📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 নবী প্রীতি ঈমানী মিষ্টতা লাভের অন্যতম কারণ

📄 নবী প্রীতি ঈমানী মিষ্টতা লাভের অন্যতম কারণ


ঈমানী মিষ্টতা গ্রহণের জন্য আল্লাহ কিছু কারণ বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে বৃহৎ কারণ হচ্ছে বান্দা যেন সকল সৃষ্টি জগতের চেয়ে নবী কে ভালবাসে। দলীল নিম্ন লিখিত হাদীস।

عن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الإيمان : أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما ، و أن يحب المرء لا يحبه إلا الله وأن يكره أن يعود في الكفر كما يكره أن يقذف في النار البخاري ومسلم)
অর্থ, আনাস কর্তৃক বর্ণিত, নবী বলেছেন, যার মধ্যে তিনটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাবে সে ঈমানের স্বাদ পাবে: * আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেন তার নিকট সকলের চাইতে প্রিয় হন।
*- যার সঙ্গে ভালবাসা করবে তা যেন কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়।
*- কুফরের দিকে প্রত্যাবর্তনকে যেন ঐ ভাবে ঘৃণা করে যেমন আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে ঘৃণা করা হয়। (বুখারী-মুসলিম)

ঈমানের স্বাদ বলতে যেমন আলেমগণ বলেছেন, আল্লাহর ইবাদতে স্বাদ অনুধাবন করা, দ্বীনের জন্য কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করা এবং দ্বীনকে দুনিয়ার সকল বস্তুর বা ভোগ সামগ্রীর উপর অগ্রাধিকার দেয়া। (-) আল্লাহু আকবর! এই সুফল কত বৃহৎ এবং মূল্যবান! হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে তা থেকে বঞ্চিত করনা। আমীন।

টিকাঃ
11 বুখারী-মুসলিম, সহীহ বুখারী, কিতাবুল ঈমান পাঠ, ঈমানের মিষ্টতা, হাদীস সংখ্যা ১/৬০ হাঃ ১৬, সহীহ মুসলিম পাঠ, যে ব্যক্তি ঐ গুনে গুন্মাণিত হবে সে ঈমানের মিষ্টতা পাবে, হাদীস সংখ্যা ১/৬৬, হাঃ ৪৩। হাদীসের শব্দ বুখারীর।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 নবী প্রেমী আখেরাতে নবীর সঙ্গী

📄 নবী প্রেমী আখেরাতে নবীর সঙ্গী


যে ব্যক্তি দুনিয়ায় ঈমানের অবস্থায় রাসূলের সাথে ভালবাসা রাখবে সে আখেরাতে তাঁর সঙ্গী হবে। নিম্ন লিখিত হাদীস এর স্পষ্ট দলীল।

عن أنس رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله متى الساعة؟ قال: وما أعددت للساعة؟ قال: حب الله ورسوله قال: فإنك مع من أحببت، قال: انس رضى الله عنه فما فرحنا بعد الإسلام فرحا أشد من قول النبي صلى الله عليه وسلم ،" فإنك مع من أحببت" قال: أنس رضى الله عنه فأنا أحب الله ورسوله وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ، فَارْجُو اَنْ اَكُوْنَ مَعَهُمْ ۠ وَلَنْ لَمْ اَعْمَلُ بِاَعْمَلِهِمْ (مَسْلِم)
অর্থ, আনাস বিন মালেক রাঃ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাঃ এর নিকটে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন কিয়ামতের জন্য কি প্রস্তুত করেছ? সে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালবাসা। তিনি বললেন, নিশ্চয় তুমি যাকে ভালবাস তার সঙ্গী হবে। আনাস রাঃ বললেন, রাসূলের উক্তি “فَإِنَّكَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ” (নিশ্চয় তুমি যাকে ভালবাস তার সঙ্গী হবে) শ্রবণে আমরা এমন আনন্দিত হয়েছি যে ইসলাম গ্রহণের পর এত আনন্দিত আর কখনো হয়নি। তিনি (আনাস রাঃ) আরো বলেন, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল, আবু বকর এবং উমর (রাঃ)-কে ভালবাসি। আমার আশা (কিয়ামতের দিন) তাদের সঙ্গী হব যদিও আমার আমল তাদের সমতুল্য নয়।(~) (মুসলিম)। একই অর্থে আর একটি হাদীস:

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ ، كَيْفَ تَقُولُ فِي رَجُلٍ أَحَبَّ قَوْمًا وَلَمْ يَلْحَقُ بِهِمْ، فَقَالَ: رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اَلْمَرْءُ مَعَ مَنْ اَحَبَّ অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে কি বলেন, যে ব্যক্তি কোন কাওমের সাথে ভালবাসা রাখে কিন্তু সে তাদের সঙ্গে মিলিত হতে পারেনি, (অর্থাৎ তাদের সমতুল্য আমল করতে পারেনি) প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, মানুষ যে যাকে ভালবাসে (কিয়ামতের দিন) সে তার সঙ্গী হবে। (~) (বুখারী-মুসলিম)। নবীজীর উক্তিঃ “মানুষ যে যাকে ভালবাসে সে তার সঙ্গী হবে” এর অর্থ হল, যে ব্যক্তির যার সঙ্গে ভালবাসা আছে সে তার সঙ্গে জান্নাতে অবস্থান করবে।(০) আল্লাহু আকবার! নবীর প্রতি ভালবাসার ফল কত বৃহৎ এবং মর্যাদা সম্পন্ন। হে আল্লাহ তুমি নিজ দয়ায় নবী প্রীতির ফলদানে ভাগ্যবান কর। কবুল কর হে চিরঞ্জীব চির প্রতিষ্ঠিত।

টিকাঃ
দেখুন শারহে নওয়াবী, ২/১৩ এবং ফাতহুল বারী/১১৬।

13. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বিররে ওয়াসসিলাতি ওয়াল আদাবি, হাদীস সংখ্যা: ২০০০/৪, ২৬০২, অনুরূপ ইমাম বুখারীও বর্ণনা করেছেন, দেখুন সহীহ বুখারী, কিতাবুল আদাব, পায়ে আলে “আল্লাকা” হাদীস সংখ্যা ৫৫০/১০, ৬১৬৭।

14. বুখারী মুসলিম, সহীহ বুখারী, কিতাবুল আদাব, পায়ে আল্লাহার ওয়ালেদ তালগাসার নিরন, হাদীস সংখ্যা: ৫৪৭/১০, ৬১৫১, সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বিররে ওয়াসসিলাতি ওয়াল আদাবি, পায়ে, মানুষ যে যাকে ভালবাসে সে তার সঙ্গী হবে, হাদীস সংখ্যা ২০০৪/৪, ২৬৪০, শব্দ বুখারীর।

15. দেখুন উমদাতুলকারী ১৯৭/২২

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 নবী প্রীতির নিদর্শন

📄 নবী প্রীতির নিদর্শন


তৃতীয় অধ্যায়
নবী প্রীতির নিদর্শন
আলেমগণ কুরআন-হাদীসের আলোকে নবী প্রেমের কতিপয় নিদর্শন বর্ণনা করেছেন। যেমন কাযী ইয়ায বলেন, নবীর সুন্নতের সাহায্য, সহযোগিতা, তাঁর উপর নাযেলকৃত শরীয়তের সংরক্ষণ, তিনি বেঁচে থাকলে তাঁর জন্য জান-মাল কুরবাণী দেয়ার আশা পোষণ করা তাঁর প্রীতির নিদর্শন।(শারহে নওয়াবী ২/১৬)
এ বিষয়ে হাফেয ইবনে হাজর বলেন, নবী প্রেমের নিদর্শন এটি একটি যে, যদি নবীজীর যিয়ারত সম্ভব হয় এবং কোন ব্যক্তিকে এই এখতিয়ার দেয়া হয় যে দুনিয়ার সম্পদ বা ভোগসামগ্রী হারাতে চাও না নবীজীর যিয়ারত হারাতে চাও? এ দুটির মধ্যে একটিকে অগ্রাধিকার দাও? দুনিয়াবী সম্পদ হারানোর চেয়ে যদি রাসূলের যিয়ারত হারানো তার জন্য ভারী বা কষ্টদায়ক হয় তাহলে জানতে হবে এটি রাসূলের প্রতি ভালবাসার নিদর্শন। কেউ যদি এ সুযোগ হারায় বা বঞ্চিত হয় তাহলে সে রাসূলের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হবে। নবী প্রীতি কেবল তাঁর যিয়ারতের উপর সীমিত নয়, বরং তাঁর সুন্নতের সহযোগিতা, সমর্থন, তাঁর উপর নাযেলকৃত শরীয়তের প্রতিরক্ষা, তাঁর শত্রুদের মূলোৎপাটন করা এবং সৎ কর্মের আদেশ, অসৎ কর্মের নিষেধও তাঁর প্রীতির নিদর্শন। (-) (ফাতহুল বারী ১/৫৯)

আল্লামা আইনী এ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে লিখেন, এ কথা ভাল করে জেনে নেয়া প্রয়োজন যে, রাসূলের আনুগত্য করা এবং অবাধ্য না হওয়া তাঁর ভালোবাসার মূল চাহিদা। এটি ইসলামের অপরিহার্য কর্তব্য। (*)

উল্লেখিত আলোচনার ভিত্তিতে নিম্ন লিখিত নবী প্রীতির নিদর্শন গ্রহণ করতে পারি:
*- নবীজীর সাক্ষাৎএবং তাঁর সাহচর্য গ্রহণের প্রবল আশা।
*- তাঁর জন্যে নিজ জান-মাল কুরবাণী দেয়ার উদ্দেশ্যে সর্বদা পূর্ণ প্রস্তুতি।
*- তাঁর আদেশ এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন।
*- তাঁর সুন্নতের সহযোগিতা, সমর্থন এবং তাঁর উপর নাযেলকৃত শরীয়তের প্রতিরক্ষা।
এ সমস্ত নিদর্শন যার মধ্যে পাওয়া যাবে সে যেন আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করে যে, সে নিজ অন্তরে রাসুলের ভালবাসাকে স্থান দিয়েছে, তার সাথে যেন এ দুয়াও করে যেন এই অবদান স্থায়ী হয়। আর যার মধ্যে এ সমস্ত নিদর্শন পাওয়া যাবে না সে যেন কিয়ামতের পূর্বেই নিজের হিসাব নিজেই করে যে তার অন্তরে যা লুক্কায়িত আছে তা প্রকাশিত হয়ে যাবে। সে যেন আল্লাহ এবং মুমিনদের অযথা ধোকা দেয়ার চেষ্টা না করে। আল্লাহকে ধোকা দেয়ার প্রচেষ্টাকারী তো নিজেকেই ধোকা দেয় আল্লাহ বলেন,
"يخادعون الله والذين آمنو وما يخدعون إلا أنفسهم وما يشعرون" (البقرة: ٩) অর্থ, যারা আল্লাহ ও মুমিনদের ধোকা দেয় অথচ তারা নিজেরাই ধোকা খায়, যদিও সে তার অনুভূতি রাখেনা। (বাকারাহ: ৯) এরপর সাহাবাগণের জীবনীর ভিত্তিতে নবী প্রীতির নিদর্শনের আলোচনা করব, তার সঙ্গে প্রয়োজনানুযায়ী বর্তমানে মুসলিমদের অবস্থা নিয়ে আলোকপাত করব

টিকাঃ
16 ফাতহুল বারী, ১/৫৯
17 উমদাতুল কারী, ১/১৪৪

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 নবী প্রীতির প্রথম নিদর্শন

📄 নবী প্রীতির প্রথম নিদর্শন


যাতে দয়াবান আল্লাহ আমাদের হৃদয়ে নবীজীর প্রকৃত ভালবাসা সৃষ্টি করেন এবং দুনিয়া-আখেরাতে আমাদের মত পাপী-তাপী মানুষকে ফলদানে লাভবান করেন। তিনি প্রার্থনা শ্রবণ ও গ্রহণকারী। প্রতিটি নিদর্শন আলাদা আলাদা ভাবে আলোচনা করব।

নবী প্রীতির প্রথম নিদর্শন

নবীজীর দর্শন ও তাঁর সাহচর্যের প্রবল আশা

সকলে এ কথা জানে যে, প্রেমিকের সবচেয়ে বড় আশা-আকাঙ্খা তার প্রিয়ের দর্শন। অনুরূপ নবী প্রেমিক তাঁর উজ্জ্বল চেহারা দর্শন এবং সাহচর্য লাভ করার জন্য অস্থির থাকে, সঙ্গী হওয়ার প্রবল আশা করে, দুনিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ নিয়ামত এবং নবীজীর দর্শন ও সাহচর্যের মধ্যে কোন একটি গ্রহণ করার সুযোগ দিলে অবিলম্বে নবীজীর দর্শনকে অগ্রাধিকার দেয়। তাঁর উজ্জ্বল চেহারা দর্শনে এবং পবিত্র সাহচর্যের কল্যাণে তার নয়ন শীতল হয় ও অন্তর আনন্দে ভরে উঠে। তাঁর বিরহ বেদনা তাকে ব্যথিত ও অস্থির করে তুলে, চক্ষু দিয়ে অশ্রু নির্গত হয়। নিম্নে প্রকৃত নবী প্রেমীদের দু,একটি ঘটনা উল্লেখ করা হচ্ছে যাতে উপলব্ধি করা যাবে যে নবী প্রেমের যে নিদর্শন তার ভিত্তিতে সে কি পরিমাণ তাঁকে ভালবাসত।

হিজরতের সময় নবীজীর সাহচর্য লাভ করার সুযোগে অতি আনন্দের সাথে আবু বাকর এর যাত্রা:
রাসূল আবু বাকর কে হিজরতের সময় নিজ সঙ্গী হওয়ার সুসংবাদ শুনান, এ সংবাদ শ্রবণে তিনি এমন আনন্দিত হন যে তাঁর চক্ষু দিয়ে আনন্দাশ্রু নির্গত হয়। নিম্ন লিখিত হাদীসে এই ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

عن عائشة رضى الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت : فبينما نحن يوما جلوس في بيت أبي بكر رضى الله عنه في نحر الظهيرة قال قائل لأبي بكر ، هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم متقنعا في ساعة لم يكن يأتينا فيها فقال أبو بكر فداء له أبي وأمي والله ما جاء به في هذه الساعة إلا أمر ، قالت عائشة: فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستأذن فأذن له، فدخل فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأبي بكر أخرج من عندك، فقال أبوبكر إنما هم أهلك بأبي أنت يا رسول الله ، قال : فإني قد أذن لي في الخروج فقال أبو بكر الصحابة بأبي أنت يا رسول الله قال: نعم، ) البخاري)
অর্থ, নবীজীর স্ত্রী আয়েশা (رض الله عنها) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা দুপুরে আবু বাকর এর গৃহে বসে(-) আছি এমন সময় কেউ যেন বল্ল, রাসূল (রোদের তাপে মাথা ঢেকে (এ)দিকে আসছেন) এ সময়ে আসতে তিনি অভ্যস্ত নন। আবু বাকর বলেন, আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য কুরবাণ হোক, আল্লাহর কসম, এ সময়ে নবীজীর আগমন নিশ্চয় কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য। আয়েশা বলেন, রাসূল পৌঁছে ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলেন, অনুমতির ভিত্তিতে ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং আবু বাকরকে বল্লেন, তোমার নিকট যারা আছে তাদেরকে বাইরে যেতে বল। আবু বাকর বলেন, হে আল্লাহর রাসূল আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবাণ হোক এরা তো আপনার পরিবার। অত:পর রাসূল বল্লেন, আমাকে মক্কা ত্যাগ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আবু বাকর বলেন, হে আল্লাহর রাসূল আপনার জন্য আমার পিতা- মাতা কুরবাণ হোক আমি এই সফরে আপনার সঙ্গী হব? তিনি বলেন, হাঁ।(-) (বুখারী)
আবু বাকর হিজরতের সফরে সম্ভাব্য কঠোর বিপদের কথা জানতেন। কিন্তু এই বিপদের আশংকা তার প্রিয় রাসূলের সাথী হওয়ার আগ্রহকে কোন রূপ হাস করতে পারেনি। রাসূল যখন তাকে সঙ্গে থাকার অনুমতি প্রদান করলেন তখন অতি আনন্দে তার চক্ষু দিয়ে আনন্দাশ্রু নির্গত হয়।

হাফেয ইবনে হাজর বলেন, ইমাম ইসহাকের বর্ণনায় এ অংশ টুকু বেশী রয়েছে: "قالت عائشة (رضي الله عنها) فرأيت أبا بكر يبكي وما كنت أحسب أن أحدا يبكى من الفرح" (فتح الباري ٢٣٥/٧ السيرة النبوية ، لابن هشام (۹۳/২ অর্থাৎ, আয়েশা বলেন, আমি আবু বাকরকে এমন কেঁদে ফেলতে দেখি, আমি জানতাম না যে আনন্দের জন্য কেউ কেঁদে ফেলে। (-)

টিকাঃ
18 আমরা বসে ছিলাম (উমদাকুল কারী, ৪৫/১৯।
19 অত্যন্ত গরমের সময়। দিনের সব চেয়ে গরমের সময় হচ্ছে সূর্য ঢলার সময়। ঐ।
20 "সাহাবাহ" "ব" আকারের সাথে পড়া, অর্থাৎ সঙ্গ তলব। (ফাতহুল বারী, ২৩৫,/৭)
21 সহীহ বুখারী, কিতাবুল মানাকেবিল্ আল্সার, হাদীস সংখ্যা ২৩১/৭,৩৯০৫
22 ফাতহুলবারী, ২৩৫/৭,এবং দেখুন, আসসিরা আন্নাওয়াবীয়াহ, ইবনে হিশামের, ১২/২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00