📘 নীল বিষ > 📄 বাস্তবে কখনো মহৎ কাজ প্রত্যক্ষ করেছেন

📄 বাস্তবে কখনো মহৎ কাজ প্রত্যক্ষ করেছেন


রাস্তায় কোনো পথচারী অ্যাক্সিডেন্ট করলে অপরিচিত লোকের সাহায্য দেখেছেন নিশ্চয়ই? ঘূর্ণিঝড়ের পর বিভিন্ন সংস্থা, ক্লাব বা সংগঠনের ত্রাণ কার্যক্রমও নিশ্চয়ই দেখেছেন? এ ধরনের মহৎ কাজ ধূসর মরুভূমির বুকে এক পশলা বৃষ্টির মতো। এগুলো হলো আল্লাহর দেওয়া ভালোবাসার প্রতিফলন।

বিপরীতে পর্নোগ্রাফি দেখা দুনিয়ার সব থেকে স্বার্থপরমূলক কাজ। এগুলোর মধ্যে এক ফোঁটাও মহত্ত্ব নেই। এগুলো আপনাকে শিক্ষা দেয়—যৌন তৃপ্তিই জীবনের সব। আপনি আর যৌনতা ছাড়া এই পৃথিবীতে আর কিছু নেই। এই ইন্ডাস্ট্রি সবচেয়ে বড়ো ভিক্টিম হলো নারী আর শিশুরা। এখানে যে দৃশ্যগুলো দেখানো হয়, ওসব কিন্তু স্বাভাবিক যৌনতা নয়; বরং বিকৃত যৌনাচার। বাস্তবতার সাথে এসবের কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে যে বিশেষ দৃশ্যগুলো অনেক লম্বা সময় ধরে দেখানো হয়, ওগুলোও কৃত্রিম। মূলত এটা করা হয় বিভিন্ন ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে।

সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যাপার হলো—বেশিরভাগ সময়ই এসব ওষুধ সেবন করতে অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের বাধ্য করা হয়। আপনার আনন্দের উৎস এই ইন্ডাস্ট্রি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাছে এক মূর্তিমান বিভীষিকার মতোই। আপনাকে আনন্দ দিতে গিয়ে কখনো অতিরিক্ত হরমোন বা অতিরিক্ত ড্রাগ নেওয়ার কারণে বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী প্রতিবছর মারাও যায়। স্বার্থপরতার কী নিকৃষ্ট উদাহরণ! মানবজীবনের কী নিদারুণ অপচয়! যে আনন্দ অন্যের মৃত্যুর কারণ হয়, সেই আনন্দকে কি আনন্দ বলে? নাকি অসভ্যতা বলে?

পর্ন দেখে আনন্দ পাওয়ার সবচেয়ে বড়ো সংকটের জায়গা হলো-পর্নোগ্রাফিকে বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে ফেলা। পর্নাসক্তরা তাদের আশেপাশের মানুষগুলোকে পর্নস্টার হিসেবে দেখে এবং তাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পর্নস্টারদের সাথে তুলনা করে নানা ধরনের ফ্যান্টাসিতে ভোগে। বৈবাহিক জীবনেও সে রকম সঙ্গীই কল্পনা করে। কিন্তু যখন প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মেলবন্ধন ঘটে না, তখনই জীবনে নেমে আসে ডিপ্রেশনের অন্ধকার।

অনেক সময় আসক্ত ব্যক্তি বৈবাহিক জীবনে পর্নোগ্রাফির মতো করেই বিকৃত যৌনাচারের চেষ্টা চালায়। ফলাফলস্বরূপ, এরা সঙ্গীর প্রতি হয়ে উঠে অমানবিক। পারিবারিক জীবন বা বৈবাহিক জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। আবার পর্নাসক্তি ব্যক্তির যৌন ক্ষমতাকেও ব্যাপকভাবে হ্রাস করে। কাজেই, যেকোনো মূল্যে আমাদের এই পর্নোগ্রাফির জগৎ ছাড়তেই হবে। কিছু ছোটো ছোটো কাজ, কিছু শৌখিনতা কীভাবে আমাদের এ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে, সেটা জানা থাকলে আমাদের এই ভয়ংকর জাল থেকে মুক্তি পাওয়াটা সহজ হবে।

নিজের পরিবারের সেবা করুন
পর্নোগ্রাফি মানুষের দায়িত্ববোধ কেড়ে নেয়। বিশেষ করে আসক্ত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ লোপ পায়। মনে করে দেখুন তো, শেষ কবে স্বেচ্ছায় আপনি আপনার ঘরটা পরিষ্কার করেছিলেন? সর্বশেষ কবে আপনি পরিবারের শিশুদের হোমওয়ার্ক করতে সাহায্য করেছেন? শেষ কবে আপনি আপনার পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত করেছিলেন?

কোনো পরিবারেরই নিষ্ক্রিয় কোনো সদস্যের দরকার নেই; দরকার কর্মঠ, দায়িত্বশীল সদস্যের। পরিবারের সদস্যদের অবশ্যই আপনার সময়, ভালোবাসা বা সেবা পাওয়ার অধিকার আছে।

একই সঙ্গে, আপনি যদি আপনার সন্তান অথবা ছোটো ভাইকেও আপনার মতো আসক্ত হিসেবে দেখতে না চান, তাহলে অবশ্যই তাদের খেয়াল রাখতে হবে, সময় দিতে হবে। বেশি কঠোর হওয়াও চলবে না, আবার একেবারে নরম-সরম হলেও চলবে না; মধ্যমপন্থা অনুসরণ করতে হবে।

জে স্টিনগার বলেন- 'উদ্ভট যৌনাচার অনেক সময় আমাদের পিতা-মাতার কঠোর শাসনের কারণে হয়। আবার শাসন না করার কারণেও হয়।'

অর্থাৎ, আপনাকে বাচ্চাদের সাথে খেলতে হবে। তাদের সময় দিতে হবে। আপনার সন্তানের জন্য আপনাকে আপনার ধারণার চেয়েও বেশি দরকার।

মোদ্দাকথা, আপনাকে পরিবারের প্রতি আচরণে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। একইভাবে হোস্টেলের রুমমেটদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। এই সম্পর্ক আপনার জন্যও দরকার। একদিন সবাই মিলে বাসার চারপাশ পরিষ্কার করতে লেগে যান। একদিন সবার জন্য রান্না করার দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নিন। বিকেলে বা সন্ধ্যায় চা খেতে খেতে পরিবারের সবার সাথে দিয়ে ফেলুন একটা বৈকালিক আড্ডাও। পর্নোগ্রাফির বিষে আপনার পরিবারের সাথে আপনার যে দূরত্বটা তৈরি হয়েছে, সেই দূরত্ব কমিয়ে ফেলতে চেষ্টা করুন। একদিনে হয়তো পারবেন না, কিন্তু চেষ্টা করলে একদিন ঠিকই পারবেন।

গোপনে সেবাদান

কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থানের ব্যর্থতা মানুষকে পর্নের দিকে নিয়ে যেতে পারে, আবার কাজ করে স্বীকৃতি না পাওয়াও মানুষকে পর্নাসক্ত করে ফেলতে পারে। মনে রাখতে হবে, পর্নোগ্রাফিও মাদকের মতোই এবং পৃথিবীর সব মাদকে মানুষের হাতেখড়ি হয় হতাশার হাত ধরে।

আপনি হয়তো অনেক কষ্ট করে একটা প্রজেক্ট সম্পাদন করলেন; অথচ আপনার বস সেটা উপেক্ষা করল অথবা প্রাপ্য ক্রেডিটটুকু দিলো না। আপনি হয়তো বাড়ির একটি জটিল সমস্যার সমাধান করে ফেললেন, কিন্তু আপনার স্ত্রী সেটাকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করল না। এই স্বীকৃতি না পাওয়া আপনার মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করতে পারে।

কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার লোভ সবার মধ্যে কাজ করে। আর যখনই সেই স্বীকৃতি পাই না, তখনই আমরা হতাশায় ভুগী। সেই হতাশা ভুলে থাকার চেষ্টা করি পর্নোগ্রাফির ভেতরে।

এই সমস্যার কোনো সহজ সমাধান নেই। আমাদের হাতে এমন কোনো জাদুর কাঠি নেই, যে কাঠির সাহায্যে আমরা পৃথিবীর সব মানুষকে কৃতজ্ঞ মানুষে পরিণত করে ফেলতে পারব। আপনার স্ত্রী বা আপনার বস এসে আপনাকে আপনার কাজের ক্রেডিট দিয়ে যাবে; বরং এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো-স্বীকৃতির আশা ছেড়ে দিন। কাজ করার মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নিন, স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকার দরকার নেই। যদিও এটা বলা যতটা সহজ করা ততটা সহজ না, কিন্তু চেষ্টা করতে দোষ কী?

আমাদের কাজ থেকে পরিতৃপ্তি নেওয়া শিখতে হবে; প্রশংসা পাক বা না পাক। এটি অর্জনের উপায় হলো-গোপনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা।

আপনার এলাকায় যদি আর্তমানবতার সেবা করে এমন কোনো সংস্থা থাকে, তাহলে সেখানে যোগ দিন। এসব সংস্থা বন্যার্তদের ত্রাণ দেয়, অসুস্থকে চিকিৎসা দেয়, শীতের সময় শীতবস্ত্র বিতরণ করে এবং নদী ভাঙনের শিকার মানুষকে সহায়তা করে। আন্তরিকতার সাথে এসব সংস্থায় সময় দিন এবং অবশ্যই নিভৃতে। কারও থেকে প্রশংসার আশা করবেন না। আল্লাহ সব দেখছেন এবং তিনিই আপনাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন।

আপনার এলাকায় যদি এ রকম স্বেচ্ছাসেবক দল না থাকে, তাহলেও হতাশ হওয়ার দরকার নেই। আশেপাশের প্রতিবেশীদের সহায়তার সুযোগ খুঁজতে থাকুন। বাইরে বের হওয়ার সময় প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে বের হতে পারেন। রাস্তায় কোনো প্লাস্টিকের বোতল পেলে তা কুড়িয়ে নিন, ব্যাগে ভরে ফেলুন এবং ডাস্টবিনে ফেলে দিন। এসব কাজ লোক দেখানোর জন্য করবেন না; করবেন নিজের জন্য, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। বয়স্ক প্রতিবেশীর খোঁজ নিন এবং তাদের সেবা করুন। ভালো কাজ করাই মূল বিষয়; স্বীকৃতি নয়।

মনোযোগ দিয়ে কথা শুনুন

পর্নোগ্রাফি মানুষের মনুষ্যত্ব কেড়ে নেয়। আসক্ত ব্যক্তিরা নারীকে শুধু নিজেদের যৌন তৃষ্ণা মেটানোর বস্তু হিসেবেই দেখে, মানুষ হিসেবে দেখে না। তাই যারা আসক্ত, তাদের মনুষ্যত্ব পুনরুদ্ধার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

নারীকে যৌন তৃষ্ণা নিবারণের বস্তু না ভেবে মানুষ ভাবা শিখতে হবে। এই মানসিকতা অর্জনের একটা উপায় হলো-নিঃস্বার্থভাবে আর্তের সেবা করা। এমন মানুষের সেবা করা, যারা কখনোই আপনাকে এর বিনিময়ে কিছু দিতে পারবে না অথবা তাদের থেকে কোনো প্রতিদান পাওয়ার আশাও নেই।

Mাসে দুয়েকদিন শহরের বস্তিতে চলে যান। সেখানকার মানুষের সাথে কিছু সময় কাটান। তাদের দুঃখ-দুর্দশা, জীবন-সংগ্রামের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কথা বলার সময় সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে কথা বলুন। হাসিমুখে তাদের যথাসাধ্য সাহায্য-সহযোগিতা করুন। ভিক্ষুককে আমরা অনেকেই অসম্মান করে তাড়িয়ে দিই, আপনি তাদের সাথে সুন্দর করে কথা বলুন। এসব মানুষকে খাদ্য, পোশাক অথবা টাকা দিয়ে সাহায্য করুন। নিজের জন্য তাদের কাছে দুআ চান। এসব অসহায় মানুষের নাম জিজ্ঞেস করে তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিন। আপনার ছোটো একটি কথা তাদের মনে জোর বাড়াতে অনেক সাহায্য করবে। মূলত, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহারে নিজেও ভালো থাকা যায়। মনে রাখবেন, পর্নোগ্রাফির এই থাবা থেকে বের হয়ে আসতে মনুষ্যত্ব হবে আপনার অনেক বড়ো একটা অস্ত্র।

📘 নীল বিষ > 📄 সামাজিক কাজের মাধ্যমে যৌনাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ

📄 সামাজিক কাজের মাধ্যমে যৌনাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ


পৃথিবীতে মানুষের জনসংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। আমাদের চারপাশের মানুষ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু দিনদিন আমরা সবাই কেমন যেন একা হয়ে যাচ্ছি। এটার অন্যতম প্রধান নিয়ামক হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। যেমন : আমাদের স্মার্টফোন; সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। একটি সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যারা যত বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করেন, তাদের একাকিত্ব তত বেশি। সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের ঘোরাঘুরি, আড্ডা, কোলাকুলি, হ্যান্ডশেক ইত্যাদির গুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছে। এর বদলে ভার্চুয়াল সম্পর্কের দিকে ধাবিত করছে। অথচ ভার্চুয়াল সম্পর্ক কখনোই রিয়েল লাইফের সম্পর্কগুলোর মতো হতে পারে না। যেহেতু ফেসবুক কখনোই এগুলোর প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়, সেহেতু মানুষ বিষণ্ণতায় ভোগে এবং পর্নের দিকে ধাবিত হয়।

প্রযুক্তিগত উন্নতি দেরিতে বিয়েরও একটা কারণ

১৯৬০ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী ৩০ বছর বয়সের মধ্যে ৮০% পুরুষ বিয়ে করে। ১৯৮০-তে তা কমে দাঁড়ায় ৭০%। ২০০১-এ ৫৫% এবং ২০১৩-তে মাত্র ৪০% পুরুষ মানুষকে ৩০-এর আগে বিবাহিত পাওয়া যায়।

এমনকী অনেক বিবাহিতও আজকাল প্রযুক্তিগত উন্নয়নে পর্নাসক্তিতে আটকা পড়ে আছেন।

এই অধ্যায়ে আমরা সম্পর্কের গভীরতার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করব। ভার্চুয়াল সম্পর্কের সংকট আপনাকে দেখিয়ে দেবো। বন্ধুত্ব কীভাবে আপনার আসক্তিকে কমিয়ে দিতে পারে, কথা বলব সেই বিষয়েও। আশা করি, এর মধ্যেই আপনি আগের শিখে আসা নতুন অভ্যাসগুলোর অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন এবং এতদিনে অ্যাকাউন্টিবিলিটি পার্টনারের সাথেও ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি করে ফেলেছেন।

রিয়েল লাইফের বন্ধুদের সাথেই আপানার ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। না, সবাই আপনার ক্লোজ হবে না। তার দরকারও নেই। জীবনে চলার পথে কিছু বন্ধু হারিয়ে যাবে, কিছু নতুন বন্ধু আসবে-এটাই স্বাভাবিক। তাই নতুন নতুন বন্ধু বানানো চালিয়ে যান। একটি সমীক্ষায় জানা যায়, যাদের বেশি ভালো বন্ধু আছে, তারা সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে এবং অসুস্থ কম হয়। এর সাথে সাথে বন্ধুত্ব আপনার মানসিক চাপ কমায়। আর মানসিক চাপমুক্ত থাকলে পর্নের দিকে ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

যদিও বয়স্কদের জন্য নতুন বন্ধু বানানো কঠিন, তবে তারা পুরোনো বন্ধুত্বগুলো জোরদার করতে পারেন। চাইলে ছোট্ট একটা গেট টুগেদার বা আড্ডার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের ফিরিয়েও আনতে পারেন।

ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও পাঠচক্র

নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ মানুষের মনকে প্রশান্ত রাখে এবং যাবতীয় পাপাচার থেকে দূরে রাখে। তাই নিয়মিত ধর্মীয় বই-পুস্তক পাঠ করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় কয়েকজন মিলে একটা পাঠচক্র বানিয়ে ফেলুন। সমমনা ভাই কিংবা বন্ধুদের নিয়ে একটি সার্কেল তৈরি করে ফেলতে পারেন, যারা বই পড়তে আগ্রহী। প্রতি সপ্তাহে কিছু বই নির্দিষ্ট করে নিতে পারেন। পড়ার পর কে কী বুঝলেন, তা শেয়ার করবেন সবার সাথে। একবার শুরু করলে অবশ্যই প্রতি সপ্তাহে এটি চালিয়ে যেতে হবে। ধর্মীয় বইয়ের বাইরেও সাহিত্যপ্রেমীদের একটা গ্রুপ করে নিতে পারেন, যারা একত্রে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন বসে সাহিত্য নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন।

চাইলে জুম অ্যাপসের মাধ্যমেও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা যায়।

ইনডোর গেমস

পরিবারের সবাই মিলে বিভিন্ন ইনডোর গেমস খেলতে পারেন। এতে যেমন ফ্যামিলি বন্ডিং বাড়বে, তেমনই মানসিকভাবেও প্রশান্তি লাভ করবেন।

ভাষা শিক্ষা/প্রোগ্রামিং কোর্স

বিভিন্ন ধরনের কমিউনিটি কোর্স রয়েছে, যা আমাদের এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। সময়-সুযোগমতো ভাষা শিক্ষা, প্রোগ্রামিং কোর্স ইত্যাদিতে ভর্তি হয়ে যান। এটাকে শখ হিসেবে নিন। পাশাপাশি নতুন নতুন বন্ধুও তৈরি করুন।

অনলাইন কমিউনিটি

ফেসবুকে গ্রুপ/পেজ চালানোকে কেন্দ্র করে বহু গ্রুপ গড়ে ওঠে। সৃজনশীল কোনো গ্রুপ/পেজের মডারেটর/অ্যাডমিন হতে চেষ্টা করুন। তাহলে সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত থাকবেন।

ম্যাসেঞ্জারে স্কুলফ্রেন্ডদের নিয়ে গ্রুপ খুলতে পারেন। পুরোনো স্মৃতির আলোচনা করুন। সবাই মিলে গেট টুগেদার করুন। লক্ষ রাখুন, গ্রুপের সবাই যেন চরিত্রবান হয়; নাহলে তারা এমন কিছু গ্রুপে শেয়ার করবে, যা আপনাকে সেক্স ড্রাইভ দেবে। সচরাচর এমনটিই হয়ে থাকে।

অসৎসঙ্গ পরিহার
মোটিভেশনাল স্পিকার জিম বলেন- 'আপনি হচ্ছেন পাঁচজন মানুষের গড়, যাদের সাথে সবচেয়ে বেশি সময় কাটান।'

আপনার ক্লোজ ফ্রেন্ড কারা? কাদের সাথে বেশি সময় কাটান? তারা কোন দিকে আপনাকে মোটিভেট করে? অথবা আপনার নৈতিক চরিত্রে তাদের প্রভাব কতদূর?

আপনার হয়তো দীর্ঘ সময়ের এমন কিছু বন্ধু আছে, যারা আপনাকে পথ চলতে সাহস জোগায়। কিন্তু অন্যদিকে এরাই আপনাকে কুৎসিত ভিডিওগুলো দেখতেও উৎসাহিত করে।

এমনটি হলে তাদের পরিত্যাগ করতে হবে। আমি প্রথমেই বাদ দিতে বলছি না। বন্ধুদের বোঝান, আপনার জীবনে একটা পজিটিভ পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন। এ বিষয়ে তাদেরও সাহায্য চান। তাও যদি কাজ না হয়, তাহলে পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ, 'সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গে সর্বনাশ।'

পরিশেষে আপনার জীবন আপনাকে অনেক ধরনের কথাই শোনাবে। হয়তো আপনার অফিসের বস আপনাকে বলবে-আপনি ভালো কর্মচারী নন। শিক্ষক বলবে-আপনি ভালো ছাত্র হতে পারেননি। বাবা-মা বলবে-সারাজীবনে তুমি কিছুই করতে পারোনি। হয়তো স্ত্রীও আপনাকে বলবে-আপনি ব্যর্থ মানুষ, আপনি যথেষ্ট স্মার্ট মানুষ না।

জানি, এসব কথা আপনাকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে যায়। হতাশায় ডুবিয়ে দেয়, পৃথিবীর কাছে নিজেকে তুচ্ছ মনে হয়। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, আপনি স্রষ্টার অনন্য ও অমূল্য এক সৃষ্টি। আপনার জীবন, আপনার পৃথিবী অনেক বড়ো। মানুষের কথায় নিজের জীবনকে সংজ্ঞায়িত করবেন না, নিজেকে অন্যের কথার ওপর ছেড়ে দেবেন না। এই পৃথিবীতে আপনার নির্দিষ্ট দায়িত্ব আছে। আপনার নির্দিষ্ট কাজ আছে। আপনার জন্য এই পৃথিবীতে ভালোবাসাও বরাদ্দ আছে। আপনাকে শুধু হতাশ না হয়ে সেই ভালোবাসাটাকে খুঁজে নিতে হবে।

লেখক জোনাথন রগার বলেন-
'লোকে কী বলে, তার পালটা জবাব দেওয়ার নামই তো সৃজনশীলতা।'

কাজেই, আপনাকে কোনোভাবেই হতাশ হওয়া চলবে না। ভালো অভ্যাস ও আচার-আচরণ দিয়েই আপনাকে পৃথিবীর সকল নেগেটিভিটির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। কবিতা শোনেননি?
'আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যে বা, আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই, যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে দিয়েছে বিষে ভরা বাণ, আমি দেই তারে বুকভরা গান,
কাটা পেয়ে তারে ফুল করি দান, সারাটি জনম ভর।
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই, যে মোরে করেছে পারে।'

জীবনে চলার পথে অনেক কাঁটাই পাবেন। সেই কাঁটাকে ফুল করে তোলার মধ্যেই জীবনের সমস্ত সার্থকতা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00