📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 রাসূলের আদেশ পালনার্থে সাহাবাগণের শত্রুদের সাথে অঙ্গীকার পূরণ

📄 রাসূলের আদেশ পালনার্থে সাহাবাগণের শত্রুদের সাথে অঙ্গীকার পূরণ


সাহাবাগণের রাসূলের অনুকরণ কেবল সাধারণ অবস্থায় ছিল না বরং সুখে-দুখে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছিল। রাসূল ﷺ এর আদেশ পালনার্থে শত্রুদের সাথে সন্ধির ব্যাপারেও গুরুত্ব দিয়েছেন।
عن سليم بن عامر قال كان بين معاوية رضى الله عنه وبين الروم عهد، وكان يسير نحو بلادهم، حتى إذا انقضى العهد غزاهم فجاء رجل على فرس أو برذون (۱) وهو يقول: الله أكبر الله أكبر وفاء لا غدر ، فنظروا فإذا عمرو بن عبسة رضى الله عنه فأرسل إليه معاوية رضى الله عنه فسأله، فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من كان بينه وبين قوم عهد فلا يشد عقدة ولا يحلها حتى ينقضى أمدها أو ينبذ إليهم على سواء، فرجع معاوية رضی الله عنه (أبو داود، صیحح)

অর্থ, সুলাইম বিন আমের বলেন, মুআবিয়াহ ও রুমদের মধ্যে (যুদ্ধ না করার সন্ধি ছিল, (চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে) মুআবিয়াহ তাদের দেশের পানে যেতে আরম্ভ করেন, যাতে সন্ধির মিয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে যুদ্ধ করতে সক্ষম হন, এমন সময় জনৈক ব্যক্তি ঘোড়া অথবা কোন বাহনে আরোহণ করে এসে বলে, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার” অঙ্গীকার পূরণ করা কর্তব্য বিশ্বাসঘাতকতা নয়। তারা লোকটিকে চিনতে পারল সে “আম্র বিন আবাস” মুআবিয়াহ এর কারণ জিজ্ঞাসা করার জন্য তাকে ডেকে পাঠান। অত:পর সে বলল, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, যার কোন কাউমের সাথে সন্ধি আছে সে ঐ সন্ধির মিয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তাতে কোন কম-বেশী করতে পারে না অথবা তাদেরকে সন্ধি শেষ হওয়ার ব্যাপারে অগ্রিম সংবাদও দিতে পারে না। রাসূল ﷺ এর এই নির্দেশনা শ্রবণ করে মুআবিয়াহ ফিরে আসেন। (-)

টিকাঃ
"বিরযাওন” জস্ব (সেহা, জাওহারী, ধাতু বিরযান ২০৭৮/৫,

100 সহীহ সুনানে আবী দাউদ, কিতাবুল জিহাদ, পাঠ, মুসলিম ইমাম ও কাফেরের মধ্যে কোন সন্ধি থাকলে তার পানে (আক্রমনের) উদ্দেশ্যে যাওয়ার বিধান কি। হাদীস সংখ্যা৫২৮/২ ২৩৯৭, সহীহ সুনানে তিরমিযী, আবুআব্দুসসিয়ার ফীল-গাদরে, হাদীস সংখ্যা ১১৪-১১০/২ শব্দ আবু দাউদ।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 রাসূলের আদেশ পালনার্থে সাহাবাগণের রেশম ব্যবহার বর্জন

📄 রাসূলের আদেশ পালনার্থে সাহাবাগণের রেশম ব্যবহার বর্জন


ইমাম তাবারী বর্ণনা করেন, যখন মুসলিম সেনা ইয়ারমুক পৌছে তখন রুমদের নিকট সংবাদ পাঠায় যে, আমরা তোমাদের নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই, আমাদেরকে সেখানে গিয়ে আলোচনার সুযোগ দেয়া হোক। রুমী নেতার নিকট মুসলিমদের সংবাদ পৌছনোর পর তাদেরকে আসার ও সাক্ষাতের অনুমতি দেন। আবু উবাইদাহ, ইয়াযীদ বিন আবু সুফিয়ান, আল-হারেস বিন হিশাম, যেরার বিন আল-আযওয়ার এবং আবু জান্দাল বিন সোহায়েল রুমী নেতার নিকট পৌঁছেন, যিনি রুমী বাদশাহর ভাই ছিলেন।(-) রুমী নেতার ত্রিশটি তাবু ও শিবির ছিল, যা ছিল সবই রেশমের তৈরী। যখন তাঁরা তার কাছে পৌছোন তখন তাঁরা সেখানে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, আমাদের জন্য রেশম ব্যবহার বৈধ নয়, আমাদের জন্য বাইরে আসুন, অত:পর রুমী সরদার বাইরে বিছানো কালীনের (কারপেটের) উপর এসে বসেন। এ সংবাদ যখন হিরাকলের নিকট পৌছে যায় তখন সে বলে, এটি প্রথম লাঞ্ছনা, আমি কি তোমাদের এ কথা বলিনি যে, শাম দেশ আর শাম নেই? এক অসুভ নতুন মানুষের আগমনের কারণে রুমীরা আজ ধবংস। (-) অন্য এক বর্ণনায় এ ভাবে রয়েছে: মুসলিম সেনারা বলেন, আমরা তাবুতে প্রবেশ করা বৈধ মনে করি না। অত:পর রুমী সরদার রেশমের কালীণ বিছানোর আদেশ দেন, মুসলিমরা বলেন, আমরা ঐ কালীনেও বসবো না, অবশেষে রুমী সরদার মুসলিমদের সাথে ঐ স্থানে সাক্ষাতের জন্য বসতে রাযী হয় যেখানে তাঁরা বসতে রাযী। (-)

যুদ্ধের মাঠে শত্রুদের যুদ্ধের অবস্থাতেও রাসূল ﷺ এর অনুসরণ থেকে সাহাবাগণ গাফেল হননি। রাসূলের অনুসরণ করতে গিয়ে বাহ্যিক লাভ-নোকসানের পরোয়া তাঁরা করেননি। পূর্বোল্লেখিত ঘটনায় মুসলিম সেনাদের রুমের সীমানা থেকে ফিরে আসা বাহ্যিক ভাবে লাভজনক ছিল না। কিন্তু তাঁরা বিশ্ব প্রতিপালকের প্রিয় ব্যক্তি (নবী) এর অনুকরণের ক্ষেত্রে এ ধরনের হিসাব কিতাব করেননি। বর্তমান যুগের দুর্বল ঈমান ও স্বল্প জ্ঞানের মুসলিমদের মত রাসূল এর আনুগত্যের ক্ষেত্রে এই বলে পার্থক্য করতেন না যে, এটি তুচ্ছ সুন্নত, সেই জন্য এটি বর্জন করা হোক আর অন্যটি গুরুত্ব পূর্ণ সেটি গ্রহণ করা হোক। তাঁরা সুন্নত বর্জন করা থেকে অনেক দূরে ছিলেন। রাসূলের সুন্নতকে দৃঢ় ভাবে ধারণ করা এবং সেই মুতাবিক জীবন পরিচালনা করা তাদের পিপাসা ছিল। তাঁরা রাসূলের সুন্নত থেকে কেমন করে বিমুখ হবেন?
যাঁরা তাঁর মুখ থেকে এই বাণী শ্রবণ করেছেন: " وجعل الذلة والصغار على من خالف أمري" (مسند أحمد رقم الحديث ۱۲۲/۷۵۱۱٥ ، وصححه الشيخ أحمد محمد شاكر (إسناده)
অর্থাৎ আমার আদেশের বিরুদ্ধাচরণকারীদের উপর অপমান ও অসম্মান অবধারিত হয়েছে। (আহমাদ, হাদীস সংখ্যা, ৫১১৫, ৭/১২২, শায়েখ আহমাদ মুহাম্মাদ এই হাদীসের বর্ণনা সূত্রকে শুদ্ধ বলেছেন) (-) তাঁরা তাঁর এই বাণীকে কেবল কর্ণে শ্রবণ করেছেন তায বরং অন্তরের অন্তস্থলে এবং বক্ষে সুরক্ষিত রেখে জীবনের কোন ক্ষেত্রে তা চক্ষের আড়াল হতে দেননি।
মুসলিমদের জয়-পরাজয়কে আল্লাহ কয়েকটি বিষয়ে জড়িয়ে রেখেছেন তা যদি বর্তমান যুগের মুসলিমরা জানত (তাহলে তাদের জন্য কল্যাণকর হত) তার মধ্যে দুটি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ: রাসূলের আনুগত্য ও বিরুদ্ধাচরণ। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর অনুকরণ করবে তার জন্য রয়েছে সম্মান ও বিজয় আর যে ব্যক্তি তাঁর অবাধ্য হবে তার জন্য রয়েছে অপমান। মুসলিম যদি সত্য জিনিস জানত ও গুরুত্ব দিত তাহলে ধবংস ও অপমান থেকে মুক্তি পেত।

টিকাঃ
101 তার নাম ছিল তাযারেক। দেখুন আল-বেদায়াহ অয়াননেহায়াহ ৯/৭১
102 তারিখে তাবারী ৪০৩/৩।
103 আল-বেদায়াহ ওয়াননেহায়াহ ৯-১০/৭।
104 এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণনা করেছেন, (দেখুন আল-মুসনাদ, হাদীস সংখ্যা ১২২/৭,৫১১৫, এটিকে শায়েখ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকের সহীহ বলেছেন। (দেখুন: হুকমুল মুসনাদ, ১২২/৭)

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 সাহাবাগণ রাসূল ﷺ কে নামাযের মধ্যে জুতো খুলতে দেখে অবিলম্বে তাদের জুতো খোলা

📄 সাহাবাগণ রাসূল ﷺ কে নামাযের মধ্যে জুতো খুলতে দেখে অবিলম্বে তাদের জুতো খোলা


নবী প্রেমীরা কেবল তাঁর আদেশ বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধ ছিলেন না বরং আগ্রহের সাথে তাঁর ইশারা-ইঙ্গিত, কর্মকে গভীর ভাবে অনুধাবন করতেন এবং বাস্তবায়ন করতেন অথবা তাঁর অসন্তুষ্টির কারণ এমন বিষয় থেকে দূরে থাকতেন যাতে তাঁদের প্রিয় ব্যক্তি সন্তুষ্ট হোন। এঁরাই ছিলেন সৎ ও উত্তম ব্যক্তি যাঁরা তাঁর আদেশ বাস্তবায়ন করতেন ও নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকতেন। রাসূলের আনুগত্যের উদ্দেশ্যে তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তাঁর সব কিছু খেয়াল করতেন, তাঁকে কোন কর্ম করতে দেখলে তা কাজে রূপান্তরিত করার জন্য প্রতিযোগিতা করতেন, কোন কিছু বর্জন করতে দেখলে তা বর্জন করার জন্য প্রতিযোগিতা করতেন। এ বিষয়ে আবু সাঈদ খুদরীর হাদীস যা ইমাম আবু দাউদ নিজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন:

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال : بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلى بأصحابه، إذ خلع نعليه فوضعهما عن يساره فرأى ذلك القوم، ألقوا نعالهم، فلما قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاته قال: ما حملكم على إلقائكم نعالكم؟ قالوا : رأيناك القيت نعليك فألقينا نعالنا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن جبريل عليه السلام أتاني فأخبرني أن فيها قذراً، وقال إذا جاء أحدكم إلى المسجد فلينظر ، فان رأى في نعليه قذراً أو أذى فليمسحه وليصل فيهما (ابوداود)
অর্থ, আবু সাঈদ খুদরী কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূল নিজ সাহাবাগণকে নামায পড়াচ্ছিলেন। ইতি অবসরে জুতো খুলে বাম পার্শ্বে রাখেন, তাঁরা যখন তাঁকে একাজ করতে দেখেন তখন নিজেদের জুতো খুলে ফেলেন, রাসূল যখন নামায শেষ করেন তখন তাঁদেরকে বলেন, কে তোমাদেরকে জুতো খুলতে উৎসাহিত করল? প্রত্যুত্তরে তাঁরা বলেন, আমরা আপনাকে জুতো খুলতে দেখি তাই আমরাও আমাদের জুতো খুলে ফেলি। অত:পর রাসূল বলেন জিবরীল আমার নিকট এসে সংবাদ দেন যে, তাতে (জুতোয়) অপবিত্র লেগে আছে। এরপর তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন মাসজিদে আসবে তখন জুতো পানে তাকিয়ে দেখবে, যদি তাতে কোন রূপ অপবিত্র অথবা কষ্টদায়ক কিছু দেখে তবে তা মুছে দিয়ে নামায আদায় করবে। (আবু দাউদ) (-)

আল্লাহু আকবার! তাঁরা রাসূলের আদর্শে আদর্শবান হতে কত আগ্রহী ছিলেন!! আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্টি হোন এবং তাঁদেরকে সন্তুষ্ট করুন। তিনি আমাদেরকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

টিকাঃ
109 সহীহ সুনানে আবী দাউদ, কিতাবুস্সালাহ, পাঠ জুতা পরিহিত অবস্থায় নামায, হাদীস সংখ্যা ১২৮/১,৬০৫।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 নবী ﷺ এর নিকট আযাবের কথা শ্রবণ করে জনৈকা মহিলার নিজ গহনা ত্যাগ

📄 নবী ﷺ এর নিকট আযাবের কথা শ্রবণ করে জনৈকা মহিলার নিজ গহনা ত্যাগ


পুরুষারাই কেবল রাসূলের অনুকরণ করতেন তা নয় বরং মু'মিনাহ মহিলা যাঁরা রাসূলকে ভালবাসতেন তাঁরাও তাঁর আনুগত্য করতেন।

عن عبد الله عمرو رضى الله عنهما قال إن امرأة أنت رسول الله ومعها ابنة لها، وفي يد ابنتها مسكتان (١٠٤) غليظتان من ذهب فقال: أتعطين زكاة هذا ، قالت : لا قال : أيسرك أن يسورك الله بهما يوم القيامة سوارين من نار؟ قال: فخلعهما فألقاهما إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقالت: هما الله عز وجل ولرسوله (আবূদাঊদ, সহীহ)
অর্থ, আব্দুল্লাহ বিন আম্র কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক মহিলা তার কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে রাসূলের কাছে আসে, তার কন্যার হাতে ছিল দুটি সোনার বালা, রাসূল বললেন, তুমি কি এর যাকাত আদায় কর? সে বলল, না, রাসূল বললেন, ঐ দুটি বালার কারণে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে জাহান্নামের আগুনের দুটি বালা পরালে তুমি কি তাতে সন্তুষ্ট? বর্ণনাকারী বলেন, (এই কথা শ্রবণ করে) মহিলাটি তার হাত থেকে সে দুটি খুলে রাসূলের নিকটে দিয়ে বলেন, এ দুটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। (আবুদাউদ, সহীহ) (-)
আল্লাহু আকবার! নবী ভক্তা মুমিনা মহিলারাও বালার যাকাত প্রদানের মধ্য দিয়ে তাঁর আনুগত্য সীমাবদ্ধ ছিল না বরং সে দুটি ছেড়ে দেন এবং রাসূলের সামনে দিয়ে দেন।

টিকাঃ
106 বালা, (দেখুন গারীবিল হাদীস, ইবনুল জাওযী, মীম পাঠ, ৩৫৯/২)
107 সহীহ সুনানে আবী দাউদ, কিতাবুয যাকাত, পাঠ, কান্য কি?এবং গয়নার যাকাত, হাদীস সংখ্যা ২৯১/১, ১৩৮২। শায়েখ আল-বানী এটিকে উত্তম বলেছেন (দেখুন, ঐ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00