📄 নিজ জীবনের চেয়ে রাসূল ﷺ কে ভালবাসা আবশ্যক
নিজ জীবনের চেয়ে রাসূল ﷺ কে ভালবাসা আবশ্যক
এ সর্ম্পকে নিম্ন লিখিত হাদীস:
عن عبد الله بن هشام رضى الله عنه قال : كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو أخذ بيد عمر بن الخطاب رضى الله عنهما فقال له عمر رضى الله عنه يارسول الله لأنت أحب إلى من كل شيء إلا من نفسي، فقال النبي صلى الله عليه وسلم لا ، والذي نفسي بيده حتى أكون أحب إليك من نفسك، فقال له عمر فإنه الآن والله لأنت أحب إلى من نفسي فقال النبي صلى الله عليه وسلم الآن يا عمر
)البخاري( অর্থ, আব্দুল্লাহ বিন হিশাম কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূল ﷺ এর সঙ্গে ছিলাম, তিনি উমার এর হাত ধরে ছিলেন ইতি অবসরে উমার বল্লেন, হে আল্লাহর রাসুল আমার জীবন ব্যতীত সকল বস্তুর চেয়ে আপনি অবশ্য আমার নিকট প্রিয়। রাসূল ﷺ বল্লেন না, ঐ সত্তার কসম যাঁর হস্তে আমার জীবন আছে, যতক্ষণ না আমি তোমার জীবন থেকেও প্রিয় হব ততক্ষণ তুমি পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না। উমার বলেন, নিশ্চয় এখন আপনি আমার জীবন থেকে অধিক প্রিয়, তিনি বলেন, এখন হয়েছে হে উমার। (¹ (বুখারী)
"لا والذي نفسي بيده ! حتى أكون أحب إليك من نفسك"
“ঐ সত্তার কসম! যাঁর হস্তে আমার জীবন আছে, যতক্ষণ না আমি তোমার জীবনের চেয়ে তোমার নিকট অধিক প্রিয় হব” এ অংশের ব্যাখ্যায় আল্লামাহ আইনী বলেন, "তোমার ঈমান ততক্ষণ পরিপূর্ণ হবে না যতক্ষণ আমি তোমার জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয় হব।"(²) “الآن ياعمر” এ অংশের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন," এখন তোমার ঈমান পরিপূর্ণ হল হে উমার। এ হাদীসে অন্য কথা ব্যতীত একটি কথা অনুধাবন করা উচিৎ যে, রাসূল সত্যবাদী ও আমানতদার হয়েও কসম করে বলেন, ঈমানের পূর্ণতার জন্য মুমিনকে নিজেদের জীবনের চেয়েও তাঁকে ভালবাসা অবশ্য কর্তব্য। অথচ তিনি সত্য ও সততার এমন অধিকারী যে তিনি কসম খান চাহে না, খান তাঁর সমস্ত কথা সত্য এবং সন্দেহ মুক্ত। এরপরও তিনি যদি কোন কথা কসম খেয়ে বলেন তবে সেটি কত সুনিশ্চিত? কেননা কসম কথাকে দৃঢ় করে এটি আমরা সকলে জানি。
টিকাঃ
¹ সহীহ বুখারী, কিতাবুল ঈমান অয়া ননুযুর পাঠ, নবী এর কসম কেমন ছিল, হাদীস সংখ্যা ১১/৫২৩, ৬৬২৩।
² উমদাতুল কারী, ২৩/১৬৯
📄 নবী প্রীতি নিজ পিতা-মাতা, সন্তানাদির চেয়েও অধিক অপরিহার্যতা
সকল মুসলিমের জন্য তাঁর পিতা-মাতা, সন্তানাদির চেয়েও নবীজীকে ভালবাসা বাঞ্ছনীয়। এর প্রমাণে নিম্ন লিখিত হাদীস:
عن أبي هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : فوالذي بيده نفسي لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده. (البخاري)
অর্থ আবু হুরাইরাহ কর্তৃক বর্ণিত, রাসূল বলেছেন ঐ সত্তার কসম যাঁর হস্তে আমার জীবন আছে ,তোমারদের মধ্যে কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা সন্তানদের চেয়ে অধিক প্রিয় হব। (বুখারী)
এই হদীসে মুহাদ্দিসগণ প্রশ্ন তুলেছেন যে, তাতে কেবল পিতার কথা উল্লেখিত হয়েছে, মায়ের কথা উল্লেখিত হয়নি।
হাফেয ইবনে হাজর এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, যার বাচ্চা আছে তাকেই যদি “ওয়ালেদ” বলা হয়ে থাকে তাহলে “ওয়ালেদ” শব্দ দ্বারা পিতা-মাতা উভয়কে বুঝাবে, অথবা উক্ত প্রশ্নের উত্তরে এও বলা যেতে পারে যে, পিতা-মাতার মধ্যে কোন একজনকে উল্লেখ করা হলে অপরজন এমনিই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। যেমন বিপরীত দুটি বস্তুর মধ্যে একটি উল্লেখ করা হলে অপরটি এমনিই এসে যায়। এই উত্তরের আলোকে বুঝে নিতে হবে যে, “ওয়ালেদ” (পিতা) শব্দটি উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়েছে। যার উদ্দেশ্য হল চরম নিকটাত্মীয়। সুতরাং রাসূল ﷺ এর বাণীর অর্থ হল যে, তিনি যেন নিকটতম আত্মীয় চেয়েও মু’মিনদের নিকট প্রিয় হন। (³)
টিকাঃ
³ সহীহ বুখারী, কিতাবুল ঈমান, পাঠ, রাসূলের ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ, হাদীস সংখ্যা ১/৫৮.১৪।
📄 পরিবার ও সম্পদের চেয়েও নবী প্রীতির অপরিহার্যতা
পরিবার, ধন-সম্পদ এবং পৃথিবীর সকল মানুষের চেয়েও যেন নবী ﷺ মুমিনদের নিকট প্রিয় হন, এটি সকল মুমিনের জন্য বাঞ্ছনীয়, নিম্ন লিখিত হাদীস এ অর্থের ইঙ্গিত বহন করে।
عن أنس رضى الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يؤمن عبد حتى أكون أحب إليه من أهله وماله والناس أجمعين. (مسلم) অর্থ, আনাস কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল বলেছেন ততক্ষণ পর্যন্ত কোন বান্দা মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না আমি তার পরিবার- পরিজন, ধন-সম্পদ এবং সকল মানুষের চেয়ে তার নিকট প্রিয় হব। (মুসলিম)
টিকাঃ
* ফাতহুল বারী/৫৯/১।
📄 সৃষ্টি জগতের মধ্যে কাউকে নবীর চেয়ে অধিক ভালবাসলে তার শাস্তি
আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের জন্য শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়েও অধিক নিজেদের পিতা, সন্তান, স্ত্রী, সম্পদ, ব্যবসা এবং আবাসস্থলকে ভালবাসে। এ সর্ম্পকে আল্লাহর বাণী:
* সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান পাঠ, পরিবার, ছেলে, পিতা-মাতা এবং সকলের চেয়ে রাসূল * কে অধিক ভালবাসা ওয়াজিব। যে ব্যক্তি তাঁকে ঐ রকম ভালবাসবে না, তাকে মু'মিন বলা যাবে না। হাদীস সংখ্যা ১/৬৭,৬৯। হাফেয আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন। হাদীস সংখ্যা ১৮৯৮/২৯৫।
"قل إن كان آباؤكم وأبناؤكم وعشيرتكم وأموال اقترفتموها وتجارة تخشون كسادها ومساكن ترضونها أحب إليكم من الله ورسوله وجهاد في سبيله فتربصوا حتى يأتي الله بأمره والله لا يهدى القوم الظالمين" (التوبة: ٢٤)
অর্থ, (হে রাসূল) আপনি তাদেরকে বলে দিন, যদি তোমাদের পিতৃবর্গ, তোমাদের পুত্রগণ, তোমাদের ভ্রাতাগণ তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের স্বগোত্র, আর ঐ সব ধন-সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছো আর ঐ ব্যবসায় যাতে তোমরা মন্দা পড়বার আশংকা করছো এবং ঐ গৃহ সমূহ যা তোমরা পছন্দ করছো (যদি এই সব) তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে এবং তার পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা প্রতীক্ষা করতে থাক এই পর্যন্ত যে, আল্লাহ নিজ নির্দেশ পাঠিয়ে দেন। আর আল্লাহ আদেশ অমান্যকারীদেরকে সৎপথ প্রর্দশন করেন না। (তাওবা: ২৪)
হাফেয ইবনে কাসীর এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, উক্ত বস্তু সমূহ যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর পথে জিহাদের চেয়ে তোমাদের নিকট অধিক প্রিয়
হয় তাহলে আল্লাহর বিভিন্ন আযাবের মধ্যে কোন আযাব তোমাদের উপর অবতীর্ণ হচ্ছে তার অপেক্ষা কর।()(মুখতাসার তাফসীরে ইবনে কাসীর: ২/পৃ:৩২৪)
"حتى يأتى الله بأمره " এই অংশের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ এবং ইমাম হাসান বলেন, দুনিয়াবী অথবা পরকালীন উভয় জগতের আযাব।() যামাখশরী বলেন, এই আয়াতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত অন্যকে ভালবাসলে তার কঠিন ধমক রয়েছে। ইমাম কুরতুবী বলেন, এই আয়াতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসার অপরিহার্যতা প্রমাণ করছে এতে কোন মত ভেদ নেই।(৩) (কুরতুবী, ৮/৯৫) ()
টিকাঃ
7 সংক্ষেপ তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৩২৪
(রফায়ী):৮/৯৫-৯৬
* তাফসীরে কুরতুবী হতে গৃহিত ৯৬-৯৫/৮।
* তাফসীরে কাশাফ ১৮১/২।
২০ তাফসীরে কুরতুবী, ১৫/৮, এবং দেখুন আইসারুস্তাফাসীর (শায়েখ আল- জাযায়েরী ১৭৭/২।