📄 ক। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াতের গুরুত্ব
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের গুরুত্ব (أهمية الدعوة إلى الله):
শরীরে প্রাণের উপস্থিতি যেমন জরুরী, তেমনি মানব জাতির জন্য দ্বীন ইসলাম অত্যাবশ্যক। শরীর থেকে প্রাণ বের হলে তা যেমন অকেজো হয়, তেমনি মানব জাতি দ্বীন হারালে তাদের দুনিয়া ও আখেরাত সবই নষ্ট হয়। আর দেহের মাপ অনুযায়ী দুনিয়াতে ফাসাদ ও নোংরামি ছড়ায়। দ্বীন ব্যতীত মানুষ খালি কৌটার মত মূল্যহীন। মানুষ সঠিক দ্বীন থেকে বিচ্যুত হলে তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত ইচ্ছানুযায়ী জীবন যাপন করে, ফাসাদ সৃষ্টির ব্যাপারে হিংস্র জন্তুর মত হয়ে যায় এবং অনিষ্ট সাধন, অপকৌশল ও ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে শয়তানদের মত হয়ে যায়। মহান আল্লাহ এই মানুষের প্রতি সদয় হয়েছেন এবং তাকে অন্যদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। যেমনঃ তিনি তাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, তার মাঝে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, ফেরেশতামণ্ডলী দ্বারা তার সামনে সেজদা করিয়ে নিয়েছেন, জ্ঞানের উপকরণ শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও বিবেক দিয়ে তাকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং তাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন।
আল্লাহ মুসলিমদেরকে অমুসলিমদের দা'ওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করেছেন, যাতে দ্বীন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায় এবং সকল মানুষ তাদের একমাত্র প্রভুর ইবাদত করতে পারে- যার কোন শরীক নেই। আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের গুরুত্ব বিবেচনা করে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও পরিপূর্ণ বিবরণী পেশ করেছেন। বিভিন্ন যুগে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের ক্ষেত্রে নবীগণের জীবন-চরিত বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি নবীগণের জাতিদের সাথে তাঁদের ঘটনাবলি বিস্তারিত বর্ণনা করেন। যেমন নূহ, হুদ, ছালেহ, ইবরাহীম, ইসমাঈল, মূসা, ঈসা, দাউদ, সুলাইমান, লুত, শু'আইব, ইউসুফ (আ.) প্রমুখের কাহিনী।
দা'ওয়াত হচ্ছে আমলের মূল। দা'ওয়াতের গুরুত্বের কারণে আল্লাহ তা'আলা নবীগণের ইবাদতের কথা বিস্তারিত বর্ণনা করেননি, না ইবরাহীম (আ.)-এর ছালাত, না আদম (আ.)-এর হাজ্জ, না দাউদ (আ.)-এর ছিয়াম। তবে, তিনি সংক্ষেপে এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।
আল্লাহ তা'আলা কোন একজন নবীর ইবাদতের কাহিনীও কুরআনে বিস্তারিত বর্ণনা করেননি। অথচ তিনি নবীগণের দা'ওয়াতী পদ্ধতি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, তিনি মানুষের নিকট আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দিতে তাঁদের জীবন-চরিত ও প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেছেন। এর কারণ হচ্ছে, এই মুসলিম উম্মতকে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের জন্য পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে নবী-রাসূলগণই তাদের আদর্শ, যাতে তারা ক্বিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবমণ্ডলীর নিকট আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে তাঁদের পথনির্দেশ অনুযায়ী চলতে পারে।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (2)} [الجمعة: 2]
'তিনিই নিরক্ষরদের মাঝে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে, যিনি তাদের কাছে তিলাওয়াত করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাত। যদিও ইতঃপূর্বে তারা স্পষ্ট গোমরাহীতে ছিল' (সূরা আল-জুমুআ': ২)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [فصلت: 33]
'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ (36)} [النحل: 36]
'আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এমর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং পরিহার কর ত্বাগূতকে। অতঃপর তাদের মধ্য হতে আল্লাহ কাউকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য হতে কারো উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ, মিথ্যাবাদীদের পরিণতি কীরূপ হয়েছে' (সূরা আন-নাহল: ৩৬)।
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের গুরুত্ব (أهمية الدعوة إلى الله):
শরীরে প্রাণের উপস্থিতি যেমন জরুরী, তেমনি মানব জাতির জন্য দ্বীন ইসলাম অত্যাবশ্যক। শরীর থেকে প্রাণ বের হলে তা যেমন অকেজো হয়, তেমনি মানব জাতি দ্বীন হারালে তাদের দুনিয়া ও আখেরাত সবই নষ্ট হয়। আর দেহের মাপ অনুযায়ী দুনিয়াতে ফাসাদ ও নোংরামি ছড়ায়। দ্বীন ব্যতীত মানুষ খালি কৌটার মত মূল্যহীন। মানুষ সঠিক দ্বীন থেকে বিচ্যুত হলে তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত ইচ্ছানুযায়ী জীবন যাপন করে, ফাসাদ সৃষ্টির ব্যাপারে হিংস্র জন্তুর মত হয়ে যায় এবং অনিষ্ট সাধন, অপকৌশল ও ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে শয়তানদের মত হয়ে যায়। মহান আল্লাহ এই মানুষের প্রতি সদয় হয়েছেন এবং তাকে অন্যদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। যেমনঃ তিনি তাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, তার মাঝে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, ফেরেশতামণ্ডলী দ্বারা তার সামনে সেজদা করিয়ে নিয়েছেন, জ্ঞানের উপকরণ শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও বিবেক দিয়ে তাকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং তাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন।
আল্লাহ মুসলিমদেরকে অমুসলিমদের দা'ওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করেছেন, যাতে দ্বীন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায় এবং সকল মানুষ তাদের একমাত্র প্রভুর ইবাদত করতে পারে- যার কোন শরীক নেই। আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের গুরুত্ব বিবেচনা করে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও পরিপূর্ণ বিবরণী পেশ করেছেন। বিভিন্ন যুগে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের ক্ষেত্রে নবীগণের জীবন-চরিত বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি নবীগণের জাতিদের সাথে তাঁদের ঘটনাবলি বিস্তারিত বর্ণনা করেন। যেমন নূহ, হুদ, ছালেহ, ইবরাহীম, ইসমাঈল, মূসা, ঈসা, দাউদ, সুলাইমান, লুত, শু'আইব, ইউসুফ (আ.) প্রমুখের কাহিনী।
দা'ওয়াত হচ্ছে আমলের মূল। দা'ওয়াতের গুরুত্বের কারণে আল্লাহ তা'আলা নবীগণের ইবাদতের কথা বিস্তারিত বর্ণনা করেননি, না ইবরাহীম (আ.)-এর ছালাত, না আদম (আ.)-এর হাজ্জ, না দাউদ (আ.)-এর ছিয়াম। তবে, তিনি সংক্ষেপে এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।
আল্লাহ তা'আলা কোন একজন নবীর ইবাদতের কাহিনীও কুরআনে বিস্তারিত বর্ণনা করেননি। অথচ তিনি নবীগণের দা'ওয়াতী পদ্ধতি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, তিনি মানুষের নিকট আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দিতে তাঁদের জীবন-চরিত ও প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেছেন। এর কারণ হচ্ছে, এই মুসলিম উম্মতকে আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের জন্য পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে নবী-রাসূলগণই তাদের আদর্শ, যাতে তারা ক্বিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবমণ্ডলীর নিকট আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে তাঁদের পথনির্দেশ অনুযায়ী চলতে পারে।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (2)} [الجمعة: 2]
'তিনিই নিরক্ষরদের মাঝে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে, যিনি তাদের কাছে তিলাওয়াত করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাত। যদিও ইতঃপূর্বে তারা স্পষ্ট গোমরাহীতে ছিল' (সূরা আল-জুমুআ': ২)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [فصلت: 33]
'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ (36)} [النحل: 36]
'আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এমর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং পরিহার কর ত্বাগূতকে। অতঃপর তাদের মধ্য হতে আল্লাহ কাউকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য হতে কারো উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ, মিথ্যাবাদীদের পরিণতি কীরূপ হয়েছে' (সূরা আন-নাহল: ৩৬)।
📄 খ। দা‘ওয়াতের অবস্থান
দা'ওয়াতের অবস্থান (মাক্বামাতুদ দাওয়াহ ইলাল্লাহ):
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দানের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়। আর তা হলো, এক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করা, যার কোন শরীক নেই। অতএব, দা'ওয়াত সকল আমলের মূল। এর মাধ্যমে ফরয, সুন্নাত ও শিষ্টাচার জীবন পায় এবং এর মাধ্যমে দুনিয়ার সর্বত্র দ্বীন পুরোপুরি জীবিত থাকে। সুতরাং আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দান গুরু দায়িত্ব এবং আল্লাহর ইবাদত করা সর্ববৃহৎ কর্ম।
রাজার দায়িত্বের মতই দা'ওয়াত দেয়া বড় দায়িত্বপূর্ণ কাজ। আর অন্যান্য কাজ রাজার নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবকদের কাজের মত। অনেক মানুষ সেবকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে, অথচ নবী-রাসূলগণের কাজ আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত প্রদান, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ এবং মুসলিমদেরকে নছীহত প্রদানকে ছেড়ে দিয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)} ]33 :فصلت[
'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।
দা'ওয়াতের অবস্থান (মাক্বামাতুদ দাওয়াহ ইলাল্লাহ):
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দানের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়। আর তা হলো, এক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করা, যার কোন শরীক নেই। অতএব, দা'ওয়াত সকল আমলের মূল। এর মাধ্যমে ফরয, সুন্নাত ও শিষ্টাচার জীবন পায় এবং এর মাধ্যমে দুনিয়ার সর্বত্র দ্বীন পুরোপুরি জীবিত থাকে। সুতরাং আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দান গুরু দায়িত্ব এবং আল্লাহর ইবাদত করা সর্ববৃহৎ কর্ম।
রাজার দায়িত্বের মতই দা'ওয়াত দেয়া বড় দায়িত্বপূর্ণ কাজ। আর অন্যান্য কাজ রাজার নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবকদের কাজের মত। অনেক মানুষ সেবকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে, অথচ নবী-রাসূলগণের কাজ আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত প্রদান, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ এবং মুসলিমদেরকে নছীহত প্রদানকে ছেড়ে দিয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33)} ]33 :فصلت[
'আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যিনি আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেন, সৎকর্ম করেন এবং বলেন যে, অবশ্যই 'আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত' (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩৩)।
📄 গ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত প্রদানের হুকুম
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত প্রদানের হুকুম (حكم الدعوة إلى الله):
প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর দা'ওয়াতী কাজ করা ওয়াজিব। প্রত্যেকে তার জ্ঞান ও সামর্থ অনুযায়ী দা'ওয়াত দিবে, যাতে দ্বীন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায় এবং আল্লাহর কালেমা সুউচ্চ হয়। সেজন্য, দা'ওয়াত দান উম্মতের সকলের উপর আবশ্যক। অনুরূপভাবে, তা জাতির সকলের জন্য প্রয়োজনও বটে। কারণ দা'ওয়াত দান হেদায়াত প্রাপ্তি, ঈমান বৃদ্ধি ও বেশি বেশি সৎ আমল করার বড় মাধ্যম।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108]
'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ } [النحل: 125]
'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْনَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (104)} ... [آل عمران: 104] .
'আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম' (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)।
৪। আবু বকর (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জের সময় বলেন: তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধনসম্পদ, তোমাদের সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন আজকের তোমাদের এ দিন, তোমাদের এ মাস, তোমাদের এ শহর মর্যাদা সম্পন্ন। এখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা (আমার এ বাণী) যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়। কেননা, উপস্থিত ব্যক্তি সম্ভবত এমন ব্যক্তির নিকট পৌঁছাবে, যে এ বাণীকে তার চেয়ে অধিক অনুধাবন করতে পারবে (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৭৯)।
৫। আব্দুল্লাহ ইবনু আম্র (রা.) হতে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, যদি তা এক আয়াতও হয়। আর বানী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা করতে পারো, এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছে করে আমার উপর মিথ্যারোপ করবে, সে জাহান্নামকেই তার ঠিকানা বানিয়ে নিবে (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৬১)।
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত প্রদানের হুকুম (حكم الدعوة إلى الله):
প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর দা'ওয়াতী কাজ করা ওয়াজিব। প্রত্যেকে তার জ্ঞান ও সামর্থ অনুযায়ী দা'ওয়াত দিবে, যাতে দ্বীন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায় এবং আল্লাহর কালেমা সুউচ্চ হয়। সেজন্য, দা'ওয়াত দান উম্মতের সকলের উপর আবশ্যক। অনুরূপভাবে, তা জাতির সকলের জন্য প্রয়োজনও বটে। কারণ দা'ওয়াত দান হেদায়াত প্রাপ্তি, ঈমান বৃদ্ধি ও বেশি বেশি সৎ আমল করার বড় মাধ্যম।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108]
'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ } [النحل: 125]
'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْনَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (104)} ... [آل عمران: 104] .
'আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম' (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)।
৪। আবু বকর (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জের সময় বলেন: তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধনসম্পদ, তোমাদের সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন আজকের তোমাদের এ দিন, তোমাদের এ মাস, তোমাদের এ শহর মর্যাদা সম্পন্ন। এখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা (আমার এ বাণী) যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়। কেননা, উপস্থিত ব্যক্তি সম্ভবত এমন ব্যক্তির নিকট পৌঁছাবে, যে এ বাণীকে তার চেয়ে অধিক অনুধাবন করতে পারবে (ছহীহ বুখারী, হা/৬৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৭৯)।
৫। আব্দুল্লাহ ইবনু আম্র (রা.) হতে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, যদি তা এক আয়াতও হয়। আর বানী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা করতে পারো, এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছে করে আমার উপর মিথ্যারোপ করবে, সে জাহান্নামকেই তার ঠিকানা বানিয়ে নিবে (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৬১)।
📄 ঘ। আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত দানের আবশ্যকতা অনস্বীকার্য
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দানের আবশ্যকতা অনস্বীকার্য ( تقرير وجوب ) الدعوة إلى الله
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِিলِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108]
'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)। আল্লাহ তা'আলার এ বাণী ব্যাপক অর্থবোধক যা স্থান-কাল পাত্রভেদে সবসময় প্রযোজ্য এবং আরব-অনারব, নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, জাতি-বর্ণ, মালিক-ভৃত্য এবং ধনী-গরিব সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {هَذَا بَلَاغُ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ ( 52)} [إبراهيم: 52]
'ইহা মানুষের জন্য পয়গাম। আর যা দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা জানতে পারে যে, তিনি কেবল এক ইলাহ, আর যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা ইব্রাহীম: ৫২)। অতএব, সকল মানুষের জন্য দা'ওয়াত দান ওয়াজিব। কেননা, দ্বীন ইসলাম সকল মানুষের জন্য। তাই মুসলিম হওয়ার পর মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মত ও অনুসারী গণ্য হওয়ায় তাদের দা'ওয়াতী কাজ করা আবশ্যক।
৩। প্রত্যেকের উপর দায়িত্ব হলো তার যোগ্যতা অনুযায়ী দ্বীন প্রচার করা। আর দা'ওয়াত দানের সর্বনিম্ন যোগ্যতা হলো একটি আয়াত অথবা একটি সুন্নাহ বা হাদীছ জানা। এরূপ যে জানবে, তার উপর আবশ্যক হলো তা পৌঁছে দেয়া।
৪। মুসলিম দু'প্রকার:
(ক) আলেম, যিনি নিজ উদ্যোগে হক্ব-দ্বীন প্রচার করেন এবং মানুষকে তার অনুসরণ করার জন্য আহ্বান করেন। যেমনটি মুমিন ফির'আউনের দলবলের মুমিন ব্যক্তি বলেছিলেন: {وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ الرَّشَادِ ( 38) يَا قَوْمِ إِنَّمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ (39)} [غافر: 38 - 39] 'আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল, সে বলল, 'হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমার আনুগত্য কর; আমি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখাব। (৩৮) 'হে আমার সম্প্রদায়! এ দুনিয়ার জীবন কেবল ক্ষণকালের ভোগ; আর নিশ্চয় আখেরাতই হল স্থায়ী আবাস' (সূরা গফির: ৩৮-৩৯)।
(খ) মুসলিম কিন্তু আলেম নন: তিনি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আলেমগণের অনুসরণ করার জন্য আহ্বান করবেন। যেমন- মহান আল্লাহ তা'আলা সূরা ইয়াসীনে জনৈক দাঈ সম্পর্কে বলেন: {وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ ( 20) اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ (21)} [يس: 20 - 21] . 'আর শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসূলগণের অনুসরণ কর। (২০) তোমরা তাদের অনুসরণ কর, যারা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চায় না আর তারা সৎপথপ্রাপ্ত' (সূরা ইয়াসীন: ২০-২১)।
সুতরাং প্রত্যেকের উচিত, দা'ওয়াতী কাজ করা। আলেমগণ হক্বের দিকে দা'ওয়াত দিবেন। আর যারা আলেম নন, তারা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সেসব আলেমের অনুসরণের দিকে আহ্বান করবেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত।
৫। যোগ্যতা অনুযায়ী আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া প্রত্যেকের উপর ফরয। কেননা, তা আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ। ঠিক যেমন ছালাত আদায় করা প্রত্যেকের উপর ফরয। কেননা, সেটিও আল্লাহর নির্দেশ। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে ইবাদত ও দা'ওয়াত উভয়ই মুসলিম জাতির সকলের উপর ফরয ছিল। অতঃপর আল্লাহর ইবাদত সকল মুসলিমের উপর ফরয গণ্য করা হলেও শুধুমাত্র কতিপয় মুসলিমের উপর দা'ওয়াতী কাজ করা ফরয বলে গণ্য করা হয়। ফলে, খোদ ইবাদতই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানুষ দ্বীন থেকে বের হতে শুরু করে। আর এই উম্মতের শেষের দিকের মানুষকে ঠিক করতে পারে শুধুমাত্র সেই বিষয়, যা দ্বারা উম্মতের প্রথম দিকের মানুষ ঠিক হয়েছিল। সুতরাং ইবাদত ও দা'ওয়াতী কাজ উভয়ই এ উম্মতের প্রত্যেকের উপর ফরযে আইন।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ار্কَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (77)} [الحج: 77] 'হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ' কর, সিজদা কর, তোমাদের রবের ইবাদত কর এবং ভাল কাজ কর, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে' (সূরা আল-হাজ্জ: ৭৭)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} [النحل: 125] 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াত প্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
৬। উম্মতের প্রত্যেকের উপর কর্তব্য আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া এবং তা প্রত্যেকের পালন করা প্রয়োজন। দা'ওয়াত দানের মাধ্যমে হেদায়াত লাভ হয়, ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং মুমিনদের সংখ্যা বেড়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ } [العنكبوت: 69] 'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন' (সূরা আল-আনকাবূত: ৬৯)।
৭। দা'ওয়াতী কাজ করা, ইবাদত করা, চরিত্রবান হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা সকল মুসলিমকে সর্বাবস্থায় রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} ... [الأحزاب: 21] 'অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহর অনেক যিক্র করে' (সূরা আল-আহযাব: ২১)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ (158)} [الأعراف: 158]. 'বল, 'হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার নিকট আল্লাহর রাসূল, যার রয়েছে আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ও তাঁর প্রেরিত নিরক্ষর নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণী সমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হেদায়াত লাভ করবে' (সূরা আল-আ'রাফ: ১৫৮)।
৮। বিভিন্ন জাতির মধ্যে থেকে আল্লাহ তা'আলা এ উম্মতকে বাছাই করেছেন এবং তাদেরকে নবীগণের মুকুট পরিয়েছেন। আর তা হলো, আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া, সৎকাজের আদেশ দান ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْনَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَানَ خَيْرًا لَهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ ( 110)} ]110 :آل عمران[ 'তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তবে অবশ্যই তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত। তাদের কতক ঈমানদার। আর তাদের অধিকাংশই ফাসিক' (সূরা আলে ইমরান: ১১০)।
৯। ঈমান ও বিধি-বিধান নাযিল হওয়ার মধ্যে সময়ের দূরত্ব আছে। কিন্তু ঈমান ও দা'ওয়াতী কাজের মাঝে কোন সময়ের দূরত্ব নেই। কেন না, নবীগণের মতই দা'ওয়াতী কাজের জন্য এ জাতি প্রেরিত হয়েছে। প্রথম সারির ছাহাবীগণ শুরু থেকেই দা'ওয়াতী কাজে অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যেক নবীই তার উম্মতকে প্রথমে ঈমান শিক্ষা দিতেন, অতঃপর বিধি-বিধান শিখাতেন। আর মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আল্লাহ তা'আলা তার উম্মতকে প্রথমে ঈমান শিক্ষা দেয়ার, তারপর দা'ওয়াতী কাজ করার, তারপর বিধি-বিধান শিক্ষা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যা মদীনায় অবতীর্ণ হয়। কেন না, নবীগণের আদর্শের উপর এ মুসলিম জাতি প্রেরিত হয়েছে।
১০। আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীর সর্বত্র হক্ব প্রচারের জন্য আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। যেমন আলোকিত করার জন্য সূর্য, বৃষ্টি বর্ষণের জন্য মেঘমালা এবং উদ্ভিদ উৎপন্ন করার জন্য যমীনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এ তিনটিই তাদের আমানত যথারীতি রক্ষা করে চলেছে। সেজন্যই, সৃষ্টির দুনিয়াবী যিন্দেগী ঠিকমত চলছে। আমরাও যদি মানবতার নিকট আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের আমানত পৌঁছে দেই, তাহলে তাদের ইহকাল ও পরকাল সুন্দর হবে। আলো, পানি ও উদ্ভিদ যেমন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য, তেমনি হক্ব, কুরআন ও ইসলামও সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য। মহান আল্লাহ বলেন: {هَذَا بَلَاغُ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذারُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَةٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّরَ أُولُو الْأَلْبَابِ (52)} [إبراهيم: 52] 'ইহা মানুষের জন্য পয়গাম। আর যা দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা জানতে পারে যে, তিনি কেবল এক ইলাহ, আর যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে' (সূরা ইব্রাহীম: ৫২)।
আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দানের আবশ্যকতা অনস্বীকার্য ( تقرير وجوب ) الدعوة إلى الله
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ هَذِهِ سَبِিলِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108]
'বলুন, ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই' (সূরা ইউসুফ: ১০৮)। আল্লাহ তা'আলার এ বাণী ব্যাপক অর্থবোধক যা স্থান-কাল পাত্রভেদে সবসময় প্রযোজ্য এবং আরব-অনারব, নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, জাতি-বর্ণ, মালিক-ভৃত্য এবং ধনী-গরিব সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {هَذَا بَلَاغُ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ ( 52)} [إبراهيم: 52]
'ইহা মানুষের জন্য পয়গাম। আর যা দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা জানতে পারে যে, তিনি কেবল এক ইলাহ, আর যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা ইব্রাহীম: ৫২)। অতএব, সকল মানুষের জন্য দা'ওয়াত দান ওয়াজিব। কেননা, দ্বীন ইসলাম সকল মানুষের জন্য। তাই মুসলিম হওয়ার পর মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মত ও অনুসারী গণ্য হওয়ায় তাদের দা'ওয়াতী কাজ করা আবশ্যক।
৩। প্রত্যেকের উপর দায়িত্ব হলো তার যোগ্যতা অনুযায়ী দ্বীন প্রচার করা। আর দা'ওয়াত দানের সর্বনিম্ন যোগ্যতা হলো একটি আয়াত অথবা একটি সুন্নাহ বা হাদীছ জানা। এরূপ যে জানবে, তার উপর আবশ্যক হলো তা পৌঁছে দেয়া।
৪। মুসলিম দু'প্রকার:
(ক) আলেম, যিনি নিজ উদ্যোগে হক্ব-দ্বীন প্রচার করেন এবং মানুষকে তার অনুসরণ করার জন্য আহ্বান করেন। যেমনটি মুমিন ফির'আউনের দলবলের মুমিন ব্যক্তি বলেছিলেন: {وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ الرَّشَادِ ( 38) يَا قَوْمِ إِنَّمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ (39)} [غافر: 38 - 39] 'আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল, সে বলল, 'হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমার আনুগত্য কর; আমি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখাব। (৩৮) 'হে আমার সম্প্রদায়! এ দুনিয়ার জীবন কেবল ক্ষণকালের ভোগ; আর নিশ্চয় আখেরাতই হল স্থায়ী আবাস' (সূরা গফির: ৩৮-৩৯)।
(খ) মুসলিম কিন্তু আলেম নন: তিনি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আলেমগণের অনুসরণ করার জন্য আহ্বান করবেন। যেমন- মহান আল্লাহ তা'আলা সূরা ইয়াসীনে জনৈক দাঈ সম্পর্কে বলেন: {وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ ( 20) اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ (21)} [يس: 20 - 21] . 'আর শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসূলগণের অনুসরণ কর। (২০) তোমরা তাদের অনুসরণ কর, যারা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চায় না আর তারা সৎপথপ্রাপ্ত' (সূরা ইয়াসীন: ২০-২১)।
সুতরাং প্রত্যেকের উচিত, দা'ওয়াতী কাজ করা। আলেমগণ হক্বের দিকে দা'ওয়াত দিবেন। আর যারা আলেম নন, তারা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সেসব আলেমের অনুসরণের দিকে আহ্বান করবেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত।
৫। যোগ্যতা অনুযায়ী আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া প্রত্যেকের উপর ফরয। কেননা, তা আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ। ঠিক যেমন ছালাত আদায় করা প্রত্যেকের উপর ফরয। কেননা, সেটিও আল্লাহর নির্দেশ। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে ইবাদত ও দা'ওয়াত উভয়ই মুসলিম জাতির সকলের উপর ফরয ছিল। অতঃপর আল্লাহর ইবাদত সকল মুসলিমের উপর ফরয গণ্য করা হলেও শুধুমাত্র কতিপয় মুসলিমের উপর দা'ওয়াতী কাজ করা ফরয বলে গণ্য করা হয়। ফলে, খোদ ইবাদতই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানুষ দ্বীন থেকে বের হতে শুরু করে। আর এই উম্মতের শেষের দিকের মানুষকে ঠিক করতে পারে শুধুমাত্র সেই বিষয়, যা দ্বারা উম্মতের প্রথম দিকের মানুষ ঠিক হয়েছিল। সুতরাং ইবাদত ও দা'ওয়াতী কাজ উভয়ই এ উম্মতের প্রত্যেকের উপর ফরযে আইন।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ار্কَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (77)} [الحج: 77] 'হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ' কর, সিজদা কর, তোমাদের রবের ইবাদত কর এবং ভাল কাজ কর, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে' (সূরা আল-হাজ্জ: ৭৭)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ (125)} [النحل: 125] 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর এবং সুন্দরতর পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রব-ই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হেদায়াত প্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন' (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
৬। উম্মতের প্রত্যেকের উপর কর্তব্য আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া এবং তা প্রত্যেকের পালন করা প্রয়োজন। দা'ওয়াত দানের মাধ্যমে হেদায়াত লাভ হয়, ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং মুমিনদের সংখ্যা বেড়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ } [العنكبوت: 69] 'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন' (সূরা আল-আনকাবূত: ৬৯)।
৭। দা'ওয়াতী কাজ করা, ইবাদত করা, চরিত্রবান হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা সকল মুসলিমকে সর্বাবস্থায় রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} ... [الأحزاب: 21] 'অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহর অনেক যিক্র করে' (সূরা আল-আহযাব: ২১)।
(২) আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ (158)} [الأعراف: 158]. 'বল, 'হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার নিকট আল্লাহর রাসূল, যার রয়েছে আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ও তাঁর প্রেরিত নিরক্ষর নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণী সমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হেদায়াত লাভ করবে' (সূরা আল-আ'রাফ: ১৫৮)।
৮। বিভিন্ন জাতির মধ্যে থেকে আল্লাহ তা'আলা এ উম্মতকে বাছাই করেছেন এবং তাদেরকে নবীগণের মুকুট পরিয়েছেন। আর তা হলো, আল্লাহর দিকে দা'ওয়াত দেয়া, সৎকাজের আদেশ দান ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْনَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَানَ خَيْرًا لَهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ ( 110)} ]110 :آل عمران[ 'তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তবে অবশ্যই তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত। তাদের কতক ঈমানদার। আর তাদের অধিকাংশই ফাসিক' (সূরা আলে ইমরান: ১১০)।
৯। ঈমান ও বিধি-বিধান নাযিল হওয়ার মধ্যে সময়ের দূরত্ব আছে। কিন্তু ঈমান ও দা'ওয়াতী কাজের মাঝে কোন সময়ের দূরত্ব নেই। কেন না, নবীগণের মতই দা'ওয়াতী কাজের জন্য এ জাতি প্রেরিত হয়েছে। প্রথম সারির ছাহাবীগণ শুরু থেকেই দা'ওয়াতী কাজে অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যেক নবীই তার উম্মতকে প্রথমে ঈমান শিক্ষা দিতেন, অতঃপর বিধি-বিধান শিখাতেন। আর মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আল্লাহ তা'আলা তার উম্মতকে প্রথমে ঈমান শিক্ষা দেয়ার, তারপর দা'ওয়াতী কাজ করার, তারপর বিধি-বিধান শিক্ষা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যা মদীনায় অবতীর্ণ হয়। কেন না, নবীগণের আদর্শের উপর এ মুসলিম জাতি প্রেরিত হয়েছে।
১০। আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীর সর্বত্র হক্ব প্রচারের জন্য আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। যেমন আলোকিত করার জন্য সূর্য, বৃষ্টি বর্ষণের জন্য মেঘমালা এবং উদ্ভিদ উৎপন্ন করার জন্য যমীনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এ তিনটিই তাদের আমানত যথারীতি রক্ষা করে চলেছে। সেজন্যই, সৃষ্টির দুনিয়াবী যিন্দেগী ঠিকমত চলছে। আমরাও যদি মানবতার নিকট আল্লাহর দিকে দা'ওয়াতের আমানত পৌঁছে দেই, তাহলে তাদের ইহকাল ও পরকাল সুন্দর হবে। আলো, পানি ও উদ্ভিদ যেমন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য, তেমনি হক্ব, কুরআন ও ইসলামও সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য। মহান আল্লাহ বলেন: {هَذَا بَلَاغُ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذারُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَةٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّরَ أُولُو الْأَلْبَابِ (52)} [إبراهيم: 52] 'ইহা মানুষের জন্য পয়গাম। আর যা দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা জানতে পারে যে, তিনি কেবল এক ইলাহ, আর যাতে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে' (সূরা ইব্রাহীম: ৫২)।