📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ছ। দা‘ওয়াতের মূলনীতি

📄 ছ। দা‘ওয়াতের মূলনীতি


দা'ওয়াতের মূলনীতি (أصول الدعوة إلى الله:)
ইবাদতের জন্য যেমন মূলনীতি আছে, তেমনি দা'ওয়াতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি রয়েছে। নিম্নে সেগুলি বর্ণনা করা হলো:

১। আল্লাহ তা'আলার জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা এবং নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদ্ধতিতে দা'ওয়াতী কাজ করা。
২। হিকমাত-কৌশল, উত্তম উপদেশ, সুন্দর কথা, ভাল আমল এবং মানুষের মর্যাদা বজায় রেখে দা'ওয়াত দেয়া।
৩। গ্রাম-শহর, হাট-বাজার, বাড়ি-ঘর সর্বত্রই দা'ওয়াত দেয়া।
৪। দিন-রাত্রি সর্বদাই দা'ওয়াতী কাজ করা। ছালাতে আদায় ও ছিয়াম পালন করার সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে। কিন্তু দা'ওয়াতী কাজ সব সময় ও সব জায়গায় করাই শরী'আত সম্মত।
৫। নিরাপত্তা-ভীতি, সহজ-কঠিন, সচ্ছলতা-দরিদ্রতা সর্বাবস্থায়ই দা'ওয়াতী কাজ করা।
৬। দা'ওয়াতী কাজের বিনিময় গ্রহণ না করা। কেন না, আল্লাহ তা'আলাই দাঈকে পুরস্কৃত করবেন।
৭। উদারতার সাথে দা'ওয়াতী কাজ করা। মানুষের নিকট দা'ওয়াতী কাজের বিনিময় না চাওয়া। যেমন-সূর্যের কাজ বিনিময় ছাড়া আলো বিকিরণ করা, যা থেকে মানুষসহ সব কিছুই উপকৃত হয়।
৮। জীবন চলার পথে, গোপনে, প্রকাশ্যে সবক্ষেত্রে দাঈ হবে মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ।
৯। বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ, কোমলতা, দয়া, বিনম্রতা, হেদায়াতের জন্য দু'আ করা ও কাউকে অবহেলা না করা ইত্যাদি গুণাবলীর মাধ্যমে দ্বীনের দা'ওয়াত দেওয়া। আর সব ধরণের বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করা।

আর দা'ওয়াতের বড় মূলনীতি হলো:
• মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদ, তার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও শরীকবিহীন আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের দিকে দা'ওয়াত দেওয়া。
• দৃশ্যমান কোন কিছুর প্রভাব ও কর্তৃত্ব নাকচ করা, অদৃশ্য বিষয়াদি বিশ্বাস করা, সৃষ্টিকে ডিঙ্গিয়ে স্রষ্টার শরণাপন্ন হওয়া, আকৃতিকে ডিঙ্গিয়ে আকৃতিদাতার শরণাপন্ন হওয়া।
• সর্বক্ষেত্রে যাবতীয় পথ পরিহার করে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথ অনুসরণ করা। মানুষকে দুনিয়া থেকে আখেরাতমুখী করা। যাবতীয় প্রথা ও প্রচলন ছেড়ে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত অনুসরণ করা, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও কু-প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ না করে ঈমান ও সৎ আমল পূর্ণ করা।
• নিজের প্রিয় বস্তুর চেয়ে রবের প্রিয় বস্তুকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং দ্বীনের পথে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া অন্য কারো প্রচেষ্টা ছেড়ে তাঁর প্রচেষ্টা অনুসরণ করা।
• কেউ এসব মূলনীতি অনুসরণ করে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দিলে তিনি নানা পরীক্ষা ও কষ্টের সম্মুখীন হবেন। সুতরাং তার উচিত ধৈর্য ধারণ করা, মার্জনা করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা, কোমল আচরণ করা এবং কঠোর ও কর্কশ না হওয়া-যাতে তারা বিমুখ না হয়।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي হِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} ... [النحل: 125] 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ (159)} ... [آل عمران: 159] 'আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। কাজেই আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন, তারপর আপনি কোন সংকল্প করলে আল্লাহর উপর নির্ভর করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ (তার উপর) নির্ভরকারীদের ভালবাসেন' (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ (60)} [الروم: 60]. 'অতএব, তুমি সবর কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা হক্। আর যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না, তারা যেন তোমাকে অস্থির করতে না পারে' (সূরা আর-রূম: ৬০)।

দা'ওয়াতের মূলনীতি (أصول الدعوة إلى الله:)
ইবাদতের জন্য যেমন মূলনীতি আছে, তেমনি দা'ওয়াতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি রয়েছে। নিম্নে সেগুলি বর্ণনা করা হলো:

১। আল্লাহ তা'আলার জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা এবং নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদ্ধতিতে দা'ওয়াতী কাজ করা。
২। হিকমাত-কৌশল, উত্তম উপদেশ, সুন্দর কথা, ভাল আমল এবং মানুষের মর্যাদা বজায় রেখে দা'ওয়াত দেয়া।
৩। গ্রাম-শহর, হাট-বাজার, বাড়ি-ঘর সর্বত্রই দা'ওয়াত দেয়া।
৪। দিন-রাত্রি সর্বদাই দা'ওয়াতী কাজ করা। ছালাতে আদায় ও ছিয়াম পালন করার সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে। কিন্তু দা'ওয়াতী কাজ সব সময় ও সব জায়গায় করাই শরী'আত সম্মত।
৫। নিরাপত্তা-ভীতি, সহজ-কঠিন, সচ্ছলতা-দরিদ্রতা সর্বাবস্থায়ই দা'ওয়াতী কাজ করা।
৬। দা'ওয়াতী কাজের বিনিময় গ্রহণ না করা। কেন না, আল্লাহ তা'আলাই দাঈকে পুরস্কৃত করবেন।
৭। উদারতার সাথে দা'ওয়াতী কাজ করা। মানুষের নিকট দা'ওয়াতী কাজের বিনিময় না চাওয়া। যেমন-সূর্যের কাজ বিনিময় ছাড়া আলো বিকিরণ করা, যা থেকে মানুষসহ সব কিছুই উপকৃত হয়।
৮। জীবন চলার পথে, গোপনে, প্রকাশ্যে সবক্ষেত্রে দাঈ হবে মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ।
৯। বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ, কোমলতা, দয়া, বিনম্রতা, হেদায়াতের জন্য দু'আ করা ও কাউকে অবহেলা না করা ইত্যাদি গুণাবলীর মাধ্যমে দ্বীনের দা'ওয়াত দেওয়া। আর সব ধরণের বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করা।

আর দা'ওয়াতের বড় মূলনীতি হলো:
• মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদ, তার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও শরীকবিহীন আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের দিকে দা'ওয়াত দেওয়া。
• দৃশ্যমান কোন কিছুর প্রভাব ও কর্তৃত্ব নাকচ করা, অদৃশ্য বিষয়াদি বিশ্বাস করা, সৃষ্টিকে ডিঙ্গিয়ে স্রষ্টার শরণাপন্ন হওয়া, আকৃতিকে ডিঙ্গিয়ে আকৃতিদাতার শরণাপন্ন হওয়া।
• সর্বক্ষেত্রে যাবতীয় পথ পরিহার করে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথ অনুসরণ করা। মানুষকে দুনিয়া থেকে আখেরাতমুখী করা। যাবতীয় প্রথা ও প্রচলন ছেড়ে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত অনুসরণ করা, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও কু-প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ না করে ঈমান ও সৎ আমল পূর্ণ করা।
• নিজের প্রিয় বস্তুর চেয়ে রবের প্রিয় বস্তুকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং দ্বীনের পথে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া অন্য কারো প্রচেষ্টা ছেড়ে তাঁর প্রচেষ্টা অনুসরণ করা।
• কেউ এসব মূলনীতি অনুসরণ করে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দিলে তিনি নানা পরীক্ষা ও কষ্টের সম্মুখীন হবেন। সুতরাং তার উচিত ধৈর্য ধারণ করা, মার্জনা করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা, কোমল আচরণ করা এবং কঠোর ও কর্কশ না হওয়া-যাতে তারা বিমুখ না হয়।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي হِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} ... [النحل: 125] 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ (159)} ... [آل عمران: 159] 'আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। কাজেই আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন, তারপর আপনি কোন সংকল্প করলে আল্লাহর উপর নির্ভর করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ (তার উপর) নির্ভরকারীদের ভালবাসেন' (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ (60)} [الروم: 60]. 'অতএব, তুমি সবর কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা হক্। আর যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না, তারা যেন তোমাকে অস্থির করতে না পারে' (সূরা আর-রূম: ৬০)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 জ। নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করার উদ্দেশ্য

📄 জ। নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করার উদ্দেশ্য


নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করার উদ্দেশ্য (حكمة بعثة الأنبياء والرسل):
তিনটি বিষয় আল্লাহ তা'আলা নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন: ○ আল্লাহর দিকে আহ্বান করা ○ আল্লাহর কাছে পৌঁছার রাস্তা সম্পর্কে অবহিত করা ও ○ আল্লাহর নিকট পৌঁছার পর মানুষের যা ঘটবে, সে সম্পর্কে অবহিত করা।

প্রথমটিই হচ্ছে, আল্লাহর একত্ব (তাওহীদ) ও তার প্রতি বিশ্বাস (ঈমান) সম্পর্কে বর্ণনা করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, শরী'আতের বিধি-বিধান বর্ণনা করা। তৃতীয়টি হচ্ছে, আখেরাত এবং আখেরাতে শান্তি-শাস্তি, জান্নাত-জাহান্নাম যা কিছু ঘটবে, তদ্বিষয়ের বর্ণনা দেওয়া।

বিস্তারিত বর্ণনা
১। প্রথমতঃ মানুষকে আল্লাহ তা'আলা, তার নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাদি, তার মহানত্ব, ক্ষমতা ও সৃষ্টির প্রতি দয়া সম্পর্কে পরিচয় দানের মাধ্যমে তার দিকে দা'ওয়াত দিতে হবে। অতএব, আমরা মানুষের উদ্দেশ্যে বর্ণনা করবো যে, আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র মহান-যাতে তারা আল্লাহ তা'আলাকে সম্মান করে। তিনিই একমাত্র বড়, যাতে তারা তার বড়ত্ব ঘোষণা করে। তিনিই একমাত্র সর্বশক্তিমান, যাতে তারা তাকে ভয় করে। তিনিই একমাত্র মহামহিম, যাতে তারা তাকে ভালবাসে। তিনিই একমাত্র দাতা, যাতে তারা তার কাছেই চায়। তার ভাণ্ডার পরিপূর্ণ, যাতে তারা শুধুমাত্র তার দরজায় দাঁড়ায়। তাদেরকে আমরা আরো বর্ণনা করবো যে, পবিত্র আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র স্রষ্টা আর তিনি ব্যতীত সবকিছুই সৃষ্ট। তিনিই একমাত্র মালিক আর তিনি ব্যতীত সবকিছুই তার মালিকানাধীন। তিনিই কেবল রিযিকদাতা আর তিনি ছাড়া সবাই রিযিকপ্রাপ্ত। একমাত্র তিনিই অমুখাপেক্ষী আর তিনি ব্যতীত সবকিছুই তার মুখাপেক্ষী। আমরা আরো বর্ণনা করবো যে, সবকিছু শুধুমাত্র তার হাতে এবং তিনি ছাড়া কারো হাতে কিছুই নেই। সৃষ্টি ও কর্তৃত্ব তারই এবং তার জন্যই রাজত্ব ও প্রশংসা। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমরা মানুষদেরকে আরো বলবো যে, আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। যখন মানুষ আল্লাহ তা'আলার নামসমূহ ও গুণাবলীর পরিপূর্ণতা, তার মহানত্ব ও ক্ষমতার পরিপূর্ণতা, তার রহমত ও জ্ঞানের প্রশস্ততা, তার নিদর্শনাবলী ও সৃষ্টিজগতের বিশালতা এবং তার নেয়ামতসমূহের প্রতুলতা সম্পর্কে জানবে, তখনই তারা তার প্রতি ঈমান আনবে, তার মহানত্ব বর্ণনা করবে, তাকে ভালবাসবে এবং তার আনুগত্য ও ইবাদতে ঝাপিয়ে পড়বে।

এরপর আমরা ঈমানের অন্যান্য রুকন বর্ণনা করবো। যেমন-ফেরেশতামণ্ডলী, আসমানী কিতাবসমূহ ও রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনা; এতে গায়েবের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় হবে। এগুলো হলো দা'ওয়াতী কাজের সর্বপ্রথম, সুউচ্চ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ } [فصلت: [33 'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ (22) هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ ) (23) هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (24)} [الحشر: 2 - 24] 'তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই; দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা; তিনিই পরম করণাময়, দয়ালু। (২২) তিনিই আল্লাহ; যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনিই বাদশাহ, মহাপবিত্র, ত্রুটিমুক্ত, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত, তারা যা শরীক করে, তা হতে পবিত্র মহান। (২৩) তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদানকারী; তাঁর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ; আসমান ও যমীনে যা আছে, সবই তার মহিমা ঘোষণা করে। তিনি মহাপরাক্রমশারী, প্রজ্ঞাময়' (সূরা আল-হাশর: ২২-২৪)।
(৩) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ (19)} [محمد: 19] 'অতএব, জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই। তুমি ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার এবং মুমিন নারী-পুরুষদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং নিবাস সম্পর্কে অবগত রয়েছেন' (সূরা মুহাম্মাদ: ১৯)।

২। অতঃপর আখেরাত ও তাতে যা কিছু ঘটবে তার মাধ্যমে দা'ওয়াত দিতে হবে। যেমন-পুনরুত্থান, হাশর (ক্বিয়ামতের দিন একত্রিত হওয়া), পুলছিরাত, মীযান (দাঁড়িপাল্লা), জান্নাত ও জাহান্নাম; যাতে মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তার আনুগত্যে আগ্রহী হয় এবং কুফরী ও অবাধ্যতা ছেড়ে দেয়। আর যেন তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করে।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ يَتَفَرَّقُونَ (14) فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَهُمْ فِي رَوْضَةٍ يُحْبَرُونَ (15) وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَلِقَاءِ الْآخِرَةِ فَأُولَئِكَ فِي الْعَذَابِ مُحْضَرُونَ (16)} [الروم: 14 - 16] 'আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে. সেদিন তারা বিভক্ত হয়ে পড়বে। (১৪) অতএব, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদেরকে জান্নাতে পরিতুষ্ট করা হবে। (১৫) আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহ ও পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তাদেরকেই আযাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে' (সূরা আর-রূম: ১৪-১৬)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ } [التوبة: 72] 'আল্লাহ মুমিন পুরুষ এবং মুমিন নারীদেরকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতসমূহে পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ হতে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহা সফলতা' (সূরা আত-তাওবা: ৭২)।
(৩) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَعَدَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا هِيَ حَسْبُهُمْ وَلَعَنَهُمُ اللَّهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقِيمٌ (68)} ... [التوبة: 68]. 'আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী ও কাফেরদেরকে জাহান্নামের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাতে তারা চিরদিন থাকবে, এটি তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের লা'নত করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব' (সূরা আত-তাওবা: ৬৮)।

৩। অতঃপর দ্বীন ও শরী'আতের বিধি-বিধান বর্ণনা করা, হালাল-হারাম, ফরয- সুন্নাত, ইবাদত ও লেন-দেন, অধিকার ও দণ্ডবিধি বর্ণনা করার মাধ্যমে দা'ওয়াতী কাজ করা। দা'ওয়াতী কাজে এটিই ছিল নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশনা। মক্কায় দা'ওয়াতী কাজ ছিল আল্লাহ তা'আলার দিকে আহ্বান করা এবং পরকাল ও উত্তম চরিত্র সম্পর্কে অবহিত করা। আর রাসূলগণ ও তাদের জাতির অবস্থা বর্ণনা করা। অতঃপর মদীনায় আল্লাহ তা'আলা শরী'আতের বিধি-বিধানের মাধ্যমে দ্বীনের পূর্ণতা দান করেন। ফলে, যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছিলেন, তারা সেগুলি সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। কাফের ও মুনাফিকরা দ্বীন ইসলামের মাধ্যমে পরাস্ত হয়েছে। অতঃপর মানুষেরা দলেদলে দ্বীন ইসলামে প্রবেশ করেছে এবং দ্বীন পরিপূর্ণ হয়েছে।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: [3 'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম আর তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে পছন্দ করলাম ইসলামকে' (সূরা আল-মায়েদা: ৩)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ (1) وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْখُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا (2) فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا (3)} [النصر: 1 - 3] . 'যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে (১) এবং তুমি লোকদেরকে দলে দলে আল্লাহর দীনে দাখিল হতে দেখবে, (২) তখন তুমি তোমার রবের সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি তওবা কবুলকারী' (সূরা আন-নাছর: ১-৩)।

নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করার উদ্দেশ্য (حكمة بعثة الأنبياء والرسل):
তিনটি বিষয় আল্লাহ তা'আলা নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন: ○ আল্লাহর দিকে আহ্বান করা ○ আল্লাহর কাছে পৌঁছার রাস্তা সম্পর্কে অবহিত করা ও ○ আল্লাহর নিকট পৌঁছার পর মানুষের যা ঘটবে, সে সম্পর্কে অবহিত করা।

প্রথমটিই হচ্ছে, আল্লাহর একত্ব (তাওহীদ) ও তার প্রতি বিশ্বাস (ঈমান) সম্পর্কে বর্ণনা করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, শরী'আতের বিধি-বিধান বর্ণনা করা। তৃতীয়টি হচ্ছে, আখেরাত এবং আখেরাতে শান্তি-শাস্তি, জান্নাত-জাহান্নাম যা কিছু ঘটবে, তদ্বিষয়ের বর্ণনা দেওয়া।

বিস্তারিত বর্ণনা
১। প্রথমতঃ মানুষকে আল্লাহ তা'আলা, তার নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাদি, তার মহানত্ব, ক্ষমতা ও সৃষ্টির প্রতি দয়া সম্পর্কে পরিচয় দানের মাধ্যমে তার দিকে দা'ওয়াত দিতে হবে। অতএব, আমরা মানুষের উদ্দেশ্যে বর্ণনা করবো যে, আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র মহান-যাতে তারা আল্লাহ তা'আলাকে সম্মান করে। তিনিই একমাত্র বড়, যাতে তারা তার বড়ত্ব ঘোষণা করে। তিনিই একমাত্র সর্বশক্তিমান, যাতে তারা তাকে ভয় করে। তিনিই একমাত্র মহামহিম, যাতে তারা তাকে ভালবাসে। তিনিই একমাত্র দাতা, যাতে তারা তার কাছেই চায়। তার ভাণ্ডার পরিপূর্ণ, যাতে তারা শুধুমাত্র তার দরজায় দাঁড়ায়। তাদেরকে আমরা আরো বর্ণনা করবো যে, পবিত্র আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র স্রষ্টা আর তিনি ব্যতীত সবকিছুই সৃষ্ট। তিনিই একমাত্র মালিক আর তিনি ব্যতীত সবকিছুই তার মালিকানাধীন। তিনিই কেবল রিযিকদাতা আর তিনি ছাড়া সবাই রিযিকপ্রাপ্ত। একমাত্র তিনিই অমুখাপেক্ষী আর তিনি ব্যতীত সবকিছুই তার মুখাপেক্ষী। আমরা আরো বর্ণনা করবো যে, সবকিছু শুধুমাত্র তার হাতে এবং তিনি ছাড়া কারো হাতে কিছুই নেই। সৃষ্টি ও কর্তৃত্ব তারই এবং তার জন্যই রাজত্ব ও প্রশংসা। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমরা মানুষদেরকে আরো বলবো যে, আল্লাহ তা'আলাই একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। যখন মানুষ আল্লাহ তা'আলার নামসমূহ ও গুণাবলীর পরিপূর্ণতা, তার মহানত্ব ও ক্ষমতার পরিপূর্ণতা, তার রহমত ও জ্ঞানের প্রশস্ততা, তার নিদর্শনাবলী ও সৃষ্টিজগতের বিশালতা এবং তার নেয়ামতসমূহের প্রতুলতা সম্পর্কে জানবে, তখনই তারা তার প্রতি ঈমান আনবে, তার মহানত্ব বর্ণনা করবে, তাকে ভালবাসবে এবং তার আনুগত্য ও ইবাদতে ঝাপিয়ে পড়বে।

এরপর আমরা ঈমানের অন্যান্য রুকন বর্ণনা করবো। যেমন-ফেরেশতামণ্ডলী, আসমানী কিতাবসমূহ ও রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনা; এতে গায়েবের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় হবে। এগুলো হলো দা'ওয়াতী কাজের সর্বপ্রথম, সুউচ্চ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ } [فصلت: [33 'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ (22) هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ ) (23) هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (24)} [الحشر: 2 - 24] 'তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই; দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা; তিনিই পরম করণাময়, দয়ালু। (২২) তিনিই আল্লাহ; যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনিই বাদশাহ, মহাপবিত্র, ত্রুটিমুক্ত, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত, তারা যা শরীক করে, তা হতে পবিত্র মহান। (২৩) তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদানকারী; তাঁর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ; আসমান ও যমীনে যা আছে, সবই তার মহিমা ঘোষণা করে। তিনি মহাপরাক্রমশারী, প্রজ্ঞাময়' (সূরা আল-হাশর: ২২-২৪)।
(৩) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ (19)} [محمد: 19] 'অতএব, জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই। তুমি ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার এবং মুমিন নারী-পুরুষদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং নিবাস সম্পর্কে অবগত রয়েছেন' (সূরা মুহাম্মাদ: ১৯)।

২। অতঃপর আখেরাত ও তাতে যা কিছু ঘটবে তার মাধ্যমে দা'ওয়াত দিতে হবে। যেমন-পুনরুত্থান, হাশর (ক্বিয়ামতের দিন একত্রিত হওয়া), পুলছিরাত, মীযান (দাঁড়িপাল্লা), জান্নাত ও জাহান্নাম; যাতে মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তার আনুগত্যে আগ্রহী হয় এবং কুফরী ও অবাধ্যতা ছেড়ে দেয়। আর যেন তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করে।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ يَتَفَرَّقُونَ (14) فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَهُمْ فِي رَوْضَةٍ يُحْبَرُونَ (15) وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَلِقَاءِ الْآخِرَةِ فَأُولَئِكَ فِي الْعَذَابِ مُحْضَرُونَ (16)} [الروم: 14 - 16] 'আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে. সেদিন তারা বিভক্ত হয়ে পড়বে। (১৪) অতএব, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদেরকে জান্নাতে পরিতুষ্ট করা হবে। (১৫) আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহ ও পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তাদেরকেই আযাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে' (সূরা আর-রূম: ১৪-১৬)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ } [التوبة: 72] 'আল্লাহ মুমিন পুরুষ এবং মুমিন নারীদেরকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতসমূহে পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ হতে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহা সফলতা' (সূরা আত-তাওবা: ৭২)।
(৩) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَعَدَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا هِيَ حَسْبُهُمْ وَلَعَنَهُمُ اللَّهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقِيمٌ (68)} ... [التوبة: 68]. 'আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী ও কাফেরদেরকে জাহান্নামের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাতে তারা চিরদিন থাকবে, এটি তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের লা'নত করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব' (সূরা আত-তাওবা: ৬৮)।

৩। অতঃপর দ্বীন ও শরী'আতের বিধি-বিধান বর্ণনা করা, হালাল-হারাম, ফরয- সুন্নাত, ইবাদত ও লেন-দেন, অধিকার ও দণ্ডবিধি বর্ণনা করার মাধ্যমে দা'ওয়াতী কাজ করা। দা'ওয়াতী কাজে এটিই ছিল নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশনা। মক্কায় দা'ওয়াতী কাজ ছিল আল্লাহ তা'আলার দিকে আহ্বান করা এবং পরকাল ও উত্তম চরিত্র সম্পর্কে অবহিত করা। আর রাসূলগণ ও তাদের জাতির অবস্থা বর্ণনা করা। অতঃপর মদীনায় আল্লাহ তা'আলা শরী'আতের বিধি-বিধানের মাধ্যমে দ্বীনের পূর্ণতা দান করেন। ফলে, যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছিলেন, তারা সেগুলি সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। কাফের ও মুনাফিকরা দ্বীন ইসলামের মাধ্যমে পরাস্ত হয়েছে। অতঃপর মানুষেরা দলেদলে দ্বীন ইসলামে প্রবেশ করেছে এবং দ্বীন পরিপূর্ণ হয়েছে।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: [3 'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম আর তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে পছন্দ করলাম ইসলামকে' (সূরা আল-মায়েদা: ৩)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ (1) وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْখُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا (2) فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا (3)} [النصر: 1 - 3] . 'যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে (১) এবং তুমি লোকদেরকে দলে দলে আল্লাহর দীনে দাখিল হতে দেখবে, (২) তখন তুমি তোমার রবের সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি তওবা কবুলকারী' (সূরা আন-নাছর: ১-৩)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ঝ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াতের পদ্ধতি

📄 ঝ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াতের পদ্ধতি


আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের পদ্ধতি (كيفية الدعوة إلى الله) :
দাঈ মানুষের নিকট নিম্নোক্ত হক্ব দায়িত্ব নিয়ে উপস্থিত হবে:
• শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে এবং পর্যায়ক্রমে দা'ওয়াতী কাজে অগ্রসর হবে
○ সহজ করবে ও সুসংবাদ দিবে
• বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবে ও কোমল আচরণ করবে
• ভালবাসা ও দয়া প্রদর্শন করবে
• হাসিমুখে কথা বলবে ও আন্তরিকতা বজায় রাখবে
○ আহ্বান করবে ও দু'আ করবে
• আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করবে
• সম্মান ও বিনম্রতা বজায় রাখবে
○ ধৈর্য ধারণ করবে ও বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করবে
○ সু-ধারণা করবে। কেন না, কু-ধারণার মাধ্যমে নয়টি খারাপ ও ক্ষতিকর বিষয়ের উদ্ভব ঘটে। সেগুলি হলো: গোয়েন্দাগিরী, অতঃপর সন্দেহ, অতঃপর গীবত, অতঃপর চোগলখোরী, অতঃপর বিদ্বেষভাব পোষণ, অতঃপর শত্রুতা, অতঃপর সম্পর্কছিন্ন, অতঃপর অন্যের পিছে লেগে থাকা。
• আমরা মানুষের যথাযথ প্রশংসা করে আন্তরিকতা সৃষ্টি করব। তাদের ভাল বিষয়সমূহ আলোচনা করব, তাদেরকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিব, সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখব। তাদের পছন্দনীয় বৈধ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিব। ফলে তারা আমাদেরকে ভালবাসবে, আমাদের কথা শুনবে, তারা আমাদের উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে প্রভাবিত হবে, সর্বোপরি আমাদের দ্বীনি ব্যাপারে আগ্রহী হবে। অতঃপর আল্লাহর রহমত প্রাপ্ত হবে。
○ অতঃপর আমরা তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার মহানত্ব, তার নামসমুহ ও গুণাবলীর মহানত্ব ও মর্যাদা বর্ণনা করব, যাতে তারা আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করে。
○ অতঃপর আমরা আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামত এবং তার বান্দাদের উপর তার অনুগ্রহ বিশেষ করে এই দ্বীনের মাধ্যমে তিনি যে অনুগ্রহ করেছেন, তা বর্ণনা করব-যাতে তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে ও তার আনুগত্য করে। তা হলে আল্লাহ তাদের প্রতি তার অনুগ্রহ বাড়িয়ে দিবেন。
○ অতঃপর আমরা তাদেরকে ইবাদত, সৃষ্টি, নামসমূহ ও গুণাবলির ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাব। অনুরূপভাবে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একক আনুগত্যের আহ্বান জানাব। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং তার রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া প্রকৃত কোন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব নেই。
○ অতঃপর আমরা রবের নিকট মানুষের মুখাপেক্ষিতা ও তাদের দ্বীনের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করব- যাতে তারা দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্যবান হয়。
○ অতঃপর ঈমান, সৎচরিত্র ও সৎ আমলের ফযীলত বর্ণনা করব।
○ তারপর জান্নাত ও তার স্থায়ী নেয়ামত, যা আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন, সে সম্পর্কে আমরা তাদেরকে বর্ণনা করব। আর কাফেরদের জন্য জাহান্নাম এবং এর মধ্যে যে শাস্তি আল্লাহ প্রস্তুত করে রেখেছেন, তার কথা বর্ণনা করব।

এসব বিষয় মানুষ যখন জানবে, তখন তাদের মধ্যে দ্বীনের ব্যাপারে আগ্রহ সৃষ্টি হবে, আগ্রহ সৃষ্টি হবে দ্বীনের উপর আমল করার এবং দা'ওয়াতী কাজ করার। পাশাপাশি এসব বিষয়ে তাদের ধৈর্য ধারণ করা সহজ হবে। দ্বীন প্রচার ও আল্লাহর কালিমা উড্ডীনের নিমিত্তে আমরা আমাদের সবকিছু ব্যয় করব। হক্ব প্রচারের জন্য আমরা আমাদের জীবন, ধন-সম্পদ, সময়, পরিবার-পরিজন, ঘর-বাড়ি, ইচ্ছা-আকাঙ্খাসহ সবকিছু উৎসর্গ করব; ঠিক যেমনটি করেছিলেন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর ছাহাবায়ে কেরাম। অবশেষে আল্লাহ তার দ্বীনকে বিজয়ী করেছিলেন। এভাবে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি, দুনিয়ায় শান্তি এবং পরকালে জান্নাত লাভ করতে পারব।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ [التوبة: 100] ... (100}
'আর মুহাজির ও আনসারগণের মধ্যে যারা অগ্রগামী ও প্রথম এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তারা সেখানে স্থায়ী থাকবে। এটাই মহাসাফল্য' (সূরা আত-তাওবা: ১০০)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {لَكِنِ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ جَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ وَأُولَئِكَ لَهُمُ الْخَيْرَاتُ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (88) أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (89)} [التوبة: 88 – 89].
'কিন্তু রাসূল ও তার সাথে মুমিনরা তাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করে, আর সে সব লোকদের জন্যই রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই সফলকাম। (৮৮) আল্লাহ তাদের জন্য তৈরি করেছেন জান্নাতসমূহ, যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে, এটিই মহা সফলতা' (সূরা আত-তাওবা: ৮৮-৮৯)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ } [آل عمران: 159]
'আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। কাজেই আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন, তারপর আপনি কোন সংকল্প করলে আল্লাহর উপর নির্ভর করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ (তার উপর) নির্ভরকারীদের ভালবাসেন' (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)।

৪। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: { ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ خَالِقُ كُلِّ শَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ শَيْءٍ وَكِيلٌ ]102 :102) ... [الأنعام( 'তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। তিনি ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই। তিনি প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদত কর। আর তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর তত্ত্বাবধায়ক' (সূরা আল-আন'আম: ১০২)।

৫। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} ... [الأحزاب: 21]
'অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহর অনেক যিক্র করে' (সূরা আল-আহযাব: ২১)।

আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের পদ্ধতি (كيفية الدعوة إلى الله) :
দাঈ মানুষের নিকট নিম্নোক্ত হক্ব দায়িত্ব নিয়ে উপস্থিত হবে:
• শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে এবং পর্যায়ক্রমে দা'ওয়াতী কাজে অগ্রসর হবে
○ সহজ করবে ও সুসংবাদ দিবে
• বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবে ও কোমল আচরণ করবে
• ভালবাসা ও দয়া প্রদর্শন করবে
• হাসিমুখে কথা বলবে ও আন্তরিকতা বজায় রাখবে
○ আহ্বান করবে ও দু'আ করবে
• আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করবে
• সম্মান ও বিনম্রতা বজায় রাখবে
○ ধৈর্য ধারণ করবে ও বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করবে
○ সু-ধারণা করবে। কেন না, কু-ধারণার মাধ্যমে নয়টি খারাপ ও ক্ষতিকর বিষয়ের উদ্ভব ঘটে। সেগুলি হলো: গোয়েন্দাগিরী, অতঃপর সন্দেহ, অতঃপর গীবত, অতঃপর চোগলখোরী, অতঃপর বিদ্বেষভাব পোষণ, অতঃপর শত্রুতা, অতঃপর সম্পর্কছিন্ন, অতঃপর অন্যের পিছে লেগে থাকা。
• আমরা মানুষের যথাযথ প্রশংসা করে আন্তরিকতা সৃষ্টি করব। তাদের ভাল বিষয়সমূহ আলোচনা করব, তাদেরকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিব, সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখব। তাদের পছন্দনীয় বৈধ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিব। ফলে তারা আমাদেরকে ভালবাসবে, আমাদের কথা শুনবে, তারা আমাদের উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে প্রভাবিত হবে, সর্বোপরি আমাদের দ্বীনি ব্যাপারে আগ্রহী হবে। অতঃপর আল্লাহর রহমত প্রাপ্ত হবে。
○ অতঃপর আমরা তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার মহানত্ব, তার নামসমুহ ও গুণাবলীর মহানত্ব ও মর্যাদা বর্ণনা করব, যাতে তারা আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করে。
○ অতঃপর আমরা আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামত এবং তার বান্দাদের উপর তার অনুগ্রহ বিশেষ করে এই দ্বীনের মাধ্যমে তিনি যে অনুগ্রহ করেছেন, তা বর্ণনা করব-যাতে তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে ও তার আনুগত্য করে। তা হলে আল্লাহ তাদের প্রতি তার অনুগ্রহ বাড়িয়ে দিবেন。
○ অতঃপর আমরা তাদেরকে ইবাদত, সৃষ্টি, নামসমূহ ও গুণাবলির ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাব। অনুরূপভাবে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একক আনুগত্যের আহ্বান জানাব। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং তার রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া প্রকৃত কোন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব নেই。
○ অতঃপর আমরা রবের নিকট মানুষের মুখাপেক্ষিতা ও তাদের দ্বীনের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করব- যাতে তারা দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্যবান হয়。
○ অতঃপর ঈমান, সৎচরিত্র ও সৎ আমলের ফযীলত বর্ণনা করব।
○ তারপর জান্নাত ও তার স্থায়ী নেয়ামত, যা আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন, সে সম্পর্কে আমরা তাদেরকে বর্ণনা করব। আর কাফেরদের জন্য জাহান্নাম এবং এর মধ্যে যে শাস্তি আল্লাহ প্রস্তুত করে রেখেছেন, তার কথা বর্ণনা করব।

এসব বিষয় মানুষ যখন জানবে, তখন তাদের মধ্যে দ্বীনের ব্যাপারে আগ্রহ সৃষ্টি হবে, আগ্রহ সৃষ্টি হবে দ্বীনের উপর আমল করার এবং দা'ওয়াতী কাজ করার। পাশাপাশি এসব বিষয়ে তাদের ধৈর্য ধারণ করা সহজ হবে। দ্বীন প্রচার ও আল্লাহর কালিমা উড্ডীনের নিমিত্তে আমরা আমাদের সবকিছু ব্যয় করব। হক্ব প্রচারের জন্য আমরা আমাদের জীবন, ধন-সম্পদ, সময়, পরিবার-পরিজন, ঘর-বাড়ি, ইচ্ছা-আকাঙ্খাসহ সবকিছু উৎসর্গ করব; ঠিক যেমনটি করেছিলেন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর ছাহাবায়ে কেরাম। অবশেষে আল্লাহ তার দ্বীনকে বিজয়ী করেছিলেন। এভাবে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি, দুনিয়ায় শান্তি এবং পরকালে জান্নাত লাভ করতে পারব।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ [التوبة: 100] ... (100}
'আর মুহাজির ও আনসারগণের মধ্যে যারা অগ্রগামী ও প্রথম এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তারা সেখানে স্থায়ী থাকবে। এটাই মহাসাফল্য' (সূরা আত-তাওবা: ১০০)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {لَكِنِ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ جَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ وَأُولَئِكَ لَهُمُ الْخَيْرَاتُ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (88) أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (89)} [التوبة: 88 – 89].
'কিন্তু রাসূল ও তার সাথে মুমিনরা তাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করে, আর সে সব লোকদের জন্যই রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই সফলকাম। (৮৮) আল্লাহ তাদের জন্য তৈরি করেছেন জান্নাতসমূহ, যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে, এটিই মহা সফলতা' (সূরা আত-তাওবা: ৮৮-৮৯)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ } [آل عمران: 159]
'আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। কাজেই আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন, তারপর আপনি কোন সংকল্প করলে আল্লাহর উপর নির্ভর করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ (তার উপর) নির্ভরকারীদের ভালবাসেন' (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)।

৪। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: { ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ خَالِقُ كُلِّ শَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ শَيْءٍ وَكِيلٌ ]102 :102) ... [الأنعام( 'তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। তিনি ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই। তিনি প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদত কর। আর তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর তত্ত্বাবধায়ক' (সূরা আল-আন'আম: ১০২)।

৫। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} ... [الأحزاب: 21]
'অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহর অনেক যিক্র করে' (সূরা আল-আহযাব: ২১)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ঞ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত দেয়ার সময়

📄 ঞ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত দেয়ার সময়


আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেওয়ার সময় (وقت الدعوة إلى الله) :
চিন্তা-চেতনা, আমল ও সময়ের সমন্বয়ে ইসলাম পরিপূর্ণ দ্বীন। প্রত্যেকটি ইবাদতের নির্দিষ্ট সময় ও উপলক্ষ্য রয়েছে এবং এর রয়েছে শুরু ও শেষ। যেমন-ছালাত, ছিয়াম, হাজ্জ ইত্যাদি।। কিন্তু আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দান সর্বদা, সর্বাবস্থায় ও সব জায়গায় চালু থাকবে। মুসলিমদের কর্তব্য হলো, এমনভাবে তাদের সময় কাটানো, ঠিক যেমনভাবে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাটিয়েছেন- যাতে তারা তাঁর অনুসারীদের মধ্যে গণ্য হতে পারে, যেমনটি ছাহাবায়ে কেরাম করেছিলেন। সুতরাং তারা আল্লাহ তা'আলার ফরযসমূহ পালন করবে। সর্বাবস্থায় তাদের রবের নির্দেশ মেনে চলবে। জীবিকা নির্বাহ ও উপার্জনের জন্য অল্প কিছু সময় ব্যয় করবে। আর অধিকাংশ সময় দা'ওয়াতী কাজে ব্যয় করবে, যাতে মানুষ এক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করে, যার কোন শরীক নেই।

সময় পেলে অথবা যাকে সে দা'ওয়াত দিতে চায়, তাকে দা'ওয়াত দেওয়া কঠিন হলে দ্বীনের জ্ঞান অর্জনে ব্যস্ত থাকবে অথবা মুসলিমদেরকে দ্বীনের বিধি-বিধান শিক্ষা দিবে। যাতে তারা জ্ঞান শিক্ষা করে নিজেদের ও অন্যদের অজ্ঞতা দূর করতে পারে। আর সময় পেলে অথবা দ্বীন শিক্ষা দেয়া অথবা জ্ঞানার্জন করা কঠিন হলে তার মুসলিম ভাইদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। তাদের প্রয়োজনের দিকে নজর রাখবে। সৃষ্টির প্রতি সদয় হবে এবং ভাল ও তাক্বওয়ার (আল্লাহ ভীতি) কাজে সহযোগিতা করবে। সময় হলে বা উপরের কাজগুলো করা সম্ভব না হলে নফল ইবাদত করবে। যেমন-সাধারণ সুন্নাত আদায় করা, যিকির করা, কুরআন তিলাওয়াত করা। এরূপ অন্যান্য আমল ও সৎকাজ করা। তবে, সর্বদা এমন কাজকে অগ্রাধিকার দিবে, যার উপকারিতা মুসলিম ও অন্যান্যদের জন্য তুলনামূলক বেশী ব্যাপক। সুতরাং মুসলিমরা নিজেদের ও অন্যদের সংশোধনের জন্য সর্বদা ব্যস্ত থাকবে।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108].
'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا (103)} ... [النساء: 103]
'নিশ্চয় ছালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয' (সূরা আন-নিসা: ১০০)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {79} [آل وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ ) ]79 :عمران
'বরং তিনি বলবেন, তোমরা রব্বানী হও। যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে' (সূরা আলে ইমরান: ৭৯)।

৪। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: وَابْتَغِ ফِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحبُّ الْمُفْسِدِينَ } [القصص: 77]
'আর আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তাতে তুমি আখেরাতের নিবাস অনুসন্ধান কর। তবে তুমি দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না। তোমার প্রতি আল্লাহ যেরূপ অনুগ্রহ করেছেন, তুমিও সেরূপ অনুগ্রহ কর। আর যমীনে ফাসাদ করতে চেয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ ফাসাদকারীদের ভালবাসেন না' (সূরা আল-কুছাছ: ৭৭)।

৫। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ (3)} [العصر: 1 - 3].
'মহাকালের শপথ, (১) মানুষ অবশ্যই ক্ষতিতে আছে। (২) তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়' (সূরা আল-আছর: ১-৩)।

আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেওয়ার সময় (وقت الدعوة إلى الله) :
চিন্তা-চেতনা, আমল ও সময়ের সমন্বয়ে ইসলাম পরিপূর্ণ দ্বীন। প্রত্যেকটি ইবাদতের নির্দিষ্ট সময় ও উপলক্ষ্য রয়েছে এবং এর রয়েছে শুরু ও শেষ। যেমন-ছালাত, ছিয়াম, হাজ্জ ইত্যাদি।। কিন্তু আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দান সর্বদা, সর্বাবস্থায় ও সব জায়গায় চালু থাকবে। মুসলিমদের কর্তব্য হলো, এমনভাবে তাদের সময় কাটানো, ঠিক যেমনভাবে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাটিয়েছেন- যাতে তারা তাঁর অনুসারীদের মধ্যে গণ্য হতে পারে, যেমনটি ছাহাবায়ে কেরাম করেছিলেন। সুতরাং তারা আল্লাহ তা'আলার ফরযসমূহ পালন করবে। সর্বাবস্থায় তাদের রবের নির্দেশ মেনে চলবে। জীবিকা নির্বাহ ও উপার্জনের জন্য অল্প কিছু সময় ব্যয় করবে। আর অধিকাংশ সময় দা'ওয়াতী কাজে ব্যয় করবে, যাতে মানুষ এক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করে, যার কোন শরীক নেই।

সময় পেলে অথবা যাকে সে দা'ওয়াত দিতে চায়, তাকে দা'ওয়াত দেওয়া কঠিন হলে দ্বীনের জ্ঞান অর্জনে ব্যস্ত থাকবে অথবা মুসলিমদেরকে দ্বীনের বিধি-বিধান শিক্ষা দিবে। যাতে তারা জ্ঞান শিক্ষা করে নিজেদের ও অন্যদের অজ্ঞতা দূর করতে পারে। আর সময় পেলে অথবা দ্বীন শিক্ষা দেয়া অথবা জ্ঞানার্জন করা কঠিন হলে তার মুসলিম ভাইদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। তাদের প্রয়োজনের দিকে নজর রাখবে। সৃষ্টির প্রতি সদয় হবে এবং ভাল ও তাক্বওয়ার (আল্লাহ ভীতি) কাজে সহযোগিতা করবে। সময় হলে বা উপরের কাজগুলো করা সম্ভব না হলে নফল ইবাদত করবে। যেমন-সাধারণ সুন্নাত আদায় করা, যিকির করা, কুরআন তিলাওয়াত করা। এরূপ অন্যান্য আমল ও সৎকাজ করা। তবে, সর্বদা এমন কাজকে অগ্রাধিকার দিবে, যার উপকারিতা মুসলিম ও অন্যান্যদের জন্য তুলনামূলক বেশী ব্যাপক। সুতরাং মুসলিমরা নিজেদের ও অন্যদের সংশোধনের জন্য সর্বদা ব্যস্ত থাকবে।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108].
'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا (103)} ... [النساء: 103]
'নিশ্চয় ছালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয' (সূরা আন-নিসা: ১০০)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {79} [آل وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ ) ]79 :عمران
'বরং তিনি বলবেন, তোমরা রব্বানী হও। যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে' (সূরা আলে ইমরান: ৭৯)।

৪। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: وَابْتَغِ ফِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحبُّ الْمُفْسِدِينَ } [القصص: 77]
'আর আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তাতে তুমি আখেরাতের নিবাস অনুসন্ধান কর। তবে তুমি দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না। তোমার প্রতি আল্লাহ যেরূপ অনুগ্রহ করেছেন, তুমিও সেরূপ অনুগ্রহ কর। আর যমীনে ফাসাদ করতে চেয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ ফাসাদকারীদের ভালবাসেন না' (সূরা আল-কুছাছ: ৭৭)।

৫। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ (3)} [العصر: 1 - 3].
'মহাকালের শপথ, (১) মানুষ অবশ্যই ক্ষতিতে আছে। (২) তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়' (সূরা আল-আছর: ১-৩)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px