📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 সফরে অবতরণ কালে সাহাবাদের একাপরের কাছে বসার ব্যাপারে অবিলম্বে রাসূলের আদেশ বাস্তবায়ন

📄 সফরে অবতরণ কালে সাহাবাদের একাপরের কাছে বসার ব্যাপারে অবিলম্বে রাসূলের আদেশ বাস্তবায়ন


তাঁদের আনুগত্য কেবল নামাযের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং অন্যান্য ক্ষেত্রেও পূর্ণ আনুগত্য ছিল। সফরে অবতরণের আদব-কায়দা সম্পর্কে তাঁর আদেশ পালনের জন্য সাহাবাদের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে ইমাম আবু দাউদের হাদীস:

عن أبي ثعلبة الخشني رضى الله عنه قال " كان الناس إذا نزلوا منزلا تفرقوا في الشعاب والأودية، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إن تفرقكم في هذه الشعاب والأودية إنما ذلكم من الشيطان، فلم ينزل بعد ذلك منزلا إلا انضم بعضهم إلى بعض حتى يقال لو بسط عليهم ثوب لعمهم (ابوداود صحيح)
অর্থ, আবু সা,লাবাহ আল-খুশানী কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, মানুষেরা যখন সফরে অবতরণ করত তখন বিভিন্ন ঘাঁটি ও সমতল ভূমিতে ছড়িয়ে যেত, এ দেখে রাসূল বলেন, তোমাদের বিভিন্ন ঘাঁটি ও সমতল ভূমিতে ছড়িয়ে যাওয়া নিশ্চয় শয়তানের কাজ। এরপর হতে তারা যখন কোন স্থানে অবতরণ করত তখন এত কাছা-কাছি বসত যে তাদেরকে যদি একটি কাপড়ে আবৃত করা হত তাহলে তা সম্ভব ছিল। (-)

টিকাঃ
৯৫ সহীহ সুনানে আবীদাউদ, কিতাবুল জিহাদ, পাঠ, সৈনিকদের একত্রে বসার আদেশ, হাদীস সংখ্যা ৪৯ ৮/২, ২,২৮৮, সফরের অবস্থায় মুসলিমদের বিছিন্ন হয়ে বসা রাসুল বরদাস্ত করেননি, তাহলে আজকের দিনে মুসলিমরা যে প্রতিটি বিষয়ে বিছিন্ন হচ্ছে তাদের অবস্থা কি? আল্লাহর কাছে অভিযোগ করছি তিনিই এক মাত্র আশ্রয় স্থল।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 গৃহ পালিত গাধার মাংস হারাম ঘোষিত হওয়ার সংবাদ শ্রবনের সাথে সাথে সাহাবাগণের ফুটন্ত পাত্র থেকে তা উলটিয়ে ফেলা

📄 গৃহ পালিত গাধার মাংস হারাম ঘোষিত হওয়ার সংবাদ শ্রবনের সাথে সাথে সাহাবাগণের ফুটন্ত পাত্র থেকে তা উলটিয়ে ফেলা


সাহাবাদের পছন্দনীয় জিনিস নবী এর পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে তারা তা অবিলম্বে বর্জন করতেন। عن أنس بن مالك رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جاءه جاء فقال أكلت الحمر ، فسكت ثم أتاه الثانية فقال أكلت الحمر ، فسكت ثم أتاه الثالثة فقال أفنيت
الحمر، فأمر مناديا فنادى في الناس إن الله ورسوله ينهيانكم عن لحوم الحمر الأهلية، فاكفيت القدور وإنها لتفور باللحم (البخاري)
অর্থ, আনাস বিন মালিক কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল ﷺ এর নিকটে এসে বলল, গৃহপালিত গাধা খেয়ে ফেলা হল। রাসূল নিরব থাকলেন, সে দ্বিতীয় বার এসে বল্ল, গৃহপালিত গাধা খেয়ে ফেলা হল তিনি চুপ থাকলেন, সে তৃতীয় বার এসে বল্ল, গৃহপালিত গাধা শেষ করে দেয়া হল। এবার তিনি (রাসূল) এক ঘোষণাকারীকে লোকের মাঝে ঘোষণা দেয়ার আদেশ দিলেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল গৃহপালিত গাধার মাংস ভক্ষণ করতে তোমাদেরকে নিষেধ করছেন। অত:পর তাঁরা ফুটন্ত হাঁড়ি থেকে তা ফেলে দেন (বুখারী) (-)

ঐ সকল প্রকৃত নবী প্রেমীগণ কোন রকম বিকল্প পথ, অন্য সুযোগ এবং বাহানা খোঁজেননি, কেমন করে বা খোঁজবেন? কারণ তাঁরা খুব ভাল করে জানেন যে, প্রেমিক

টিকাঃ
* সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, খাইবারের যুদ্ধ, হাদীস সংখ্যা ৪৬৮-৪৬৭/৭,৪১৯৯।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 মদ হারাম ঘোষিত হওয়ার সাথে সাথে মদীনার গলিতে মদের স্রোত

📄 মদ হারাম ঘোষিত হওয়ার সাথে সাথে মদীনার গলিতে মদের স্রোত


নবী প্রেমীদের প্রিয় বস্তু নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে কেবল তাই তারা বর্জন করেছেন, কথা এখানে শেষ নয় বরং তারা যে কাজ করতে বছরের পর বছর অভ্যস্ত, পূর্ব পুরুষের মাধ্যমে প্রাপ্ত তাও বর্জন করেছেন। তারা রাসূলের বিরুদ্ধাচরণে কোন প্রথা বা বাপ দাদাদের দোহাই দেননি, যা বর্তমানে অনেকে করে থাকে। এর প্রমাণে বুখারীর হাদীস:

عن أنس رضى الله عنه قال كنت ساقي القوم في منزل أبي طلحة رضى الله عنه وكان خمرهم يومئذ الفضيح، فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم مناديا ينادي: ألا إن الخمر قد حرمت، قال فقال لي أبو طلحة: اخرج فاهرقها، فخرجت فهرقتها فجرت في سكك المدينة. (البخاري) অর্থ, আনাস কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু তালহার বাড়ীতে লোকদের মদ পান করাচ্ছিলাম, সে দিন "ফাযীহ” নামক এক প্রকার মদ ছিল, রাসূল ﷺ এক জনকে ঘোষণার আদেশ দেন যে, "তোমরা সর্তক হয়ে যাও মদ হারাম করা হয়েছে” আনাস বলেন, আবু তালহা আমাকে বল্লেন, বেরিয়ে যাও এবং মদ ফেলে দাও, আমি বেরিয়ে গেলাম এবং ফেলে দিলাম, এর ফলে মদীনার গলি প্রবাহিত হয়ে যায়। (বুখারী) (*)

মদ হারাম ঘোষিত হওয়ার পর প্রকৃত নবী প্রেমীদের তাঁর আদেশ পালনার্থে তা প্রবাহিত করা ব্যতীত আর কিছু ছিল না, এই জন্যে মদীনার গলিতে মদের স্রোত বয়ে যায়।

ইবনে হাজর বলেন, এ বর্ণনা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, যার নিকটে মদ ছিল সে তা ফেলে দেয়, বেশী পরিমাণে মদ ফেলার কারণে মদীনার গলিতে স্রোত বয়ে যায়।

(ফাতহুল বারী, ১০/৩৯) কোন বাদ-প্রতিবাদ, দ্বিধা এবং পরামর্শ ছাড়াই মদ ফেলে দেয়ার কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَانِي لِقَائِمِ أَسْقِي أَبَا طَلْحَةَ وَفُلَانًا وَفُلَانًا إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ وَهَلْ بَلَغَكُمُ الْخَبَرُ؟ فَقَالُوا وَ مَا ذَاكَ ؟ قَالَ حُرِّمَتِ الْخَمْرُ ، قَالُوا أَهْرِقْ هَذِهِ الْقِلَالَ يَا أَنَسُ ، قَالَ فَمَا سَأَلُوا عَنْهَا وَلَا رَاجَعُوهَا بَعْدَ خَبَرِ الرَّجُلِ. (আল-বুখারী)
অর্থ, আনাস বিন মালেক কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু তালহাকে তার সাথে অমুক অমুককে শরাব পান করাতে রত ছিলাম, ইতি অবসরে একজন এসে বলল, তোমাদের নিকটে কি সংবাদ পৌছেছে? তারা বলল, কিসের সংবাদ? প্রত্যুত্তরে সে বলল, মদ হারাম করা হয়েছে। তারা বলল, হে আনাস! তুমি শরাবের পাত্র গড়িয়ে দাও। আনাস বলেন, তারা ঐ লোকটির ঘোষণার পরে কাউকে মদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেনি এবং কারোর কাছে যায়নি। (বুখারী)

টিকাঃ
97 সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাযালিম, পাঠ, রাস্তায় মদ ঢালা, হাদীস ১১২/৫২৪৬৪。
সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, পাদ(إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ…، الشَّيْطَانُ...) , হাদীস সংখ্যা ২২৭৮, ৪৬১৭।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 রাসূলের আদেশ পালনার্থে সাহাবাগণের শত্রুদের সাথে অঙ্গীকার পূরণ

📄 রাসূলের আদেশ পালনার্থে সাহাবাগণের শত্রুদের সাথে অঙ্গীকার পূরণ


সাহাবাগণের রাসূলের অনুকরণ কেবল সাধারণ অবস্থায় ছিল না বরং সুখে-দুখে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছিল। রাসূল ﷺ এর আদেশ পালনার্থে শত্রুদের সাথে সন্ধির ব্যাপারেও গুরুত্ব দিয়েছেন।
عن سليم بن عامر قال كان بين معاوية رضى الله عنه وبين الروم عهد، وكان يسير نحو بلادهم، حتى إذا انقضى العهد غزاهم فجاء رجل على فرس أو برذون (۱) وهو يقول: الله أكبر الله أكبر وفاء لا غدر ، فنظروا فإذا عمرو بن عبسة رضى الله عنه فأرسل إليه معاوية رضى الله عنه فسأله، فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من كان بينه وبين قوم عهد فلا يشد عقدة ولا يحلها حتى ينقضى أمدها أو ينبذ إليهم على سواء، فرجع معاوية رضی الله عنه (أبو داود، صیحح)

অর্থ, সুলাইম বিন আমের বলেন, মুআবিয়াহ ও রুমদের মধ্যে (যুদ্ধ না করার সন্ধি ছিল, (চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে) মুআবিয়াহ তাদের দেশের পানে যেতে আরম্ভ করেন, যাতে সন্ধির মিয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে যুদ্ধ করতে সক্ষম হন, এমন সময় জনৈক ব্যক্তি ঘোড়া অথবা কোন বাহনে আরোহণ করে এসে বলে, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার” অঙ্গীকার পূরণ করা কর্তব্য বিশ্বাসঘাতকতা নয়। তারা লোকটিকে চিনতে পারল সে “আম্র বিন আবাস” মুআবিয়াহ এর কারণ জিজ্ঞাসা করার জন্য তাকে ডেকে পাঠান। অত:পর সে বলল, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, যার কোন কাউমের সাথে সন্ধি আছে সে ঐ সন্ধির মিয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তাতে কোন কম-বেশী করতে পারে না অথবা তাদেরকে সন্ধি শেষ হওয়ার ব্যাপারে অগ্রিম সংবাদও দিতে পারে না। রাসূল ﷺ এর এই নির্দেশনা শ্রবণ করে মুআবিয়াহ ফিরে আসেন। (-)

টিকাঃ
"বিরযাওন” জস্ব (সেহা, জাওহারী, ধাতু বিরযান ২০৭৮/৫,

100 সহীহ সুনানে আবী দাউদ, কিতাবুল জিহাদ, পাঠ, মুসলিম ইমাম ও কাফেরের মধ্যে কোন সন্ধি থাকলে তার পানে (আক্রমনের) উদ্দেশ্যে যাওয়ার বিধান কি। হাদীস সংখ্যা৫২৮/২ ২৩৯৭, সহীহ সুনানে তিরমিযী, আবুআব্দুসসিয়ার ফীল-গাদরে, হাদীস সংখ্যা ১১৪-১১০/২ শব্দ আবু দাউদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00