অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'তিনি সাত জনের পক্ষ থেকে একটি উট যবেহ করেন। আর সাতজনের পক্ষ থেকে একটি গাভি যবেহ করেন। '১১৬ 'অতপর আমরা সাতজন উটে শরীক হলাম। এক লোক রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলল, আপনি কি মনে করেন, গাভিতেও শরীক হওয়া যাবে? তখন তিনি বললেন,
مَا هِيَ إِلَّا مِنَ الْبُدْنِ
গাভিতো উটের (বিধানের) অন্তর্ভুক্ত।১১৭
৮৮- 'জাবের রা. বলেন, আমরা মিনায় তিনদিন উটের গোশত খেয়ে তারপর খাওয়া থেকে বিরত রইলাম। অতপর রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে অনুমতি দিয়ে বললেন,
كُلُوا وَتَزَوَّدُوا
'তোমরা খাও এবং পাথেয় হিসেবে রেখে দাও ১১৮।১১৯ 'জাবের রা. বলেন, অতপর আমরা খেলাম এবং জমা করে রাখলাম।'১২০ 'এভাবে সেগুলো নিয়ে আমরা মদীনায় পৌঁছলাম।'১২১
টিকাঃ
১১২. বুখারী, মুসলিম।
১১৩. ইবন মাজা।
১১৪. এ থেকে জানা গেল, নফল বা ওয়াজিব কুরবানীর গোশত কুরবানীকারী নিজে খেতে করতে পারবেন।
১১৫. মুসলিম।
১১৬. মুসলিম।
১১৭. বুখারী ফিত-তারীখ।
১১৮. মুশরিকরা তাদের যবেহকৃত হাদীর গোশত ভক্ষণ করত না। তারা নিজেদের জন্য তা হারাম মনে করত। মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা খাওয়ার নির্দেশ প্রদানের মাধ্যমে জাহেলী যুগের কুপ্রথার বিলুপ্তি ঘটান।
১১৯. মুসনাদে আহমদ।
১২০. বুখারী, মুসনাদে আহমদ।
১২১. মুসনাদে আহমদ।