📄 রুকুর অবস্হায় আনসার গোষ্টীর কাবার দিকে অবিলম্বে মুখ ফিরানো
عن البراء رضي الله عنه قال لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة صلى نحو بيت المقدس ستة عشر أو سبعة عشر شهرا وكان يحب أن يوجه إلى الكعبة، فأنزل الله تعالى" قد نرى تقلب وجهك في السماء فلنولينك قبلة ترضاها" فوجه نحو الكعبة ، وصلى معه رجل العصر، ثم خرج فمر على قوم من الأنصار، فقال: هو يشهد أنه صلى مع النبي صلى الله عليه وسلم و إنه قد وجه إلى الكعبة، فانحرفوا وهم ركوع في صلاة العصر (البخاري)
অর্থ, বারা, কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল যখন মদীনায় আসেন তখন ১৬ অথবা ১৭ মাস বাইতুল মাকদেসের পানে মুখ করে নামায পড়েন। অথচ তাঁর আন্তরিক ইচ্ছা ছিল কা, বার দিকে মুখ করে নামায পড়া। সেই জন্য আল্লাহ এই আয়াত অবর্তীণ করেন: অর্থ, "আমি আপনার চেহারা আকাশের দিকে ফিরাতে দেখছি, নিশ্চয় আপনাকে ঐ কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি যা আপনি সন্তুষ্ট চিত্তে চান। অত:পর তিনি কা, বার দিকে ঘুরে যান। তার সঙ্গে জনৈক ব্যক্তি আসরের নামায পড়েন এবং আনসার গোষ্ঠীর (পাড়ার) পাশ দিয়ে পেরিয়ে যান ও সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, সে রাসূল ﷺ এর সাথে নামায পড়েছে, তিনি কা’বার দিকে ঘুরে নামায পড়েছেন। আনসারগণ (এ কথা শ্রবণ করার সাথে সাথে) আসরের নামাযের রুকুর অবস্থায় (কা’বার) দিকে ফিরে যান। (বুখারী) (-)
প্রিয় নবীর আনুগত্যের জন্য তাদের কি তৎপরতা! তাঁরা যখন রাসূল ﷺ এর পক্ষ হতে সংবাদ শ্রবণ করেন তখন তাঁরা তা গ্রহণ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হননি বরং রুকু থেকে মাথা উঠানো পর্যন্ত বিলম্ব করেননি। রাসূল ﷺ যে দিকে ঘুরেছেন তাঁরাও অবিলম্বে সে দিকে ঘুরেছেন।
টিকাঃ
* সহীহ বুখারী, কিতাবু আখবারিল আহাদ, একক সত্যবাদী বর্ণনাকারীর অনুমতী। হাদীস সংখ্যা ২৩২/১৩,৭২৫২।
📄 সফরে অবতরণ কালে সাহাবাদের একাপরের কাছে বসার ব্যাপারে অবিলম্বে রাসূলের আদেশ বাস্তবায়ন
তাঁদের আনুগত্য কেবল নামাযের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং অন্যান্য ক্ষেত্রেও পূর্ণ আনুগত্য ছিল। সফরে অবতরণের আদব-কায়দা সম্পর্কে তাঁর আদেশ পালনের জন্য সাহাবাদের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে ইমাম আবু দাউদের হাদীস:
عن أبي ثعلبة الخشني رضى الله عنه قال " كان الناس إذا نزلوا منزلا تفرقوا في الشعاب والأودية، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إن تفرقكم في هذه الشعاب والأودية إنما ذلكم من الشيطان، فلم ينزل بعد ذلك منزلا إلا انضم بعضهم إلى بعض حتى يقال لو بسط عليهم ثوب لعمهم (ابوداود صحيح)
অর্থ, আবু সা,লাবাহ আল-খুশানী কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, মানুষেরা যখন সফরে অবতরণ করত তখন বিভিন্ন ঘাঁটি ও সমতল ভূমিতে ছড়িয়ে যেত, এ দেখে রাসূল বলেন, তোমাদের বিভিন্ন ঘাঁটি ও সমতল ভূমিতে ছড়িয়ে যাওয়া নিশ্চয় শয়তানের কাজ। এরপর হতে তারা যখন কোন স্থানে অবতরণ করত তখন এত কাছা-কাছি বসত যে তাদেরকে যদি একটি কাপড়ে আবৃত করা হত তাহলে তা সম্ভব ছিল। (-)
টিকাঃ
৯৫ সহীহ সুনানে আবীদাউদ, কিতাবুল জিহাদ, পাঠ, সৈনিকদের একত্রে বসার আদেশ, হাদীস সংখ্যা ৪৯ ৮/২, ২,২৮৮, সফরের অবস্থায় মুসলিমদের বিছিন্ন হয়ে বসা রাসুল বরদাস্ত করেননি, তাহলে আজকের দিনে মুসলিমরা যে প্রতিটি বিষয়ে বিছিন্ন হচ্ছে তাদের অবস্থা কি? আল্লাহর কাছে অভিযোগ করছি তিনিই এক মাত্র আশ্রয় স্থল।
📄 গৃহ পালিত গাধার মাংস হারাম ঘোষিত হওয়ার সংবাদ শ্রবনের সাথে সাথে সাহাবাগণের ফুটন্ত পাত্র থেকে তা উলটিয়ে ফেলা
সাহাবাদের পছন্দনীয় জিনিস নবী এর পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে তারা তা অবিলম্বে বর্জন করতেন। عن أنس بن مالك رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جاءه جاء فقال أكلت الحمر ، فسكت ثم أتاه الثانية فقال أكلت الحمر ، فسكت ثم أتاه الثالثة فقال أفنيت
الحمر، فأمر مناديا فنادى في الناس إن الله ورسوله ينهيانكم عن لحوم الحمر الأهلية، فاكفيت القدور وإنها لتفور باللحم (البخاري)
অর্থ, আনাস বিন মালিক কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল ﷺ এর নিকটে এসে বলল, গৃহপালিত গাধা খেয়ে ফেলা হল। রাসূল নিরব থাকলেন, সে দ্বিতীয় বার এসে বল্ল, গৃহপালিত গাধা খেয়ে ফেলা হল তিনি চুপ থাকলেন, সে তৃতীয় বার এসে বল্ল, গৃহপালিত গাধা শেষ করে দেয়া হল। এবার তিনি (রাসূল) এক ঘোষণাকারীকে লোকের মাঝে ঘোষণা দেয়ার আদেশ দিলেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল গৃহপালিত গাধার মাংস ভক্ষণ করতে তোমাদেরকে নিষেধ করছেন। অত:পর তাঁরা ফুটন্ত হাঁড়ি থেকে তা ফেলে দেন (বুখারী) (-)
ঐ সকল প্রকৃত নবী প্রেমীগণ কোন রকম বিকল্প পথ, অন্য সুযোগ এবং বাহানা খোঁজেননি, কেমন করে বা খোঁজবেন? কারণ তাঁরা খুব ভাল করে জানেন যে, প্রেমিক
টিকাঃ
* সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, খাইবারের যুদ্ধ, হাদীস সংখ্যা ৪৬৮-৪৬৭/৭,৪১৯৯।
📄 মদ হারাম ঘোষিত হওয়ার সাথে সাথে মদীনার গলিতে মদের স্রোত
নবী প্রেমীদের প্রিয় বস্তু নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে কেবল তাই তারা বর্জন করেছেন, কথা এখানে শেষ নয় বরং তারা যে কাজ করতে বছরের পর বছর অভ্যস্ত, পূর্ব পুরুষের মাধ্যমে প্রাপ্ত তাও বর্জন করেছেন। তারা রাসূলের বিরুদ্ধাচরণে কোন প্রথা বা বাপ দাদাদের দোহাই দেননি, যা বর্তমানে অনেকে করে থাকে। এর প্রমাণে বুখারীর হাদীস:
عن أنس رضى الله عنه قال كنت ساقي القوم في منزل أبي طلحة رضى الله عنه وكان خمرهم يومئذ الفضيح، فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم مناديا ينادي: ألا إن الخمر قد حرمت، قال فقال لي أبو طلحة: اخرج فاهرقها، فخرجت فهرقتها فجرت في سكك المدينة. (البخاري) অর্থ, আনাস কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু তালহার বাড়ীতে লোকদের মদ পান করাচ্ছিলাম, সে দিন "ফাযীহ” নামক এক প্রকার মদ ছিল, রাসূল ﷺ এক জনকে ঘোষণার আদেশ দেন যে, "তোমরা সর্তক হয়ে যাও মদ হারাম করা হয়েছে” আনাস বলেন, আবু তালহা আমাকে বল্লেন, বেরিয়ে যাও এবং মদ ফেলে দাও, আমি বেরিয়ে গেলাম এবং ফেলে দিলাম, এর ফলে মদীনার গলি প্রবাহিত হয়ে যায়। (বুখারী) (*)
মদ হারাম ঘোষিত হওয়ার পর প্রকৃত নবী প্রেমীদের তাঁর আদেশ পালনার্থে তা প্রবাহিত করা ব্যতীত আর কিছু ছিল না, এই জন্যে মদীনার গলিতে মদের স্রোত বয়ে যায়।
ইবনে হাজর বলেন, এ বর্ণনা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, যার নিকটে মদ ছিল সে তা ফেলে দেয়, বেশী পরিমাণে মদ ফেলার কারণে মদীনার গলিতে স্রোত বয়ে যায়।
(ফাতহুল বারী, ১০/৩৯) কোন বাদ-প্রতিবাদ, দ্বিধা এবং পরামর্শ ছাড়াই মদ ফেলে দেয়ার কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَانِي لِقَائِمِ أَسْقِي أَبَا طَلْحَةَ وَفُلَانًا وَفُلَانًا إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ وَهَلْ بَلَغَكُمُ الْخَبَرُ؟ فَقَالُوا وَ مَا ذَاكَ ؟ قَالَ حُرِّمَتِ الْخَمْرُ ، قَالُوا أَهْرِقْ هَذِهِ الْقِلَالَ يَا أَنَسُ ، قَالَ فَمَا سَأَلُوا عَنْهَا وَلَا رَاجَعُوهَا بَعْدَ خَبَرِ الرَّجُلِ. (আল-বুখারী)
অর্থ, আনাস বিন মালেক কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু তালহাকে তার সাথে অমুক অমুককে শরাব পান করাতে রত ছিলাম, ইতি অবসরে একজন এসে বলল, তোমাদের নিকটে কি সংবাদ পৌছেছে? তারা বলল, কিসের সংবাদ? প্রত্যুত্তরে সে বলল, মদ হারাম করা হয়েছে। তারা বলল, হে আনাস! তুমি শরাবের পাত্র গড়িয়ে দাও। আনাস বলেন, তারা ঐ লোকটির ঘোষণার পরে কাউকে মদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেনি এবং কারোর কাছে যায়নি। (বুখারী)
টিকাঃ
97 সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাযালিম, পাঠ, রাস্তায় মদ ঢালা, হাদীস ১১২/৫২৪৬৪。
সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, পাদ(إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ…، الشَّيْطَانُ...) , হাদীস সংখ্যা ২২৭৮, ৪৬১৭।