📄 গৃহ পালিত গাধার মাংস হারাম ঘোষিত হওয়ার সংবাদ শ্রবনের সাথে সাথে সাহাবাগণের ফুটন্ত পাত্র থেকে তা উলটিয়ে ফেলা
সাহাবাদের পছন্দনীয় জিনিস নবী এর পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে তারা তা অবিলম্বে বর্জন করতেন। عن أنس بن مالك رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جاءه جاء فقال أكلت الحمر ، فسكت ثم أتاه الثانية فقال أكلت الحمر ، فسكت ثم أتاه الثالثة فقال أفنيت
الحمر، فأمر مناديا فنادى في الناس إن الله ورسوله ينهيانكم عن لحوم الحمر الأهلية، فاكفيت القدور وإنها لتفور باللحم (البخاري)
অর্থ, আনাস বিন মালিক কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল ﷺ এর নিকটে এসে বলল, গৃহপালিত গাধা খেয়ে ফেলা হল। রাসূল নিরব থাকলেন, সে দ্বিতীয় বার এসে বল্ল, গৃহপালিত গাধা খেয়ে ফেলা হল তিনি চুপ থাকলেন, সে তৃতীয় বার এসে বল্ল, গৃহপালিত গাধা শেষ করে দেয়া হল। এবার তিনি (রাসূল) এক ঘোষণাকারীকে লোকের মাঝে ঘোষণা দেয়ার আদেশ দিলেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল গৃহপালিত গাধার মাংস ভক্ষণ করতে তোমাদেরকে নিষেধ করছেন। অত:পর তাঁরা ফুটন্ত হাঁড়ি থেকে তা ফেলে দেন (বুখারী) (-)
ঐ সকল প্রকৃত নবী প্রেমীগণ কোন রকম বিকল্প পথ, অন্য সুযোগ এবং বাহানা খোঁজেননি, কেমন করে বা খোঁজবেন? কারণ তাঁরা খুব ভাল করে জানেন যে, প্রেমিক
টিকাঃ
* সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, খাইবারের যুদ্ধ, হাদীস সংখ্যা ৪৬৮-৪৬৭/৭,৪১৯৯।
📄 মদ হারাম ঘোষিত হওয়ার সাথে সাথে মদীনার গলিতে মদের স্রোত
নবী প্রেমীদের প্রিয় বস্তু নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে কেবল তাই তারা বর্জন করেছেন, কথা এখানে শেষ নয় বরং তারা যে কাজ করতে বছরের পর বছর অভ্যস্ত, পূর্ব পুরুষের মাধ্যমে প্রাপ্ত তাও বর্জন করেছেন। তারা রাসূলের বিরুদ্ধাচরণে কোন প্রথা বা বাপ দাদাদের দোহাই দেননি, যা বর্তমানে অনেকে করে থাকে। এর প্রমাণে বুখারীর হাদীস:
عن أنس رضى الله عنه قال كنت ساقي القوم في منزل أبي طلحة رضى الله عنه وكان خمرهم يومئذ الفضيح، فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم مناديا ينادي: ألا إن الخمر قد حرمت، قال فقال لي أبو طلحة: اخرج فاهرقها، فخرجت فهرقتها فجرت في سكك المدينة. (البخاري) অর্থ, আনাস কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু তালহার বাড়ীতে লোকদের মদ পান করাচ্ছিলাম, সে দিন "ফাযীহ” নামক এক প্রকার মদ ছিল, রাসূল ﷺ এক জনকে ঘোষণার আদেশ দেন যে, "তোমরা সর্তক হয়ে যাও মদ হারাম করা হয়েছে” আনাস বলেন, আবু তালহা আমাকে বল্লেন, বেরিয়ে যাও এবং মদ ফেলে দাও, আমি বেরিয়ে গেলাম এবং ফেলে দিলাম, এর ফলে মদীনার গলি প্রবাহিত হয়ে যায়। (বুখারী) (*)
মদ হারাম ঘোষিত হওয়ার পর প্রকৃত নবী প্রেমীদের তাঁর আদেশ পালনার্থে তা প্রবাহিত করা ব্যতীত আর কিছু ছিল না, এই জন্যে মদীনার গলিতে মদের স্রোত বয়ে যায়।
ইবনে হাজর বলেন, এ বর্ণনা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, যার নিকটে মদ ছিল সে তা ফেলে দেয়, বেশী পরিমাণে মদ ফেলার কারণে মদীনার গলিতে স্রোত বয়ে যায়।
(ফাতহুল বারী, ১০/৩৯) কোন বাদ-প্রতিবাদ, দ্বিধা এবং পরামর্শ ছাড়াই মদ ফেলে দেয়ার কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَانِي لِقَائِمِ أَسْقِي أَبَا طَلْحَةَ وَفُلَانًا وَفُلَانًا إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ وَهَلْ بَلَغَكُمُ الْخَبَرُ؟ فَقَالُوا وَ مَا ذَاكَ ؟ قَالَ حُرِّمَتِ الْخَمْرُ ، قَالُوا أَهْرِقْ هَذِهِ الْقِلَالَ يَا أَنَسُ ، قَالَ فَمَا سَأَلُوا عَنْهَا وَلَا رَاجَعُوهَا بَعْدَ خَبَرِ الرَّجُلِ. (আল-বুখারী)
অর্থ, আনাস বিন মালেক কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু তালহাকে তার সাথে অমুক অমুককে শরাব পান করাতে রত ছিলাম, ইতি অবসরে একজন এসে বলল, তোমাদের নিকটে কি সংবাদ পৌছেছে? তারা বলল, কিসের সংবাদ? প্রত্যুত্তরে সে বলল, মদ হারাম করা হয়েছে। তারা বলল, হে আনাস! তুমি শরাবের পাত্র গড়িয়ে দাও। আনাস বলেন, তারা ঐ লোকটির ঘোষণার পরে কাউকে মদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেনি এবং কারোর কাছে যায়নি। (বুখারী)
টিকাঃ
97 সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাযালিম, পাঠ, রাস্তায় মদ ঢালা, হাদীস ১১২/৫২৪৬৪。
সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, পাদ(إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ…، الشَّيْطَانُ...) , হাদীস সংখ্যা ২২৭৮, ৪৬১৭।
📄 রাসূলের আদেশ পালনার্থে সাহাবাগণের শত্রুদের সাথে অঙ্গীকার পূরণ
সাহাবাগণের রাসূলের অনুকরণ কেবল সাধারণ অবস্থায় ছিল না বরং সুখে-দুখে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছিল। রাসূল ﷺ এর আদেশ পালনার্থে শত্রুদের সাথে সন্ধির ব্যাপারেও গুরুত্ব দিয়েছেন।
عن سليم بن عامر قال كان بين معاوية رضى الله عنه وبين الروم عهد، وكان يسير نحو بلادهم، حتى إذا انقضى العهد غزاهم فجاء رجل على فرس أو برذون (۱) وهو يقول: الله أكبر الله أكبر وفاء لا غدر ، فنظروا فإذا عمرو بن عبسة رضى الله عنه فأرسل إليه معاوية رضى الله عنه فسأله، فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من كان بينه وبين قوم عهد فلا يشد عقدة ولا يحلها حتى ينقضى أمدها أو ينبذ إليهم على سواء، فرجع معاوية رضی الله عنه (أبو داود، صیحح)
অর্থ, সুলাইম বিন আমের বলেন, মুআবিয়াহ ও রুমদের মধ্যে (যুদ্ধ না করার সন্ধি ছিল, (চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে) মুআবিয়াহ তাদের দেশের পানে যেতে আরম্ভ করেন, যাতে সন্ধির মিয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে যুদ্ধ করতে সক্ষম হন, এমন সময় জনৈক ব্যক্তি ঘোড়া অথবা কোন বাহনে আরোহণ করে এসে বলে, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার” অঙ্গীকার পূরণ করা কর্তব্য বিশ্বাসঘাতকতা নয়। তারা লোকটিকে চিনতে পারল সে “আম্র বিন আবাস” মুআবিয়াহ এর কারণ জিজ্ঞাসা করার জন্য তাকে ডেকে পাঠান। অত:পর সে বলল, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, যার কোন কাউমের সাথে সন্ধি আছে সে ঐ সন্ধির মিয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তাতে কোন কম-বেশী করতে পারে না অথবা তাদেরকে সন্ধি শেষ হওয়ার ব্যাপারে অগ্রিম সংবাদও দিতে পারে না। রাসূল ﷺ এর এই নির্দেশনা শ্রবণ করে মুআবিয়াহ ফিরে আসেন। (-)
টিকাঃ
"বিরযাওন” জস্ব (সেহা, জাওহারী, ধাতু বিরযান ২০৭৮/৫,
100 সহীহ সুনানে আবী দাউদ, কিতাবুল জিহাদ, পাঠ, মুসলিম ইমাম ও কাফেরের মধ্যে কোন সন্ধি থাকলে তার পানে (আক্রমনের) উদ্দেশ্যে যাওয়ার বিধান কি। হাদীস সংখ্যা৫২৮/২ ২৩৯৭, সহীহ সুনানে তিরমিযী, আবুআব্দুসসিয়ার ফীল-গাদরে, হাদীস সংখ্যা ১১৪-১১০/২ শব্দ আবু দাউদ।
📄 রাসূলের আদেশ পালনার্থে সাহাবাগণের রেশম ব্যবহার বর্জন
ইমাম তাবারী বর্ণনা করেন, যখন মুসলিম সেনা ইয়ারমুক পৌছে তখন রুমদের নিকট সংবাদ পাঠায় যে, আমরা তোমাদের নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই, আমাদেরকে সেখানে গিয়ে আলোচনার সুযোগ দেয়া হোক। রুমী নেতার নিকট মুসলিমদের সংবাদ পৌছনোর পর তাদেরকে আসার ও সাক্ষাতের অনুমতি দেন। আবু উবাইদাহ, ইয়াযীদ বিন আবু সুফিয়ান, আল-হারেস বিন হিশাম, যেরার বিন আল-আযওয়ার এবং আবু জান্দাল বিন সোহায়েল রুমী নেতার নিকট পৌঁছেন, যিনি রুমী বাদশাহর ভাই ছিলেন।(-) রুমী নেতার ত্রিশটি তাবু ও শিবির ছিল, যা ছিল সবই রেশমের তৈরী। যখন তাঁরা তার কাছে পৌছোন তখন তাঁরা সেখানে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, আমাদের জন্য রেশম ব্যবহার বৈধ নয়, আমাদের জন্য বাইরে আসুন, অত:পর রুমী সরদার বাইরে বিছানো কালীনের (কারপেটের) উপর এসে বসেন। এ সংবাদ যখন হিরাকলের নিকট পৌছে যায় তখন সে বলে, এটি প্রথম লাঞ্ছনা, আমি কি তোমাদের এ কথা বলিনি যে, শাম দেশ আর শাম নেই? এক অসুভ নতুন মানুষের আগমনের কারণে রুমীরা আজ ধবংস। (-) অন্য এক বর্ণনায় এ ভাবে রয়েছে: মুসলিম সেনারা বলেন, আমরা তাবুতে প্রবেশ করা বৈধ মনে করি না। অত:পর রুমী সরদার রেশমের কালীণ বিছানোর আদেশ দেন, মুসলিমরা বলেন, আমরা ঐ কালীনেও বসবো না, অবশেষে রুমী সরদার মুসলিমদের সাথে ঐ স্থানে সাক্ষাতের জন্য বসতে রাযী হয় যেখানে তাঁরা বসতে রাযী। (-)
যুদ্ধের মাঠে শত্রুদের যুদ্ধের অবস্থাতেও রাসূল ﷺ এর অনুসরণ থেকে সাহাবাগণ গাফেল হননি। রাসূলের অনুসরণ করতে গিয়ে বাহ্যিক লাভ-নোকসানের পরোয়া তাঁরা করেননি। পূর্বোল্লেখিত ঘটনায় মুসলিম সেনাদের রুমের সীমানা থেকে ফিরে আসা বাহ্যিক ভাবে লাভজনক ছিল না। কিন্তু তাঁরা বিশ্ব প্রতিপালকের প্রিয় ব্যক্তি (নবী) এর অনুকরণের ক্ষেত্রে এ ধরনের হিসাব কিতাব করেননি। বর্তমান যুগের দুর্বল ঈমান ও স্বল্প জ্ঞানের মুসলিমদের মত রাসূল এর আনুগত্যের ক্ষেত্রে এই বলে পার্থক্য করতেন না যে, এটি তুচ্ছ সুন্নত, সেই জন্য এটি বর্জন করা হোক আর অন্যটি গুরুত্ব পূর্ণ সেটি গ্রহণ করা হোক। তাঁরা সুন্নত বর্জন করা থেকে অনেক দূরে ছিলেন। রাসূলের সুন্নতকে দৃঢ় ভাবে ধারণ করা এবং সেই মুতাবিক জীবন পরিচালনা করা তাদের পিপাসা ছিল। তাঁরা রাসূলের সুন্নত থেকে কেমন করে বিমুখ হবেন?
যাঁরা তাঁর মুখ থেকে এই বাণী শ্রবণ করেছেন: " وجعل الذلة والصغار على من خالف أمري" (مسند أحمد رقم الحديث ۱۲۲/۷۵۱۱٥ ، وصححه الشيخ أحمد محمد شاكر (إسناده)
অর্থাৎ আমার আদেশের বিরুদ্ধাচরণকারীদের উপর অপমান ও অসম্মান অবধারিত হয়েছে। (আহমাদ, হাদীস সংখ্যা, ৫১১৫, ৭/১২২, শায়েখ আহমাদ মুহাম্মাদ এই হাদীসের বর্ণনা সূত্রকে শুদ্ধ বলেছেন) (-) তাঁরা তাঁর এই বাণীকে কেবল কর্ণে শ্রবণ করেছেন তায বরং অন্তরের অন্তস্থলে এবং বক্ষে সুরক্ষিত রেখে জীবনের কোন ক্ষেত্রে তা চক্ষের আড়াল হতে দেননি।
মুসলিমদের জয়-পরাজয়কে আল্লাহ কয়েকটি বিষয়ে জড়িয়ে রেখেছেন তা যদি বর্তমান যুগের মুসলিমরা জানত (তাহলে তাদের জন্য কল্যাণকর হত) তার মধ্যে দুটি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ: রাসূলের আনুগত্য ও বিরুদ্ধাচরণ। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর অনুকরণ করবে তার জন্য রয়েছে সম্মান ও বিজয় আর যে ব্যক্তি তাঁর অবাধ্য হবে তার জন্য রয়েছে অপমান। মুসলিম যদি সত্য জিনিস জানত ও গুরুত্ব দিত তাহলে ধবংস ও অপমান থেকে মুক্তি পেত।
টিকাঃ
101 তার নাম ছিল তাযারেক। দেখুন আল-বেদায়াহ অয়াননেহায়াহ ৯/৭১
102 তারিখে তাবারী ৪০৩/৩।
103 আল-বেদায়াহ ওয়াননেহায়াহ ৯-১০/৭।
104 এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণনা করেছেন, (দেখুন আল-মুসনাদ, হাদীস সংখ্যা ১২২/৭,৫১১৫, এটিকে শায়েখ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকের সহীহ বলেছেন। (দেখুন: হুকমুল মুসনাদ, ১২২/৭)