📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 গ। অন্তরে নেয়ামতের পূর্ণতা

📄 গ। অন্তরে নেয়ামতের পূর্ণতা


অন্তরে নেয়ামতের পূর্ণতা (کمال نعیم القلب): আল্লাহ তা'আলা মানুষকে উত্তম আকৃতিেত সৃষ্টি করেছেন, অন্যান্য বহু সৃষ্টির উপর তাকে সম্মান দান করেছেন আর তাঁর প্রত্যেকটি অঙ্গের এমন পূর্ণতা দিয়েছেন, যা তাকে আনন্দিত ও ভাগ্যবান করে। তিনি চোখের পূর্ণতা দিয়েছেন দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে, কানের পূর্ণতা দিয়েছেন শ্রবণশক্তির মাধ্যমে এবং জিহ্বার পূর্ণতা দিয়েছেন বাকশক্তির মাধ্যমে। এভাবে অন্যান্য অঙ্গেরও পূর্ণতা দিয়েছেন। এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পূর্ণতা হারালে সেগুলি বেদনা, ত্রুটি ও দুশ্চিন্তা অনুভব করবে।

এভাবে, আল্লাহ তা'আলা মানুষের অন্তরের পূর্ণতা, নেয়ামত, আনন্দ, স্বাদ এবং প্রশান্তি দান করেছেন তাঁর রবকে জানা, তাঁকে ভালবাসা, তাঁর ইবাদত করা, তাঁর সাথে বন্ধুত্ব, তারই উপর ভরসা, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা, তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টিমূলক আমলের মধ্যে। আর যখন অন্তরে এগুলো থাকবে না, তখন চোখের আলো ও কানের শ্রবণশক্তি না থাকলে যেমন কষ্ট ও বিপদের সম্মুখীন হয়, তার চেয়েও অধিক শাস্তি ও বিপদের সম্মুখীন হবে। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালক ও তাঁর উপর যা ওয়াজিব, সে ব্যাপারে অজ্ঞ, সে স্থায়ী শাস্তি ভোগ করবে। কেননা তার যা চাওয়া ও ভালবাসা উচিত ছিল, তা করা থেকে সে বঞ্চিত ছিল। সে কারণে, চোখ যেমন সূর্য দেখে, তেমনি কলুষমুক্ত অন্তর সত্যকে দেখে, আর এ অন্তর ঈমান এবং সৎ আমলের মাধ্যমে ঠিক তেমন স্বাদ আস্বাদন করে, যেমন শরীর খাদ্য-পানীয় দ্বারা তৃপ্তি অনুভব করে।

আল্লাহ তা'আলা মানুষ সৃষ্টি করেছেন যেন সে গোলাম হতে পারে। আর এক্ষেত্রে তার স্বাধীনতা রয়েছে, সে হয় আল্লাহর গোলাম হবে, না হয় শয়তানের গোলাম হবে। আল্লাহ তা'আলা ঈমান, আনুগত্য এবং কল্যাণের নির্দেশ দেন। অপরপক্ষে শয়তান কুফর, পাপ এবং অকল্যাণের নির্দেশ দেয়। যে তার নিজেকে ঈমান ও আনুগত্যের মধ্যে পাবে, সে আল্লাহর হিসাবে গোলাম। আর যে নিজেকে কুফর ও পাপের মধ্যে পাবে, সে শয়তানের গোলাম।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ (28)} [الرعد: .28
'যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়' (সূরা আর-রা'দ: ২৮)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (257)} [البقرة:257]
'যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের বন্ধু, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরী করে, তাদের অভিভাবক হল ত্বাগূত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে' (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৫৭)।

৩। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
{إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ} ... [6 :فاطر]
'নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব, তোমরা তাকে শত্রু হিসাবে গণ্য কর। সে তার দলকে কেবল এজন্যই ডাকে যাতে তারা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়' (সূরা ফাতির: ৬)।

📘 নবী রসূলগনের দাওয়াতী মূলনীতি 📄 ঘ। ইবাদত ও দাসত্বের মর্মার্থ

📄 ঘ। ইবাদত ও দাসত্বের মর্মার্থ


ইবাদত ও দাসত্বের মর্মার্থ (فقه العبادة والعبودية): ইবাদত যেন শরীর, আর দাসত্ব যেন আত্মা। ইবাদতের শুরু ও শেষ আছে। যেমন-ছালাত, ছিয়াম, হাজ্জ ইত্যাদি ইবাদত। কিন্তু দাসত্ব হলো আত্মিক আমল, যা বান্দা থেকে কখনই পৃথক হয় না। সব সময় অনুভব করবে যে, তুমি আল্লাহর একজন বান্দা। ইবাদতের আত্মা হচ্ছে দাসত্ব। আর দাসত্ব হচ্ছে, সদা সর্বদা আল্লাহ তা'আলার মুখাপেক্ষী হওয়া। আর কুফরীর আত্মা হচ্ছে, সীমালঙ্ঘন ও আল্লাহর তোয়াক্কা না করা।

আল্লাহ তা'আলা আমাদের নিকট থেকে দাসত্বের পূর্ণতা চান দুইভাবেঃ (ক) পূর্ণাঙ্গ দাসত্ব ও (খ) শরী'আত সম্মত ইবাদত। চারটি বিষয়ের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যে আগ্রহ তৈরি হয়ঃ (ক) আল্লাহ তা'আলার প্রতি এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলীর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা, (খ) আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতি দৃঢ়বিশ্বাস রাখা, (গ) আল্লাহর শান্তির অঙ্গীকারের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা ও (ঘ) আল্লাহর শাস্তির অঙ্গীকারের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস করা। যখন এসব বিষয়ে অথবা এসবের আংশিক কোন বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তখন মানুষ আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখ হয়, অবাধ্যতায় লিপ্ত হয় আর শয়তানের আনুগত্য করতে থাকে।

১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: { ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ } [الأنعام: [102
'তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। তিনি ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই। তিনি প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদত কর। আর তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর তত্ত্বাবধায়ক' (সূরা আল-আন'আম: ১০২)।

২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف: 110]
'সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে' (সূরা আল-কাহাফ: ১১০)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px