📄 আবু বাকরের আশা অবিলম্বে রাসুলের সাথে মিলিত হওয়া
এ বিষয়ে ইমাম আহমাদের বর্ণনা:
عن عائشة رضى الله عنها قالت : إن أبا بكر رضي الله عنه لما حضرته الوفاة قال : أي يوم هذا ؟ قالوا : يوم الاثنين، قال: فإن مت من ليلتي فلا تنتظروا بي الغد ، فإن أحب الأيام والليالي إلى أقربها من رسول الله صلى الله عليه وسلم
ند احمد (۱۷۳/۱)
অর্থ, আয়েশা (رضی الله علها) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বাক্রের যখন মৃত্যু ঘণিয়ে আসে তখন বলেন, আজকে কি বার? লোকে উত্তর দেয় সোমবার। তিনি বলেন, আমি যদি আজকের রাতে মরে যাই তাহলে তোমরা দাফন করতে কাল পর্যন্ত বিলম্ব করোনা। কেননা রাত-দিনের মধ্যে ঐ রাত-দিন আমার নিকট প্রিয় যা রাসূল এর অধিক নিকটবর্তী। (১)
আল্লাহুআক বার! আবু বাকরের দৃষ্টি কোণে দিন- রাতের ভালবাসার মাপকাঠি হচ্ছে তার রাসূলের নিকটবর্তী হওয়া। প্রকৃত পক্ষে রাসূল প্রেমী তাঁর প্রেমে, তাঁর দর্শনের আগ্রহে, তাঁর সঙ্গী হওয়ার অস্থিরতায়, তাঁর সাহচর্যের আনন্দে ও সকলের চেয়ে তাঁকে অগ্রাধিকার দানে, তাঁর সাহচর্য হারানোর দুঃখে এবং তাঁর বিরহ বেদনায় কেমন ছিলেন? এখন যদি প্রশ্ন করা হয় যে, ঐ রকম মহব্বতের তুলনায় আমরা কেমন?
আমরা কি ঐ ধরণের ভালবাসায় নবী ব্যতীত অন্যকে স্থান দিয়ে রাখিনি?!!
রাসূল ﷺ প্রতি ভালবাসার দাবী উচ্চ স্বরে করার পরেও ঐসকল জিনিস পাওয়ার আশায় আমরা শ্রম ও সম্পদ খরচ করি, তার দেখা-শুনার জন্য প্রিয় জীবনের একাংশ নষ্ট করি, এরই ব্যস্ততায় আল্লাহ ও তাঁর বান্দার অধিকার বিনষ্ট করি, ঐ সমস্ত বস্তু দেখে-শুনে আনন্দিত হই এবং তার ভালবাসার এমন অবস্থা সৃষ্টি হয় যে, নবী ﷺ এর এই বাণী ভুলে যায়: "ঐ জিনিসের প্রেমীদের মাটির নীচে ধসীয়ে দেয়া হবে, তাদের চেহারাকে বানর ও শূকরের চেহারায় রূপান্তরিত করা হবে।" আবু মালেক আল-আশআরী কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " ليشربن ناس من أمتي الخمر يسمونها بغير اسمها، يعزف على رؤسهم بالمعازف (*) ، يخسف الله بهم الأرض ويجعل منهم القردة والخنازير " (صحيح ابن ماجة (۲/۳۷۱)
অর্থ, রাসূল ﷺ বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে কিছু লোক মদের আসল নাম পরিবর্তন করে অবশ্যই তা পান করবে। তাদের মাথার নিকট বাদ্যযন্ত্র বাজানো হবে। আল্লাহ তাদেরকে মাটির নীচে ধসিয়ে দিবেন এবং তাদের মধ্য থেকে বানর ও শূকর তৈরী করবেন। (-)
আমরা যখন এ ধরণের অপ্রিয় বস্তুর সাথে সম্পর্ক করে রেখেছি, তখন আমি নবীজীকে অধিক ভালবাসি, এ কথার আর কি অর্থ থাকল? আল্লাহর নিকট এই দাবীর কোন মূল্য আছে কি যিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল বিষয়ের খবর রাখেন?
টিকাঃ
62- “আযফ” বাদ্য যন্ত্র (লেসানুল আরব আল-মহীত, ধাতু “আযফ” ৭৬৬/২)।
সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফিতান, পাঠ, সান্তি, হাদীস সংখ্যা ২/৩৭২, ৩২৪৭১।
📄 নবী প্রীতির দ্বিতীয় নিদর্শন নবীর জন্য জীবন ও সম্পদ কুরবানীর জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি
প্রকৃত প্রেমিকের অন্তর তার প্রিয় ব্যক্তির জন্য নিজ জান-মাল কুরবান করার জন্য অস্থির হয়ে যায়। প্রকৃত নবী প্রেমীদের অবস্থা এ থেকে আলাদা নয়। সাহাবাগণ তাঁর জন্য সব কিছু উৎসর্গ করে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। নবীজীর গত হওয়ার পর তাঁর সত্য অনুরাগীরা নিজেদের অন্তরে এই বলে পরিতাপ করে যে, তারা তাঁর জন্য নিজেদের জান-মাল উৎসর্গ করার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে।
নবীজীর প্রকৃত ভালবাসার দাবীদার সাহাবাগণের কিছু ঘটনা নিম্নে উল্লেখ করা হচ্ছে:
📄 রাসূল ﷺ এর নিরাপত্তাহীনতা ও বিপদের আশংকায় আবু বাকর ﷺ এর কান্না
হিজরতের সময় সুরাকা বিন মালেক রাসূল ﷺ ও আবু বকর রাঃ এর পিছনে ধাওয়া করতে করতে একেবারে নিকটে এসে যায়, রাসূল ﷺ এর নিরাপত্তা বিপর্যস্ত দেখে আবু বকর রাঃ অস্থির এবং বিচলিত হয়ে যান, তাঁর চোখে পানি বের হয়। ইমাম আহমাদ এই ঘটনা বারা, ইবনে আযেবের পরম্পরায় বর্ণনা করেন:
عن البراء بن عازب رضى الله عنه قال قال أبو بكر رضى الله عنه "فارتحلنا والقوم يطلبونا، فلم يدركنا إلا سراقة بن مالك بن جعشم على فرس له فقلت : يارسول الله هذا الطلب قد لحقنا، فقال: لا تحزن إن الله معنا، حتى إذا دنا منا فكان بيننا وبينه قدر رمح أو رمحين أو ثلاثة، قال قلت: يا رسول الله! هذا الطلب قد لحقنا وبكيت قال لم تبكي قلت أما والله ما على نفسي أبكي، ولكن أبكى عليك قال: فدعا عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: اللهم اكفناه بما
شنت ، فسَاخَتُ(" (قائم فرسه إلى بطنها إلى أرض صلد ،،،)
(حديث (أحــــــ
অর্থ,বারা,ইবনে আযেব কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন,আবু বকর বলেন,আমরা যাত্রা শুরু করি, মানুষ আমাদের ব্যাপারে তল্লাসি আরম্ভ করে, তার মধ্যে সুরাকা বিন মালিক নিজ ঘোড়ার পিঠে চড়ে আমাদের কাছে এসে যায়,আমি তখন বলি হে আল্লাহর রাসুল এই (সুরাকা) আমাদের অতি নিকটে এসে গিয়েছে, রাসুল বললেন, চিন্তা কর না নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। সে আমাদের এত কাছে এসে ছিল যে, কেবল এক ফলা অথবা দু ফলা অথবা তিন ফলার লাঠির পরিমাণ দূরত্ব বাকী ছিল। আবু বকর বলেন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল এ তো আমাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে বলে আমি, কান্না করতে আরম্ভ করি, রাসুল বললেন, তুমি কান্না করছ কেন? আমি বললাম, আল্লাহর কসম আমি আমার জীবনের ভয়ে কান্না করিনি বরং আপনার জীবন নাশের আশঙ্কায় রোদন করছি। আবু বকর বলেন, তিনি তার জন্য বদদোয়া করে বলেন, হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে চান তাকে প্রতিহত করতে যথেষ্ট। অতঃপর তার ঘোড়ার পা শুকনো মাটিতে পেট পর্যন্ত ধসে যায়। (আহমদ) (~)
টিকাঃ
“সাল-লাত” মাটিতে পা ধ্বসে গেল।( আউনুলহাইয়াহ কী শারীখিল হাদীস অল আসার, ধাতু “মু” ৪১৮/২
আল-মুসনাদ হাদীস সংখ্যা ১৫৫/১০ শায়েখ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকের ও হামিদার সানাদে সহীহ বলেছেন। (দেখুন ফাতহুল মুসনাল ১৪/১)
📄 যুদ্ধের মাঠে নবীজীর সঙ্গে থেকে যুদ্ধ করা মিকদাদ ﷺ এর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা
আমরা আরো এক নবী প্রেমিককে প্রত্যক্ষ করছি যে যুদ্ধের মাঠে নবীজীর পাশে থেকে যুদ্ধ করে শহীদ জন্য প্রস্তুত, ইমাম বুখারী এ ঘটনাটি নিজ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন:
অর্থ, তিনি বলেন, আমি তাঁর কর্ম-কাণ্ড দেখেছি, যা দুনিয়ার সকল বস্তুর চেয়ে (-) আমার নিকট প্রিয়। তিনি নবীজীর নিকট ঐ সময় উপস্থিত ছিলেন যে সময় তিনি মুশরেকদের জন্য বদ দুয়া করছিলেন, (সে সময়) তিনি বলে ছিলেন আমরা আপনাকে ঐ কথা বলব না যে কথা মুসা ✉️ এর কওম তাঁকে বলে ছিল (তুমি ও তোমার রব যুদ্ধ কর আমরা এখানে বসে থাকি) আমরা আপনার ডানে-বামে, অগ্রে-পশ্চাতে সকল দিক থেকে যুদ্ধ করব। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি দেখেছি ঐ কথায় নবীজীর চেহারা আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে যায়। (বুখারী) (-)
এই বর্ণনায় মিকদাদ ؓ এর জীবন কুরবানী করার ইচ্ছা প্রকাশের সাথে সাথে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদেরও নবীজীর জন্য জীবন কুরবান করার ইচ্ছা প্রকাশিত হচ্ছে। তাঁর এ ইচ্ছা এই বাক্যে প্রকাশিত হচ্ছেঃ “আমি মিকদাদ ؓ এর ভূমিকা দেখেছি, যদি আমি তাঁর কর্তা হতাম।
তাহলে তা আমার নিকট দুনিয়ার সমস্ত বস্তুর চেয়ে প্রিয় হত।”
হাফেয ইবনে হাজর এই উক্তির ব্যাখ্যায় বলেন, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদকে মিকদাদের মত কৃতিত্ব ও দুনিয়ার সকল জিনিস গ্রহণ করার এখতিয়ার দেয়া হলে, এ দুটির মধ্যে মিকদাদের কৃতিত্বকে অগ্রাধিকার দিতেন। (১)
টিকাঃ
৬৬ ফাতহুলবারী ২৬৭/৭।
৬৭ সাইরু কুরআন কিতাবুল মাগাযী, পাদ, (إذ تستعينون ربكم ..... شديد العقاب) এর তাফসীর। হাদীস সংখ্যা ২৬৭/৭, ৩৩৯২।
68 ফাতহুল বারী ২৮-৭/৯১