📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 ঘটনা- ১

📄 ঘটনা- ১


উটের ঘটনা। যে উট নবীজী ﷺ-র কাছে মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল- মালিক তাকে ক্ষুধার্ত রাখে এবং অধিক পরিমাণে কাজ করিয়ে ক্লান্ত করে দেয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবীজী ﷺ আমাকে তার খচ্চরের পিছনে বসালেন। অতঃপর গোপন কথা বলে এ মর্মে আমাকে সতর্ক করে দিলেন, যেন আমি তা কাউকে না বলি।
অতঃপর নবীজী ﷺ এক আনসারীর খেজুর বাগানে প্রবেশ করলেন। হঠাৎ একটি উট তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়। উটটি নবীজী ﷺ-কে দেখে কাঁদতে শুরু করে এবং তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে।
নবীজী ﷺ উটটির কাছে গিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন। এতে উটটি কান্না থামাল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ উটের মালিক কে? তিনি আরও ডাকলেন, উটটি কার?
এক আনসারী যুবক এগিয়ে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটি আমার।
নবীজী ﷺ বললেন, আল্লাহ যে তোমাকে এই নিরীহ প্রাণীটির মালিক বানিয়েছেন, এর অধিকারের ব্যাপারে তুমি কি আল্লাহকে ভয় কর না? উটটি আমার কাছে অভিযোগ করেছে- তুমি একে ক্ষুধার্ত রাখো এবং একে কষ্ট দাও। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৪৯]

📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 ঘটনা- ২

📄 ঘটনা- ২


শয়তানের সাথে আবু হুরায়রা -র ঘটনা।
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে রমযানে যাকাতের মাল হেফাজতের দায়িত্বে নিযুক্ত করলেন। এক রাতের ঘটনা। এক ব্যক্তি এসে অঞ্জলি ভরে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যেতে লাগল। আমি তাকে পাকড়াও করে ফেললাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-র কাছে নিয়ে যাব। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দিন। আমি খুবই অভাবগ্রস্ত; আমার জিম্মায় পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব রয়েছে এবং আমার প্রয়োজন তীব্র।
আবু হুরায়রা বলেন, [তার অনুনয়-বিনয় ও কাকুতি-মিনতি দেখে] আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল হলে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবু হুরায়রা! তোমার বন্দীর কী করলে?
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তার তীব্র অভাব ও পরিবার-পরিজনের কথা বলায় তার প্রতি আমার দয়া হয়। তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। নবীজী ﷺ বললেন, সাবধান! সে তোমার কাছে মিথ্যা বলেছে এবং সে আবার আসবে।
[আবু হুরায়রা বলেন] ‘সে আবার আসবে’- রাসূলুল্লাহ ﷺ-র এ কথার কারণে আমি নিশ্চিত বুঝতে পারলাম, সে পুনরায় আসবে। কাজেই আমি তার অপেক্ষায় থাকলাম। [পরদিন রাতে] সে আবার এসে অঞ্জলি ভরে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যেতে লাগল। আমি তাকে আবারও ধরে ফেললাম এবং বললাম, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-র কাছে নিয়ে যাব। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দিন। আমি খুবই দরিদ্র এবং আমার উপর পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব ন্যস্ত। আমি আর আসব না।
[আবু হুরায়রা বলেন] তার প্রতি আমার দয়া হল এবং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল হলে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবু হুরায়রা! তোমার বন্দীর কী করলে?
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তার তীব্র প্রয়োজন ও পরিবার-পরিজনের কথা বলায় তার প্রতি আমার দয়া হয়। তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। নবীজী ﷺ বললেন, খবরদার! সে তোমার কাছে মিথ্যা বলেছে এবং সে আবার আসবে। [আবু হুরায়রা বলেন] তাই আমি তৃতীয়বার তার অপেক্ষায় থাকলাম।
[তৃতীয় রাতে] সে এসে এসে আবার অঞ্জলি ভর্তি করে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যেতে লাগল। আমি তাকে এবারও পাকড়াও করলাম এবং বললাম, আমি তোমাকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ-র কাছে নিয়ে যাব। এ হল তিন বারের শেষ বার। তুমি প্রত্যেকবার বল আর আসবে না, কিন্তু আবার আস।
সে বলল, [শেষ বারের মতো] আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিব; যা দিয়ে আল্লাহ আপনাকে উপকৃত করবেন। আমি বললাম, সেটা কী? সে বলল, যখন আপনি রাতে শুতে যাবেন, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবেন। তা হলে আল্লাহ ﷺ-র পক্ষ থেকে আপনার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত করা হবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান আপনার কাছে আসতে পারবে না। [আবু হুরায়রা বলেন] কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।
ভোর হলে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, আবু হুরায়রা! গত রাতে তোমার বন্দীর কী করলে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে আমাকে বলল- সে আমাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিবে, যা দিয়ে আল্লাহ আমাকে লাভবান করবেন। তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। তখন নবীজী ﷺ আমাকে বললেন, ওই কথাগুলো কী? আমি বললাম, সে আমাকে বলেছে, যখন আপনি রাতে আপনার বিছানায় শুতে যাবেন, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবেন। অতঃপর সে আমাকে বলল, এতে আল্লাহ ﷺ-র পক্ষ থেকে আপনার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান আপনার কাছে আসতে পারবে না। সাহাবায়ে কেরাম আজমাঈন কল্যাণের জন্য আগ্রহী ছিলেন। নবীজী ﷺ বললেন, হাঁ, এ কথাটি তো সে তোমাকে সত্যই বলেছে, কিন্তু সাবধান! সে মিথ্যাবাদী। হে আবু হুরায়রা! তুমি কি জান, তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথাবার্তা বলছিলে? আবু হুরায়রা বললেন, জ্বি না। নবীজী ﷺ বললেন, সে ছিল শয়তান। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২৭৫]

📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 ঘটনা- ৩

📄 ঘটনা- ৩


পাখির ছানার ঘটনা।
আল সুদ গোত্রের তারদামায় আমের থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ...নবীজী ﷺ তখন একটি গাছের নীচে তাঁর জন্য বিছানো একটি কম্বলের উপর বসা ছিলেন। তাঁর চার পাশে তাঁর সাহাবীগণও বসা ছিলেন। আমি তাঁদের কাছে বসলাম। [নবীজী বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছিলেন] ...এমতাবস্থায় তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এল। আগন্তুকের গায়ে কম্বল জড়ানো এবং তার হাতে কিছু একটা ছিল। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে দেখতে পেয়েই আপনার কাছে উপস্থিত হলাম। গাছপালার মধ্য দিয়ে পথ অতিক্রম করার সময় আমি পাখির আওয়াজ শুনতে পাই। আমি সেগুলো ধরে আমার কম্বলের মধ্যে রাখি।
বাচ্চাগুলোর মা এসে আমার মাথার উপর চক্কর দিতে লাগল। আমি বাচ্চাগুলোকে তাদের মায়ের জন্য কম্বলের মধ্য থেকে বের করে দিলাম। ফলে পাখিটি এসে বাচ্চাগুলোর সাথে মিলিত হল। আমি সবগুলোকে আমার কম্বলে লেপটিয়ে ধরে ফেললাম। এখন সবগুলো পাখি আমার সাথে আছে।
নবীজী ﷺ বললেন, সেগুলো বের কর। সুতরাং, সে বের করল। কিন্তু মা পাখিটা বাচ্চাদের রেখে যেতে চাইল না। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার সাহাবীদের বললেন, বাচ্চাদের প্রতি মা পাখিটার মায়ার মায়া তোমরা কি আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ না?! তাঁরা বললেন, হাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, সেই সত্তার শপথ, যিনি আমাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন! বাচ্চাদের প্রতি মা পাখিটার যে মায়া রয়েছে, আল্লাহ অবশ্যই তাঁর বান্দাদের প্রতি আরও অধিক মমতাময়। তুমি যেখানে থেকে ধরে এনেছ, মা-সহ তাদেরকে সেখানে রেখে এসো। সুতরাং, সে পাখিগুলো সেখানে রেখে এল। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩০৮৯]

📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 ঘটনা- ৪

📄 ঘটনা- ৪


আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও রাখালের ঘটনা।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এক সফরে পথিমধ্যে দেখতে পেলেন এক রাখাল বকরি চড়াচ্ছে। তিনি রাখালের আমানতদারি ও বিশ্বস্ততা পরীক্ষা করতে চাইলেন। তা ছাড়া এগিয়ে গিয়ে রাখালকে বললেন, আমাকে কিছু দুধ দিবে? রাখাল জবাব দিল, এ বকরিগুলো আমার নয়। আবদুল্লাহ ইবনে উমর বললেন, তা হলে এখন থেকে একটি বকরি আমার কাছে বিক্রি কর দাও। তবে আমি আমার নিজের বকরি থেকে দুটি গ্রহণ করব। রাখাল বলল, রাখাল বলল, আমি আমার মালিককে এই বকরি সম্পর্কে কী জবাব দিব? ইবনে উমর বললেন, তুমি তোমার মালিককে বলবে- একটি বকরি বাঘে খেয়ে ফেলেছে। এমন তো হতেই হয়ে থাকে। রাখাল বলল, তা হলে আল্লাহ কোথায় থাকবেন? [আল্লাহ কি দেখবেন না?!]
রাখালের মুখে এ কথা শুনে ইবনে উমর বললেন, আল্লাহর কসম! 'আল্লাহ তখন কোথায় থাকবেন?’- এ কথা আমার অধিক হকদার। এরপর তিনি ওই রাখাল ও সমস্ত বকরি মালিকের কাছ থেকে কিনে নিলেন। অতঃপর রাখালকে আযাদ করে দিয়ে সমস্ত বকরি তাকে দিয়ে দিলেন। [আল মু’জামুল কাবীর লিত-তাবারানী, হাদীস নং ১৩০৫৪]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00