📄 আরাফার ভাষণ
৫৬- অতপর তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন,
إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا.
'নিশ্চয় তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য সম্মানিত। যেমন তোমাদের এই শহরে, তোমাদের এই মাসে, তোমাদের এই দিন সম্মানিত'।
أَلَا إِنَّ كُلَّ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ تَحْتَ قَدَمَ هَاتَيْنِ مَوْضُوعٌ.
'জেনে রাখো! নিশ্চয় জাহিলিয়াতের প্রত্যেকটি বিষয় আমার এই দুই পায়ের তলে রাখা হল'।
وَدِمَاءُ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعَةٌ وَإِنَّ أَوَّلَ دَمٍ أَضَعُهُ مِنْ دِمَائِنَا دَمُ ابْنِ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ. كَانَ مُسْتَرْضَعًا فِي بَنِي سَعْدٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ.
'জাহিলী যুগের যাবতীয় রক্তের দাবী রহিত করা হল। আমাদের রক্তের দাবীসমূহের মধ্যে প্রথম রক্তের দাবী যা রহিত করা হল, তা ইবন রবী'আ ইবনুল-হারিসের রক্তের দাবী। সে সা'দ গোত্রে দুধ পানরত অবস্থায় ছিল। হুযাইল গোত্র তাকে হত্যা করেছিল'।
وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُ رِبَانَا رِبَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ
'জাহেলী যুগের সুদ রহিত করা হল। সর্বপ্রথম যে সুদের দাবী রহিত করছি তা হল আববাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিবের সুদ। তার পুরোটাই রহিত করা হল'।
اتَّقُوا اللهَ فِي النِّسَاءِ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللَّهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوْجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ
'আর তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহ্ আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং তাদের লজ্জাস্থানসমূহকে আল্লাহর বাণী৮৫ দ্বারা হালাল করে নিয়েছ'।
وَإِنَّ لَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لاَ يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ فَإِنْ فَعَلْنَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ
'নিশ্চয় তোমাদের ব্যাপারে তাদের ওপর দায়িত্ব হচ্ছে, তারা যেন তোমাদের বিছানাসমূহকে এমন কোন ব্যক্তি দ্বারা পদদলিত না করে যাকে তোমরা অপছন্দ কর (অর্থাৎ তারা যেন পরপুরুষদেরকে তাদের কাছে আসার অনুমতি না দেয়)। যদি তারা তা করে, তবে তোমরা তাদেরকে মৃদুভাবে প্রহার কর।'
وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
'আর তাদের ব্যাপারে তোমাদের উপর দায়িত্ব হচ্ছে, উত্তম পন্থায় তাদের ভরণ-পোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করা'।
وَإِنِّي قَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ إِنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ كِتَابَ اللَّهِ
'আমি তোমাদের মধ্যে এমন এক বিষয় রেখে যাচ্ছি, যা তোমরা অাকড়ে ধরলে আর কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো, আললাহ্ কিতাব'।
وَأَنْتُمْ مَسْئُولُونَ عَنِّى فَمَا أَنْتُمْ قَائِلُونَ. قَالُوا نَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ رِسَالَاتِ رَبِّكَ وَأَدَّيْتَ وَنَصَحْتَ لِأُمَّتِكَ.
'আমার ব্যাপারে তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে, তখন তোমরা কী বলবে ? তারা বলল, আমরা সাক্ষী দিচ্ছি, নিশ্চয় আপনি আপনার রবের বাণীসমূহ পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, অর্পিত দায়িত্ব আদায় করেছেন, উম্মতকে উপদেশ দিয়েছেন'।
ثُمَّ قَالَ بِأُصْبُعِهِ السَّبَّابَةِ يَرْفَعُهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكِبُهَا إِلَى النَّاسِ اللَّهُمَّ اشْهَدُ اللَّهُمَّ اشْهَدُ اللَّهُمَّ اشْهَدْ.
'অতপর তিনি তাঁর শাহাদাত অঙ্গুলী আকাশের দিকে তুলে মানুষের দিকে ইশারা করে বললেন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন'।
টিকাঃ
৮৫. আল্লাহর বাণীটি হচ্ছে, (فَانكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ) 'তাহলে তোমরা বিয়ে কর মহিলাদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে' (নিসা : ৩)।
📄 দুই ওয়াক্ত সালাত একসাথে আদায় ও আরাফায় অবস্থান
৫৬- 'এরপর বিলাল রা. একবার আযান দিলেন। '৮৬
৫৭- অতপর ইকামত দিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ (সবাইকে নিয়ে) যোহরের সালাত আদায় করলেন। বিলাল রা. পুনরায় ইকামত দিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ আসরের সালাতও আদায় করলেন।
৫৮- তিনি উভয় সালাতের মাঝখানে অন্য কোন সালাত আদায় করেননি।
৫৯- অতপর রাসূলুল্লাহ ﷺ 'কাসওয়া নামক উটনীর'৮৭ পিঠে আরোহন করলেন। এভাবে তিনি উকূফের স্থানে এলেন। তাঁর উটনী কসওয়ার পেট পাথরের৮৮ দিকে ফিরিয়ে রাখলেন। যারা পায়ে হেঁটে তাঁর সাথে এসেছিলেন, তিনি তাঁদের সকলকে তাঁর সামনে রাখলেন এবং কিবলামুখী হলেন।৮৯
৬০- সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই উকূফ করলেন। এমনিভাবে (পশ্চিম আকাশের) হলুদ আভা ফিকে হয়ে গেল এমনকি লালিমাও দূর হয়ে গেল৯০।
৬১- আর তিনি বললেন,
قَدْ وَقَفْتُ هَهُنَا وَعَرَفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ
'আমি এখানে উকূফ করলাম; কিন্তু আরাফার পুরো এলাকা উকূফের স্থান।'৯১
৬২- এরপর তিনি উসামা ইন্ন যায়েদ রা. কে তাঁর উটনীর পেছনে বসালেন।
টিকাঃ
৮৬. দারেমী।
৮৭. ইবন মাজা।
৮৮. এ পাথরটি জাবালে রহমতের নিচে বিছানো। জাবালে রহমত অবস্থিত আরাফার মাঝামাঝি স্থানে। ইমাম নাববী রহ. বলেন, এটিই উকূফের মুস্তাহাব স্থান। অনেকে মনে করেন জাবালে রহমতে না ওঠলে উকূফ পূর্ণ হবে না- এটি সঠিক নয়।
৮৯. অন্য হাদীসে এসেছে, তিনি উকূফ করেছেন, উভয় হাত তুলে দু'আ করেছেন। হাজ্জাতুন-নবী : ৭৩ পৃষ্ঠা।
৯০. সূর্যাস্তের পর আরাফা থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রস্থান মুশরিকদের আচারের সাথে ভিন্নতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই ছিল। কেননা মুশরিকরা সূর্যাস্তের আগেই আরাফা ত্যাগ করতো। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমাদের আদর্শ তাদের থেকে ভিন্ন।
📄 আরাফা থেকে প্রস্থান
৬৮- অতপর রাসূলুল্লাহ ﷺ মুযদালিফার দিকে রওয়ানা হলেন। 'আর তিনি ছিলেন শান্ত-সুস্থির।৯২ তিনি কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর লাগাম শক্তভাবে টেনে ধরলেন, এমনকি উষ্ট্রীর মাথা তাঁর হাওদার সাথে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। আর তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন,
أَيُّهَا النَّاسُ السَّكِينَةَ السَّكِينَةَ
'হে লোকসকল! শান্ত হও শান্ত হও, ধীর-স্থিরভাবে এগিয়ে চল’|
৬৭- যখনই তিনি কোন বালুর টিলায় পৌঁছছিলেন, তখনই তা অতিক্রম করার সুবিধার্থে উষ্ট্রীর রশি ঢিলা করে দিচ্ছিলেন। এমনিভাবে তাতে উঠে তা অতিক্রম করছিলেন।
টিকাঃ
৯১. আবূ দাউদ, নাসাঈ, মুসনাদে আহমদ।
৯২. আবূ দাউদ, নাসাঈ ।
📄 মুযদালিফায় একসাথে দুই সালাত আদায় এবং সেখানে রাত্রি যাপন
৬৮- এভাবে তিনি মুযদালিফায় এলেন। অতপর এক আযান ও দুই ইকামতসহ মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করলেন এবং এ দুই সালাতের মাঝখানে তিনি কোন তাসবীহ বা নফল সালাত আদায় করলেন না।
৬৯- এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ শুয়ে পড়লেন। এভাবেই সুবহে সাদেক উদিত হল। ফজরের সময় সুস্পষ্ট হওয়ার পর (আওয়াল ওয়াক্তে) আযান ও ইকামতের পর ফজরের সালাত আদায় করলেন।
৭০- অতপর তিনি কাসওয়ায় আরোহন করে মাশ'আরে হারামে এলেন।৯৩ অতপর তিনি তাতে আরোহন করলেন। '৯৪
৭১- এরপর তিনি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করলেন। 'অতপর আল্লাহর প্রশংসা করলেন। '৯৫ তাঁর মহত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও একত্ববাদের ঘোষণা দিলেন। পূর্ব আকাশ পূর্ণ ফর্সা হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে উকূফ করলেন।
৭২- 'তিনি বললেন,
قَدْ وَقَفْتُ هَهُنَا وَالْمُزْدَلِفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفُ
'আমি এখানে উকূফ করেছি; তবে মুযদালিফার পুরোটাই উকূফের স্থান। '৯৬
টিকাঃ
৯৩. মাশআরে হারাম দ্বারা উদ্দেশ্য 'কুযাহ' নামক স্থান। এটি মুযদালিফার একটি প্রসিদ্ধ পাহাড়। সকল সীরাতবিদ ও মুফাসসিরের মতে, সমগ্র মুযদালিফাকেই মাশআরে হারাম বলে। ইমাম নাববী রহ.।
২৫. আবূ দাউদ।
৯৫. আবূ দাউদ।