📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 চ। দাঈর নিয়্যত-সংকল্প

📄 চ। দাঈর নিয়্যত-সংকল্প


দাঈর নিয়্যত-সংকল্প (نية الداعي إلى الله): দ্বীন ইসলাম বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ। আর নিয়্যতানুযায়ী প্রত্যেক দাঈকে প্রতিদান দেয়া হবে। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দিয়েছেন ও ইবাদত করেছেন। তিনি নিজেকে দিয়েই দা'ওয়াতী কাজ শুরু করেন, তারপর পর্যায়ক্রমে তার পরিবার, নিকটাত্মীয়, তার জাতি, মক্কাবাসী ও এর চতুষ্পার্শ্বে বসবাসকারী লোকজন, আরববাসী এবং সকল শ্রেণীর মানুষকে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দিয়েছেন এই বলে যে, তিনি সমগ্র মানবমণ্ডলীর কাছে আল্লাহর রাসূল হিসাবে এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। এর ফলে, মানুষ দলে দলে দ্বীনে প্রবেশ করেছে।

দাঈর নিয়্যতের ৮টি স্তর রয়েছেঃ

১। নিজেকে দিয়ে দা'ওয়াত শুরু করা (أن يبدأ بنفسه): আল্লাহ বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ (6)} ... [التحريم: 6] 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সে অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যেখানে রয়েছে নির্মম ও কঠোর ফেরেশতাকূল, যারা আল্লাহ তাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, সে ব্যাপারে অবাধ্য হয় না। আর তারা তা-ই করে, যা তাদেরকে আদেশ করা হয়' (সূরা আত-তাহরীম: ৬)।

২। তারপর নিজের পরিবারকে দা'ওয়াত দেয়া: আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى} [طه: 132] 'আর তোমার পরিবার-পরিজনকে ছালাত আদায়ে আদেশ দাও এবং নিজেও তার উপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোন রিযক চাই না। আমিই তোমাকে রিযক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য' (সূরা ত্বহা: ১৩২)।

৩। তারপর নিকটাত্মীয়কে দা'ওয়াত দেয়া: আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ (214)} ... [الشعراء: 214] 'আর তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক কর' (সূরা আশ-শু'আরা: ২১৪)।

৪। তারপর নিজ কওমের মানুষকে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া: আল্লাহ তা'আলা বলেন: {لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أَتَاهُمْ مِنْ نَذِيرٍ مِنْ قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ (3)} [السجدة: 3]. 'যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন, যাদের কাছে তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি। হয়তো তারা হেদায়াত লাভ করবে' (সূরা আস-সাজদা: ৩)।

৫। তারপর নিজ অঞ্চল ও তার চার পার্শ্বের লোকজনকে দা'ওয়াত দেয়া: আল্লাহ তা'আলা বলেন: {لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنْذِرَ يَوْمَ الْجَمْعِ لَا رَيْبَ فِيهِ فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ (7)} ... [الشورى: 7]. 'যাতে আপনি মূল জনপদ ও তার আশপাশের বাসিন্দাদেরকে সতর্ক করতে পারেন, আর যাতে 'একত্রিত হওয়ার দিন'-এর ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই, সেদিন একদল থাকবে জান্নাতে আরেক দল যাবে জ্বলন্ত আগুনে' (সূরা আশ-শুরা: ৭)।

৬। তারপর আরবের বা নিজ দেশের সবাইকে দা'ওয়াত দেয়া: আল্লাহ তা'আলা বলেন: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (2)} ... [الجمعة: 2] 'তিনিই নিরক্ষরদের মাঝে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে, যিনি তাদের কাছে তেলাওয়াত করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাত। যদিও ইতঃপূর্বে তারা স্পষ্ট গোমরাহীতে ছিল' (সূরা আল-জুমু'আ: ২)।

৭। তারপর ব্যাপকভাবে সব মানুষকে দা'ওয়াত দেয়া: আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ (28)} [سبأ: 28] 'আর আমি তো কেবল তোমাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী হিসাবে প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না' (সূরা সাবা: ২৮)।

৮। তারপর পৃথিবীর সব মানুষকে দা'ওয়াত দেয়া। এমনকি জিন জাতি দাঈর কাছে আসলে তাদেরকেও দা'ওয়াত দেয়া: আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ (107)} ... [الأنبياء: 107]. 'আর আমি তো তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসাবেই প্রেরণ করেছি' (সূরা আম্বিয়া: ১০৭)। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا (1) يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا (2)} [الجن: 1 - 2] . 'বল, 'আমার প্রতি অহী করা হয়েছে যে, নিশ্চয় জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শুনেছে। অতঃপর বলেছে- 'আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, (১) যা সত্যের দিকে হেদায়াত করে; ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি। আর আমরা কক্ষনো আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করব না' (সূরা আল-জিন: ১-২)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ছ। দাঈর কর্তব্য

📄 ছ। দাঈর কর্তব্য


দাঈর কর্তব্য (مسؤولية الداعي إلى الله): মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে চারটি বিষয়ে নির্দেশ দান করেন:
(১) অহীর জ্ঞান শিক্ষা করা (أن يتعلم الوحي)
(২) অহীর জ্ঞানানুসারে আমল করা (وأن يعمل به)
(৩) মানুষকে অহীর জ্ঞান শিক্ষা দেয়া (وأن يعلّمه الناس)
(৪) মানুষকে অহীর জ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখা (وأن يقيم الناس عليه)

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যুর পর এ করণীয় বিষয়সমূহ আমাদের মুসলিমদের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে। সেজন্য, দ্বীনের ধাপ দু'টিঃ ১। ইবাদত করা এবং ২। আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া। আর নিজে সংশোধন হওয়ার প্রচেষ্টা করা এবং অন্যকে সংশোধন করারও চেষ্টা করা। এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা যাকে চান, তাকে অনুগ্রহ করেন।

মুসলিমদের জন্য আবশ্যকীয় শিক্ষণীয় বিষয় দু'টিঃ
(ক) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রচেষ্টা। আর তা হচ্ছে, দা'ওয়াত।
(খ) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনাদর্শ। আর এটাই হচ্ছে, পরিপূর্ণ দ্বীন।

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ না করে জাতির মাঝে দা'ওয়াত চালু থাকলে সে দা'ওয়াতে কল্যাণ ও মুক্তি নেই, তাতে হেদায়াত লাভ হবে না এবং আল্লাহর সাহায্যও আসবে না। কর্তৃত্ব, রাজত্ব ও খিলাফত কায়েম হবে না এবং সম্মান ও নিরাপত্তা থাকবে না। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ছাহাবীগণের ব্যাপারে এমন প্রচেষ্টা চালান, যাতে তাদের মধ্যে দু'টি বিষয়ের সৃষ্টি হয়ঃ ১। ছাহাবীগণের নিজেদের জীবনে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা এবং ২। সকল মানুষের মাঝে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা। প্রত্যেক মুসলিমকে তাদের ব্যক্তিগত আমল তথা ইবাদত এবং সামষ্টিক আমল তথা আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত সম্পর্কে আল্লাহর নিকট অচিরেই হিসাব দিতে হবে। দাঈ ও দা'ওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি উভয়কে আল্লাহ তা'আলা দুনিয়াবী কাজ-কর্ম সম্পর্কে ক্বিয়ামতের দিন জিজ্ঞেস করবেন।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {فَلَنَسْأَلَنَّ الَّذِينَ أُرْسِلَ إِلَيْهِمْ وَلَنَسْأَلَنَّ الْمُرْسَلِينَ (6) فَلَنَقُصُّنَّ عَلَيْهِمْ بِعِلْمٍ وَمَا كُنَّا غَائِبِينَ (7) وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (8) وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَظْلِمُونَ ( 9)} .. [الأعراف: 6 - 9] 'সুতরাং আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করব, যাদের নিকট রাসূল প্রেরিত হয়েছিলেন এবং অবশ্যই আমি প্রেরিতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। (৬) অতঃপর অবশ্যই আমি তাদের নিকট জেনে শুনে বর্ণনা করব। আর আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না। (৭) আর সেদিন পরিমাপ হবে যথাযথ। সুতরাং যাদের পাল্লা ভারি হবে, তারাই হবে সফলকাম। (৮) আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই হবে সেই সব লোক, যারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ তারা আমার আয়াতসমূহর প্রতি (অস্বীকার করার মাধ্যমে) যুলম করত' (সূরা আল-আ'রাফ: ৬-৯)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ (3)} [العصر: 1 - 3]. 'মহাকালের শপথ, (১) মানুষ অবশ্যই ক্ষতিতে আছে। (২) তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়' (সূরা আল-আছর: ১-৩)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 জ। দাঈর প্রচেষ্টা

📄 জ। দাঈর প্রচেষ্টা


দাঈর প্রচেষ্টা (جهد الداعي إلى الله): দাঈর প্রচেষ্টা দু'প্রকার:

(ক) নিজের জন্যই চেষ্টা করা। আর তা হলো, মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে নিয়োজিত করা এবং তাঁর ইবাদতে প্রতিষ্ঠিত রাখা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ } [العنكبوت: 69] 'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন' (সূরা আল-আনকাবূত: ৬৯)।

(খ) অন্যদের জন্য প্রচেষ্টা করা। আর তা তিন প্রকার:
১। কাফেরদের জন্য চেষ্টা করা, হতে পারে তারা হেদায়াত লাভ করবে। যেমন আল্লাহ বলেন: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أَتَاهُمْ مِنْ نَذِيرٍ مِنْ قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ (3)} ... [السجدة: 3] . 'নাকি তারা বলে, 'সে তা রচনা করেছে?' বরং তা তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য, যাতে তুমি এমন কওমকে সতর্ক করতে পার, যাদের কাছে তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি। হয়তো তারা হেদায়াত লাভ করবে' (সূরা আস- সাজদা: ৩)।

২। অবাধ্য ও পাপীদের জন্য চেষ্টা করা, যাতে তারা আনুগত্যশীল হয় এবং অজ্ঞদের নিয়েও চেষ্টা করা, যাতে তারা দ্বীন বুঝে এবং উদাসীনদের নিয়েও কাজ করা, যাতে তারাও দ্বীনের কাজে নিয়োজিত থাকে। যেমন আল্লাহ বলেন: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْনَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (104)} [آل عمران: 104] 'আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম' (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)।

৩। সৎলোকদের জন্যও চেষ্টা করা, যাতে তারা অন্যকে সংশোধন করতে পারেন; আলেমদের জন্যও চেষ্টা করা, যাতে তারা দ্বীন শিক্ষা দিতে পারেন এবং উপদেশ দাতাদের জন্যও চেষ্টা করা, যাতে তারাও অন্যকে আরো বেশি উপদেশ দিতে পারেন। আল্লাহ বলেন: {وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ (3)} [العصر: 1 - 3] 'মহাকালের শপথ, (১) মানুষ অবশ্যই ক্ষতিতে আছে। (২) তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়' (সূরা আল-আছর: ১-৩)। আল্লাহ আরো বলেন: {فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنْتَ مُذَكِّرٌ (21)} ... [الغاشية: 21] 'অতএব, তুমি উপদেশ দাও, তুমি তো একজন উপদেশদাতা মাত্র' (সূরা আল- গাশিয়াহ: ২১)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ঝ। হেদায়াতের কতিপয় কারণ

📄 ঝ। হেদায়াতের কতিপয় কারণ


হেদায়াতের কতিপয় কারণ (أسباب الهداية): নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করতেন। যেমন:

১। উত্তম চরিত্র (حسن الأخلاق): আল্লাহ বলেন: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)} ... [القلم: 4] 'অবশ্যই তুমি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত' (সূরা আল-ক্বালাম: ৪)।

২। উত্তম কথার মাধ্যমে দা'ওয়াত দেয়া (الدعوة باللسان): যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ বকর (রা.), খাদীজা (রা.), আলী (রা.) এবং অন্যকে সুন্দর কথার মাধ্যমে দা'ওয়াত দিয়েছিলেন। ফলে, তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)} [33 :فصلت] 'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।

৩। দ্বীন শিক্ষা দেয়া (التعليم): যেমনটি কতিপয় ছাহাবী মক্কার দারুল আরক্বামে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অনুরূপভাবে, উসাইদ ইবনে হুযাইর (রা.), সা'দ ইবনু মু'আয মদীনায় মুছ'আব ইবনে উমাইর (রা.)-এর প্রতিষ্ঠিত দ্বীন শিক্ষার মজলিস থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

৪। ইবাদতের মাধ্যমে দা'ওয়াত (العبادة): যেমন-হিনদ বিনতে উতবাহ (রা.) মক্কা বিজয়ের বছর মসজিদে হারামে মুসলিমদের ছালাত আদায় করতে দেখে ইসলাম গ্রহণ করেন। ছুমামা ইবনে উছাল আল-হানাফী (রা.) মসজিদে নববীতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চরিত্র ও ইবাদতে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।

৫। ব্যয় ও দান করা (البذل والعطاء): মক্কা বিজয়ের বছর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাফওয়ান ইবনে উমাইয়াহ (রা.) ও মু'আবিয়াহ ইবনে আবু সুফইয়ান (রা.) কে কিছু ছাগল দান করলে তারা ইসলাম গ্রহণ করেন। এভাবে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে অনেকগুলি ছাগল উপহার দেন, এতে তিনি ও তার দলবল ইসলাম গ্রহণ করেন। এরকম আরো কারণ রয়েছে, যেগুলিকে আল্লাহ হেদায়াতের কারণ হিসাবে নির্ধারণ করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px