📘 নীল বিষ > 📄 বিষণ্নতার মোকাবিলায় শৌখিনতা

📄 বিষণ্নতার মোকাবিলায় শৌখিনতা


১৯৯৭ সালে মর্মান্তিক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রিচ মুলিন খ্রিষ্টান মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলেন। ৮০/৯০ দশকের মধ্যে তিনি অগণিত জনপ্রিয় সংগীত রচনা করেন। তার সৌন্দর্যবোধ, ঈশ্বরপ্রীতি এবং নিজেকে শোধরানোর সংগ্রামের (পর্নোগ্রাফি থেকে বেরোনোর সংগ্রামও আছে) কারণে ভক্তরা তাকে ভীষণ পছন্দ করত।

আপনি ঠিকই পড়েছেন। যে ব্যক্তি 'Awesome God', 'Step by Step' ইত্যাদির মতো বিখ্যাত খ্রিষ্টীয় প্রার্থনামূলক গানের রচয়িতা, তিনিও একসময় পর্নাসক্ত ছিলেন। কোনো এক রাতে আর্মস্ট্রাডام সফরে তিনি বিছানায় শুয়ে ছিলেন। অন্য বিছানায় তার ব্যান্ড দলের একজন সদস্য শুয়ে ছিল। তিনি তার রুমমেটের নাক ডাকার অপেক্ষা করছিলেন, যেন বাইরে গিয়ে পর্ন দেখতে পারেন। কিন্তু সে রাতে তার রুমমেট নাক ডাকল না। একটি লম্বা রাত তার এপাশ-ওপাশ করে কাটল। ঘুম থেকে উঠে তিনি তার নোটবুকে লিখলেন—
'নির্ঘুম অন্ধকার এক রাত, এপাশ-ওপাশে কেটে গেল সারা রাত। আত্মার ভেতর ছিল উষ্ণতায় ভরা। হৃদয় জ্বলে-পুড়ে হচ্ছিল ছারখার, আমাকে রক্ষা করুন ওগো স্রষ্টা, আমি কাপছি যেন তরুলতা। আমার সব অর্জন তোমার মহিমা, আমাকে দান করুন শান্তিদায়ক ক্ষমা।'

খ্রিষ্টান মিউজিশিয়ানদের মধ্যে একমাত্র রিচ মুলিনই যে এই সমস্যায় ভুগছিলেন, তা কিন্তু নয়। খ্রিষ্টান মিউজিশিয়ান অ্যান্ড্রে আসাদও এ বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। অ্যান্ড্রে বলেন-
'আমি এমন সব বিষয় নিয়ে লিখেছি, যা আমাকে খুব ভোগাচ্ছিল এবং ভেতর থেকে শেষ করে দিচ্ছিল। এরপর আমি আত্মশুদ্ধির সংগ্রামের জায়গা থেকে সাহিত্য সৃষ্টি করি। শিল্পীদের প্রতি আমার পরামর্শ, নিজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। পরিচয়ের মুক্তি এবং মানসিক আঘাত প্রশমিত করার জন্য আবেগময় ও আধ্যাত্মিক কাজ করতে হবে। শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। মুক্তির একমাত্র উপায় এটাই। এখানে কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি।'

এখন প্রশ্ন হলো-দৃষ্টির মুক্তি বলতে কী বোঝায়? সংক্ষেপে রিচ মুলিন ও অ্যান্ড্রে আসাদ যা করেছিলেন, তা হলো-তারা তাদের বেদনা, প্রবৃত্তি এবং মানসিক আঘাতকে পর্নোগ্রাফির দিকে ধাবিত হওয়ার সুযোগ দেননি; বরং এগুলোকে সৃজনশীল শক্তিতে রূপান্তরিত করেছিলেন।

লেখক নেইল গাইম্যান বলেন-
'জীবন কখনো কখনো কষ্টদায়ক। জীবনে বাজে সময় আসে। আপনার স্বাস্থ্য, সম্পর্ক, ব্যাবসা, চাকরি, বন্ধুত্ব ইত্যাদি প্রায়শ খারাপ সময় অতিক্রম করে। এসব তিক্ত অভিজ্ঞতার সময় আপনাকে একটি কাজই করতে হবে।'

সুন্দর শিল্প তৈরি করুন

আমি সত্যি বলছি। আপনার স্ত্রী কারও সাথে পালিয়ে গেছে? সুন্দর শিল্প গড়ে তুলুন। হাত ভেঙে গেছে? সুন্দর শিল্প গড়ে তুলুন। বিড়াল কামড়িয়েছে? সুন্দর শিল্প গড়ে তুলুন। ইন্টারনেটে হ্যারাজমেন্টের শিকার হয়েছেন? সুন্দর শিল্প গড়ে তুলুন। মানসিকভাবে অসহ্য যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন? পাত্তা দেবেন না। যে কাজটা ঠিকঠাক করতে পারেন, তা-ই করুন। একটি সুন্দর শিল্প গড়ে তুলুন।

ভালো সময় এলেও কাজটি জারি রাখুন

অভিনেতা জিম ক্যারি ঠিক এই কারণে চিত্রাঙ্কন শুরু করেছিলেন। নিজের চিত্রকর্ম সম্পর্কে তিনি বলেন-
'বলতে পারেন আমার চিত্রাঙ্কনগুলো আমার মনেরই রংধনু। মূলকথা, এগুলো আঁকার সময় আমার হৃদয় আঁধারে ঢেকে ছিল। আমি চেয়েছিলাম সেই আঁধারে সুন্দরের ফুল ফোটাতে।'

লেখিকা ফ্লানেরি ওকোনারের ছোটোগল্পগুলোর মধ্যে তার জীবনের উত্থান-পতন, অস্থির ও বিষণ্ণতার সময়গুলো সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তার ছোটোগল্প 'Green leaf'-এ একজন মহিলাকে একটি গরু গুঁতো দেয়, যা ছিল তার ব্যক্তিগত জীবনের আঘাতের প্রতিচ্ছবি।

বাস্তবতা হলো-শিল্প-সাহিত্যকে বলা যায় আবেগীয় মুক্তির সবচেয়ে চমৎকার পদ্ধতি। শিল্প-সাহিত্য আপনার দুঃখ-কষ্ট, মানসিক চাপ, হতাশাকে ধুয়ে নিয়ে যায় এবং আপনাকে একটি নতুন জীবন দান করতে পারে।

ক্রিয়েটিভ শৌখিনতা শুরু

নতুন শৌখিন কাজ নিজের জীবনে যোগ করতে হলে সবচেয়ে সহজটি দিয়েই শুরু করাটা ভালো। ছোটোবেলায় হয়তো অনেকেরই অনেক ক্রিয়েটিভ শখ ছিল। যেমন-চিত্রাঙ্কন, গল্প বলা, কৌতুক বলা, কবিতাবৃত্তি-যা-ই হোক না কেন। জীবনের কোনো একপর্যায়ে এসে হয়তো আমরা তা ছেড়ে দিয়েছি। হয়তো কেউ ব্যস্ততার কারণে ছেড়েছি, কেউ-বা আবার ছেড়েছি বন্ধুদের সাথে নিজের তুলনা করে। আবার কেউ এসব ছেড়েছি মানুষের কথা শুনে। হয়তো কেউ আপনাকে বলেছে-'দুর! এগুলো কোনো ক্রিয়েটিভ কাজ হলো নাকি?' এই কথা শুনে আপনিও আর ওপথে আগাননি। আর এই মুহর্তে আপনি হয়তো ভুলেই গিয়েছেন যে, আপনিও একসময় ক্রিয়েটিভ মানুষ ছিলেন।

আপনি যদি নিজের পছন্দের জায়গা খুঁজে বের করতে পারেন, সেটাই অসাধারণ। সেই কাজ দিয়েই শুরু করুন। যদি এ ব্যাপারে কোনো ধারণা না থাকে, তারপরও হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা আপনাকে কিছু উদাহরণ দিচ্ছি। এগুলো থেকে সহজেই একটি ক্রিয়েটিভ শৌখিন কাজ বেছে নিতে পারবেন।

যা-ই বাছাই করুন না কেন, আপনার অ্যাকাউন্টিবিলিটি পার্টনারকে তা জানিয়ে দিন। তিনি আপনাকে এ ব্যাপারে আরও সহায়তা করতে পারবেন।

চিত্রাঙ্কন

যখনই কেউ সৃজনশীল শিল্পকর্মের ব্যাপারে চিন্তা করে, তখনই তার চোখের সামনে চিত্রাঙ্কনের কথা ভেসে ওঠে। তাদের মনে মোনালিসার মতো চিত্রাঙ্কন উঁকি দেয়। অথবা শৈশবে ড্রয়িং ক্লাসের কথা মনে পড়ে। আবার এটি এমন এক শিল্প, যা থেকে মানুষ সহজে নিরাশও হয়। কারণ, আপনি সহজেই নিজের চিত্র অন্য কারও সাথে তুলনা করতে পারবেন। দেখবেন, অনেকের চিত্রকর্ম আপনার চেয়ে বহুগুণ ভালো। ফলে নিজের ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়বেন। কিন্তু না, এই তুলনাটা কোনোভাবেই করা যাবে না। মনে রাখবেন, আপনি কোনো প্রতিযোগিতায় নামেননি; বরং আপনি আঁকতে বসেছেন নিজের আনন্দের জন্য। এখানে তুলনায় প্রসঙ্গটাই যেন না আসে। প্রত্যেকটি শিল্পের মতো এখানেও অনুশীলন অত্যাবশ্যক। তা ছাড়া অনলাইনে অনেক কোর্স রয়েছে, যার সাহায্যে সহজেই শিখে নিতে পারবেন।

ফটোগ্রাফি

আপনার হাতে একটা স্মার্টফোন থাকা মানে ফটোগ্রাফির প্রাথমিক টুলস ইতোমধ্যেই আপনার হাতে আছে। যদিও স্মার্টফোনের ক্যামেরা ডিএসএলআরের মতো অতটা উন্নত নয়, তারপরও শুরু করার জন্য যথেষ্ট। ফ্রেমিংয়ের ওপর খুব সহজেই এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন। যখনই ছবি তুলবেন, চেষ্টা করবেন বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে অসংখ্য ছবি তোলার। যেহেতু রিকভারি হিসেবে ফটোগ্রাফিকে বেছে নিয়েছেন, তাই মানবদেহের কোনো ছবি তুলতে যাবেন না। আপাতত প্রকৃতিক দৃশ্য, গাছপালা, পশু-পাখি ইত্যাদির ছবি ধারণ করে সময়কে কাজে লাগান। স্মার্টফোন নিয়ে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়তে পারেন কাঙ্ক্ষিত ছবি তোলার জন্য। প্রতিদিন অন্তত একটি করে ছবি তুলুন। মানসিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ছবি তুলতে হবে; কোনোদিন হয়তো ফুলের ছবি তুললেন, কোনোদিন বাড়ির।

লেখালিখি
আপনার মধ্যে যদি কোনো সৃজনশীল অভ্যাস না থাকে, তাহলে শুরু করার জন্য সবচেয়ে আদর্শ হলো লেখালিখি। কারণ, প্রত্যেকেই স্কুলে লেখালিখির বেসিক শিখে এসেছেন এবং লেখালিখি করার উপকরণও একদম সস্তা (খাতা ও কলম)।

তবে অনেকের কাছেই লেখালিখি একটা আতঙ্কের বিষয়। এর মূল কারণ হলো-স্কুলের রাইটিং পার্টে কম নম্বর পাওয়া। তবে সুখের কথা হলো, এখন রাইটিং-এর জন্য কেউ আপনাকে নম্বর দেবে না। কম নম্বর পাওয়ার দুশ্চিন্তাও তাই আপনাকে করতে হবে না।

তাই কবিতা, গল্প, উপন্যাস যেটাতেই আগ্রহ অনুভব করেন, লেখালিখি শুরু করে দিন। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা লেখালিখির কাজে ব্যয় করুন।

ডায়েরি লেখা
ডায়েরি বা দিনপঞ্জি হলো লেখালিখি শুরু করার সবচেয়ে সহজ উপায়। প্রথমত, এটি শুধু সহজ ও সাবলীলভাবে লিখিত একটি দিনের কার্যবিবরণী। এতে কোনো কল্পনাশক্তির প্রয়োজন হয় না। দ্বিতীয়ত, এটি আপনার সারাদিনের সকল কাজকর্ম সামনে নিয়ে আসবে। ফলে আপনি কখন পর্নোগ্রাফি দেখেছেন, তা-ও মাথায় আসবে। এ সময় মহান আল্লাহর কথা মাথায় আনতে এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। এটা পর্নোগ্রাফি বন্ধে সহায়তা করবে। তৃতীয়ত, এটি আপনাকে আত্মসমালোচনায় সাহায্য করবে। নিয়মিত ডায়েরি লিখলে দিন দিন আপনার জীবনধারা, অভ্যাস ও আচরণ উন্নত হবে।

কবি লুসি শো (Luci Shaw) এভাবে ব্যাখ্যা করেন- 'দিনপঞ্জি নিজেকে বুঝতে সহায়তা করে, নিজের পার্সোনালিটি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে, চিন্তা-চেতনায় পরিপক্বতা নিয়ে আসে, ব্যক্তিকে আত্মনিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং অন্তরে খোদাভীতি জাগ্রত করে।'

আমরা কীভাবে বেড়ে উঠছি, কোন দিকে যাচ্ছি, কী কী ভুলত্রুটি করছি ইত্যাদি বুঝতে দিনপঞ্জি আমাদের সহায়তা করে। দিনপঞ্জি দেখে স্মৃতিচারণ করাও সহজ।

ফলে একই ভুল বারবার করা থেকে বিরত থাকার একটা সুযোগও তৈরি হয়। আপনি যখন দুঃখ-বেদনা, একাকিত্ব অথবা বিষণ্নতায় ভুগবেন, তখন লেখালিখি আপনার মধ্যে অনেকখানি প্রশান্তি এনে দেবে। নিজের আবেগ-অনুভূতিগুলো খাতায় লিখে ফেললে তা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

ছোটোগল্প

সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ গল্পের পাগল। আমরা গল্প শুনতে পছন্দ করি। পর্নাসক্তির অন্যতম প্রধান কারণ হলো-সেখানে একটি নিয়ন্ত্রিত গল্প দেখানো হয়। আপনার গল্পটি ভালো লাগছে না? তাহলে পরের ভিডিওতে ক্লিক করুন। পর্নাসক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের পর্নতারকাদের স্থানে কল্পনা করে এক পৈশাচিক আনন্দ উপলব্ধিতে নিয়ে আসে। অর্থাৎ পর্নের পাশাপাশি আসক্তিটা কিন্তু গল্পেরও।

এর সমাধান হলো-আরও ভালো একটি গল্প, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে আপনার হাতে। সত্য-সুন্দর সেই গল্পটি হবে আপনার রুচিবোধ, সৃজনশীলতা ও মূল্যবোধের পরিচায়ক।

অনেকে শুরুতেই উপন্যাস লিখতে বসে যায়, যা মোটেও উচিত নয়। সবচেয়ে ভালো হয় ছোটোগল্প দিয়ে শুরু করলে। কিছু কাল্পনিক চরিত্র ও ব্যাকগ্রাউন্ড বের করে লিখে ফেলুন। তারপর সে অনুযায়ী লিখতে শুরু করুন। আপনি যদি সত্যিই না জানেন কোথা থেকে শুরু করবেন, তাহলে ভবিষ্যতে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান-তা নিয়ে লিখে ফেলতে পারেন মজার একটি গল্প। গল্পের মধ্যে অবশ্যই আপনার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে। কিছু অনলাইন গ্রুপ থেকে গল্পের প্লট নিতে পারেন। তারা আপনাকে ফ্রি গল্পের প্লট সরবরাহ করবে। গুগলে 'Writing Prompts' লিখে সার্চ দিলেই অসংখ্য গল্পের প্লট পেয়ে যাবেন।

উপন্যাস

যদি ইতোমধ্যেই কিছু ছোটোগল্প লিখে থাকেন, তাহলে আপনি এবার উপন্যাস লেখার জন্য প্রস্তুত। নিজেকে এক মাসে ৫০,০০০ শব্দ লিখে ফেলার চ্যালেঞ্জ দিন। এজন্য আপনি National Writing Month-কে বেছে নিতে পারেন।

আপনি যদি উপন্যাস লেখায় অনেক সিরিয়াস হন, তাহলে বিভিন্ন অনলাইন, অফলাইন কোর্সের সাহায্যে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে পারেন; যদিও কাজের কাজ আপনাকেই করতে হবে। তবুও আপনার লেখার ভুল সংশোধন, সমালোচনা, মতামত ইত্যাদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি দেখেছেন, টোলকিন ও লুইসের মতো লেখকদেরও মতামত, সংশোধন ইত্যাদি দরকার হয়েছিল।

আপনাকে লেখার সময় অবশ্যই নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। যৌন সুড়সুড়ি জাতীয় কোনো কিছু লেখা যাবে না। মহান আল্লাহর কথা স্মরণ করে লেখা শুরু করতে হবে।

কবিতা

বিরক্তিকর ও একঘেয়ে হিসেবে কবিতার বিশ্বজুড়ে সুখ্যাতি রয়েছে। কিন্তু কবিতা আবেগ বিনিময়ের খুব সুন্দর একটা মাধ্যমও। কবিতা মানুষের মনের গভীর আবেগ ও অনুভূতি ধারণ করার ক্ষমতা রাখে। কবিতা লিখে আপনি সহজেই হালকা অনুভব করতে পারবেন। কবিতার গুরুত্বের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো জসীম উদ্দীনের 'কবর' অথবা আল মাহমুদের 'আমাদের মিছিল' কবিতাটি। এমন কবিতা আরও আছে। শুধু আপনাকে একটু কষ্ট করে খুঁজে নিতে হবে।

কবিতা লেখার জন্য আপনাকে বেশি বেশি কবিতা পড়তে হবে। আপনার পরিচিত কোনো কবি থাকলে তার সাহায্য নিতে পারেন।

অন্যান্য সৃজনশীল শখ

সৃজনশীল হবিগুলোর ওপর সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। এটা কখনোই যথেষ্ট নয়। অন্যান্য অনেক ধরনের ভালো ভালো হবি থাকতে পারে। আপনার আশেপাশের চিত্রাঙ্কন একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, সাহিত্য সংসদ ইত্যাদিতে খোঁজ নিলে হাতেকলমে সবকিছু শিখে নিতে পারবেন।

শরীরচর্চার অন্যান্য উপায়

আপনার এলাকায় আরও কী কী ধরনের শরীর চর্চার ব্যবস্থা আছে, তা অনুসন্ধান করুন। কারও বাড়ির কাছে সুইমিংপুল থাকতে পারে। তাহলে সাঁতার হবে তার জন্য একটা ভালো উপায়। আপনার বাড়ির আশপাশে মর্শাল আর্ট ক্লাব থাকতে পারে। সেখানে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে পারেন। আপনার আশেপাশে কোনো সাইক্লিং ক্লাব থাকলে তাতে জয়েন করতে পারেন। অথবা মেডিটেশন ক্লাব থাকলে তাতেও জয়েন করতে পারেন। এখন তো প্রায় শহরগুলোতে জিমনেশিয়াম আছে। সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের জিমনেশিয়ামই আছে বেশিরভাগ জায়গায়। আপনার শরীর-মন সুস্থ রাখার তাগিদে জিমে নিয়মিত হতে পারেন। আর সেটাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে সকালে উঠে ফজর পড়ে কেডস-ট্রাউজার পরে জগিংয়ে বের হতে পারেন। সকালের ফ্রেশ হাওয়া নিঃসন্দেহে আপানার দেহ-মনের ওপর প্রভাব ফেলবে। সারাদিনের বিভিন্ন কাজে এর প্রভাব বুঝতে পারবেন।

তবে যা-ই করুন না কেন, তা যেন আপনার শরীর ও মনের জন্য উপকারী হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

📘 নীল বিষ > 📄 আত্মমর্যাদা গঠনে শৌখিনতা

📄 আত্মমর্যাদা গঠনে শৌখিনতা


এক জেলখানার হলরুমে ২০ জন কয়েদি প্রতি সপ্তাহে একত্রিত হতো। তাদের হাতে থাকত কাপড় বুননের তীক্ষ্ণ শলাকা। গার্ডরা তাদের দিকে নজর রাখত, যেন তারা মারামারিতে লিপ্ত না হয় বা তাদের ট্রেইনারকে আহত না করে। তাদের শিক্ষক ছিলেন এক বৃদ্ধ।

কিন্তু তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হতো না; বরং তারা এই শলাকা দিয়ে কানটুপি তৈরি করত। তৈরি কানটুপি কাউকে গিফট করত অথবা দাতব্য কাজে দান করত। কখনো কাছের পাবলিক স্কুলে দান করা হতো। তাদের বৃদ্ধ ট্রেইনার বলেন, 'কয়েদিরা টুপি তৈরির সময় নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, স্কুলে যাওয়ার সময় তাদের মাথায় টুপি থাকত না।'

সাধারণত কানটুপি বানানোর প্রজেক্টের প্রশিক্ষকের মূল লক্ষ্য থাকত কয়েদিদের মাঝে দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য, সহানুভূতি ইত্যাদি মানবিক গুণাবলি জাগ্রত করা। একই সঙ্গে বন্দিদের মাঝে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করা। প্রয়োজনীয় কিছু তৈরির মাধ্যমে তাদের মধ্যে আত্মসম্মান জাগ্রত হয়।

অনেক মানুষ হীনম্মন্যতার কারণেও ভিডিওগুলোর দিকে ধাবিত হয়। আমরা অনেক সময় অকারণে অনেক কাজ করি, সময় নষ্ট করে থাকি। অনেক সময় আনপ্রোডাক্টিভ কাজ করি। ফলে কঠোর পরিশ্রমেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসে না।

বিভিন্ন সময় কারণে-অকারণে আমাদের আত্মমর্যাদার অবনতি হয়। ফলে আমরা পেশাচিক ভিডিওগুলোর দিকে ধাবিত হই। অন্যদিকে আত্মমর্যাদা আমাদের যেকোনো পাপ কাজ করতে বাধা দেয়।

তাই পর্নোগ্রাফির সাথে যুদ্ধে আপনাকে অবশ্যই আত্মমর্যাদাবান হতে হবে। আত্মমর্যাদা ও অহংকার কিন্তু এক বিষয় নয়। আত্মসম্মান আমাদের সৎ কাজে উৎসাহিত করে এবং অসৎ কাজ থেকে দূরে রাখে।

নতুন কিছু শেখা এবং শৌখিন কর্মকাণ্ডগুলো আপনাকে আত্মমর্যাদা অর্জনে সাহায্য করবে।

হস্তশিল্প ও সেলাই
এই বইটির বেশিরভাগ পাঠক পুরুষ। তাই এই টপিকটি দেখার পর তারা এটি এড়িয়ে যাওয়ার চিন্তা করবে। এই পরিচ্ছেদের শুরুতে কয়েদিদের গল্পে হয়তো ভেবেছেন, এটা মেয়েদের কাজ। কিন্তু এসব শৌখিন কাজের একটা বাড়তি সুবিধাও রয়েছে। এসবে অভ্যস্ত হলে দেখবেন, আপনার বন্ধুমহলে কাজটি কেবল আপনিই পারেন। যদি সেলাইয়ের কাজে পারদর্শী হন, তাহলে পছন্দের লোগো সহজেই ডিজাইন করে ফেলতে পারবেন। আপনি পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের দুর্দান্ত কিছু গিফট দিতে পারবেন। স্ত্রী অথবা মেয়েকে শীতকালীন সোয়েটার বানিয়ে গিফটও করতে পারবেন, যা আপনার পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে। আপনার বাচ্চা মেয়েটার জন্য নিজ হাতে কাপড়ের পুতুলও তৈরি করে দিতে পারেন। আপনি যদি একই সঙ্গে অনেক কাজে অভ্যস্ত হতে চান, তবে বুনন একটা ভালো উপায় হতে পারে। কারণ, শিখে গেলে না দেখেও বুনন করা যায়। আপনি হয়তো ফুটবল ম্যাচ দেখতে দেখতে কানটুপি বানিয়ে ফেললেন। কোনো কাজকেই অবহেলার চোখে দেখা যাবে না।

রন্ধনশিল্প
মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান চাহিদা হলো খাদ্য; অথচ আমাদের অনেকের রান্নার দক্ষতা শুধু ভাত রান্না আর ডিম ভাজিতেই সীমাবদ্ধ। রান্না কিন্তু চমৎকার একটা শখ। রান্না করে যেমন আনন্দ পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি নিজে খেয়ে এবং অপরকে খাইয়েও বেশ তৃপ্তি অনুভব করা যায়।

শারীরিক-মানসিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে রন্ধনশিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঘরের তৈরি খাবার সবাই পছন্দ করে এবং ডাক্তাররাও ঘরের খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়। আমাদের উচিত ঘরের তৈরি খাবার খাওয়া এবং বাইরের খাবার বর্জন করা। বাইরের খাবারে ভেজাল থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

রান্না শিখলে নিজের যখন যা ইচ্ছা তা তৈরি করে খেতে পারবেন। আপনার মা অসুস্থ হয়ে থাকলে নিজেই পরিবারের জন্য রান্না করতে পারবেন। আবার মা অসুস্থ থাক বা না থাক সকালে উঠে আপনার নিয়মিত কাজকর্ম যেমন- ইবাদত, শরীরচর্চা ইত্যাদি সেরে তাকে রান্নার কাজে সহযোগিতা করতে পারেন। ময়দা এগিয়ে দেওয়া, সবজি কাটা, প্লেট পরিষ্কার, খোশগল্প করা, এগুলো করতে পারাও কিন্তু বড়ো ধরনের একটা দক্ষতা। সাহায্য পেয়ে আপনার মায়ের তৃপ্তির মুখোচ্ছবি দেখে প্রচণ্ড ভালো লাগা কাজ করবে। কাজেই আপনি রান্নাকেও একটা শৌখিন কাজ হিসেবে নিতে পারেন।

দারুশিল্প

কাঠ বা দারু একটি জড়পদার্থ হলেও মানুষ তা খোদাই-এর মাধ্যমে প্রাণবন্ত করে তোলে। দারুশিল্প মানব ইতিহাসের অনেক পুরাতন একটা সংস্কৃতি। দারুশিল্পকে শৌখিনতা হিসেবে নেওয়া গেলে নিজের প্রয়োজনের পাশাপাশি আয়-রোজগারেও মাধ্যম হতে পারে। সৌখিন কাঠের শিল্প যেমন রুম সাজাতে সাহায্য করবে, তেমনি উপহার হিসেবেও কাঠের শো-পিস মন্দ নয়।

পুঁতির ব্যাগ বানানো
পুঁতির তৈরি ব্যাগ বানানোও একটি ভালো শৌখিন কাজ হতে পারে। ব্যাগ বানিয়ে আপনার মা, স্ত্রী অথবা মেয়েকে উপহার দিতে পারবেন। বিক্রি করে আয়ও করতে পারবেন। শুধু ব্যাগ নয়; বিভিন্ন ধরনের শো-পিসও বানাতে পারবেন।

বাগান করা
শৌখিন কাজ হিসেবে বাগান বেছে নেওয়া একটা ভালো সিদ্ধান্ত। আপনি সবজি, ফুল, ফল ইত্যাদির বাগান করতে পারেন। শহরে খোলা জায়গা না থাকলে ছাদে বাগান করতে পারেন। বাগানে সবজি চাষ করে ফরমালিনমুক্ত শাক-সবজি পেতে পারেন। ফুল উৎপাদন করে নির্মল আনন্দ নিতে পারেন। ফল উৎপাদন করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেতে পারেন। একটি চমৎকার বাগান থাকা মানে জীবনটা ফুল-সৌরভে ভরে যাওয়া। কি, বিশ্বাস হচ্ছে না? একবার তো শুরুটা করে দেখুন!

অন্যান্য ব্যবহারিক শৌখিনতা
এসব শৌখিন কাজের কোনোটি পছন্দ না হলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। শৌখিন কাজ করার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। ইলেক্ট্রনিকের কাজ, চামড়ার কাজ ইত্যাদিও শৌখিন কাজ হিসেবে নিতে পারেন। আপনার পছন্দ যাই হোক না কেন, ফলাফল যেন লাভজনক ও দৃশ্যমান হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

📘 নীল বিষ > 📄 বুদ্ধিবৃত্তিক শৌখিনতার প্রতি আগ্রহ

📄 বুদ্ধিবৃত্তিক শৌখিনতার প্রতি আগ্রহ


মানুষ স্বভাবতই কৌতূহলী প্রাণী, কৌতূহল আমাদের জীবনেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। শৈশবে কৌতূহলী মনই মানুষের মধ্যে জানার এক অদম্য স্পৃহা তৈরি করে দেয়। সেই কৌতূহল থেকেই মানুষের জানার শুরু, নতুন সবকিছু আবিষ্কারেরও শুরু। কৌতূহল না থাকলে জ্ঞান-বিজ্ঞান আজকের এই উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারত না।

শিশুকালের কথাই চিন্তা করুন। কোনো শিশুকে যখন তার মা গরম পাতিল ধরতে নিষেধ করে, তখন সে আরও বেশি গরম পাতিলের দিকে আকৃষ্ট হয়। সে বুঝতে চায়, গরম কী। সে জানতে চায়, এটা কতটা ক্ষতিকর। সে হয়তো গরম পাতিলটি স্পর্শ করেই ফেলে। যখন সে গরম পাতিল স্পর্শ করে, তখনই বুঝতে পারে গরমটা মূলত কী। বিল গেটস, মার্ক জুকারবার্গ, ইলন মাস্ক প্রমুখ ব্যক্তিগণ দুনিয়াবি সফলতার প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেও এই কৌতূহল এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়ে থাকেন।

আমাদের শৈশবের সেই কৌতূহলী মন বড়ো হতে হতে কীভাবে যেন হারিয়ে যায়। এ কারণে আমাদের দিয়ে সৃজনশীল কোনো কাজ করাও সম্ভব হয়ে ওঠে না। অবশ্য এই কৌতূহল চলে যাওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণও আছে। হয়তো বাবা-মা বা আশেপাশের মানুষজন আপনার কৌতূহলী মনের প্রশ্ন উপেক্ষা, অবজ্ঞা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন। আবার আমাদের শিক্ষকরাও ক্লাসে বা ক্লাসের বাইরে বেশি প্রশ্ন করা পছন্দ করতেন না। সবকিছু মিলিয়েই আমাদের কৌতূহলের দরজায় পড়ে যায় নিষেধাজ্ঞার তালা।

বয়ঃসন্ধিকালে মানুষের মনে যৌনতা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঁকি দিতে থাকে। বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করতে ভয় পায়। ফলে যে শিক্ষা তার বাবা-মার কাছ থেকে পাওয়ার কথা ছিল, তা পায় সমবয়সি বন্ধু, ইন্টারনেট ইত্যাদি থেকে। অশ্লীলতার দিকে বেশিরভাগ ছেলেমেয়ের প্রথম হাতেখড়ি হয় গুগলে যৌনবিষয়ক সার্চ করার ফলে। কারণ, বর্তমানে সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন। ফলে কিছু বুঝে উঠার আগেই শিশু-কিশোরদের চারিত্রিক অধঃপতন শুরু হয়। এরা আসক্ত হয়ে যেতে শুরু করে।

পর্নাসক্তির ফলে নারীকে তারা কেবল ভোগের বস্তু হিসেবে দেখতে থাকে। ফলে সমাজে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, ইভটিজিং ইত্যাদি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এবং এর অনেক কিছুই ঘটে শুধু অজ্ঞতার কারণে, ভুল ধারণার কারণে।

এই ভুল ধারণা ভেঙে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে মা-বাবাকেই। বন্ধু বা ইন্টারনেটের থেকে ভুল জ্ঞান পাওয়ার আগেই প্রত্যেক বাবার উচিত ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যৌনতার সমস্ত বিষয় খুলে বলা।

পর্নোগ্রাফি মানুষকে এই দুনিয়ার বিশালত্ব থেকে গাফেল রাখে। মানুষকে বেঁধে ফেলে নীলের জালে। দৃষ্টিভঙ্গিকে কেবল যৌনতায় সীমাবদ্ধ করে দেয়। একজন পর্নাসক্ত মানুষ এই পৃথিবীকে দেখে যৌনতার নীল চশমা দিয়ে। এই চশমা খুলে ফেলে, সুন্দর এই পৃথিবীর সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারলেই পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে লেখাপড়া
আপনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্যটি পুনরায় দেখুন, কী লিখেছিলেন? আপনি ঠিক কী হতে চান, সে বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে কিছু সময় সাবজেক্ট রিলেটেড স্টাডির জন্য ব্যয় করুন। যদি আপনার লক্ষ্য থাকে ভালো একজন স্বামী এবং বাবা হওয়া, তাহলে বিয়ে ও পরিবারবিষয়ক বই বেশি বেশি পড়তে হবে। ধর্মীয় স্কলারদের বক্তব্যও এক্ষেত্রে ভালো কাজে দেবে। আপনি যদি শিল্পী হতে চান, তাহলে শিল্প-সাহিত্য নিয়ে গভীর পড়াশোনা করুন। যদি ধর্মীয় স্কলার হতে চান, তাহলে ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করুন। যা-ই হতে চান না কেন, অনুসন্ধানী মন নিয়ে প্রতিদিন স্টাডি করুন।

অনলাইন রিসোর্স

বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। যেকোনো তথ্য-উপাত্ত নিমিষেই আমাদের হাতের মুঠোয় চলে আসে। পৃথিবী এখন আর বিশাল পৃথিবী নেই, পরিণত হয়েছে ছোট্ট একটা গ্লোবাল ভিলেজে। চাইলেই আমি বা আপনি ঘরে বসেই আমেরিকান একজন লেখকের লেখা পড়ে ফেলতে পারি, কানাডার একজন বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করতে পারি, ঘরে বসেই পৃথিবীর বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির কোর্স করে ফেলতে পারি বা নিজের ল্যাপটপ দিয়ে বাংলাদেশে বসেই আপনি পৃথিবীর অন্য প্রান্তের যেকোনো কোম্পানির জন্য কাজ করে টাকা আয় করতে পারেন। সব মিলিয়ে এটাকেই বলা হচ্ছে গ্লোবাল ভিলেজ। পুরো পৃথিবীটাই পরিণত হয়েছে একটা গ্রামে।

সব জিনিসেরই ভালো ও মন্দ দিক আছে। এটিও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা অবশ্যই একে ভালো কাজে ব্যবহার করব। এক ক্লিকে মুহূর্তেই আপনি আপনার পছন্দের টপিক্সের সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন। আপনার পছন্দের টপিকের ওপর শত শত আর্টিকেল বিনামূল্যে পেয়ে যাবেন, যা একসময় ছিল কল্পনাতীত। অনেক ভার্সিটি বিভিন্ন বিষয়ে ফ্রি অনলাইন কোর্স করায়। ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদিতে অসংখ্য বিশেষজ্ঞরা স্ব-স্ব বিষয়ে ফ্রি লেকচার দিয়ে থাকে।

কিন্তু গুগলে সার্চ দিতে গিয়ে অনেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অশ্লীল ওয়েবসাইটে চলে যান। এজন্য অবশ্যই Covenant Eyes Internet Accountability-সহ এ জাতীয় আরও অনেক অ্যাপ ব্যাবহার করতে হবে।

বই পড়া

বইকে বলা হয় মানুষের সর্বোত্তম বন্ধু। সব সময় সব বন্ধু পাশে না থাকলেও বই এমন এক বন্ধু, যা সব সময় সব পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সময়ে মানুষের বই পড়ার আগ্রহ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

২০১৪ সালের একটি গবেষণা দেখায়, ২৮% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বছরে মাত্র ১১টি বই পড়ে। মাসে একটির চেয়েও কম। ২৪% মানুষ বই খুলেই দেখে না। এক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেকাংশে দায়ী। শৈশবে জোর করে পড়ানো বই পড়ার উৎসাহ কমার জন্য দায়ী। বইভীতি তৈরিতে কিছু শিক্ষকেরও ভূমিকা রয়েছে। ননফিকশন বই যেকোনো বিষয়ে গভীর জ্ঞান তৈরিতে সাহায্য করে। ক্লাসিক সাহিত্যগুলো আমাদের সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বিল গেটস, টিম চ্যালিস প্রমুখ বিখ্যাত ব্যক্তিরা বাৎসরিক বই পাঠ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। এক বছরে কতটি বই পড়বেন, তার লিস্ট জনগণের সামনে প্রকাশ করেন। নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে টানা কয়েকটা বই পড়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রতিমাসে কোন কোন বই পড়ে শেষ করবেন-এমন একটা লিস্ট তৈরি করুন। এটি আপনাকে বই পড়তে উৎসাহিত করবে।

বই আপনার মাথা থেকে আজেবাজে কল্পনাকে মুছে ফেলে সেখানে অনিন্দ্য সুন্দর একটা কল্পনার জগৎ তৈরি করে দেবে। শুধু পর্নোগ্রাফিই না; বই পড়ার অভ্যাস আপনাকে আরও হাজার ধরনের বাজে কাজ থেকে বিরত রাখবে। বিশ্বাস না হয়, চেষ্টা করেই দেখুন!!

ধাঁধা
ধাঁধা শব্দটা শুনলেই কেমন ম্যাজিক ম্যাজিক একটা অনুভূতি হয় তাই না? ছোটোবেলায় কত আগ্রহ নিয়েই না আমরা ধাঁধা সমাধান করতাম! অথচ বড়ো হয়ে আরও অনেক অভ্যাসের মতো এই অভ্যাসটাও আমরা হারিয়ে ফেলি। ধাঁধা জাতীয় বিষয়গুলো তৈরি অথবা সমাধান আমাদের মন বা মস্তিষ্কের ওপর দারুণ প্রভাব ফেলে। ইংরেজিতে এটাকে বলে ব্রেইনস্টর্মিং। একদিকে যেমন ধাঁধা আপনার ব্রেইনকে ব্যস্ত রাখবে, আরেকদিকে আপনার চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। কাজেই, যখনই পর্নোগ্রাফির ভূত মাথায় চাপার চেষ্টা করবে, তখনই ওঝা হিসেবে ধাঁধা নিয়ে বসে পড়বেন। আশা করা যায়, পর্নোগ্রাফির ভূত মাথা ছেড়ে পালিয়ে যাবে দ্রুতই।

ভাষা শিক্ষা
ভাষা শেখাও কিন্তু অসাধারণ একটা শৌখিন কাজ হতে পারে। মাতৃভাষা ছাড়াও একাধিক ভাষা শিক্ষা আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ব্রেইনের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। আবার একাধিক ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি সৃজনশীল ও বুদ্ধিমান হয়। অনলাইন কোর্সের সাহায্যে সহজেই ইংরেজি, আরবি, উর্দু, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি ভাষা শেখা সম্ভব। ইউটিউবে সার্চ করলেই এমন অসংখ্য টিউটোরিয়াল পাওয়া যাবে।

ভ্রমণ
আরও একটা কার্যকর ও প্রোডাক্টিভ শৌখিনতা হতে পারে ভ্রমণ। দেশ বিদেশের নানা প্রান্তে আপনি যখন একের পর এক ট্যুর দিতে থাকবেন, সেটা একই সঙ্গে যেমন আপনার অভিজ্ঞতা বাড়াবে, তেমনি আপনার দেখার চোখও পালটে দেবে। ভ্রমণ মানুষকে নিজের ক্ষুদ্র গণ্ডি থেকে বের করে বাইরের বিশাল রঙিন জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।

নিঃসন্দেহে ভ্রমণ একটি আনন্দদায়ক বিষয়ও। ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ যখন নতুন নতুন জায়গা পরিদর্শন করে, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়, সেই আনন্দের কোনো তুলনা হয় না। এ ছাড়া পরিবেশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সমাজ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মানুষ কেবল ভ্রমণের মাধ্যমেই জানতে পারে। মানুষ কোনো স্থান ভ্রমণ করলে সেই ভ্রমণকাহিনি ও অভিজ্ঞতা সারাজীবনের জন্য তার মনে স্থায়ীভাবে গেঁথে থাকে।

আপনাকে সব সময় যে দূরেই ঘুরতে যেতে হবে, এমন কিছু না। বাইরে হাঁটতে বেড়ানোও অনেক ভালো একটা কাজ। রোদে বের হলে দেহে ভিটামিন ডি পাবেন। ভিটামিন ডি ছাড়াও ঘুরতে বের হওয়ার শারীরিক, মানসিক অনেক উপকারিতা আছে। যখনই পর্নোগ্রাফি দেখার ইচ্ছা জাগবে, তখনই বাইরে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ুন। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে নিতে পারলে আরও ভালো হয়। মূলত পৃথিবী কতটা বড়ো, কতটা সুন্দর, এই চিন্তাই মানুষকে সকল বাজে কাজ থেকে বিরত রাখতে সক্ষম। আর এই চিন্তা আসে কেবল ভ্রমণের মাধ্যমেই।

স্রষ্টার সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা

ছোটোবেলায় একটা কবিতা আমরা সবাই পড়েছি—
'এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি, খোদা, তোমার মেহেরবানি।'

এই যে আমরা আমাদের চারপাশে এত এত সৃষ্টি, এত কিছু—এগুলো নিয়ে কি ভেবেছি কোনোদিন? চারপাশের এত মানুষ দেখি, কারও সাথে কারও মিল নেই; এমনকী আমাদের নিজেদের দুটি হাতের রেখার মধ্যেও কোনো মিল নেই। কত শত বৈচিত্র্যতা! এ ছাড়াও কত লাখো-কোটি সৃষ্টি আছে আমাদের চারপাশে। কে সৃষ্টি করল এই বৈচিত্র্যময় প্রকৃতিকে? এসব নিয়ে কি কোনোদিন ভেবেছি? এই মহাবিশ্ব, মহাজগৎ নিয়ে কি কোনোদিন কোনো চিন্তা উদয় হয়েছে আমাদের মনে? কখনো কি তুলনা করে দেখেছি, এই বিশাল মহাকাশের তুলনায় আমার অবস্থান কোথায়? যদি এগুলো না করে থাকেন, তাহলে এক্ষুনি শুরু করে দিন। তবে এমন চিন্তা-ভাবনা করার জন্য কোলাহলমুক্ত পরিবেশ দরকার। পৃথিবী যখন নিশ্চুপ, তখন; বিশেষ করে গভীর রাতে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে ভাবতে পারেন। শেষ রাত্রির এই ভাবনাগুলো আপনাকে দুনিয়া থেকে বহুদূরে নিয়ে যেতে সক্ষম।

📘 নীল বিষ > 📄 কেমন হতো, যদি সাধারণ জিনিসে আনন্দ পাওয়া যেত

📄 কেমন হতো, যদি সাধারণ জিনিসে আনন্দ পাওয়া যেত


ডাল ম্যানস ক্লাব (Dull Mens Club) নামে একটি আন্তর্জাতিক ক্লাব আছে। ব্রিটেন ও ইউরোপে এই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা অনেক। এই ক্লাবের ৫,০০০ সদস্য দাবি করেছেন, তারা খুব ছোটো ছোটো বিষয় থেকেও আনন্দ পান।

একজন দুধের বোতল সংগ্রহ করেন।

অন্য একজন হয়তো পুরো দুনিয়ার বিখ্যাত সব গোরস্থানের ছবি তুলে বেড়ান।

আরেকজন হয়তো তুলেন ট্রাফিক সিগনালের ছবি ।

এই ক্লাবের একজন ক্লাব মেম্বার দাবি করেন- 'নিস্তেজ হওয়ার মধ্যেই শান্তি আছে।' আপাতদৃষ্টিতে এটা নির্বোধের কাজ বলে মনে হতে পারে; কিন্তু এখান থেকে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে। এই ক্লাবের লোকজন বিশেষ কিছুর ভেতরে না; বরং সাধারণ জিনিসের বৈচিত্র্যের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পায়। যেমন ধরুন, বিভিন্ন দেশের দুধের বোতলে হরেক রকমের ডিজাইন ও লোগো থাকে। আবার একেক দেশের ট্রাফিক সিগনাল একেক রকম হয়। অনেকে বিভিন্ন দেশের রং-বেরঙের ডাকটিকিট সংগ্রহ করে। সাধারণ একটা দুধের বোতল বা ডাকটিকেটও যে আনন্দের উৎস হয়ে উঠতে পারে, ডাল ম্যানস ক্লাব আমাদের সেটাই শেখায়। শেখায়, শখের মূল্য আসলেই লাখ টাকা। ভালোবাসা আর যত্ন থাকলে ঘরের পাশের শিশির বিন্দুও আপনার জন্য হয়ে উঠতে পারে দারুণ সৌন্দর্যের প্রতীক।

ঠিক এখানেই শখ আর পর্নোগ্রাফির মধ্যে মূল পার্থক্য। পর্নোগ্রাফি যেখানে কাজ করে মাদকের মতো, শখ তখন করে ওষুধের কাজ। পর্নোগ্রাফি দেখা শুরু করলে দিন দিন আরও আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় পর্নের চাহিদা বাড়তে থাকে। কিন্তু প্রকৃতি সম্পর্কে অনুসন্ধান আমাদের ছোটো ছোটো বিষয়েও আনন্দ পেতে শেখায়। পর্নোগ্রাফি একজন মানুষকে ধীরে ধীরে নৈতিকতাহীন এক পশুতে পরিণত করে। অন্যদিকে প্রকৃতি আপনাকে শেখাবে, কীভাবে জীবনকে ভালোবাসতে হয়, মানুষকে ভালোবাসতে হয়। পর্নাসক্ত ব্যক্তি দাম্পত্যজীবনে সুখী হয় না। এক সংগীত সে বিরক্ত হয়ে যায়। অন্যদিকে শৌখিন মানুষ সহজেই আনন্দ খুঁজে নিতে পারে। আনন্দ পাওয়ার জন্য তাকে সঙ্গীর সাথে প্রতারণা করতে হয় না। পর্নোগ্রাফি যখন সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করে, প্রকৃতি আর শৌখিনতা তখন সমাজে ফোটায় সুন্দরের ফুল। যে ফুলের সুবাসে ভরে যায় সমাজ, দেশ এবং পৃথিবী। আপনিও যদি সেই সুন্দরের ফুল ফোটাতে চান, তবে আপনিও একজন অনুসন্ধানকারী হয়ে উঠুন। হয়ে উঠুন একজন মুসাফির। বেরিয়ে পড়ুন সুন্দরের খোঁজে!!

পর্নোগ্রাফির প্রতি আকর্ষণের অন্যতম একটা কারণ হলো, এর গোপনীয়তা। স্বাভাবিকভাবেই গোপন বিষয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি থাকে। গোপন বিষয় দেখলে এডরিনালিন নিঃসরণ হয়, যা আমাদের মনে ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। নিয়মিত এসব দেখা শুরু করলে আরও আকর্ষণীয় ও ভয়ংকর পর্নের চাহিদা তৈরি হয়। পর্নাসক্ত বেশিরভাগ ব্যক্তি একটা সময় গিয়ে পরিণত হয় একেকজন পটেনশিয়াল রেপিস্টে।

একসময় অল্প এডরিনালিন তাদের মনে আর আনন্দ সৃষ্টি করতে পারে না। তাদের আনন্দ পাওয়ার জন্য আরও বেশি এডরিনালিন প্রয়োজন হয়। এখন এই বাড়তি এডরিনালিন আসবে কোথা থেকে? এই বাড়তি এডরিনালিনের জোগান পেতে তখন আসক্ত ব্যক্তিরা পাগলের মতো আচরণ করে, পর্ন দেখেও একসময় আর এডরিনালিন-এর চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। ফলে এবার তারা আশেপাশের নারীদের দিকে লালসার দৃষ্টি ফেলতে শুরু করে। এক পাপ এভাবেই খুলে দেয় আরও হাজারটা পাপের দরজা।

অথচ চাইলেই এই এডরিনালিনের চাহিদা বৈধ উপায়েও মেটানো যায়। চাইলেই বিকৃত পথে নয়; বরং সুন্দরের পথেও আপনি আনন্দের দেখা পেতে পারেন।

তবে এজন্য আপনাকে হতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু। একজন মুসাফির।

বাড়ির বাইরে, আশেপাশে, বনবাদাড়ে একজন অভিযাত্রীর মন নিয়ে অন্বেষণ করতে শুরু করুন। চাঁদের পাহাড়ের সেই শংকরের মতোই হয়ে যান না কিছুদিনের জন্য!! আপনার বাসস্থানের কাছাকাছি কোনো প্রাকৃতিক ছোটোখাটো বন আছে? ঘুরতে চলে যান। সাইকেল আছে বাসায়? চালাতে পারেন? চড়ে বসুন একদিন। চলে যান অনেক দূরে। বাড়ির আশেপাশে নদী আছে? কোনো এক রাতে কয়েকজন মিলে নৌকা বিলাস করে ফেলুন, কে নিষেধ করেছে? ভরা পূর্ণিমায় নদীর কালো জলের ওপরে জোনাকির খেলা যে কোনোদিন দেখেনি, সে সুন্দরের মর্ম কীভাবে বুঝবে?

কবি বলেছেন—'দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে দু'পা ফেলিয়া।' আপনার বাসস্থানের কাছাকাছিও হয়তো এমন অনেক সুন্দর জায়গা আছে, যা এখনও আপনার দেখা হয়নি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সহজেই এসব জায়গা থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

শুধু ছোটো ট্যুর নয়; বরং সময় আর সুযোগ থাকলে বড়ো ট্রিপ দেওয়ার জন্যও মনস্থির করুন। পাঁচ-সাত দিনের জন্য দেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে হারিয়ে যান। কোনো একদিন, কোনো এক পাহাড়ে উঠতে উঠতে আপনি হঠাৎ-ই আবিষ্কার করবেন, পাহাড় জয়ের চেয়ে আনন্দদায়ক কাজ দুনিয়াতে খুব বেশি নেই। চাইলে ঘুরতে পছন্দ করে, আপনার এমন বন্ধুদের নিয়ে একটা ট্যুর গ্রুপ বানিয়ে ফেলতে পারেন অথবা যারা নিয়মিত ট্যুর দেয়, তাদের সাথেই নতুন বন্ধুত্বও করতে পারেন।

মনে-প্রাণে একজন পর্যটক হয়ে উঠুন

আপনার বর্তমান বাসস্থানে কত বছর ধরে বসবাস করছেন? আপনার নিজের শহরকেই বা আপনি কতটা চেনেন? যে গ্রাম বা শহরের আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেছেন, সেই জায়গাকে কতটা আপন করে চিনতে শিখেছেন? আমরা অনেকেই নিজেদের একটি ছোট্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলি; বাসা, অফিস, স্কুল, মসজিদ, হাতেগোনা কিছু দোকানপাট ও রেস্টুরেন্টের গণ্ডিতেই আটকে থাকে আমাদের চলাফেরা। অথচ দেশের অনেক বড়ো শহর; এমনকী ছোটো শহরগুলোতেও কত জাদুঘর আছে, পার্ক আছে, প্রাকৃতিক জায়গা আছে, ঐতিহাসিক কত স্থান আছে, সেগুলো ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছেন কখনো?

প্রতিমাসে আপনার হাতে মোট চারটি বা পাঁচটি শুক্রবার থাকে। কোনো এক শুক্রবারে নিজের সাইকেলটা নিয়ে বা বাইকটা নিয়ে বা রিকশায় উঠেই বসুন না!! একা একা না গিয়ে পরিবারের কাউকে সাথে নিন বা কোনো বন্ধুকে সাথে নিয়েই শহরের ছোটো জাদুঘরটা ঘুরে আসেন। চিড়িয়াখানাটা ঘুরে আসেন। নদীর ধারটা ঘুরে আসুন। দেখবেন, এসব ছোটো ছোটো জায়গাতেও কত বড়ো বড়ো আনন্দ আর রিফ্রেশমেন্ট লুকিয়ে আছে।

এসব প্ল্যান প্রোগ্রাম করা ট্যুর যদি আপনার কাছে খুব বেশিই ফর্মাল মনে হয়, তবে হিমু হয়ে যেতে পারেন। রাতের শহর বা ভোরের গ্রামে হেঁটে বেড়াতে পারেন উদ্দেশ্যহীন। রাস্তার মোড়ের টং দোকান বা ছায়া ঠোঁটে নিয়ে উড়ে যাওয়া দুটি পাখিও হয়তো আপনাকে মুগ্ধ করবে। আপনার মনে এনে দেবে প্রশান্তির পরশ!!

আপনি যদি গ্রামের মানুষ হন, তাহলে শিশির পড়া ভোরে বের হতে পারেন হাতের স্মার্টফোনটা নিয়ে। সূর্য উঠার আগেই মাঠে যাওয়া কৃষক, ধানের শিষে বসে থাকা ঘাসফড়িং বা পানির পাম্পে তৈরি হওয়া ঝরনা, কত সুন্দরই তো আপনার চারপাশে ডানা মেলে আছে, শুধু আপনার খুঁজে নেওয়ার অপেক্ষায়।

জানি, কিছু কিছু পরামর্শ আপনার কাছে খুবই অদ্ভুত মনে হচ্ছে। হয়তো ভাবছেন, এভাবে কি ফিরে আসা সম্ভব? উত্তর হলো, হ্যাঁ, সম্ভব। যেহেতু পর্নোগ্রাফির নীল জগতে আপনার দৃষ্টি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, তাই এখন আপনার জগৎকে যথাসম্ভব বড়ো করে ফেলতে হবে। আগের দৃষ্টিভঙ্গি ছুড়ে ফেলে নতুন চোখে পৃথিবীকে দেখতে হবে। সেই নতুন পৃথিবীই আপনাকে দেবে নতুন একটা জীবনের সন্ধান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00