📄 ক। সৃষ্টিজগতের চিরন্তন রীতি
সৃষ্টিজগতের চিরন্তন রীতি (السنন الكونية): আল্লাহ তা'আলা তার ক্ষমতাবলে জগৎসমূহ সৃষ্টি করেছেন। তিনি তার রীতি অনুযায়ী তা পরিচালনাও করেন, আর তার এ রীতি দ্বারা তাঁর ক্ষমতাকে গোপন করেন। মহাপবিত্র আল্লাহ তা'আলা এ মহাজগৎ সৃষ্টি করে তাতে প্রতিটি সৃষ্টির জন্য নিয়ম পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন, যার উপর সৃষ্টি জগৎ পরিচালিত হয়। আর এর মাধ্যমে শ্রবণ, আনুগত্য, উপকারিতা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়। অতঃপর চন্দ্র, সূর্য, দিন, রাত্রি, উদ্ভিদ, প্রাণি জগৎ, বাতাস, পানি, সমুদ্র, পাহাড়-পর্বত, তারকারাজি, মেঘমালা এরূপ প্রতিটি সৃষ্টির জন্যই সুনির্দিষ্ট নিয়ম-পদ্ধতি রয়েছে, যার উপর এগুলো পরিচালিত হয় এবং আল্লাহর ইবাদত করে। একমাত্র আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ ছাড়া এগুলো পরিবর্তন হয় না।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الْأزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنْفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ (36) وَآيَةٌ لَهُمُ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَإِذَا هُمْ مُظْلِمُونَ (37) وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ (38) وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ (39) لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ (40)﴾ [يس: 36 - 40]
'পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি সৃষ্টি করেছেন সকল জোড়া জোড়া, যমীন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদ এবং তাদের (মানুষের) নিজেদের মধ্য থেকেও (পুরুষ ও নারী) আর সে সব কিছু থেকেও যা তারা জানে না (৩৬) আর রাত তাদের জন্য একটি নিদর্শন; আমরা তা থেকে দিনকে সরিয়ে নেই। ফলে তখনই তারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায় (৩৭) আর সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট পথে, এটা মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ (আল্লাহ)-র নির্ধারণ (৩৮) আর চাঁদের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি মানযিলসমূহ, অবশেষে সেটি খেজুরের শুষ্ক পুরাতন শাখার মত হয়ে যায় (৩৯) সূর্যের জন্য সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া, আর রাতের জন্য সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা, আর প্রত্যেকেই কক্ষ পথে সন্তরণ করে' (৪০) (সূরা ইয়াসীন ৩৬: ৩৬-৪০)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَأَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ وَمَنْ يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ مُكْرِمٍ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ (18)﴾ .. [الحج: 18]
'তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করে যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে এবং যা কিছু রয়েছে যমীনে, সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি, পর্বতমালা, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু ও মানুষের মধ্যে অনেকে। আবার অনেকের উপর শাস্তি অবধারিত হয়ে আছে। আল্লাহ যাকে অপমানিত করেন তার সম্মানদাতা কেউ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন' (সূরা আল-হাজ্জ: ১৮)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلُكنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا (44)} [الإسراء: 44]
'সাত আসমান ও যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে, সব কিছু তাঁর তাসবীহ পাঠ করে এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করে না; কিন্তু তাদের তাসবীহ তোমরা বুঝ না। নিশ্চয় তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ (সূরা বনী ইসরাঈল: ৪৪)।
৪। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلاً (23)} [الفتح: 23]
'তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে, তাদের ব্যাপারে এটি আল্লাহর নিয়ম; আর তুমি আল্লাহর নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না' (সূরা আল-ফাতহ: ২৩)।
📄 খ। শারঈ রীতি
শারঈ রীতি (السُنن الشرعية):
আল্লাহ তা'আলা মানব জাতিকে নিজ হাতে সৃষ্টি করে সকল সৃষ্টির উপর তাকে সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন, তাকে বহু সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। মানব জাতি সুনির্দিষ্ট নিয়ম পদ্ধতির মুখাপেক্ষী, ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ লাভের জন্য সকল অবস্থায় যার উপর তারা পরিচালিত হবে। আর এ নিয়মনীতিই হলো দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তাকে সম্মানিত করেছেন, এটাকে তার দ্বীন হিসাবে পছন্দ করেছেন এবং এটা ছাড়া অন্য কিছুকে (অন্য কোন দ্বীনকে) তিনি তার পক্ষ থেকে গ্রহণ করবেন না। এ দ্বীনকে আঁকড়ে ধরা অথবা এ থেকে বিমুখ হওয়ার মাপকাঠি অনুযায়ী আল্লাহ তা'আলা মানুষের কল্যাণ ও অকল্যাণ নির্ধারণ করেন এবং এ দ্বীন গ্রহণ করা বা প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে তাকে স্বাধীনতা দিয়ে থাকেন।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3]
'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম আর ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে পছন্দ করলাম' (সূরা আল-মায়েদা: ৩)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ ... } [الكهف: 29]
'আর বল, হক্ব তোমাদের রবের পক্ষ থেকে। সুতরাং যে ইচ্ছা করে, সে ঈমান আনুক এবং যে ইচ্ছা করে, সে কুফরী করুক' (সূরা আল-কাহফ: ২৯)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (38) وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (39)} [البقرة: 38 - 39]
'আর আমরা বললাম, তোমরা সবাই তা থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোন হেদায়াত আসবে, তখন যারা আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না (৩৮) আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে (সূরা আল-বাক্বারা: ৩৭-৩৯)।
📄 গ। মানব জাতির প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ
(فضل الله على البشرية): মানব জাতির প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ
আল্লাহ তা'আলা মানব জাতিকে সৃষ্টি করে আসমান-যমীনে অবস্থিত সবকিছু তাদের জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন এবং তাঁর জন্য নেয়ামতরাজি বরাদ্দ করেছেন। তাদের উপর নাযিল করেছেন কিতাবসমূহ এবং তাদের নিকট প্রেরণ করেছেন নবী-রাসূলগণকে। আর তারা যাতে স্বেচ্ছায় এক আল্লাহর ইবাদত করে ধন্য হতে পারে সেজন্য তাদেরকে জ্ঞান-বুদ্ধির নানা উপকরণ দান করেছেন। যেমন: শ্রবণ শক্তি, দর্শন শক্তি এবং বিবেক-বুদ্ধি।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً ۖ وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُنِيرٍ ﴿٢٠﴾ [ لقمان: 20 ]
'তোমরা কি দেখ না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে। আর তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামত ব্যাপক করে দিয়েছেন; মানুষের মধ্যে কেউ কেউ জ্ঞান, হেদায়াত ও আলো দানকারী কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করে' (সূরা লুকমান: ২০)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ ۙ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿৭৮﴾ .. [النحل: 78]
'আর আল্লাহ তোমাদেরকে বের করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ হতে এমতাবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিসমূহ এবং অন্তরসমূহ। যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় কর' (সূরা আন-নাহল: ৭৮)।
৩। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ۖ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ ۚ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ﴾ [ النحل: 36 ]
'আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং পরিহার কর ত্বাগুতকে। অতঃপর তাদের মধ্য হতে আল্লাহ কাউকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য হতে কারো উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ, অস্বীকারকারীদের পরিণতি কীরূপ হয়েছে' (সূরা আন-নাহল: ৩৬)।
📄 ঘ। সর্বাপেক্ষা বড় নিয়ামত
সর্বাপেক্ষা বড় নেয়ামত (أعظم النعم): আল্লাহ তা'আলা অসংখ্য নেয়ামতের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। এ নেয়ামত সমূহের মূলতঃ তিনটি ধরণ রয়েছে: (ক) সৃষ্টি সম্পর্কিত নেয়ামত (খ) সাহায্য সম্পর্কিত নেয়ামত (গ) হেদায়াত সম্পর্কিত নেয়ামত।
আর এসব নেয়ামতের মধ্যে ইসলাম সর্বাপেক্ষা বড়, যা দিয়ে যুগে যুগে আল্লাহ তা'আলা রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং প্রেরিত রাসূলগণের সর্দার (মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সকল মানুষের নিকট পাঠিয়ে তিনি নবুঅতের ইতি টেনেছেন।
প্রত্যেক নবী-রাসূলকে আল্লাহ তা'আলা তিনটি বিষয় বর্ণনার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছেন: (১) মানুষের নিকট তাদের প্রতিপালক, সৃষ্টিকর্তা এবং রিযিকদাতার পরিচয় দান করা, যাতে তারা তাঁর ইবাদত, সম্মান ও শুকরিয়া আদায় করতে পারে। (২) মানুষকে তাঁর প্রতিপালকের নিকট পৌঁছার রাস্তা সম্বন্ধে পরিচয় করানো, আর তা হলো দ্বীন ইসলাম। (৩) মুমিন কাফের আল্লাহর নিকট গমনের পর মানুষের জন্য কী থাকবে, সে সম্বন্ধে তাদেরকে জানানো। আর তা হচ্ছে, মুমিনদের জন্য জান্নাত এবং কাফেরদের জন্য জাহান্নাম।
১। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَظَلُومٌ كَفَّارٌ } ... [إبراهيم: 34]
‘যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে তার সংখ্যা নিরূপণ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অধিক অত্যাচারী এবং অকৃতজ্ঞ’ (সূরা ইবরাহীম: ৩৪)।
২। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
{النحل: 53} وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَإِلَيْهِ تَجْأَرُونَ
‘আর তোমাদের নিকট যে সব নেয়ামত আছে, সেসব আল্লাহর পক্ষ হতে। অতঃপর দুঃখ-দুর্দশা যখন তোমাদেরকে স্পর্শ করে, তখন তোমরা শুধু তাঁর নিকটই ফরিয়াদ কর’ (সূরা আন-নাহল: ৫৩)।