📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


ভূমিকা

নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের কুকর্ম, অন্তরের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। তিনি যাকে হিদায়াত করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর প্রতি, তাঁর সহচর এবং অনুসারীদের প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।
সমস্ত সৃষ্টির চেয়ে রাসূল ﷺ এর ভালবাসা অধিক হওয়া সকল মানুষের অবশ্য কর্তব্য। রাসূলের ﷺ ভালবাসায় ইহ-পর জগতে বৃহৎ কল্যাণ রয়েছে। কিন্তুতাঁর ভালবাসার অনেক দাবীদার তাঁর ভালবাসায়
সীমা লংঘন করে, অনুরূপ ভাবে অনেকে তাঁর ভালবাসাকে সীমিত নযরে দেখে।

নিজেকে ও আমার ভ্রাত, মন্ডলীকে রাসূলের ভালবাসার গুরুত্ব, ফযল এবং তাৎপর্য জানানোর উদ্দেশ্যে এ বিষয়ে নিম্নে লিখিত প্রশ্নের ভিত্তিতে আল্লাহর সাহায্যে আলোচনা করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করলাম: ১-নবী ﷺ এর ভালবাসার হুকুম কি? ২- তাঁর ভালবাসায় ইহ-পর জগতে ফল কি? ৩- তাঁর ভালবাসর নিদর্শন কি? ৪- ঐ নিদর্শনের আলোকে সাহাবাগণ কেমন ছিলেন? ৫- আর আমরা কেমন?

এ বিষয়ে আমার আলোচনাকে তিন ভাগে ভাগ করেছি: ১- প্রথমত: সমস্ত সৃষ্টির চেয়ে রাসূলের প্রতি ভালবাসা অপরিহার্য। ২- দ্বিতীয়ত: নবী ﷺ এর ভালবাসার ফল। ৩- তৃতীয়ত: তাঁর ভালবাসার নিদর্শন।

আল্লাহর ফযলে এ বিষয়ে আমার লেখা সউদী আরবের সাধারণ নিরাপত্তার দ্বীনী বিভাগের প্রতিষ্ঠান।
থেকে প্রকাশিত হয়েছে, অনুরূপ ভাবে কতিপয় প্রকাশক সেটিকে প্রকাশ করেছেন। আমি এটিতে দ্বিতীয় বার নযর ফিরানোর ইচ্ছা করলাম এবং আরো কিছু সংযোজন করলাম এবং কিছু পরিবর্তন করলাম। সর্ব শক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রর্থনা করি তিনি যেন আমার এই কর্মকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টি লাভের কারণ হিসেবে গন্য করেন এবং এটি আমার জন্য ও পাঠকের জন্য ঐ দিবসে কাজে আসবে না। তাঁর নিকট আরো প্রর্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর ভালবাসা ও তাঁর প্রিয় নবীর ভালবাসা দান করেন এবং আমাদের সকলকে তাঁর সঙ্গে জান্নাতে নায়ীমে একত্রিত করেন। নিশ্চয় তিনি শ্রবণকারী ও গ্রহণকারী।

এই পুস্তিকটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন আমার প্রিয় ভাই মুকাম্মাল হক, এই অনুবাদে তার নিখাদ প্রচেষ্টা ও ঐকান্তিক পরিশ্রম সুস্পষ্ট ভাবে পাচ্ছে, তাই তাকে আমি জানাই আমার দোয়া ও কৃতজ্ঞতা।
আল্লাহ আমাদের নবী, তাঁর পরিবার, সাহাবা এবং অনুসারীদের উপর বরকত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 রাসূল ﷺ এর প্রতি ভালবাসা সমস্ত সৃষ্টির চেয়ে অধিক হওয়া অপরিহার্য

📄 রাসূল ﷺ এর প্রতি ভালবাসা সমস্ত সৃষ্টির চেয়ে অধিক হওয়া অপরিহার্য


প্রথম অধ্যায়

রাসূল ﷺ এর প্রীতি সমস্ত সৃষ্টির চেয়ে বেশী অপরিহার্য

রাসূল ﷺ এর প্রতি ভালবাসা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে রাসূলের প্রতি ভালবাসা নিজ পিতা-মাতা, 'পরিবার, সন্তান, সম্পদ এবং দুনিয়ার সকল বস্তুর চেয়েও অধিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। যার অন্তরে রাসূলের ভালবাসা নেই সে আল্লাহর আযাবের হকদার। দুনিয়া অথবা আখেরাতে অথবা দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় স্থানে তার উপর আযাব অবর্তীণ হওয়ার ধমক রয়েছে।

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 নিজ জীবনের চেয়ে রাসূল ﷺ কে ভালবাসা আবশ্যক

📄 নিজ জীবনের চেয়ে রাসূল ﷺ কে ভালবাসা আবশ্যক


নিজ জীবনের চেয়ে রাসূল ﷺ কে ভালবাসা আবশ্যক

এ সর্ম্পকে নিম্ন লিখিত হাদীস:
عن عبد الله بن هشام رضى الله عنه قال : كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو أخذ بيد عمر بن الخطاب رضى الله عنهما فقال له عمر رضى الله عنه يارسول الله لأنت أحب إلى من كل شيء إلا من نفسي، فقال النبي صلى الله عليه وسلم لا ، والذي نفسي بيده حتى أكون أحب إليك من نفسك، فقال له عمر فإنه الآن والله لأنت أحب إلى من نفسي فقال النبي صلى الله عليه وسلم الآن يا عمر
)البخاري( অর্থ, আব্দুল্লাহ বিন হিশাম কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূল ﷺ এর সঙ্গে ছিলাম, তিনি উমার এর হাত ধরে ছিলেন ইতি অবসরে উমার বল্লেন, হে আল্লাহর রাসুল আমার জীবন ব্যতীত সকল বস্তুর চেয়ে আপনি অবশ্য আমার নিকট প্রিয়। রাসূল ﷺ বল্লেন না, ঐ সত্তার কসম যাঁর হস্তে আমার জীবন আছে, যতক্ষণ না আমি তোমার জীবন থেকেও প্রিয় হব ততক্ষণ তুমি পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না। উমার বলেন, নিশ্চয় এখন আপনি আমার জীবন থেকে অধিক প্রিয়, তিনি বলেন, এখন হয়েছে হে উমার। (¹ (বুখারী)
"لا والذي نفسي بيده ! حتى أكون أحب إليك من نفسك"
“ঐ সত্তার কসম! যাঁর হস্তে আমার জীবন আছে, যতক্ষণ না আমি তোমার জীবনের চেয়ে তোমার নিকট অধিক প্রিয় হব” এ অংশের ব্যাখ্যায় আল্লামাহ আইনী বলেন, "তোমার ঈমান ততক্ষণ পরিপূর্ণ হবে না যতক্ষণ আমি তোমার জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয় হব।"(²) “الآن ياعمر” এ অংশের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন," এখন তোমার ঈমান পরিপূর্ণ হল হে উমার। এ হাদীসে অন্য কথা ব্যতীত একটি কথা অনুধাবন করা উচিৎ যে, রাসূল সত্যবাদী ও আমানতদার হয়েও কসম করে বলেন, ঈমানের পূর্ণতার জন্য মুমিনকে নিজেদের জীবনের চেয়েও তাঁকে ভালবাসা অবশ্য কর্তব্য। অথচ তিনি সত্য ও সততার এমন অধিকারী যে তিনি কসম খান চাহে না, খান তাঁর সমস্ত কথা সত্য এবং সন্দেহ মুক্ত। এরপরও তিনি যদি কোন কথা কসম খেয়ে বলেন তবে সেটি কত সুনিশ্চিত? কেননা কসম কথাকে দৃঢ় করে এটি আমরা সকলে জানি。

টিকাঃ
¹ সহীহ বুখারী, কিতাবুল ঈমান অয়া ননুযুর পাঠ, নবী এর কসম কেমন ছিল, হাদীস সংখ্যা ১১/৫২৩, ৬৬২৩।
² উমদাতুল কারী, ২৩/১৬৯

📘 নবী সাঃ প্রীতি ও তার নিদর্শন সমূহ > 📄 নবী প্রীতি নিজ পিতা-মাতা, সন্তানাদির চেয়েও অধিক অপরিহার্যতা

📄 নবী প্রীতি নিজ পিতা-মাতা, সন্তানাদির চেয়েও অধিক অপরিহার্যতা


সকল মুসলিমের জন্য তাঁর পিতা-মাতা, সন্তানাদির চেয়েও নবীজীকে ভালবাসা বাঞ্ছনীয়। এর প্রমাণে নিম্ন লিখিত হাদীস:
عن أبي هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : فوالذي بيده نفسي لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده. (البخاري)
অর্থ আবু হুরাইরাহ কর্তৃক বর্ণিত, রাসূল বলেছেন ঐ সত্তার কসম যাঁর হস্তে আমার জীবন আছে ,তোমারদের মধ্যে কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা সন্তানদের চেয়ে অধিক প্রিয় হব। (বুখারী)

এই হদীসে মুহাদ্দিসগণ প্রশ্ন তুলেছেন যে, তাতে কেবল পিতার কথা উল্লেখিত হয়েছে, মায়ের কথা উল্লেখিত হয়নি।

হাফেয ইবনে হাজর এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, যার বাচ্চা আছে তাকেই যদি “ওয়ালেদ” বলা হয়ে থাকে তাহলে “ওয়ালেদ” শব্দ দ্বারা পিতা-মাতা উভয়কে বুঝাবে, অথবা উক্ত প্রশ্নের উত্তরে এও বলা যেতে পারে যে, পিতা-মাতার মধ্যে কোন একজনকে উল্লেখ করা হলে অপরজন এমনিই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। যেমন বিপরীত দুটি বস্তুর মধ্যে একটি উল্লেখ করা হলে অপরটি এমনিই এসে যায়। এই উত্তরের আলোকে বুঝে নিতে হবে যে, “ওয়ালেদ” (পিতা) শব্দটি উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়েছে। যার উদ্দেশ্য হল চরম নিকটাত্মীয়। সুতরাং রাসূল ﷺ এর বাণীর অর্থ হল যে, তিনি যেন নিকটতম আত্মীয় চেয়েও মু’মিনদের নিকট প্রিয় হন। (³)

টিকাঃ
³ সহীহ বুখারী, কিতাবুল ঈমান, পাঠ, রাসূলের ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ, হাদীস সংখ্যা ১/৫৮.১৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00