📄 পরিবার ও সম্পদের চেয়েও নবী প্রীতির অপরিহার্যতা
পরিবার, ধন-সম্পদ এবং পৃথিবীর সকল মানুষের চেয়েও যেন নবী ﷺ মুমিনদের নিকট প্রিয় হন, এটি সকল মুমিনের জন্য বাঞ্ছনীয়, নিম্ন লিখিত হাদীস এ অর্থের ইঙ্গিত বহন করে।
عن أنس رضى الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يؤمن عبد حتى أكون أحب إليه من أهله وماله والناس أجمعين. (مسلم) অর্থ, আনাস কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল বলেছেন ততক্ষণ পর্যন্ত কোন বান্দা মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না আমি তার পরিবার- পরিজন, ধন-সম্পদ এবং সকল মানুষের চেয়ে তার নিকট প্রিয় হব। (মুসলিম)
টিকাঃ
* ফাতহুল বারী/৫৯/১।
📄 সৃষ্টি জগতের মধ্যে কাউকে নবীর চেয়ে অধিক ভালবাসলে তার শাস্তি
আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের জন্য শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়েও অধিক নিজেদের পিতা, সন্তান, স্ত্রী, সম্পদ, ব্যবসা এবং আবাসস্থলকে ভালবাসে। এ সর্ম্পকে আল্লাহর বাণী:
* সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান পাঠ, পরিবার, ছেলে, পিতা-মাতা এবং সকলের চেয়ে রাসূল * কে অধিক ভালবাসা ওয়াজিব। যে ব্যক্তি তাঁকে ঐ রকম ভালবাসবে না, তাকে মু'মিন বলা যাবে না। হাদীস সংখ্যা ১/৬৭,৬৯। হাফেয আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন। হাদীস সংখ্যা ১৮৯৮/২৯৫।
"قل إن كان آباؤكم وأبناؤكم وعشيرتكم وأموال اقترفتموها وتجارة تخشون كسادها ومساكن ترضونها أحب إليكم من الله ورسوله وجهاد في سبيله فتربصوا حتى يأتي الله بأمره والله لا يهدى القوم الظالمين" (التوبة: ٢٤)
অর্থ, (হে রাসূল) আপনি তাদেরকে বলে দিন, যদি তোমাদের পিতৃবর্গ, তোমাদের পুত্রগণ, তোমাদের ভ্রাতাগণ তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের স্বগোত্র, আর ঐ সব ধন-সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছো আর ঐ ব্যবসায় যাতে তোমরা মন্দা পড়বার আশংকা করছো এবং ঐ গৃহ সমূহ যা তোমরা পছন্দ করছো (যদি এই সব) তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে এবং তার পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা প্রতীক্ষা করতে থাক এই পর্যন্ত যে, আল্লাহ নিজ নির্দেশ পাঠিয়ে দেন। আর আল্লাহ আদেশ অমান্যকারীদেরকে সৎপথ প্রর্দশন করেন না। (তাওবা: ২৪)
হাফেয ইবনে কাসীর এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, উক্ত বস্তু সমূহ যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর পথে জিহাদের চেয়ে তোমাদের নিকট অধিক প্রিয়
হয় তাহলে আল্লাহর বিভিন্ন আযাবের মধ্যে কোন আযাব তোমাদের উপর অবতীর্ণ হচ্ছে তার অপেক্ষা কর।()(মুখতাসার তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২/পৃ:৩২৪)
"حتى يأتى الله بأمره " এই অংশের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ এবং ইমাম হাসান বলেন, দুনিয়াবী অথবা পরকালীন উভয় জগতের আযাব।() যামাখশরী বলেন, এই আয়াতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত অন্যকে ভালবাসলে তার কঠিন ধমক রয়েছে। ইমাম কুরতুবী বলেন, এই আয়াতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসার অপরিহার্যতা প্রমাণ করছে এতে কোন মত ভেদ নেই।(৩) (কুরতুবী, ৮/৯৫) ()
টিকাঃ
7 সংক্ষেপ তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৩২৪
(রফায়ী):৮/৯৫-৯৬
* তাফসীরে কুরতুবী হতে গৃহিত ৯৬-৯৫/৮।
* তাফসীরে কাশাফ ১৮১/২।
২০ তাফসীরে কুরতুবী, ১৫/৮, এবং দেখুন আইসারুস্তাফাসীর (শায়েখ আল- জাযায়েরী ১৭৭/২।
📄 নবী প্রেমের সুফল ও তার উপকার
দ্বিতীয় অধ্যায়
নবী ﷺ আমাদের ভালোবাসার মুখাপেক্ষী নন,এটি খুবই স্পষ্ট। আমাদের মত মানুষ তাঁকে ভালোবাসুক চাইতে না বাসুক তাতে তাঁর ইযযত সম্মানে কিছু কম বেশী হবে না। কেননা তিনি সৃজনকর্তা, মালিক, রুযীদাতা এবং ব্যবস্থাপক আল্লাহর প্রিয়। কথা এখানেই শেষ নয় বরং আল্লাহর সমীপে তাঁর স্থান ও মর্যাদা এত বৃহৎ এবং উচ্চে যে, যে ব্যক্তি তাঁর অনুসরণ করবে আল্লাহ তাঁকে নিজ প্রিয়।
বানিয়ে নিবেন এবং তার পাপকে মোচন করে দিবেন। আল্লাহ বলেন, "قل إن كنتم تحبون الله فاتبعوني يحببكم الله ويغفر لكم ذنوبكم والله غفور رحيم (آل عمران: (۳۱)
অর্থ, বলুন তোমরা যদি প্রকৃত পক্ষে আল্লাহকে ভালবাসতে চাও তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন। তোমাদের পাপ মোচন করে দিবেন, তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান। (আলে ইমরান ৩১) নবী প্রীতির উপকার তার অনুসারীরাই পেয়ে থাকে। সে তাঁর প্রেমের কারণে ইহ-পর জগতে সুখী হবে, আল্লাহর ফযলে এ বিষয়টি সংক্ষিপ্তাকারে আলোচনা করছি।
📄 নবী প্রীতি ঈমানী মিষ্টতা লাভের অন্যতম কারণ
ঈমানী মিষ্টতা গ্রহণের জন্য আল্লাহ কিছু কারণ বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে বৃহৎ কারণ হচ্ছে বান্দা যেন সকল সৃষ্টি জগতের চেয়ে নবী কে ভালবাসে। দলীল নিম্ন লিখিত হাদীস।
عن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الإيمان : أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما ، و أن يحب المرء لا يحبه إلا الله وأن يكره أن يعود في الكفر كما يكره أن يقذف في النار البخاري ومسلم)
অর্থ, আনাস কর্তৃক বর্ণিত, নবী বলেছেন, যার মধ্যে তিনটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাবে সে ঈমানের স্বাদ পাবে: * আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেন তার নিকট সকলের চাইতে প্রিয় হন।
*- যার সঙ্গে ভালবাসা করবে তা যেন কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়।
*- কুফরের দিকে প্রত্যাবর্তনকে যেন ঐ ভাবে ঘৃণা করে যেমন আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে ঘৃণা করা হয়। (বুখারী-মুসলিম)
ঈমানের স্বাদ বলতে যেমন আলেমগণ বলেছেন, আল্লাহর ইবাদতে স্বাদ অনুধাবন করা, দ্বীনের জন্য কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করা এবং দ্বীনকে দুনিয়ার সকল বস্তুর বা ভোগ সামগ্রীর উপর অগ্রাধিকার দেয়া। (-) আল্লাহু আকবর! এই সুফল কত বৃহৎ এবং মূল্যবান! হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে তা থেকে বঞ্চিত করনা। আমীন।
টিকাঃ
11 বুখারী-মুসলিম, সহীহ বুখারী, কিতাবুল ঈমান পাঠ, ঈমানের মিষ্টতা, হাদীস সংখ্যা ১/৬০ হাঃ ১৬, সহীহ মুসলিম পাঠ, যে ব্যক্তি ঐ গুনে গুন্মাণিত হবে সে ঈমানের মিষ্টতা পাবে, হাদীস সংখ্যা ১/৬৬, হাঃ ৪৩। হাদীসের শব্দ বুখারীর।