📄 খ। শারঈ রীতি
শারঈ রীতি (السُنن الشرعية):
আল্লাহ তা'আলা মানব জাতিকে নিজ হাতে সৃষ্টি করে সকল সৃষ্টির উপর তাকে সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন, তাকে বহু সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। মানব জাতি সুনির্দিষ্ট নিয়ম পদ্ধতির মুখাপেক্ষী, ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ লাভের জন্য সকল অবস্থায় যার উপর তারা পরিচালিত হবে। আর এ নিয়মনীতিই হলো দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তাকে সম্মানিত করেছেন, এটাকে তার দ্বীন হিসাবে পছন্দ করেছেন এবং এটা ছাড়া অন্য কিছুকে (অন্য কোন দ্বীনকে) তিনি তার পক্ষ থেকে গ্রহণ করবেন না। এ দ্বীনকে আঁকড়ে ধরা অথবা এ থেকে বিমুখ হওয়ার মাপকাঠি অনুযায়ী আল্লাহ তা'আলা মানুষের কল্যাণ ও অকল্যাণ নির্ধারণ করেন এবং এ দ্বীন গ্রহণ করা বা প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে তাকে স্বাধীনতা দিয়ে থাকেন।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3]
'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম আর ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে পছন্দ করলাম' (সূরা আল-মায়েদা: ৩)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ ... } [الكهف: 29]
'আর বল, হক্ব তোমাদের রবের পক্ষ থেকে। সুতরাং যে ইচ্ছা করে, সে ঈমান আনুক এবং যে ইচ্ছা করে, সে কুফরী করুক' (সূরা আল-কাহফ: ২৯)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (38) وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (39)} [البقرة: 38 - 39]
'আর আমরা বললাম, তোমরা সবাই তা থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোন হেদায়াত আসবে, তখন যারা আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না (৩৮) আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে (সূরা আল-বাক্বারা: ৩৭-৩৯)।
📄 গ। মানব জাতির প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ
(فضل الله على البشرية): মানব জাতির প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ
আল্লাহ তা'আলা মানব জাতিকে সৃষ্টি করে আসমান-যমীনে অবস্থিত সবকিছু তাদের জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন এবং তাঁর জন্য নেয়ামতরাজি বরাদ্দ করেছেন। তাদের উপর নাযিল করেছেন কিতাবসমূহ এবং তাদের নিকট প্রেরণ করেছেন নবী-রাসূলগণকে। আর তারা যাতে স্বেচ্ছায় এক আল্লাহর ইবাদত করে ধন্য হতে পারে সেজন্য তাদেরকে জ্ঞান-বুদ্ধির নানা উপকরণ দান করেছেন। যেমন: শ্রবণ শক্তি, দর্শন শক্তি এবং বিবেক-বুদ্ধি।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً ۖ وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُنِيرٍ ﴿٢٠﴾ [ لقمان: 20 ]
'তোমরা কি দেখ না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে। আর তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামত ব্যাপক করে দিয়েছেন; মানুষের মধ্যে কেউ কেউ জ্ঞান, হেদায়াত ও আলো দানকারী কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করে' (সূরা লুকমান: ২০)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ ۙ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿৭৮﴾ .. [النحل: 78]
'আর আল্লাহ তোমাদেরকে বের করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ হতে এমতাবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিসমূহ এবং অন্তরসমূহ। যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় কর' (সূরা আন-নাহল: ৭৮)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ۖ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ ۚ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ﴾ [ النحل: 36 ]
'আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং পরিহার কর ত্বাগুতকে। অতঃপর তাদের মধ্য হতে আল্লাহ কাউকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য হতে কারো উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ, অস্বীকারকারীদের পরিণতি কীরূপ হয়েছে' (সূরা আন-নাহল: ৩৬)।
📄 ঘ। সর্বাপেক্ষা বড় নিয়ামত
সর্বাপেক্ষা বড় নেয়ামত (أعظم النعم): আল্লাহ তা'আলা অসংখ্য নেয়ামতের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। এ নেয়ামত সমূহের মূলতঃ তিনটি ধরণ রয়েছে: (ক) সৃষ্টি সম্পর্কিত নেয়ামত (খ) সাহায্য সম্পর্কিত নেয়ামত (গ) হেদায়াত সম্পর্কিত নেয়ামত।
আর এসব নেয়ামতের মধ্যে ইসলাম সর্বাপেক্ষা বড়, যা দিয়ে যুগে যুগে আল্লাহ তা'আলা রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং প্রেরিত রাসূলগণের সর্দার (মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সকল মানুষের নিকট পাঠিয়ে তিনি নবুঅতের ইতি টেনেছেন।
প্রত্যেক নবী-রাসূলকে আল্লাহ তা'আলা তিনটি বিষয় বর্ণনার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছেন: (১) মানুষের নিকট তাদের প্রতিপালক, সৃষ্টিকর্তা এবং রিযিকদাতার পরিচয় দান করা, যাতে তারা তাঁর ইবাদত, সম্মান ও শুকরিয়া আদায় করতে পারে। (২) মানুষকে তাঁর প্রতিপালকের নিকট পৌঁছার রাস্তা সম্বন্ধে পরিচয় করানো, আর তা হলো দ্বীন ইসলাম। (৩) মুমিন কাফের আল্লাহর নিকট গমনের পর মানুষের জন্য কী থাকবে, সে সম্বন্ধে তাদেরকে জানানো। আর তা হচ্ছে, মুমিনদের জন্য জান্নাত এবং কাফেরদের জন্য জাহান্নাম।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَظَلُومٌ كَفَّارٌ } ... [إبراهيم: 34]
‘যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে তার সংখ্যা নিরূপণ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অধিক অত্যাচারী এবং অকৃতজ্ঞ’ (সূরা ইবরাহীম: ৩৪)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
{النحل: 53} وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَإِلَيْهِ تَجْأَرُونَ
‘আর তোমাদের নিকট যে সব নেয়ামত আছে, সেসব আল্লাহর পক্ষ হতে। অতঃপর দুঃখ-দুর্দশা যখন তোমাদেরকে স্পর্শ করে, তখন তোমরা শুধু তাঁর নিকটই ফরিয়াদ কর’ (সূরা আন-নাহল: ৫৩)।
📄 ঙ। দ্বীন ইসলামের পরিপূর্ণতা
দ্বীন ইসলামের পরিপূর্ণতা (ইসলাম): (كمال دين الإسلام)
ইসলাম এমন একটি দ্বীন, যা দিয়ে আল্লাহ তা'আলা রাসূলগণকে তাঁর সৃষ্টির কাছে প্রেরণ করেছেন। আর মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আল্লাহ তা'আলা যে দ্বীনসহ সকল মানুষের কাছে প্রেরণ করেছেন, তা হচ্ছে ইসলাম, যা পরিপূর্ণ, জীবনের সকল দিক ও বিভাগ যার অন্তর্ভুক্ত, যা ব্যাপক, স্থায়ী এবং নির্ভেজাল। এ দ্বীন পূর্ণাঙ্গ, কেননা তা মান-সম্মান ও সৌন্দর্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর এর বিধি-বিধান ন্যায়সঙ্গত ও পূর্ণরূপে একত্রিত করা হয়েছে। জীবনের সকল দিক ও বিভাগ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, কেননা তা দুনিয়া ও আখেরাতে মানুষের সৌভাগ্য বয়ে আনে। এ দ্বীন ব্যাপক, কেননা তা সমগ্র জগতের এবং সমস্ত মানুষের জন্য রহমত। তা স্থায়ী, কেননা তা ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। তা নির্ভেজাল, কেননা আল্লাহ তা'আলা নিজে তা সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অতএব, এ দ্বীন পরিবর্তন-পরিবর্ধন ও হ্রাস-বৃদ্ধি হতে নিরাপদ।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
ٱلْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلْإِسْلَٰمَ دِينًا ۚ } [المائدة: 3]
'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসাবে পছন্দ করলাম' (সূরা আল-মায়েদা: ৩)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
إِنَّ ٱلَّذِينَ قَالُوا۟ رَبُّنَا ٱللَّهُ ثُمَّ ٱسْتَقَٰমُوا۟ تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا۟ وَلَا تَحْزَنُوا۟ وَأَبْشِرُوا۟ بِٱلْجَنَّةِ ٱلَّتِى كُنتُمْ تُوعَدُونَ (30) نَحْنُ أَوْلِيَآؤُكُمْ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَفِى ٱلْآخِرَةِ ۖ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِىٓ أَنفُসُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ (31) نُزُلًا مِّنْ غَفُورٍ رَّحِيمٍ (32)} 32- 30 :فصلত...
নিশ্চয় যারা বলে, 'আল্লাহই আমাদের রব' অতঃপর অবিচল থাকে, ফেরেশতামণ্ডলী তাদের কাছে অবতীর্ণ হন এবং বলেন, 'তোমরা ভয় পেয়ো না, দুশ্চিন্তা করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর, যার ওয়াদাপ্রাপ্ত তোমরা হয়েছিলে (৩০) আমরা দুনিয়ার জীবনে তোমাদের বন্ধু এবং আখেরাতেও। সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা কিছু তোমাদের মন চাইবে এবং সেখানে তোমাদের জন্য আরও থাকবে যা তোমরা দাবী করবে (৩১) পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে আপ্যায়নস্বরূপ (৩২) (সূরা হা-মীম সাজদা: ৩০-৩২)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَلَقَدْ مَنَّ ٱللَّهُ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنফُسِهِمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ آيَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا۟ مِن قَبْلُ لَفِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ (164)} ... [آল ইমরান: 164]
'অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের উপর অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের প্রতি একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন আর তাদেরকে কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেন। যদিও তারা ইতঃপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে ছিল' (সূরা আলে ইমরান: ১৬৪)।
৪। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ (28)} [سبأ: 28] 'আর আমি তো কেবল তোমাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী হিসাবে প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না' (সূরা সাবা: ২৮)।
৫। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ (107)} ... [الأنبياء: 107] 'আর আমি তো কেবল তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসাবেই প্রেরণ করেছি' (সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)।
৬। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (9)} [الحجر: 9]. 'নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি, আর আমিই তার হিফাযতকারী' (সূরা আল-হিজর: ৯)।