📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ঘ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত দানের আবশ্যকতা অনস্বীকার্য

📄 ঘ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত দানের আবশ্যকতা অনস্বীকার্য


আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দানের আবশ্যকতা অনস্বীকার্য ( تقرير وجوب ) الدعوة إلى الله
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِিলِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108]
'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)। আল্লাহ তা'আলার এ বাণী ব্যাপক অর্থবোধক যা স্থান-কাল পাত্রভেদে সবসময় প্রযোজ্য এবং আরব-অনারব, নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, জাতি-বর্ণ, মালিক-ভৃত্য এবং ধনী-গরিব সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {هَذَا بَلَاغُ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ ( 52)} [إبراهيم: 52]
'ইহা মানুষের জন্য পয়গাম। আর যা দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা জানতে পারে যে, তিনি কেবল এক ইলাহ, আর যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা ইব্রাহীম: ৫২)। অতএব, সকল মানুষের জন্য দা'ওয়াত দান ওয়াজিব। কেননা, দ্বীন ইসলাম সকল মানুষের জন্য। তাই মুসলিম হওয়ার পর মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মত ও অনুসারী গণ্য হওয়ায় তাদের দা'ওয়াতী কাজ করা আবশ্যক।

৩। প্রত্যেকের উপর দায়িত্ব হলো তার যোগ্যতা অনুযায়ী দ্বীন প্রচার করা। আর দা'ওয়াত দানের সর্বনিম্ন যোগ্যতা হলো একটি আয়াত অথবা একটি সুন্নাহ বা হাদীছ জানা। এরূপ যে জানবে, তার উপর আবশ্যক হলো তা পৌঁছে দেয়া।

৪। মুসলিম দু'প্রকার:
(ক) আলেম, যিনি নিজ উদ্যোগে হক্ব-দ্বীন প্রচার করেন এবং মানুষকে তার অনুসরণ করার জন্য আহ্বান করেন। যেমনটি মুমিন ফির'আউনের দলবলের মুমিন ব্যক্তি বলেছিলেন: {وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ الرَّشَادِ ( 38) يَا قَوْمِ إِنَّمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ (39)} [غافر: 38 - 39] 'আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল, সে বলল, 'হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমার আনুগত্য কর; আমি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখাব। (৩৮) 'হে আমার সম্প্রদায়! এ দুনিয়ার জীবন কেবল ক্ষণকালের ভোগ; আর নিশ্চয় আখেরাতই হল স্থায়ী আবাস' (সূরা গফির: ৩৮-৩৯)।

(খ) মুসলিম কিন্তু আলেম নন: তিনি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আলেমগণের অনুসরণ করার জন্য আহ্বান করবেন। যেমন- মহান আল্লাহ তা'আলা সূরা ইয়াসীনে জনৈক দাঈ সম্পর্কে বলেন: {وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ ( 20) اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ (21)} [يس: 20 - 21] . 'আর শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসূলগণের অনুসরণ কর। (২০) তোমরা তাদের অনুসরণ কর, যারা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চায় না আর তারা সৎপথপ্রাপ্ত' (সূরা ইয়াসীন: ২০-২১)।

সুতরাং প্রত্যেকের উচিত, দা'ওয়াতী কাজ করা। আলেমগণ হক্বের দিকে দা'ওয়াত দিবেন। আর যারা আলেম নন, তারা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সেসব আলেমের অনুসরণের দিকে আহ্বান করবেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত।

৫। যোগ্যতা অনুযায়ী আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া প্রত্যেকের উপর ফরয। কেননা, তা আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ। ঠিক যেমন ছালাত আদায় করা প্রত্যেকের উপর ফরয। কেননা, সেটিও আল্লাহর নির্দেশ। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে ইবাদত ও দা'ওয়াত উভয়ই মুসলিম জাতির সকলের উপর ফরয ছিল। অতঃপর আল্লাহর ইবাদত সকল মুসলিমের উপর ফরয গণ্য করা হলেও শুধুমাত্র কতিপয় মুসলিমের উপর দা'ওয়াতী কাজ করা ফরয বলে গণ্য করা হয়। ফলে, খোদ ইবাদতই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানুষ দ্বীন থেকে বের হতে শুরু করে। আর এই উম্মতের শেষের দিকের মানুষকে ঠিক করতে পারে শুধুমাত্র সেই বিষয়, যা দ্বারা উম্মতের প্রথম দিকের মানুষ ঠিক হয়েছিল। সুতরাং ইবাদত ও দা'ওয়াতী কাজ উভয়ই এ উম্মতের প্রত্যেকের উপর ফরযে আইন।

(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ار্কَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (77)} [الحج: 77] 'হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ' কর, সিজদা কর, তোমাদের রবের ইবাদত কর এবং ভাল কাজ কর, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে' (সূরা আল-হাজ্জ: ৭৭)।

(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} [النحل: 125] 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াত প্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।

৬। উম্মতের প্রত্যেকের উপর কর্তব্য আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া এবং তা প্রত্যেকের পালন করা প্রয়োজন। দা'ওয়াত দানের মাধ্যমে হেদায়াত লাভ হয়, ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং মুমিনদের সংখ্যা বেড়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ } [العنكبوت: 69] 'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন' (সূরা আল-আনকাবূত: ৬৯)।

৭। দা'ওয়াতী কাজ করা, ইবাদত করা, চরিত্রবান হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা সকল মুসলিমকে সর্বাবস্থায় রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} ... [الأحزاب: 21] 'অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহর অনেক যিক্র করে' (সূরা আল-আহযাব: ২১)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ (158)} [الأعراف: 158]. 'বল, 'হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার নিকট আল্লাহর রাসূল, যার রয়েছে আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ও তাঁর প্রেরিত নিরক্ষর নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণী সমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হেদায়াত লাভ করবে' (সূরা আল-আ'রাফ: ১৫৮)।

৮। বিভিন্ন জাতির মধ্যে থেকে আল্লাহ তা'আলা এ উম্মতকে বাছাই করেছেন এবং তাদেরকে নবীগণের মুকুট পরিয়েছেন। আর তা হলো, আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া, সৎকাজের আদেশ দান ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْনَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَানَ خَيْرًا لَهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ ( 110)} ]110 :آل عمران[ 'তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তবে অবশ্যই তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত। তাদের কতক ঈমানদার। আর তাদের অধিকাংশই ফাসিক' (সূরা আলে ইমরান: ১১০)।

৯। ঈমান ও বিধি-বিধান নাযিল হওয়ার মধ্যে সময়ের দূরত্ব আছে। কিন্তু ঈমান ও দা'ওয়াতী কাজের মাঝে কোন সময়ের দূরত্ব নেই। কেন না, নবীগণের মতই দা'ওয়াতী কাজের জন্য এ জাতি প্রেরিত হয়েছে। প্রথম সারির ছাহাবীগণ শুরু থেকেই দা'ওয়াতী কাজে অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যেক নবীই তার উম্মতকে প্রথমে ঈমান শিক্ষা দিতেন, অতঃপর বিধি-বিধান শিখাতেন। আর মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আল্লাহ তা'আলা তার উম্মতকে প্রথমে ঈমান শিক্ষা দেয়ার, তারপর দা'ওয়াতী কাজ করার, তারপর বিধি-বিধান শিক্ষা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যা মদীনায় অবতীর্ণ হয়। কেন না, নবীগণের আদর্শের উপর এ মুসলিম জাতি প্রেরিত হয়েছে।

১০। আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীর সর্বত্র হক্ব প্রচারের জন্য আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। যেমন আলোকিত করার জন্য সূর্য, বৃষ্টি বর্ষণের জন্য মেঘমালা এবং উদ্ভিদ উৎপন্ন করার জন্য যমীনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এ তিনটিই তাদের আমানত যথারীতি রক্ষা করে চলেছে। সেজন্যই, সৃষ্টির দুনিয়াবী যিন্দেগী ঠিকমত চলছে। আমরাও যদি মানবতার নিকট আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের আমানত পৌঁছে দেই, তাহলে তাদের ইহকাল ও পরকাল সুন্দর হবে। আলো, পানি ও উদ্ভিদ যেমন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য, তেমনি হক্ব, কুরআন ও ইসলামও সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য। মহান আল্লাহ বলেন: {هَذَا بَلَاغُ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذারُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَةٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّরَ أُولُو الْأَلْبَابِ (52)} [إبراهيم: 52] 'ইহা মানুষের জন্য পয়গাম। আর যা দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা জানতে পারে যে, তিনি কেবল এক ইলাহ, আর যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে' (সূরা ইব্রাহীম: ৫২)।

আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দানের আবশ্যকতা অনস্বীকার্য ( تقرير وجوب ) الدعوة إلى الله
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِিলِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108]
'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)। আল্লাহ তা'আলার এ বাণী ব্যাপক অর্থবোধক যা স্থান-কাল পাত্রভেদে সবসময় প্রযোজ্য এবং আরব-অনারব, নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, জাতি-বর্ণ, মালিক-ভৃত্য এবং ধনী-গরিব সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {هَذَا بَلَاغُ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ ( 52)} [إبراهيم: 52]
'ইহা মানুষের জন্য পয়গাম। আর যা দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা জানতে পারে যে, তিনি কেবল এক ইলাহ, আর যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা ইব্রাহীম: ৫২)। অতএব, সকল মানুষের জন্য দা'ওয়াত দান ওয়াজিব। কেননা, দ্বীন ইসলাম সকল মানুষের জন্য। তাই মুসলিম হওয়ার পর মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মত ও অনুসারী গণ্য হওয়ায় তাদের দা'ওয়াতী কাজ করা আবশ্যক।

৩। প্রত্যেকের উপর দায়িত্ব হলো তার যোগ্যতা অনুযায়ী দ্বীন প্রচার করা। আর দা'ওয়াত দানের সর্বনিম্ন যোগ্যতা হলো একটি আয়াত অথবা একটি সুন্নাহ বা হাদীছ জানা। এরূপ যে জানবে, তার উপর আবশ্যক হলো তা পৌঁছে দেয়া।

৪। মুসলিম দু'প্রকার:
(ক) আলেম, যিনি নিজ উদ্যোগে হক্ব-দ্বীন প্রচার করেন এবং মানুষকে তার অনুসরণ করার জন্য আহ্বান করেন। যেমনটি মুমিন ফির'আউনের দলবলের মুমিন ব্যক্তি বলেছিলেন: {وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ الرَّشَادِ ( 38) يَا قَوْمِ إِنَّمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ (39)} [غافر: 38 - 39] 'আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল, সে বলল, 'হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমার আনুগত্য কর; আমি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখাব। (৩৮) 'হে আমার সম্প্রদায়! এ দুনিয়ার জীবন কেবল ক্ষণকালের ভোগ; আর নিশ্চয় আখেরাতই হল স্থায়ী আবাস' (সূরা গফির: ৩৮-৩৯)।

(খ) মুসলিম কিন্তু আলেম নন: তিনি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আলেমগণের অনুসরণ করার জন্য আহ্বান করবেন। যেমন- মহান আল্লাহ তা'আলা সূরা ইয়াসীনে জনৈক দাঈ সম্পর্কে বলেন: {وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ ( 20) اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ (21)} [يس: 20 - 21] . 'আর শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসূলগণের অনুসরণ কর। (২০) তোমরা তাদের অনুসরণ কর, যারা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চায় না আর তারা সৎপথপ্রাপ্ত' (সূরা ইয়াসীন: ২০-২১)।

সুতরাং প্রত্যেকের উচিত, দা'ওয়াতী কাজ করা। আলেমগণ হক্বের দিকে দা'ওয়াত দিবেন। আর যারা আলেম নন, তারা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সেসব আলেমের অনুসরণের দিকে আহ্বান করবেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত।

৫। যোগ্যতা অনুযায়ী আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া প্রত্যেকের উপর ফরয। কেননা, তা আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ। ঠিক যেমন ছালাত আদায় করা প্রত্যেকের উপর ফরয। কেননা, সেটিও আল্লাহর নির্দেশ। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে ইবাদত ও দা'ওয়াত উভয়ই মুসলিম জাতির সকলের উপর ফরয ছিল। অতঃপর আল্লাহর ইবাদত সকল মুসলিমের উপর ফরয গণ্য করা হলেও শুধুমাত্র কতিপয় মুসলিমের উপর দা'ওয়াতী কাজ করা ফরয বলে গণ্য করা হয়। ফলে, খোদ ইবাদতই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানুষ দ্বীন থেকে বের হতে শুরু করে। আর এই উম্মতের শেষের দিকের মানুষকে ঠিক করতে পারে শুধুমাত্র সেই বিষয়, যা দ্বারা উম্মতের প্রথম দিকের মানুষ ঠিক হয়েছিল। সুতরাং ইবাদত ও দা'ওয়াতী কাজ উভয়ই এ উম্মতের প্রত্যেকের উপর ফরযে আইন।

(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ار্কَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (77)} [الحج: 77] 'হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ' কর, সিজদা কর, তোমাদের রবের ইবাদত কর এবং ভাল কাজ কর, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে' (সূরা আল-হাজ্জ: ৭৭)।

(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} [النحل: 125] 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াত প্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।

৬। উম্মতের প্রত্যেকের উপর কর্তব্য আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া এবং তা প্রত্যেকের পালন করা প্রয়োজন। দা'ওয়াত দানের মাধ্যমে হেদায়াত লাভ হয়, ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং মুমিনদের সংখ্যা বেড়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ } [العنكبوت: 69] 'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন' (সূরা আল-আনকাবূত: ৬৯)।

৭। দা'ওয়াতী কাজ করা, ইবাদত করা, চরিত্রবান হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা সকল মুসলিমকে সর্বাবস্থায় রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} ... [الأحزاب: 21] 'অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহর অনেক যিক্র করে' (সূরা আল-আহযাব: ২১)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ (158)} [الأعراف: 158]. 'বল, 'হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার নিকট আল্লাহর রাসূল, যার রয়েছে আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ও তাঁর প্রেরিত নিরক্ষর নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণী সমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হেদায়াত লাভ করবে' (সূরা আল-আ'রাফ: ১৫৮)।

৮। বিভিন্ন জাতির মধ্যে থেকে আল্লাহ তা'আলা এ উম্মতকে বাছাই করেছেন এবং তাদেরকে নবীগণের মুকুট পরিয়েছেন। আর তা হলো, আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া, সৎকাজের আদেশ দান ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْনَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَানَ خَيْرًا لَهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ ( 110)} ]110 :آل عمران[ 'তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তবে অবশ্যই তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত। তাদের কতক ঈমানদার। আর তাদের অধিকাংশই ফাসিক' (সূরা আলে ইমরান: ১১০)।

৯। ঈমান ও বিধি-বিধান নাযিল হওয়ার মধ্যে সময়ের দূরত্ব আছে। কিন্তু ঈমান ও দা'ওয়াতী কাজের মাঝে কোন সময়ের দূরত্ব নেই। কেন না, নবীগণের মতই দা'ওয়াতী কাজের জন্য এ জাতি প্রেরিত হয়েছে। প্রথম সারির ছাহাবীগণ শুরু থেকেই দা'ওয়াতী কাজে অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যেক নবীই তার উম্মতকে প্রথমে ঈমান শিক্ষা দিতেন, অতঃপর বিধি-বিধান শিখাতেন। আর মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আল্লাহ তা'আলা তার উম্মতকে প্রথমে ঈমান শিক্ষা দেয়ার, তারপর দা'ওয়াতী কাজ করার, তারপর বিধি-বিধান শিক্ষা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যা মদীনায় অবতীর্ণ হয়। কেন না, নবীগণের আদর্শের উপর এ মুসলিম জাতি প্রেরিত হয়েছে।

১০। আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীর সর্বত্র হক্ব প্রচারের জন্য আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। যেমন আলোকিত করার জন্য সূর্য, বৃষ্টি বর্ষণের জন্য মেঘমালা এবং উদ্ভিদ উৎপন্ন করার জন্য যমীনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এ তিনটিই তাদের আমানত যথারীতি রক্ষা করে চলেছে। সেজন্যই, সৃষ্টির দুনিয়াবী যিন্দেগী ঠিকমত চলছে। আমরাও যদি মানবতার নিকট আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের আমানত পৌঁছে দেই, তাহলে তাদের ইহকাল ও পরকাল সুন্দর হবে। আলো, পানি ও উদ্ভিদ যেমন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য, তেমনি হক্ব, কুরআন ও ইসলামও সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য। মহান আল্লাহ বলেন: {هَذَا بَلَاغُ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذারُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَةٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّরَ أُولُو الْأَلْبَابِ (52)} [إبراهيم: 52] 'ইহা মানুষের জন্য পয়গাম। আর যা দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা জানতে পারে যে, তিনি কেবল এক ইলাহ, আর যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে' (সূরা ইব্রাহীম: ৫২)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ঙ। দা‘ওয়াতের মর্যাদা

📄 ঙ। দা‘ওয়াতের মর্যাদা


দা'ওয়াতের মর্যাদা (فضائل الدعوة إلى الله:)
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {(33 وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْলًا মِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ) [33 :فصلت] 'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (104)} ... [آل عمران: 104] . 'আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম' (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ } [العنكبوت: 69] 'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন' (সূরা আল-আনকাবূত: ৬৯)।

৪। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যে ব্যক্তি হেদায়াতের দিকে ডাকে, তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার দিকে ডাকে, তার উপর সে রাস্তার অনুসারীদের পাপের অনুরূপ পাপ বর্তাবে। এতে তাদের পাপরাশি সামান্য হালকাও হবে না' (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৭৪)।

৫। সাহল ইবনু সা'দ (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী ইবনু আবী ত্বালেব (রা.) কে খায়বারের দিন বললেন: তুমি বর্তমান অবস্থায় তাদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে হাজির হও, এরপর তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করো এবং তাদের উপর আল্লাহর যে অধিকার, সে সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত কর। আল্লাহর কসম! তোমার দা'ওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন মাত্র মানুষকেও হেদায়াত দেন, তাহলে তা তোমার জন্য লাল রঙ্গের (মূল্যবান) উটের চেয়েও উত্তম' (ছহীহ বুখারী, হা/৮২১০; ছহীহ মুসলিম, হা/৬২৪০)।

দা'ওয়াতের মর্যাদা (فضائل الدعوة إلى الله:)
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {(33 وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْলًا মِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ) [33 :فصلت] 'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (104)} ... [آل عمران: 104] . 'আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম' (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ } [العنكبوت: 69] 'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন' (সূরা আল-আনকাবূত: ৬৯)।

৪। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যে ব্যক্তি হেদায়াতের দিকে ডাকে, তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার দিকে ডাকে, তার উপর সে রাস্তার অনুসারীদের পাপের অনুরূপ পাপ বর্তাবে। এতে তাদের পাপরাশি সামান্য হালকাও হবে না' (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৭৪)।

৫। সাহল ইবনু সা'দ (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী ইবনু আবী ত্বালেব (রা.) কে খায়বারের দিন বললেন: তুমি বর্তমান অবস্থায় তাদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে হাজির হও, এরপর তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করো এবং তাদের উপর আল্লাহর যে অধিকার, সে সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত কর। আল্লাহর কসম! তোমার দা'ওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন মাত্র মানুষকেও হেদায়াত দেন, তাহলে তা তোমার জন্য লাল রঙ্গের (মূল্যবান) উটের চেয়েও উত্তম' (ছহীহ বুখারী, হা/৮২১০; ছহীহ মুসলিম, হা/৬২৪০)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 চ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াতের ফলাফল

📄 চ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াতের ফলাফল


আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের ফলাফল (ثمار الدعوة إلى الله):
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদ্ধতিতে যে-ই দা'ওয়াতী কাজ করবে, মহান আল্লাহ তাদের প্রত্যেককেই মহা প্রতিদান ও প্রতিফল দিয়ে সম্মানিত করবেন। দা'ওয়াতের কারণে দাঈর হেদায়াত, দ্বীনের উপর অবিচলতা, ঈমান বৃদ্ধি, নেক আমল বৃদ্ধি, বিভিন্নমুখী প্রচুর আমল এবং পূর্ণ বিশ্বাস লাভ হয়। মানুষদের মধ্যে যাদেরকে তিনি দা'ওয়াত দিবেন, তাদের সংখ্যা অনুযায়ী তার নেকী অর্জিত হয়। তার কারণে যারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে, তাদের নেকী সমপরিমাণ নেকী তিনিও পান। আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের কারণে প্রত্যেক দাঈকে যা কিছু দ্বারা আল্লাহ সম্মানিত করেন, সেগুলির কয়েকটি নিম্নে বর্ণিত হলোঃ

* সম্মান প্রাপ্তির কোন কারণ তার কাছে না থাকলেও মহান আল্লাহ তা'আলা তাকে দা'ওয়াতের কারণে সম্মান দান করবেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বিলাল (রা.) ও সালমান (রা.) কে সম্মানিত করেছিলেন।
* আল্লাহ তা'আলা দ্বীনের সকল আমল তার কাছে প্রিয় করে দিবেন। ফলে, সেগুলি তিনি নিজে যেমন আমল করবেন, তেমনি অন্যকেও সেগুলির দিকে দা'ওয়াত দিবেন।
* সৃষ্টির হৃদয়ে তার প্রতি ভালবাসা, ভক্তি ও সম্মান তৈরি করে দিবেন।
* তার চতুষ্পার্শ্বের বাতিল শক্তিকে পরাস্ত করবেন। আল্লাহ তা'আলা তার অদৃশ্য সাহায্য দ্বারা তাকে শক্তিশালী করবেন। তিনি তার দো'আ কবুল করবেন এবং আখেরাতে তাকে জান্নাত দান করবেন।

সুতরাং দা'ওয়াতী কাজ সকল উত্তম কাজ, সব ধরনের নেকী এবং সব ধরনের মর্যাদাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দানের গুরুত্ব বিবেচনায় স্বয়ং আল্লাহ দা'ওয়াত দিয়েছেন, তার রাসূলগণকে দা'ওয়াতী কাজের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং দা'ওয়াতী কাজের ভার দিয়ে এই উম্মতের উপর অনুগ্রহ করেছেন।

১। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ } [يونس: 25] 'আর আল্লাহ তা'আলা শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দেন সরল পথের দিকে' (সূরা ইউনুস: ২৫)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108] 'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)} ]33:فصلত[ 'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।

আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের ফলাফল (ثمار الدعوة إلى الله):
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদ্ধতিতে যে-ই দা'ওয়াতী কাজ করবে, মহান আল্লাহ তাদের প্রত্যেককেই মহা প্রতিদান ও প্রতিফল দিয়ে সম্মানিত করবেন। দা'ওয়াতের কারণে দাঈর হেদায়াত, দ্বীনের উপর অবিচলতা, ঈমান বৃদ্ধি, নেক আমল বৃদ্ধি, বিভিন্নমুখী প্রচুর আমল এবং পূর্ণ বিশ্বাস লাভ হয়। মানুষদের মধ্যে যাদেরকে তিনি দা'ওয়াত দিবেন, তাদের সংখ্যা অনুযায়ী তার নেকী অর্জিত হয়। তার কারণে যারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে, তাদের নেকী সমপরিমাণ নেকী তিনিও পান। আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের কারণে প্রত্যেক দাঈকে যা কিছু দ্বারা আল্লাহ সম্মানিত করেন, সেগুলির কয়েকটি নিম্নে বর্ণিত হলোঃ

* সম্মান প্রাপ্তির কোন কারণ তার কাছে না থাকলেও মহান আল্লাহ তা'আলা তাকে দা'ওয়াতের কারণে সম্মান দান করবেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বিলাল (রা.) ও সালমান (রা.) কে সম্মানিত করেছিলেন।
* আল্লাহ তা'আলা দ্বীনের সকল আমল তার কাছে প্রিয় করে দিবেন। ফলে, সেগুলি তিনি নিজে যেমন আমল করবেন, তেমনি অন্যকেও সেগুলির দিকে দা'ওয়াত দিবেন।
* সৃষ্টির হৃদয়ে তার প্রতি ভালবাসা, ভক্তি ও সম্মান তৈরি করে দিবেন।
* তার চতুষ্পার্শ্বের বাতিল শক্তিকে পরাস্ত করবেন। আল্লাহ তা'আলা তার অদৃশ্য সাহায্য দ্বারা তাকে শক্তিশালী করবেন। তিনি তার দো'আ কবুল করবেন এবং আখেরাতে তাকে জান্নাত দান করবেন।

সুতরাং দা'ওয়াতী কাজ সকল উত্তম কাজ, সব ধরনের নেকী এবং সব ধরনের মর্যাদাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দানের গুরুত্ব বিবেচনায় স্বয়ং আল্লাহ দা'ওয়াত দিয়েছেন, তার রাসূলগণকে দা'ওয়াতী কাজের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং দা'ওয়াতী কাজের ভার দিয়ে এই উম্মতের উপর অনুগ্রহ করেছেন।

১। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ } [يونس: 25] 'আর আল্লাহ তা'আলা শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দেন সরল পথের দিকে' (সূরা ইউনুস: ২৫)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108] 'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)} ]33:فصلত[ 'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ছ। দা‘ওয়াতের মূলনীতি

📄 ছ। দা‘ওয়াতের মূলনীতি


দা'ওয়াতের মূলনীতি (أصول الدعوة إلى الله:)
ইবাদতের জন্য যেমন মূলনীতি আছে, তেমনি দা'ওয়াতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি রয়েছে। নিম্নে সেগুলি বর্ণনা করা হলো:

১। আল্লাহ তা'আলার জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা এবং নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদ্ধতিতে দা'ওয়াতী কাজ করা。
২। হিকমাত-কৌশল, উত্তম উপদেশ, সুন্দর কথা, ভাল আমল এবং মানুষের মর্যাদা বজায় রেখে দা'ওয়াত দেয়া।
৩। গ্রাম-শহর, হাট-বাজার, বাড়ি-ঘর সর্বত্রই দা'ওয়াত দেয়া।
৪। দিন-রাত্রি সর্বদাই দা'ওয়াতী কাজ করা। ছালাতে আদায় ও ছিয়াম পালন করার সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে। কিন্তু দা'ওয়াতী কাজ সব সময় ও সব জায়গায় করাই শরী'আত সম্মত।
৫। নিরাপত্তা-ভীতি, সহজ-কঠিন, সচ্ছলতা-দরিদ্রতা সর্বাবস্থায়ই দা'ওয়াতী কাজ করা।
৬। দা'ওয়াতী কাজের বিনিময় গ্রহণ না করা। কেন না, আল্লাহ তা'আলাই দাঈকে পুরস্কৃত করবেন।
৭। উদারতার সাথে দা'ওয়াতী কাজ করা। মানুষের নিকট দা'ওয়াতী কাজের বিনিময় না চাওয়া। যেমন-সূর্যের কাজ বিনিময় ছাড়া আলো বিকিরণ করা, যা থেকে মানুষসহ সব কিছুই উপকৃত হয়।
৮। জীবন চলার পথে, গোপনে, প্রকাশ্যে সবক্ষেত্রে দাঈ হবে মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ।
৯। বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ, কোমলতা, দয়া, বিনম্রতা, হেদায়াতের জন্য দু'আ করা ও কাউকে অবহেলা না করা ইত্যাদি গুণাবলীর মাধ্যমে দ্বীনের দা'ওয়াত দেওয়া। আর সব ধরণের বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করা।

আর দা'ওয়াতের বড় মূলনীতি হলো:
• মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদ, তার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও শরীকবিহীন আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের দিকে দা'ওয়াত দেওয়া。
• দৃশ্যমান কোন কিছুর প্রভাব ও কর্তৃত্ব নাকচ করা, অদৃশ্য বিষয়াদি বিশ্বাস করা, সৃষ্টিকে ডিঙ্গিয়ে স্রষ্টার শরণাপন্ন হওয়া, আকৃতিকে ডিঙ্গিয়ে আকৃতিদাতার শরণাপন্ন হওয়া।
• সর্বক্ষেত্রে যাবতীয় পথ পরিহার করে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথ অনুসরণ করা। মানুষকে দুনিয়া থেকে আখেরাতমুখী করা। যাবতীয় প্রথা ও প্রচলন ছেড়ে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত অনুসরণ করা, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও কু-প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ না করে ঈমান ও সৎ আমল পূর্ণ করা।
• নিজের প্রিয় বস্তুর চেয়ে রবের প্রিয় বস্তুকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং দ্বীনের পথে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া অন্য কারো প্রচেষ্টা ছেড়ে তাঁর প্রচেষ্টা অনুসরণ করা।
• কেউ এসব মূলনীতি অনুসরণ করে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দিলে তিনি নানা পরীক্ষা ও কষ্টের সম্মুখীন হবেন। সুতরাং তার উচিত ধৈর্য ধারণ করা, মার্জনা করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা, কোমল আচরণ করা এবং কঠোর ও কর্কশ না হওয়া-যাতে তারা বিমুখ না হয়।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي হِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} ... [النحل: 125] 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ (159)} ... [آل عمران: 159] 'আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। কাজেই আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন, তারপর আপনি কোন সংকল্প করলে আল্লাহর উপর নির্ভর করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ (তার উপর) নির্ভরকারীদের ভালবাসেন' (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ (60)} [الروم: 60]. 'অতএব, তুমি সবর কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা হক্। আর যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না, তারা যেন তোমাকে অস্থির করতে না পারে' (সূরা আর-রূম: ৬০)।

দা'ওয়াতের মূলনীতি (أصول الدعوة إلى الله:)
ইবাদতের জন্য যেমন মূলনীতি আছে, তেমনি দা'ওয়াতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি রয়েছে। নিম্নে সেগুলি বর্ণনা করা হলো:

১। আল্লাহ তা'আলার জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা এবং নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদ্ধতিতে দা'ওয়াতী কাজ করা。
২। হিকমাত-কৌশল, উত্তম উপদেশ, সুন্দর কথা, ভাল আমল এবং মানুষের মর্যাদা বজায় রেখে দা'ওয়াত দেয়া।
৩। গ্রাম-শহর, হাট-বাজার, বাড়ি-ঘর সর্বত্রই দা'ওয়াত দেয়া।
৪। দিন-রাত্রি সর্বদাই দা'ওয়াতী কাজ করা। ছালাতে আদায় ও ছিয়াম পালন করার সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে। কিন্তু দা'ওয়াতী কাজ সব সময় ও সব জায়গায় করাই শরী'আত সম্মত।
৫। নিরাপত্তা-ভীতি, সহজ-কঠিন, সচ্ছলতা-দরিদ্রতা সর্বাবস্থায়ই দা'ওয়াতী কাজ করা।
৬। দা'ওয়াতী কাজের বিনিময় গ্রহণ না করা। কেন না, আল্লাহ তা'আলাই দাঈকে পুরস্কৃত করবেন।
৭। উদারতার সাথে দা'ওয়াতী কাজ করা। মানুষের নিকট দা'ওয়াতী কাজের বিনিময় না চাওয়া। যেমন-সূর্যের কাজ বিনিময় ছাড়া আলো বিকিরণ করা, যা থেকে মানুষসহ সব কিছুই উপকৃত হয়।
৮। জীবন চলার পথে, গোপনে, প্রকাশ্যে সবক্ষেত্রে দাঈ হবে মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ।
৯। বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ, কোমলতা, দয়া, বিনম্রতা, হেদায়াতের জন্য দু'আ করা ও কাউকে অবহেলা না করা ইত্যাদি গুণাবলীর মাধ্যমে দ্বীনের দা'ওয়াত দেওয়া। আর সব ধরণের বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করা।

আর দা'ওয়াতের বড় মূলনীতি হলো:
• মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদ, তার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও শরীকবিহীন আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের দিকে দা'ওয়াত দেওয়া。
• দৃশ্যমান কোন কিছুর প্রভাব ও কর্তৃত্ব নাকচ করা, অদৃশ্য বিষয়াদি বিশ্বাস করা, সৃষ্টিকে ডিঙ্গিয়ে স্রষ্টার শরণাপন্ন হওয়া, আকৃতিকে ডিঙ্গিয়ে আকৃতিদাতার শরণাপন্ন হওয়া।
• সর্বক্ষেত্রে যাবতীয় পথ পরিহার করে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথ অনুসরণ করা। মানুষকে দুনিয়া থেকে আখেরাতমুখী করা। যাবতীয় প্রথা ও প্রচলন ছেড়ে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত অনুসরণ করা, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও কু-প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ না করে ঈমান ও সৎ আমল পূর্ণ করা।
• নিজের প্রিয় বস্তুর চেয়ে রবের প্রিয় বস্তুকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং দ্বীনের পথে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া অন্য কারো প্রচেষ্টা ছেড়ে তাঁর প্রচেষ্টা অনুসরণ করা।
• কেউ এসব মূলনীতি অনুসরণ করে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দিলে তিনি নানা পরীক্ষা ও কষ্টের সম্মুখীন হবেন। সুতরাং তার উচিত ধৈর্য ধারণ করা, মার্জনা করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা, কোমল আচরণ করা এবং কঠোর ও কর্কশ না হওয়া-যাতে তারা বিমুখ না হয়।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي হِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} ... [النحل: 125] 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ (159)} ... [آل عمران: 159] 'আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। কাজেই আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন, তারপর আপনি কোন সংকল্প করলে আল্লাহর উপর নির্ভর করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ (তার উপর) নির্ভরকারীদের ভালবাসেন' (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ (60)} [الروم: 60]. 'অতএব, তুমি সবর কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা হক্। আর যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না, তারা যেন তোমাকে অস্থির করতে না পারে' (সূরা আর-রূম: ৬০)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px