📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 আলোচ্যবিষয়ের গুরুত্ব

📄 আলোচ্যবিষয়ের গুরুত্ব


পরিবার-পরিজনের দেখাশোনা ও তারবিয়াত প্রসঙ্গে আলোচনা করা নিঃসন্দেহে সুন্দর একটি কেন্দ্র ও কেন্দ্রস্থ সকল গ্রহকে রক্ষার আলোচনা। আর এক্ষেত্রে অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচয় দেওয়া বড় ধরনের বেদনা ও বিপর্যয় সৃষ্টির অবতারণা। প্রতিনিয়ত আমাদের সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনা ও দুর্ঘটনাই যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ও বাস্তবতা।
এ বিষয়ে আলোচনা করা আল্লাহ ﷻ ও তাঁর রাসূল ﷺ-র আদেশ এরই অনুসরণ ও বাস্তবায়ন। আল্লাহ ﷺ আমাদের ঈমানের ডাকে আহ্বান করেছেন, যেন আমরা আমাদের পরিবার-পরিজনের দেখাশোনা ও তারবিয়াত করি; তাদেরকে রক্ষণাবেক্ষণ ও জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাযত করি। যেমন, তিনি ইরশাদ করেছেন—
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণহৃদয় কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তা-ই করে। [সূরা তাহরীম : ৬]
কাতাদাহ বলেন, পরিবার-পরিজনকে আল্লাহ ﷺ-র আনুগত্যের আদেশ করবে, তাঁর অবাধ্যতা ও নাফরমানি থেকে নিষেধ করবে, তাদের উপর আল্লাহ ﷺ-র বিধান বাস্তবায়ন করবে, আল্লাহ ﷺ-র বিধান পালন ও বাস্তবায়নে তাদের সাহায্য করবে, খবরাখবর করবে, তাদের থেকে কোনো অন্যায় ও অবাধ্যতা দেখলে নিষেধ করবে, তিরস্কার করবে এবং তা থেকে বিরত রাখবে।
এ বিষয়ে আলোচনা করা সৎ কাজের আদেশেরই নামান্তর। যেমন, আল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِنْدَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا

তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে সালাত ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন। [সূরা মারইয়াম : ৫৫]
পরিবারের দেখাশোনা, তদারকি ও তারবিয়াত করা বেশ জটিল ও অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ব্যাপার। সেখানে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ধৈর্য ও বিচক্ষণতা প্রয়োজন। যেমন, আল্লাহ ﷺ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا

আপনি আপনার পরিবারের লোকদেরকে সালাতের আদেশ দিন এবং তাতে অবিচল থাকুন। [সূরা ত-হা : ১৩২]
এ বিষয়ে আলোচনা করা পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ও একে অপরের সমর্থন ও পৃষ্ঠাপোষকতা করার অন্তর্ভুক্ত। তা ছাড়া বিষয়টি আল্লাহ ﷺ-র নির্দেশ পালনের ব্যাপারে আনুগত্যেরও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন—
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে তোমরা একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়িদা : ২]
পরিবারের দেখাশোনা ও তদারকি করা একটি গুরুদায়িত্ব ও জবাবদিহিতার বিষয়; যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর আরোপ করেছেন। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার থেকে বর্ণিত, নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন—
أَلَا كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ

জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্তদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৫৫৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮২৯]
আনাস থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ اللَّهَ سَائِلٌ كُلَّ رَاعٍ عَمَّا اسْتَرْعَاهُ أَحَفِظَ أَمْ ضَيَّعَ حَتَّى يَسْأَلَ الرَّجُلَ عَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ

নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন, যে ব্যাপারে তাকে দায়িত্বশীল করা হয়েছে; সে কি তা যথাযথভাবে পালন করেছে না অবহেলা করেছে! এমনকি পুরুষকে জিজ্ঞাসা করবেন তার পরিবার-পরিজন সম্পর্কে। [সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৪৫৭০]
প্রিয় পাঠক!
আমরা যদি আমাদের ডানে-বামে তাকাই, আশপাশের খবরাখবর ও সংবাদ সংগ্রহ করি, তা হলে দেখতে পাই, আমাদের সমাজে বহু দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে পারিবারিক বিভ্রান্তি, বিচ্যুতি ও প্রচণ্ডতার কারণে।
আমরা সকলেই জানি- পরিবারসমষ্টিকেই সমাজ বলে। সুতরাং, পরিবার ঠিক থাকলে সমাজ ঠিক থাকে; পরিবার ধ্বংস হয়ে গেলে সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়; ধ্বংস হয়ে যেতে বাধ্য। আর তাই আমাদের জন্য আবশ্যক, পরিবার-পরিজনকে তারবিয়াতের প্রতি সচেষ্ট হওয়া।
গুরুত্বারোপ করা, তাদেরকে দ্বীনী দাওয়াত ও তালিম দেওয়া এবং তাদেরকে সংশোধন করা। যেন তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা যায়। অতএব, ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগেই আপনি আপনার পরিবারের প্রতি মনোযোগী হোন; তাদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন।

পরিবার-পরিজনের দেখাশোনা ও তারবিয়াত প্রসঙ্গে আলোচনা করা নিঃসন্দেহে সুন্দর একটি কেন্দ্র ও কেন্দ্রস্থ সকল গ্রহকে রক্ষার আলোচনা। আর এক্ষেত্রে অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচয় দেওয়া বড় ধরনের বেদনা ও বিপর্যয় সৃষ্টির অবতারণা। প্রতিনিয়ত আমাদের সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনা ও দুর্ঘটনাই যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ও বাস্তবতা।
এ বিষয়ে আলোচনা করা আল্লাহ ﷻ ও তাঁর রাসূল ﷺ-র আদেশ এরই অনুসরণ ও বাস্তবায়ন। আল্লাহ ﷺ আমাদের ঈমানের ডাকে আহ্বান করেছেন, যেন আমরা আমাদের পরিবার-পরিজনের দেখাশোনা ও তারবিয়াত করি; তাদেরকে রক্ষণাবেক্ষণ ও জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাযত করি। যেমন, তিনি ইরশাদ করেছেন—
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণহৃদয় কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তা-ই করে। [সূরা তাহরীম : ৬]
কাতাদাহ বলেন, পরিবার-পরিজনকে আল্লাহ ﷺ-র আনুগত্যের আদেশ করবে, তাঁর অবাধ্যতা ও নাফরমানি থেকে নিষেধ করবে, তাদের উপর আল্লাহ ﷺ-র বিধান বাস্তবায়ন করবে, আল্লাহ ﷺ-র বিধান পালন ও বাস্তবায়নে তাদের সাহায্য করবে, খবরাখবর করবে, তাদের থেকে কোনো অন্যায় ও অবাধ্যতা দেখলে নিষেধ করবে, তিরস্কার করবে এবং তা থেকে বিরত রাখবে।
এ বিষয়ে আলোচনা করা সৎ কাজের আদেশেরই নামান্তর। যেমন, আল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِنْدَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا

তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে সালাত ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন। [সূরা মারইয়াম : ৫৫]
পরিবারের দেখাশোনা, তদারকি ও তারবিয়াত করা বেশ জটিল ও অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ব্যাপার। সেখানে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ধৈর্য ও বিচক্ষণতা প্রয়োজন। যেমন, আল্লাহ ﷺ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا

আপনি আপনার পরিবারের লোকদেরকে সালাতের আদেশ দিন এবং তাতে অবিচল থাকুন। [সূরা ত-হা : ১৩২]
এ বিষয়ে আলোচনা করা পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ও একে অপরের সমর্থন ও পৃষ্ঠাপোষকতা করার অন্তর্ভুক্ত। তা ছাড়া বিষয়টি আল্লাহ ﷺ-র নির্দেশ পালনের ব্যাপারে আনুগত্যেরও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন—
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে তোমরা একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়িদা : ২]
পরিবারের দেখাশোনা ও তদারকি করা একটি গুরুদায়িত্ব ও জবাবদিহিতার বিষয়; যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর আরোপ করেছেন। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার থেকে বর্ণিত, নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন—
أَلَا كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ

জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্তদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৫৫৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮২৯]
আনাস থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ اللَّهَ سَائِلٌ كُلَّ رَاعٍ عَمَّا اسْتَرْعَاهُ أَحَفِظَ أَمْ ضَيَّعَ حَتَّى يَسْأَلَ الرَّجُلَ عَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ

নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন, যে ব্যাপারে তাকে দায়িত্বশীল করা হয়েছে; সে কি তা যথাযথভাবে পালন করেছে না অবহেলা করেছে! এমনকি পুরুষকে জিজ্ঞাসা করবেন তার পরিবার-পরিজন সম্পর্কে। [সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৪৫৭০]
প্রিয় পাঠক!
আমরা যদি আমাদের ডানে-বামে তাকাই, আশপাশের খবরাখবর ও সংবাদ সংগ্রহ করি, তা হলে দেখতে পাই, আমাদের সমাজে বহু দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে পারিবারিক বিভ্রান্তি, বিচ্যুতি ও প্রচণ্ডতার কারণে।
আমরা সকলেই জানি- পরিবারসমষ্টিকেই সমাজ বলে। সুতরাং, পরিবার ঠিক থাকলে সমাজ ঠিক থাকে; পরিবার ধ্বংস হয়ে গেলে সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়; ধ্বংস হয়ে যেতে বাধ্য। আর তাই আমাদের জন্য আবশ্যক, পরিবার-পরিজনকে তারবিয়াতের প্রতি সচেষ্ট হওয়া।
গুরুত্বারোপ করা, তাদেরকে দ্বীনী দাওয়াত ও তালিম দেওয়া এবং তাদেরকে সংশোধন করা। যেন তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা যায়। অতএব, ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগেই আপনি আপনার পরিবারের প্রতি মনোযোগী হোন; তাদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন।

📘 নিজে বাঁচুন পরিবার বাঁচান > 📄 কার জন্য এ আলোচনা

📄 কার জন্য এ আলোচনা


প্রিয় পাঠক!
বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের বিস্তারিত আলোচনা শুরু করার পূর্বেই আমরা বলে নিতে চাই- কারও জন্য উচিত হবে না পরিবারের দেখাশোনা ও তদারকির বিষয়টি কেবল পিতা বা স্বামীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা; আর যুবকরা এই ওজুহাত দেখিয়ে এ দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা থেকে দূরে থাকা যে, তাদের ঘরে ও পরিবারে তাদের সংশোধনমূলক ভূমিকা খুবই দুর্বল, ক্ষীণ ও নগণ্য। কিংবা এ কথা বলা যে, শরীয়ত তাদের উপর তাদের মা-বোনদের সংশোধনের দায়িত্ব আরোপ করেনি।
বরং এ বিষয়টি- অর্থাৎ পরিবারের দেখাশোনা, তদারকি ও সংশোধনের দায়িত্ব প্রত্যেক ওই ব্যক্তিকেই স্পর্শ করে, যার পরিবার আছে; চাই তিনি পিতা হোন কিংবা মাতা, স্বামী হোন কিংবা স্ত্রী, কিংবা ভাই-ছেলে বা কোনো আত্মীয়-জ্ঞাতি।
আমাদের সামনে সেইসব যুবক সাহাবীর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও নমুনা বিদ্যমান, যারা নিজেদের পরিবারের ইসলাহ ও সংশোধনের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে বহন করেছেন; যারা নবী ﷺ-র হাতে তারবিয়াত পেয়েছেন। যেমন, আবু সুলাইমান মালেক ইবনে হুয়াইরিছ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
أَتَيْنَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ يَوْمًا وَلَيْلَةً وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِيمًا رَفِيقًا فَلَمَّا ظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَهَيْنَا أَهْلَنَا أَوْ قَدِ اشْتَقْنَا سَأَلَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا بَعْدَنَا فَأَخْبَرْنَاهُ قَالَ ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ فَأَقِيمُوا فِيهِمْ وَعَلِّمُوهُمْ وَمُرُوهُمْ

আমরা সমবয়সী একজন যুবক নবী ﷺ-র কাছে হাজির হলাম। বিশ দিন ও বিশ রাত আমরা তার কাছে অবস্থান করলাম। আল্লাহ ﷺ-র রাসূল অত্যন্ত দয়ালু ও নম্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি যখন বুঝতে পারলেন, আমরা আমাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যেতে চাচ্ছি কিংবা ফিরে যাওয়ার জন্য আগ্রহী হয়ে পড়েছি, তখন তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা আমাদের পিছনে কাদের রেখে এসেছি? আমরা তাঁকে তা জানালাম। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝে বসবাস কর। আর তাদের [দ্বীন] শিক্ষা দাও এবং [সৎ কাজের] নির্দেশ দাও। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩১, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬১৭]
বর্তমান যমানার যুবকদের উচিত- যুবক সাহাবীদের অনুসরণ করা; তাদের উপর আল্লাহ যে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা আরোপ করেছেন, তা পরিপূর্ণরূপে উপলব্ধি করা ও তা যথাযথভাবে আদায় করা। অতএব, প্রতিটি যুবকেরই কর্তব্য- নিজ নিজ পরিবারে নিজের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ও অবস্থান তৈরি করা এবং এর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের দ্বীনের পথে, আল্লাহ ﷺ-র পথে আহ্বানের দায়িত্ব পালন করা; প্রজ্ঞা ও হেকমতের সাথে যৌক্তিকভাবে পরিবারের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও স্বল্পগুলোকে সংশোধন করতে মনোযোগী হওয়া।
মনে রাখবেন, বিনা প্রয়োজনে প্রথমে শাস্তি প্রয়োগ ও মারধরের দিকে যাবেন না। তবে যদি এর ছাড়া আর কোনো উপায় না থাকে, তা হলে প্রয়োজন অনুপাতে বিভিন্ন ধাপে ধাপে শরয়ী নীতিমালা ও দিকনির্দেশনার আলোকে তা গ্রহণ করা যেতে পারে।
পরিবারকর্তা বলি আর যুবকদের কথাই বলি, তাদের উচিত- আপন পরিবারের অভ্যন্তরে প্রথমে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য বই-পুস্তক, ফতোয়াচডি ও নানাবিধ উপদেশ সংবলিত ইসলামী ক্যাসেট ইত্যাদির মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সংশোধনের পথে সৃষ্টির চেষ্টা করা।
এ ক্ষেত্রে নারীরাও পুরুষদের মতোই। তাদেরও কর্তব্য- সর্বাগ্রে ইলম অর্জন করা এবং সে অনুযায়ী নিজের ঘর, সংসার, পরিবার-পরিজনকে ইসলাহ ও সংশোধনে আত্মনিয়োগ করা। কত নারীর হাতে তার স্বামী হেদায়েত পেয়েছে! কত বাবারা তার মেয়ের উপদেশে তাওবা করে গুনাহের রাস্তা থেকে ফিরে এসেছে!
নারীদের অভিভাবক ও কর্তাব্যক্তিদের উচিত, এ ব্যাপারে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা; ইলমী দরস ও মজলিসগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণে সহজ করে দেওয়া। তাদেরকে কুরআন শিক্ষা ও কুরআন হিফযে মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেওয়া।
আল্লাহ ﷺযাকেই হেদায়েতের দৌলত দানে সমৃদ্ধ করেছেন, তিনি পুরুষ হোন কিংবা বৃদ্ধ, পুরুষ হোন কিংবা নারী, প্রত্যেকেরই উচিত- নিজ নিজ পরিবারের অভ্যন্তরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও অন্যান্য সদস্যদের উপর ইতিবাচক ও স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করা। পরিবারের সদস্যদের অটুট, বিচ্যুতি ও স্খলনের পথ থেকে দূরে রাখার ফিকির করা। সর্বদাই এই ভাবনায় থাকা- কীভাবে তাদেরকে নেককার ও ভালো মানুষদের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায়!
মনে রাখবেন, আদেশের উপর আস্থাশীলতার কথার আছর তখনই পড়ে, যখন তা নিখুঁত খাঁটি ও একনিষ্ঠ থাকে। একজন মানুষ যখন আন্তরিকভাবেই তার পরিবার-পরিজন ও ভাই-বোনদের কল্যাণ সাধনে ব্রতী হন, আল্লাহ তখন তার জন্য কল্যাণের পথ খুলে দেন।
যেন তাদের কাছে দ্বীনী দাওয়াত ও হক কথা পৌঁছানোর বিভিন্ন মাধ্যম ও পথ আবিষ্কার করে দেন।
একটু ভাবুন, আল্লাহ ﷺ-র নবী মূসা আল্লাহ ﷺ-র দরবারে কী আবেদন জানিয়েছিলেন—
وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي*هَارُونَ أَخِي*اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي*وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي

আর আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন; আমার ভাই হারুনকে। তার মাধ্যমে আমার কোমর মজবুত করুন। [আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন] এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন। [সূরা ত-হা : ২৯-৩২]
এখানে তিনি তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণ কামনা করেছেন। তার সঙ্গে তার কাজে অংশীদারিত্ব চেয়েছেন। যেন আল্লাহ ﷺ-র আনুগত্য ও তার দাওয়াতে সাহায্য করতে পারেন।
অতএব, প্রিয় পাঠক! আপনার নিয়ত শুধু করে নিন। একনিষ্ঠ হোন। আল্লাহ ﷺ-র দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করুন এবং আমাদের সাথে থেকে এ গ্রন্থের সামনের পৃষ্ঠাগুলোতে মনোযোগ দিন। হতে পারে আপনার হাত ধরেই আল্লাহ আপনার পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের জাহান্নাম আযাব থেকে নাজাতের ফায়সালা লিখে দিবেন।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণহৃদয় কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তা-ই করে। [সূরা তাহরীম : ৬]

প্রিয় পাঠক!
বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের বিস্তারিত আলোচনা শুরু করার পূর্বেই আমরা বলে নিতে চাই- কারও জন্য উচিত হবে না পরিবারের দেখাশোনা ও তদারকির বিষয়টি কেবল পিতা বা স্বামীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা; আর যুবকরা এই ওজুহাত দেখিয়ে এ দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা থেকে দূরে থাকা যে, তাদের ঘরে ও পরিবারে তাদের সংশোধনমূলক ভূমিকা খুবই দুর্বল, ক্ষীণ ও নগণ্য। কিংবা এ কথা বলা যে, শরীয়ত তাদের উপর তাদের মা-বোনদের সংশোধনের দায়িত্ব আরোপ করেনি।
বরং এ বিষয়টি- অর্থাৎ পরিবারের দেখাশোনা, তদারকি ও সংশোধনের দায়িত্ব প্রত্যেক ওই ব্যক্তিকেই স্পর্শ করে, যার পরিবার আছে; চাই তিনি পিতা হোন কিংবা মাতা, স্বামী হোন কিংবা স্ত্রী, কিংবা ভাই-ছেলে বা কোনো আত্মীয়-জ্ঞাতি।
আমাদের সামনে সেইসব যুবক সাহাবীর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও নমুনা বিদ্যমান, যারা নিজেদের পরিবারের ইসলাহ ও সংশোধনের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে বহন করেছেন; যারা নবী ﷺ-র হাতে তারবিয়াত পেয়েছেন। যেমন, আবু সুলাইমান মালেক ইবনে হুয়াইরিছ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
أَتَيْنَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ يَوْمًا وَلَيْلَةً وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِيمًا رَفِيقًا فَلَمَّا ظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَهَيْنَا أَهْلَنَا أَوْ قَدِ اشْتَقْنَا سَأَلَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا بَعْدَنَا فَأَخْبَرْنَاهُ قَالَ ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ فَأَقِيمُوا فِيهِمْ وَعَلِّمُوهُمْ وَمُرُوهُمْ

আমরা সমবয়সী একজন যুবক নবী ﷺ-র কাছে হাজির হলাম। বিশ দিন ও বিশ রাত আমরা তার কাছে অবস্থান করলাম। আল্লাহ ﷺ-র রাসূল অত্যন্ত দয়ালু ও নম্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি যখন বুঝতে পারলেন, আমরা আমাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যেতে চাচ্ছি কিংবা ফিরে যাওয়ার জন্য আগ্রহী হয়ে পড়েছি, তখন তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা আমাদের পিছনে কাদের রেখে এসেছি? আমরা তাঁকে তা জানালাম। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝে বসবাস কর। আর তাদের [দ্বীন] শিক্ষা দাও এবং [সৎ কাজের] নির্দেশ দাও। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩১, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬১৭]
বর্তমান যমানার যুবকদের উচিত- যুবক সাহাবীদের অনুসরণ করা; তাদের উপর আল্লাহ যে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা আরোপ করেছেন, তা পরিপূর্ণরূপে উপলব্ধি করা ও তা যথাযথভাবে আদায় করা। অতএব, প্রতিটি যুবকেরই কর্তব্য- নিজ নিজ পরিবারে নিজের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ও অবস্থান তৈরি করা এবং এর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের দ্বীনের পথে, আল্লাহ ﷺ-র পথে আহ্বানের দায়িত্ব পালন করা; প্রজ্ঞা ও হেকমতের সাথে যৌক্তিকভাবে পরিবারের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও স্বল্পগুলোকে সংশোধন করতে মনোযোগী হওয়া।
মনে রাখবেন, বিনা প্রয়োজনে প্রথমে শাস্তি প্রয়োগ ও মারধরের দিকে যাবেন না। তবে যদি এর ছাড়া আর কোনো উপায় না থাকে, তা হলে প্রয়োজন অনুপাতে বিভিন্ন ধাপে ধাপে শরয়ী নীতিমালা ও দিকনির্দেশনার আলোকে তা গ্রহণ করা যেতে পারে।
পরিবারকর্তা বলি আর যুবকদের কথাই বলি, তাদের উচিত- আপন পরিবারের অভ্যন্তরে প্রথমে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য বই-পুস্তক, ফতোয়াচডি ও নানাবিধ উপদেশ সংবলিত ইসলামী ক্যাসেট ইত্যাদির মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সংশোধনের পথে সৃষ্টির চেষ্টা করা।
এ ক্ষেত্রে নারীরাও পুরুষদের মতোই। তাদেরও কর্তব্য- সর্বাগ্রে ইলম অর্জন করা এবং সে অনুযায়ী নিজের ঘর, সংসার, পরিবার-পরিজনকে ইসলাহ ও সংশোধনে আত্মনিয়োগ করা। কত নারীর হাতে তার স্বামী হেদায়েত পেয়েছে! কত বাবারা তার মেয়ের উপদেশে তাওবা করে গুনাহের রাস্তা থেকে ফিরে এসেছে!
নারীদের অভিভাবক ও কর্তাব্যক্তিদের উচিত, এ ব্যাপারে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা; ইলমী দরস ও মজলিসগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণে সহজ করে দেওয়া। তাদেরকে কুরআন শিক্ষা ও কুরআন হিফযে মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেওয়া।
আল্লাহ ﷺযাকেই হেদায়েতের দৌলত দানে সমৃদ্ধ করেছেন, তিনি পুরুষ হোন কিংবা বৃদ্ধ, পুরুষ হোন কিংবা নারী, প্রত্যেকেরই উচিত- নিজ নিজ পরিবারের অভ্যন্তরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও অন্যান্য সদস্যদের উপর ইতিবাচক ও স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করা। পরিবারের সদস্যদের অটুট, বিচ্যুতি ও স্খলনের পথ থেকে দূরে রাখার ফিকির করা। সর্বদাই এই ভাবনায় থাকা- কীভাবে তাদেরকে নেককার ও ভালো মানুষদের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায়!
মনে রাখবেন, আদেশের উপর আস্থাশীলতার কথার আছর তখনই পড়ে, যখন তা নিখুঁত খাঁটি ও একনিষ্ঠ থাকে। একজন মানুষ যখন আন্তরিকভাবেই তার পরিবার-পরিজন ও ভাই-বোনদের কল্যাণ সাধনে ব্রতী হন, আল্লাহ তখন তার জন্য কল্যাণের পথ খুলে দেন।
যেন তাদের কাছে দ্বীনী দাওয়াত ও হক কথা পৌঁছানোর বিভিন্ন মাধ্যম ও পথ আবিষ্কার করে দেন।
একটু ভাবুন, আল্লাহ ﷺ-র নবী মূসা আল্লাহ ﷺ-র দরবারে কী আবেদন জানিয়েছিলেন—
وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي*هَارُونَ أَخِي*اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي*وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي

আর আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন; আমার ভাই হারুনকে। তার মাধ্যমে আমার কোমর মজবুত করুন। [আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন] এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন। [সূরা ত-হা : ২৯-৩২]
এখানে তিনি তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণ কামনা করেছেন। তার সঙ্গে তার কাজে অংশীদারিত্ব চেয়েছেন। যেন আল্লাহ ﷺ-র আনুগত্য ও তার দাওয়াতে সাহায্য করতে পারেন।
অতএব, প্রিয় পাঠক! আপনার নিয়ত শুধু করে নিন। একনিষ্ঠ হোন। আল্লাহ ﷺ-র দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করুন এবং আমাদের সাথে থেকে এ গ্রন্থের সামনের পৃষ্ঠাগুলোতে মনোযোগ দিন। হতে পারে আপনার হাত ধরেই আল্লাহ আপনার পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের জাহান্নাম আযাব থেকে নাজাতের ফায়সালা লিখে দিবেন।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণহৃদয় কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তা-ই করে। [সূরা তাহরীম : ৬]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00