📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 উত্তম আদর্শ

📄 উত্তম আদর্শ


বর্তমান সময়ে অনেক প্রতিভাবান তরুণ-যুবককে দেখা যায়, তারা লেখাপড়া ও বিদ্যার্জনের প্রতি খুবই মনোযোগী। আপনি এমন অনেককেই দেখবেন- তারা বিভিন্ন মতের ফতোয়া [মগজস্থ] মুখস্থ করে খুবই সুন্দর ও পরিশ্রান্ত। বিভিন্ন ইসলামী মজলিস ও হালকা অংশগ্রহণ করে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে। কিন্তু একই সময়ে আপনি দেখবেন, তারা আদব-আখলাক ও শিষ্টাচার শিক্ষা করা এবং তা অর্জনের প্রতি ততটা মনোযোগী নয়। ফলে এ ধরনের মানুষের কথাবার্তা, ওয়াজ-নসীহত ও উপদেশ মানুষের মাঝে তেমন প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয় না। তাদের কথা মানুষের হৃদয় স্পর্শ করতে পারে না। অথচ তাদের কাছে ইলমের সুশৃঙ্খল ভাণ্ডার রয়েছে।
- তা হলে এর কারণ কী?
- কারণ, মানুষের হৃদয়ে গভীরে পৌঁছার চাবি তাদের কাছে নেই। সেই চাবি হচ্ছে- আদব ও আখলাক।
নিঃসন্দেহে যে পরিবারকর্তা তার অধীনস্ত পরিবার-পরিজনকে আদব-আখলাক শিক্ষাদানের ক্ষেত্র উদাসীন থাকেন, তার উপদেশ সেই যুবকের ন্যায়, যে আদব-আখলাক শেখার ক্ষেত্র অবহেলা করেছে। কেননা, এ ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজন ও সন্তানদের বিচারের একজন শিক্ষক নয়।
সুতরাং, একজন পরিবারকর্তা- যিনি তার পরিবারকে উপদেশ দিতে চান, সংশোধন করতে চান, তাদেরকে সাত্ত্বিকভাবে তারবিয়াত করতে চান, তার জন্য জরুরি হচ্ছে- তিনি তাদের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই উত্তম আদর্শ ও নমুনা হবেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে, ইবাদতের ক্ষেত্রে, আখলাকের ক্ষেত্রে, আদবের ক্ষেত্রে, তাদের জন্য অনুগ্রহের ক্ষেত্রে, দয়া-উদারতা ও দানের ক্ষেত্রে।
কারণ, যিনি তার পরিবারকে উত্তম আখলাকের আদেশ করবেন, অতঃপর নিজেই তাদের সঙ্গে আখলাক পরিচয় দিবেন না, তিনি কীভাবে আশা করতে পারে যে, তার কথা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে! তারা তাকে মানব! তার কথা তাদের মাঝে প্রভাব সৃষ্টি করবে! নবীজী ﷺ ইরশাদ করেছেন—
خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ

তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। [সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৮৯৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৯৭৭]
একজন আদর্শবান ব্যক্তি কাজ ও আমল উভয়ের উপর তার কথার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, আপনি আপনার ছোট ছেলেকে সালাতের গুরুত্ব সম্পর্কে বলুন, সালাত আদায়ের সঠিক পদ্ধতি শিক্ষা দিন, অতঃপর আপনি নিজেও দাঁড়িয়ে এবং তার সামনে সালাত আদায় করে দেখিয়ে দিন। দেখবেন, আপনার ছেলে আপনার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে। কেন, আপনি কি দেখেননি- অনেক সময় পিতাকে সালাত পড়তে দেখে ছোট্ট ছেলে পাশে দাঁড়িয়ে সালাত পড়া শুরু করে। অথচ তাকে কিন্তু সালাতের আদেশ করা হয়নি। ব্যাপারটি এমন নয় কি?
- অবশ্যই।
কিন্তু ছেলেকে সালাতের কথা বলে পিতা যদি নিজেই সালাত না পড়েন, তার সামনে সালাতের বাস্তব অনুশীলন করে দেখিয়ে না দেন, তা হলে দেখা যায়, ওই ছেলে কখনও সালাত পড়ে, কখনও পড়ে না।
- তা হলে দেখা যাচ্ছে, কথার তুলনায় কাজের প্রভাব বেশি পড়ে।
আপনি সেই সাহাবীকে দেখুন, যিনি প্রতি বার কুরআন খতম করার পর পরিবারের সকলকে একত্র করে দোয়া করতেন। যেন তিনি নিজেও তাদের বলতেন- আমি তো কুরআন খতম করে ফেলেছি। তোমরাও খতম করতে কবে?
ফলে বিষয়টি তার পরিবার ও সন্তানদের মাঝে প্রতিযোগিতার বিষয়ে পরিণত হত। তিনি হযরত আনাস ইবনে মালেক। তার ব্যাপারে বর্ণিত আছে, যখন তিনি কুরআনে কারীম খতম করতেন, তখন পরিবার-পরিজন ও সন্তানাদিকে একত্র করে তাদের জন্য দোয়া করতেন।
অতএব, কোনো পরিবার যখন দেখবে- তাদের পরিবারকর্তা তাদের তুলনায় অধিক কুরআন মুখস্থকারী, তখন তারা এক্ষেত্রে তার আনুগত্য ও অনুসরণের জন্য ভিতর থেকে এক ধরনের উৎসাহ ও তাড়না অনুভব করবে।

📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 উৎসাহদান ও ভীতিপ্রদর্শন

📄 উৎসাহদান ও ভীতিপ্রদর্শন


অনেক সময় দেখা যায়, আল্লাহ ﷺ-র পথে দাওয়াত ও আহ্বানের ক্ষেত্রে -চাই তা পরিবার-পরিজনের মাঝেই হোক কিংবা অন্যদের মাঝে হোক- শুধু আদেশদান ও নিষেধকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করাটা তেমন ফলপ্রসূ বলে প্রমাণিত হয় না। বরং একজন দাঈর জন্য তার দাওয়াতের পদ্ধতিতে পরিবর্তন ও নতুনত্ব আনা প্রয়োজন। যাতে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে যথাযথ পন্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয় এবং তিনিও তা গ্রহণ করতে আগ্রহী হন।
কিছু কিছু যুবক -আল্লাহ তাদের হেদায়েত করুন- নিজেদের পরিবারের ব্যাপারে অস্বীকার, ক্ষেত্রবিশেষে ধ্বংসাত্মক পন্থা অবলম্বন করে থাকে। তারা পরিবারের সদস্যদের কোনোপ্রকার ভূমিকা ও প্রস্তুতকরণ ছাড়াই কেবল বলে যায়- টেলিভিশন হারাম, ডিম হারাম, গানবাজ হারাম, ছবি হারাম ইত্যাদি। প্রিয় পাঠক! তাদের কথা ও বক্তব্য এক শ' তে এক শ' ভাগই সত্য। এতে কোনো কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও উপদেশের এ পদ্ধতি অনেক সময়ই কাঙ্ক্ষিত সুফল বয়ে আনে না। বরং অনেক সময় দাওয়াতী অঙ্গনে তা প্রতিবন্ধক হিসেবেই প্রমাণিত হয়।
মনে রাখবেন, একজন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি তিনিই, যিনি তার ওয়াজ-নসীহত ও উপদেশ শুরু করেন আল্লাহ ﷺ-র আজমত ও বড়ত্বের আলোচনা দিয়ে; বান্দার উপর আল্লাহ -র কী কী হক রয়েছে- তার আলোচনা দিয়ে। অতঃপর আলোচনা করেন কেয়ামত দিবস সম্পর্কে, কেয়ামত দিবসে বান্দার হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদান সম্পর্কে; জান্নাত-জাহান্নাম, মীযান, হাশর-নাশর ও কাউকে কাউসার ইত্যাদি সম্পর্কে।

📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 ‘মারকাযে তাহফীযুল কুরআনে’ নিয়ে যাওয়া

📄 ‘মারকাযে তাহফীযুল কুরআনে’ নিয়ে যাওয়া


আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ ﷺ-র শোকর, বর্তমানে ‘মারকাযে তাহফীযুল কুরআন’ এর ব্যাপকতা আমাদের জন্য আল্লাহ ﷺ-র এক বিশেষ নেয়ামত। এ মারকায যেমন পুরুষদের আছে, তেমন আছে নারীদেরও। আরও আনন্দের বিষয় হচ্ছে, এ মারকাযগুলো বর্তমানে প্রায় সব জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের এমন কোনো অঞ্চল হয়তো পাওয়া যাবে না, যেখানে এ মারকায নেই।
যে পরিবারকর্তা পরিবারের অভ্যন্তরে দাওয়াতের কাজ করতে পারেন না কিংবা করলেও ত্রুটি হয়, সেটা তার ব্যস্ততার কারণেই হোক কিংবা জ্ঞানস্বল্পতা বা অন্য যেকোনো কারণেই হোক, তিনি তার এ ত্রুটি ও কমতির সুন্দর সমাধান খুঁজে পাবেন এ মারকাযগুলোতে। অবশ্য আমাদের এ কথার অর্থ এই নয় যে, আমরা তার এ ধরনের কমতি ও ত্রুটিকে সমর্থন করছি বা মেনে নিচ্ছি। বরং তার জন্য আবশ্যক হচ্ছে- পরিবারের তালিমের জন্য সময় বের করা। প্রথমে তিনি নিজে সংশোধন হবেন। নিজের ত্রুটি ও ঘাটতির ক্ষতিপূরণ করবেন। তারপর পরিবারের সদস্যদের তালিমের ব্যবস্থা করবেন।
যা হোক, বলছিলাম মারকাযে তাহফীযুল কুরআনের কথা। এ মারকাযগুলোর কল্যাণ ও উপকারিতা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। বহু নারী এ সকল মারকাযের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। এগুলোর সাথে যুক্ত ও সম্পৃক্ত হওয়ার পর তাদের অবস্থার আমল পরিবর্তন হয়েছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কোনো কোনো নারীর উপর তাদের স্বামীরও ততটা প্রভাব ফেলতে পারেননি, যতটা প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে এ মারকাযগুলো।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, এ মারকাযগুলো নারীসমাজের সংশোধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। অনেকেই সেখানে থেকে হিজাব ও পর্দা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করার তাওফীকও লাভ করেছেন। যে ব্যক্তি পরিবারের অভ্যন্তরে দাওয়াতের কাজ করতে পারেন না কিংবা করলেও ত্রুটি হয়, সেটা তার ব্যস্ততার কারণেই হোক কিংবা জ্ঞানস্বল্পতা বা অন্য যেকোনো কারণেই হোক, তিনি তার এ ত্রুটি ও কমতির সুন্দর সমাধান খুঁজে পাবেন এ মারকাযগুলোতে।

📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 পরিবারের অভ্যন্তরে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা

📄 পরিবারের অভ্যন্তরে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা


পরিবারের অভ্যন্তরে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা
দাওয়াতের পথ-পদ্ধতি ও পন্থা বহু রঙ বেরঙের। অন্যান্য মুসলিম বোনদের মাঝে দাওয়াতের কাজ করেন পুরোদমে।
তবে এসব কিছু সত্ত্বেও এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলে রাখতে চাই, তা হচ্ছে- নারীদের ঘর থেকে বের হওয়াই হচ্ছে সাধারণত তাদের নিজেদের জন্য এবং অন্যদের জন্য ফেতনার কারণ। তাই স্বামী বা পরিবারকর্তার উচিত নারীদেরকে সেসকল মারকাযে একাকী কিংবা ড্রাইভারের সঙ্গে পাঠানো না পাঠানো। বরং নিজেই তাদেরকে সেখানে আনা-নেওয়া করানো। পথের দূরত্ব কম বেশি- যাই হোক।
৪. পরিবারের অভ্যন্তরে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা
আমাদের উচিত পরিবারের অভ্যন্তরে দাওয়াত পৌঁছানোর গতানুগতিক ও অনুসরণমূলক প্রতিবন্ধকতাগুলো ভেঙে ফেলা। পরিবার-পরিজনকে কানে যাবতীয় ইলম ও জ্ঞান একসঙ্গে ঢেলে দেওয়ার পরিবর্তে পরিবারকর্তার উচিত নতুন, আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের কাছে মূল বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া।
এ হিসেবে পরিবারের অভ্যন্তরে শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে। সেখানে প্রতিযোগিতা, ঘটনা বর্ণনা, গল্প, বৈধ খেলাধুলাসহ এমন অনেক কিছুই থাকতে পারে, যা একইসাথে তাদের শিক্ষা ও মানসিকতা গঠনের মাধ্যম হবে, পাশাপাশি তারা তাতে আনন্দ ও বিনোদনও হেয়াত পাবে।
এ সকল কার্যক্রম ও প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরিবারকর্তা আল্লাহ ﷺ-র নির্দেশ বাস্তবায়নেই ব্রতী হবেন, যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন—
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে [জাহান্নামের] আগুন থেকে রক্ষা কর। [তাহরীম : ৬]
কোনো পরিবারকর্তা এসব কার্যক্রম ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে এ কথা ভাববেন না যে, এর মাধ্যমে তিনি সময় নষ্ট করছেন। বরং এটি নিজ পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষারই একটি প্রচেষ্টা। কেননা, আশা করা যায়, এ শিক্ষাকার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি পরিবার-পরিজনকে দ্বীনের হুকুম ইত্যাদি থেকে বিমুখ করতে পারবেন। নাটক, সিনেমা-সিরিয়াল ও কার্টুন থেকে ফেরাতে পারবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00