📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 রাসূল ﷺ এর আগমনে আনসার গোষ্টীর আনন্দ

📄 রাসূল ﷺ এর আগমনে আনসার গোষ্টীর আনন্দ


আনসার গোষ্ঠী-তাদের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক-যখন রাসূল ﷺ এর মক্কা ত্যাগ ও মদীনা আগমনের সংবাদ শ্রবণ করেন তখন তাঁরা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে তাঁর আগমনের অপেক্ষা করতে আরম্ভ করেন। হাদীস ও জীবন চরিত গ্রন্থ সমূহে রাসূল ﷺ কে সাদরে গ্রহণ ও বরণ এবং আগমনের ও উল্লাসের কথা বিস্তারিত আলোচনা বিদ্যমান। এ সর্ম্পকে কতিপয় বর্ণনা উল্লেখ করা হচ্ছে:
ইমাম বুখারী উরওয়া বিন যুবায়ের এর বরাতে বর্ণনা করেন যাতে তিনি রাসূল ﷺ কে স্বাগতম জানানোর জন্য আনসার গোষ্ঠীর আনন্দ উল্লাসকে এভাবে বর্ণনা করেন:
وسمع المسلمون بالمدينة مخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم من مكة فكانوا يغدون (۳) كل غداة إلى الحرة فينتظرونه حتى يردهم حر الظهيرة، فانقلبوا يوما بعد ما أطالوه انتظارهم، فلما أووا إلى بيوتهم أوفى (۴) رجل من يهود على أطم (۲) من أطامهم لأمر ينظر إليه فبصر برسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه مبيضين (1) يزول بهم السراب (۳) فلم يملك اليهودي أن قال بأعلى صوته يا معاشر العرب ! هذا جدكم (1) الذي تنتظرون فثار المسلمون إلى السلاح، فتلقوا رسول الله صلى الله عليه وسلم بظهر الحرة فعدل بهم ذات اليمين حتى نزل بهم في بني عمرو بن عوف. (البخاري)
অর্থ, মদীনার মুসলিমগণ যখন নবীজীর মক্কা ত্যাগ করে মদীনা আগমনের সংবাদ শ্রবণ করেন তখন নিয়মিত প্রতিদিন সকালে “হাররাহ” নামক স্থানে তাকে বরণ করার জন্য আসতেন ও অপেক্ষা করতেন এবং দুপুরে রোদের তাপের কারণে বাড়ি ফিরতেন, একদিন তারা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে ঘরে ফিরে যান, যখন তাঁরা নিজ নিবাসে পৌঁছেন তখন জনৈক ইয়াহুদী তার কোন কাজের জন্য পাহাড়ের চূড়ায় উঠে এবং দূর থেকে সাদা কাপড়ে রাসূল কে ও তাঁর সঙ্গী-সাথীকে দেখে মরিচিকা দুর হচ্ছিল। অত:পর সে ধৈর্যহারা হয়ে চিৎকার করে বলে উঠে: হে আরব গোষ্ঠী! এই তো তোমাদের সেই নেতা যার জন্য তোমরা অপেক্ষা করছিলে। এরপর মুসলিমগণ নিজ নিজ অস্ত্র গ্রহণ করেন এবং তাঁদেরকে “হাররাহ” নামক স্থানে স্বাগতম জানান। রাসূল ﷺ তাদেরকে সঙ্গে করে ডান দিকে যেতে আরম্ভ করেন এবং বনী আম্র বিন আওফের নিকটে অবতরণ করেন। (-) (বুখারী)

রাসূল ﷺ কে অভ্যর্থনা জানিয়ে গ্রহণ করার জন্য আনসার গোষ্ঠীর এমন আগ্রহ ছিল যে তাঁকে বরণ করার জন্য প্রতিদিন প্রভাতে “হাররাহ” নামক স্থানে যেতেন এবং রৌদ্রের তাপ বৃদ্ধি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। ইমাম ইবনে সা‘দের একটি বর্ণনায় রয়েছে: "فإذا أحرقتهم الشمس رجعوا إلى منازلهم" অর্থাৎ, সূর্যের তাপ যখন তাদেরকে ঝলসিয়ে দিত তখন তারা নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করতেন। ইমাম হাকেমের বর্ণনায় রয়েছে: (*) " فينتظرونه حتى يؤذيهم حر الظهيرة" অর্থাৎ, দুপুরের রৌদ্র তাদেরকে কষ্ট দেয়া পর্যন্ত তাঁরা তাঁর জন্য অপেক্ষা করতেন।" আনসারগণ রাসূলকে কি ভাবে অভ্যর্থনা জানিয়ে ছিলেন ইমাম বুখারী তা নিম্ন লিখিত হাদীসে বর্ণনা করেছেন;

عن أنس رضي الله عنه قال: نزل رسول الله صلى الله عليه وسلم جانب الحرة ثم بعث إلى الأنصار فجاءوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم وإلى أبي بكر ، فسلموا عليهما وقالوا: " اركبا آمنين مطاعين، فركب نبي الله صلى الله عليه وسلم وأبوبكر وحفوا دونهما بالسلاح ، فقيل في المدينة، جاء نبي الله، جاء نبي الله فاشرفوا ينظرون ويقولون : جاء نبي الله صلى الله عليه وسلم فأقبل يسير حتى نزل جانب دار أبي أيوب رضي الله عنه (البخاري)
অর্থ, রাসূল ﷺ “হারাহ” নামক স্থানে অবতরণ করেন, অত:পর আনসার গোষ্ঠীর নিকট খবর পাঠান। তারা রাসূল ﷺ ও আবুবাক্র রাঃ এর নিকটে আসেন ও সালাম দেন এবং বলেন, আপনারা দুজনে নিরাপত্তার সাথে বাহনে আরোহণ করুন, আপনাদের অনুসরণ করা হবে, তাঁরা সওয়ার হলেন, আন্সারগণ নিরাপত্তার জন্য তাঁদেরকে অস্ত্রসহ বেষ্ঠন করেন। এদিকে মদীনায় সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে আল্লাহর নবী পৌঁছে গিয়েছেন-আল্লাহর নবী পৌঁছে গিয়েছেন, মানুষ উঁচু জায়গায় উঠে তাঁর আগমন দর্শন করতে আরম্ভ করে এবং বলে আল্লাহর নবী পৌঁছে গিয়েছেন। নবী যেতে থাকেন এবং আইয়ুব আনসারীর ঘরের একাংশে অবতরণ করেন। (১) ইমাম আহমাদ, আনাস এর সানাদে বর্ণনা করেন যে আন্সার গোষ্ঠীর মধ্যে যারা রাসূল কে ও আবু বাক্রকে বরণ করতে এসেছিলেন আনুমানিক (তাদের সংখ্যা) পাঁচশো। এরা তাঁকে স্বাগতম জানিয়ে বলেছিলেন (-) "انطلقا آمنين مطاعين" অর্থাৎ, আপনারা উভয়ে বাহনের পৃষ্ঠে আরোহণ করুন আপনারা আমাদের অনুসরণীয় ব্যক্তি। (-)

মদীনাবাসীদের ঐ অভ্যর্থনা ইমাম আহমাদ আবুবাকর এর পরম্পরায় এ ভাবে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “রাসূল যাত্রা করেন, আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম, আমরা মদীনায় পৌছে যাই, মানুষ তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। তারা রাস্তায় বের হয়, (আজাজীর) ছাদে উঠে যায়, বাচ্চারা আনন্দে রাস্তায় উচ্চ স্বরে বলে, আল্লাহু আকবার, আল্লাহর রাসূল পৌঁছে গিয়েছেন, মুহাম্মাদ পৌঁছে গিয়েছেন।আবু বাক্স বলেন, তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় যে কে রাসূল এর আপ্পায়ন করার সম্মান অর্জন করবে? (শায়েখ আহমাদ শাকের এই হাদীসকে সহীহ বলেছেন।) আনাস বিন মালেক ঐ দিনের অনুভূতির কথা এ ভাবে প্রকাশ করেছেন,

فما رأيت يوما قط أنور ولا أحسن من يوم دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر رضى الله عنه المدينة (أحمد) অর্থাৎ, যে দিন রাসূল ﷺ ও আবু বাক্স মদীনায় প্রবেশ করেন সে দিনের চেয়ে আর কোন দিনকে আলোকিত এবং সুন্দরতম দেখিনি। ০" রাসুল ﷺ এর মদীনা আগমনের দিন মদীনা বাসীরা যে ভাবে তার অভ্যর্থনা জানিয়েছিল বারাআ ইবনে আ-যেব তার চিত্র এ ভাবে বর্ণনা করেন:

فما رأيت أهل المدينة فرحوا بشئ فرحهم برسول الله صلى الله عليه وسلم . অর্থাৎ, রাসূল ﷺ এর আগমনে মদীনা বাসীরা যে আনন্দিত হয়েছিল, আর কোন বিষয়ে তাদেরকে এত আনন্দিত হতে দেখিনি।

টিকাঃ
২৩ অর্থাৎ সকালে বের হত, (ফাতহুলবারী, ২৪৩/৭)
২৪ “আওফা” অর্থাৎ উঁচু জায়গায় উঠল, ঐ।
২৫ “উতুম” অর্থাৎ দুর্গ,ঐ।
২৬ অর্থাৎ তাদেরকে সাদা কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছিল, ইবনে তীন বলেন, যে তারা দ্রুত গতিতে আসছিলেন, এ অর্থও হতে পারে। ঐ।
27 "ইয়াযুলো বিহিম আস সারাবো" অর্থাৎ, তাঁদেরকে কলাসের মধ্যে দেখা যাচ্ছিল। অথবা তাঁদের আগমণ চোখের মাঝে ভেসে উঠছিল। ঐ।
28 এই সেই তোমারদের আকাংখিত ব্যক্তি, তোমাদের রাষ্ট্র নায়ক, তোমরা যাঁর অপেক্ষা করছিলে। ঐ।
২৯ সহীহ বুখারী, কিতাবু মানাকেবিল আনসার, পাঠ, নবীজীর ও তাঁর সাহাবীর মদীনায় হিজরত, হাদীস সংখ্যা ২৩৯/৭৩৯০৬।
৩০ আত্মাবাকাতুল আল-কুবরা ২৩৩/১
৩১ আল-মুসতাদরাক আলাস্সাহীহাইনে, কিতাবুল হিজরাতে রাসূল ও তাঁর সাহাগণের মদীনা আগমণের সময় তাঁদেরকে আনসারগণের বরণ। ১১/৩
৩২ সহীহ বুখারী, কিতাবু মানাকিবিল আনসার, পাঠ, নবী ও তাঁর সাহবাগণের মদীনায় হিজরত, হাদীস সংখ্যা ২৫০/৭৩৯১১।
৩৩ দেখুন আল-ফাজর রাব্বানী, লে-ভারতীবে মুসনাদে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, কিতাবু সিরাতিন নাবাবিয়াহ পাঠ, নবীজীর মদীনায় আগমণ, হাদীস সংখ্যা ২৯১/২০, ১৫৫, ইমাম বুখারী বর্ণনা করেন তারিখে সাদীরে। (দেখুন ফাভহুলবারী২৫০/৭) শায়েখ আহমাদ আল-বান্না ইমাম আছমাদের বর্ণনাকে সহীহ বলেছেন। (দেখুন বলুগুল আমনী ২১২/২০)
৩৪ সহীহ বুখারী, কিতাবু মানাকেবিল আনসার, পাঠ, নবীজীর ও তাঁর সাহাবাগণের মদীনা আগমণ হাদীস সংখ্যা ২৫০/৭,৩৯১১।
৩৫ “আজাজীর” ইজ্জার, এর বহু বচন অর্থ, ছাদ। (দেখুন আননেহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস অল-আসার মান্দাহ "আজারা” ২৬/১,)
৩৬ আল-মুসনাদ, হাদীস সংখ্যা ১৫৫/১,৩ এ হাদীসকে শায়েখ আহমাদ শাকের সহীহ বলেছেন (দেখুন হামেশ আল-মুসনাদ ১৫৪/১)
37 ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন। দেখুন আল-ফাতহুর রাব্বানী লে-তারতীবিল মুসনাদ, কিতবুসসেয়ার আনবোবীয়াহ, পাঠ, নবীজীর মদীনায় আগমণ। হাদীস সংখ্যা ২৯০/২০১৫২।
38 'দেখুন সহীহ বুখারী, কিতাবু মানাকেবিল আনসার, পাঠ, নবীজী ও তাঁর সাহাবার মদীনায় আগমণ, হাদীস সংখ্যা ২৬০/৭,৩৯২৫।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 আনসাগণের রাসূল ﷺ এর সাহচর্য হতে বঞ্চিত হয়ে যাওয়ার ভয়

📄 আনসাগণের রাসূল ﷺ এর সাহচর্য হতে বঞ্চিত হয়ে যাওয়ার ভয়


আন্সার গোষ্ঠীকে রাসূল ﷺ তাঁর সাহচর্যের বৃহৎ প্রতিদান দিয়েছেন। অপর দিকে তারা এই মর্যাদাপূর্ণ নিয়ামত হতে বঞ্চিত হয়ে যাওয়ার চিন্তায় চিন্তিত। এবিষয়ে একাধিক বর্ণনা রয়েছে, তার মধ্যে একটি বর্ণনা নিচে উল্লেখ করা হচ্ছে:

عن أبي هريرة رضى الله عنه قال أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قدم مكة ، فبعث الزبير - رضي الله عنه على إحدى المجنبتين ، (٣) وبعث خالدا رضى الله عنه على المجنبة الأخرى، وبعث أبا عبيدة - رضي الله عنه على الحسر، (٤) فأخذوا بطن الوادي، ورسول الله صلى الله عليه وسلم في مكة. قال فنظر فراني، فقال: "أبو هريرة" قلت لبيك يارسول الله ، فقال لا يأتني إلا الأنصار ثم قال حتى توافني بالصفاة، قال: فانطلقنا فما شاء أحد منا أن يقتل أحدا إلا قتله، وما أحد منهم يوجه إلينا شيئا، قال: فجاء أبوسفيان فقال يا رسول الله ! أبيحت خضراء قريش، لا قريش بعد اليوم ثم قال من دخل دار أبي سفيان فهو آمن، فقالت الأنصار: أما الرجل فأدركته رغبة في قريته ورافة بعشيرته قال أبو هريرة رضى الله عنه وجاء الوحى فلما انقضى الوحى قال : رسول الله صلى الله عليه وسلم يا معشر الأنصار ! قالوا : لبيك يارسول الله ، قال: قلتم "أما الرجل فأدركته رغبة في قريته، قالوا: قد كان ذلك، قال : كلا إني عبد الله ورسوله ، هاجرت إلى الله وإليكم والمحيا محياكم والممات مماتكم ، فأقبلوا إليه يبكون ويقولون : والله ما قلنا الذي قلنا إلا الضن بالله ورسوله فقال رسول الله صلى الله إن الله ورسوله يصدقائكم ويعذر انكم"
অর্থ, আবু হুরাইরাহ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল যখন মক্কায় যান তখন দুটি সেনা দলের মধ্যে একটির কাছে যুবাইয়ের কে অন্যটির কাছে খালেদ কে পাঠান এবং আবু উবাইদাহ কে আল-হুসারে (-) পাঠান তাঁরা বাতনে ওয়াদীর রাস্তা ধরেন। আর রাসুল ﷺ নিজ মক্কায় প্রবেশ করেন। আবু হুরায়রাহ বলেন, রাসুল ﷺ আমাকে বললেন, “আবু হুরায়রাহ” আমি বললাম বলুন হে আল্লাহর রাসুল আমি উপস্থিত, তিনি বললেন, আনসার গোষ্ঠী ব্যতীত আমার নিকট আর কেউ যেন না আসে। অতঃপর বললেন, তারা যেন “সাফা” পর্বতের নিকটে আমার কাছে উপস্থিত হয়। আবু হুরায়রাহ বলেন, আমরা যেতে আরম্ভ করি, আর তখন অবস্থা এমন ছিল যে, আমাদের কেউ যদি কুরাইশদের কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে দিত তাহলে তাদের কারোর প্রতি রক্ষার ক্ষমতা ছিল না। আবু হুরায়রাহ রা. আরো বলেন, আবু সুফিয়ান এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল ﷺ কুরাইশ বংশ আজ ধ্বংস। আজকের দিনের পর কুরাইশদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত। রাসুল ﷺ বললেন, আবু সুফিয়ানের ঘরে যে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। (তাকে হত্যা করা হবেনা)। রাসুলের এই ঘোষণা শ্রবণের পর আন্সার গোষ্ঠীর (লোকেরা) বলে উঠলেন, নিজ মাতৃ ভূমির টান এবং বংশীয় মহব্বত লোকটির (রাসূলের) উপর বিজয়ী হয়ে গেল। আবু হুরাইরাহ বলেন, এই মুহূর্তে ওয়াহী আসে, ওয়াহী আসার শেষে রাসূল বলেন, হে আনসার গোষ্ঠী, উত্তরে তারা বলেন, উপস্থিত হে আল্লাহর রাসূল! অত:পর রাসূল বলেন, "মানুষটির উপর মাতৃ ভূমির টান এবং বংশীয় মহব্বত বিজয়ী হয়ে গেল” একথা তোমরা বলেছো? তারা বলেন, (হ্যাঁ) এটাই। এরপর তিনি বলেন, কখনো না (তোমরা যা ধারণা করছ তা ভ্রান্ত) আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি আল্লাহর জন্য তোমাদের নিকট হিজরত করে এসেছি, যতদিন বেঁচে থাকব তোমাদের সাথে থাকব এবং মরব তোমাদের কাছে। অত:পর তারা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন এবং তাঁর কাছে এসে বলেন, আল্লাহর কসম, আমরা যা বলেছি তা কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রবল ভালোবাসার আবেগে বলেছি। প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তোমাদের কথা বিশ্বাস করেছেন এবং তোমাদের ওযরকে গ্রহণ করেছেন।(মুসলিম) (-)

ইমাম নওয়াবী এই হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, আনসার গোষ্ঠীর (লোকেরা) যখন নবী কে মক্কাবাসীর উপর দয়া- মায়া করতে দেখেন এবং তাদের হত্যা করা হতে বিরত থাকতে দেখেন তখন তারা ধারণা করেছিলেন যে তিনি এবার মক্কায় অবস্থান করবেন, তাদেরকে বর্জন করবেন, এবং মদীনাকে বিদায় দিবেন। আর এ ধারণাটি ছিল তাদের জন্য অত্যন্ত অসহনীয়। তাই আল্লাহ তাআলা রাসূলকে ওয়াহীর মাধ্যমে পরিস্থিতির সংবাদ জানিয়ে সতর্ক করে দেন। এর প্রেক্ষিতে রাসূল তাদের উদ্দেশ্যে যা বলেছিলেন তার ভাব এরূপ: আমি আল্লাহর ওয়াস্তে তোমাদের শহরের দিকে এজন্য হিজরত করেছি যে যাতে আমি সেটিকে নিজ নিবাস বানাই, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে কৃত হিজরত থেকে প্রত্যাবর্তনকারী নই বরং আমি এই হিজরতের উপর আবদ্ধ। যতদিন বেঁচে থাকব তোমাদের সাথে থাকব, যখন মরব তখন তোমাদের শহরে মরব।

তিনি যখন একথা বললেন তখন তারা কান্না করতে আরম্ভ করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, আমরা যা বলেছি তা কেবল আপনার সার্বক্ষণিক সাহচর্যের কল্যাণ সাধন ও লাভের উদ্দেশ্যে বলেছি। অতঃপর তাঁরা বলেন, আপনি আমাদেরকে সরল পথের নির্দেশনা দিতে থাকবেন, যেমন আল্লাহ বলেছেন,

"وانك لتهدى إلى صراط مستقيم " (শূরাঃ ৫২)
অর্থ, নিশ্চয় আপনি মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। (শূরাঃ ৫২)

তাদের কান্নার দুটি কারণ, প্রথম কারণ রাসূলের অঙ্গীকার জীবন-মরণ তাদের সাথে থাকা। দ্বিতীয় কারণ, তাদের কথায় রাসূল কিছু মনে করেন কি না যা তাদের লাঞ্ছিত হওয়ার কারণ হতে পারে। (শারহে নাওয়াভী ১২/১২৮-১২৯)

টিকাঃ
৩৯ ডান-বাম,(শারহে নওয়াবীহ ১২৬/১২১
৪০ "আল-হুস্সার" যাদের কোন যুদ্ধের পোষাক ছিল না।ঐ।
৪২ (শামায়েলে নববী ২৯/১২)।
৪৩ ঐ।
** সহীহ মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ অসসিয়ার, পাঠ মগ্ধ বিজয়, হাদীস সংখ্যা ১৪০৫/৩, ১৭৮০

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 জান্নাতে রাসূল ﷺ এর সাথে সাক্ষাৎ না হওয়ার আশংকায় জনৈক সাহাবীর দুশ্চিন্তা

📄 জান্নাতে রাসূল ﷺ এর সাথে সাক্ষাৎ না হওয়ার আশংকায় জনৈক সাহাবীর দুশ্চিন্তা


প্রকৃত রাসুল প্রেমিক দেখুন যখন সে নিজ এবং রাসুলের মৃত্যুতে স্মরণ করে তখন সে দুশ্চিন্তায় পতিত হয়। তার চিন্তার কারণ এই ভয়ে যে, সে যদি জান্নাতে প্রবেশ করে তবুও সে রাসুলের উজ্জ্বল চেহারা দর্শন করতে পারবে না, কেননা তিনি তো নবীগণের সাথে অবস্থান করবেন আর সে কোন নিম্ন স্তরের জান্নাতে থাকবে। এই প্রকৃত নবী প্রেমীর কথা ইমাম তাবারানী মুমেনীন জননী আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা সনদে এভাবে বর্ণনা করেন:

"جَاءَ رَجُلُ إِلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَارَسُولَ اللهِ إِنَّكَ لَأَحَبُّ إِلَى مِنْ نَفْسِي وَإِنَّكَ لَأَحَبُّ إِلَى مِنْ وَلَدِي، وَإِنِّي لَأَكُونُ فِي الْبَيْتِ فَاذْكُرُكَ فَمَا أَصْبِرُ حَتَّى آتِيَ فَأَنْظُرَ إِلَيْكَ، وَإِذَا ذَكَرْتُ مَوْتِي وَمَوْتَكَ عَرَفْتُ أَنَّكَ إِذَا دَخَلْتَ الْجَنَّةَ رُفِعْتَ مَعَ النَّبِيِّينَ، وَإِنِّي إِذَا دَخَلْتُ الْجَنَّةَ خَشِيتُ أَنْ لَا أَرَاكَ". فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى نَزَلَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِهَذِهِ الْآيَةِ : "وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ والرسول فألتك مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصدقيين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقا (النساء : ٦٩)
অর্থ, জনৈক ব্যক্তি রাসূল এর নিকট এসে বল্ল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার জীবন ও আমার সন্তানাদির চেয়ে অধিক প্রিয়, সত্য কথা বলতে কি যখন বাড়ীতে বসে আপনাকে মনে পড়ে তখন আপনার কাছে এসে আপনাকে না দেখা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে পারি না। আর যখন আমার ও আপনার মরণকে স্মরণ করি তখন বুঝতে পারি আপনি জান্নাতে প্রবেশ করে নবীগণের সঙ্গে উচ্চ মর্যাদায় থাকবেন এবং আমি যদিও জান্নাতে প্রবেশ করি তবুও আপনার দর্শনের সুযোগ পাব না এই আমার আশংকা। নবী তার কথার উত্তর দিলেন না যতক্ষণ না জিবরীল মারফত এই আয়াত অবতীর্ণ হল:-

" ومن يطع الله والرسول فأولئك مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين" (النساء: ٦٩) অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করবে সে ঐ ব্যক্তিদের সঙ্গে জান্নাতে অবস্থান করবে যাদের উপর আল্লাহ নিয়ামত প্রদান করেছেন। অর্থাৎ নবী, শহীদ এবং সৎব্যক্তিগণ। (মাজমাউযাওয়াদে ওয়া মাম্বাউল ফাওয়াদে ২/২) (-)(-)

টিকাঃ
45 সূরা নেসা: ৬৯।
46 মাজমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মাম্বাউল ফাওয়ায়েদ, কিতাবুততাফসীর হতে গৃহীত ৭/৭। এ সম্পর্কে হাফেয আল-হাইসেমী বলেন, এটি তাবারানী "মুজামে সাগীর ও আওসাতে" বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারী সহীর বর্ণনাকারী, আব্দুল্লাহ বিন ইমরান ব্যতীত, তবে সেও নির্ভর যোগ্য। ঐ। এটি ইবনে মারদুয়াহ ও আবু নায়ীম "হিলিয়াতে" বর্ণনা করেছেন এবং যিয়া আল- মাকদেসী" সেফাতিল জান্নাতে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন আমি এর সানাদে কোন অসুবিধা দেখছিনা। (দেখুন হামেশ যাদুল মাসীর ১২৬/২।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 জান্নাতে রাসূলের সঙ্গী হওয়ার জন্য রাবী ﷺ এর আবেদন

📄 জান্নাতে রাসূলের সঙ্গী হওয়ার জন্য রাবী ﷺ এর আবেদন


আরো একজন প্রকৃত নবী প্রেমী রাবীআ, বিন কাআ, ব আল-আসলামীকে আবেদন করার সুযোগ দেয়া হলে তাঁর আবেদন কি ছিল? ইমাম মুসলিম তার আবেদনের কথা তাঁর ভাষায় এভাবে বর্ণনা করেন: كنت أبيت مع رسول الله صلى الله عليه سلم فآتيته بوضوئه وحاجته، فقال لي: سل، فقلت: أسألك مرافقتك في الجنة، قال أو غير ذلك؟ قلت: هو ذاك، قال: فأعني على نفسك بكثرة السجود (مسلم) অর্থ, আমি রাসূলের নিকটে রাত কাটাতাম। (একদিন) তার নিকট ওযুর পানি এবং প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে উপস্থিত হই, অত:পর আমাকে বলেন, তুমি কিছু চাও, আমি বল্লাম, জান্নাতে আপনার সঙ্গী হতে চাই, তিনি বলেন, এছাড়া আর কিছু? আমি বল্লাম, এটাই, তিনি বলেন, (এই আশা পূরণের জন্য) বেশী বেশী সিজদাহ করে আমাকে সহযোগিতা কর। ()(মুসলিম)

আল্লাহু আব্বার! প্রকৃত নবী প্রেমী কিছু চাওয়ার সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথে বিনা দ্বিধায় জান্নাতে রাসূলের সঙ্গী হওয়ার দাবী করেন, দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয়া হলে একই চাহিদার পুনরাবৃত্তি করেন, অন্য কোন কিছু চাওয়ার কথা তার চিন্তায় আসেনি।

টিকাঃ
47 সহীহ মুসলিম, কিতাবুস্সালাহ, পাঠ, সিজদার ফযীলত ও তার জন্য উৎসাহ প্রদান, হাদীস সংখ্যা ৩৫৩/১,৪৮৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00