📘 নীল বিষ > 📄 দ্য পাওয়ার অব অ্যাকাউন্টিবিলিটি পার্টনার

📄 দ্য পাওয়ার অব অ্যাকাউন্টিবিলিটি পার্টনার


চলুন দুই বন্ধু লুইস ও টোলকিন-এর গল্প শুনে আসি। তারা দুজনই ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ছোটোবেলা থেকেই তারা একসাথে বড়ো হয়েছে। একসাথে কবিতা লিখেছে। ছোটো থেকেই দুজন দুজনের সাথে সবকিছু শেয়ার করতে করতে বড়ো হয়েছে; এমনকী দুজন যে লেখালিখি করত, সেসবও তারা একে অন্যের সাথে শেয়ার করত—যাতে সেগুলোর মান উন্নত হয়। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা ছিল না, যা নিয়ে তারা আলাপ করত না।

তো, দুই বন্ধু একদিন সাহিত্য হিসেবে কল্পবিজ্ঞানের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছিল। শেষমেশ তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছল—তারা দুজনই সায়েন্স ফিকশন লিখবে। একজন লিখবে মহাকাশ ভ্রমণ নিয়ে গল্প, অন্যজন সময় পরিভ্রমণ নিয়ে। কে কোনটা লিখবে, সেটা ঠিক হবে টস করার মাধ্যমে।

তাদের কথামতো Out of the Silent Planet প্রকাশের মধ্য দিয়ে লুইস তার নন-একাডেমিক লেখালিখির ক্যারিয়ার শুরু করে দেয়। পরে সে কালজয়ী ক্লাসিক Mere Christianity ও The Chronicles of Narnia প্রকাশ করে। অন্যদিকে তার বন্ধু টোলকিন সময় পরিভ্রমণ নিয়ে কোনো গল্প না লিখলেও, 'Hobbits' নামক এক জাতির কাহিনি নিয়ে এমন এক গল্প-উপন্যাস লিখে ফেলেন, যার খ্যাতিও কোনো অংশেই কম ছিল না।

বিখ্যাত হওয়ার পর সি. এস. লুইস ও জে. আর. আর. টোলকিন নামক এই বন্ধুদ্বয় পরবর্তী সময়ে অক্সফোর্ড পাবের ব্যাকরুমে আবারও সাক্ষাৎ করা শুরু করে।

তারা সেখানে আরও কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীর সাথে নিজেদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলাপচারিতা চালিয়ে যায়। তারা একসঙ্গে মিলে সায়েন্স ফিকশনের রূপরেখাই পালটে ফেলে।

সাহচর্য : জীবন বদলে দেওয়ার শক্তি

লুইস ও টোলকিন যে গোপন রহস্যের সন্ধান পেয়েছিল, তা ছিল ঐক্য-শক্তি (The Power of Community)। ফলে পরস্পরের সাহিত্যকর্মের পরিমার্জন, নিজেদের লেখা একে অন্যকে সশব্দে পড়ে শোনানো, লেখাগুলোর ঘষামাজা, সমালোচনা-সবকিছুই চলে আসত সেই আলোচনায়। এই আলোচনা করার জন্য তারা লেখালিখিবিষয়ক একটা দলই তৈরি করে ফেলছিল, যার নাম ছিল 'Inklings'। Inklings দলটা পরবর্তী সময়ে একটা সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। যে প্ল্যাটফর্ম তাদের সাহিত্যকর্ম আরও শাণিত করতে এবং সেগুলো বই হিসেবে প্রকাশে সাহায্য করত। ফলে সাহিত্যের মান বিচারে তাদের বইগুলো হতো এককথায় অসাধারণ। বিশেষ করে টোলকিন আর লুইসের বইগুলো তো ঠাঁই করে নিয়েছে কালোত্তীর্ণ ক্লাসিক হিসেবে।

নির্জন ঘরে যেমন কোলাহল থাকে না, তেমনই একা একাও মানুষ বেশি দূর যেতে পারে না। একজন মানুষ যতই প্রতিভাবান হোক না কেন, একা একা তার পক্ষে খুব বেশি কিছু করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এখন প্রশ্ন হলো-পর্নাসক্তি থেকে বের হয়ে আসার সাথে ওপরের এই গল্পের সম্পর্ক কতটুকু?

উত্তর হলো-সবটুকুই!

পর্ন সাধারণত মানুষ একা অবস্থাতেই দেখে। কেননা, বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই এটি একটি গোপন বিষয়। এই গোপনীয়তা পর্নের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয় হাজারগুণে।

মনোবৈজ্ঞানিক এ এল কুপার যৌনতার প্রতি মানুষের আকর্ষণের তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলে-অভিগম্য (Accessibility), সামর্থ (Affordability) ও গোপনীয়তা (Anonymity)।

নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণ মজ্জাগত। লুকিয়ে লুকিয়ে ওগুলো দেখাও তীব্র আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। এখান থেকে মুক্তির একটি উপায় হলো-নিজের সমস্যাটি আলোতে আনা। অর্থাৎ, জনসম্মুখে প্রচার করা।

এ ব্যাপারে অনেকগুলো সফটওয়্যার ও সংস্থা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হলো-ইন্টারনেট জবাবদিহিতা (Internet Accountability)।

'Covenat Eyes' এই সেবাটি দিয়ে থাকে। এটি আপনার অনলাইন অ্যাক্টিভিটির রিপোর্ট আপনার বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তিকে ইমেইল করবে। এই বিশ্বস্ত ব্যক্তিই হলেন আপনার জবাবদিহিতার সঙ্গী (Accountability Partner)। আপনি যখনই ভুল পথে পরিচালিত হবেন, তখন এই পার্টনার আপনাকে সাহায্য করবেন। তিনি মোটেও পাহারাদারের মতো হবেন না; বরং তিনি হবেন আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল একজন বন্ধু, যিনি আপনার সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করবেন, আপনাকে সাহস জোগাবেন এবং আপনাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবেন। যার সাথে আপনি গল্প করতে পারবেন, নিজের স্বপ্নের কথা বলতে পারবেন, লক্ষ্যের কথা বলতে পারবেন। যার সাথে বসে নিজের করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করতে পারবেন। ফলে আপনি নিজেকে ঠিক কোন জায়গায় দেখতে চান, তা নির্ধারণ সম্ভব হবে।

চলুন, আমরা আবার লুইস ও টোলকিন বন্ধু দুজনের দিকে লক্ষ করি। লুইস আর টোলকিনের বন্ধুত্ব ছিল এক দশকের। তারা নিজেদের সাহিত্যে ঐক্য-শক্তির (The power of community) কার্যকর প্রয়োগ করেছিলেন। 'Inklings'-এর কথা এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর সদস্যরা একে অপরকে নিজের সৃজনশীল কাজগুলো পড়ে শোনাত। ফলে তারা পরস্পরের ভুল ধরতে সহায়তা করে। আর এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সাহিত্যকর্মকে আরও বেশি শাণিত করত। পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে যুদ্ধেও আমাদের এ রকম পার্টনার প্রয়োজন। একজন সৎ বন্ধু কেবল আপনাকে পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তিলাভেই সাহায্য করবে না; বরং পুরো জীবন পালটে দিতে সহায়তা করতে পারে।

সহযোগী নির্বাচন
যদি আপনি পর্নোগ্রাফি থেকে বের হয়ে আসতে চান, তাহলে আপনার কাউকে না কাউকে সহযোগী হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে। যিনি আপনার জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা রাখবে, সহযোগিতার সাথে আপনার জীবন সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করবে। পাশাপাশি নিজের বাজে অভ্যাসগুলো থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রেও তিনি হবেন আপনার সহযোগী। এই ব্যক্তিই হবেন আপনার Accountability Partner ।

অ্যাকাউন্টিবিলিটি পার্টনার নির্বাচন
ইতোমধ্যে আপনার মাথায় হয়তো দুই-একজনের নাম চলে এসেছে। যদি এমন কারও নাম মাথায় না আসে, তবে বুঝতে হবে-আপনি হয়তো তেমন কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।

আমরা আপনার সঠিক অ্যাকাউন্টিবিলিটি পার্টনার খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারি। এমন একজন অ্যাকাউন্টিবিলিটি পার্টনার (Accountability Partner) বাছাই করুন, যার নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকবে-

১. ধার্মিক : একই ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী হতে হবে এবং তাকে সত্যিকার ধার্মিক হতে হবে।

২. বিশ্বস্ত : বিশ্বাস অ্যাকাউন্টিবিলিটি পার্টনার হওয়ার মূল শর্ত। বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া কাউকে Accountability Partner করা যাবে না। কারণ, আপনি তার কাছে অনেক গোপন কথা শেয়ার করবেন।

৩. মানসিকভাবে পরিপক্ব : অপরিণত মানসিকতার কাউকে Accountability Partner হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে না। এমন কাউকে খুঁজে বের করুন, যিনি আপনাকে খুব ভালোভাবে বুঝতে পারবে।

৪. একই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য: আপনার ও তার জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একই হতে হবে। যেমন: ভালো মানুষ হওয়া, পরকালে মুক্তিলাভ ইত্যাদি।

৫. অনুরূপ মনমানসিকতা : দুজনকেই সম মনমানসিকতার অধিকারী হতে হবে।

বি.দ্র. বিপরীত লিঙ্গের কাউকে কোনোভাবেই Accountability Partner বানানো যাবে না।

কথোপকথন শুরু

যেহেতু আপনি Accountability Partner নির্ধারণ করে ফেলেছেন, এখন আপনার প্রথম কাজ হলো-তার সাথে যোগাযোগ (Communication) শুরু করা। আপনার Accountability partner-এর সাথে নিম্নোক্ত বিষয়ে কথোপকথন শুরু করতে হবে।

১. আপনার জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য শেয়ার: পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো-আপনি ঠিক কার মতো হতে চান, তা বারবার স্মরণ করা। আপনার সবটুকু মনোযোগ এ লক্ষ্যের ওপর নিবদ্ধ রাখতে হবে।
যেমন: আপনি নবি-সাহাবিদের জীবনী পাঠ এবং তাঁদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবেন। এজন্য পাঠ করতে পারেন, আর রাহিকুল মাখতুম, মুহাম্মাদ দ্যা ফাইনাল ম্যাসেঞ্জার, মাআল মুস্তফা, ফুটস্টেপ অব প্রোফেট মুহাম্মাদ (সা.), ফিকহুস সিরাহ, মানবতার বন্ধু হজরত মুহাম্মাদ (সা.), সিরাতে ইবনে হিশাম, বিশ্বনবি, আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (১-৬ খণ্ড), আমরা সেই সে জাতি (১-৩ খণ্ড)।-(অনুবাদক)

২. পরিকল্পনা করা: পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তি পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই একটা স্পষ্ট লক্ষ্য সামনে রাখতে হবে। যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে। প্রথমেই খুঁজে বের করতে হবে, আপনার আসক্তির কারণ কী? আপনার পর্নাসক্তির কারণ যদি হয় কাজের চাপ, বিষণ্ণতা অথবা অনিদ্রা, তাহলে আপনার প্রথম কাজ হলো-এগুলো দূর করার চেষ্টা করা। আপনি ও আপনার Accountability Partner মিলে অনিদ্রা, বিষণ্ণতা ও কাজের চাপ কীভাবে দূর করা যায়, সেই উপায় নিয়ে ভাববেন, কথা বলবেন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলে যাবেন না।
এক্ষেত্রে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। যেমন: Covenant Eyes Internet Accountability। এটি আপনার অনলাইন অ্যাক্টিভিটি বিশ্লেষণ করবে এবং আপনার Accountability Partner-কে রিপোর্ট করবে। এ ছাড়াও অনেক ধরনের সফটওয়ার দিয়ে পর্ন সাইটগুলো ব্লক করে রাখা যায়।

৩. ক্যালেন্ডারে মার্ক করুন: Inklings-এর সদস্যরা ২০ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে দুইবার আলোচনায় বসত। মঙ্গলবার আর বৃহস্পতিবার। মঙ্গলবার তারা প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য নিয়ে আলেচনা-পর্যালোচনা করত। তারা একে অপরের সাথে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করত। ফলে তাদের সাহিত্যে সেসবের প্রভাব থাকত বেশি। আর প্রতি বৃহস্পতিবার তারা একত্রিত হতো লুইসের বাড়িতে। সেখানে তারা তাদের নিজেদের লিখিত সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করত এবং উচ্চৈঃস্বরে সেগুলো অন্য সদস্যদের পড়ে শোনাত। অন্য সদস্যরা মনোযোগ দিয়ে সেগুলো শুনত এবং নিজেদের মতামত দিত। ফলে নিজেদের সাহিত্যের ত্রুটি-বিচ্যুতি, অসংলগ্নতার ঘাটতি খুঁজে করা সহজ হতো এবং সেগুলো তারা শুধরেও নিত।

ফলে হতো কী, তাদের সময়গুলো হয়ে উঠত অনেক বেশি প্রোডাক্টিভ। যদিও সবাই সব দিন উপস্থিত হতে পারত না, তাই বলে মিটিংয়ের দিন-তারিখ কিন্তু সব সময়ই নির্দিষ্ট থাকত। এই জিনিসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই নির্দিষ্ট সময়ই হলো আমাদের জবাবদিহিতার চাবিকাঠি। কীভাবে? বলছি।

সপ্তাহের সব দিনে আপনার পর্নাসক্তি মারাত্মকভাবে দেখা দেবে না। এমনকী কখনো হয়তো টানা কয়েক সপ্তাহও ওগুলো আপনাকে আকর্ষিত করবে না। কিন্তু তার মানে এই না যে, আপনি মুক্তি পেয়ে গেছেন। আপনাকে কোনোভাবেই কাউন্সেলিং এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডে গ্যাপ দেওয়া চলবে না। আপনার জবাবদিহিতা বন্ধুর (Accountability Partner) সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে। নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ না থাকলে অনলাইনে যোগাযোগ করবেন, তবুও যেকোনো মূল্যে যোগাযোগটা রাখা জরুরি। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন তার সাথে নিজের চিন্তাধারা, দৃষ্টিভঙ্গি, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আইডিয়া নিয়ে আলাপ আলোচনা চালাতে হবে। প্রতি মিটিং-এর পর পরবর্তী মিটিংয়ের সময়কাল নির্ধারণ করে ফেলতে হবে। এটা কিন্তু একান্ত জরুরি। প্রয়োজনে ক্যালেন্ডারে দিনক্ষণ মার্ক করে রাখতে পারেন। এটা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে, ঠিক কত তারিখে আপনার মিটিংটা আছে।

📘 নীল বিষ > 📄 পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন

📄 পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন


ওহিওর আপ্পালাসিয়া পর্বতমালার কাছে একটি কারাগার ছিল। এটি এমন এক জায়গা, যেখানে সমতল ভূমি পর্বতমালায় রূপান্তরিত হওয়া শুরু করে। ১৮৯৬ সালে এ কারাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শতাব্দীকাল চলার পর অমানবিক পরিবেশের কারণে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই পরিত্যক্ত অবকাঠামোতে চিত্রায়িত হয় একটি ক্লাসিক ছায়াছবি।

চলচিত্রের নায়ককে মিথ্যা অভিযোগে এই অমানবিক কারাগারে বন্দি করা হয়। তারপর সে এখানে প্রতিনিয়ত কারারক্ষী ও কয়েদিদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হতে থাকে। এমন প্রতিকূল পরিবেশেও সে তার কারাগারের পরিবেশ উন্নত করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। সে নিজের সেলকে নানা রঙের পোস্টার ও কারুকার্য খচিত পাথর দিয়ে সাজায়। কারারক্ষীদের অফিসে ঢুকে গান বলা শুরু করে। এরপর কারাগারে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তুলতে মনোনিবেশ করে। সে সবাইকে বই পড়াতে আগ্রহী করে তোলে। কিছুদিনের মধ্যেই কারাগারে পরিবেশ আমূল বদলে যায়। এ রকম আকাশ-পাতাল পরিবর্তন ইতঃপূর্বে কেউ দেখেনি। ফলে সবাই কারাগারে আগের চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে এবং সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে লাগল।

এই ঘটনা থেকে আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারি। মূল শিক্ষণীয় বিষয় হলো—আপনি যখন আপনার চারপাশের পরিবেশকে বদলে দেবেন, তখন সেই পরিবর্তন আপনার দৈনন্দিন জীবনেও অনেক চেঞ্জ নিয়ে আসবে। কাজেই পর্নাসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হলেও আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।

মানুষের ওপর পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রভাব

এখন এই মুহূর্তে আপনার বাসার প্রতিটি রুমের চারপাশটা ভালো করে খেয়াল করুন। কিছু জিনিস বিশেষভাবে লক্ষ করুন-

১. আসবাবপত্র কীভাবে সাজানো : টিভি কোন দিকে মুখ করানো? চেয়ারগুলো কি আড্ডা দেওয়ার মতো করে সাজানো? নাকি একাকী সময় কাটানোর উপযোগী করে রাখা আছে?

২. রুমটি কী দিয়ে সাজানো : প্রত্যেকটি রুমে কী কী সাজসজ্জা বিদ্যমান, তা খেয়াল করুন। ঘরের দেয়ালে কী রং করা? কোনো সেলিব্রিটির ছবি সাটানো আছে? ঘরে কি কোনো ক্যালিগ্রাফি আছে? আপনার বারান্দায় কি ফুলগাছের টব আছে?

৩. প্রত্যেক রুমের লাইটিং কেমন : আপনার রুমে কি অনেকগুলো বাতি আছে? জানালা কি বড়ো ও প্রশস্ত? ঘরে কি কোনো ডিম লাইট আছে? জানালা-দরজায় পর্দা আছে কি না? করিডোর কীভাবে আছে?

৪. প্রত্যেক রুমের প্রধান কাজ : যেমন-ডাইনিং রুম, বেডরুম ইত্যাদি।

এবার আপনি যে রুমে সচরাচর পর্নোগ্রাফি দেখেন, সে রুমটি বিশেষ মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করুন। আপনি পর্ন দেখার জন্য এ রুমটিই কেন বেছে নেন? এটি কি অন্যান্য রুমের চেয়ে একটু বেশিই প্রাইভেট? এ রুমে কি সচরাচর কোনো মানুষ আসে না?

ঘরের ভেতরকার পরিবেশের সাথে মানুষের মনস্তত্ত্বের যে সম্পর্ক আছে, এটা নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। গবেষণায় একটা জিনিস পরিষ্কার, আপনার ওপর আপনার ঘরের ডেকোরেশনের প্রভাব কত বেশি, সেটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। স্বস্তির খবর হলো—ঘর সাজানোর জন্য আপনাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে না। এখন আপনি খেয়াল করে দেখেন, আপনার সেই প্রাইভেট রুমটিতে কি কোনো অশ্লীল ছবি টানানো আছে? থাকলে আপনার মন প্রতিনিয়ত নারীকে ভোগের বস্তু হিসেবে কল্পনা করে যাচ্ছে। আরও কিছু সূক্ষ্ম বিষয়ও আছে, যেগুলো আপনার খেয়াল করা উচিত। যেমন: আপনার রুমটি যদি সব সময় অন্ধকার থাকে, তাহলে তা আপনার কাছে গোপনীয় (সিক্রেট) রুম হিসেবে প্রতীয়মান হবে।

জড় পরিবেশ ঢেলে সাজালে অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটে

যেহেতু আপনি নিজের রুম ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, এখন আপনার কাজ হলো রুমটি নতুন করে সাজানো। আপনি জীবনের কোন পর্যায়ে আছেন, তার ওপর ভিত্তি করে এই পুনর্বিন্যাসের রকমফের হতে পারে। রুমটি যদি একান্ত ব্যক্তিগত হয়, তাহলে আপনার একমাত্র সীমাবদ্ধতা হলো-টাকা ও সময়। নিজের রুম হলে পুরো অবস্থাটাই পরিবর্তনের অধিকার আপনার রয়েছে। অন্যদিকে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থান করেন, তাহলে হয়তো রুমের অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন করা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে না। তবে কিছু ছোটোখাটো পরিবর্তন করতেই পারেন। আর এই ছোটোখাটো পরিবর্তনও আপনার জীবনে আকাশ-পাতাল তফাত এনে দেবে।

১. ঘরের আসবাবপত্র ঢেলে সাজান: The Shawshank Redemption নামক বিখ্যাত বইয়ের লেখক স্টিফেন কিং-এর একটি স্বপ্ন ছিল। তার ইচ্ছা ছিল, ওক কাঠের বড়ো একটা টেবিল বানাবেন, যা লেখক হিসেবে নিজেকে জাহির করতে সাহায্য করবে। রুমের বেশিরভাগ অংশজুড়ে থাকবে তার টেবিল, যা তাকে বেশি বেশি সাহিত্য লিখতে উৎসাহিত করবে। কিন্তু তার স্বপ্ন যখন সত্যি হলো, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। তিনি বলেন- 'ছয় বছর যাবৎ আমি মদ খেয়ে অথবা বিষণ্ণ হয়ে ডেস্কের পেছনে পড়ে থাকতাম। আমার অবস্থা ছিল মাঝি ছাড়া নৌকার মতো।'

পরিশেষে তিনি নিজের রুমকে বাসস্থানে রূপান্তরিত করেন, যেখানে এক কোনায় ছোট্ট একটি ডেস্ক ছিল। রুমের ভেতর টিভি, বিছানা এবং টিভির দিকে মুখ করা সোফাসেটও ছিল। রুমটি এমন জায়গায় রূপান্তরিত হলো, যেখানে তার স্ত্রী ও বাচ্চাকাচ্চারা নিয়মিত যাতায়াত করত। মাঝে মাঝে তার স্ত্রী বাচ্চাকাচ্চাদের নিয়ে রুমে চলে আসতেন। কখনো এমনিতেই, আবার কখনো একত্রে টিভি দেখা ও আড্ডা দেওয়ার জন্য।

স্টিফেন কিং লেখকের উপদেশ দেন এভাবে
'আপনি আপনার লেখার ডেস্ক রুমের কর্নারে রাখবেন। যখনই লিখতে বসবেন, একটা কথা স্মরণ রাখবেন-ডেস্কটি কিন্তু রুমের মাঝখানে নয়। সাহিত্যের জন্য জীবন নয়; বরং জীবনের জন্যই সাহিত্য।'

আপনার বাড়ির প্রত্যেকটি রুমের দিকে আরেকবার লক্ষ করুন। বিশেষ করে যে রুমে আপনি এসব নোংরা ভিডিওগুলো দেখেন। রুমগুলো কীভাবে সাজানো? চেয়ারগুলো কি টিভিমুখী সাজানো? নাকি একে অপরের দিকে সাজানো, যেন সহজে আড্ডা দেওয়া যায়?

এবার লেখক কিং-এর মতো নিজেকে জিজ্ঞেস করুন- 'আপনার ঘরটা কি আপনার জীবনের সাপোর্টিং হিসেবে কাজ করে নাকি পর্নোগ্রাফির?'

কানাডিয়ান ডেকোরেটর্স অ্যাসোসিয়েশন এভাবে ব্যাখ্যা করছেন 'আপনার রুম কী ধরনের ম্যাসেজ বহন করবে, তা ফার্নিচার দিয়ে প্রকাশ করুন। আপনার রুমে চারটি চেয়ার গোল করে সাজানো থাকার মানে হলো- আসুন, বসুন, রিলাক্স করুন এবং আড্ডা দিন। রুমের কর্নারে একটি দোল খাওয়া চেয়ার আপনাকে সারাদিনের পরিশ্রম শেষে বিশ্রাম নিতে প্রলুব্ধ করে।'

আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ঘরের ফার্নিচারগুলো পুনর্বিন্যাস করতে সহায়তা করবে। লক্ষ্য যদি হয় শ্রেষ্ঠ স্বামী ও পিতা হওয়া, তাহলে আপনার প্রিয় চেয়ারকে ঘরের কেন্দ্রে রাখুন এবং আপনার সন্তানকে ঘরে খেলার মতো পর্যাপ্ত জায়গা দিন। স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে যথেষ্ট সময় কাটান। আপনি যদি ছাত্র হয়ে থাকেন; আর লক্ষ্য যদি হয় ডাক্তার হওয়া, তাহলে ডেস্কটি এমনভাবে সাজান, যেন পড়তে আনন্দ পান। এটাও মাথায় রাখুন, পড়ার সময় কোনো কিছু যেন আপনার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত না করে। বিভিন্নভাবে আসবাবপত্র সাজিয়ে দেখুন, কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

১. রুমে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা: রুমে আলো বৃদ্ধি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। অন্ধকার রুম নির্জনতায় উৎসাহিত করে; অন্যদিকে আলোকোজ্জ্বল রুম সরলতার অন্যরূপ। আলো সব সময়ই অন্ধকার থেকে শ্রেয়। আলোকোজ্জ্বল রুম প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধিতে সহায়ক। Chloe Taylor বলেন-
'মানুষের বাসস্থানের সার্বিক পরিবেশের ওপর আলোর প্রভাব অনস্বীকার্য। সবচেয়ে ভালো আলোর উৎস হলো সূর্য। সুতরাং ঘরের জানালার সাইজ ও সংখ্যা ব্যক্তির সুখ-দুঃখকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে; এমনকী দুশ্চিন্তা কম-বেশির সাথেও এটির সম্পর্ক রয়েছে। ২০০২ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনের আলো মানুষের প্রোডাক্টিভিটি ও পারফরমেন্স বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাই দিনের বেলা পর্দা খুলে দিন, যেন আলো ঘরে প্রবেশ করতে পারে এবং রাতে জ্বালানোর জন্য পর্যাপ্ত বাতির ব্যবস্থা করুন। ইঁদুরের গল্পটির মতো 'আইসোলেটেড' রুম থেকে 'ওপেন' পার্কে পরিণত করতে যা প্রয়োজন, তা-ই করুন।

২. রুমে সাজসজ্জা পরিবর্তন: ধরে নিই আপনি প্রতিটি রুম নিয়ে আবারও চিন্তা-ভাবনা করেছেন এবং আসবাবপত্র সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন। এবার আপনার কাজ হলো-ডেকোরেশন বা সাজসজ্জার মাধ্যমে রুমকে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা।

প্রথমেই আপনাকে সমস্যাযুক্ত সাজসজ্জা থেকে মুক্তি পেতে হবে।

সুনির্দিষ্টভাবে রুম থেকে বেপর্দা নারীর ছবি, মূর্তি বা পোস্টার দূর করতে হবে। অশ্লীল কোনো ম্যাগাজিন থাকলে তা-ও ফেলে দিতে হবে। ফোন থেকে সব নারীর ছবি ডিলিট করে ফেলুন। কম্পিউটারে যত আজেবাজে ছবি/ভিডিও আছে-সব ডিলিট করে ফেলুন।

কাজগুলো করার পর দেখবেন, আপনার রুমের ওয়ালে অনেক জায়গা খালি হয়েছে। রুমে সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক ছবি এবং আর্ট দিয়ে ভরিয়ে ফেলুন। এখানে মহান আল্লাহর নামসংবলিত ক্যালিগ্রাফি সহজে স্থান পেতে পারে, চাইলে আপনার বাবা-মায়ের নামও দেয়ালে টানিয়ে দিতে পারেন। এই অধ্যায়ের শুরুতে আপনি যে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছেন, তা দেয়ালে পোস্টার আকারে ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। আপনি যদি লেখক হতে চান, তাহলে ঘরে বিখ্যাত লেখকদের লেখা রাখতে পারেন। রুমে টবে করে ফুলগাছ রাখতে পারেন। একটি সমীক্ষা বলে, চারপাশে ফুলগাছ থাকলে মানুষের মানসিক অবস্থা ভালো থাকে, মন প্রফুল্ল থাকে, দুঃখ কমে। পাতাবাহার গাছ স্মৃতিশক্তি ও প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। রুমে গাছ রাখতে অসুবিধা হলে কৃত্রিম ফুলগাছ রাখতে পারেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্র ও পর্বতমালার ছবিসংবলিত রুম আমাদের মানসিক প্রশান্তি দান করে এবং দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে প্ররোচিত করে। একই সঙ্গে কুরআনের আয়াত এবং নবিজির হাদিস পোস্টার করে দেয়ালে টানিয়ে রাখতে পারেন।

যেভাবেই ঘর সাজান না কেন, খেয়াল রাখতে হবে-এটি যেন দিনশেষে আপনার চক্ষু শীতল করে এবং প্রশান্তির কারণ হয়।

৩. মোবাইল ও ল্যাপটপ রাখার স্থান: আপনার রুমের আসবাবপত্র রদবদল ও সাজানোর মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-টেকনোলজিক্যাল ডিভাইস রাখার স্থান। স্মার্টফোন সব সময় আমাদের কাছেই থাকে। আর প্রায় সময় মানুষ স্মার্টফোনেই পর্ন দেখে। মাঝে মাঝে হয়তো বাথরুমে গিয়েও দেখে। রুমকে সাজিয়ে-গুছিয়ে কীভাবে খুশি থাকা যায়, তা পূর্বেই উল্লেখ করেছি। এখন আমাদের মোবাইল-ল্যাপটপ রাখার উপযুক্ত স্থানও নির্বাচন করতে হবে।

একটি সহজ পরামর্শ হলো-কম্পিউটার এমনভাবে রাখুন, যেন যে কেউ যেকোনে সময় রুমে ঢুকে দেখতে পারে-আপনি কী করছেন।

কিন্তু এই কৌশলটি কেবল কম্পিউটারের ক্ষেত্রেই খাটে; মোবাইল-ল্যাপটপের ক্ষেত্রে না। আমরা বেশিরভাগ সময় মোবাইলেই ইন্টারনেট ব্রাউজ করি। এক্ষেত্রে অন্য পদ্ধতির সাহায্য নিতে হবে।

প্রথমেই পূর্বের পরিচ্ছেদে বর্ণিত Covenant Eyes ইন্সটল করে নিতে হবে। ইন্টারনেট অ্যাকাউন্টিবিলিটির আরও অনেক সফটওয়্যার আছে, যা এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। আপনাকে আরও কিছু পদ্ধতির সাহায্য নিতে হবে।

ইন্টারনেটে অ্যাডাল্ট সাইট ব্লক করার বহু রকম সফটওয়্যার আছে, সেগুলো ইন্সটল করে নিতে হবে।

এরপর আপনি একটি টেকনোলজি বাস্কেট তৈরি করুন। সাধারণ একটি ঝুড়ি কিনে তাতে মোবাইল, ট্যাব ইত্যাদি রাখতে পারেন। পরিবারের সাথে ডিনার অথবা টয়লেটে যাওয়ার সময় মোবাইল ও ট্যাব এখানে রেখে যাবেন। বাস্কেটটি বেডরুমের বাইরে রাখুন। শোয়ার সময় কখনোই মোবাইল সাথে রাখবেন না।

আশা করছি, এই পদ্ধতি আপনাকে পর্নাসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ দেখাবে।

Withdrawal Symptoms

ধরে নিচ্ছি, এই নোংরা কাজ থেকে আপনি নিশ্চয় ইতোমধ্যেই দূরে থাকছেন। এবার তাহলে Withdrawal Symptoms-এর সাথে পরিচয় করাই। পর্ন ও মাস্টারবেশন ছেড়ে দেওয়ার পর বেশ কিছুদিন অনিদ্রা, বিরক্তি, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, চামড়া ফেটে যাওয়া এবং যৌনাঙ্গে অস্বস্থি বা ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। এসবই মূলত Withdrawal Symptoms। এটার সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হলো-পর্ন ত্যাগের পর দুই থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত এই লক্ষণগুলো স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু এসব দেখে কোনোভাবেই ভড়কে যাওয়া যাবে না। সাময়িক অস্বস্তি থেকে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বা আপনার বোধ হয় কিছুই ঠিক নেই-এমনটা ভাবা যাবে না।

Withdrawal Symptom কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হলো-আসক্তি সংশ্লিষ্ট আবেগকে মোকাবিলা করা। কোনো ব্যক্তি যখন আসক্তি ত্যাগ করে, তখন তাকে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। যেহেতু Withdrawal Symptoms অনেক জটিল, তাই ব্যক্তির আবার রিল্যান্স শুরু হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন আসক্ত ব্যক্তির যখন ঘুম আসে না, তখন সে এই সমস্যার কীভাবে সমাধান করবেথসেটা বুঝতে পারে না। সে তখন পর্নোগ্রাফিকেই সবকিছুর সমাধান ভাবতে শুরু করে। মনে করে, যদি সে আসক্তির কাথে মাথা নত করে অর্থাৎ পর্ন দেখে, তাহলে হয়তো সহজেই ঘুমিয়ে পড়তে পারবে। এই ভুল ধারণা একজন মানুষকে পর্নোগ্রাফির ফাঁদ থেকে মুক্ত হতে দেয় না।

মূলত withdrawal Symptoms-কে বোঝার জন্য এবং সমাধান করার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে।

এক. প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবশ্যই তার ব্যক্তিগত Withdrawal Symptoms-কে বুঝতে ও শনাক্ত করতে হবে।

দুই. Withdrawal Symptoms অনুভব করার সময় তিনি কী করবেন, সম্পর্কে তার একটি অ্যাকশন প্লান আগেই তৈরি করে রাখতে হবে। প্রতি ব্যক্তির জন্য Withdrawal Symptoms শনাক্ত করা প্রয়োজন। কারণ, রিকভারি প্রসেসের বড়ো একটি অংশজুড়ে আছে এই সচেতনতা। Withdrawal হলে এমন এক সেতু, যার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক আসক্ত ব্যক্তিকেই যেতে হবে। যা কম লোকেই বুঝতে পারেন, পর্নোগ্রাফি তাদের মনের ভেতরে কতটা জীবন্ত বাসনার সৃষ্টি করে। কাজেই সচেতনতা না থাকলে এই তীব্রতা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। যারা এ আসক্তির সাথে লড়ছেন, তারা অনেকেই স্বীকার করেন-এটি তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। যাহোক এই একই লোকেরা আবার মনে করেন, এ আসক্তি কাটিয়ে ওঠা তাদের জীবনের সেরা কাজ।

Withdrawal Symptom-গুলো হলো-
ক. মাথাঘোরা
খ. শরীর ব্যথা
গ. মাথাব্যথা
ঘ. নিদ্রাহীনতা
ঙ. অস্থিরতা
চ. ক্রোধ
ছ. মুড সুইং ইত্যাদি

📘 নীল বিষ > 📄 আপনি ঠিক তা-ই, যা খাবার হিসেবে গ্রহণ করেন

📄 আপনি ঠিক তা-ই, যা খাবার হিসেবে গ্রহণ করেন


Covenant Eyes-এর একজন কর্মকর্তা, স্কট তার বাসায় প্রতি সপ্তাহে ধর্মগ্রন্থ চর্চা করত। একসঙ্গে কয়েকজন মিলে বাইবেল পড়ত। কোনো এক সপ্তাহে তারা সিদ্ধান্ত নিল, বাইবেল চর্চা বন্ধ করে বিনোদনমূলক কিছু দেখা যায় কি না। সিদ্ধান্ত নিল, তারা এখন থেকে ক্লাসিক কমেডি মুভি দেখবে। যেই ভাবা, সেই কাজ। সবাই মিলে মুভি দেখতে বসল। মুভিতে যখনই কোনো অশ্লীল দৃশ্য সামনে আসত, স্কট তখনই তা স্কিপ করার জন্য রিমোট হাতে নিত অথবা ভিডিও অফ করে দিত। তারা এমন বিব্রতকর অবস্থা এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে লাগল।

একবার স্কট সিনেমা টেনে দিতে গিয়ে একটু বেশি এগিয়ে গেল। ফলে তারা এতক্ষণ যা এড়ানোর চেষ্টা করছিল অর্থাৎ অশ্লীল দৃশ্য, তা সামনে এসে গেল। এভাবে তিন-চারবার অশ্লীল দৃশ্য দেখার পর তাদের সবার কাছেই বিষয়টি কেমন যেন গা সওয়া হয়ে গেল। সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যেত এমন দৃশ্যও তারা অনায়াসে দেখতে শুরু করল। কিছুদিন আগেও যে দৃশ্যগুলো তাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করত, এখন সেই দৃশ্যগুলোই তারা উপভোগ করতে শুরু করে দিলো।

ন্যাচারাল ফুড
ফাস্ট ফুড

সিনেমা, গান ও ভিডিও গেমসের মাধ্যমে আমরা যেসব ম্যাসেজ পাই, সেসব আমাদের ওপর বেশ শক্ত একটা প্রভাব ফেলে। এগুলো আত্মার খোরাক হিসেবে কাজ করে; সচেতনভাবে অথবা অবচেতন মনে। এই ম্যাসেজগুলো আমাদের মন শুধু গ্রহণ করেই ক্ষান্ত থাকে না; বরং এগুলো আপনার কাজের মাধ্যমেও ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে।

এ সম্বন্ধে সলমন বলেন- 'হৃদয়কে সতর্ক রাখুন। যদিও আপনি সুচরিত্রের চূড়ায় থাকেন।'

আমরা যদি এমন মুভি দেখি, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রের প্রধান লক্ষ্য থাকে নারীদের সাথে যেকোনোভাবে যৌন সম্পর্ক করা, তাহলে আমরাও বিশ্বাস করতে শুরু করব, এটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি এমন গান শুনি, যা অবৈধ মেলামেশাকে উৎসাহিত করে, তবে আমরাও অবৈধ মেলামেশায় আগ্রহী হয়ে উঠব। পর্নোগ্রাফি এটিরই একটি চূড়ান্ত পরিণতি।

বলা হয়, সপ্তাহে তিন ঘণ্টা পর্নোগ্রাফি দেখলে নারীদের ব্যাপারে আপনার নীচু দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে এবং আপনি নিজের স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টি হারিয়ে ফেলবেন।

যতগুলো বিষয় আপনাকে পর্নোগ্রাফির দিকে পরিচালিত করতে পারে, তার মধ্যে একটা হলো আপনার পছন্দের বিনোদন। আপনার পছন্দের বিনোদনও আপনাকে পর্নোগ্রাফি বা অন্যান্য অসামাজিক কাজে পরিচালিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মুভির কথা চিন্তা করা যাক। মুভিতে প্রায়সই নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অনেক ভিডিও গেমসেও নারী চরিত্রকে যৌন আবেদনময়ী অবস্থায় দেখানো হয়। অ্যানিমেশনে বিকৃত চরিত্রগুলো মজার মাধ্যমে স্বাভাবিক হিসেবে দেখানো হয়। গানগুলো ভরা থাকে অশ্লীল যৌনতায়। কমিক্স বইয়ে ফিমেইল সুপার হিরোকেও একরকম পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্তি পেতে হলে আপনাকে যেকোনো ধরনের অশ্লীল যৌনতা থেকে দূরে থাকতে হবে। তাই নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়-এমন সকল বিষয় পরিহার করতে হবে। অর্থাৎ, আপনি যদি পর্নোগ্রাফি থেকে বাঁচতে চান, তবে জীবন থেকে কিছু মুভি ও গেমস আপনাকে চিরতরে বাদ দিতে হবে।

পূর্বের অধ্যায়গুলো থেকে কিছু পরামর্শ

প্রভাবক (Triggers) চিহ্নিত করুন : যেসব প্রভাবক আপনাকে ওই জঘন্য ভিডিওগুলো দেখতে উৎসাহিত করে, তা নির্ণয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কখন কখন, কোন কোন মিডিয়াগুলো বন্ধ করতে হবে-এই বিষয়টা অবশ্যই আপনাকে স্পষ্ট করে জানতে হবে। যেমন: যারা আসক্তি থেকে বের হতে চেষ্টা করছেন, তাদের প্রেমবিষয়ক মুভি থেকে দূরে থাকা উচিত। কখনো কখনো এই মুভি বা নাটকগুলো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় না; বরং প্রচ্ছন্নভাবে মানুষকে যৌনতার দিকে আহ্বান করে। তাই তাদের চিহ্নিত করা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে। এই কষ্টকর কাজে সহজ সমাধান হলো-যদি কোনো রোমান্টিক মুভি দেখার পর আপনার বাজে সাইটগুলোতে ভিজিট করতে ইচ্ছে করে, তাহলে আপনাকে ওই টাইপের মুভি দেখা ছেড়ে দিতে হবে।

অতএব, প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে-ঠিক কোন কোন বিষয়গুলো আপনাকে পর্নের দিকে পরিচালিত করছে। কারণগুলো আবেগীয় হতে পারে আবার শারীরিক বা মানসিকও হতে পারে (এ ব্যাপারে আমরা প্রথমের দিকে আলোচনা করেছি)। আবার এখানে অনেক সূক্ষ্ম বিষয়ও উঠে আসতে পারে। আপনি কি মুভিতে কোনো ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখার পর পর্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ হন? নাকি ইন্সট্রাগ্রাম চালানোর পর দেখেন? নাকি ওয়েব কমিক পড়ার পর?

আরও কিছু বিষয় চিন্তা করুন। আপনি প্রতিদিন কত সময় এসবের পেছনে ব্যয় করেন, তা নিয়ে ভাবুন। ফেসবুকে দৈনিক কত সময় ব্যয় করেন? ভিডিও গেম খেলে কতটা সময় অপচয় করেন? মুভি দেখতে দৈনিক বা সপ্তাহে কত ঘণ্টা ব্যয় হয়? এ বিষয়ে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ আপনাকে পর্নের বদলে অন্য কোনো ভালো শখ (Hobbies) আবিষ্কার করতে সহায়তা করবে।

এটা আপনাকে এমন সব প্রভাবক আবিষ্কার করতে সহায়তা করবে, যা হয়তো আপনি কখনো চিন্তাও করেননি।

সুস্থ বিনোদন খুঁজুন: সুস্থ বিনোদন খুঁজে বের করতে আপনার Accountability Partner-এর সাথে সময় করে বসুন। আপনার যত চিত্তবিনোদনের মাধ্যম আছে, সবকিছুর একটা তালিকা তৈরি করুন। সিভি, ডিভিডি, মেমোরি কার্ড, টিভি, স্মার্টফোন, ফেসবুক, ইউটিউব-সবকিছুর একটা তালিকা তৈরি করুন। তারপর দুজন মিলে সেই তালিকা নিয়ে বসুন। আর এ মিটিংটি আপনার রুমে করলেই সবচেয়ে ভালো হবে।

আপনাকে অবশ্যই ভালো ও নিরাপদ বিনোদনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে নিতে হবে। কিছু মানদণ্ড নিম্নরূপ-

১. টিভি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখতে হবে, এটি সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দেয় কি না।

২. বিনোদন অনুষ্ঠানে নারীদের ব্যক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে; ভোগ্যপণ্য হিসেবে নয়।

৩. যৌনতার দৃশ্য থাকতে পারবে না।

৪. গানের কথায় যেন যৌনতা ভরা না থাকে।

৫. নারী নির্যাতনজাতীয় কিছু যেন না থাকে।

সামগ্রিকভাবে আপনাকে দুটো বিষয়ের ওপর লক্ষ রাখতে হবে-
ক. বিনোদনের মাধ্যমটি কী ম্যাসেজ বহন করে,
খ. তা আপনাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌনতার দিকে প্রভাবিত করে কি না।
উদাহরণস্বরূপ অনেক কিশোর গোয়েন্দা সিরিজের কথা বলা যায়। যেগুলোর মূল ম্যাসেজ খুবই সাদামাটা হলেও ভেতরে সূক্ষ্মভাবে অশ্লীলতা প্রোথিত থাকে।

আপনার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বিনোদনের মিডিয়াগুলোকে নিম্নের চারটি ভাগে ভাগ করুন-

১. আমার জন্য উপকারী মিডিয়া; রান্নাবান্নার অনুষ্ঠান, ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বই/ডিভিডি ইত্যাদি।

২. উপকারী নয়, কিন্তু ক্ষতিকরও নয়; বিভিন্ন ফুড রেসিপি, ক্লাসিক উপন্যাস, অ্যাডভেঞ্চারের গল্প ইত্যাদি।

৩. অন্যদের জন্য ভালো, তবে আপনার জন্য ক্ষতিকর; ভিডিও গেমসে নারী চরিত্র যদি আপনাকে প্রলুব্ধ করে, তবে গেম খেলা বাদ দিতে হবে।

৪. যেসব মিডিয়া সবার জন্য ক্ষতিকর; যৌন উত্তেজনার বিষয়গুলো। এ জাতীয় সব বিষয় ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে হবে।

অনলাইন মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ : বর্তমান সময়ে শুধু ভৌত উপাদানের নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়; আপনাকে নিজের অনলাইন অ্যাক্টিভিটিও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

কোনো মুভি দেখার আগে তা সম্পর্কে জানুন : মুভিটি আদৌ দেখার উপযোগী কি না, তা আগে জানার চেষ্টা করুন। এ ব্যাপারে আপনাকে সহায়তা করতে পারে Pluggeding (http://www.pluggedin.com)। এটি আপনাকে যেকোনো কন্টেন্ট সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেবে। আপনি যেন বুঝতে পারেন-এটি আপনার রুচির বাইরে কি না। ভিডিও গেমের ক্ষেত্রে আগে যারা খেলেছে, তাদের থেকে জেনে নিতে পারেন।

নতুন কিছু পরামর্শ

একটা কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে-যে বিনোদন আপনার জীবনকে সংকীর্ণ করে ফেলে, সেটা কোনো বিনোদন না; বরং যে বিনোদন আপনাকে নির্মল আনন্দ দিতে পারে, সেটাই প্রকৃত বিনোদন। আরও একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, শুধু খারাপ কাজকে ঘৃণা করাই যথেষ্ট নয়; বরং ভালো কাজকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসতে হবে। আপনার জীবনের খারাপ অভ্যাসগুলোকে ভালো অভ্যাস দিয়ে পরিবর্তন করতে হবে।

টলামস লোয়া বলেন-
'আমরা যখন সুন্দরের দিকে ধাবিত হই, তখন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি উচ্চতর হয়। বিশেষভাবে মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক দিকে পরিচালিত হয়। জীবনের সকল বিষয় শিল্প হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, যেন আমরা প্রতিটি কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারি। এটা আমাদের সকল ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে। সকলের সাথে ভালো আচরণেও এর ভূমিকা রয়েছে।'

সুন্দরের অনুশীলন ব্যতীত আপনি কখনোই চরিত্রবান হতে পারবেন না। বিনোদনের ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। কারণ, আপনার বিনোদন মাধ্যমগুলো সূক্ষ্মভাবে আপনার কাজ বা আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে। নির্মল বিনোদন মানুষকে যেমন সুন্দরের দিকে নিয়ে যায়, অশ্লীল বিনোদন তেমনই মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

তাই আমাদের এমন বিনোদনই বেছে নিতে হবে, যা আমাদের কল্যাণের দিকে ধাবিত করে।১

টিকাঃ
১. এক্ষেত্রে হালাল বিনোদন নামক বইটা পড়তে পারেন। তা ছাড়া থ্রিলার হিসেবে সাইমুম সিরিজও হালাল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে বেশ কাজের।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00