📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ট। নবী-রাসূলগণের দা‘ওয়াতের পর্যায়

📄 ট। নবী-রাসূলগণের দা‘ওয়াতের পর্যায়


নবী-রাসূলগণের দা'ওয়াতের পর্যায় (مراحل دعوة الأنبياء والرسل): প্রত্যেক দাঈকে চারটি পর্যায় অতিক্রম করতে হয়, তা নিম্নরূপ:

১। দা'ওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়: এ পর্যায়ে দাঈ আল্লাহর দিকে মানুষকে দা'ওয়াত দেয়। তারা নিজের জীবন, ধন-সম্পদ, সময়, ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা, পরিবার-পরিজন, দেশ সব কিছুকে দা'ওয়াতী কাজে উৎসর্গ করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} .. [العنكبوت: 69] 'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব' (সূরা আল-আনকাবূত: ৬৯)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {لَكِنِ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ جَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ وَأُولَئِكَ لَهُمُ الْخَيْرَاتُ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (88) أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (89)} ... [التوبة: 88 – 89] 'কিন্তু রাসূল ও তার সাথে মুমিনরা তাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করে, আর সে সব লোকদের জন্যই রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই সফলকাম। (৮৮) আল্লাহ তাদের জন্য তৈরি করেছেন জান্নাতসমূহ যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে, এটিই মহা সফলতা' (সূরা আত-তাওবা: ৮৮-৮৯)।

২। প্রশিক্ষণ পর্যায়: এ পর্যায়ে আল্লাহ তা'আলা দাঈকে পরীক্ষা করেন, যাতে তার কল্যাণ হবে, তা তাকে শিক্ষা দেন যাতে তিনি তার ধৈর্য ও সত্যবাদিতা যাচাই করতে পারেন এবং তার নিকট কঠিন পরিস্থিতি বরণ, সৃষ্টির প্রতি দয়া এবং হক্বের (আল্লাহর) উপর পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি তৈরি হয়। সেজন্য, ভাল-মন্দ, সচ্ছলতা, অভাব-অনটন, নিরাপত্তা এবং ভয় ইত্যাদি দিয়ে তাকে পরীক্ষা করা হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ (2) وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ (3)} .. [العنكبوت: 2 - 3] 'মানুষ কি মনে করে যে, 'আমরা ঈমান এনেছি' বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? (২) আর আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি। ফলে আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যে, কারা সত্য বলে এবং অবশ্যই তিনি জেনে নেবেন, কারা মিথ্যাবাদী' (সূরা আল-আনকাবূত: ২- ৩)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ (35)} [الأنبياء: 35] 'আর ভাল ও মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে' (সূরা আল-আম্বিয়া: ৩৫)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ (155) الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ (156) أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ (157)} [البقرة: 155 – 157] 'আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। (১৫৫) যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে, বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। (১৫৬) তাদের উপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত' (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৫৫-১৫৭)।

৩। সাহায্য প্রাপ্তির পর্যায়: দাঈ যখন পরীক্ষায় ধৈর্য ধারণ করে এবং কঠিন পরিস্থিতি, কম সাহায্যকারী ও বেশি সম্পদ পেয়েও দা'ওয়াতী কাজ করে যায়, তখনই আল্লাহ তাকে শক্তি দেন এবং সাহায্য করেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে বিপদাপদ দূর করেন এবং শত্রুকে পরাস্ত করে তাকে রক্ষা করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {إِلَّا تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (40)} [التوبة: 40] 'যদি তোমরা তাকে সাহায্য না কর, তবে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন, যখন কাফেররা তাকে বের করে দিল, তিনি ছিলেন দু'জনের দ্বিতীয়জন, যখন তারা উভয়ে পাহাড়ের একটি গুহায় অবস্থান করছিলেন, তিনি তার সঙ্গীকে বললেন, তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার উপর তাঁর পক্ষ হতে প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাকে এমন এক সৈন্য বাহিনী দ্বারা সাহায্য করলেন, যাদেরকে তোমরা দেখনি এবং তিনি কাফেরদের বাণী অতি নীচু করে দিলেন। আর আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান' (সূরা আত-তাওবা: ৪০)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذিবُوا جَاءَهُمْ نَصْرُنَا فَنُجِّيَ مَنْ نَشَاءُ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ (110)} [يوسف: 110]. 'অবশেষে যখন রাসূলগণ (কওমের ঈমান থেকে) নিরাশ হয়ে গেলেন এবং তারা মনে করলেন, তাদের সাথে মিথ্যা বলা হয়েছে, তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য আসল, অতঃপর আমি যাকে ইচ্ছা নাজাত দেই, আর অপরাধী কওম থেকে আমার আযাব কখনও ফেরানো হয় না' (সূরা ইউসূফ: ১১০)।

৪। কর্তৃত্ব, রাজত্ব ও সম্মান প্রাপ্তির পর্যায়: দাঈ যখন দা'ওয়াত দিবে, আল্লাহর ইবাদত করবে, আল্লাহর জন্যই সবকিছুকে বরণ করে নিবে, এবং আল্লাহর কালিমা সুউচ্চকরণে নিজের সবকিছু ব্যয় করবে, তখন আল্লাহ তাকে যমীনে কর্তৃত্ব দান করবেন, দুনিয়ায় সম্মানিত করবেন এবং পরকালে জান্নাতে প্রবিষ্ট করাবেন। উল্লেখ্য যে, এ পর্যায়টি সংঘটিত হয়ে থাকে হয় নবী-রাসূল কর্তৃক, না হয় নবী-রাসূলের উত্তরাধিকারী কর্তৃক। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ (40) الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتُوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} [الحج: 40 - 41] 'আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন, যে তাকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী। (৪০) তারা এমন, যাদেরকে আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা দান করলে তারা ছালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে' (সূরা আল-হজ্জ: ৮০-৪১)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ } [النور: 55] 'তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তাদেরকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে যমীনের প্রতিনিধিত্ব প্রদান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব প্রদান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দ্বীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাদের ভয়-ভীতি শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর এরপর যারা কুফরী করবে, তারাই ফাসিক' (সূরা আন-নূর: ৫৫)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ } [التوبة: 100] 'আর মুহাজির ও আনসারগণের মধ্যে যারা অগ্রগামী ও প্রথম এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তারা সেখানে স্থায়ী থাকবে। এটাই মহাসাফল্য' (সূরা আত-তাওবা: ১০০)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ঠ। নবী ও তাদের অনুসারীদের জীবন-চরিত

📄 ঠ। নবী ও তাদের অনুসারীদের জীবন-চরিত


নবী ও তাদের অনুসারীদের জীবন-চরিত (سيرة الأنبياء وأتباعهم في الدعوة إلى الله):
১। নবীগণের কাজকর্ম ও চরিত্র তাদের জীবন-চরিত থেকে গ্রহণ করতে হবে। নবীগণ আল্লাহর পথে দা’ওয়াত দিতে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। আল্লাহর পথে তাদের পা ধুলিময় হয়েছে। আল্লাহর কালেমা সুউচ্চকরণে তারা নিজেদেরকে ও নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করেছেন। আল্লাহর নির্দেশাবলী বাস্তবায়নে তাদের কপাল ঘেমেছে। আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যের জন্য (দীর্ঘ পথ অতিক্রমে) তাদের পা ফেটেছে।

অবশ্যই তারা মানুষের নিকট হক্ব পৌঁছে দিতে নানা পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়েছে, তারা হিজরত করেছেন, তাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে, তারা যুদ্ধ করেছেন ও শহীদ হয়েছেন, তাদের ভিত্তি নড়বড়ে করে দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, গালি দেয়া হয়েছে, তিরস্কার করা হয়েছে, তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে, অপবাদ দেয়া হয়েছে, প্রহার করা হয়েছে, তবুও নবীগণ দয়া দেখিয়েছেন, ধৈর্য ধারণ করেছেন, যতক্ষণ না আল্লাহর সাহায্য এসেছে এবং তাদের শত্রুদের ধ্বংস করে দিয়েছেন।

(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَى مَا كُذِّبُوا وَأُوذُوا حَتَّى أَتَاهُمْ نَصْرُنَا وَلَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ وَلَقَدْ جَاءَكَ مِنْ نَبَا الْمُرْسَلِينَ (34)} ... [الأنعام: 34] 'আর অবশ্যই তোমার পূর্বে অনেক রাসূলকে অস্বীকার করা হয়েছে, অতঃপর তারা তাদেরকে অস্বীকার করা ও কষ্ট দেয়ার ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করেছেন, যতক্ষণ না আমার সাহায্য তাদের কাছে এসেছে। আর আল্লাহর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তনকারী নেই এবং অবশ্যই রাসূলগণের কিছু সংবাদ তোমার কাছে এসেছে' (সূরা আল-আন'আম: ৩৪)।

(২) আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا جَاءَهُمْ نَصْرُنَا فَنُجِّيَ মَنْ نَشَاءُ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ } [يوسف: 110] 'অবশেষে যখন রাসূলগণ (কওমের ঈমান থেকে) নিরাশ হয়ে গেলেন এবং তারা মনে করলেন, তাদের সাথে মিথ্যা বলা হয়েছে, তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য আসল, অতঃপর আমি যাকে ইচ্ছা নাজাত দেই, আর অপরাধী কওম থেকে আমার আযাব কখনও ফেরানো হয় না' (সূরা ইউসূফ: ১১০)।

২। নবী-রাসূলগণ যমীনে ভ্রমণ করতেন, আল্লাহ তা'আলার যিকর করতেন, তাঁর ইবাদত করতেন। মানুষের নিকট তাওহীদ, ঈমান, সৎআমল এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে দা'ওয়াত দিতেন। মহান রবকে দেখা, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন, তাঁর জান্নাতের প্রাসাদ এবং জান্নাতের নেয়ামত লাভ ছিল তাদের ঐকান্তিক চাওয়া। তারা সংগ্রাম করেছেন ও দান-খয়রাত করেছেন, দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন এবং ধৈর্য ধারণ করেছেন। ফলে, আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তাদের শেষ ফলাফল জান্নাত। তারাই মহান আল্লাহর পথের প্রত্যেক দাঈর আদর্শ।

(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {الَّذِينَ يُبَلِّغُونَ رِسَالَاتِ اللَّهِ وَيَخْشَوْنَهُ وَلَا يَخْشَوْنَ أَحَدًا إِلَّا اللَّهَ وَكَفَى بِاللَّهِ حَسِيبًا } [الأحزاب: 39] 'যারা আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দেয় ও তাঁকে ভয় করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আর হিসাব গ্রহণকারী রূপে আল্লাহই যথেষ্ট' (সূরা আল- আহযাব: ৩৯)।

(২) আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ } [التوبة: 100] 'আর মুহাজির ও আনসারগণের মধ্যে যারা অগ্রগামী ও প্রথম এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তারা সেখানে স্থায়ী থাকবে। এটাই মহাসাফল্য' (সূরা আত-তাওবা: ১০০)।

(৩) আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} [الأحزاب: 21] 'অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহর অনেক যিক্র করে' (সূরা আল-আহযাব: ২১)।

৩। সকল নবী-রাসূল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (لا إله إلا الله) অর্থাৎ 'আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন উপাস্য নেই' এ কথার দা'ওয়াত দিয়েছেন। তারা শিরক থেকে তাওহীদের দিকে এবং কুফরী থেকে ঈমানের (ইসলামের) দিকে দা'ওয়াত দিয়েছেন। সৃষ্টির প্রতি বিশ্বাস না রেখে স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসের দা'ওয়াত দিয়েছেন। ধন-সম্পদ ও বিষয়-আশয়ের সাথে সম্পর্ক ছেড়ে ঈমান ও সৎ আমলের সাথে সম্পর্কের দা'ওয়াত দিয়েছেন। বংশীয় আচার-অনুষ্ঠান ছেড়ে শরী'আতের শিষ্টাচার অনুসরণের দা'ওয়াত দিয়েছেন। কু-প্রবৃত্তি ও শয়তানের অনুসরণ ছেড়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার দা'ওয়াত দিয়েছেন। দা'ওয়াত দিয়েছেন অস্থায়ী দুনিয়া ছেড়ে স্থায়ী আখেরাতের দিকে। এগুলোই ছিল নবী-রাসূলগণের দা'ওয়াতী কর্ম এবং দ্বীনের শিক্ষা। মানুষের নিকট হক্বের দা'ওয়াত পৌঁছে দিতে তাদের অনুসরণ করা আমাদের উপর আবশ্যক।

(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {أُولَئِكَ الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ فَإِنْ يَكْفُرْ بِهَا هَؤُلَاءِ فَقَدْ وَكَّلْنَا بِهَا قَوْمًا لَيْسُوا بِهَا بِكَافِرِينَ (89)} [الأنعام: 89] 'এরাই তারা যাদেরকে আমি দান করেছি কিতাব, হুকুম ও নবুঅত। অতএব, যদি তারা এর সাথে কুফরী করে, তবে আমি এগুলোর তত্ত্বাবধায়ক এমন জাতিকে করেছি, যারা এর সাথে কাফের নয়' (সূরা আল-আন'আম: ৮৯)।

(২) আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهُ قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرَى لِلْعَالَمِينَ} [الأنعام: 90] 'এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ হেদায়াত করেছেন। অতএব, তাদের হেদায়াতের তুমি অনুসরণ কর। বল, আমি তোমাদের নিকট এর কারণে কোন বিনিময় চাই না। এটা তো জগৎবাসীর জন্য উপদেশ মাত্র' (সূরা আল-আন'আম: ৯০)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ড। দাঈর প্রতিবন্ধকতা

📄 ড। দাঈর প্রতিবন্ধকতা


(عوائق الداعي إلى الله) দাঈর প্রতিবন্ধকতা: প্রত্যেক দাঈরই কিছু না কিছু প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে, যেগুলি তার দা'ওয়াতী কাজে অন্তরায় সৃষ্টি করে বা হতোদ্যম করে ফেলে বা বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে। তাই সেসব প্রতিবন্ধকতা এবং সেগুলি থেকে মুক্তি ও সতর্কতা লাভের উপায় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এ অন্তরায় শয়তানের অপচেষ্টা, যার মাধ্যমে সে হক্ব থেকে সৃষ্টিকে পথভ্রষ্টতার দিকে পরিচালিত করে এবং দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে।

১। যখন কোন মুসলিম দা'ওয়াতী কাজ করে, তখন চির শত্রু শয়তান তার কাছে আসে এবং কুফরী ও ফাসাদের বিস্তার আর অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারীদের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে তার স্পৃহাকে টুকরা টুকরা করে ফেলে। শয়তানের এ পদক্ষেপের চিকিৎসা নিতে হবে নিম্নোক্ত আয়াতে কারীমা থেকেঃ {اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يُحِيِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ (17)} [الحديد: 17] 'তোমরা জেনে রাখ যে, আল্লাহ যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। আমি নিদর্শনসমূহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি, আশা করা যায় তোমরা বুঝতে পারবে' (সূরা আল-হাদীদ: ১৭)।

২। যশ-খ্যাতির ভালোবাসা কখনও দাঈকে আক্রমণ করতে পারে। আর এর মাধ্যমে মূলতঃ তার স্পৃহার মাথায় আঘাত করা হয়। ফলে, তার স্পৃহা মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে এবং ইখলাছ হারিয়ে ফেলার কারণে তার আমল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারা এর চিকিৎসা নিতে হবেঃ {يٰأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُوْنُوْا قَوَّامِيْنَ لِلّٰهِ شُهَدَآءَ بِالْقِسْطِ} ... [المائدة: 8] 'হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাথে সাক্ষদানকারী হিসাবে সদা দণ্ডায়মান হও' (সূরা আল-মায়েদা: ৮)।

৩। এরপর দা'ওয়াতী ময়দানে আমল বিনষ্টকারী ও ভিত্তি ধ্বংসকারী বিষয় 'তাড়াহুড়া নামক রোগ' আসতে পারে। ফলে, আমলের সমন্বয়ের অভাবে এবং তা তার যথাযোগ্য স্থানে না রাখার কারণে তা অঙ্কুরেই শেষ হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলার এ বাণী থেকে শিক্ষা নিতে হবেঃ {يٰأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اصْبِرُوْا وَصَابِرُوْا وَرَابِطُوْا وَاتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ} [آل عمران: 200] 'হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও' (সূরা আলে ইমরান: ২০০)।

৪। অতঃপর দা'ওয়াতী কাজে পরামর্শ না করে ব্যক্তিগত মতামতকে অগ্রাধিকার দিলে তা দা'ওয়াতী কর্ম বিনষ্ট করে এবং আল্লাহর সাহায্য উঠিয়ে দেওয়ার কারণে পরিণত হয়। অবশেষে তা মুসলিমদের পরাজিত করে শত্রুদের রাজত্ব ও কর্তৃত্ব কায়েম করে। এজন্য আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিতঃ {وَأَمْرُهُمْ شُورٰى بَيْنَهُمْ} ... [الشورى: 38] 'তাদের কার্যাবলী হয় তাদের মধ্যে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে' (সূরা আশ-শুরা: ৩৮)।

৫। অতঃপর শুধুমাত্র নিজেকে নিয়ে চিন্তাভাবনার বিষয়টি সামনে আসতে পারে। ফলে, দাঈ শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে এবং অন্যের কথা অবজ্ঞা করে। এতে কিন্তু দা'ওয়াতী কাজের ভিত্তি মজবুত হয় না, ভাল ফলাফলও আশা করা যায় না। মনে রাখতে হবে, মানুষের মধ্যে উত্তম তারাই, যারা অন্যের কল্যাণে অধিক অগ্রগামী। আল্লাহ তা'আলার এ বাণী থেকে শিক্ষা নিতে হবেঃ {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَاب (2) ... [المائدة: 2] 'সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। আর মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর' (সূরা আল-মায়েদা: ২)।

৬। অতঃপর দা'ওয়াতী ময়দানে প্রতারক আরেক শত্রুর উদ্ভব ঘটতে পারে। আর তা হচ্ছে, 'তাক্বলীদ'। এই তাক্বলীদ অলস ও অকর্মা লোকদের তাক্বলীদে ঢুকিয়ে দেওয়ার সুযোগ গ্রহণ করে। এর ফলে দাঈর স্পৃহার পিঠ ভেঙ্গে যায়, অলস ও অজ্ঞদের সংখ্যা বেড়ে যায়, বিদ'আত সৃষ্টি হয় এবং সুন্নাত বিদায় নেয়। এজন্য আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিতঃ {انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ (41)} [التوبة: 41] 'তোমরা হালকা ও ভারী উভয় অবস্থায় যুদ্ধে বের হও এবং তোমাদের মাল ও জান নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে' (সূরা আত-তাওবা: ৪১)।

৭। অতঃপর ধোঁকাবাজ আরেক শত্রু মাথাচাড়া দিতে পারে। আর তা হচ্ছে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে সৃষ্ট 'গড়িমসি'। এর ফলে, দাঈ আজকের কাজ কালকের জন্য রেখে দেয় এবং এক পর্যায়ে শয়তান তা ভুলিয়ে দিয়ে অন্য কিছুতে তাকে ব্যস্ত করে দেয়। নিম্নোক্ত আয়াত থেকে এর চিকিৎসা গ্রহণ করা যেতে পারেঃ {وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ } [آل عمران: 133] 'আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে, যার পরিধি আসমানসমূহ ও যমীনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে' (সূরা আলে ইমরান: ১৩৩)।

৮। অতঃপর দা'ওয়াতী ময়দানে প্রবেশ করতে পারে নাস্তিক্যবাদী শত্রু। যা শুধুমাত্র আল্লাহর দিকে ন্যস্ত, তদ্বিষয়ে নাক গলানোই হচ্ছে ঐ শত্রুর পরিচয়। এর ফলে দা'ওয়াতী কাজের ভিত্তি ধ্বংস হয়ে যায়, উপর ভেঙ্গে নীচে পড়ে এবং গোলাম তাঁর মুনীবের উপর কর্তৃত্ব করে। এ থেকে মুক্তি লাভের উপায় খুঁজে বের করতে হবে এই আয়াত থেকেঃ {فَلِذَلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَقُلْ آمَنْتُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ كِتَابٍ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ (15)} [الشورى: 15] 'এ কারণে তুমি আহ্বান কর এবং দৃঢ় থাক যেমন তুমি আদিষ্ট হয়েছ আর তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না। আর বল, 'আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন, আমি তাতে ঈমান এনেছি এবং তোমাদের মাঝে ন্যায়বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের রব এবং তোমাদের রব। আমাদের কর্ম আমাদের এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের; আমাদের ও তোমাদের মাঝে কোন বিবাদ-বিসম্বাদ নেই; আল্লাহ আমাদেরকে একত্র করবেন এবং প্রত্যাবর্তন তাঁরই কাছে' (সূরা আশ-শূরা: ১৫)।

৯। এরপর আগমন করতে পারে 'বিশ্রাম গ্রহণের ভালোবাসা' নামক রোগ, যা হচ্ছে মূল মুছীবত এবং মারাত্মক ক্ষতিকর। এ থেকে মুক্তি লাভের উপায়ে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ {وَأَنْ لَيْসَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى (39) وَأَنَّ سَعْيَهُ سَوْفَ يُرَى (40) ثُمَّ يُجْزَاهُ الْجَزَاءَ الْأَوْفَى (41)} [النجم: 39 - 41] 'আর মানুষ যা চেষ্টা করে, তা-ই সে পায়। (৩৯) এবং তার প্রচেষ্টার ফল অচিরেই তাকে দেখানো হবে। (৪০) তারপর তাকে পূর্ণ প্রতিফল প্রদান করা হবে' (সূরা আন-নাজম: ৩৯-৪১)।

১০। অতঃপর আত্মপ্রকাশ করতে পারে 'অহংকার ও আল্লাহ বিমুখতা' নামীয় রোগ, যার দ্বারা মানুষ নিজেকে দ্বীন থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং ধ্বংসাত্মক কাবীরা গোনাহ তাকে ঘিরে ধরে। এ থেকে মুক্তি লাভের উপায় খুঁজে ফিরতে হবে নীচের আয়াতটিতেঃ {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ ( 16)} [الحديد: 16] 'যারা ঈমান এনেছে, তাদের হৃদয় কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য নাযিল হয়েছে তার কারণে বিগলিত হওয়ার সময় হয়নি? আর তারা যেন তাদের মত না হয়, যাদেরকে ইতিপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল, তারপর তাদের উপর দিয়ে দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হল, অতঃপর তাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে গেল। আর তাদের অধিকাংশ ফাসিক' (সূরা আল-হাদীদ: ১৬)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ঢ। দাঈকে অমান্য করলে দাঈ যা বলবে

📄 ঢ। দাঈকে অমান্য করলে দাঈ যা বলবে


দাঈকে অমান্য করলে দাঈ যা বলবে (ما يقوله الداعي إذا لم يتبع): আল্লাহ তা'আলা বলেন: {فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ (129)} [التوبة: 129] 'অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে বল, আমার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করেছি। আর তিনিই মহান আরশের রব' (সূরা আত-তাওবা: ১২৯)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px