📄 শরীয়ী আদব ও শিষ্টাচার রক্ষা করা
পরিবারের একটি হক হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ, হাস্য-রসিকতা ও বিনোদন করা।
যেমন, আয়েশা সিদ্দীকা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন—
كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ
আমি পানি পান করে সে পাত্র রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। আমার মুখ লাগানো স্থানে তিনি তাঁর মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন। আমি হাড় থেকে গোশত কামড়ে খেতাম। তারপর তা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। অথচ আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। তিনি আমার মুখ লাগানো স্থানে তাঁর মুখ লাগাতেন। [মুসলিম, হাদীস নং ৩০০]
আয়েশা থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে তিনি বলেন—
أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ
তিনি এক সফরে নবীজী ﷺ-র সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম। এবার তিনি আমাকে পিছনে ফেলে দিলেন; বিজয়ী হয়ে গেলেন। তখন তিনি বললেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৭৮]
নবীজী ﷺ ছোটদের সঙ্গেও রসিকতা করতেন, কৌতুক করতেন। যেমন, আনাস থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺযাইনব বিনতে উম্মে সালামার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। নবীজী তাকে দেখতেন বলতেন- ‘হে যাইনব! হে যুইনাইব!’ এভাবে একাধিকবার বলতেন। [আল মুজামুল ফীযিয়াহ লিয যিয়া : ২/৪৫]
আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজী একদিন উম্মে সুলাইমের ঘরে প্রবেশ করলেন। উম্মে সুলাইমের একটি ছেলে ছিল তার ভাইয়ের ঔরস থেকে। তাকে আবু উমাইর বলে ডাকা হত। নবীজী তার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। সেদিন নবী প্রবেশ করলেন, আবু উমাইর পেরেশান অবস্থায় বসে আছে। তখন নবীজী বললেন, আবু উমাইর, কী হয়েছে, তাকে পেরেশান দেখছি?! নবীজীকে জানানো হল, তার পাখিটি মারা গেছে; যাকে নিয়ে সে খেলা করত। তিনি [আনাস ] বলেন, এরপর নবীজী বলতে লাগলেন- হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১২৯৮০]
[টীকা- এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে মুসলিমের ভাষ্য অনুযায়ী আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের মাঝে চরিত্রের সর্বোত্তম ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল, তাকে আবু উমাইর বলে সম্বোধন করা হত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি অনুমান করি, তিনি বলেছিলেন যে, সে দুধ ছাড়ানো বয়সের ছিল। রাসূলুল্লাহ যখনই [আমাদের ঘরে] আসতেন, তখন তাকে দেখে বলতেন, হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? এ কথা বলে তিনি তার সঙ্গে খেলা করতেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৫০]
এই হাদীসের ফায়দাসমূহ বর্ণনা করে একটি কিতাবই লিখে ফেলেছেন শায়েখ মায়াহের বিখ্যাত ফকীহ ইবনু আব্দ আহমাদ আত-তাবারী । সেখানে তিনি এই হাদীসের ফায়দাসমূহের মধ্যে এ ফায়দাটিও কোথাও উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন ‘রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন।’
আমাদের এ আলোচনার উদ্দেশ্য এই যে, একজন মানুষ সর্বক্ষণ কৌতূহলাবস্থায় হয় যাপন কিংবা হায্য-রসিকতা ও কৌতুককে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে নিবেন। এটা ভুল। কেননা, অতিমাত্রায় হায্য-রসিকতা করার মাঝে ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব ও গাম্ভীর্য কমিয়ে দেয়। যত্র, পরিবার-পরিজনের কাছে কদর কমিয়ে দেয়। তবে যেটা বলতে চাই, তা হচ্ছে- একজন মানুষ বাইরে যতটা সদলাপী ও হাস্য-রসিকতাকারী হন, তিনি তার চেয়ে বেশি সদলাপী ও রসিকতাকারী হবেন।
পরিবারের একটি হক হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ, হাস্য-রসিকতা ও বিনোদন করা।
যেমন, আয়েশা সিদ্দীকা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন—
كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ
আমি পানি পান করে সে পাত্র রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। আমার মুখ লাগানো স্থানে তিনি তাঁর মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন। আমি হাড় থেকে গোশত কামড়ে খেতাম। তারপর তা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। অথচ আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। তিনি আমার মুখ লাগানো স্থানে তাঁর মুখ লাগাতেন। [মুসলিম, হাদীস নং ৩০০]
আয়েশা থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে তিনি বলেন—
أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ
তিনি এক সফরে নবীজী ﷺ-র সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম। এবার তিনি আমাকে পিছনে ফেলে দিলেন; বিজয়ী হয়ে গেলেন। তখন তিনি বললেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৭৮]
নবীজী ﷺ ছোটদের সঙ্গেও রসিকতা করতেন, কৌতুক করতেন। যেমন, আনাস থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺযাইনব বিনতে উম্মে সালামার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। নবীজী তাকে দেখতেন বলতেন- ‘হে যাইনব! হে যুইনাইব!’ এভাবে একাধিকবার বলতেন। [আল মুজামুল ফীযিয়াহ লিয যিয়া : ২/৪৫]
আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজী একদিন উম্মে সুলাইমের ঘরে প্রবেশ করলেন। উম্মে সুলাইমের একটি ছেলে ছিল তার ভাইয়ের ঔরস থেকে। তাকে আবু উমাইর বলে ডাকা হত। নবীজী তার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। সেদিন নবী প্রবেশ করলেন, আবু উমাইর পেরেশান অবস্থায় বসে আছে। তখন নবীজী বললেন, আবু উমাইর, কী হয়েছে, তাকে পেরেশান দেখছি?! নবীজীকে জানানো হল, তার পাখিটি মারা গেছে; যাকে নিয়ে সে খেলা করত। তিনি [আনাস ] বলেন, এরপর নবীজী বলতে লাগলেন- হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১২৯৮০]
[টীকা- এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে মুসলিমের ভাষ্য অনুযায়ী আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের মাঝে চরিত্রের সর্বোত্তম ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল, তাকে আবু উমাইর বলে সম্বোধন করা হত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি অনুমান করি, তিনি বলেছিলেন যে, সে দুধ ছাড়ানো বয়সের ছিল। রাসূলুল্লাহ যখনই [আমাদের ঘরে] আসতেন, তখন তাকে দেখে বলতেন, হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? এ কথা বলে তিনি তার সঙ্গে খেলা করতেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৫০]
এই হাদীসের ফায়দাসমূহ বর্ণনা করে একটি কিতাবই লিখে ফেলেছেন শায়েখ মায়াহের বিখ্যাত ফকীহ ইবনু আব্দ আহমাদ আত-তাবারী । সেখানে তিনি এই হাদীসের ফায়দাসমূহের মধ্যে এ ফায়দাটিও কোথাও উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন ‘রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন।’
আমাদের এ আলোচনার উদ্দেশ্য এই যে, একজন মানুষ সর্বক্ষণ কৌতূহলাবস্থায় হয় যাপন কিংবা হায্য-রসিকতা ও কৌতুককে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে নিবেন। এটা ভুল। কেননা, অতিমাত্রায় হায্য-রসিকতা করার মাঝে ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব ও গাম্ভীর্য কমিয়ে দেয়। যত্র, পরিবার-পরিজনের কাছে কদর কমিয়ে দেয়। তবে যেটা বলতে চাই, তা হচ্ছে- একজন মানুষ বাইরে যতটা সদলাপী ও হাস্য-রসিকতাকারী হন, তিনি তার চেয়ে বেশি সদলাপী ও রসিকতাকারী হবেন।
পরিবারের একটি হক হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ, হাস্য-রসিকতা ও বিনোদন করা।
যেমন, আয়েশা সিদ্দীকা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন—
كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ
আমি পানি পান করে সে পাত্র রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। আমার মুখ লাগানো স্থানে তিনি তাঁর মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন। আমি হাড় থেকে গোশত কামড়ে খেতাম। তারপর তা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। অথচ আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। তিনি আমার মুখ লাগানো স্থানে তাঁর মুখ লাগাতেন। [মুসলিম, হাদীস নং ৩০০]
আয়েশা থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে তিনি বলেন—
أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ
তিনি এক সফরে নবীজী ﷺ-র সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম। এবার তিনি আমাকে পিছনে ফেলে দিলেন; বিজয়ী হয়ে গেলেন। তখন তিনি বললেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৭৮]
নবীজী ﷺ ছোটদের সঙ্গেও রসিকতা করতেন, কৌতুক করতেন। যেমন, আনাস থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺযাইনব বিনতে উম্মে সালামার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। নবীজী তাকে দেখতেন বলতেন- ‘হে যাইনব! হে যুইনাইব!’ এভাবে একাধিকবার বলতেন। [আল মুজামুল ফীযিয়াহ লিয যিয়া : ২/৪৫]
আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজী একদিন উম্মে সুলাইমের ঘরে প্রবেশ করলেন। উম্মে সুলাইমের একটি ছেলে ছিল তার ভাইয়ের ঔরস থেকে। তাকে আবু উমাইর বলে ডাকা হত। নবীজী তার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। সেদিন নবী প্রবেশ করলেন, আবু উমাইর পেরেশান অবস্থায় বসে আছে। তখন নবীজী বললেন, আবু উমাইর, কী হয়েছে, তাকে পেরেশান দেখছি?! নবীজীকে জানানো হল, তার পাখিটি মারা গেছে; যাকে নিয়ে সে খেলা করত। তিনি [আনাস ] বলেন, এরপর নবীজী বলতে লাগলেন- হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১২৯৮০]
[টীকা- এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে মুসলিমের ভাষ্য অনুযায়ী আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের মাঝে চরিত্রের সর্বোত্তম ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল, তাকে আবু উমাইর বলে সম্বোধন করা হত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি অনুমান করি, তিনি বলেছিলেন যে, সে দুধ ছাড়ানো বয়সের ছিল। রাসূলুল্লাহ যখনই [আমাদের ঘরে] আসতেন, তখন তাকে দেখে বলতেন, হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? এ কথা বলে তিনি তার সঙ্গে খেলা করতেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৫০]
এই হাদীসের ফায়দাসমূহ বর্ণনা করে একটি কিতাবই লিখে ফেলেছেন শায়েখ মায়াহের বিখ্যাত ফকীহ ইবনু আব্দ আহমাদ আত-তাবারী । সেখানে তিনি এই হাদীসের ফায়দাসমূহের মধ্যে এ ফায়দাটিও কোথাও উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন ‘রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন।’
আমাদের এ আলোচনার উদ্দেশ্য এই যে, একজন মানুষ সর্বক্ষণ কৌতূহলাবস্থায় হয় যাপন কিংবা হায্য-রসিকতা ও কৌতুককে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে নিবেন। এটা ভুল। কেননা, অতিমাত্রায় হায্য-রসিকতা করার মাঝে ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব ও গাম্ভীর্য কমিয়ে দেয়। যত্র, পরিবার-পরিজনের কাছে কদর কমিয়ে দেয়। তবে যেটা বলতে চাই, তা হচ্ছে- একজন মানুষ বাইরে যতটা সদলাপী ও হাস্য-রসিকতাকারী হন, তিনি তার চেয়ে বেশি সদলাপী ও রসিকতাকারী হবেন।
📄 আমোদ-প্রমোদ ও হাস্য-রসিকতা করা
নবীজী ﷺ রাতে ঘুমানোর পূর্বে পবিত্র স্ত্রীদের সঙ্গে গল্প করতেন। যেমন, আয়েশা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ [সফরকালে] রাতের বেলায় তাঁর সাথে [আয়েশা -র সাথে] একযোগে হওয়ার হোন এবং তাঁর সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯১৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৪৫]
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবীজী রাতের বেলায় ঘুমানোর পূর্বে পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫৬৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৩]
এ থেকে উলামায়ে কেরাম রাতের বেলায় স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর গল্প ও গল্প করার বৈধতা প্রমাণ করেন। এমনকি ইমাম বুখারী তার সহীহ বুখারীতে একটি অধ্যায়ই কায়েম করেছেন ‘পরিবার-পরিজন ও মেহমানদের সাথে রাতে কথাবার্তা বলা’ নামে।
স্ত্রীদের কথোপকথন ও গল্প নিশ্চয়ই তাদের মনে আনন্দ জোগায়। তা ছাড়া এর মাধ্যমে তারা অনুভব করে যে, গৃহকর্তার কাছে তাদের কদর আছে। মনে রাখবেন, পুরুষরা যেমন নারীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে আগ্রহী, তেমন নারীরাও পুরুষদের সঙ্গে কথাবার্তা বলায় আগ্রহী। অতএব, একজন পুরুষ যখন নিজ মানসিক চাহিদার এই দিকটিতে সাড়া দিবেন, তখন স্ত্রীর আর অন্য কারও প্রতি মন দিবেন না; কারও প্রতি মনোযোগী হবে না। আর এভাবেই একজন স্বামী জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকল্পে তার স্ত্রীর সামনে একটি প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করে দিতে পারেন।
নবীজী ﷺ রাতে ঘুমানোর পূর্বে পবিত্র স্ত্রীদের সঙ্গে গল্প করতেন। যেমন, আয়েশা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ [সফরকালে] রাতের বেলায় তাঁর সাথে [আয়েশা -র সাথে] একযোগে হওয়ার হোন এবং তাঁর সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯১৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৪৫]
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবীজী রাতের বেলায় ঘুমানোর পূর্বে পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫৬৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৩]
এ থেকে উলামায়ে কেরাম রাতের বেলায় স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর গল্প ও গল্প করার বৈধতা প্রমাণ করেন। এমনকি ইমাম বুখারী তার সহীহ বুখারীতে একটি অধ্যায়ই কায়েম করেছেন ‘পরিবার-পরিজন ও মেহমানদের সাথে রাতে কথাবার্তা বলা’ নামে।
স্ত্রীদের কথোপকথন ও গল্প নিশ্চয়ই তাদের মনে আনন্দ জোগায়। তা ছাড়া এর মাধ্যমে তারা অনুভব করে যে, গৃহকর্তার কাছে তাদের কদর আছে। মনে রাখবেন, পুরুষরা যেমন নারীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে আগ্রহী, তেমন নারীরাও পুরুষদের সঙ্গে কথাবার্তা বলায় আগ্রহী। অতএব, একজন পুরুষ যখন নিজ মানসিক চাহিদার এই দিকটিতে সাড়া দিবেন, তখন স্ত্রীর আর অন্য কারও প্রতি মন দিবেন না; কারও প্রতি মনোযোগী হবে না। আর এভাবেই একজন স্বামী জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকল্পে তার স্ত্রীর সামনে একটি প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করে দিতে পারেন।
নবীজী ﷺ রাতে ঘুমানোর পূর্বে পবিত্র স্ত্রীদের সঙ্গে গল্প করতেন। যেমন, আয়েশা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ [সফরকালে] রাতের বেলায় তাঁর সাথে [আয়েশা -র সাথে] একযোগে হওয়ার হোন এবং তাঁর সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯১৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৪৫]
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবীজী রাতের বেলায় ঘুমানোর পূর্বে পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫৬৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৩]
এ থেকে উলামায়ে কেরাম রাতের বেলায় স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর গল্প ও গল্প করার বৈধতা প্রমাণ করেন। এমনকি ইমাম বুখারী তার সহীহ বুখারীতে একটি অধ্যায়ই কায়েম করেছেন ‘পরিবার-পরিজন ও মেহমানদের সাথে রাতে কথাবার্তা বলা’ নামে।
স্ত্রীদের কথোপকথন ও গল্প নিশ্চয়ই তাদের মনে আনন্দ জোগায়। তা ছাড়া এর মাধ্যমে তারা অনুভব করে যে, গৃহকর্তার কাছে তাদের কদর আছে। মনে রাখবেন, পুরুষরা যেমন নারীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে আগ্রহী, তেমন নারীরাও পুরুষদের সঙ্গে কথাবার্তা বলায় আগ্রহী। অতএব, একজন পুরুষ যখন নিজ মানসিক চাহিদার এই দিকটিতে সাড়া দিবেন, তখন স্ত্রীর আর অন্য কারও প্রতি মন দিবেন না; কারও প্রতি মনোযোগী হবে না। আর এভাবেই একজন স্বামী জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকল্পে তার স্ত্রীর সামনে একটি প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করে দিতে পারেন।
📄 পরিবারের সঙ্গে নেশ আলাপ
ইসলামী শরীয়ত ব্যক্তির উপর তার পরিবারের যেসকল হক আরোপ করেছে, তার একটি হচ্ছে- কোনো কারণ ছাড়া ছয় মাস সময় পরিবার থেকে দূরে না থাকা; কোনো প্রয়োজন ছাড়া ছাড়া তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকা। কেউ কোনো প্রয়োজনে সফরে গেলে, যখনই সফরের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, তখনই ফিরে আসবে। আমাদের নবীজী ﷺ-র পক্ষ থেকে এমন আদেশই করা হয়েছে। যেমন, এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে—
السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَنَوْمَهُ فَإِذَا قَضَى نَهْمَتَهُ فَلْيُعَجِّلْ إِلَى أَهْلِهِ
সফর আযাবের অংশ বিশেষ। তা তোমাদের যথাসময় পানাহার ও নিদ্রায় বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রত্যেকেই যেন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে আপন পরিজনের কাছে ফিরে আসে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৯০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯২৭]
এই হাদীস বিনা প্রয়োজনে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা ও প্রবাসে থাকার অপছন্দনীয়তা প্রমাণ করে। কারণ, একজন পুরুষ সফরে থাকাকালীন তার স্ত্রী-পরিজন ও সন্তানাদি কষ্টের থাকার বিষয়টি একেবারেই স্পষ্ট।
ইসমাইল হারাইছেন যখন তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হলেন, তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল- ‘কোন সফরে আযাবের একটা অংশ?’, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিয়েছিলেন- ‘কেননা, তাতে রয়েছে আপনজনদের বিচ্ছেদ-বিরহ।’
পরিবার-পরিজন ও সন্তানাদির পাশে পিতা বসল, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের প্রতি আদর-স্নেহ-ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, এতে করে তাদের মানসিক ও সহজাত আগ্রহের প্রতি সাড়া দেওয়া হয়। তাদের প্রতি যথাযথ কদর ও মর্যাদার প্রকাশ ঘটানো হয়।
অনেক ভাই দুনিয়াবী বিভিন্ন কাজে পরিবার থেকে দূরে থাকেন। অনেকে এমন সফরেও বের হন, যে সফরের কোনো প্রয়োজন নেই। এমনকি তার উপর্যুক্ত বিপদও আছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সফর ও পরিবার থেকে দূরে থাকা নিঃসন্দেহে বিভিন্ন সংকট, সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি করে। পিতা ও সন্তানদের এবং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ককে জটিল করে তুলে। বরং স্ত্রী থেকে দূরে থাকা সময়ের জন্য দূরে থাকা অনেক সময়ই স্ত্রীকে অটুট ও বিচ্যুতির পথে ঠেলে দেয়। বহু নারীর অন্যায় ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণ তাদের স্বামীরা দীর্ঘদিন তাদের থেকে দূরে থাকেন। তেমনই এক নারীর বক্তব্য- আমার স্বামী পাঁচ বছর যাবৎ সফরে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে আমি তাকে একবার চোখের দেখাও দেখতে পাইনি।
আরেকজনের বক্তব্য- আমার স্বামী বিগত দশ বছর যাবৎ আমার সঙ্গে মিলিত হন না।
আরেক বাহার! এগুলো কি বিবেকেরসম্মত কথা? মনে নেওয়ার মতো বিষয়?! অনেক মানুষ -আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন- সফরে বের হয় কিন্তু পরিবারে এমন কোনো মাল-সম্পদ রেখে যায় না, যা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ও ব্যয়ভার নির্বাহ করা যায়; কিংবা এমন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যায় না, যিনি তার অনুপস্থিতিতে তাদের দেখাশোনা করবে। আপনি কোনো কোনো পরিবারকে দেখবেন, যার কর্তা সফরে চলে গেছেন, কিন্তু তার ঘর ভাড়াশূন্য। অনেক সময় পান করার মতো পানিও থাকে না। পরিবারের ছোট্ট শিশু অসুস্থ হয়, কিন্তু তারা এমন কাউকে পায় না, যে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে। কখনও বা যুবতী নারীকে একাকীই মধ্যরাতে-গভীররাতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। রাস্তার অজানা-অচেনা গাড়িতে চড়তে হয়। অনেক সময় গাড়ির চালক হয় মানুষেরূপী হিংস্র হায়েনার অত্যন্ত কামনীয়- রাস্তায় ফাঁকা। প্রিয় পাঠক! এর পরের অংশ সম্পর্কে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করা না!
ইসলামী শরীয়ত ব্যক্তির উপর তার পরিবারের যেসকল হক আরোপ করেছে, তার একটি হচ্ছে- কোনো কারণ ছাড়া ছয় মাস সময় পরিবার থেকে দূরে না থাকা; কোনো প্রয়োজন ছাড়া ছাড়া তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকা। কেউ কোনো প্রয়োজনে সফরে গেলে, যখনই সফরের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, তখনই ফিরে আসবে। আমাদের নবীজী ﷺ-র পক্ষ থেকে এমন আদেশই করা হয়েছে। যেমন, এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে—
السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَنَوْمَهُ فَإِذَا قَضَى نَهْمَتَهُ فَلْيُعَجِّلْ إِلَى أَهْلِهِ
সফর আযাবের অংশ বিশেষ। তা তোমাদের যথাসময় পানাহার ও নিদ্রায় বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রত্যেকেই যেন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে আপন পরিজনের কাছে ফিরে আসে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৯০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯২৭]
এই হাদীস বিনা প্রয়োজনে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা ও প্রবাসে থাকার অপছন্দনীয়তা প্রমাণ করে। কারণ, একজন পুরুষ সফরে থাকাকালীন তার স্ত্রী-পরিজন ও সন্তানাদি কষ্টের থাকার বিষয়টি একেবারেই স্পষ্ট।
ইসমাইল হারাইছেন যখন তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হলেন, তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল- ‘কোন সফরে আযাবের একটা অংশ?’, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিয়েছিলেন- ‘কেননা, তাতে রয়েছে আপনজনদের বিচ্ছেদ-বিরহ।’
পরিবার-পরিজন ও সন্তানাদির পাশে পিতা বসল, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের প্রতি আদর-স্নেহ-ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, এতে করে তাদের মানসিক ও সহজাত আগ্রহের প্রতি সাড়া দেওয়া হয়। তাদের প্রতি যথাযথ কদর ও মর্যাদার প্রকাশ ঘটানো হয়।
অনেক ভাই দুনিয়াবী বিভিন্ন কাজে পরিবার থেকে দূরে থাকেন। অনেকে এমন সফরেও বের হন, যে সফরের কোনো প্রয়োজন নেই। এমনকি তার উপর্যুক্ত বিপদও আছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সফর ও পরিবার থেকে দূরে থাকা নিঃসন্দেহে বিভিন্ন সংকট, সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি করে। পিতা ও সন্তানদের এবং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ককে জটিল করে তুলে। বরং স্ত্রী থেকে দূরে থাকা সময়ের জন্য দূরে থাকা অনেক সময়ই স্ত্রীকে অটুট ও বিচ্যুতির পথে ঠেলে দেয়। বহু নারীর অন্যায় ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণ তাদের স্বামীরা দীর্ঘদিন তাদের থেকে দূরে থাকেন। তেমনই এক নারীর বক্তব্য- আমার স্বামী পাঁচ বছর যাবৎ সফরে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে আমি তাকে একবার চোখের দেখাও দেখতে পাইনি।
আরেকজনের বক্তব্য- আমার স্বামী বিগত দশ বছর যাবৎ আমার সঙ্গে মিলিত হন না।
আরেক বাহার! এগুলো কি বিবেকেরসম্মত কথা? মনে নেওয়ার মতো বিষয়?! অনেক মানুষ -আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন- সফরে বের হয় কিন্তু পরিবারে এমন কোনো মাল-সম্পদ রেখে যায় না, যা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ও ব্যয়ভার নির্বাহ করা যায়; কিংবা এমন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যায় না, যিনি তার অনুপস্থিতিতে তাদের দেখাশোনা করবে। আপনি কোনো কোনো পরিবারকে দেখবেন, যার কর্তা সফরে চলে গেছেন, কিন্তু তার ঘর ভাড়াশূন্য। অনেক সময় পান করার মতো পানিও থাকে না। পরিবারের ছোট্ট শিশু অসুস্থ হয়, কিন্তু তারা এমন কাউকে পায় না, যে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে। কখনও বা যুবতী নারীকে একাকীই মধ্যরাতে-গভীররাতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। রাস্তার অজানা-অচেনা গাড়িতে চড়তে হয়। অনেক সময় গাড়ির চালক হয় মানুষেরূপী হিংস্র হায়েনার অত্যন্ত কামনীয়- রাস্তায় ফাঁকা। প্রিয় পাঠক! এর পরের অংশ সম্পর্কে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করা না!
ইসলামী শরীয়ত ব্যক্তির উপর তার পরিবারের যেসকল হক আরোপ করেছে, তার একটি হচ্ছে- কোনো কারণ ছাড়া ছয় মাস সময় পরিবার থেকে দূরে না থাকা; কোনো প্রয়োজন ছাড়া ছাড়া তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকা। কেউ কোনো প্রয়োজনে সফরে গেলে, যখনই সফরের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, তখনই ফিরে আসবে। আমাদের নবীজী ﷺ-র পক্ষ থেকে এমন আদেশই করা হয়েছে। যেমন, এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে—
السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَنَوْمَهُ فَإِذَا قَضَى نَهْمَتَهُ فَلْيُعَجِّلْ إِلَى أَهْلِهِ
সফর আযাবের অংশ বিশেষ। তা তোমাদের যথাসময় পানাহার ও নিদ্রায় বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রত্যেকেই যেন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে আপন পরিজনের কাছে ফিরে আসে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৯০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯২৭]
এই হাদীস বিনা প্রয়োজনে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা ও প্রবাসে থাকার অপছন্দনীয়তা প্রমাণ করে। কারণ, একজন পুরুষ সফরে থাকাকালীন তার স্ত্রী-পরিজন ও সন্তানাদি কষ্টের থাকার বিষয়টি একেবারেই স্পষ্ট।
ইসমাইল হারাইছেন যখন তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হলেন, তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল- ‘কোন সফরে আযাবের একটা অংশ?’, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিয়েছিলেন- ‘কেননা, তাতে রয়েছে আপনজনদের বিচ্ছেদ-বিরহ।’
পরিবার-পরিজন ও সন্তানাদির পাশে পিতা বসল, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের প্রতি আদর-স্নেহ-ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, এতে করে তাদের মানসিক ও সহজাত আগ্রহের প্রতি সাড়া দেওয়া হয়। তাদের প্রতি যথাযথ কদর ও মর্যাদার প্রকাশ ঘটানো হয়।
অনেক ভাই দুনিয়াবী বিভিন্ন কাজে পরিবার থেকে দূরে থাকেন। অনেকে এমন সফরেও বের হন, যে সফরের কোনো প্রয়োজন নেই। এমনকি তার উপর্যুক্ত বিপদও আছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সফর ও পরিবার থেকে দূরে থাকা নিঃসন্দেহে বিভিন্ন সংকট, সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি করে। পিতা ও সন্তানদের এবং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ককে জটিল করে তুলে। বরং স্ত্রী থেকে দূরে থাকা সময়ের জন্য দূরে থাকা অনেক সময়ই স্ত্রীকে অটুট ও বিচ্যুতির পথে ঠেলে দেয়। বহু নারীর অন্যায় ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণ তাদের স্বামীরা দীর্ঘদিন তাদের থেকে দূরে থাকেন। তেমনই এক নারীর বক্তব্য- আমার স্বামী পাঁচ বছর যাবৎ সফরে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে আমি তাকে একবার চোখের দেখাও দেখতে পাইনি।
আরেকজনের বক্তব্য- আমার স্বামী বিগত দশ বছর যাবৎ আমার সঙ্গে মিলিত হন না।
আরেক বাহার! এগুলো কি বিবেকেরসম্মত কথা? মনে নেওয়ার মতো বিষয়?! অনেক মানুষ -আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন- সফরে বের হয় কিন্তু পরিবারে এমন কোনো মাল-সম্পদ রেখে যায় না, যা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ও ব্যয়ভার নির্বাহ করা যায়; কিংবা এমন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যায় না, যিনি তার অনুপস্থিতিতে তাদের দেখাশোনা করবে। আপনি কোনো কোনো পরিবারকে দেখবেন, যার কর্তা সফরে চলে গেছেন, কিন্তু তার ঘর ভাড়াশূন্য। অনেক সময় পান করার মতো পানিও থাকে না। পরিবারের ছোট্ট শিশু অসুস্থ হয়, কিন্তু তারা এমন কাউকে পায় না, যে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে। কখনও বা যুবতী নারীকে একাকীই মধ্যরাতে-গভীররাতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। রাস্তার অজানা-অচেনা গাড়িতে চড়তে হয়। অনেক সময় গাড়ির চালক হয় মানুষেরূপী হিংস্র হায়েনার অত্যন্ত কামনীয়- রাস্তায় ফাঁকা। প্রিয় পাঠক! এর পরের অংশ সম্পর্কে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করা না!
📄 বিনা প্রয়োজনে অধিকহারে দূরে না থাকা
আমাদের বর্তমান সমাজে ছড়িয়ে পড়া বহু অঘটন ও বিপর্যয়ের কারণ পরিবার থেকে পরিবারকর্তার দূরে থাকা।
प्रिय पाठक!
এভাবে আমরা কোথায় যেতে চাচ্ছি? আমরা কি সেখানেই যেতে চাচ্ছি, যেখানে গিয়েছে ইউরোপ-আমেরিকা? কাফের-মুশরিকরা? আমেরিকাতে সন্তানদের থেকে পিতার দূরে অবস্থান করাকে বড় বড় ও জাতীয় সমস্যার অন্যতম সমস্যা বলে মনে করা হয়। সেখানকার মাত্র ৫১% শিশু তাদের পিতার সাথে বসবাস করে। তা ছাড়া সে দেশে অবৈধ সম্পর্কের ফলে যে শিশুরা জন্মলাভ করে, তার সংখ্যা মোট শিশুর ৩০%। ‘উন্ম শ’ রাষ্ট্রের দশকে যেখানে তাদের দেশের ১৭% শিশু আপন পিতা থেকে দূরে থাকত, সেখানে মাত্র ত্রিশ বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮%-এ।
এ অবস্থা তাদের শিশুদের মনকে আবেগ-অনুভূতি ও কোমলতাশূন্য করে দিয়েছে; এ সকল ভুলে তাদের অন্তরে হিংসা জন্মানো করে দিয়েছে।
আমেরিকাতে শিশুযৌন নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেখানকার ৮৬%-এরও বেশি ধর্ষক শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।
এ দেশে প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ শিশু পিতা-মাতা কর্তৃক খুন হয়।
আমেরিকার এক নাগরিক দীর্ঘ ১২ বছরের গবেষণা করে অবশেষে একটি বই লিখেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ক্রোধ’। বইটিতে তিনি দেখিয়েছেন, আমেরিকাতে শিশুদের মধ্যে ক্রোধ, সহিংসতা, হতাশা, বিষণ্ণতা, একাকিত্ব, বিচ্ছিন্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা কীভাবে বংশপরম্পরায় চলে আসছে।
সেখানকার এক ব্যক্তি তার বইতে লিখেছেন, ‘আমরা আমেরিকী’ নামে। যে বই তাদের দেশে পিতামাতার অভিভাবকত্ব ও পতিবিহীন সন্তান সংখ্যা কথা জানানো হয়। সেখানকার শিশুরা এতিম; হয়তো মায়েরা সন্তানদের ছেড়ে চলে যায় অন্য কারও সাথে কিংবা পিতা ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন কাজে বা সফরে।
এই বইয়ের ভাষ্যমতে- সেখানকার পিতা-সন্তানের ফলগুলো বেশে পরিচয় ঘটে সন্তানদের থেকে পিতামাতার দূরে থাকার কারণে। মনোবিজ্ঞানীগণও জানিয়েছেন- একটি শিশুর পিতা যখন তার থেকে দূরে থাকে, তখন এক সময় শিশু কল্পনাশক্তি নিজে নিজে অনেক কিছুই ভাবতে শুরু করে। প্রথমেই তার মস্তিষ্কে একটি গর্তের উদয় ঘটে। যেখানে একটি শিশু আছে। তার সাথে তার পিতা নেই। পিতা ছেলের জন্য কোনো খেলনা কিনে আনেন। তাকে খেলতে দিচ্ছেন। তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছেন। ওদিকে শিশুর মনে বিভিন্ন দুশ্চিন্তার আনাগোনা চলতে থাকে। আর এভাবেই একটি একটি শিশু তার অভিভাবক শূন্যতার কল্পনায় পূর্ণ করার চেষ্টা করে। ফলশ্রুতিতে তার মাঝে বিভিন্ন মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানসিক বিচ্ছিন্নতা, বিকারগ্রস্ততা, অনুভূতিহীনতা ও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।
তদ্রুপ সন্তানের পিতা দূরে থাকা সন্তানদের সংস্খলিত অর্থাৎ অর্থ করে তোলে। বিভিন্ন অপরাধ ও মাদকের প্রতি আসক্ত বানিয়ে দেয়। জুলুম-অত্যাচার, বাড়াবাড়ি, যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ, খুন ও আত্মহত্যার মতো জঘন্য অপরাধে অভ্যস্ত করে তোলে। আমেরিকাতে অপরাধে তরুণ -যাদের বয়স ১৮ এর কম- তাদের হাতে নিহতদের সংখ্যা ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ ইং এর মধ্যে দ্বিগুণ হয়েছিল।
বছরে সেখানে ১২%-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সকলেই সন্তানদের থেকে পিতামাতার দূরে থাকার বলির; সন্তানদের প্রতি অবহেলা, উদাসীনতা ও সঠিক পরিচর্যাহীনতার শিকার। এর খেসারত তাদের দিতে হয়েছে এবং দিতে হচ্ছে রক্ত, মাংস ও সুস্থতা বিসর্জনের মাধ্যমে- দ্বীন থেকে দূরে থাকার কারণে।
प्रिय पाठक!
আমরাও কি আমাদের সন্তানদের জন্য এমনটাই পছন্দ করব?
অতএব, হে পিতসকল! ‘তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে [জাহান্নামের] আগুন থেকে রক্ষা কর' [সূরা তাহরীম : ৬] তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন ও দূরে অবস্থান করা থেকে বিরত থেকে।
আমাদের বর্তমান সমাজে ছড়িয়ে পড়া বহু অঘটন ও বিপর্যয়ের কারণ পরিবার থেকে পরিবারকর্তার দূরে থাকা।
प्रिय पाठक!
এভাবে আমরা কোথায় যেতে চাচ্ছি? আমরা কি সেখানেই যেতে চাচ্ছি, যেখানে গিয়েছে ইউরোপ-আমেরিকা? কাফের-মুশরিকরা? আমেরিকাতে সন্তানদের থেকে পিতার দূরে অবস্থান করাকে বড় বড় ও জাতীয় সমস্যার অন্যতম সমস্যা বলে মনে করা হয়। সেখানকার মাত্র ৫১% শিশু তাদের পিতার সাথে বসবাস করে। তা ছাড়া সে দেশে অবৈধ সম্পর্কের ফলে যে শিশুরা জন্মলাভ করে, তার সংখ্যা মোট শিশুর ৩০%। ‘উন্ম শ’ রাষ্ট্রের দশকে যেখানে তাদের দেশের ১৭% শিশু আপন পিতা থেকে দূরে থাকত, সেখানে মাত্র ত্রিশ বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮%-এ।
এ অবস্থা তাদের শিশুদের মনকে আবেগ-অনুভূতি ও কোমলতাশূন্য করে দিয়েছে; এ সকল ভুলে তাদের অন্তরে হিংসা জন্মানো করে দিয়েছে।
আমেরিকাতে শিশুযৌন নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেখানকার ৮৬%-এরও বেশি ধর্ষক শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।
এ দেশে প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ শিশু পিতা-মাতা কর্তৃক খুন হয়।
আমেরিকার এক নাগরিক দীর্ঘ ১২ বছরের গবেষণা করে অবশেষে একটি বই লিখেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ক্রোধ’। বইটিতে তিনি দেখিয়েছেন, আমেরিকাতে শিশুদের মধ্যে ক্রোধ, সহিংসতা, হতাশা, বিষণ্ণতা, একাকিত্ব, বিচ্ছিন্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা কীভাবে বংশপরম্পরায় চলে আসছে।
সেখানকার এক ব্যক্তি তার বইতে লিখেছেন, ‘আমরা আমেরিকী’ নামে। যে বই তাদের দেশে পিতামাতার অভিভাবকত্ব ও পতিবিহীন সন্তান সংখ্যা কথা জানানো হয়। সেখানকার শিশুরা এতিম; হয়তো মায়েরা সন্তানদের ছেড়ে চলে যায় অন্য কারও সাথে কিংবা পিতা ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন কাজে বা সফরে।
এই বইয়ের ভাষ্যমতে- সেখানকার পিতা-সন্তানের ফলগুলো বেশে পরিচয় ঘটে সন্তানদের থেকে পিতামাতার দূরে থাকার কারণে। মনোবিজ্ঞানীগণও জানিয়েছেন- একটি শিশুর পিতা যখন তার থেকে দূরে থাকে, তখন এক সময় শিশু কল্পনাশক্তি নিজে নিজে অনেক কিছুই ভাবতে শুরু করে। প্রথমেই তার মস্তিষ্কে একটি গর্তের উদয় ঘটে। যেখানে একটি শিশু আছে। তার সাথে তার পিতা নেই। পিতা ছেলের জন্য কোনো খেলনা কিনে আনেন। তাকে খেলতে দিচ্ছেন। তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছেন। ওদিকে শিশুর মনে বিভিন্ন দুশ্চিন্তার আনাগোনা চলতে থাকে। আর এভাবেই একটি একটি শিশু তার অভিভাবক শূন্যতার কল্পনায় পূর্ণ করার চেষ্টা করে। ফলশ্রুতিতে তার মাঝে বিভিন্ন মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানসিক বিচ্ছিন্নতা, বিকারগ্রস্ততা, অনুভূতিহীনতা ও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।
তদ্রুপ সন্তানের পিতা দূরে থাকা সন্তানদের সংস্খলিত অর্থাৎ অর্থ করে তোলে। বিভিন্ন অপরাধ ও মাদকের প্রতি আসক্ত বানিয়ে দেয়। জুলুম-অত্যাচার, বাড়াবাড়ি, যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ, খুন ও আত্মহত্যার মতো জঘন্য অপরাধে অভ্যস্ত করে তোলে। আমেরিকাতে অপরাধে তরুণ -যাদের বয়স ১৮ এর কম- তাদের হাতে নিহতদের সংখ্যা ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ ইং এর মধ্যে দ্বিগুণ হয়েছিল।
বছরে সেখানে ১২%-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সকলেই সন্তানদের থেকে পিতামাতার দূরে থাকার বলির; সন্তানদের প্রতি অবহেলা, উদাসীনতা ও সঠিক পরিচর্যাহীনতার শিকার। এর খেসারত তাদের দিতে হয়েছে এবং দিতে হচ্ছে রক্ত, মাংস ও সুস্থতা বিসর্জনের মাধ্যমে- দ্বীন থেকে দূরে থাকার কারণে।
प्रिय पाठक!
আমরাও কি আমাদের সন্তানদের জন্য এমনটাই পছন্দ করব?
অতএব, হে পিতসকল! ‘তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে [জাহান্নামের] আগুন থেকে রক্ষা কর' [সূরা তাহরীম : ৬] তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন ও দূরে অবস্থান করা থেকে বিরত থেকে।
আমাদের বর্তমান সমাজে ছড়িয়ে পড়া বহু অঘটন ও বিপর্যয়ের কারণ পরিবার থেকে পরিবারকর্তার দূরে থাকা।
प्रिय पाठक!
এভাবে আমরা কোথায় যেতে চাচ্ছি? আমরা কি সেখানেই যেতে চাচ্ছি, যেখানে গিয়েছে ইউরোপ-আমেরিকা? কাফের-মুশরিকরা? আমেরিকাতে সন্তানদের থেকে পিতার দূরে অবস্থান করাকে বড় বড় ও জাতীয় সমস্যার অন্যতম সমস্যা বলে মনে করা হয়। সেখানকার মাত্র ৫১% শিশু তাদের পিতার সাথে বসবাস করে। তা ছাড়া সে দেশে অবৈধ সম্পর্কের ফলে যে শিশুরা জন্মলাভ করে, তার সংখ্যা মোট শিশুর ৩০%। ‘উন্ম শ’ রাষ্ট্রের দশকে যেখানে তাদের দেশের ১৭% শিশু আপন পিতা থেকে দূরে থাকত, সেখানে মাত্র ত্রিশ বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮%-এ।
এ অবস্থা তাদের শিশুদের মনকে আবেগ-অনুভূতি ও কোমলতাশূন্য করে দিয়েছে; এ সকল ভুলে তাদের অন্তরে হিংসা জন্মানো করে দিয়েছে।
আমেরিকাতে শিশুযৌন নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেখানকার ৮৬%-এরও বেশি ধর্ষক শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।
এ দেশে প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ শিশু পিতা-মাতা কর্তৃক খুন হয়।
আমেরিকার এক নাগরিক দীর্ঘ ১২ বছরের গবেষণা করে অবশেষে একটি বই লিখেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ক্রোধ’। বইটিতে তিনি দেখিয়েছেন, আমেরিকাতে শিশুদের মধ্যে ক্রোধ, সহিংসতা, হতাশা, বিষণ্ণতা, একাকিত্ব, বিচ্ছিন্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা কীভাবে বংশপরম্পরায় চলে আসছে।
সেখানকার এক ব্যক্তি তার বইতে লিখেছেন, ‘আমরা আমেরিকী’ নামে। যে বই তাদের দেশে পিতামাতার অভিভাবকত্ব ও পতিবিহীন সন্তান সংখ্যা কথা জানানো হয়। সেখানকার শিশুরা এতিম; হয়তো মায়েরা সন্তানদের ছেড়ে চলে যায় অন্য কারও সাথে কিংবা পিতা ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন কাজে বা সফরে।
এই বইয়ের ভাষ্যমতে- সেখানকার পিতা-সন্তানের ফলগুলো বেশে পরিচয় ঘটে সন্তানদের থেকে পিতামাতার দূরে থাকার কারণে। মনোবিজ্ঞানীগণও জানিয়েছেন- একটি শিশুর পিতা যখন তার থেকে দূরে থাকে, তখন এক সময় শিশু কল্পনাশক্তি নিজে নিজে অনেক কিছুই ভাবতে শুরু করে। প্রথমেই তার মস্তিষ্কে একটি গর্তের উদয় ঘটে। যেখানে একটি শিশু আছে। তার সাথে তার পিতা নেই। পিতা ছেলের জন্য কোনো খেলনা কিনে আনেন। তাকে খেলতে দিচ্ছেন। তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছেন। ওদিকে শিশুর মনে বিভিন্ন দুশ্চিন্তার আনাগোনা চলতে থাকে। আর এভাবেই একটি একটি শিশু তার অভিভাবক শূন্যতার কল্পনায় পূর্ণ করার চেষ্টা করে। ফলশ্রুতিতে তার মাঝে বিভিন্ন মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মানসিক বিচ্ছিন্নতা, বিকারগ্রস্ততা, অনুভূতিহীনতা ও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।
তদ্রুপ সন্তানের পিতা দূরে থাকা সন্তানদের সংস্খলিত অর্থাৎ অর্থ করে তোলে। বিভিন্ন অপরাধ ও মাদকের প্রতি আসক্ত বানিয়ে দেয়। জুলুম-অত্যাচার, বাড়াবাড়ি, যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ, খুন ও আত্মহত্যার মতো জঘন্য অপরাধে অভ্যস্ত করে তোলে। আমেরিকাতে অপরাধে তরুণ -যাদের বয়স ১৮ এর কম- তাদের হাতে নিহতদের সংখ্যা ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ ইং এর মধ্যে দ্বিগুণ হয়েছিল।
বছরে সেখানে ১২%-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সকলেই সন্তানদের থেকে পিতামাতার দূরে থাকার বলির; সন্তানদের প্রতি অবহেলা, উদাসীনতা ও সঠিক পরিচর্যাহীনতার শিকার। এর খেসারত তাদের দিতে হয়েছে এবং দিতে হচ্ছে রক্ত, মাংস ও সুস্থতা বিসর্জনের মাধ্যমে- দ্বীন থেকে দূরে থাকার কারণে।
प्रिय पाठक!
আমরাও কি আমাদের সন্তানদের জন্য এমনটাই পছন্দ করব?
অতএব, হে পিতসকল! ‘তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে [জাহান্নামের] আগুন থেকে রক্ষা কর' [সূরা তাহরীম : ৬] তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন ও দূরে অবস্থান করা থেকে বিরত থেকে।