📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 মুসলিমদের জন্য এক বৃহৎ দুর্গের গেট খোলার উদ্দেশ্যে যুবাইয়ের ﷺ এর তার উপর উঠা

📄 মুসলিমদের জন্য এক বৃহৎ দুর্গের গেট খোলার উদ্দেশ্যে যুবাইয়ের ﷺ এর তার উপর উঠা


মিশরের মাটিতে আর একজন প্রকৃত নবী প্রেমীকে আমরা দেখদে পাচ্ছি যিনি আল্লাহর জন্য নিজ জীবন কুরবানী করেছেন এবং ঐ কাজ করেছেন যে কাজ বারা, বিন মালেক ইয়ারমুকের যুদ্ধে করেছেন। এই একই ধরণের কুরবানীতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, কারণ তাঁরা সকলে একই স্কুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন এবং একই প্রিয় ব্যক্তির প্রেমী, স্কুল হচ্ছে মুহাম্মাদী স্কুল আর প্রিয় ব্যক্তি হচ্ছে নবী মুহাম্মাদ ।

ইমাম ইবনে আব্দুল হাকাম তাঁর (যুবাইর এর) ও তাঁর সঙ্গীদের কাহিনী এভাবে বর্ণনা করেন; আম্র বিন আসের পক্ষে যখন (মিসর) জয় করতে বিলম্ব হয় তখন যুবাইর বলেন, আমি আমার জীবনকে আল্লাহর জন্য হেবা করে দিচ্ছি, আমি (আল্লাহর কাছে) আশা করি এর কারণে মুসলিমরা জয়ী হবে। "পায়রা” বাজারের দিক থেকে দূর্গের পাশে সিঁড়ি ফিট করেন এবং দূর্গের উপরে উঠেন ও সঙ্গীদের আদেশ দেন যে, তারা যখন তাকে তাকবীর বলতে শুনবে তখন তারা যেন সকলে তার সঙ্গে তাকবীর দিতে আরম্ভ করে। যখন তারা তাকে হাতে তলোয়ার নিয়ে দূর্গের উপর তাকবীর দিতে দেখে তখন বেশী সংখ্যায় মানুষ সিঁড়ি বেয়ে উঠতে আরম্ভ করে এমন কি সিঁড়ি ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকায় আম্র বিন আস্ তাদেরকে নিষেধ করেন।

যুবাইর এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীরা যখন দূর্গের মধ্যে প্রবেশ করে তাকবীর দেয় ও মুসলিম বাহিনী দূর্গের বাইরে থেকে উত্তর দেয় তখন দূর্গবাসীরা নিশ্চিত হয়ে যায় যে, আরবরা সকলে দূর্গের মধ্যে প্রবেশ করেছে ফলত: তারা দূর্গ ত্যাগ করে পলায়ন করে। অত:পর যুবাইয়ের ও তার সঙ্গীরা দূর্গের গেটের কাছে আসে এবং গেট খুলে দেয়, এরপর মুসলিম বাহিনী দূর্গের মধ্যে প্রবেশ করে।(-) সাহাবাগণের দ্বীনের কি ভালবাসা ছিল এবং কেমন ছিল তাঁদের কুরবানী। (রাযি আল্লাহু আনহুম)

টিকাঃ
135 মিসর জয় ও তার সংবাদ পৃ: ৫২।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 মুসলিমের বিজয়ের উদ্দেশ্যে নু,মান বিন মুকারিনের আল্লাহর সমীপে শাহাদাত কামনা

📄 মুসলিমের বিজয়ের উদ্দেশ্যে নু,মান বিন মুকারিনের আল্লাহর সমীপে শাহাদাত কামনা


নাহাওয়ান্দের যুদ্ধে অন্য এক নবী প্রেমীকে প্রত্যক্ষ করছি যিনি মুসলিমদের বিজয়ের উদ্দেশ্যে আল্লাহর নিকটে শাহাদাত কামনা করেন। হাফেয আযযাহাবী নিজ গ্রন্থে উল্লেখ করেন।

قال النعمان بن مقرن رضى الله عنه لما التقى الجمعان في معركة نهاوند : إن قتلت فلا يلوى على أحد ، وإني داع بدعوة فأمنوا ، ثم دعا اللهم ارزقني الشهادة بنصر المسلمين ، فأمن القوم ، فكان النعمان أول صريع رضى الله عنه ( تاريخ الإسلام ٢٢٥ ، الكامل في التاريخ ٥/٣ ) অর্থ, নাহাওয়ান্দের যুদ্ধে যখন দুই বাহিনীর যুদ্ধ হয় তখন মুকারিন বলেন, আমি যদি নিহত হই তাহলে কোন ব্যক্তি যেন আমাকে পিছনে ফিরে না দেখে। আমি একটি দুআ করব তোমরা তাতে আমীন বলবে। অত:পর দুআ করেন হে আল্লাহ! মুসলিমদের বিজয়ের উদ্দেশ্যে আপনার সমীপে শাহাদাতের কামনা করছি। এই দুআতে সকলে আমীন বলে। এই যুদ্ধে সর্ব প্রথম শহীদ ছিলেন
নু,মান বিন মুকারিন।(রঃ) অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হে আল্লাহ! আপনি আপনার দ্বীনের সম্মান প্রদান করুন,নিজ বান্দাদের সাহায্য করুন,নিজ বান্দার সাহায্য ও দ্বীনকে বিজয়ী করার উদ্দেশ্যে নু'মানকে আজকের দিনে প্রথম শহীদ হিসেবে গ্রহণ করুন।(রঃ) কত বিশাল এই প্রার্থনা? বড় ভাগ্যবান ও ধৈর্যধারণকারী ব্যতীত ইহা কেউ পায় না।

টিকাঃ
136 তারিখে ইসলাম পৃ: ২২৫
137 দেখুন আল-ফী-ততারীখ ৫/৩।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 মুসলিমদের আল্লাহর পথে জীবন দানের অভিলাষ

📄 মুসলিমদের আল্লাহর পথে জীবন দানের অভিলাষ


আল্লাহর দ্বীনের বিজয় এবং ফিতনাহ মূলোৎপাটনের লক্ষ্যে প্রকৃত নবী প্রেমী মুসলিমদের আল্লাহর পথে জীবন দানের অভিলাষের যে কথা উবাদাহ বিন সামেত মুকাওকিসকে স্পষ্ট করে লিখেছিলেন, সেই কথা দিয়েই আমার কথার ইতি টানতে চাই। উবাদাহ বিন সামেত বলেন, আমাদের মধ্যে সকলেই সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর নিকট শাহাদাতের কামনা করে। নিজ পরিবার, মাতৃভূমি ও দেশে ফিরে না যাওয়ার আশা পোষণ করে। আমাদের কেউ পিছনে ফেলে আসা জিনিস নিয়ে চিন্তা করে না। আমাদের সকলে তো নিজ পরিবার সন্তানাদি আল্লাহর দায়িত্বে রেখে এসেছে, বর্তমানে আমাদের গন্তব্যস্থল হলো সামনে।(-)

এখন আমার প্রশ্ন হলো ঐ মানসিকতার মানুষ আমাদের মধ্যে কেউ আছে? হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে তাদের মত করুন। কবুল করুন হে বিশ্ব প্রতি পালক।

টিকাঃ
138 মিশর বিজয় ও তার সংবাদ পৃ: ৫৪।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 সমাপ্তি

📄 সমাপ্তি


ঐ আল্লাহর প্রশংসা যিনি এই অধমকে এ ধরণের পুস্তিকা লিখার তাওফীক দিয়েছেন, এটি তাঁর সমীপে
গৃহীত হোক এটাই আমার আশা। এই পুস্তিকায় বেশ কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে:
১- নিজ জীবন, পিতা-মাতা, পরিবার, সম্পদ এবং সকল মানুষের চেয়ে রাসূল ﷺ কে ভালবাসা অপরিহার্য।
২- রাসূলের প্রেম দুনিয়ায় ঈমানের স্বাদ গ্রহণ ও আখেরাতে তাঁর সঙ্গ স্পর্শে থাকার মাধ্যম।
৩- নবী প্রীতির কতিপয় নিদর্শন: ক) রাসূলের সাহচর্য ও দর্শনের প্রবল আগ্রহ, দুনিয়ায় অন্য কিছু হারানোর তুলনায় ঐ দুটি হারানো অতি কষ্টের অনুভূতি।
খ) রাসূলের জন্য জান-মাল কুরবানী দেয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি।
গ) তাঁর আদেশ বাস্তবায়ন ও নিষিদ্ধ কর্ম বর্জন।
ঘ) তাঁর সুন্নতের সহযোগিতা ও শরীতের প্রতিরক্ষা।
৪-তাঁর প্রতি সাহাবাগণের ভালবাসা ছিল প্রকৃত ভালবাসা, তাঁর দর্শন, সাহচর্য দুনিয়ার সকল বস্তুর চেয়ে তাঁদের নিকট অধিক প্রিয়। তাঁর জন্য জান-মালকে
কুরবাণী করাকে মঙ্গলজনক মনে করা। যেমন তাঁর আদেশ পালনার্থে ও নিষিদ্ধ বিষয়াদি বর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা। আল্লাহ প্রদত্ত শরীয়তের প্রতিরক্ষা, রাসুলের সুন্নতের সাহায্যের উদ্দেশ্যে নিজদের অমূল্য জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান।
আমি নিজকে ও সকল মুসলিম ভাইকে সাহাবাদের ন্যায় রাসূলের প্রতি প্রকৃত ভালবাসার উপদেশ দিচ্ছি। নিছক মুখের দাবীতে কিছু যায় আসে না, মুখের দাবীতে লাভ হয় না বরং ক্ষতি হয়।
আমাদের নবীর, তাঁর সহচর এবং অনুসারীদের উপর শান্তির ধারা বর্ষিত হোক। ওয়া আখের দা, ওয়ানা আনিল হামদুল্লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00