📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 ‘মারকাযে তাহফীযুল কুরআনে’ নিয়ে যাওয়া

📄 ‘মারকাযে তাহফীযুল কুরআনে’ নিয়ে যাওয়া


আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ ﷺ-র শোকর, বর্তমানে ‘মারকাযে তাহফীযুল কুরআন’ এর ব্যাপকতা আমাদের জন্য আল্লাহ ﷺ-র এক বিশেষ নেয়ামত। এ মারকায যেমন পুরুষদের আছে, তেমন আছে নারীদেরও। আরও আনন্দের বিষয় হচ্ছে, এ মারকাযগুলো বর্তমানে প্রায় সব জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের এমন কোনো অঞ্চল হয়তো পাওয়া যাবে না, যেখানে এ মারকায নেই।
যে পরিবারকর্তা পরিবারের অভ্যন্তরে দাওয়াতের কাজ করতে পারেন না কিংবা করলেও ত্রুটি হয়, সেটা তার ব্যস্ততার কারণেই হোক কিংবা জ্ঞানস্বল্পতা বা অন্য যেকোনো কারণেই হোক, তিনি তার এ ত্রুটি ও কমতির সুন্দর সমাধান খুঁজে পাবেন এ মারকাযগুলোতে। অবশ্য আমাদের এ কথার অর্থ এই নয় যে, আমরা তার এ ধরনের কমতি ও ত্রুটিকে সমর্থন করছি বা মেনে নিচ্ছি। বরং তার জন্য আবশ্যক হচ্ছে- পরিবারের তালিমের জন্য সময় বের করা। প্রথমে তিনি নিজে সংশোধন হবেন। নিজের ত্রুটি ও ঘাটতির ক্ষতিপূরণ করবেন। তারপর পরিবারের সদস্যদের তালিমের ব্যবস্থা করবেন।
যা হোক, বলছিলাম মারকাযে তাহফীযুল কুরআনের কথা। এ মারকাযগুলোর কল্যাণ ও উপকারিতা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। বহু নারী এ সকল মারকাযের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। এগুলোর সাথে যুক্ত ও সম্পৃক্ত হওয়ার পর তাদের অবস্থার আমল পরিবর্তন হয়েছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কোনো কোনো নারীর উপর তাদের স্বামীরও ততটা প্রভাব ফেলতে পারেননি, যতটা প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে এ মারকাযগুলো।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, এ মারকাযগুলো নারীসমাজের সংশোধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। অনেকেই সেখানে থেকে হিজাব ও পর্দা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করার তাওফীকও লাভ করেছেন। যে ব্যক্তি পরিবারের অভ্যন্তরে দাওয়াতের কাজ করতে পারেন না কিংবা করলেও ত্রুটি হয়, সেটা তার ব্যস্ততার কারণেই হোক কিংবা জ্ঞানস্বল্পতা বা অন্য যেকোনো কারণেই হোক, তিনি তার এ ত্রুটি ও কমতির সুন্দর সমাধান খুঁজে পাবেন এ মারকাযগুলোতে।

📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 পরিবারের অভ্যন্তরে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা

📄 পরিবারের অভ্যন্তরে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা


পরিবারের অভ্যন্তরে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা
দাওয়াতের পথ-পদ্ধতি ও পন্থা বহু রঙ বেরঙের। অন্যান্য মুসলিম বোনদের মাঝে দাওয়াতের কাজ করেন পুরোদমে।
তবে এসব কিছু সত্ত্বেও এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলে রাখতে চাই, তা হচ্ছে- নারীদের ঘর থেকে বের হওয়াই হচ্ছে সাধারণত তাদের নিজেদের জন্য এবং অন্যদের জন্য ফেতনার কারণ। তাই স্বামী বা পরিবারকর্তার উচিত নারীদেরকে সেসকল মারকাযে একাকী কিংবা ড্রাইভারের সঙ্গে পাঠানো না পাঠানো। বরং নিজেই তাদেরকে সেখানে আনা-নেওয়া করানো। পথের দূরত্ব কম বেশি- যাই হোক।
৪. পরিবারের অভ্যন্তরে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা
আমাদের উচিত পরিবারের অভ্যন্তরে দাওয়াত পৌঁছানোর গতানুগতিক ও অনুসরণমূলক প্রতিবন্ধকতাগুলো ভেঙে ফেলা। পরিবার-পরিজনকে কানে যাবতীয় ইলম ও জ্ঞান একসঙ্গে ঢেলে দেওয়ার পরিবর্তে পরিবারকর্তার উচিত নতুন, আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের কাছে মূল বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া।
এ হিসেবে পরিবারের অভ্যন্তরে শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে। সেখানে প্রতিযোগিতা, ঘটনা বর্ণনা, গল্প, বৈধ খেলাধুলাসহ এমন অনেক কিছুই থাকতে পারে, যা একইসাথে তাদের শিক্ষা ও মানসিকতা গঠনের মাধ্যম হবে, পাশাপাশি তারা তাতে আনন্দ ও বিনোদনও হেয়াত পাবে।
এ সকল কার্যক্রম ও প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরিবারকর্তা আল্লাহ ﷺ-র নির্দেশ বাস্তবায়নেই ব্রতী হবেন, যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন—
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে [জাহান্নামের] আগুন থেকে রক্ষা কর। [তাহরীম : ৬]
কোনো পরিবারকর্তা এসব কার্যক্রম ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে এ কথা ভাববেন না যে, এর মাধ্যমে তিনি সময় নষ্ট করছেন। বরং এটি নিজ পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষারই একটি প্রচেষ্টা। কেননা, আশা করা যায়, এ শিক্ষাকার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি পরিবার-পরিজনকে দ্বীনের হুকুম ইত্যাদি থেকে বিমুখ করতে পারবেন। নাটক, সিনেমা-সিরিয়াল ও কার্টুন থেকে ফেরাতে পারবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00