📄 ঞ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত দেয়ার সময়
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেওয়ার সময় (وقت الدعوة إلى الله) :
চিন্তা-চেতনা, আমল ও সময়ের সমন্বয়ে ইসলাম পরিপূর্ণ দ্বীন। প্রত্যেকটি ইবাদতের নির্দিষ্ট সময় ও উপলক্ষ্য রয়েছে এবং এর রয়েছে শুরু ও শেষ। যেমন-ছালাত, ছিয়াম, হাজ্জ ইত্যাদি।। কিন্তু আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দান সর্বদা, সর্বাবস্থায় ও সব জায়গায় চালু থাকবে। মুসলিমদের কর্তব্য হলো, এমনভাবে তাদের সময় কাটানো, ঠিক যেমনভাবে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাটিয়েছেন- যাতে তারা তাঁর অনুসারীদের মধ্যে গণ্য হতে পারে, যেমনটি ছাহাবায়ে কেরাম করেছিলেন। সুতরাং তারা আল্লাহ তা'আলার ফরযসমূহ পালন করবে। সর্বাবস্থায় তাদের রবের নির্দেশ মেনে চলবে। জীবিকা নির্বাহ ও উপার্জনের জন্য অল্প কিছু সময় ব্যয় করবে। আর অধিকাংশ সময় দা'ওয়াতী কাজে ব্যয় করবে, যাতে মানুষ এক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করে, যার কোন শরীক নেই।
সময় পেলে অথবা যাকে সে দা'ওয়াত দিতে চায়, তাকে দা'ওয়াত দেওয়া কঠিন হলে দ্বীনের জ্ঞান অর্জনে ব্যস্ত থাকবে অথবা মুসলিমদেরকে দ্বীনের বিধি-বিধান শিক্ষা দিবে। যাতে তারা জ্ঞান শিক্ষা করে নিজেদের ও অন্যদের অজ্ঞতা দূর করতে পারে। আর সময় পেলে অথবা দ্বীন শিক্ষা দেয়া অথবা জ্ঞানার্জন করা কঠিন হলে তার মুসলিম ভাইদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। তাদের প্রয়োজনের দিকে নজর রাখবে। সৃষ্টির প্রতি সদয় হবে এবং ভাল ও তাক্বওয়ার (আল্লাহ ভীতি) কাজে সহযোগিতা করবে। সময় হলে বা উপরের কাজগুলো করা সম্ভব না হলে নফল ইবাদত করবে। যেমন-সাধারণ সুন্নাত আদায় করা, যিকির করা, কুরআন তিলাওয়াত করা। এরূপ অন্যান্য আমল ও সৎকাজ করা। তবে, সর্বদা এমন কাজকে অগ্রাধিকার দিবে, যার উপকারিতা মুসলিম ও অন্যান্যদের জন্য তুলনামূলক বেশী ব্যাপক। সুতরাং মুসলিমরা নিজেদের ও অন্যদের সংশোধনের জন্য সর্বদা ব্যস্ত থাকবে।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108].
'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا (103)} ... [النساء: 103]
'নিশ্চয় ছালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয' (সূরা আন-নিসা: ১০০)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {79} [آل وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ ) ]79 :عمران
'বরং তিনি বলবেন, তোমরা রব্বানী হও। যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে' (সূরা আলে ইমরান: ৭৯)।
৪। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: وَابْتَغِ ফِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحبُّ الْمُفْسِدِينَ } [القصص: 77]
'আর আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তাতে তুমি আখেরাতের নিবাস অনুসন্ধান কর। তবে তুমি দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না। তোমার প্রতি আল্লাহ যেরূপ অনুগ্রহ করেছেন, তুমিও সেরূপ অনুগ্রহ কর। আর যমীনে ফাসাদ করতে চেয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ ফাসাদকারীদের ভালবাসেন না' (সূরা আল-কুছাছ: ৭৭)।
৫। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ (3)} [العصر: 1 - 3].
'মহাকালের শপথ, (১) মানুষ অবশ্যই ক্ষতিতে আছে। (২) তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়' (সূরা আল-আছর: ১-৩)।
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেওয়ার সময় (وقت الدعوة إلى الله) :
চিন্তা-চেতনা, আমল ও সময়ের সমন্বয়ে ইসলাম পরিপূর্ণ দ্বীন। প্রত্যেকটি ইবাদতের নির্দিষ্ট সময় ও উপলক্ষ্য রয়েছে এবং এর রয়েছে শুরু ও শেষ। যেমন-ছালাত, ছিয়াম, হাজ্জ ইত্যাদি।। কিন্তু আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দান সর্বদা, সর্বাবস্থায় ও সব জায়গায় চালু থাকবে। মুসলিমদের কর্তব্য হলো, এমনভাবে তাদের সময় কাটানো, ঠিক যেমনভাবে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাটিয়েছেন- যাতে তারা তাঁর অনুসারীদের মধ্যে গণ্য হতে পারে, যেমনটি ছাহাবায়ে কেরাম করেছিলেন। সুতরাং তারা আল্লাহ তা'আলার ফরযসমূহ পালন করবে। সর্বাবস্থায় তাদের রবের নির্দেশ মেনে চলবে। জীবিকা নির্বাহ ও উপার্জনের জন্য অল্প কিছু সময় ব্যয় করবে। আর অধিকাংশ সময় দা'ওয়াতী কাজে ব্যয় করবে, যাতে মানুষ এক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করে, যার কোন শরীক নেই।
সময় পেলে অথবা যাকে সে দা'ওয়াত দিতে চায়, তাকে দা'ওয়াত দেওয়া কঠিন হলে দ্বীনের জ্ঞান অর্জনে ব্যস্ত থাকবে অথবা মুসলিমদেরকে দ্বীনের বিধি-বিধান শিক্ষা দিবে। যাতে তারা জ্ঞান শিক্ষা করে নিজেদের ও অন্যদের অজ্ঞতা দূর করতে পারে। আর সময় পেলে অথবা দ্বীন শিক্ষা দেয়া অথবা জ্ঞানার্জন করা কঠিন হলে তার মুসলিম ভাইদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। তাদের প্রয়োজনের দিকে নজর রাখবে। সৃষ্টির প্রতি সদয় হবে এবং ভাল ও তাক্বওয়ার (আল্লাহ ভীতি) কাজে সহযোগিতা করবে। সময় হলে বা উপরের কাজগুলো করা সম্ভব না হলে নফল ইবাদত করবে। যেমন-সাধারণ সুন্নাত আদায় করা, যিকির করা, কুরআন তিলাওয়াত করা। এরূপ অন্যান্য আমল ও সৎকাজ করা। তবে, সর্বদা এমন কাজকে অগ্রাধিকার দিবে, যার উপকারিতা মুসলিম ও অন্যান্যদের জন্য তুলনামূলক বেশী ব্যাপক। সুতরাং মুসলিমরা নিজেদের ও অন্যদের সংশোধনের জন্য সর্বদা ব্যস্ত থাকবে।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108].
'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا (103)} ... [النساء: 103]
'নিশ্চয় ছালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয' (সূরা আন-নিসা: ১০০)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {79} [آل وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ ) ]79 :عمران
'বরং তিনি বলবেন, তোমরা রব্বানী হও। যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে' (সূরা আলে ইমরান: ৭৯)।
৪। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: وَابْتَغِ ফِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحبُّ الْمُفْسِدِينَ } [القصص: 77]
'আর আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তাতে তুমি আখেরাতের নিবাস অনুসন্ধান কর। তবে তুমি দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না। তোমার প্রতি আল্লাহ যেরূপ অনুগ্রহ করেছেন, তুমিও সেরূপ অনুগ্রহ কর। আর যমীনে ফাসাদ করতে চেয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ ফাসাদকারীদের ভালবাসেন না' (সূরা আল-কুছাছ: ৭৭)।
৫। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ (3)} [العصر: 1 - 3].
'মহাকালের শপথ, (১) মানুষ অবশ্যই ক্ষতিতে আছে। (২) তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়' (সূরা আল-আছর: ১-৩)।
📄 ট। দা‘ওয়াতী কাজ পরিত্যাগ করার শাস্তি
( عُقُوبَةُ تَرْكِ الدَّعْوَةِ إِلَى اللهِ ): দা'ওয়াতী কাজ পরিত্যাগ করার শাস্তি
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আর তা পরিত্যাগ করলে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
১। দা'ওয়াত পরিত্যাগ করার কারণে বিভিন্ন শাস্তি নির্ধারিত আছে। যেমন:
(ক) মানব জাতির স্থানে অন্য জাতিকে অধিষ্ঠিত করা (الاستبدال): আল্লাহ বলেন: { وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُونُوا أَمْثَالَكُمْ (38)} ... [محمد: 38] 'যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য কোন সম্প্রদায়কে স্থলাভিষিক্ত করবেন, এরপর তারা তোমাদের অনুরূপ হবে না' (সূরা মুহাম্মাদ: ৩৮)।
(খ) অভিশপ্ত হওয়া ও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া ( اللَّعْنُ وَالْحِرْمَانُ مِن رَّحْمَةِ اللهِ ): আল্লাহ তা'আলা বলেন: { لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ (78) كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ ( 79)} ... [المائدة : 78 - 79]
'বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছে,তারা দাউদ ও মারইয়াম পুত্র কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছে- তা এই কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছে এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত। (৭৮) তারা পরস্পরকে মন্দ হতে নিষেধ করত না, যা তারা নিজেরা করত। তারা যা করত, তা কতইনা মন্দ! (সূরা আল-মায়েদা: ৭৮-৭৯)।
(গ) শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হওয়া (العداوة والبغضاء): আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمِنَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَى أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَسَوْفَ يُنَبِّئُهُمُ اللَّهُ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ } [للمائدة: 14]
'আর যারা বলে, আমরা নাছারা, আমি তাদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা তার একটি অংশ ভুলে গিয়েছিল। ফলে, আমি তাদের মাঝে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত শত্রুতা ও ঘৃণা উসকে দিয়েছি এবং তারা যা করত সে সম্পর্কে অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে অবহিত করবেন' (সূরা আল-মায়েদা: ১৪)।
(ঘ) ধ্বংস ও বিনাশ হওয়া (التدمير والهلاك): আল্লাহ তা'আলা বলেন: فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ ( 44 ) فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ]45 – 44 :الْعَالَمِينَ (45) ... [الأنعام
'অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে যখন তাদেরকে যা প্রদান করা হয়েছিল, তার কারণে তারা উৎফুল্ল হল, আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। ফলে তখন তারা হতাশ হয়ে গেল। (৪৪) অতএব, যালিম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হল। আর সকল প্রশংসা রব্বুল আলামীন আল্লাহর জন্য' (সূরা আল-আন'আম: ৪৪-৪৫)।
(ঙ) দলাদলি ও অনৈক্য সৃষ্টি হওয়া এবং দুনিয়া ও আখেরাতে শাস্তি ভোগ (الفرقة والخلاف والعذاب في الدنيا والآخرة): আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (104) وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَدَابٌ عَظِيمٌ (105)} [آل عمران: 104 - 105].
'আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম। (১০৪) আর তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা বিভক্ত হয়েছে এবং মতবিরোধ করেছে তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর। আর তাদের জন্যই রয়েছে কঠোর আযাব' (সূরা আলে ইমরান: ১০৪-১০৫)।
২। মুসলিম জাতি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতী কাজ ত্যাগ করলে তিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে:
(ক) দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকা ও আখেরাতের গুরুত্ব না দেয়া:
(খ) ধন-সম্পদ, সময় ও চিন্তা-চেতনা দ্বীনের কাজে না লাগানো:
(গ) পার্থিব জীবনে কাফেরদের অনুকরণ করা এবং মুসলিম দেশে কাফেরদের জীবন পদ্ধতি আমদানীর উদ্দেশ্যে তাদের কাছে শিক্ষা করা।
৩। আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতী কাজ করলে সকল প্রকার কল্যাণের দরজা উন্মুক্ত হবে। ফলে, ঈমান এবং সৎআমল মানব জীবনে প্রবেশ করবে। তাদের জীবনে আরো প্রবেশ করবে ধৈর্য, ক্ষমা, অনুগ্রহ, দয়া ইত্যাদি সদাচরণ। কাফেররা দ্বীন ইসলামে প্রবেশ করবে, আর অবাধ্যরা প্রবেশ করবে আনুগত্যে। কিন্তু যখন আমরা দা'ওয়াতী কাজ করব না, তখন অকল্যাণের সমস্ত দরজা উম্মুক্ত হবে। সব ধরনের অকল্যাণ ও অনিষ্ট প্রবেশ করবে এবং বিদায় নেবে যাবতীয় কল্যাণ। ঈমান, সৎ-আমল ও উত্তম চরিত্র যখন বিদায় নিবে, তখন তদস্থলে কুফর, মন্দকর্ম ও দুশ্চরিত্র প্রবেশ করবে। অবশেষে মানুষ দলেদলে দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে, যেমনভাবে তারা দলে দলে দ্বীনে প্রবেশ করেছিল। এটাই হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলার নিয়ম, আর তার নিয়মে কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ (96)} [الأعراف: 96].
'আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমীন থেকে বরকতসমূহ তাদের উপর খুলে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। ফলে, তারা যা অর্জন করত, তার কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম' (সূরা আল-আ'রাফ: ৯৬)।
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا فَرِيقًا مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ يَرُدُّوكُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ كَافِرِينَ (100) وَكَيْفَ تَكْفُرُونَ وَأَنْتُمْ تُتْلَى عَلَيْكُمْ آيَاتُ اللَّهِ وَفِيكُمْ رَسُولُهُ وَمَنْ يَعْتَصِمْ بِاللَّهِ فَقَدْ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (101)} [آل عمران: 100 - 101]
'হে মুমিনগণ! যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তোমরা যদি তাদের একটি দলের আনুগত্য কর, তাহলে তারা তোমাদের ঈমানের পর তোমাদেরকে কাফের অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে। (১০০) আর কিভাবে তোমরা কুফরী কর, অথচ তোমাদের কাছে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং তোমাদের রয়েছে তাঁর রাসূল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে, তাকে অবশ্যই সরল পথের দিশা দেয়া হবে' (সূরা আলে ইমরান: ১০০-১০১)।
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ وَلَا يَجِدْ لَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا } [النساء: 123]
'যে মন্দকাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। আর সে তার জন্য আল্লাহ ছাড়া কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না' (সূরা আন-নিসা: ১২৩)।
( عُقُوبَةُ تَرْكِ الدَّعْوَةِ إِلَى اللهِ ): দা'ওয়াতী কাজ পরিত্যাগ করার শাস্তি
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আর তা পরিত্যাগ করলে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
১। দা'ওয়াত পরিত্যাগ করার কারণে বিভিন্ন শাস্তি নির্ধারিত আছে। যেমন:
(ক) মানব জাতির স্থানে অন্য জাতিকে অধিষ্ঠিত করা (الاستبدال): আল্লাহ বলেন: { وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُونُوا أَمْثَالَكُمْ (38)} ... [محمد: 38] 'যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য কোন সম্প্রদায়কে স্থলাভিষিক্ত করবেন, এরপর তারা তোমাদের অনুরূপ হবে না' (সূরা মুহাম্মাদ: ৩৮)।
(খ) অভিশপ্ত হওয়া ও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া ( اللَّعْنُ وَالْحِرْمَانُ مِن رَّحْمَةِ اللهِ ): আল্লাহ তা'আলা বলেন: { لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ (78) كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ ( 79)} ... [المائدة : 78 - 79]
'বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছে,তারা দাউদ ও মারইয়াম পুত্র কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছে- তা এই কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছে এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত। (৭৮) তারা পরস্পরকে মন্দ হতে নিষেধ করত না, যা তারা নিজেরা করত। তারা যা করত, তা কতইনা মন্দ! (সূরা আল-মায়েদা: ৭৮-৭৯)।
(গ) শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হওয়া (العداوة والبغضاء): আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمِنَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَى أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَسَوْفَ يُنَبِّئُهُمُ اللَّهُ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ } [للمائدة: 14]
'আর যারা বলে, আমরা নাছারা, আমি তাদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা তার একটি অংশ ভুলে গিয়েছিল। ফলে, আমি তাদের মাঝে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত শত্রুতা ও ঘৃণা উসকে দিয়েছি এবং তারা যা করত সে সম্পর্কে অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে অবহিত করবেন' (সূরা আল-মায়েদা: ১৪)।
(ঘ) ধ্বংস ও বিনাশ হওয়া (التدمير والهلاك): আল্লাহ তা'আলা বলেন: فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ ( 44 ) فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ]45 – 44 :الْعَالَمِينَ (45) ... [الأنعام
'অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে যখন তাদেরকে যা প্রদান করা হয়েছিল, তার কারণে তারা উৎফুল্ল হল, আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। ফলে তখন তারা হতাশ হয়ে গেল। (৪৪) অতএব, যালিম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হল। আর সকল প্রশংসা রব্বুল আলামীন আল্লাহর জন্য' (সূরা আল-আন'আম: ৪৪-৪৫)।
(ঙ) দলাদলি ও অনৈক্য সৃষ্টি হওয়া এবং দুনিয়া ও আখেরাতে শাস্তি ভোগ (الفرقة والخلاف والعذاب في الدنيا والآخرة): আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (104) وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَدَابٌ عَظِيمٌ (105)} [آل عمران: 104 - 105].
'আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম। (১০৪) আর তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা বিভক্ত হয়েছে এবং মতবিরোধ করেছে তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর। আর তাদের জন্যই রয়েছে কঠোর আযাব' (সূরা আলে ইমরান: ১০৪-১০৫)।
২। মুসলিম জাতি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতী কাজ ত্যাগ করলে তিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে:
(ক) দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকা ও আখেরাতের গুরুত্ব না দেয়া:
(খ) ধন-সম্পদ, সময় ও চিন্তা-চেতনা দ্বীনের কাজে না লাগানো:
(গ) পার্থিব জীবনে কাফেরদের অনুকরণ করা এবং মুসলিম দেশে কাফেরদের জীবন পদ্ধতি আমদানীর উদ্দেশ্যে তাদের কাছে শিক্ষা করা।
৩। আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতী কাজ করলে সকল প্রকার কল্যাণের দরজা উন্মুক্ত হবে। ফলে, ঈমান এবং সৎআমল মানব জীবনে প্রবেশ করবে। তাদের জীবনে আরো প্রবেশ করবে ধৈর্য, ক্ষমা, অনুগ্রহ, দয়া ইত্যাদি সদাচরণ। কাফেররা দ্বীন ইসলামে প্রবেশ করবে, আর অবাধ্যরা প্রবেশ করবে আনুগত্যে। কিন্তু যখন আমরা দা'ওয়াতী কাজ করব না, তখন অকল্যাণের সমস্ত দরজা উম্মুক্ত হবে। সব ধরনের অকল্যাণ ও অনিষ্ট প্রবেশ করবে এবং বিদায় নেবে যাবতীয় কল্যাণ। ঈমান, সৎ-আমল ও উত্তম চরিত্র যখন বিদায় নিবে, তখন তদস্থলে কুফর, মন্দকর্ম ও দুশ্চরিত্র প্রবেশ করবে। অবশেষে মানুষ দলেদলে দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে, যেমনভাবে তারা দলে দলে দ্বীনে প্রবেশ করেছিল। এটাই হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলার নিয়ম, আর তার নিয়মে কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ (96)} [الأعراف: 96].
'আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমীন থেকে বরকতসমূহ তাদের উপর খুলে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। ফলে, তারা যা অর্জন করত, তার কারণে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম' (সূরা আল-আ'রাফ: ৯৬)।
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا فَرِيقًا مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ يَرُدُّوكُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ كَافِرِينَ (100) وَكَيْفَ تَكْفُرُونَ وَأَنْتُمْ تُتْلَى عَلَيْكُمْ آيَاتُ اللَّهِ وَفِيكُمْ رَسُولُهُ وَمَنْ يَعْتَصِمْ بِاللَّهِ فَقَدْ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (101)} [آل عمران: 100 - 101]
'হে মুমিনগণ! যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তোমরা যদি তাদের একটি দলের আনুগত্য কর, তাহলে তারা তোমাদের ঈমানের পর তোমাদেরকে কাফের অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে। (১০০) আর কিভাবে তোমরা কুফরী কর, অথচ তোমাদের কাছে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং তোমাদের রয়েছে তাঁর রাসূল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে, তাকে অবশ্যই সরল পথের দিশা দেয়া হবে' (সূরা আলে ইমরান: ১০০-১০১)।
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ وَلَا يَجِدْ لَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا } [النساء: 123]
'যে মন্দকাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। আর সে তার জন্য আল্লাহ ছাড়া কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না' (সূরা আন-নিসা: ১২৩)।
📄 ঠ। দা‘ওয়াত বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ
দা'ওয়াত বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ :(নواقض الدعوة)
ইসলাম ভঙ্গের যেমন কারণ রয়েছে, তদ্রুপ দা'ওয়াত বিনষ্ট হওয়ারও কারণ রয়েছে। যেমনঃ
○ লোক দেখানো দা'ওয়াত ও তাতে একনিষ্ঠতা না থাকা (الرياء وعدم الإخلاص)
○ দ্বীনের মাধ্যমে দুনিয়া ভক্ষণ করা (وأكل الدنيا بالدين)
○ আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী বিনিময়ে বিক্রয় করা (وبيع كلام الله ورسوله بالأجرة)
○ নিজের খ্যাতি অর্জনের লক্ষ্যে দা'ওয়াতী কাজ করা (والدعوة إلى النفس وحب الشهرة)
○ জাহিলী, গোঁড়ামি ও স্বজনপ্রীতির জন্য দা'ওয়াত দেয়া। যেমন- কোন দল, সম্প্রদায় ও জামা'আতের দিকে দা'ওয়াত দেয়া। আর অন্য কোন উদ্দেশ্যে দা'ওয়াত দিলে সেটাও গ্রহণযোগ্য হবে না। (حمية الجاهلية والعصبية كمن يدعو إلى حزب أو طائفة أو جماعة ولا يقبل والدعوة إلى الدعوة من غيره)
আমাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ হলো আমরা তারই দিকে দা'ওয়াত দিবো, অন্য কোন দিকে নয়।
আর যারাই দা'ওয়াতের মূলনীতি পরিত্যাগ করবে ও নিজের ইচ্ছানুযায়ী দা'ওয়াত দিবে, তারা অনেক বিপদের সম্মুখীন হবে। তার মধ্যে কতিপয় হলোঃ
○ নিজের প্রশংসা অর্জন হওয়া (تزكية النفس)
○ গর্ব-অহংকার প্রকাশ পাওয়া (والعجب والكبر)
○ পদমর্যাদার প্রতি প্ররোচিত হওয়া (والحرص على الجاه والمنصب)
○ অন্যদের অবহেলা করা (واحتقار الآخرين)
○ আল্লাহর দিকে প্রকৃত দাঈদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করা (والنظر في ) (عيوب الدعاة إلى الله)
○ নিজের প্রবৃত্তি অনুসারে ধন-সম্পদ ব্যয় করা (والإنفاق على شهواته)
○ দ্বীনের পথে ব্যয় না করা (وترك الإنفاق على الدين)
○ ফরয বিধান পালন ও সৎআমল করা কষ্ট মনে হওয়া (وثقلت عليه ) (الفرائض والأعمال الصالحة)
○ বেশী বেশী বৈধ কাজে অংশ নেওয়া (وتوسع في المباحات)
○ এবং তর্ক-বিতর্ক ও কুপ্রবৃত্তির পিছনে সময় নষ্ট হওয়া ( وهانت عليه ) (إضاعة الأوقات في الجدل والشهوات )
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْলًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)} [فصلت: 33].
'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ ) (44) فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (45)} [الأنعام: 44 - 45].
'অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে যখন তাদেরকে যা প্রদান করা হয়েছিল, তার কারণে তারা উৎফুল্ল হল, আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। ফলে তখন তারা হতাশ হয়ে গেল। (৪৪) অতএব, যালিম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হল। আর সকল প্রশংসা রব্বুল আলামীন আল্লাহর জন্য' (সূরা আল-আন'আম: ৪৪-৪৫)।
দা'ওয়াত বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ :(নواقض الدعوة)
ইসলাম ভঙ্গের যেমন কারণ রয়েছে, তদ্রুপ দা'ওয়াত বিনষ্ট হওয়ারও কারণ রয়েছে। যেমনঃ
○ লোক দেখানো দা'ওয়াত ও তাতে একনিষ্ঠতা না থাকা (الرياء وعدم الإخلاص)
○ দ্বীনের মাধ্যমে দুনিয়া ভক্ষণ করা (وأكل الدنيا بالدين)
○ আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী বিনিময়ে বিক্রয় করা (وبيع كلام الله ورسوله بالأجرة)
○ নিজের খ্যাতি অর্জনের লক্ষ্যে দা'ওয়াতী কাজ করা (والدعوة إلى النفس وحب الشهرة)
○ জাহিলী, গোঁড়ামি ও স্বজনপ্রীতির জন্য দা'ওয়াত দেয়া। যেমন- কোন দল, সম্প্রদায় ও জামা'আতের দিকে দা'ওয়াত দেয়া। আর অন্য কোন উদ্দেশ্যে দা'ওয়াত দিলে সেটাও গ্রহণযোগ্য হবে না। (حمية الجاهلية والعصبية كمن يدعو إلى حزب أو طائفة أو جماعة ولا يقبل والدعوة إلى الدعوة من غيره)
আমাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ হলো আমরা তারই দিকে দা'ওয়াত দিবো, অন্য কোন দিকে নয়।
আর যারাই দা'ওয়াতের মূলনীতি পরিত্যাগ করবে ও নিজের ইচ্ছানুযায়ী দা'ওয়াত দিবে, তারা অনেক বিপদের সম্মুখীন হবে। তার মধ্যে কতিপয় হলোঃ
○ নিজের প্রশংসা অর্জন হওয়া (تزكية النفس)
○ গর্ব-অহংকার প্রকাশ পাওয়া (والعجب والكبر)
○ পদমর্যাদার প্রতি প্ররোচিত হওয়া (والحرص على الجاه والمنصب)
○ অন্যদের অবহেলা করা (واحتقار الآخرين)
○ আল্লাহর দিকে প্রকৃত দাঈদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করা (والنظر في ) (عيوب الدعاة إلى الله)
○ নিজের প্রবৃত্তি অনুসারে ধন-সম্পদ ব্যয় করা (والإنفاق على شهواته)
○ দ্বীনের পথে ব্যয় না করা (وترك الإنفاق على الدين)
○ ফরয বিধান পালন ও সৎআমল করা কষ্ট মনে হওয়া (وثقلت عليه ) (الفرائض والأعمال الصالحة)
○ বেশী বেশী বৈধ কাজে অংশ নেওয়া (وتوسع في المباحات)
○ এবং তর্ক-বিতর্ক ও কুপ্রবৃত্তির পিছনে সময় নষ্ট হওয়া ( وهانت عليه ) (إضاعة الأوقات في الجدل والشهوات )
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْলًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)} [فصلت: 33].
'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ ) (44) فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (45)} [الأنعام: 44 - 45].
'অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে যখন তাদেরকে যা প্রদান করা হয়েছিল, তার কারণে তারা উৎফুল্ল হল, আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। ফলে তখন তারা হতাশ হয়ে গেল। (৪৪) অতএব, যালিম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হল। আর সকল প্রশংসা রব্বুল আলামীন আল্লাহর জন্য' (সূরা আল-আন'আম: ৪৪-৪৫)।
📄 ড। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াতের স্তর
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের স্তর (مراتب الدعوة إلى الله)
মহান আল্লাহ সৃষ্টির স্তর অনুযায়ী দা'ওয়াতের স্তর নির্ধারণ করেছেন। মানুষ তিন প্রকার:
প্রথম: হক্বের দা'ওয়াত দিলে তারা গ্রহণ করে ও অনুসরণ করে। এ সকল ব্যক্তিদেরকে যুক্তিপূর্ণ উত্তম পন্থায় বর্ণনা করা, শরী'আতের উদ্দেশ্য বুঝানো ও ইসলামের মানবিক দিকগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে দা'ওয়াত দিতে হয়।
দ্বিতীয়: হক্ব শোনার পর তা স্বীকার করে নেয়, তবে তা গ্রহণ করা ও তদানুযায়ী আমল করার ব্যাপারে কালক্ষেপণ করে। এই শ্রেণীর মানুষকে উত্তম উপদেশ দেয়া ও বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তাদেরকে জান্নাত লাভের প্রতি উৎসাহ দিতে হবে ও জাহান্নাম সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করতে হবে-যাতে তারা আনুগত্যের ছওয়াব জানার পর সেদিকে অগ্রসর হয় এবং অবাধ্যতার শাস্তি জানার পর তা থেকে সতর্ক হয় ও সৎ-আমলের প্রতি তার বক্ষ প্রশস্ত হয়।
তৃতীয়: হক্বের দা'ওয়াত দেয়া হলে তারা তা স্বীকার করে না এবং কবুলও করে না; বরং নানা সন্দেহ ও বিভ্রাট সৃষ্টি করে তা প্রত্যাখ্যান করে। এই শ্রেণীর মানুষের সাথে উত্তম পন্থায় তর্ক-বিতর্ক হবে। তাদের সামনে বোধগম্য ও যৌক্তিক উদাহরণ পেশ করতে হবে, যাতে তারা তুষ্ট হয় এবং সন্দেহ দূরীভূত হয়।
আল্লাহ তা'আলা তর্কের পদ্ধতি বর্ণনা করে বলেন: ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} [النحل: 125]
'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের স্তর (مراتب الدعوة إلى الله)
মহান আল্লাহ সৃষ্টির স্তর অনুযায়ী দা'ওয়াতের স্তর নির্ধারণ করেছেন। মানুষ তিন প্রকার:
প্রথম: হক্বের দা'ওয়াত দিলে তারা গ্রহণ করে ও অনুসরণ করে। এ সকল ব্যক্তিদেরকে যুক্তিপূর্ণ উত্তম পন্থায় বর্ণনা করা, শরী'আতের উদ্দেশ্য বুঝানো ও ইসলামের মানবিক দিকগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে দা'ওয়াত দিতে হয়।
দ্বিতীয়: হক্ব শোনার পর তা স্বীকার করে নেয়, তবে তা গ্রহণ করা ও তদানুযায়ী আমল করার ব্যাপারে কালক্ষেপণ করে। এই শ্রেণীর মানুষকে উত্তম উপদেশ দেয়া ও বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তাদেরকে জান্নাত লাভের প্রতি উৎসাহ দিতে হবে ও জাহান্নাম সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করতে হবে-যাতে তারা আনুগত্যের ছওয়াব জানার পর সেদিকে অগ্রসর হয় এবং অবাধ্যতার শাস্তি জানার পর তা থেকে সতর্ক হয় ও সৎ-আমলের প্রতি তার বক্ষ প্রশস্ত হয়।
তৃতীয়: হক্বের দা'ওয়াত দেয়া হলে তারা তা স্বীকার করে না এবং কবুলও করে না; বরং নানা সন্দেহ ও বিভ্রাট সৃষ্টি করে তা প্রত্যাখ্যান করে। এই শ্রেণীর মানুষের সাথে উত্তম পন্থায় তর্ক-বিতর্ক হবে। তাদের সামনে বোধগম্য ও যৌক্তিক উদাহরণ পেশ করতে হবে, যাতে তারা তুষ্ট হয় এবং সন্দেহ দূরীভূত হয়।
আল্লাহ তা'আলা তর্কের পদ্ধতি বর্ণনা করে বলেন: ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} [النحل: 125]
'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।