📄 ঠ। দা‘ওয়াত বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ
দা'ওয়াত বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ :(নواقض الدعوة)
ইসলাম ভঙ্গের যেমন কারণ রয়েছে, তদ্রুপ দা'ওয়াত বিনষ্ট হওয়ারও কারণ রয়েছে। যেমনঃ
○ লোক দেখানো দা'ওয়াত ও তাতে একনিষ্ঠতা না থাকা (الرياء وعدم الإخلاص)
○ দ্বীনের মাধ্যমে দুনিয়া ভক্ষণ করা (وأكل الدنيا بالدين)
○ আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী বিনিময়ে বিক্রয় করা (وبيع كلام الله ورسوله بالأجرة)
○ নিজের খ্যাতি অর্জনের লক্ষ্যে দা'ওয়াতী কাজ করা (والدعوة إلى النفس وحب الشهرة)
○ জাহিলী, গোঁড়ামি ও স্বজনপ্রীতির জন্য দা'ওয়াত দেয়া। যেমন- কোন দল, সম্প্রদায় ও জামা'আতের দিকে দা'ওয়াত দেয়া। আর অন্য কোন উদ্দেশ্যে দা'ওয়াত দিলে সেটাও গ্রহণযোগ্য হবে না। (حمية الجاهلية والعصبية كمن يدعو إلى حزب أو طائفة أو جماعة ولا يقبل والدعوة إلى الدعوة من غيره)
আমাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ হলো আমরা তারই দিকে দা'ওয়াত দিবো, অন্য কোন দিকে নয়।
আর যারাই দা'ওয়াতের মূলনীতি পরিত্যাগ করবে ও নিজের ইচ্ছানুযায়ী দা'ওয়াত দিবে, তারা অনেক বিপদের সম্মুখীন হবে। তার মধ্যে কতিপয় হলোঃ
○ নিজের প্রশংসা অর্জন হওয়া (تزكية النفس)
○ গর্ব-অহংকার প্রকাশ পাওয়া (والعجب والكبر)
○ পদমর্যাদার প্রতি প্ররোচিত হওয়া (والحرص على الجاه والمنصب)
○ অন্যদের অবহেলা করা (واحتقار الآخرين)
○ আল্লাহর দিকে প্রকৃত দাঈদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করা (والنظر في ) (عيوب الدعاة إلى الله)
○ নিজের প্রবৃত্তি অনুসারে ধন-সম্পদ ব্যয় করা (والإنفاق على شهواته)
○ দ্বীনের পথে ব্যয় না করা (وترك الإنفاق على الدين)
○ ফরয বিধান পালন ও সৎআমল করা কষ্ট মনে হওয়া (وثقلت عليه ) (الفرائض والأعمال الصالحة)
○ বেশী বেশী বৈধ কাজে অংশ নেওয়া (وتوسع في المباحات)
○ এবং তর্ক-বিতর্ক ও কুপ্রবৃত্তির পিছনে সময় নষ্ট হওয়া ( وهانت عليه ) (إضاعة الأوقات في الجدل والشهوات )
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْলًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)} [فصلت: 33].
'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ ) (44) فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (45)} [الأنعام: 44 - 45].
'অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে যখন তাদেরকে যা প্রদান করা হয়েছিল, তার কারণে তারা উৎফুল্ল হল, আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। ফলে তখন তারা হতাশ হয়ে গেল। (৪৪) অতএব, যালিম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হল। আর সকল প্রশংসা রব্বুল আলামীন আল্লাহর জন্য' (সূরা আল-আন'আম: ৪৪-৪৫)।
দা'ওয়াত বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ :(নواقض الدعوة)
ইসলাম ভঙ্গের যেমন কারণ রয়েছে, তদ্রুপ দা'ওয়াত বিনষ্ট হওয়ারও কারণ রয়েছে। যেমনঃ
○ লোক দেখানো দা'ওয়াত ও তাতে একনিষ্ঠতা না থাকা (الرياء وعدم الإخلاص)
○ দ্বীনের মাধ্যমে দুনিয়া ভক্ষণ করা (وأكل الدنيا بالدين)
○ আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী বিনিময়ে বিক্রয় করা (وبيع كلام الله ورسوله بالأجرة)
○ নিজের খ্যাতি অর্জনের লক্ষ্যে দা'ওয়াতী কাজ করা (والدعوة إلى النفس وحب الشهرة)
○ জাহিলী, গোঁড়ামি ও স্বজনপ্রীতির জন্য দা'ওয়াত দেয়া। যেমন- কোন দল, সম্প্রদায় ও জামা'আতের দিকে দা'ওয়াত দেয়া। আর অন্য কোন উদ্দেশ্যে দা'ওয়াত দিলে সেটাও গ্রহণযোগ্য হবে না। (حمية الجاهلية والعصبية كمن يدعو إلى حزب أو طائفة أو جماعة ولا يقبل والدعوة إلى الدعوة من غيره)
আমাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ হলো আমরা তারই দিকে দা'ওয়াত দিবো, অন্য কোন দিকে নয়।
আর যারাই দা'ওয়াতের মূলনীতি পরিত্যাগ করবে ও নিজের ইচ্ছানুযায়ী দা'ওয়াত দিবে, তারা অনেক বিপদের সম্মুখীন হবে। তার মধ্যে কতিপয় হলোঃ
○ নিজের প্রশংসা অর্জন হওয়া (تزكية النفس)
○ গর্ব-অহংকার প্রকাশ পাওয়া (والعجب والكبر)
○ পদমর্যাদার প্রতি প্ররোচিত হওয়া (والحرص على الجاه والمنصب)
○ অন্যদের অবহেলা করা (واحتقار الآخرين)
○ আল্লাহর দিকে প্রকৃত দাঈদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করা (والنظر في ) (عيوب الدعاة إلى الله)
○ নিজের প্রবৃত্তি অনুসারে ধন-সম্পদ ব্যয় করা (والإنفاق على شهواته)
○ দ্বীনের পথে ব্যয় না করা (وترك الإنفاق على الدين)
○ ফরয বিধান পালন ও সৎআমল করা কষ্ট মনে হওয়া (وثقلت عليه ) (الفرائض والأعمال الصالحة)
○ বেশী বেশী বৈধ কাজে অংশ নেওয়া (وتوسع في المباحات)
○ এবং তর্ক-বিতর্ক ও কুপ্রবৃত্তির পিছনে সময় নষ্ট হওয়া ( وهانت عليه ) (إضاعة الأوقات في الجدل والشهوات )
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْলًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)} [فصلت: 33].
'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ ) (44) فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (45)} [الأنعام: 44 - 45].
'অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে যখন তাদেরকে যা প্রদান করা হয়েছিল, তার কারণে তারা উৎফুল্ল হল, আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। ফলে তখন তারা হতাশ হয়ে গেল। (৪৪) অতএব, যালিম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হল। আর সকল প্রশংসা রব্বুল আলামীন আল্লাহর জন্য' (সূরা আল-আন'আম: ৪৪-৪৫)।
📄 ড। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াতের স্তর
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের স্তর (مراتب الدعوة إلى الله)
মহান আল্লাহ সৃষ্টির স্তর অনুযায়ী দা'ওয়াতের স্তর নির্ধারণ করেছেন। মানুষ তিন প্রকার:
প্রথম: হক্বের দা'ওয়াত দিলে তারা গ্রহণ করে ও অনুসরণ করে। এ সকল ব্যক্তিদেরকে যুক্তিপূর্ণ উত্তম পন্থায় বর্ণনা করা, শরী'আতের উদ্দেশ্য বুঝানো ও ইসলামের মানবিক দিকগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে দা'ওয়াত দিতে হয়।
দ্বিতীয়: হক্ব শোনার পর তা স্বীকার করে নেয়, তবে তা গ্রহণ করা ও তদানুযায়ী আমল করার ব্যাপারে কালক্ষেপণ করে। এই শ্রেণীর মানুষকে উত্তম উপদেশ দেয়া ও বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তাদেরকে জান্নাত লাভের প্রতি উৎসাহ দিতে হবে ও জাহান্নাম সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করতে হবে-যাতে তারা আনুগত্যের ছওয়াব জানার পর সেদিকে অগ্রসর হয় এবং অবাধ্যতার শাস্তি জানার পর তা থেকে সতর্ক হয় ও সৎ-আমলের প্রতি তার বক্ষ প্রশস্ত হয়।
তৃতীয়: হক্বের দা'ওয়াত দেয়া হলে তারা তা স্বীকার করে না এবং কবুলও করে না; বরং নানা সন্দেহ ও বিভ্রাট সৃষ্টি করে তা প্রত্যাখ্যান করে। এই শ্রেণীর মানুষের সাথে উত্তম পন্থায় তর্ক-বিতর্ক হবে। তাদের সামনে বোধগম্য ও যৌক্তিক উদাহরণ পেশ করতে হবে, যাতে তারা তুষ্ট হয় এবং সন্দেহ দূরীভূত হয়।
আল্লাহ তা'আলা তর্কের পদ্ধতি বর্ণনা করে বলেন: ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} [النحل: 125]
'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের স্তর (مراتب الدعوة إلى الله)
মহান আল্লাহ সৃষ্টির স্তর অনুযায়ী দা'ওয়াতের স্তর নির্ধারণ করেছেন। মানুষ তিন প্রকার:
প্রথম: হক্বের দা'ওয়াত দিলে তারা গ্রহণ করে ও অনুসরণ করে। এ সকল ব্যক্তিদেরকে যুক্তিপূর্ণ উত্তম পন্থায় বর্ণনা করা, শরী'আতের উদ্দেশ্য বুঝানো ও ইসলামের মানবিক দিকগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে দা'ওয়াত দিতে হয়।
দ্বিতীয়: হক্ব শোনার পর তা স্বীকার করে নেয়, তবে তা গ্রহণ করা ও তদানুযায়ী আমল করার ব্যাপারে কালক্ষেপণ করে। এই শ্রেণীর মানুষকে উত্তম উপদেশ দেয়া ও বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তাদেরকে জান্নাত লাভের প্রতি উৎসাহ দিতে হবে ও জাহান্নাম সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করতে হবে-যাতে তারা আনুগত্যের ছওয়াব জানার পর সেদিকে অগ্রসর হয় এবং অবাধ্যতার শাস্তি জানার পর তা থেকে সতর্ক হয় ও সৎ-আমলের প্রতি তার বক্ষ প্রশস্ত হয়।
তৃতীয়: হক্বের দা'ওয়াত দেয়া হলে তারা তা স্বীকার করে না এবং কবুলও করে না; বরং নানা সন্দেহ ও বিভ্রাট সৃষ্টি করে তা প্রত্যাখ্যান করে। এই শ্রেণীর মানুষের সাথে উত্তম পন্থায় তর্ক-বিতর্ক হবে। তাদের সামনে বোধগম্য ও যৌক্তিক উদাহরণ পেশ করতে হবে, যাতে তারা তুষ্ট হয় এবং সন্দেহ দূরীভূত হয়।
আল্লাহ তা'আলা তর্কের পদ্ধতি বর্ণনা করে বলেন: ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} [النحل: 125]
'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
📄 ঢ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াতের পর্যায়
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের পর্যায় (مরাحل الدعوة إلى الله):
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দা'ওয়াতী কাজের তিনটি পর্যায় ছিলঃ
প্রথম: দ্বীন প্রচার ও তা পৌঁছে দেয়া (مرحلة النشر والبلاغ):
এ পর্যায়ে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর একত্ব ও ঈমান আনয়নের দা'ওয়াত দিয়েছিলেন এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও মূর্তিপূজা ছেড়ে দেয়ার কথা বলেছিলেন। আর অন্যান্য নবী ও তাদের জাতির কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনা করেছিলেন। আখেরাতের অবস্থা ও জান্নাত-জাহান্নামের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছিলেন। উত্তম চরিত্র ও আমলের ফযীলত বর্ণনা করে দা'ওয়াত দিয়েছিলেন। মক্কায় এ পর্যায়ের দা'ওয়াতের সূচনা হয়েছিল। আর মদীনায় তা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যু পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তারপর তাঁর ছাহাবীগণ এপথ ধরেই চলেছিলেন।
দ্বিতীয়: তৈরি ও সংগঠিত করা (مرحلة البناء والتكوين):
এ পর্যায়ে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলাম গ্রহণকারী ছাহাবীগণের বিশেষ তত্ত্বাবধান করেছিলেন। মক্কায় দারুল আরকামে তাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি ঈমান ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে তাদেরকে সংশোধন করেছিলেন। এভাবে এক পর্যায়ে দ্বীনের উপর আমল করার এবং সেদিকে দা'ওয়াত দেওয়ার প্রস্তুতি তাদের মধ্যে জন্ম নেয়। যখন তাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার নির্দেশ দেন।
তৃতীয়: খিলাফত ও রাজত্ব/কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা (مرحلة الاستخلاف والتمكين):
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তার ছাহাবীগণ মদীনায় হিজরত করার পর এ পর্যায়টি বাস্তবায়িত হয়। শরী'আতের সকল বিধি-বিধান মদীনায় অবতীর্ণ হয় যখন ছাহাবীগণের ঈমান পরিপূর্ণ হয়েছিল এবং তারা সর্বাবস্থায় আল্লাহর সকল আদেশ পালনে প্রস্তুত ছিলেন। ঈমান, তাক্বওয়া ও সৎ আমল যখন তাদের মধ্যে গ্রথিত হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা ছাহাবীদেরকে দুনিয়ায় কর্তৃত্ব দান করেন। মদীনায় ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয় ও দ্বীন সম্প্রসারিত হয়। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিনিধি ও আমীরদেরকে বিভিন্ন জায়গায় প্রেরণ করেন, যারা আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন এবং ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করেন।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا ) (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا (46) وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ فَضْلًا كَبِيرًا ) (47) وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ وَدَعْ أَذَاهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا (48)} [الأحزاب: 45 - 48]
'হে নবী! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে (৪৫) এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও আলোকদীপ্ত প্রদীপ হিসাবে। (৪৬) আর তুমি মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বিরাট অনুগ্রহ। (৪৭) আর তুমি কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না এবং তাদের নির্যাতন উপেক্ষা কর ও আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল কর। তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট' (সূরা আল-আহযাব: ৪৫-৪৮)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ]100 :100)} [التوبة(
'আর মুহাজির ও আনসারগণের মধ্যে যারা অগ্রগামী ও প্রথম এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তারা সেখানে স্থায়ী থাকবে। এটাই মহাসাফল্য' (সূরা আত-তাওবা: ১০০)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ ( 55)} [النور: [55
'তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তাদেরকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে যমীনের প্রতিনিধিত্ব প্রদান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব প্রদান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দ্বীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাদের ভয়-ভীতি শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর এরপর যারা কুফরী করবে তারাই ফাসিক' (সূরা আন-নূর: ৫৫)।
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের পর্যায় (مরাحل الدعوة إلى الله):
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দা'ওয়াতী কাজের তিনটি পর্যায় ছিলঃ
প্রথম: দ্বীন প্রচার ও তা পৌঁছে দেয়া (مرحلة النشر والبلاغ):
এ পর্যায়ে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর একত্ব ও ঈমান আনয়নের দা'ওয়াত দিয়েছিলেন এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও মূর্তিপূজা ছেড়ে দেয়ার কথা বলেছিলেন। আর অন্যান্য নবী ও তাদের জাতির কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনা করেছিলেন। আখেরাতের অবস্থা ও জান্নাত-জাহান্নামের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছিলেন। উত্তম চরিত্র ও আমলের ফযীলত বর্ণনা করে দা'ওয়াত দিয়েছিলেন। মক্কায় এ পর্যায়ের দা'ওয়াতের সূচনা হয়েছিল। আর মদীনায় তা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যু পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তারপর তাঁর ছাহাবীগণ এপথ ধরেই চলেছিলেন।
দ্বিতীয়: তৈরি ও সংগঠিত করা (مرحلة البناء والتكوين):
এ পর্যায়ে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলাম গ্রহণকারী ছাহাবীগণের বিশেষ তত্ত্বাবধান করেছিলেন। মক্কায় দারুল আরকামে তাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি ঈমান ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে তাদেরকে সংশোধন করেছিলেন। এভাবে এক পর্যায়ে দ্বীনের উপর আমল করার এবং সেদিকে দা'ওয়াত দেওয়ার প্রস্তুতি তাদের মধ্যে জন্ম নেয়। যখন তাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার নির্দেশ দেন।
তৃতীয়: খিলাফত ও রাজত্ব/কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা (مرحلة الاستخلاف والتمكين):
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তার ছাহাবীগণ মদীনায় হিজরত করার পর এ পর্যায়টি বাস্তবায়িত হয়। শরী'আতের সকল বিধি-বিধান মদীনায় অবতীর্ণ হয় যখন ছাহাবীগণের ঈমান পরিপূর্ণ হয়েছিল এবং তারা সর্বাবস্থায় আল্লাহর সকল আদেশ পালনে প্রস্তুত ছিলেন। ঈমান, তাক্বওয়া ও সৎ আমল যখন তাদের মধ্যে গ্রথিত হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা ছাহাবীদেরকে দুনিয়ায় কর্তৃত্ব দান করেন। মদীনায় ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয় ও দ্বীন সম্প্রসারিত হয়। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিনিধি ও আমীরদেরকে বিভিন্ন জায়গায় প্রেরণ করেন, যারা আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন এবং ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করেন।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا ) (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا (46) وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ فَضْلًا كَبِيرًا ) (47) وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ وَدَعْ أَذَاهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا (48)} [الأحزاب: 45 - 48]
'হে নবী! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে (৪৫) এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও আলোকদীপ্ত প্রদীপ হিসাবে। (৪৬) আর তুমি মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বিরাট অনুগ্রহ। (৪৭) আর তুমি কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না এবং তাদের নির্যাতন উপেক্ষা কর ও আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল কর। তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট' (সূরা আল-আহযাব: ৪৫-৪৮)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ]100 :100)} [التوبة(
'আর মুহাজির ও আনসারগণের মধ্যে যারা অগ্রগামী ও প্রথম এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তারা সেখানে স্থায়ী থাকবে। এটাই মহাসাফল্য' (সূরা আত-তাওবা: ১০০)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ ( 55)} [النور: [55
'তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তাদেরকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে যমীনের প্রতিনিধিত্ব প্রদান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব প্রদান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দ্বীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাদের ভয়-ভীতি শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর এরপর যারা কুফরী করবে তারাই ফাসিক' (সূরা আন-নূর: ৫৫)।