📄 উমার ফারুকের রাসূল ﷺ এর পাশে কবরস্থ হওয়ার আশা
রাসূল ﷺ এর প্রকৃত প্রেমী আমীরুল মুমিনীন উমার এই দুনিয়া ছেড়ে চিরতরে বিদায় নিচ্ছেন, এ সময় তাঁর সব চেয়ে বড় আশা হচ্ছে রাসূলের পার্শ্বে কবরস্থ হওয়া। এটি ইমাম বুখারী এ ভাবে বর্ণনা করেন:
عن عمرو ميمون الأودى قال: رأيت عمر بن الخطاب رضی الله عنه،،،،،، قال: يا عبد الله بن عمر ،،،،، انطلق إلى عائشة أم المؤمنين رضى الله عنها فقل: يقرأ عمر بن الخطاب عليك السلام ولا تقل " أمير المؤمين" فإني لست اليوم للمؤمنين أميرا، وقل يستأذن عمر بن الخطاب أن يدفن مع صاحبيه فسلم واستأذن ثم دخل عليها فوجدها قاعدة تبكى فقال : يقرأ عليك السلام عمر بن الخطاب ويستأذن أن يدفن مع صاحبيه فقالت: كنت أريده لنفسي ولا وثرته به اليوم على نفسي. فلما أقبل قيل هذا عبد الله بن عمر قد جاء، قال: ارفعوني فأسنده رجل إليه. فقال : ما لديك؟ قال الذي تحب يا أمير المؤمنين، أذنت قال الحمد الله ، قال : ما كان من شئ أهم إلى من ذلك ، فإذا أنا قضيت فاحملوني ثم سلم فقل: يستأذن عمر بن الخطاب ، فإن أذنت لي فادخلوني وإن ردتني ردوني إلى مقابر المسلمين،،،،، (البخاري)
অর্থ, আম্র বিন মাইমুন কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমার কে বলতে দেখেছি, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমারকে বলেন, তুমি মু, মিনীন জননী আয়েশা (رضی الله عها( এর নিকটে গিয়ে বল, উমার আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং আমীরুল মুমিনীন বল না, কারণ আমি আজ মুমিনীনদের আমীর নই। বল, তিনি নিজ সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে কবরস্থ হওয়ার জন্য আপনার অনুমতি কামনা করছেন। আব্দুল্লাহ বিন উমার তাঁর উপর সালাম দিয়ে অনুমতি চেয়ে (আয়েশার কাছে) যান, তখন তিনি বসে বসে কান্না করছিলেন। তিনি তাঁকে বলেন, উমার বিন খাত্তাব আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গীদ্বয়ের নিকট দাফন হওয়ার জন্য অনুমতি চাচ্ছেন, প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন, এ স্থানটি আমি নিজের জন্য রেখেছিলাম, কিন্তু আজ আমি তাঁকে নিজের উপর অগ্রাধিকার দিচ্ছি। তিনি যখন ফিরে আসেন তখন বলা হয় এই তো আব্দুল্লাহ বিন উমার ফিরে এসেছেন। অত:পর তিনি (উমার) বলেন, আমাকে উঠাও জনৈক ব্যক্তি তাঁকে নিজের উপর হেলান দিয়ে বসান, এরপর বলেন, তোমার কাছে কি (সংবাদ) আছে? তিনি বলেন, তিনি (আয়েশা) আপনার জন্য অনুমতি দিয়েছেন, উমার আল-হামদুল্লিল্লাহ বলার পর বলেন, ঐ স্থানটির চেয়ে আমার নিকট আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, আমি যখন মৃত্যু বরণ করব তখন আমাকে তাঁর (আয়েশার) কাছে নিয়ে যাবে এবং অনুমতি চাবে যদি অনুমতি দেন তাহলে আমাকে সেখানে দাফন করবে নচেৎ মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করবে (বুখারী)(-)
টিকাঃ
56 সহীহ বুখারী কিতাবু ফাযায়েলিস সাহাবা, পাঠ, কিসসাতুল বাইয়ে অল ইত্তেফাক আলা উসমান অয়া ফীহে মাকতালু উমার বিন খাত্তাব হাদীস সংখ্যা ৬১-৬০/৭,৩৭০০।
📄 রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর সময় জানতে আবু বাকর ﷺ এর কান্না
জনাব রাসূল খুতবা দিচ্ছেন, তাঁর প্রকৃত প্রেমী আবু বাক্স খুতবার ইশারা-ইঙ্গিত থেকে বুঝে নিচ্ছেন যে, তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। তাঁর চক্ষু দিয়ে আপনা আপনি অশ্রু নির্গত হচ্ছে। ইমাম বুখারী এটি আবু সাঈদ খুদরীর সানাদে বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেন:
خطب رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس وقال: إن الله خير عبدا بين الدنيا وبين ما عنده، فاختار ذلك العبد ما عند الله قال : فبكى أبو بكر رضى الله عنه، فعجبنا لبكائه أن يخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم عن عبد خير، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم هو المخير، وكان أبوبكر رضي الله عنه أعلمنا (البخاري)
অর্থ, রাসূল খুতবায় বলেন, আল্লাহ এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা আছে তার মধ্যে একটিকে গ্রহণ করার এখতিয়ার দেন, কিন্তু ঐ বান্দা আল্লাহর কাছে যা আছে তা গ্রহণ করেন। আবু সাঈদ বলেন, (একথা শুনে ) আবু বাকর কান্না করতে আরম্ভ করেন। আমরা তাঁর কান্নায় অবাক হই যে, রাসূল জনৈক বান্দার জন্য বল্লেন যে, দুটি জিনিসের মধ্যে একটিকে গ্রহণ করার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। (এ কথায় তিনি কান্না করছেন কেন?) আসল কথা হলো, যাকে এখতিয়ার দেয়া হয়েছে তিনি হচ্ছেন রাসূল। আবু বাকর রাসূল এর কথাকে আমাদের মধ্যে সব চেয়ে গভীর ভাবে বুঝেছিলেন।(বুখারী) মুআবিয়া বিন আবী সুফিয়ানের বর্ণিত হাদীসে এরূপ এসেছে: فلم يلقنها إلا أبو بكر رضى الله عنه فبكى، فقال نفيدك بآبائنا وأمهاتنا وأبنائنا.
অর্থাৎ, আবু বাক্রؓ ছাড়া আর কেউ রাসূলের কথা বুঝেনি। তাঁর কথার গভীরে পৌঁছে তিনি কান্না করেন এবং বলেন, আমরা আমাদের পিতা-মাতা এবং সন্তানদেরকে আপনার জন্য কুরবানী করছি। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মাম্বাউল ফাওয়ায়েদ ৯/৪৩) ()
টিকাঃ
57 সহীহ বুখারী, কিতাবু ফাযায়েলিস সাহাবাহ, পাঠ, নবীজীর কাউল "সকল দরজা বন্ধ কর কেবল আবুবাকরের দরজা খোলা রাখ, হাদীস সংখ্যা ১২/৭, ৩৬৫৪।
58 দেখুন মাজমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মাম্বাউল ফাওয়ায়েদ, কিতাবুল মানাকেব, পাঠ, আবু বাকরের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, ৪২/৯ হাফেয আল-হাইসেমী বলেন, এ হাদীসের বর্ণনা সূত্রকে উত্তম, ঐ।
📄 রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর পর আবু বাকরের কান্না
রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর পর তাঁকে স্মরণ করে তাঁর চক্ষে অশ্রু নির্গত হয়। এ বিষয়ে ইমাম আহমাদের হাদীস:
عن أبي هريرة رضى الله عنه قال: سمعت أبا بكر الصديق رضى الله عنه على هذا المنبر يقول : " سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم في هذا اليوم من عام الأول، ثم استعبر أبو بكر وبكى ثم قال: سمعت رسول الله صلى الله وسلم يقول: "لم تؤتوا شيئا بعد كلمة الإخلاص مثل العافية فاسألوا الله العافية" (مسند أحمد (١٥٨/١-١٥٩)
অর্থ, আবু হুরাইরাহ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু বাকর কে এই মিম্বরে বলতে শুনেছি, তিনি (আবুবাকর) বলেন, আমি গত বছর এই দিনে রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, এই টুকু বলে তিনি ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, কালেমায়ে এখলাসের পরে সুস্থতার মত আর কোন নিয়ামত তোমাদেরকে দেয়া হয়নি। সুতরাং তোমরা
আল্লাহর নিকট সুস্থতা কামনা কর।) অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে।
فخنقته العبرة ثلاث مرار ثم قال،،،، الحديث অর্থাৎ, চোখের পানিতে তিনতিন বার তাঁর কন্ঠস্বর বাধা প্রাপ্ত হয়। তারপর উল্লেখিত বাকি অংশ টুকু বলেন,,,,। (মুসনাদে আহমাদ) (-)
টিকাঃ
আল-মুসনাদ, হাদীস সংখ্যা ১৫৯-১৫৮/, ১০। শায়েখ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকের এ হাদীসের সানাদকে সহীহ বলেছেন (দেখুন হামেশুল মুসনাদ ১৫৮/১)
এ, হাদীস সংখ্যা ১৭২/১,৪৪। শায়েখ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকের এ হাদীসের সানাদকে সহীহ বলেছেন (দেখুন হামেশুল মুসনাদ ১৭৩/১,)
📄 আবু বাকরের আশা অবিলম্বে রাসুলের সাথে মিলিত হওয়া
এ বিষয়ে ইমাম আহমাদের বর্ণনা:
عن عائشة رضى الله عنها قالت : إن أبا بكر رضي الله عنه لما حضرته الوفاة قال : أي يوم هذا ؟ قالوا : يوم الاثنين، قال: فإن مت من ليلتي فلا تنتظروا بي الغد ، فإن أحب الأيام والليالي إلى أقربها من رسول الله صلى الله عليه وسلم
ند احمد (۱۷۳/۱)
অর্থ, আয়েশা (رضی الله علها) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বাক্রের যখন মৃত্যু ঘণিয়ে আসে তখন বলেন, আজকে কি বার? লোকে উত্তর দেয় সোমবার। তিনি বলেন, আমি যদি আজকের রাতে মরে যাই তাহলে তোমরা দাফন করতে কাল পর্যন্ত বিলম্ব করোনা। কেননা রাত-দিনের মধ্যে ঐ রাত-দিন আমার নিকট প্রিয় যা রাসূল এর অধিক নিকটবর্তী। (১)
আল্লাহুআক বার! আবু বাকরের দৃষ্টি কোণে দিন- রাতের ভালবাসার মাপকাঠি হচ্ছে তার রাসূলের নিকটবর্তী হওয়া। প্রকৃত পক্ষে রাসূল প্রেমী তাঁর প্রেমে, তাঁর দর্শনের আগ্রহে, তাঁর সঙ্গী হওয়ার অস্থিরতায়, তাঁর সাহচর্যের আনন্দে ও সকলের চেয়ে তাঁকে অগ্রাধিকার দানে, তাঁর সাহচর্য হারানোর দুঃখে এবং তাঁর বিরহ বেদনায় কেমন ছিলেন? এখন যদি প্রশ্ন করা হয় যে, ঐ রকম মহব্বতের তুলনায় আমরা কেমন?
আমরা কি ঐ ধরণের ভালবাসায় নবী ব্যতীত অন্যকে স্থান দিয়ে রাখিনি?!!
রাসূল ﷺ প্রতি ভালবাসার দাবী উচ্চ স্বরে করার পরেও ঐসকল জিনিস পাওয়ার আশায় আমরা শ্রম ও সম্পদ খরচ করি, তার দেখা-শুনার জন্য প্রিয় জীবনের একাংশ নষ্ট করি, এরই ব্যস্ততায় আল্লাহ ও তাঁর বান্দার অধিকার বিনষ্ট করি, ঐ সমস্ত বস্তু দেখে-শুনে আনন্দিত হই এবং তার ভালবাসার এমন অবস্থা সৃষ্টি হয় যে, নবী ﷺ এর এই বাণী ভুলে যায়: "ঐ জিনিসের প্রেমীদের মাটির নীচে ধসীয়ে দেয়া হবে, তাদের চেহারাকে বানর ও শূকরের চেহারায় রূপান্তরিত করা হবে।" আবু মালেক আল-আশআরী কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " ليشربن ناس من أمتي الخمر يسمونها بغير اسمها، يعزف على رؤسهم بالمعازف (*) ، يخسف الله بهم الأرض ويجعل منهم القردة والخنازير " (صحيح ابن ماجة (۲/۳۷۱)
অর্থ, রাসূল ﷺ বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে কিছু লোক মদের আসল নাম পরিবর্তন করে অবশ্যই তা পান করবে। তাদের মাথার নিকট বাদ্যযন্ত্র বাজানো হবে। আল্লাহ তাদেরকে মাটির নীচে ধসিয়ে দিবেন এবং তাদের মধ্য থেকে বানর ও শূকর তৈরী করবেন। (-)
আমরা যখন এ ধরণের অপ্রিয় বস্তুর সাথে সম্পর্ক করে রেখেছি, তখন আমি নবীজীকে অধিক ভালবাসি, এ কথার আর কি অর্থ থাকল? আল্লাহর নিকট এই দাবীর কোন মূল্য আছে কি যিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল বিষয়ের খবর রাখেন?
টিকাঃ
62- “আযফ” বাদ্য যন্ত্র (লেসানুল আরব আল-মহীত, ধাতু “আযফ” ৭৬৬/২)।
সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফিতান, পাঠ, সান্তি, হাদীস সংখ্যা ২/৩৭২, ৩২৪৭১।