📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 রাসূলের আদেশ পালনার্থে গলি রাস্তায় জনৈক পদচারিনীর কাপড় দেওয়াল স্পর্শ

📄 রাসূলের আদেশ পালনার্থে গলি রাস্তায় জনৈক পদচারিনীর কাপড় দেওয়াল স্পর্শ


রাসূলের জন্য মহিলাদের আনুগত্য বিরল, এ ধারণা যেন কেউ না করে।যে ব্যক্তি নিম্নে লিখিত মহিলাদের জীবন চরিত পাঠ করবে সে এটি উপলব্ধি করতে পারবে।

আসুন আমরা ইমাম আবু দাউদের বর্ণিত সেই রকমই একটি ঘটনা শ্রবণ করি:-

عن أبي أسيد الأنصاري رضى الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو خارج من المسجد، فاختلط رجال مع النساء في الطريق ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : استأخرن فإنه ليس لكن أن تحققن ( ١٠٨) الطريق، عليكن بحافات الطريق، فكانت المرأة تلتصق بالجدار ان ثوبها يتعلق بالجدار من لصوقها به (আবূদাউদ, সহীহ)
অর্থ, আবু উসায়েদ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছেন যে, যখন তিনি মাসজিদ হতে বের হন তখন রাস্তায় পুরুষ-মহিলাকে এক সঙ্গে যেতে দেখেন। অত:পর মহিলাটিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, রাস্তার মাঝখান দিয়ে তোমার চলা উচিৎ নয়, তোমাদের রাস্তার পাশে পাশে চলা উচিৎ। এরপর থেকে মহিলারা এমন ভাবে পথ চলত যে তাদের কাপড় দেওয়ালে লেগে যেত। (আবু দাউদ, সহীহ)(-)

চতুর্থ নিদর্শনের আলোচনা শুরু করার পূর্বে আমরা নিজেদের বিচার করে দেখি যে, আমরা কি সে যুগের মহিলা-পুরুষের ন্যায় রাসূলের আনুগত্য করি? আমাদের মধ্যে কি অনেকে রাসূলের সুন্নতকে হত্যা করে দিনের সূচনা করে না?(-) আমাদের মধ্যে অনেক নাম ধারী মুসলিম মহিলা বাজারে ও অনুষ্ঠানে গিয়ে রাসূলের বিরোধিতা করে না? আমাদের মধ্যে এমন কিছু পুরুষ-মহিলা নেই কি? তারা যখন অন্য পরিবেশে যায় তখন তাদেরকে মুসলিম না ইয়াহুদী-খৃষ্টান বলে চিনা যায় না?

টিকাঃ
108 মাঝ পথে চলা (দেখুন, বিদায়াহ ফী-গারীবিল হাদীস অল-আসার, ধাতু, (حقق) ৪১৫/১
109 সহীহ সুনানে আবী দাউদ, কিতাবুল আদাব, পাঠ, রাস্তায় মহিলাদের পুরুষের সাথে চলা, হাদীস সংখ্যা ১৮১/৩,৪৩৯২।
110 অর্থাৎ দাঁড়ি চাঁচা।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 তাঁর সুন্নতের সাহায্য ও দ্বীনের প্রতিরক্ষা

📄 তাঁর সুন্নতের সাহায্য ও দ্বীনের প্রতিরক্ষা


চতুর্থ অধ্যায়

চতুর্থ নিদর্শন

তাঁর সুন্নতের সাহায্য ও দ্বীনের প্রতিরক্ষা

এ কথা খুবই স্পষ্ট যে প্রেমিক নিজ শক্তি, জান-মাল ঐ পথেই বা উদ্দেশ্যে খরচ করে যে পথে তার প্রিয় ব্যক্তি খরচ করেছে। আল্লাহ তাঁর নবীকে শক্তি, সম্পদ যা দান করেছিলেন তার সব কিছুই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলো, সৃষ্টির পূজা থেকে স্রষ্টার উপাসনার দিকে আনার জন্য খরচ করেছেন, আল্লাহর কালেমাকে প্রকাশ ও বিজয়ী, কাফেরদের কালেমাকে পরাস্ত করার জন্য যথাযথ জিহাদ ও লড়াই করেছেন যাতে ফিতনা বন্ধ হয় এবং আল্লাহর দ্বীন সম্পূর্ণ বিজয়ী হয়। যাঁরা রাসূলকে ভালবাসেন তাঁরা তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসরণ করেন। এবং পরিপূর্ণ ভাবে তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হন। আল্লাহর শত কোটি প্রশংসা আজও তারা নিজেদের শক্তি, জান-মাল ঐ উদ্দেশ্যে খরচ করছেন, যাতে তাদের প্রিয় নবী সম্পদ, সময় ও জীবন দান করেছেন। এ কথার প্রমাণে ঐ সকল সৎ ব্যক্তিদের কিছু নমুনা নিম্নে উল্লেখ করছি।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 আল্লাহর পথে জীবন দান ও অন্যদেরকেও তার জন্য আহবান

📄 আল্লাহর পথে জীবন দান ও অন্যদেরকেও তার জন্য আহবান


উহুদের যুদ্ধে মুসলিমদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায়, এ কথা যেমন ইতি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে, ঐ যুদ্ধে লোকদের মাঝে মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে রাসূল নিহত হয়েছেন, এই সংবাদে প্রভাবিত হয়ে কতিপয় সাহাবা অস্ত্র ত্যাগ করে বসে যান, অত:পর আনাস বিন নাযর তাদের নিকট এসে বলেন, কে আপনাদেরকে বসিয়ে দিয়েছে? তাঁরা বললেন, রাসূল নিহত হয়েছেন, আনাস বিন নাযর বলেন, রাসূলের মৃত্যুর পর আপনারা বেঁচে থেকে কি করবেন! উঠুন এবং মৃত্যু বরণ করুন সেই পথে যে পথে রাসূল ﷺ মৃত্যু বরণ করেছেন। (-) আল্লাহর কালেমাহকে বিজয়ী ও দ্বীনের প্রতিরক্ষার জন্য তিনি কি ভাবে জীবন দান করেছেন?

عن أنس رضي الله عنه قال : فلما كان يوم أحد وانكشف المسلمون (۱۱۱) قال (أنس بن النضر رضي الله عنه): اللهم إني اعتذر إليك مما صنع هولاء - يعني أصحابه و أبرأ إليك مما صنع هولاء- يعني المشركون - ثم تقدم فاستقبله ابن معاذ- رضى الله عنه - فقال : يا سعد بن معاذ الجنة سعد ورب النضر إني أجد ريحها من دون أحد . قال سعد رضى الله عنه فما استطعت يارسول الله ما صنع ، قال أنس رضى الله عنه فوجدنا به بضعا وثمانين ضربة بالسيف أو طعنة برمح أو رمية بسهم ، و وجدناه قد قتل ومثل (۱۱۳) به المشركون، فما عرفه أحد إلا أخته ببنانه. قال أنس رضى الله كنا نرى أو نظن أن هذه الآية نزلت فيه وفي أشباهه" من المؤمنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه إلى آخر الآية (البخاري كتاب الجهاد)
অথ, 'আনাস কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা যখন পিছিয়ে যায় তখন (আনাস বিন নাযর) বললেন, হে আল্লাহ! এরা অর্থাৎ সাহাবারা যা করেছেন তার জন্য আমি আপনার কাছে দোষ মুক্ত হতে চাচ্ছি, আর মুশরিকরা যা করেছে তা থেকে সম্পর্ক ছেদ করছি。

অতঃপর তিনি সামনে এগিয়ে যান এবং সাদ বিন মুয়াযের সাথে সাক্ষাৎ হয়, অতঃপর বললেন, হে সাদ, নাযরের রবের কসম! জান্নাত, ওহুদ পাহাড়ের ঐ দিক থেকে আমি জান্নাতের সুগন্ধ পাচ্ছি। সাদ বিন মুয়ায বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, তিনি (আনাস বিন নাযর) যা করেছেন আমি তা করতে পারিনি। হাদীস বর্ণনাকারী আনাস বলেন, আমরা তাঁর শরীরে আশির অধিক তলোয়ারের আঘাত অথবা বর্শার অথবা তীরের আঘাত দেখতে পেয়েছি। তাঁকে আমরা মৃতাবস্থায় দেখতে পেয়েছি, মুশরিকরা তখন তাঁকে তাঁর নাক-কান কেটে মুড়ো বানিয়ে দিয়েছে, কেবল তাঁর বোন তাঁর আঙ্গুল দেখে চিনতে পারে, আর কেউ চিনতে সক্ষম হয়নি। আনাস বলেন, আমরা মনে করি নিম্ন লিখিত আয়াতটি : من المؤمنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه. (অর্থাৎ কতিপয় মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর সাথে যে অঙ্গীকার করেছিল তা সত্য প্রমাণ করেছেন) তাঁর এবং ঐধরণের সাহাবীদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবর্তীণ হয়েছে। (বুখারী) ()

টিকাঃ
১১১ দেখুন সিরাতে ইবনে হিশাম, ৩০/৩, এবং আসসিরাতুন নাবাবীয়াহ, ইবনে হিব্বান আল- বাসতী পৃ: ২২৫, অয়া জাওয়ামেউস্ সিরাহ পৃ: ১৬২।
১১২ অন্য বর্ণনায় “ইনহাযামাননাস” শব্দ এসেছে। (দেখুন ফাতহুলবারী ২২৬)
১১৩ নাক, কান কাটা ইত্যাদি। (দেখুন ঐ।)
114 সহীহ বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, পাঠ, আল্লাহর বানী, ) من المؤمنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه فمنهم من قضى نحبه ومنهم من ينتظر وما بدلوا تبديلا ) হাদীস সংখ্যা ২১/৬,২৮০৫।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 রাসূলের বার্তা পৌঁছাতে গিয়ে জীবন দানের সময় হারাম বিন মিলহানের আনন্দ প্রকাশ

📄 রাসূলের বার্তা পৌঁছাতে গিয়ে জীবন দানের সময় হারাম বিন মিলহানের আনন্দ প্রকাশ


রাসূল ﷺ এর অন্য এক প্রকৃত প্রেমী কাফেরের নিকট রাসূলের বার্তা পৌঁছাঁতে গিয়ে ফলার আঘাতের শিকার হন, যাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। কিন্তু তিনি আহত হওয়ার পর আল্লাহ তাঁকে এতটা সময় দেন যে তিনি এই দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার পূর্বে শহীদী দর্জা পাওয়ার সুবাদে নিজ স্পৃহা প্রকাশ করতে পারে। তাঁর ঐ ঈমাণী জাযবার (স্পৃহার) কথা বুখারীতে এ ভাবে বর্ণিত হয়েছে:

عن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم بعث خاله - أخ لأم سليم في سبعين راكبا، فانطلق - حرام أخو أم سليم - و (١١) هو رجل أعرج ورجل من بني فلان، قال حرام : كونا قريبا حتى أتيهم فأن آمنوني كنتم (1) وإن قتلوني أتيتم أصحابكم، فقال أتأمنوني أن أبلغ رسالة رسول الله صلى الله عليه وسلم ؟ فجعل يحدثهم (۲۱۷) فأومؤوا إلى رجل فأتاه من خلفه فطعنه قال همام (أحد رواة الحديث) أحسبه حتى أنفذه بالرمح. قال الله أكبر فزت ورب الكعبة (البخاري)
অর্থ, আনাস কর্তৃক বর্ণিত, রাসূল নিজ মামাকে সত্তর জনের এক কাফেলায় প্রেরণ করেন, তাদের সঙ্গে "হারাম” উম্মে সুলাইমের ভাইও যান, তিনি ছিলেন পা খোঁড়া মানুষ, তার সঙ্গে অন্য গোত্রের লোকও ছিল। “হারাম” তাদের দুজনকে বললেন, আমি যখন তাদের (কাফেরদের) পানে যাব তখন তোমরা আমার নিকটে থাকবে, যদি তারা আমাকে নিরাপত্তা দেয় তাহলে আমার কাছে থাকবে, আর যদি আমাকে হত্যা করে তবে তোমরা নিজ সঙ্গীদের নিকটে চলে যাবে। অত:পর তিনি (কাফেরদের) লক্ষ্য করে বলেন, আমি তোমাদের নিকট রাসূলের বার্তা পৌঁছাতে চাই, তোমরা কি আমাকে নিরাপত্তা (তা পৌঁছানোর সুযোগ) দিতে চাও?। এ ভাবে তিনি তাদের সাথে কথা বলতে থাকেন, ইতি অবসরে তারা তাদের মধ্যে একজনকে ইশারা করে, অত:পর সে তাঁর (হারামের) পিছন দিক থেকে এসে তাকে ফলা দ্বারা আঘাত করে। (হাম্মাম) জনৈক হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হচ্ছে, ফলা দ্বারা তাকে এত জোরে আঘাত করা হয় যে তা এক দিক থেকে অপর দিকে বেরিয়ে যায়। সে সময় অর্থাৎ আহতাবস্থায় তিনি বলেন, কাবার রবের কসম আমি কৃতকার্য হয়েছি। (বুখারী) (-) এই সেই সত্য প্রেম যা প্রেমিককে তার প্রিয় পাত্রের (রাসূলের) বার্তা পৌঁছানোর সময় জীবন দানকে সাফল্য বলে বিবেচনা করিয়েছে। কাবার রবের কসম! প্রকৃত পক্ষে এটিই হচ্ছে সাফল্য। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে ঐ সাফল্য থেকে বঞ্চিত করেন না। আমীন।

টিকাঃ
115 হাফেয ইবনে হাজর বলেন, আমার মনে হচ্ছে )وهو( তে ولو কাতেবের (লেখকের( ভুলে আগে হয়ে গিয়েছে। শুদ্ধ হচ্ছে هو و رجل )দেখুন ফাতহুলবারী ৩৮-৭/৭
116 অন্য বর্ণনায় ফাইন আমানুনী কুনতুম কারীবান মিল্লী শব্দ এসেছে, (দেখুন ঐ।
117 অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হারাম বের হয়ে বলল, হে মউনা কুয়ার আশে পাশের অধিবাসী আমি রাসূলের পক্ষ হতে প্রেরিত ব্যক্তি, সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনো,এর পর যে নিজ ফলা দ্বারা ঘর ভেঙ্গেছে সে বেরিয়ে এসে তাঁর পাঁজরে এমন জোরে আঘাত করে যে তা অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। (দেখুন।ঐ)
118 সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, পাঠ, রাজী, রে,ল, যাকওয়ান বিরে মউনার যুদ্ধ, হাদীস সংখ্যা ৩৮৬-৩৮৫/৭,৪০৯১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00