📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 আনসাগণের রাসূল ﷺ এর সাহচর্য হতে বঞ্চিত হয়ে যাওয়ার ভয়

📄 আনসাগণের রাসূল ﷺ এর সাহচর্য হতে বঞ্চিত হয়ে যাওয়ার ভয়


আন্সার গোষ্ঠীকে রাসূল ﷺ তাঁর সাহচর্যের বৃহৎ প্রতিদান দিয়েছেন। অপর দিকে তারা এই মর্যাদাপূর্ণ নিয়ামত হতে বঞ্চিত হয়ে যাওয়ার চিন্তায় চিন্তিত। এবিষয়ে একাধিক বর্ণনা রয়েছে, তার মধ্যে একটি বর্ণনা নিচে উল্লেখ করা হচ্ছে:

عن أبي هريرة رضى الله عنه قال أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قدم مكة ، فبعث الزبير - رضي الله عنه على إحدى المجنبتين ، (٣) وبعث خالدا رضى الله عنه على المجنبة الأخرى، وبعث أبا عبيدة - رضي الله عنه على الحسر، (٤) فأخذوا بطن الوادي، ورسول الله صلى الله عليه وسلم في مكة. قال فنظر فراني، فقال: "أبو هريرة" قلت لبيك يارسول الله ، فقال لا يأتني إلا الأنصار ثم قال حتى توافني بالصفاة، قال: فانطلقنا فما شاء أحد منا أن يقتل أحدا إلا قتله، وما أحد منهم يوجه إلينا شيئا، قال: فجاء أبوسفيان فقال يا رسول الله ! أبيحت خضراء قريش، لا قريش بعد اليوم ثم قال من دخل دار أبي سفيان فهو آمن، فقالت الأنصار: أما الرجل فأدركته رغبة في قريته ورافة بعشيرته قال أبو هريرة رضى الله عنه وجاء الوحى فلما انقضى الوحى قال : رسول الله صلى الله عليه وسلم يا معشر الأنصار ! قالوا : لبيك يارسول الله ، قال: قلتم "أما الرجل فأدركته رغبة في قريته، قالوا: قد كان ذلك، قال : كلا إني عبد الله ورسوله ، هاجرت إلى الله وإليكم والمحيا محياكم والممات مماتكم ، فأقبلوا إليه يبكون ويقولون : والله ما قلنا الذي قلنا إلا الضن بالله ورسوله فقال رسول الله صلى الله إن الله ورسوله يصدقائكم ويعذر انكم"
অর্থ, আবু হুরাইরাহ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল যখন মক্কায় যান তখন দুটি সেনা দলের মধ্যে একটির কাছে যুবাইয়ের কে অন্যটির কাছে খালেদ কে পাঠান এবং আবু উবাইদাহ কে আল-হুসারে (-) পাঠান তাঁরা বাতনে ওয়াদীর রাস্তা ধরেন। আর রাসুল ﷺ নিজ মক্কায় প্রবেশ করেন। আবু হুরায়রাহ বলেন, রাসুল ﷺ আমাকে বললেন, “আবু হুরায়রাহ” আমি বললাম বলুন হে আল্লাহর রাসুল আমি উপস্থিত, তিনি বললেন, আনসার গোষ্ঠী ব্যতীত আমার নিকট আর কেউ যেন না আসে। অতঃপর বললেন, তারা যেন “সাফা” পর্বতের নিকটে আমার কাছে উপস্থিত হয়। আবু হুরায়রাহ বলেন, আমরা যেতে আরম্ভ করি, আর তখন অবস্থা এমন ছিল যে, আমাদের কেউ যদি কুরাইশদের কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে দিত তাহলে তাদের কারোর প্রতি রক্ষার ক্ষমতা ছিল না। আবু হুরায়রাহ রা. আরো বলেন, আবু সুফিয়ান এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল ﷺ কুরাইশ বংশ আজ ধ্বংস। আজকের দিনের পর কুরাইশদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত। রাসুল ﷺ বললেন, আবু সুফিয়ানের ঘরে যে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। (তাকে হত্যা করা হবেনা)। রাসুলের এই ঘোষণা শ্রবণের পর আন্সার গোষ্ঠীর (লোকেরা) বলে উঠলেন, নিজ মাতৃ ভূমির টান এবং বংশীয় মহব্বত লোকটির (রাসূলের) উপর বিজয়ী হয়ে গেল। আবু হুরাইরাহ বলেন, এই মুহূর্তে ওয়াহী আসে, ওয়াহী আসার শেষে রাসূল বলেন, হে আনসার গোষ্ঠী, উত্তরে তারা বলেন, উপস্থিত হে আল্লাহর রাসূল! অত:পর রাসূল বলেন, "মানুষটির উপর মাতৃ ভূমির টান এবং বংশীয় মহব্বত বিজয়ী হয়ে গেল” একথা তোমরা বলেছো? তারা বলেন, (হ্যাঁ) এটাই। এরপর তিনি বলেন, কখনো না (তোমরা যা ধারণা করছ তা ভ্রান্ত) আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি আল্লাহর জন্য তোমাদের নিকট হিজরত করে এসেছি, যতদিন বেঁচে থাকব তোমাদের সাথে থাকব এবং মরব তোমাদের কাছে। অত:পর তারা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন এবং তাঁর কাছে এসে বলেন, আল্লাহর কসম, আমরা যা বলেছি তা কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রবল ভালোবাসার আবেগে বলেছি। প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তোমাদের কথা বিশ্বাস করেছেন এবং তোমাদের ওযরকে গ্রহণ করেছেন।(মুসলিম) (-)

ইমাম নওয়াবী এই হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, আনসার গোষ্ঠীর (লোকেরা) যখন নবী কে মক্কাবাসীর উপর দয়া- মায়া করতে দেখেন এবং তাদের হত্যা করা হতে বিরত থাকতে দেখেন তখন তারা ধারণা করেছিলেন যে তিনি এবার মক্কায় অবস্থান করবেন, তাদেরকে বর্জন করবেন, এবং মদীনাকে বিদায় দিবেন। আর এ ধারণাটি ছিল তাদের জন্য অত্যন্ত অসহনীয়। তাই আল্লাহ তাআলা রাসূলকে ওয়াহীর মাধ্যমে পরিস্থিতির সংবাদ জানিয়ে সতর্ক করে দেন। এর প্রেক্ষিতে রাসূল তাদের উদ্দেশ্যে যা বলেছিলেন তার ভাব এরূপ: আমি আল্লাহর ওয়াস্তে তোমাদের শহরের দিকে এজন্য হিজরত করেছি যে যাতে আমি সেটিকে নিজ নিবাস বানাই, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে কৃত হিজরত থেকে প্রত্যাবর্তনকারী নই বরং আমি এই হিজরতের উপর আবদ্ধ। যতদিন বেঁচে থাকব তোমাদের সাথে থাকব, যখন মরব তখন তোমাদের শহরে মরব।

তিনি যখন একথা বললেন তখন তারা কান্না করতে আরম্ভ করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, আমরা যা বলেছি তা কেবল আপনার সার্বক্ষণিক সাহচর্যের কল্যাণ সাধন ও লাভের উদ্দেশ্যে বলেছি। অতঃপর তাঁরা বলেন, আপনি আমাদেরকে সরল পথের নির্দেশনা দিতে থাকবেন, যেমন আল্লাহ বলেছেন,

"وانك لتهدى إلى صراط مستقيم " (শূরাঃ ৫২)
অর্থ, নিশ্চয় আপনি মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। (শূরাঃ ৫২)

তাদের কান্নার দুটি কারণ, প্রথম কারণ রাসূলের অঙ্গীকার জীবন-মরণ তাদের সাথে থাকা। দ্বিতীয় কারণ, তাদের কথায় রাসূল কিছু মনে করেন কি না যা তাদের লাঞ্ছিত হওয়ার কারণ হতে পারে। (শারহে নাওয়াভী ১২/১২৮-১২৯)

টিকাঃ
৩৯ ডান-বাম,(শারহে নওয়াবীহ ১২৬/১২১
৪০ "আল-হুস্সার" যাদের কোন যুদ্ধের পোষাক ছিল না।ঐ।
৪২ (শামায়েলে নববী ২৯/১২)।
৪৩ ঐ।
** সহীহ মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ অসসিয়ার, পাঠ মগ্ধ বিজয়, হাদীস সংখ্যা ১৪০৫/৩, ১৭৮০

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 জান্নাতে রাসূল ﷺ এর সাথে সাক্ষাৎ না হওয়ার আশংকায় জনৈক সাহাবীর দুশ্চিন্তা

📄 জান্নাতে রাসূল ﷺ এর সাথে সাক্ষাৎ না হওয়ার আশংকায় জনৈক সাহাবীর দুশ্চিন্তা


প্রকৃত রাসুল প্রেমিক দেখুন যখন সে নিজ এবং রাসুলের মৃত্যুতে স্মরণ করে তখন সে দুশ্চিন্তায় পতিত হয়। তার চিন্তার কারণ এই ভয়ে যে, সে যদি জান্নাতে প্রবেশ করে তবুও সে রাসুলের উজ্জ্বল চেহারা দর্শন করতে পারবে না, কেননা তিনি তো নবীগণের সাথে অবস্থান করবেন আর সে কোন নিম্ন স্তরের জান্নাতে থাকবে। এই প্রকৃত নবী প্রেমীর কথা ইমাম তাবারানী মুমেনীন জননী আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা সনদে এভাবে বর্ণনা করেন:

"جَاءَ رَجُلُ إِلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَارَسُولَ اللهِ إِنَّكَ لَأَحَبُّ إِلَى مِنْ نَفْسِي وَإِنَّكَ لَأَحَبُّ إِلَى مِنْ وَلَدِي، وَإِنِّي لَأَكُونُ فِي الْبَيْتِ فَاذْكُرُكَ فَمَا أَصْبِرُ حَتَّى آتِيَ فَأَنْظُرَ إِلَيْكَ، وَإِذَا ذَكَرْتُ مَوْتِي وَمَوْتَكَ عَرَفْتُ أَنَّكَ إِذَا دَخَلْتَ الْجَنَّةَ رُفِعْتَ مَعَ النَّبِيِّينَ، وَإِنِّي إِذَا دَخَلْتُ الْجَنَّةَ خَشِيتُ أَنْ لَا أَرَاكَ". فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى نَزَلَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِهَذِهِ الْآيَةِ : "وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ والرسول فألتك مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصدقيين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقا (النساء : ٦٩)
অর্থ, জনৈক ব্যক্তি রাসূল এর নিকট এসে বল্ল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার জীবন ও আমার সন্তানাদির চেয়ে অধিক প্রিয়, সত্য কথা বলতে কি যখন বাড়ীতে বসে আপনাকে মনে পড়ে তখন আপনার কাছে এসে আপনাকে না দেখা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে পারি না। আর যখন আমার ও আপনার মরণকে স্মরণ করি তখন বুঝতে পারি আপনি জান্নাতে প্রবেশ করে নবীগণের সঙ্গে উচ্চ মর্যাদায় থাকবেন এবং আমি যদিও জান্নাতে প্রবেশ করি তবুও আপনার দর্শনের সুযোগ পাব না এই আমার আশংকা। নবী তার কথার উত্তর দিলেন না যতক্ষণ না জিবরীল মারফত এই আয়াত অবতীর্ণ হল:-

" ومن يطع الله والرسول فأولئك مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين" (النساء: ٦٩) অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করবে সে ঐ ব্যক্তিদের সঙ্গে জান্নাতে অবস্থান করবে যাদের উপর আল্লাহ নিয়ামত প্রদান করেছেন। অর্থাৎ নবী, শহীদ এবং সৎব্যক্তিগণ। (মাজমাউযাওয়াদে ওয়া মাম্বাউল ফাওয়াদে ২/২) (-)(-)

টিকাঃ
45 সূরা নেসা: ৬৯।
46 মাজমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মাম্বাউল ফাওয়ায়েদ, কিতাবুততাফসীর হতে গৃহীত ৭/৭। এ সম্পর্কে হাফেয আল-হাইসেমী বলেন, এটি তাবারানী "মুজামে সাগীর ও আওসাতে" বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারী সহীর বর্ণনাকারী, আব্দুল্লাহ বিন ইমরান ব্যতীত, তবে সেও নির্ভর যোগ্য। ঐ। এটি ইবনে মারদুয়াহ ও আবু নায়ীম "হিলিয়াতে" বর্ণনা করেছেন এবং যিয়া আল- মাকদেসী" সেফাতিল জান্নাতে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন আমি এর সানাদে কোন অসুবিধা দেখছিনা। (দেখুন হামেশ যাদুল মাসীর ১২৬/২।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 জান্নাতে রাসূলের সঙ্গী হওয়ার জন্য রাবী ﷺ এর আবেদন

📄 জান্নাতে রাসূলের সঙ্গী হওয়ার জন্য রাবী ﷺ এর আবেদন


আরো একজন প্রকৃত নবী প্রেমী রাবীআ, বিন কাআ, ব আল-আসলামীকে আবেদন করার সুযোগ দেয়া হলে তাঁর আবেদন কি ছিল? ইমাম মুসলিম তার আবেদনের কথা তাঁর ভাষায় এভাবে বর্ণনা করেন: كنت أبيت مع رسول الله صلى الله عليه سلم فآتيته بوضوئه وحاجته، فقال لي: سل، فقلت: أسألك مرافقتك في الجنة، قال أو غير ذلك؟ قلت: هو ذاك، قال: فأعني على نفسك بكثرة السجود (مسلم) অর্থ, আমি রাসূলের নিকটে রাত কাটাতাম। (একদিন) তার নিকট ওযুর পানি এবং প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে উপস্থিত হই, অত:পর আমাকে বলেন, তুমি কিছু চাও, আমি বল্লাম, জান্নাতে আপনার সঙ্গী হতে চাই, তিনি বলেন, এছাড়া আর কিছু? আমি বল্লাম, এটাই, তিনি বলেন, (এই আশা পূরণের জন্য) বেশী বেশী সিজদাহ করে আমাকে সহযোগিতা কর। ()(মুসলিম)

আল্লাহু আব্বার! প্রকৃত নবী প্রেমী কিছু চাওয়ার সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথে বিনা দ্বিধায় জান্নাতে রাসূলের সঙ্গী হওয়ার দাবী করেন, দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয়া হলে একই চাহিদার পুনরাবৃত্তি করেন, অন্য কোন কিছু চাওয়ার কথা তার চিন্তায় আসেনি।

টিকাঃ
47 সহীহ মুসলিম, কিতাবুস্সালাহ, পাঠ, সিজদার ফযীলত ও তার জন্য উৎসাহ প্রদান, হাদীস সংখ্যা ৩৫৩/১,৪৮৯।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 আনসারগণের উট-ছাগলের উপর রাসূল ﷺ এর সাহচর্যের অগ্রাধিকার

📄 আনসারগণের উট-ছাগলের উপর রাসূল ﷺ এর সাহচর্যের অগ্রাধিকার


অন্য জিনিসের উপর রাসূলের সঙ্গ ও সাহচর্যের গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কেবল রাবীআ, বিন কাআব, ও আল-আসলামী একা নন। বরং রাসূল ﷺ এর অন্যান্য সাহাবাগণের অবস্থাও এই রূপ ছিল। হুনাইনের যুদ্ধে রাসূল ﷺ আনসারগণের সম্বন্ধে প্রশ্ন রাখেন, তোমরা কি উট, ছাগল নিয়ে তোমাদের শহর মদিনায় প্রত্যাবর্তন করতে চাও? না কি রাসূল ﷺ কে নিয়ে তোমাদের শহর মদিনায় যেতে চাও? তাঁরা সকলে বিনা দ্বিধায় উট, ছাগলের উপর তাঁর সঙ্গ ও সাহচর্যের অধিকার দেন। হাদিস এবং সীরাত গ্রন্থে এ ঘটনা বিস্তারিত ভাবে আলোচিত হয়েছে। ইমাম বুখারী আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ বিন আসেমের সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

“আল্লাহ তা’আলা যখন হুনাইনের যুদ্ধে নিজ রাসূলকে গনীমতের মাল প্রদান করেন তখন তিনি সেগুলো এ মানুষের (নব মুসলিমের) মাঝে এজন্য বন্টন করেন যাতে তারা ইসলামের উপর দৃঢ় থাকে, তা থেকে আন্সারগণকে কিছু দেননি। আন্সারদের মনে একথা জাগতে পারে যে, তিনি আমাদেরকে কিছু দিলেন না, এই জন্য তিনি আন্সারদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে আন্সারগণ, আমি তোমাদেরকে সরল পথ ব্যতীত বিপথগামী পাইনি। আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে হিদায়াত করেন, তোমরা বিছিন্ন ছিলে আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে একত্রিত করেন, তোমরা দরিদ্র ছিলে আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে ধনী করেন। রাসূল যা বলছিলেন তার উত্তরে আন্সারগণ বলছিলেন, আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল অতি দয়াবান। রাসূল তাদেরকে বলেন, তোমরা যদি চাও তাহলে বলতে পার আপনিও তো আমাদের নিকটে (মক্কা থেকে মদীনায়) ঐ একই অবস্থায় এসেছিলেন।(-) (এর পর তিনি বলেন,) তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্য মানুষেরা ছাগল, উট নিয়ে বাড়ী ফিরুক আর তোমরা নবী ﷺ কে নিয়ে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন কর? (-) যদি হিজরত না হত তাহলে আমি আনসারদের মধ্যে গণ্য হতাম। মানুষ যে স্থানের দিকে মুখ করুক না কেন আমি আনসারগণের স্থানের দিকেই যাব। তারা আমার শেয়ার (নিকটের) (-) আর অন্যরা (দেসার) দূরের। আমার পরে তোমরা নিজেদেরকে ‘উসরাতান’ (~) (একাধী) মনে করবে। সুতরাং হুজুগে কাওসারের নিকট আমার সঙ্গে সাক্ষাৎকরা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ কর।” আবু সাঈদ খুদরী হাদীসে এ শব্দ রয়েছেঃ اللهم ارحم الأنصار وأبناء الأنصار وأبناء أبناء الأنصار অর্থাৎ, হে আল্লাহ আপনি আনসার, তাদের সন্তানদের এবং তাদের সন্তানদের সন্তানদের উপর রহম কর। (ফাতহুল বারী৮/৫০)
قال: فبكى القوم حتى أخضلوا لحاهم، وقالوا: رضينا برسول الله صلى الله عليه وسلم قسما وحظا" (البخاري) অর্থাৎ, আবু সাঈদ বলেন, অত:পর লোকেরা এমন কান্না করে যে, তাদের অশ্রুতে দাড়ি ভিজে যায় এবং বলে, রাসূলকে আমাদের ভাগে পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট। (বুখারী)(-)

ইমাম ইবনে কাইয়েম বলেন, রাসূল যখন আনসারগণের সামনে মাল বণ্টনের রহস্য বর্ণনা করেন তখন তারা তাঁর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসেন, তারা বুঝে নেন যে সব চেয়ে বৃহৎ নিয়ামত হচ্ছে নবীকে নিয়ে নিজ এলাকায় ফিরা। তারা নবীজীর জীবন-মরণ উভয় অবস্থায় বৃহৎ সম্পদ হাতে পেয়ে ছাগল, উট, দাস-দাসীর কথা ভুলে যান। (ফাতহুল বারী৮/৫২) (-)

টিকাঃ
৪৮ আবু সাঈদের হাদীসে রয়েছ যে তাঁরা বলেন, আমরা আর কি উত্তর দিব আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দয়া ও মেহের বানী। (ফাতহুলবারী হতে গৃহীত ৫০/৮)
৪৯ আনাস এর হাদীসে রয়েছে যা ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন: তোমরাও তো একথা বলতে পারতে যে আপনিও তো আমাদের কাছে ভীতাবস্থায় এসেছিলেন আপনাকে নিরাপত্তা দিয়েছি, বিতাড়িত হয়েছিলেন আমরা স্থান দিয়েছি, দুর্বল ছিলেন অসহায় ছিলেন আমরা সাহায্য করেছি। অতঃপর তারা প্রত্যুত্তরে বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল আমাদের প্রতি দয়া (সন্তুষ্ট)। ইবনে হাজর এর সানাদকে সহীহ বলেছেন।
51 “শেয়ার” ঐ কাপড় যা শরীরের চামড়ার সাথে লেগে থাকে। “দেসার” অর্থাৎ হালকা কাপড় যা তার উপর থাকে। ঐ শব্দ আনসারদের নিকটতম বুঝানোর জন্য তিনি ব্যবহার করেছেন, এবং তাঁরা তাঁর খুব খাস ও একাধারে গোপনের একমাত্র বৃত্তান্তে চেয়েছেন।
52 “উসরাতান” শরীকের অংশে থেকে আলাদা হওয়া এবং তাতে কাউকে শরিক না করা।
53 সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, পাঠঃ গাওয়াতুতু তাহাক্বীক্ব কী শওআল সনাতা সামান, হাদীস নং ৪৪৭৬, ৪৩০৩
ফাতহুলবারী থেকে গৃহীত: ৫২/৮। ঐ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00