📘 নিফাক থেকে বাঁচুন > 📄 আল্লাহ তাআলাকে ভুলে যাওয়া

📄 আল্লাহ তাআলাকে ভুলে যাওয়া


কিছু মানুষ যখন তাদের মহান প্রতিপালক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ভুলে বসে, তখন বিস্ময়ের কোনো সীমা থাকে না!
তারা আল্লাহ তাআলার নৈকট্যলাভের কোনো উপায় জানেও না, আমলও করে না। তাদেরকে কখনো হালাল-হারাম নিয়ে প্রশ্নও করতে দেখবেন না। এটা স্পষ্ট নিফাকের আলামত। আল্লাহ তাআলা বলেন:
الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ بَعْضُهُم مِّن بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمُنكَرِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمَعْرُوفِ وَيَقْبِضُونَ أَيْدِيَهُمْ نَسُوا اللَّهَ فَنَسِيَهُمْ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
‘মুনাফিক নর-নারী সবারই গতিবিধি এক রকম; শেখায় মন্দ কথা, ভালো কথা থেকে বারণ করে এবং নিজ মুঠো বন্ধ রাখে। আল্লাহকে তারা ভুলে গেছে, কাজেই তিনিও তাদের ভুলে গেছেন। নিঃসন্দেহে মুনাফিকরাই নাফরমান। ’
অতএব কেউ কোনো উপত্যকার নির্জন কোলে ধ্বংসের মুখে ঢলে পড়লেও আল্লাহ তাআলার কিছু যায় আসে না।
আর তাদের নিফাকের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো আল্লাহ তাআলা তাদেরকে নিজেদের ভালোমন্দটুকুও ভুলিয়ে দিয়েছেন। যদ্দরুন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজে দেয়ার মতো কোনো আমল তারা করে না। অর্থাৎ এমন কোনো আমল তারা করে না যা কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে কাজে দেবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنسَاهُمْ أَنفُسَهُمْ أُوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
'তোমরা তাদের মতো হোয়ো না, যারা আল্লাহ তাআলাকে ভুলে গেছে। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে আত্মবিস্মৃত করে দিয়েছেন। তারাই অবাধ্য। '
আল্লাহ তাআলা অধিকাংশ মানুষের স্বভাব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:
يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِّنَ الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ
'তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক জানে এবং তারা পরকালের খবর রাখে না। '
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনুল কাসীর বলেন,
أَيْ أَكْثَرُ النَّاسِ لَيْسَ لَهُمْ عِلْمٌ إِلَّا بِالدُّنْيَا وَأَكْسَابِهَا وَشُؤُوْنِهَا وَمَا فِيهَا، فَهُمْ حُذَاقُ أَذْكِيَاءُ فِي تَحْصِيلِهَا وَوُجُوهِ مَكَاسِبِهَا، وَهُمْ غَافِلُونَ عَمَّا يَنْفَعُهُمْ فِي الدَّارِ الْآخِرَةِ كَأَنَّ أَحَدَهُمْ مُغَفَّلٌ لَا ذِهْنَ لَهُ وَلَا فِكْرَةَ،
'অধিকাংশ মানুষই শুধু দুনিয়া ও দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখে। পার্থিব কামাই রোজগারের ব্যাপারে খুবই বিচক্ষণ হয়। কিন্তু আখিরাতের লাভ- ক্ষতির ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন থাকে। এ ব্যাপারে তাদের কারও কোনো চিন্তা-ফিকিরই নেই।'
হাসান বসরী বলেছেন,
وَاللهِ لَبَلَغَ مِن أحدهم بدنياه أن يَقْلِبُ الدَّرْهَمَ عَلَى ظُفْرِهِ، فَيُخْبِرُكَ بِوَزْنِهِ وَمَا يُحْسِنُ أَنْ يُصَلِّي
'আল্লাহর কসম, এমন অনেক দুনিয়াসক্ত রয়েছে যারা হাতের তালুতে দিরহাম (অন্য যেকোনো বস্তুও) নিয়েই তার সঠিক ওজন বলে দিতে পারে। অথচ ভালোভাবে নামাজ পড়তে পারে না। '
বর্তমান যুগের অধিকাংশ মানুষের অবস্থা ঠিক তা-ই। দেখবেন, দুনিয়ার জন্য হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছে। দিনরাত দৌড়ঝাঁপ করছে। ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটছে। যদি জিজ্ঞেস করেন, 'ভাই, নামাজ পড়েছেন?' বলবে, 'না'।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এমন উদাসীনতা হতে রক্ষা করুন। আমীন! রাসূল বলেছেন,
يُؤْتَى بِالعَبْدِ يَوْمَ القِيَامَةِ فَيَقُولُ اللهُ لَهُ: أَلَمْ أَجْعَلْ لَكَ سَمْعًا وَبَصَرًا وَمَالاً وَوَلَدًا، وَسَخَّرْتُ لَكَ الأَنْعَامَ وَالحَرْثَ، وَتَرَكْتُكَ تَرْأَسُ وَتَرْبَعُ فَكُنْتَ تَظُنُّ أَنَّكَ مُلَاقِي يَوْمَكَ هَذَا؟ فَيَقُولُ: لَا ، فَيَقُولُ لَهُ: اليَوْمَ أَنْسَاكَ كَمَا نَسِيتَنِ
'কিয়ামতের দিন এক বান্দাকে আনা হবে। আল্লাহ তাআলা তাকে বলবেন, তোমাকে আমি কি চোখ-কান দিইনি, ধন-দৌলত, সন্তান-সন্ততি দিইনি, পশু- সম্পদ ও শস্য-সামগ্রী তোমার করতলগত করিনি; তোমাকে তো সরদারি করতে লোকদের সম্পদের এক-চতুর্থাংশ ভোগ করতে ছেড়ে রেখেছিলাম। তুমি কি ধারণা করতে যে, আজকের এই দিনে আমার সঙ্গে তোমার মোলাকাত করতে হবে? সে বলবে, না। আল্লাহ তাআলা বলবেন, আজ তোমাকে আমি ভুলে গেলাম যেভাবে আমাকে তুমি ভুলে গিয়েছিলে।
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাকে আযাবের মধ্যে ছুড়ে ফেলবেন।

টিকাঃ
৪০০. সূরা তাওবা ৯: ৬৭
৪০১. সূরা হাশর ৫৯: ১৯
৪০২, সূরা রুম ৩০:৭
৪০৩. তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৬/২৭৪, ২৭৫। সূরা রূম ৩০: ৭ এর ব্যাখ্যায়。
৪০৪. সুনানে তিরমিযি: ২৪২৮। আবু হুরাইরা ও আবু সাঈদ খুদরী হতে। সনদ সহীহ গরীব। অধ্যায়: কিয়ামত। অনুচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার সামনে উপস্থাপন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00