📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 পরিবারের জন্য খরচ করা

📄 পরিবারের জন্য খরচ করা


ইসলামী শরীয়ত পুরুষের জন্য পরিবারের ব্যাপারে বহু জন ও শিষ্টাচার প্রণয়ন করেছে। সেসব শিষ্টাচার রক্ষা করা চলা আবশ্যক। উদাহরণস্বরূপ—
কোনো পুরুষ যখন স্ত্রী গমন করবে, তার জন্য মু’স্তাহাব দোয়া পড়া উচিত। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন—
لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَقُضِيَ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ لَمْ يَضُرَّهُ

তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে যদি বলে- بِاسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا [আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাদের দান করতে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখ] তারপর [এ মিলনের মাধ্যমে] তাদের কোনো সন্তান থাকলে শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। [বুখারী, হাদীস নং ১৪১, মুসলিম, হাদীস নং ১৪৩৪]
শরীয়তের পক্ষ থেকে স্ত্রীর প্রতি একটি হক হচ্ছে- স্বামী দূরে কোথাও সফরে গেলে ফেরার সময় স্ত্রীর পূর্ব-অবগতিব্যতীত অতর্কিত রাতের বেলায় তার ঘরের কড়া নাড়বে না। যেমন, হযরত জাবের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন—
نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَطْرُقَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ لَيْلًا

রাসূলুল্লাহ ﷺ কোনো পুরুষকে বেলায় অতর্কিত তার স্ত্রীর ঘরে ফিরতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮০১, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০৭১, ভাষ্য মুসলিমের]
অর্থাৎ কোনো পুরুষ যখন কোথাও সফরে যাবে এবং স্ত্রী থেকে দূরে থাকবে, অতঃপর সফর থেকে নিজ শহরে রাতের বেলায় ফিরে আসবে, তখন সে তাৎক্ষণিকভাবে স্ত্রীর কাছে গিয়ে হাজির হবে না। বরং প্রথমে কারও মাধ্যমে [ফেরার কোনো উপায়ে] স্ত্রীর কাছে তার আগমনের বার্তা পাঠাবে। যাতে স্ত্রী তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য প্রস্তুত গ্রহণ করতে পারে এবং নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে পারে।
যেমন, জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
إِذَا دَخَلْتَ لَيْلًا فَلَا تَدْخُلْ عَلَى أَهْلِكَ حَتَّى تَسْتَحِدَّ الْمُغِيبَةُ وَتَمْتَشِطَ الشَّعْثَةُ

সফর থেকে রাতে ফিরে এসে এসে গৃহে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রী ক্ষৌরকার্য করে নিতে পারে এবং এলোকেশী স্ত্রী চিরুনি করে নিতে পারে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২৪৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭১৫]
অতএব, পরিবার দেখবে, পুরুষ লোকটি শরয়ী আদব ও শিষ্টাচারের প্রতি অনুরাগী ও যত্নশীল, তখন তারাও তাকে শরয়ী আদবের প্রতি অনুরাগী ও যত্নশীল উৎসাহিত করবে। আর এটি পরিবারকে জাহান্নাম থেকে রক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর একটি মাধ্যম।

ইসলামী শরীয়ত পুরুষের জন্য পরিবারের ব্যাপারে বহু জন ও শিষ্টাচার প্রণয়ন করেছে। সেসব শিষ্টাচার রক্ষা করা চলা আবশ্যক। উদাহরণস্বরূপ—
কোনো পুরুষ যখন স্ত্রী গমন করবে, তার জন্য মু’স্তাহাব দোয়া পড়া উচিত। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন—
لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَقُضِيَ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ لَمْ يَضُرَّهُ

তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে যদি বলে- بِاسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا [আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাদের দান করতে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখ] তারপর [এ মিলনের মাধ্যমে] তাদের কোনো সন্তান থাকলে শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। [বুখারী, হাদীস নং ১৪১, মুসলিম, হাদীস নং ১৪৩৪]
শরীয়তের পক্ষ থেকে স্ত্রীর প্রতি একটি হক হচ্ছে- স্বামী দূরে কোথাও সফরে গেলে ফেরার সময় স্ত্রীর পূর্ব-অবগতিব্যতীত অতর্কিত রাতের বেলায় তার ঘরের কড়া নাড়বে না। যেমন, হযরত জাবের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন—
نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَطْرُقَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ لَيْلًا

রাসূলুল্লাহ ﷺ কোনো পুরুষকে বেলায় অতর্কিত তার স্ত্রীর ঘরে ফিরতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮০১, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০৭১, ভাষ্য মুসলিমের]
অর্থাৎ কোনো পুরুষ যখন কোথাও সফরে যাবে এবং স্ত্রী থেকে দূরে থাকবে, অতঃপর সফর থেকে নিজ শহরে রাতের বেলায় ফিরে আসবে, তখন সে তাৎক্ষণিকভাবে স্ত্রীর কাছে গিয়ে হাজির হবে না। বরং প্রথমে কারও মাধ্যমে [ফেরার কোনো উপায়ে] স্ত্রীর কাছে তার আগমনের বার্তা পাঠাবে। যাতে স্ত্রী তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য প্রস্তুত গ্রহণ করতে পারে এবং নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে পারে।
যেমন, জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
إِذَا دَخَلْتَ لَيْلًا فَلَا تَدْخُلْ عَلَى أَهْلِكَ حَتَّى تَسْتَحِدَّ الْمُغِيبَةُ وَتَمْتَشِطَ الشَّعْثَةُ

সফর থেকে রাতে ফিরে এসে এসে গৃহে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রী ক্ষৌরকার্য করে নিতে পারে এবং এলোকেশী স্ত্রী চিরুনি করে নিতে পারে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২৪৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭১৫]
অতএব, পরিবার দেখবে, পুরুষ লোকটি শরয়ী আদব ও শিষ্টাচারের প্রতি অনুরাগী ও যত্নশীল, তখন তারাও তাকে শরয়ী আদবের প্রতি অনুরাগী ও যত্নশীল উৎসাহিত করবে। আর এটি পরিবারকে জাহান্নাম থেকে রক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর একটি মাধ্যম।

ইসলামী শরীয়ত পুরুষের জন্য পরিবারের ব্যাপারে বহু জন ও শিষ্টাচার প্রণয়ন করেছে। সেসব শিষ্টাচার রক্ষা করা চলা আবশ্যক। উদাহরণস্বরূপ—
কোনো পুরুষ যখন স্ত্রী গমন করবে, তার জন্য মু’স্তাহাব দোয়া পড়া উচিত। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন—
لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَقُضِيَ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ لَمْ يَضُرَّهُ

তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে যদি বলে- بِاسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا [আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাদের দান করতে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখ] তারপর [এ মিলনের মাধ্যমে] তাদের কোনো সন্তান থাকলে শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। [বুখারী, হাদীস নং ১৪১, মুসলিম, হাদীস নং ১৪৩৪]
শরীয়তের পক্ষ থেকে স্ত্রীর প্রতি একটি হক হচ্ছে- স্বামী দূরে কোথাও সফরে গেলে ফেরার সময় স্ত্রীর পূর্ব-অবগতিব্যতীত অতর্কিত রাতের বেলায় তার ঘরের কড়া নাড়বে না। যেমন, হযরত জাবের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন—
نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَطْرُقَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ لَيْلًا

রাসূলুল্লাহ ﷺ কোনো পুরুষকে বেলায় অতর্কিত তার স্ত্রীর ঘরে ফিরতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮০১, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০৭১, ভাষ্য মুসলিমের]
অর্থাৎ কোনো পুরুষ যখন কোথাও সফরে যাবে এবং স্ত্রী থেকে দূরে থাকবে, অতঃপর সফর থেকে নিজ শহরে রাতের বেলায় ফিরে আসবে, তখন সে তাৎক্ষণিকভাবে স্ত্রীর কাছে গিয়ে হাজির হবে না। বরং প্রথমে কারও মাধ্যমে [ফেরার কোনো উপায়ে] স্ত্রীর কাছে তার আগমনের বার্তা পাঠাবে। যাতে স্ত্রী তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য প্রস্তুত গ্রহণ করতে পারে এবং নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে পারে।
যেমন, জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
إِذَا دَخَلْتَ لَيْلًا فَلَا تَدْخُلْ عَلَى أَهْلِكَ حَتَّى تَسْتَحِدَّ الْمُغِيبَةُ وَتَمْتَشِطَ الشَّعْثَةُ

সফর থেকে রাতে ফিরে এসে এসে গৃহে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রী ক্ষৌরকার্য করে নিতে পারে এবং এলোকেশী স্ত্রী চিরুনি করে নিতে পারে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২৪৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭১৫]
অতএব, পরিবার দেখবে, পুরুষ লোকটি শরয়ী আদব ও শিষ্টাচারের প্রতি অনুরাগী ও যত্নশীল, তখন তারাও তাকে শরয়ী আদবের প্রতি অনুরাগী ও যত্নশীল উৎসাহিত করবে। আর এটি পরিবারকে জাহান্নাম থেকে রক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর একটি মাধ্যম।

📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 শরীয়ী আদব ও শিষ্টাচার রক্ষা করা

📄 শরীয়ী আদব ও শিষ্টাচার রক্ষা করা


পরিবারের একটি হক হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ, হাস্য-রসিকতা ও বিনোদন করা।
যেমন, আয়েশা সিদ্দীকা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন—
كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ

আমি পানি পান করে সে পাত্র রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। আমার মুখ লাগানো স্থানে তিনি তাঁর মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন। আমি হাড় থেকে গোশত কামড়ে খেতাম। তারপর তা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। অথচ আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। তিনি আমার মুখ লাগানো স্থানে তাঁর মুখ লাগাতেন। [মুসলিম, হাদীস নং ৩০০]
আয়েশা থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে তিনি বলেন—
أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ

তিনি এক সফরে নবীজী ﷺ-র সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম। এবার তিনি আমাকে পিছনে ফেলে দিলেন; বিজয়ী হয়ে গেলেন। তখন তিনি বললেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৭৮]
নবীজী ﷺ ছোটদের সঙ্গেও রসিকতা করতেন, কৌতুক করতেন। যেমন, আনাস থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺযাইনব বিনতে উম্মে সালামার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। নবীজী তাকে দেখতেন বলতেন- ‘হে যাইনব! হে যুইনাইব!’ এভাবে একাধিকবার বলতেন। [আল মুজামুল ফীযিয়াহ লিয যিয়া : ২/৪৫]
আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজী একদিন উম্মে সুলাইমের ঘরে প্রবেশ করলেন। উম্মে সুলাইমের একটি ছেলে ছিল তার ভাইয়ের ঔরস থেকে। তাকে আবু উমাইর বলে ডাকা হত। নবীজী তার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। সেদিন নবী প্রবেশ করলেন, আবু উমাইর পেরেশান অবস্থায় বসে আছে। তখন নবীজী বললেন, আবু উমাইর, কী হয়েছে, তাকে পেরেশান দেখছি?! নবীজীকে জানানো হল, তার পাখিটি মারা গেছে; যাকে নিয়ে সে খেলা করত। তিনি [আনাস ] বলেন, এরপর নবীজী বলতে লাগলেন- হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১২৯৮০]
[টীকা- এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে মুসলিমের ভাষ্য অনুযায়ী আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের মাঝে চরিত্রের সর্বোত্তম ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল, তাকে আবু উমাইর বলে সম্বোধন করা হত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি অনুমান করি, তিনি বলেছিলেন যে, সে দুধ ছাড়ানো বয়সের ছিল। রাসূলুল্লাহ যখনই [আমাদের ঘরে] আসতেন, তখন তাকে দেখে বলতেন, হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? এ কথা বলে তিনি তার সঙ্গে খেলা করতেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৫০]
এই হাদীসের ফায়দাসমূহ বর্ণনা করে একটি কিতাবই লিখে ফেলেছেন শায়েখ মায়াহের বিখ্যাত ফকীহ ইবনু আব্দ আহমাদ আত-তাবারী । সেখানে তিনি এই হাদীসের ফায়দাসমূহের মধ্যে এ ফায়দাটিও কোথাও উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন ‘রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন।’
আমাদের এ আলোচনার উদ্দেশ্য এই যে, একজন মানুষ সর্বক্ষণ কৌতূহলাবস্থায় হয় যাপন কিংবা হায্য-রসিকতা ও কৌতুককে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে নিবেন। এটা ভুল। কেননা, অতিমাত্রায় হায্য-রসিকতা করার মাঝে ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব ও গাম্ভীর্য কমিয়ে দেয়। যত্র, পরিবার-পরিজনের কাছে কদর কমিয়ে দেয়। তবে যেটা বলতে চাই, তা হচ্ছে- একজন মানুষ বাইরে যতটা সদলাপী ও হাস্য-রসিকতাকারী হন, তিনি তার চেয়ে বেশি সদলাপী ও রসিকতাকারী হবেন।

পরিবারের একটি হক হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ, হাস্য-রসিকতা ও বিনোদন করা।
যেমন, আয়েশা সিদ্দীকা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন—
كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ

আমি পানি পান করে সে পাত্র রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। আমার মুখ লাগানো স্থানে তিনি তাঁর মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন। আমি হাড় থেকে গোশত কামড়ে খেতাম। তারপর তা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। অথচ আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। তিনি আমার মুখ লাগানো স্থানে তাঁর মুখ লাগাতেন। [মুসলিম, হাদীস নং ৩০০]
আয়েশা থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে তিনি বলেন—
أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ

তিনি এক সফরে নবীজী ﷺ-র সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম। এবার তিনি আমাকে পিছনে ফেলে দিলেন; বিজয়ী হয়ে গেলেন। তখন তিনি বললেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৭৮]
নবীজী ﷺ ছোটদের সঙ্গেও রসিকতা করতেন, কৌতুক করতেন। যেমন, আনাস থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺযাইনব বিনতে উম্মে সালামার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। নবীজী তাকে দেখতেন বলতেন- ‘হে যাইনব! হে যুইনাইব!’ এভাবে একাধিকবার বলতেন। [আল মুজামুল ফীযিয়াহ লিয যিয়া : ২/৪৫]
আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজী একদিন উম্মে সুলাইমের ঘরে প্রবেশ করলেন। উম্মে সুলাইমের একটি ছেলে ছিল তার ভাইয়ের ঔরস থেকে। তাকে আবু উমাইর বলে ডাকা হত। নবীজী তার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। সেদিন নবী প্রবেশ করলেন, আবু উমাইর পেরেশান অবস্থায় বসে আছে। তখন নবীজী বললেন, আবু উমাইর, কী হয়েছে, তাকে পেরেশান দেখছি?! নবীজীকে জানানো হল, তার পাখিটি মারা গেছে; যাকে নিয়ে সে খেলা করত। তিনি [আনাস ] বলেন, এরপর নবীজী বলতে লাগলেন- হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১২৯৮০]
[টীকা- এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে মুসলিমের ভাষ্য অনুযায়ী আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের মাঝে চরিত্রের সর্বোত্তম ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল, তাকে আবু উমাইর বলে সম্বোধন করা হত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি অনুমান করি, তিনি বলেছিলেন যে, সে দুধ ছাড়ানো বয়সের ছিল। রাসূলুল্লাহ যখনই [আমাদের ঘরে] আসতেন, তখন তাকে দেখে বলতেন, হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? এ কথা বলে তিনি তার সঙ্গে খেলা করতেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৫০]
এই হাদীসের ফায়দাসমূহ বর্ণনা করে একটি কিতাবই লিখে ফেলেছেন শায়েখ মায়াহের বিখ্যাত ফকীহ ইবনু আব্দ আহমাদ আত-তাবারী । সেখানে তিনি এই হাদীসের ফায়দাসমূহের মধ্যে এ ফায়দাটিও কোথাও উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন ‘রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন।’
আমাদের এ আলোচনার উদ্দেশ্য এই যে, একজন মানুষ সর্বক্ষণ কৌতূহলাবস্থায় হয় যাপন কিংবা হায্য-রসিকতা ও কৌতুককে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে নিবেন। এটা ভুল। কেননা, অতিমাত্রায় হায্য-রসিকতা করার মাঝে ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব ও গাম্ভীর্য কমিয়ে দেয়। যত্র, পরিবার-পরিজনের কাছে কদর কমিয়ে দেয়। তবে যেটা বলতে চাই, তা হচ্ছে- একজন মানুষ বাইরে যতটা সদলাপী ও হাস্য-রসিকতাকারী হন, তিনি তার চেয়ে বেশি সদলাপী ও রসিকতাকারী হবেন।

পরিবারের একটি হক হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ, হাস্য-রসিকতা ও বিনোদন করা।
যেমন, আয়েশা সিদ্দীকা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন—
كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ

আমি পানি পান করে সে পাত্র রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। আমার মুখ লাগানো স্থানে তিনি তাঁর মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন। আমি হাড় থেকে গোশত কামড়ে খেতাম। তারপর তা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দিতাম। অথচ আমি তখন ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। তিনি আমার মুখ লাগানো স্থানে তাঁর মুখ লাগাতেন। [মুসলিম, হাদীস নং ৩০০]
আয়েশা থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে তিনি বলেন—
أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ

তিনি এক সফরে নবীজী ﷺ-র সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম। এবার তিনি আমাকে পিছনে ফেলে দিলেন; বিজয়ী হয়ে গেলেন। তখন তিনি বললেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৭৮]
নবীজী ﷺ ছোটদের সঙ্গেও রসিকতা করতেন, কৌতুক করতেন। যেমন, আনাস থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺযাইনব বিনতে উম্মে সালামার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। নবীজী তাকে দেখতেন বলতেন- ‘হে যাইনব! হে যুইনাইব!’ এভাবে একাধিকবার বলতেন। [আল মুজামুল ফীযিয়াহ লিয যিয়া : ২/৪৫]
আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজী একদিন উম্মে সুলাইমের ঘরে প্রবেশ করলেন। উম্মে সুলাইমের একটি ছেলে ছিল তার ভাইয়ের ঔরস থেকে। তাকে আবু উমাইর বলে ডাকা হত। নবীজী তার সাথে হাস্য-রসিকতা করতেন। সেদিন নবী প্রবেশ করলেন, আবু উমাইর পেরেশান অবস্থায় বসে আছে। তখন নবীজী বললেন, আবু উমাইর, কী হয়েছে, তাকে পেরেশান দেখছি?! নবীজীকে জানানো হল, তার পাখিটি মারা গেছে; যাকে নিয়ে সে খেলা করত। তিনি [আনাস ] বলেন, এরপর নবীজী বলতে লাগলেন- হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১২৯৮০]
[টীকা- এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে মুসলিমের ভাষ্য অনুযায়ী আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের মাঝে চরিত্রের সর্বোত্তম ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল, তাকে আবু উমাইর বলে সম্বোধন করা হত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি অনুমান করি, তিনি বলেছিলেন যে, সে দুধ ছাড়ানো বয়সের ছিল। রাসূলুল্লাহ যখনই [আমাদের ঘরে] আসতেন, তখন তাকে দেখে বলতেন, হে আবু উমাইর! কী করেছে [তোমার] নুগাইর [ছোট্ট পাখি]? এ কথা বলে তিনি তার সঙ্গে খেলা করতেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৫০]
এই হাদীসের ফায়দাসমূহ বর্ণনা করে একটি কিতাবই লিখে ফেলেছেন শায়েখ মায়াহের বিখ্যাত ফকীহ ইবনু আব্দ আহমাদ আত-তাবারী । সেখানে তিনি এই হাদীসের ফায়দাসমূহের মধ্যে এ ফায়দাটিও কোথাও উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন ‘রাসূলুল্লাহ তার কাছে তার সঙ্গে রসিকতা করতেন।’
আমাদের এ আলোচনার উদ্দেশ্য এই যে, একজন মানুষ সর্বক্ষণ কৌতূহলাবস্থায় হয় যাপন কিংবা হায্য-রসিকতা ও কৌতুককে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে নিবেন। এটা ভুল। কেননা, অতিমাত্রায় হায্য-রসিকতা করার মাঝে ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব ও গাম্ভীর্য কমিয়ে দেয়। যত্র, পরিবার-পরিজনের কাছে কদর কমিয়ে দেয়। তবে যেটা বলতে চাই, তা হচ্ছে- একজন মানুষ বাইরে যতটা সদলাপী ও হাস্য-রসিকতাকারী হন, তিনি তার চেয়ে বেশি সদলাপী ও রসিকতাকারী হবেন।

📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 আমোদ-প্রমোদ ও হাস্য-রসিকতা করা

📄 আমোদ-প্রমোদ ও হাস্য-রসিকতা করা


নবীজী ﷺ রাতে ঘুমানোর পূর্বে পবিত্র স্ত্রীদের সঙ্গে গল্প করতেন। যেমন, আয়েশা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ [সফরকালে] রাতের বেলায় তাঁর সাথে [আয়েশা -র সাথে] একযোগে হওয়ার হোন এবং তাঁর সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯১৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৪৫]
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবীজী রাতের বেলায় ঘুমানোর পূর্বে পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫৬৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৩]
এ থেকে উলামায়ে কেরাম রাতের বেলায় স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর গল্প ও গল্প করার বৈধতা প্রমাণ করেন। এমনকি ইমাম বুখারী তার সহীহ বুখারীতে একটি অধ্যায়ই কায়েম করেছেন ‘পরিবার-পরিজন ও মেহমানদের সাথে রাতে কথাবার্তা বলা’ নামে।
স্ত্রীদের কথোপকথন ও গল্প নিশ্চয়ই তাদের মনে আনন্দ জোগায়। তা ছাড়া এর মাধ্যমে তারা অনুভব করে যে, গৃহকর্তার কাছে তাদের কদর আছে। মনে রাখবেন, পুরুষরা যেমন নারীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে আগ্রহী, তেমন নারীরাও পুরুষদের সঙ্গে কথাবার্তা বলায় আগ্রহী। অতএব, একজন পুরুষ যখন নিজ মানসিক চাহিদার এই দিকটিতে সাড়া দিবেন, তখন স্ত্রীর আর অন্য কারও প্রতি মন দিবেন না; কারও প্রতি মনোযোগী হবে না। আর এভাবেই একজন স্বামী জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকল্পে তার স্ত্রীর সামনে একটি প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করে দিতে পারেন।

নবীজী ﷺ রাতে ঘুমানোর পূর্বে পবিত্র স্ত্রীদের সঙ্গে গল্প করতেন। যেমন, আয়েশা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ [সফরকালে] রাতের বেলায় তাঁর সাথে [আয়েশা -র সাথে] একযোগে হওয়ার হোন এবং তাঁর সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯১৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৪৫]
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবীজী রাতের বেলায় ঘুমানোর পূর্বে পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫৬৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৩]
এ থেকে উলামায়ে কেরাম রাতের বেলায় স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর গল্প ও গল্প করার বৈধতা প্রমাণ করেন। এমনকি ইমাম বুখারী তার সহীহ বুখারীতে একটি অধ্যায়ই কায়েম করেছেন ‘পরিবার-পরিজন ও মেহমানদের সাথে রাতে কথাবার্তা বলা’ নামে।
স্ত্রীদের কথোপকথন ও গল্প নিশ্চয়ই তাদের মনে আনন্দ জোগায়। তা ছাড়া এর মাধ্যমে তারা অনুভব করে যে, গৃহকর্তার কাছে তাদের কদর আছে। মনে রাখবেন, পুরুষরা যেমন নারীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে আগ্রহী, তেমন নারীরাও পুরুষদের সঙ্গে কথাবার্তা বলায় আগ্রহী। অতএব, একজন পুরুষ যখন নিজ মানসিক চাহিদার এই দিকটিতে সাড়া দিবেন, তখন স্ত্রীর আর অন্য কারও প্রতি মন দিবেন না; কারও প্রতি মনোযোগী হবে না। আর এভাবেই একজন স্বামী জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকল্পে তার স্ত্রীর সামনে একটি প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করে দিতে পারেন।

নবীজী ﷺ রাতে ঘুমানোর পূর্বে পবিত্র স্ত্রীদের সঙ্গে গল্প করতেন। যেমন, আয়েশা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ [সফরকালে] রাতের বেলায় তাঁর সাথে [আয়েশা -র সাথে] একযোগে হওয়ার হোন এবং তাঁর সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯১৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৪৫]
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবীজী রাতের বেলায় ঘুমানোর পূর্বে পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫৬৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৩]
এ থেকে উলামায়ে কেরাম রাতের বেলায় স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর গল্প ও গল্প করার বৈধতা প্রমাণ করেন। এমনকি ইমাম বুখারী তার সহীহ বুখারীতে একটি অধ্যায়ই কায়েম করেছেন ‘পরিবার-পরিজন ও মেহমানদের সাথে রাতে কথাবার্তা বলা’ নামে।
স্ত্রীদের কথোপকথন ও গল্প নিশ্চয়ই তাদের মনে আনন্দ জোগায়। তা ছাড়া এর মাধ্যমে তারা অনুভব করে যে, গৃহকর্তার কাছে তাদের কদর আছে। মনে রাখবেন, পুরুষরা যেমন নারীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে আগ্রহী, তেমন নারীরাও পুরুষদের সঙ্গে কথাবার্তা বলায় আগ্রহী। অতএব, একজন পুরুষ যখন নিজ মানসিক চাহিদার এই দিকটিতে সাড়া দিবেন, তখন স্ত্রীর আর অন্য কারও প্রতি মন দিবেন না; কারও প্রতি মনোযোগী হবে না। আর এভাবেই একজন স্বামী জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকল্পে তার স্ত্রীর সামনে একটি প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করে দিতে পারেন।

📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 পরিবারের সঙ্গে নেশ আলাপ

📄 পরিবারের সঙ্গে নেশ আলাপ


ইসলামী শরীয়ত ব্যক্তির উপর তার পরিবারের যেসকল হক আরোপ করেছে, তার একটি হচ্ছে- কোনো কারণ ছাড়া ছয় মাস সময় পরিবার থেকে দূরে না থাকা; কোনো প্রয়োজন ছাড়া ছাড়া তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকা। কেউ কোনো প্রয়োজনে সফরে গেলে, যখনই সফরের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, তখনই ফিরে আসবে। আমাদের নবীজী ﷺ-র পক্ষ থেকে এমন আদেশই করা হয়েছে। যেমন, এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে—
السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَنَوْمَهُ فَإِذَا قَضَى نَهْمَتَهُ فَلْيُعَجِّلْ إِلَى أَهْلِهِ

সফর আযাবের অংশ বিশেষ। তা তোমাদের যথাসময় পানাহার ও নিদ্রায় বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রত্যেকেই যেন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে আপন পরিজনের কাছে ফিরে আসে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৯০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯২৭]
এই হাদীস বিনা প্রয়োজনে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা ও প্রবাসে থাকার অপছন্দনীয়তা প্রমাণ করে। কারণ, একজন পুরুষ সফরে থাকাকালীন তার স্ত্রী-পরিজন ও সন্তানাদি কষ্টের থাকার বিষয়টি একেবারেই স্পষ্ট।
ইসমাইল হারাইছেন যখন তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হলেন, তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল- ‘কোন সফরে আযাবের একটা অংশ?’, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিয়েছিলেন- ‘কেননা, তাতে রয়েছে আপনজনদের বিচ্ছেদ-বিরহ।’
পরিবার-পরিজন ও সন্তানাদির পাশে পিতা বসল, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের প্রতি আদর-স্নেহ-ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, এতে করে তাদের মানসিক ও সহজাত আগ্রহের প্রতি সাড়া দেওয়া হয়। তাদের প্রতি যথাযথ কদর ও মর্যাদার প্রকাশ ঘটানো হয়।
অনেক ভাই দুনিয়াবী বিভিন্ন কাজে পরিবার থেকে দূরে থাকেন। অনেকে এমন সফরেও বের হন, যে সফরের কোনো প্রয়োজন নেই। এমনকি তার উপর্যুক্ত বিপদও আছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সফর ও পরিবার থেকে দূরে থাকা নিঃসন্দেহে বিভিন্ন সংকট, সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি করে। পিতা ও সন্তানদের এবং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ককে জটিল করে তুলে। বরং স্ত্রী থেকে দূরে থাকা সময়ের জন্য দূরে থাকা অনেক সময়ই স্ত্রীকে অটুট ও বিচ্যুতির পথে ঠেলে দেয়। বহু নারীর অন্যায় ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণ তাদের স্বামীরা দীর্ঘদিন তাদের থেকে দূরে থাকেন। তেমনই এক নারীর বক্তব্য- আমার স্বামী পাঁচ বছর যাবৎ সফরে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে আমি তাকে একবার চোখের দেখাও দেখতে পাইনি।
আরেকজনের বক্তব্য- আমার স্বামী বিগত দশ বছর যাবৎ আমার সঙ্গে মিলিত হন না।
আরেক বাহার! এগুলো কি বিবেকেরসম্মত কথা? মনে নেওয়ার মতো বিষয়?! অনেক মানুষ -আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন- সফরে বের হয় কিন্তু পরিবারে এমন কোনো মাল-সম্পদ রেখে যায় না, যা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ও ব্যয়ভার নির্বাহ করা যায়; কিংবা এমন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যায় না, যিনি তার অনুপস্থিতিতে তাদের দেখাশোনা করবে। আপনি কোনো কোনো পরিবারকে দেখবেন, যার কর্তা সফরে চলে গেছেন, কিন্তু তার ঘর ভাড়াশূন্য। অনেক সময় পান করার মতো পানিও থাকে না। পরিবারের ছোট্ট শিশু অসুস্থ হয়, কিন্তু তারা এমন কাউকে পায় না, যে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে। কখনও বা যুবতী নারীকে একাকীই মধ্যরাতে-গভীররাতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। রাস্তার অজানা-অচেনা গাড়িতে চড়তে হয়। অনেক সময় গাড়ির চালক হয় মানুষেরূপী হিংস্র হায়েনার অত্যন্ত কামনীয়- রাস্তায় ফাঁকা। প্রিয় পাঠক! এর পরের অংশ সম্পর্কে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করা না!

ইসলামী শরীয়ত ব্যক্তির উপর তার পরিবারের যেসকল হক আরোপ করেছে, তার একটি হচ্ছে- কোনো কারণ ছাড়া ছয় মাস সময় পরিবার থেকে দূরে না থাকা; কোনো প্রয়োজন ছাড়া ছাড়া তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকা। কেউ কোনো প্রয়োজনে সফরে গেলে, যখনই সফরের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, তখনই ফিরে আসবে। আমাদের নবীজী ﷺ-র পক্ষ থেকে এমন আদেশই করা হয়েছে। যেমন, এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে—
السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَنَوْمَهُ فَإِذَا قَضَى نَهْمَتَهُ فَلْيُعَجِّلْ إِلَى أَهْلِهِ

সফর আযাবের অংশ বিশেষ। তা তোমাদের যথাসময় পানাহার ও নিদ্রায় বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রত্যেকেই যেন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে আপন পরিজনের কাছে ফিরে আসে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৯০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯২৭]
এই হাদীস বিনা প্রয়োজনে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা ও প্রবাসে থাকার অপছন্দনীয়তা প্রমাণ করে। কারণ, একজন পুরুষ সফরে থাকাকালীন তার স্ত্রী-পরিজন ও সন্তানাদি কষ্টের থাকার বিষয়টি একেবারেই স্পষ্ট।
ইসমাইল হারাইছেন যখন তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হলেন, তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল- ‘কোন সফরে আযাবের একটা অংশ?’, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিয়েছিলেন- ‘কেননা, তাতে রয়েছে আপনজনদের বিচ্ছেদ-বিরহ।’
পরিবার-পরিজন ও সন্তানাদির পাশে পিতা বসল, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের প্রতি আদর-স্নেহ-ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, এতে করে তাদের মানসিক ও সহজাত আগ্রহের প্রতি সাড়া দেওয়া হয়। তাদের প্রতি যথাযথ কদর ও মর্যাদার প্রকাশ ঘটানো হয়।
অনেক ভাই দুনিয়াবী বিভিন্ন কাজে পরিবার থেকে দূরে থাকেন। অনেকে এমন সফরেও বের হন, যে সফরের কোনো প্রয়োজন নেই। এমনকি তার উপর্যুক্ত বিপদও আছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সফর ও পরিবার থেকে দূরে থাকা নিঃসন্দেহে বিভিন্ন সংকট, সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি করে। পিতা ও সন্তানদের এবং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ককে জটিল করে তুলে। বরং স্ত্রী থেকে দূরে থাকা সময়ের জন্য দূরে থাকা অনেক সময়ই স্ত্রীকে অটুট ও বিচ্যুতির পথে ঠেলে দেয়। বহু নারীর অন্যায় ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণ তাদের স্বামীরা দীর্ঘদিন তাদের থেকে দূরে থাকেন। তেমনই এক নারীর বক্তব্য- আমার স্বামী পাঁচ বছর যাবৎ সফরে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে আমি তাকে একবার চোখের দেখাও দেখতে পাইনি।
আরেকজনের বক্তব্য- আমার স্বামী বিগত দশ বছর যাবৎ আমার সঙ্গে মিলিত হন না।
আরেক বাহার! এগুলো কি বিবেকেরসম্মত কথা? মনে নেওয়ার মতো বিষয়?! অনেক মানুষ -আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন- সফরে বের হয় কিন্তু পরিবারে এমন কোনো মাল-সম্পদ রেখে যায় না, যা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ও ব্যয়ভার নির্বাহ করা যায়; কিংবা এমন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যায় না, যিনি তার অনুপস্থিতিতে তাদের দেখাশোনা করবে। আপনি কোনো কোনো পরিবারকে দেখবেন, যার কর্তা সফরে চলে গেছেন, কিন্তু তার ঘর ভাড়াশূন্য। অনেক সময় পান করার মতো পানিও থাকে না। পরিবারের ছোট্ট শিশু অসুস্থ হয়, কিন্তু তারা এমন কাউকে পায় না, যে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে। কখনও বা যুবতী নারীকে একাকীই মধ্যরাতে-গভীররাতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। রাস্তার অজানা-অচেনা গাড়িতে চড়তে হয়। অনেক সময় গাড়ির চালক হয় মানুষেরূপী হিংস্র হায়েনার অত্যন্ত কামনীয়- রাস্তায় ফাঁকা। প্রিয় পাঠক! এর পরের অংশ সম্পর্কে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করা না!

ইসলামী শরীয়ত ব্যক্তির উপর তার পরিবারের যেসকল হক আরোপ করেছে, তার একটি হচ্ছে- কোনো কারণ ছাড়া ছয় মাস সময় পরিবার থেকে দূরে না থাকা; কোনো প্রয়োজন ছাড়া ছাড়া তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকা। কেউ কোনো প্রয়োজনে সফরে গেলে, যখনই সফরের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, তখনই ফিরে আসবে। আমাদের নবীজী ﷺ-র পক্ষ থেকে এমন আদেশই করা হয়েছে। যেমন, এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে—
السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَنَوْمَهُ فَإِذَا قَضَى نَهْمَتَهُ فَلْيُعَجِّلْ إِلَى أَهْلِهِ

সফর আযাবের অংশ বিশেষ। তা তোমাদের যথাসময় পানাহার ও নিদ্রায় বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রত্যেকেই যেন নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে আপন পরিজনের কাছে ফিরে আসে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৯০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯২৭]
এই হাদীস বিনা প্রয়োজনে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা ও প্রবাসে থাকার অপছন্দনীয়তা প্রমাণ করে। কারণ, একজন পুরুষ সফরে থাকাকালীন তার স্ত্রী-পরিজন ও সন্তানাদি কষ্টের থাকার বিষয়টি একেবারেই স্পষ্ট।
ইসমাইল হারাইছেন যখন তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হলেন, তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল- ‘কোন সফরে আযাবের একটা অংশ?’, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিয়েছিলেন- ‘কেননা, তাতে রয়েছে আপনজনদের বিচ্ছেদ-বিরহ।’
পরিবার-পরিজন ও সন্তানাদির পাশে পিতা বসল, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের প্রতি আদর-স্নেহ-ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, এতে করে তাদের মানসিক ও সহজাত আগ্রহের প্রতি সাড়া দেওয়া হয়। তাদের প্রতি যথাযথ কদর ও মর্যাদার প্রকাশ ঘটানো হয়।
অনেক ভাই দুনিয়াবী বিভিন্ন কাজে পরিবার থেকে দূরে থাকেন। অনেকে এমন সফরেও বের হন, যে সফরের কোনো প্রয়োজন নেই। এমনকি তার উপর্যুক্ত বিপদও আছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সফর ও পরিবার থেকে দূরে থাকা নিঃসন্দেহে বিভিন্ন সংকট, সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি করে। পিতা ও সন্তানদের এবং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ককে জটিল করে তুলে। বরং স্ত্রী থেকে দূরে থাকা সময়ের জন্য দূরে থাকা অনেক সময়ই স্ত্রীকে অটুট ও বিচ্যুতির পথে ঠেলে দেয়। বহু নারীর অন্যায় ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণ তাদের স্বামীরা দীর্ঘদিন তাদের থেকে দূরে থাকেন। তেমনই এক নারীর বক্তব্য- আমার স্বামী পাঁচ বছর যাবৎ সফরে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে আমি তাকে একবার চোখের দেখাও দেখতে পাইনি।
আরেকজনের বক্তব্য- আমার স্বামী বিগত দশ বছর যাবৎ আমার সঙ্গে মিলিত হন না।
আরেক বাহার! এগুলো কি বিবেকেরসম্মত কথা? মনে নেওয়ার মতো বিষয়?! অনেক মানুষ -আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন- সফরে বের হয় কিন্তু পরিবারে এমন কোনো মাল-সম্পদ রেখে যায় না, যা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ও ব্যয়ভার নির্বাহ করা যায়; কিংবা এমন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যায় না, যিনি তার অনুপস্থিতিতে তাদের দেখাশোনা করবে। আপনি কোনো কোনো পরিবারকে দেখবেন, যার কর্তা সফরে চলে গেছেন, কিন্তু তার ঘর ভাড়াশূন্য। অনেক সময় পান করার মতো পানিও থাকে না। পরিবারের ছোট্ট শিশু অসুস্থ হয়, কিন্তু তারা এমন কাউকে পায় না, যে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে। কখনও বা যুবতী নারীকে একাকীই মধ্যরাতে-গভীররাতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। রাস্তার অজানা-অচেনা গাড়িতে চড়তে হয়। অনেক সময় গাড়ির চালক হয় মানুষেরূপী হিংস্র হায়েনার অত্যন্ত কামনীয়- রাস্তায় ফাঁকা। প্রিয় পাঠক! এর পরের অংশ সম্পর্কে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করা না!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00