📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 জ। দাঈর প্রচেষ্টা

📄 জ। দাঈর প্রচেষ্টা


দাঈর প্রচেষ্টা (جهد الداعي إلى الله): দাঈর প্রচেষ্টা দু'প্রকার:

(ক) নিজের জন্যই চেষ্টা করা। আর তা হলো, মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে নিয়োজিত করা এবং তাঁর ইবাদতে প্রতিষ্ঠিত রাখা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ } [العنكبوت: 69] 'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন' (সূরা আল-আনকাবূত: ৬৯)।

(খ) অন্যদের জন্য প্রচেষ্টা করা। আর তা তিন প্রকার:
১। কাফেরদের জন্য চেষ্টা করা, হতে পারে তারা হেদায়াত লাভ করবে। যেমন আল্লাহ বলেন: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أَتَاهُمْ مِنْ نَذِيرٍ مِنْ قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ (3)} ... [السجدة: 3] . 'নাকি তারা বলে, 'সে তা রচনা করেছে?' বরং তা তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য, যাতে তুমি এমন কওমকে সতর্ক করতে পার, যাদের কাছে তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি। হয়তো তারা হেদায়াত লাভ করবে' (সূরা আস- সাজদা: ৩)।

২। অবাধ্য ও পাপীদের জন্য চেষ্টা করা, যাতে তারা আনুগত্যশীল হয় এবং অজ্ঞদের নিয়েও চেষ্টা করা, যাতে তারা দ্বীন বুঝে এবং উদাসীনদের নিয়েও কাজ করা, যাতে তারাও দ্বীনের কাজে নিয়োজিত থাকে। যেমন আল্লাহ বলেন: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْনَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (104)} [آل عمران: 104] 'আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম' (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)।

৩। সৎলোকদের জন্যও চেষ্টা করা, যাতে তারা অন্যকে সংশোধন করতে পারেন; আলেমদের জন্যও চেষ্টা করা, যাতে তারা দ্বীন শিক্ষা দিতে পারেন এবং উপদেশ দাতাদের জন্যও চেষ্টা করা, যাতে তারাও অন্যকে আরো বেশি উপদেশ দিতে পারেন। আল্লাহ বলেন: {وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ (3)} [العصر: 1 - 3] 'মহাকালের শপথ, (১) মানুষ অবশ্যই ক্ষতিতে আছে। (২) তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়' (সূরা আল-আছর: ১-৩)। আল্লাহ আরো বলেন: {فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنْتَ مُذَكِّرٌ (21)} ... [الغاشية: 21] 'অতএব, তুমি উপদেশ দাও, তুমি তো একজন উপদেশদাতা মাত্র' (সূরা আল- গাশিয়াহ: ২১)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ঝ। হেদায়াতের কতিপয় কারণ

📄 ঝ। হেদায়াতের কতিপয় কারণ


হেদায়াতের কতিপয় কারণ (أسباب الهداية): নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করতেন। যেমন:

১। উত্তম চরিত্র (حسن الأخلاق): আল্লাহ বলেন: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)} ... [القلم: 4] 'অবশ্যই তুমি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত' (সূরা আল-ক্বালাম: ৪)।

২। উত্তম কথার মাধ্যমে দা'ওয়াত দেয়া (الدعوة باللسان): যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ বকর (রা.), খাদীজা (রা.), আলী (রা.) এবং অন্যকে সুন্দর কথার মাধ্যমে দা'ওয়াত দিয়েছিলেন। ফলে, তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)} [33 :فصلت] 'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।

৩। দ্বীন শিক্ষা দেয়া (التعليم): যেমনটি কতিপয় ছাহাবী মক্কার দারুল আরক্বামে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অনুরূপভাবে, উসাইদ ইবনে হুযাইর (রা.), সা'দ ইবনু মু'আয মদীনায় মুছ'আব ইবনে উমাইর (রা.)-এর প্রতিষ্ঠিত দ্বীন শিক্ষার মজলিস থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

৪। ইবাদতের মাধ্যমে দা'ওয়াত (العبادة): যেমন-হিনদ বিনতে উতবাহ (রা.) মক্কা বিজয়ের বছর মসজিদে হারামে মুসলিমদের ছালাত আদায় করতে দেখে ইসলাম গ্রহণ করেন। ছুমামা ইবনে উছাল আল-হানাফী (রা.) মসজিদে নববীতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চরিত্র ও ইবাদতে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।

৫। ব্যয় ও দান করা (البذل والعطاء): মক্কা বিজয়ের বছর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাফওয়ান ইবনে উমাইয়াহ (রা.) ও মু'আবিয়াহ ইবনে আবু সুফইয়ান (রা.) কে কিছু ছাগল দান করলে তারা ইসলাম গ্রহণ করেন। এভাবে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে অনেকগুলি ছাগল উপহার দেন, এতে তিনি ও তার দলবল ইসলাম গ্রহণ করেন। এরকম আরো কারণ রয়েছে, যেগুলিকে আল্লাহ হেদায়াতের কারণ হিসাবে নির্ধারণ করেছেন।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ঞ। উত্তম দাঈ

📄 ঞ। উত্তম দাঈ


উত্তম দাঈ (أفضل الدعاة إلى الله): দা'ওয়াতী কাজে অংশগ্রহণকারীরা চার ধরনেরঃ

প্রথম: দাঈদের চারিত্রিক সৌন্দর্যে প্রভাবিত হয়ে কতিপয় মানুষ দা'ওয়াতী কাজে অংশ নেয়। কিন্তু কোন দাঈর সাথে তার কোন সমস্যা সৃষ্টি হলে সে দা'ওয়াতী কার্যক্রম ছেড়ে দেয় এবং দাঈদের সাথে শত্রুতা করে। এই ধরনের দাঈর ত্রুটিপূর্ণ উদ্দেশ্যের কারণে আল্লাহ তা'আলা তাকে অন্য পথে পরিচালিত করেন।

দ্বিতীয়: কিছু দাঈ এমন আছে, যারা দা'ওয়াতের মধ্যে তাদের সমস্যার সমাধান এবং চাহিদা পূরণের পথ খুঁজে পায়। যখনই তাদের অবস্থার উন্নতি ঘটে এবং দুনিয়াবী প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ধন-সম্পদ বেড়ে যায়, তখনই দা'ওয়াতী কার্যক্রম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এ ব্যক্তিকেও আল্লাহ তা'আলা অন্য পথে ফিরিয়ে দেন। কেন না, সে ত্রুটিপূর্ণ উদ্দেশ্য নিয়ে দা'ওয়াতী কাজে প্রবেশ করেছে।

তৃতীয়: কিছু দাঈ এমন আছে, যারা পূণ্য ও প্রতিদানের আশায় দা'ওয়াতী কাজ করে। তারা শুধু নেকী হাসিল করতে চায়। তাদের উদ্দেশ্য তাদের নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই প্রকার দাঈ যখন দা'ওয়াতী কাজ ব্যতীত অন্য কাজে অপেক্ষাকৃত সহজে নেকী পায়, তখন দা'ওয়াতী কাজ ছেড়ে দেয়।

চতুর্থ: যারা দা'ওয়াতী কাজ করে এ কারণে যে, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক মুসলিমের উপর দা'ওয়াত দেয়া ফরয করেছেন। তারা ইবাদত করে, কারণ তা আল্লাহর নির্দেশ এবং দা'ওয়াতী কাজ করে, কারণ তাও আল্লাহর নির্দেশ। এই প্রকার দাঈর উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ। তাদের বিশুদ্ধ নিয়্যত ও বুঝের কারণে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সাহায্য করেন এবং দা'ওয়াতী কাজ ও আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য সুযোগ করে দেন। এ শ্রেণীর দাঈগণ সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী। তাঁরা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসাবে মুসলিম জাতির জন্য কাজ করেন। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলকে এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করেন, যারা নবীগণের উত্তরাধিকারী।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)} [فصلت: 33] 'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُসْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} [الأحزاب: 21] 'অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহর অনেক যিক্র করে' (সূরা আল-আহযাব: ২১)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ট। নবী-রাসূলগণের দা‘ওয়াতের পর্যায়

📄 ট। নবী-রাসূলগণের দা‘ওয়াতের পর্যায়


নবী-রাসূলগণের দা'ওয়াতের পর্যায় (مراحل دعوة الأنبياء والرسل): প্রত্যেক দাঈকে চারটি পর্যায় অতিক্রম করতে হয়, তা নিম্নরূপ:

১। দা'ওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়: এ পর্যায়ে দাঈ আল্লাহর দিকে মানুষকে দা'ওয়াত দেয়। তারা নিজের জীবন, ধন-সম্পদ, সময়, ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা, পরিবার-পরিজন, দেশ সব কিছুকে দা'ওয়াতী কাজে উৎসর্গ করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} .. [العنكبوت: 69] 'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব' (সূরা আল-আনকাবূত: ৬৯)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {لَكِنِ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ جَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ وَأُولَئِكَ لَهُمُ الْخَيْرَاتُ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (88) أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (89)} ... [التوبة: 88 – 89] 'কিন্তু রাসূল ও তার সাথে মুমিনরা তাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করে, আর সে সব লোকদের জন্যই রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই সফলকাম। (৮৮) আল্লাহ তাদের জন্য তৈরি করেছেন জান্নাতসমূহ যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে, এটিই মহা সফলতা' (সূরা আত-তাওবা: ৮৮-৮৯)।

২। প্রশিক্ষণ পর্যায়: এ পর্যায়ে আল্লাহ তা'আলা দাঈকে পরীক্ষা করেন, যাতে তার কল্যাণ হবে, তা তাকে শিক্ষা দেন যাতে তিনি তার ধৈর্য ও সত্যবাদিতা যাচাই করতে পারেন এবং তার নিকট কঠিন পরিস্থিতি বরণ, সৃষ্টির প্রতি দয়া এবং হক্বের (আল্লাহর) উপর পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি তৈরি হয়। সেজন্য, ভাল-মন্দ, সচ্ছলতা, অভাব-অনটন, নিরাপত্তা এবং ভয় ইত্যাদি দিয়ে তাকে পরীক্ষা করা হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ (2) وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ (3)} .. [العنكبوت: 2 - 3] 'মানুষ কি মনে করে যে, 'আমরা ঈমান এনেছি' বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? (২) আর আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি। ফলে আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যে, কারা সত্য বলে এবং অবশ্যই তিনি জেনে নেবেন, কারা মিথ্যাবাদী' (সূরা আল-আনকাবূত: ২- ৩)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ (35)} [الأنبياء: 35] 'আর ভাল ও মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে' (সূরা আল-আম্বিয়া: ৩৫)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ (155) الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ (156) أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ (157)} [البقرة: 155 – 157] 'আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। (১৫৫) যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে, বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। (১৫৬) তাদের উপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত' (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৫৫-১৫৭)।

৩। সাহায্য প্রাপ্তির পর্যায়: দাঈ যখন পরীক্ষায় ধৈর্য ধারণ করে এবং কঠিন পরিস্থিতি, কম সাহায্যকারী ও বেশি সম্পদ পেয়েও দা'ওয়াতী কাজ করে যায়, তখনই আল্লাহ তাকে শক্তি দেন এবং সাহায্য করেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে বিপদাপদ দূর করেন এবং শত্রুকে পরাস্ত করে তাকে রক্ষা করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {إِلَّا تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (40)} [التوبة: 40] 'যদি তোমরা তাকে সাহায্য না কর, তবে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন, যখন কাফেররা তাকে বের করে দিল, তিনি ছিলেন দু'জনের দ্বিতীয়জন, যখন তারা উভয়ে পাহাড়ের একটি গুহায় অবস্থান করছিলেন, তিনি তার সঙ্গীকে বললেন, তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার উপর তাঁর পক্ষ হতে প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাকে এমন এক সৈন্য বাহিনী দ্বারা সাহায্য করলেন, যাদেরকে তোমরা দেখনি এবং তিনি কাফেরদের বাণী অতি নীচু করে দিলেন। আর আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান' (সূরা আত-তাওবা: ৪০)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذিবُوا جَاءَهُمْ نَصْرُنَا فَنُجِّيَ مَنْ نَشَاءُ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ (110)} [يوسف: 110]. 'অবশেষে যখন রাসূলগণ (কওমের ঈমান থেকে) নিরাশ হয়ে গেলেন এবং তারা মনে করলেন, তাদের সাথে মিথ্যা বলা হয়েছে, তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য আসল, অতঃপর আমি যাকে ইচ্ছা নাজাত দেই, আর অপরাধী কওম থেকে আমার আযাব কখনও ফেরানো হয় না' (সূরা ইউসূফ: ১১০)।

৪। কর্তৃত্ব, রাজত্ব ও সম্মান প্রাপ্তির পর্যায়: দাঈ যখন দা'ওয়াত দিবে, আল্লাহর ইবাদত করবে, আল্লাহর জন্যই সবকিছুকে বরণ করে নিবে, এবং আল্লাহর কালিমা সুউচ্চকরণে নিজের সবকিছু ব্যয় করবে, তখন আল্লাহ তাকে যমীনে কর্তৃত্ব দান করবেন, দুনিয়ায় সম্মানিত করবেন এবং পরকালে জান্নাতে প্রবিষ্ট করাবেন। উল্লেখ্য যে, এ পর্যায়টি সংঘটিত হয়ে থাকে হয় নবী-রাসূল কর্তৃক, না হয় নবী-রাসূলের উত্তরাধিকারী কর্তৃক। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ (40) الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتُوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} [الحج: 40 - 41] 'আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন, যে তাকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী। (৪০) তারা এমন, যাদেরকে আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা দান করলে তারা ছালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে' (সূরা আল-হজ্জ: ৮০-৪১)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ } [النور: 55] 'তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তাদেরকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে যমীনের প্রতিনিধিত্ব প্রদান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব প্রদান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দ্বীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাদের ভয়-ভীতি শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর এরপর যারা কুফরী করবে, তারাই ফাসিক' (সূরা আন-নূর: ৫৫)। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ } [التوبة: 100] 'আর মুহাজির ও আনসারগণের মধ্যে যারা অগ্রগামী ও প্রথম এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তারা সেখানে স্থায়ী থাকবে। এটাই মহাসাফল্য' (সূরা আত-তাওবা: ১০০)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px