📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 কঠিনাবস্থা সত্ত্বেও মুরতাদ ও যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে আবুবাকর ﷺ এর যুদ্ধ

📄 কঠিনাবস্থা সত্ত্বেও মুরতাদ ও যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে আবুবাকর ﷺ এর যুদ্ধ


কালেমা বিজয়ী ও প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে বের হওয়াই হচ্ছে নবী প্রেমের প্রকৃত পরিচয়।

কঠিনাবস্থা সত্ত্বেও মুরতাদ ও যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে আবু বকর এর যুদ্ধ।

যখন যাকাত না দেয়ার বিষয় সামনে আসে তখন এই প্রকৃত নবী প্রেমীকে আমরা দেখি যে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা ও সিদ্ধান্ত তাঁর প্রসিদ্ধ বাণী দ্বারা এ ভাবে প্রকাশ করেন: ،،، والله لو منعوني عقالا (۱) كانوا يؤدونه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعه. (مسلم)
অর্থ, আল্লাহর কসম! তারা যদি একটি দড়ি বা রশি দেয়া বন্ধ করে যা রাসূল এর যুগে দেয়া হত তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।(-)অত:পর আবু বাক্স যখন মুরতাদ গোষ্ঠীর মদীনা আক্রমনের প্রতিজ্ঞা জানতে পারেন তখন তিনি স্বয়ং তলোয়ার শানিয়ে বেরিয়ে পড়েন। মুমিনীন জননী আয়েশা সিদ্দীকাহ (রা) বলেন, আমার পিতা খোলা তলোয়ার হাতে নিয়ে সাওয়ারীর পিঠে চড়ে “যিলকিস্সার”(-) অভিমুখে রওয়ানা হয়ে যান।(-) তাঁর প্রতিনিধিকে যুদ্ধের মাঠে পাঠিয়ে তাঁকে মদীনায় থাকার জন্য অনুরোধ করা হয় তখন তিনি এই কথা বলে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন যে, না, আমি তা করব। না, বরং আমার জীবন দিয়ে তোমাদের সাহায্য করতে চাই। ()

রাসূলের এই সত্য প্রেমীকে, প্রিয় নবীর আনীত দ্বীন, বের হওয়ার জন্য আহবান করছে তা শ্রবণ করে তিনি কেমন করে বসে থাকতে পারেন? উজ্জ্বল ও স্পষ্ট শরীয়ত যা আল্লাহ নিজ প্রিয় নবীর উপর অবতীর্ণ করেছেন তার আর্তনাদ শ্রবণের পর কেমন করে নিরবে বসে থাকতে পারেন? এ সমস্ত নবী প্রেমীরা কোথায় আর আমরা কোথায়? পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম দিগন্তে সত্য দ্বীন আমাদের নিকটে আর্তনাদ করছে, তা কি আমরা শ্রবণ করছি না? নিকট ও দূর হতে, পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে ইসলামের ফরিয়াদ আমরা শুনতে পাচ্ছি না? আছে কেউ ঐ ডাকে সাড়া দেয়ার মত? আমাদের মধ্যে অনেকে নবী প্রেমের দাবী করলেও তারা কি এ কথার ভয় বা চিন্তাভাবনা করে না যে তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

لهم قلوب لا يفقهون بها و لهم أعين لا يبصرون بها ولهم آذان لا يسمعون بها أولئك كالأنعام بل هم أضل أولئك هم الغافلون (الأعراف: ۱۷۹) অর্থাৎ, তাদের অন্তর আছে কিন্তু তা দ্বারা বুঝার চেষ্টা করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু দর্শন করে না, কান আছে কিন্তু শ্রবণ করে না। এরাই তো চতুস্পদ জন্তুর ন্যায় বরং আরও অধম এবং এরাই হচ্ছে গাফেল। (")

টিকাঃ
126 (একা, লান), ঐ রশী যা দ্বারা উট বাঁধা হয় এবং যা যাকাতেও নেয়া হত, কারণ যাকাত প্রদানকারী উটের সাথে তা দিয়ে দিত, বাঁধনের মাধ্যম ছাড়া তো উট গ্রহণ করা হয় না। (দেখুন আননেহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস অল-আসার, ধাতু, "عقل" ২৮০/৩,
127 সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, পাঠ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা পর্যন্ত মানুষের সাথে যুদ্ধ করা, হাদীস সংখ্যা ৫২/১,৩২।
128 "যিলকিস্সা" একটি স্থানের নাম, মদীনা ও তার মধ্যে কুড়ি কিলো মিটারের দূরত্ব, এটি যুবদাহর রাস্তা (মু'যামুলবুলদান, ৪১৬/৪,৯৭২০।
129 (বিদায়াহ-নিহায়াহ,৬/৩৫৫)
13০ তারিখুততাবারী, ২৪৭৩, এবং দেখুন আল-কামেল ফী-ততারীখ, ইবনে আসীর ২৩৩/২ আল-বিদায়াহ-অননেহায়া, ৩৫৫/৬
131(আ, রাফ: ১৭৯)

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 শত্রুদের আশ্রয়স্থল বাগানের দরজা খোলার উদ্দেশ্যে ভিতরে নিক্ষিপ্ত হওয়ার জন্য বারা ﷺ এর আবেদন

📄 শত্রুদের আশ্রয়স্থল বাগানের দরজা খোলার উদ্দেশ্যে ভিতরে নিক্ষিপ্ত হওয়ার জন্য বারা ﷺ এর আবেদন


ইয়ামামাহর যুদ্ধে মুসাইলামাহ কায্যাবের যোদ্ধারা যখন (প্রাণ ভয়ে) এক বাগানে প্রবেশ করে তার গেট বন্ধ করে দেয়, তখন নবীর এক প্রেমী তার ভাইদের কাছে দেয়াল টপকিয়ে বাগানের ভিতরে ফেলে দেয়ার আবেদন করে যাতে সে মুসলিমদের জন্য দরজা খুলে দিতে পারে।

ইমাম তাবারী তাঁর কাহিনী নিজ গ্রন্থে এ ভাবে বর্ণনা করেন; মুসলিমরা যুদ্ধ করেন, এমন কি শত্রুরা “হাদীকাতুল মাউত” অর্থাৎ মরণের বাগানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, সেখানে আল্লাহর দুশমন "মুসাইলামাহ আল-কায্যাব” ও আশ্রয় নেয়। অত:পর বারাআ ইবনে মালেক বলেন, হে মুসলিম বাহিনী! তোমরা আমাকে তাদের কাছে বাগানের ভিতরে নিক্ষেপ কর। অন্য বর্ণনায় “আল-কুনী” শব্দের পরিবর্তে "ইরমুনী” শব্দ উল্লেখিত হয়েছে, (-) দুই শব্দের অর্থ একই (নিক্ষেপ), তারা বললেন, হে বারা, তুমি এ কাজ কর না, প্রত্যুত্তরে বারা, বলেন, আল্লাহর কসম! তোমরা আমাকে ভিতরে তাদের কাছে নিক্ষেপ কর। অত:পর তাঁরা তাঁকে উঠিয়ে বাগানের ভিতরে দেয়ালের কাছে নিক্ষেপ করে। এরপর তিনি লড়তে-লড়তে বাগানের গেট খুলে ফেলেন এবং মুসলিমরা বাগানে প্রবেশ করে ও যুদ্ধ হয়। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছায় মুসলিমদের হাতে মুসাইলামাহ নিহত হয়। (-)

আল্লাহু আকবার! আল্লাহর পথে জিহাদ করার জন্য বারা, কেমন করে নিজ আত্মাকে তুচ্ছ জ্ঞান করেন? অথচ সেটি একটি মূল্যবান জিনিস বরং কাবার রবের কসম! আমাদের মত সহস্র মানুষের আত্মার চেয়েও মূল্যবান।

টিকাঃ
132. দেখুন আসসিরাতুন নাবাবীরাহ ওয়া আখবারুল খোলাফা, আল-বাসতী পৃ: ৪৩৮।
133. তারীখুতাবারী ২৯০/৩ এবং দেখুন আল-কামেল ফী-তারীখ ২৪৬/২।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 ইয়ারমুকের যুদ্ধে মৃত্যুর জন্য চারশ মানুষের অঙ্গীকার

📄 ইয়ারমুকের যুদ্ধে মৃত্যুর জন্য চারশ মানুষের অঙ্গীকার


আল্লাহর কালেমা বিজয়ী, দ্বীনের প্রতিরক্ষা এবং ফিতনা-ফাসাদ বিমোচনের জন্য ইয়ারমুকের যুদ্ধে চারশো জন রাসূলের প্রকৃত প্রেমিক মৃত্যুর অঙ্গীকার করেছেন। হাফেয ইবনে কাসীর আবু উসমান আল-গাস্সানী থেকে তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইকরামাহ ইবনে আবু জেহেল বলেন, "قاتلت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في مواطن وافر منكم اليوم ثم نادى من يبايع على الموت " অর্থাৎ, আমি রাসূল ﷺ এর সঙ্গে বহু স্থানে যুদ্ধ করেছি আজ তোমাদের কাছ হতে পালিয়ে যাব? অত:পর তিনি হাঁক দিয়ে বলেন, মৃত্যুর জন্য কে অঙ্গীকার করতে চাও? তাঁর কথায় মুসলিমদের মধ্য থেকে তাঁর চাচা হারেস বিন হিশাম, যিরার বিন আযওয়ার সহ চারশো জনের মত হাতে হাত মিলান এবং খালেদের তাবুর সামনে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধ করে আহত এবং নিহত হন। তার মধ্যে যিরার বিন আযওয়ারও একজন। (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) (রাঃ)। (বিদায়াহ-নিহায়াহ, ৭/১১-১২, আল-কামেল ফিত্তারীখ ২/২৮৩)

টিকাঃ
১৩৪ আল-বেদায়াহ অয়াননেহায়াহ ১২-১১/৭,এবং দেখুন তারিখে তাবারী ৪০/৩, আল-কামেল ফী-ততারীখ ২৮৩/২।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 মুসলিমদের জন্য এক বৃহৎ দুর্গের গেট খোলার উদ্দেশ্যে যুবাইয়ের ﷺ এর তার উপর উঠা

📄 মুসলিমদের জন্য এক বৃহৎ দুর্গের গেট খোলার উদ্দেশ্যে যুবাইয়ের ﷺ এর তার উপর উঠা


মিশরের মাটিতে আর একজন প্রকৃত নবী প্রেমীকে আমরা দেখদে পাচ্ছি যিনি আল্লাহর জন্য নিজ জীবন কুরবানী করেছেন এবং ঐ কাজ করেছেন যে কাজ বারা, বিন মালেক ইয়ারমুকের যুদ্ধে করেছেন। এই একই ধরণের কুরবানীতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, কারণ তাঁরা সকলে একই স্কুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন এবং একই প্রিয় ব্যক্তির প্রেমী, স্কুল হচ্ছে মুহাম্মাদী স্কুল আর প্রিয় ব্যক্তি হচ্ছে নবী মুহাম্মাদ ।

ইমাম ইবনে আব্দুল হাকাম তাঁর (যুবাইর এর) ও তাঁর সঙ্গীদের কাহিনী এভাবে বর্ণনা করেন; আম্র বিন আসের পক্ষে যখন (মিসর) জয় করতে বিলম্ব হয় তখন যুবাইর বলেন, আমি আমার জীবনকে আল্লাহর জন্য হেবা করে দিচ্ছি, আমি (আল্লাহর কাছে) আশা করি এর কারণে মুসলিমরা জয়ী হবে। "পায়রা” বাজারের দিক থেকে দূর্গের পাশে সিঁড়ি ফিট করেন এবং দূর্গের উপরে উঠেন ও সঙ্গীদের আদেশ দেন যে, তারা যখন তাকে তাকবীর বলতে শুনবে তখন তারা যেন সকলে তার সঙ্গে তাকবীর দিতে আরম্ভ করে। যখন তারা তাকে হাতে তলোয়ার নিয়ে দূর্গের উপর তাকবীর দিতে দেখে তখন বেশী সংখ্যায় মানুষ সিঁড়ি বেয়ে উঠতে আরম্ভ করে এমন কি সিঁড়ি ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকায় আম্র বিন আস্ তাদেরকে নিষেধ করেন।

যুবাইর এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীরা যখন দূর্গের মধ্যে প্রবেশ করে তাকবীর দেয় ও মুসলিম বাহিনী দূর্গের বাইরে থেকে উত্তর দেয় তখন দূর্গবাসীরা নিশ্চিত হয়ে যায় যে, আরবরা সকলে দূর্গের মধ্যে প্রবেশ করেছে ফলত: তারা দূর্গ ত্যাগ করে পলায়ন করে। অত:পর যুবাইয়ের ও তার সঙ্গীরা দূর্গের গেটের কাছে আসে এবং গেট খুলে দেয়, এরপর মুসলিম বাহিনী দূর্গের মধ্যে প্রবেশ করে।(-) সাহাবাগণের দ্বীনের কি ভালবাসা ছিল এবং কেমন ছিল তাঁদের কুরবানী। (রাযি আল্লাহু আনহুম)

টিকাঃ
135 মিসর জয় ও তার সংবাদ পৃ: ৫২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00