📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 আবুদাজানা রাসূলের জন্য ঢাল

📄 আবুদাজানা রাসূলের জন্য ঢাল


ইমাম ইবনে ইসহাক রাসূলের অন্য এক প্রকৃত প্রেমিকের কথা তার ভাষায় এ ভাবে বর্ণনা করেন, "আবু দুজানা রাসূলের জন্য নিজকে ঢাল বানান, তিনি ঝুকে থাকেন এবং তীর তার পৃষ্ঠে বিঁধতে থাকে, এমন কি তাঁর পিঠে অসংখ্য তীর বিদ্ধ হয়। (-) অন্য বর্ণনায় রয়েছে, এ অবস্থায় তিনি নড়চড়ও করেননি। (-) আল্লাহু আকবার! কোন্ বস্তু আবু দুজানাকে রাসূলের জন্য ঢাল হওয়া, ঝুকা এবং পিঠে তীর বিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও নিরবে ধৈর্য ধারণ করতে উৎসাহিত করল? নিশ্চয় সেটি রাসূলের জন্য নির্মল ভালবাসা। (আসিরাতুন নাববীয়হ, ইবনে হিশাম৩/৩০, তারিখুল ইসলাম, যাহাবী ১৭৪-১৭৫)

টিকাঃ
*2 আসসিরাতুন নাববীয়াহ, ইবনে হিশাম, ৩০/৩, এবং দেখুন আসসিরাতুন নাববীয়াহ, ইবনে হিব্বান আল-বাসতী পৃ: ২২৪, তারীখে ইসলাম (আমাগযী), আযযাহাবী, পৃঃ ১৭৫-১৭৪।
83 জাওয়ামিউস্ সিরাহ, ইবনে হাযম পৃ: ১৬২, এবং দেখুন যাদুল মাআদ, ১৯৭/৩।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 রাসূলের জন্য জীবন দানকারী জনৈক আনসারীর তাঁর পায়ের উপর মাথা রেখে মৃত্যু বরণ

📄 রাসূলের জন্য জীবন দানকারী জনৈক আনসারীর তাঁর পায়ের উপর মাথা রেখে মৃত্যু বরণ


ইতিহাস ও জীবনী গ্রন্থ রাসূলের অন্য এক সত্য প্রেমিকের জান কুরবানীর কথা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, তিনি রাসূলের প্রতিরক্ষার জন্য জীবন দিয়েছিলেন। রাসূলের পবিত্র কদমের উপর মাথা রেখে মৃত্যু বরণ করেন। এটিও উদ্দেশ্যের যুদ্ধের ঘটনা। ইমাম ইবনে ইসহাক বলেন, শত্রু পক্ষ যখন তাঁকে ঘিরে ফেলে, তখন তিনি বলেন, “কে এমন আছে, যে আমার জন্য নিজ জীবনকে বিক্রি করবে?” অতঃপর যিয়াদ বিন সাকান সহ আনসার গোষ্ঠীর পাঁচ ব্যক্তি প্রস্তুত হয়ে যান। অন্য বর্ণনাকারী বলেন, তিনি ছিলেন আম্মার বিন ইয়াযিদ বিন আস্সাকান, তাঁরা একে একে রাসূলের জন্য যুদ্ধ করতে থাকেন এবং শহীদ হতে থাকেন, তাঁদের সব শেষ ব্যক্তি যিয়াদ অথবা আম্মার বাকী থাকেন, তিনিও যুদ্ধ করেন এবং আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তারপর মুসলিমদের এক দল এসে তাকে সরিয়ে দেয়। (-) রাসূল তাদেরকে বলেন, ওকে আমার কাছে নিয়ে এসো, তাকে তাঁর কাছে নিয়ে আসা হয়, অত:পর রাসূল নিজ পা তার দিকে বাড়িয়ে দেন এবং তিনি তাঁর কদমের উপর মাথা রেখে মৃত্যু বরণ করেন। (-) আল্লাহু আকবার কি সুন্দর এই মৃত্যু!!

টিকাঃ
দেখুন আননেহায়া ফী-গারীবিল হাদীস অল-আসার, ধাতু" জাহাযা" ৩২২/১, আসসিরাতুন নাববীয়াহ, ইবনে হিশাম, ২৯/৩, এবং দেখুন আসসিরাতুন নাববীয়াহ, ইবনে হিব্বান আল-বাসতী পৃ: ২২৪-২২৩, তারিখুল ইসলাম (আল-মাগাযী) আযযাহাবী পৃ: ১৭৪।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 সা'দ বিন রাবী তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পযর্ন্ত রাসূলের নিরাপত্তার জন্য যত্নবান

📄 সা'দ বিন রাবী তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পযর্ন্ত রাসূলের নিরাপত্তার জন্য যত্নবান


নবীজীর আরো এক প্রকৃত প্রেমীকে দেখি, যিনি উহুদের যুদ্ধে আহত হন, যাঁর শরীরে তীর, তলোয়ার, বর্শা এবং ফলার সত্তরটি আঘাত করা হয়। সম্পদ, আত্মীয়- স্বজন এবং দুনিয়া ও তার মাঝে যা আছে তা ছেড়ে যেতে কেবল কিছুক্ষণ বাকী, এ মুহূর্তে তিনি কি চিন্তা করছেন?

কি ভাবছেন? তিনি কি নিয়ে চিন্তা করছেন তা যায়েদ বিন সাবেত থেকে ইমাম হাকেম এভাবে বর্ণনা করেছেন,

عن زيد بن ثابت رضي الله عنه قال: بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم أحد لطلب سعد بن الربيع رضى الله عنه وقال لي: إن رأيته فاقرأ مني السلام، وقل له: يقول لك رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف تجدك ؟ قال: فجعلت أطوف بين القتلى فأصبته وهو في آخر رمق و به سبعون ضربة ما بين طعنة برمح وضربة بسيف ورامية بسهم فقلت له : ياسعد إن رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ عليك السلام، ويقول لك خبرني كيف تجدك؟ قال: على رسول الله السلام، و عليك السلام، قل له :" أجدني أجد ريح الجنة " وقل لقومي الأنصار "لا عذر لكم عند الله أن يخلص إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وفيكم شفر (" ") يطرف" قال وفاضت نفسه رحمه الله (الحاكم)
অর্থ, যায়েদ বিন সাবেত কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল উহুদের যুদ্ধের দিন আমাকে সা, আদ বিন রাবী,র খোঁজে পাঠান এবং বলেন, তুমি যদি তাকে দেখ তাহলে আমার সালাম দিও এবং বল, রাসূল আপনাকে সালাম দিয়েছেন ও আপনি কেমন আছেন? তা জানতে চেয়েছেন তিনি (বর্ণনা কারী) বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মাঝে তাঁকে খোঁজার উদ্দেশ্যে ঘুরতে আরম্ভ করি এবং তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তে তাঁকে দেখতে পাই, তখন তাঁর শরীরে তীর, তলোয়ার এবং খোঁচার সত্তরটি আঘাত ছিল, আমি তাঁকে বল্লাম, হে সা, আদ! রাসূল আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং জানতে চেয়েছেন আপনি কেমন আছেন? তিনি বললেন, আপনার ও রাসূলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আপনি রাসূলকে বলে দিন, আমি জান্নাতের সুগন্ধ পাচ্ছি, অত:পর আমার কাউম আনসার গোষ্ঠীকে বলুন, "তোমরা জীবিত থাকতে যদি শত্রুরা রাসূলের নিকট পৌঁছে যায় তাহলে আল্লাহর কাছে তোমাদের কোন ওযর (বাঁচার পথ) থাকবে না।"এ কথা বলে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। (রাহেমা হুল্লাহ) (হাকেম, আত্ তালখীস) (+)

এই প্রকৃত নবী প্রেমী তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তে দুনিয়া ও তার মাঝে যে সম্পদ, সন্তান ও পরিবার পরিজন ছিল তা পরিত্যাগের সময় কি নিয়ে চিন্তা করেছেন? তাঁর কাউমকে কি উপদেশ দিয়েছেন? যে বিষয়ে তিনি ব্যস্ত ছিলেন তা ছিল তাঁর প্রিয় ব্যক্তি বিশ্ব প্রতিপালকের প্রিয় রাসূল ﷺ এর নিরাপত্তা, আর যে উপদেশ নিজ কাউমকে দিয়েছিলেন তা ছিল:তাদের সকল ব্যক্তি যেন রাসূল ﷺ এর নিরাপত্তার জন্য নিজ জীবনকে উৎসর্গ করে।

আমরা কি তাঁদের মত? আমরা কি নিয়ে চিন্তা করি? আমাদের সিংহ ভাগ মানুষ কি নিয়ে চিন্তা করে? আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি পূর্ব অথবা পশ্চিম দিগন্তে ভ্রমণের প্রাক্কালে বিদায়ের সময় কি উপদেশ প্রদান করে? আমাদের উপদেশ কখনো এমনও হয় যা কোন মুসলিমের মুখে উচ্চারণ করা শোভা পায় না।

টিকাঃ
৪০ "শুফর" চোখের পলক যার উপর লোম গজায়। (আননেহায়া ফী-গারীবিল হাদীস অল-আসার, "ধাতু" শাফারা" ৪৮৪/২।
আল-মুসতাদরাক আলাস্ সাহীহাইন, কিতাবু মা, রেফাতিস্ সাহাবা, যিকরো মানাকেবি সা,দ ইবনে রাবী, ২০১/৩ ইমাম হাকেম এই হাদীস সম্পর্কে বলেন, এই হাদীসের পরম্মপরা সহীহ, ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি।ঐ, ইমাম যাহাবী এ কথার সমর্থন করেছেন। (দেখুন আততালম্বীস ২০১/৩। ঐ ভাবে ইমাম মালেক মুআত্তায় বর্ণনা করেছেন, ৪৬৬-৪৬৫/২ এবং ইমাম ইবনে ইসহাকও। (দেখুন আসসিরাতুন নাবাবীয়াহ, ইবনে হিশশাম ৩৯-৩৮/৩,এ হাদীস সম্পর্কে ড: আকরাম যিআ আল-আমরীবলেন, ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় যে বর্ণনাকারীগ রয়েছে তারা সকলে সিকাহ (নির্ভর যোগ্য) (মাজমাউল বাহরায়েন ২৩৯/২, শারহুল মাওয়াহেব, ৪৪/২, (আসসিরাতুন নাবাবীয়াতুস্ সাহীহাহ ৩৮৬/২।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 রুকুর অবস্হায় আনসার গোষ্টীর কাবার দিকে অবিলম্বে মুখ ফিরানো

📄 রুকুর অবস্হায় আনসার গোষ্টীর কাবার দিকে অবিলম্বে মুখ ফিরানো


عن البراء رضي الله عنه قال لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة صلى نحو بيت المقدس ستة عشر أو سبعة عشر شهرا وكان يحب أن يوجه إلى الكعبة، فأنزل الله تعالى" قد نرى تقلب وجهك في السماء فلنولينك قبلة ترضاها" فوجه نحو الكعبة ، وصلى معه رجل العصر، ثم خرج فمر على قوم من الأنصار، فقال: هو يشهد أنه صلى مع النبي صلى الله عليه وسلم و إنه قد وجه إلى الكعبة، فانحرفوا وهم ركوع في صلاة العصر (البخاري)
অর্থ, বারা, কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল যখন মদীনায় আসেন তখন ১৬ অথবা ১৭ মাস বাইতুল মাকদেসের পানে মুখ করে নামায পড়েন। অথচ তাঁর আন্তরিক ইচ্ছা ছিল কা, বার দিকে মুখ করে নামায পড়া। সেই জন্য আল্লাহ এই আয়াত অবর্তীণ করেন: অর্থ, "আমি আপনার চেহারা আকাশের দিকে ফিরাতে দেখছি, নিশ্চয় আপনাকে ঐ কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি যা আপনি সন্তুষ্ট চিত্তে চান। অত:পর তিনি কা, বার দিকে ঘুরে যান। তার সঙ্গে জনৈক ব্যক্তি আসরের নামায পড়েন এবং আনসার গোষ্ঠীর (পাড়ার) পাশ দিয়ে পেরিয়ে যান ও সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, সে রাসূল ﷺ এর সাথে নামায পড়েছে, তিনি কা’বার দিকে ঘুরে নামায পড়েছেন। আনসারগণ (এ কথা শ্রবণ করার সাথে সাথে) আসরের নামাযের রুকুর অবস্থায় (কা’বার) দিকে ফিরে যান। (বুখারী) (-)

প্রিয় নবীর আনুগত্যের জন্য তাদের কি তৎপরতা! তাঁরা যখন রাসূল ﷺ এর পক্ষ হতে সংবাদ শ্রবণ করেন তখন তাঁরা তা গ্রহণ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হননি বরং রুকু থেকে মাথা উঠানো পর্যন্ত বিলম্ব করেননি। রাসূল ﷺ যে দিকে ঘুরেছেন তাঁরাও অবিলম্বে সে দিকে ঘুরেছেন।

টিকাঃ
* সহীহ বুখারী, কিতাবু আখবারিল আহাদ, একক সত্যবাদী বর্ণনাকারীর অনুমতী। হাদীস সংখ্যা ২৩২/১৩,৭২৫২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00