📘 নিফাক থেকে বাঁচুন > 📄 গুনাহকে সামান্য মনে করা এবং আমলকে কঠিন মনে করা

📄 গুনাহকে সামান্য মনে করা এবং আমলকে কঠিন মনে করা


দীনের প্রতি সংশয় থাকার কারণে মুনাফিকের কাছে যেকোনো ইবাদাতই কঠিন মনে হয়। এটা তার দুর্বল ঈমানের উল্লেখযোগ্য একটি চিত্র। অবশ্য যতটুকু ঈমান সে দাবি করে তাও আসল কি না তা-ই বা কে বলবে?
যাই হোক, মুনাফিক ইবাদাত ও আমলকে বিরাট কঠিন কিছু মনে করে। পক্ষান্তরে গুনাহকে সে খুব সামান্য কিছুই মনে করে। কারণ, সে তো সেই মহান রবের প্রতিই পূর্ণ বিশ্বাস রাখে না, যিনি গুনাহকে গুনাহ বলে সাব্যস্ত করেছেন। পাশাপাশি গুনাহের পরিণামে জাহান্নামের আযাবের বিশ্বাসও তার নেই। তাই পাহাড়-পরিমাণ গুনাহকেও মুনাফিক খুব সামান্য কিছুই মনে করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ
'তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি।'
আখিরাতের শাস্তির ব্যাপারে মুনাফিকের উদাহরণ কুরআনে বর্ণিত ভিন্ন ভিন্ন দুই বাগানের মালিকের মতো। তাদের একজন বলে :
وَمَا أَظُنُّ السَّاعَةَ قَائِمَةً وَلَئِن رُدِدتُ إِلَى رَبِّي لَأَجِدَنَّ خَيْرًا مِّنْهَا مُنقَلَبًا
'এবং আমি মনে করি না যে, কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনো আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব।'
আরেকজন বলে:
وَمَا أَظُنُّ السَّاعَةَ قَائِمَةً وَلَئِن رُّجِعْتُ إِلَى رَبِّي إِنَّ لِي عِندَهُ لَلْحُسْنَى
'আমি মনে করি না যে, কেয়ামত সংঘটিত হবে। আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাই, তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে।'
যদি পৌঁছে যাই..., যদি ফিরে যাই... ইত্যাদি সংশয়পূর্ণ বাক্যসংযোগে কথা বলেও ঘটনাক্রমে আখিরাতের ময়দানে হাজির হয়ে গেলেও জান্নাত পাবে বলে তারা নিশ্চিত! তবে কী দুনিয়ার জীবনে তাদের জীবন-মৃত্যু আল্লাহর জন্য বিলিয়ে দিয়েছে? মোটেও না। তাদের এই টুকটাক আমল এবং অন্তরে পুষে রাখা সন্দেহ কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে কোনো কাজেই দেবে না।
হাসান বসরী বলেন,
إِنَّ الْمُؤْمِنَ جَمَعَ إِحْسَانًا وَشَفَقَةً، وَإِنَّ الكَافِرَ جَمَعَ إِسَاءَةً وَأَمْنًا
'মমিনের মাঝে ইহসান ও দয়া একত্রীভূত হয় আর মুনাফিকের মাঝে খারাপ জিনিস ও অহমিকা একত্রীভূত হয়।'
অর্থাৎ মুমিন নেক আমল করা সত্বেও আল্লাহ তাআলার আযাবের ভয়ে ভীত থাকে। আর মুনাফিক পাপাচারে ডুবে থেকেও জাহান্নাম থেকে নিশ্চিত মুক্তির আশায় থাকে। কখনো কখনো আবার বড়াই করে বলে, 'আমি তো তোমার আগে জান্নাতে যাব'।
কখনো আবার তারা গুনাহে লিপ্ত থেকেও জান্নাতের আশা করার কারণ দর্শাতে গিয়ে বলে, 'আমরা আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালো ধারণা রাখি'।
হাসান বসরী বলেন,
لَيْسَ الْإِيْمَانُ بِالتَّمَنِّي وَلكِنْ مَا وَقَرَ فِي الْقَلْبِ وَصَدَّقَهُ الْعَمَلُ، إِنَّ قَوْماً أَلْهَتْهُمْ أَمَانِيُّ الْمَغْفِرَةِ حَتَّى خَرَجُوا مِنَ الدُّنْيَا وَلَا حَسَنَةَ لَهُمْ وَقَالُوا: تُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللَّهِ وَكَذَبُوْا، لَوْ أَحْسَنُوا الظَّنَّ بِهِ لَأَحْسَنُوا الْعَمَلَ
'আশায় বুক বেঁধে বসে থাকার নাম ঈমান নয়। ঈমান হলো অন্তরে আল্লাহ তাআলার ভয় সৃষ্টি হওয়া এবং কাজেকর্মে তা প্রকাশ পাওয়া। কিছু মানুষ ক্ষমালাভের ধোঁকায় পড়ে কোনো নেক আমল ছাড়াই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে। তারা বলে, 'আমরা আল্লাহ তাআলার প্রতি সুধারণা রাখি'। আসলে তারা মিথ্যা কথা বলে। তারা যদি আল্লাহ তাআলার প্রতি সুধারণা রাখত, তাহলে অবশ্যই নেক আমল করত।'
কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে যখন মুমিন ও মুনাফিকদের মাঝে ব্যবধানের প্রাচীর দাঁড়িয়ে যাবে, সেদিন বিনা আমলে মুক্তির মিথ্যা আশার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ قَالُوا بَلَى وَلَكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّى جَاء أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ
'তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবে, আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।'
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন,
إِنَّ المُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدُ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ، وَإِنَّ الفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ
'ঈমানদার ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে এত বিরাট মনে করে, যেন সে একটা পর্বতের নিচে উপবিষ্ট আছে, আর সে আশঙ্কা করছে যে, সম্ভবত পর্বতটা তার ওপর ধসে পড়বে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে মাছির মতো মনে করে, যা তার নাকে বসে চলে যায়।'
অর্থাৎ নাকের ওপর হাত নাড়া দিলেই মাছি উড়ে যাবে!
অথচ বাস্তবতা কী? বাস্তবতা হলো বহু মানুষকে দেখা যায়, আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে অনুচিত ঠাট্টা মশকরা করে। আবার হাসতে হাসতে ইস্তিগফারও পাঠ করে! বলে, আসতগফিরুল্লাহ! আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি! তার এই ইস্তিগফার কী কাজে দেবে?
ইমাম বুখারী আনাস বিন মালিক হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
إِنَّكُمْ لَتَعْمَلُونَ أَعْمَالًا، هِيَ أَدَقُّ فِي أَعْيُنِكُمْ مِّنَ الشَّعَرِ، إِن كُنَّا لَنَعُدُّهَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْمُوبِقَاتِ
'তোমরা এমন সব কাজ করে থাকো, যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও চিকন। কিন্তু নবী -এর সময়ে আমরা এগুলোকে ধ্বংসকারী মনে করতাম।'
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আনাস কথাটি বলেছেন তাবেয়ীগণকে। রাসূল -এর ভাষ্যমতে যারা উত্তম প্রজন্মেরই অংশ। তাদেরকেই যদি এ কথা বলে থাকেন, তাহলে আমাদের এই ফিতনার যুগে ধ্বংসের ঢালু পথে গড়িয়ে চলা অসতর্ক লোকজনের অবস্থা কী হতে পারে? আল্লাহ আমাদেরকে তার কুদরতি সাহায্য দিয়ে হিফাজত করুন।
ক্ষমার আশায় গুনাহ করে যাওয়া লোকজনের উদাহরণ বনী ইসরাঈলের মুনাফিকদের মতোই। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন :
فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَرِثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَذَا الْأَدْنَى وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِن يَأْتِهِمْ عَرَضُ مَّثْلُهُ يَأْخُذُوهُ
'তারপর তাদের পেছনে এসেছে কিছু অপদার্থ, যারা উত্তরাধিকারী হয়েছে কিতাবের; তারা নিকৃষ্ট পার্থিব উপকরণ আহরণ করছে এবং বলছে, আমাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে। বস্তুত এমনই ধরনের উপকরণ যদি আবারও তাদের সামনে উপস্থিত হয়, তবে তাও তুলে নেবে।'
তারা একদিকে আল্লাহ তাআলার কালাম পাঠ করত, আবার গুনাহও করত। এ নিয়ে তাদের মাঝে কোনো ভয়ভীতি কাজ করত না। তারা মনে করত, তাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে।
হাসান বসরী বলেন,
الْمُؤْمِنُ مَنْ يَعْلَمُ أَنَّ مَا قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ كَمَا قَالَ، وَالْمُؤْمِنُ أَحْسَنُ النَّاسِ عَمَلًا، وَأَشَدُّ النَّاسِ خَوْفًا، لَوْ أَنْفَقَ جَبَلًا مِنْ مَالٍ مَا أَمِنَ دُونَ أَنْ يُعَايِنَ، وَلَا يَزْدَادُ صَلَاحًا وَبِرًّا وَعِبَادَةً إِلَّا ازْدَادَ فَرَقًا، يَقُولُ: لَا أَنْجُولَا أَنْجُو وَالْمُنَافِقُ يَقُولُ: سَوَادُ النَّاسِ كَثِيرُ، وَسَيُغْفَرُ لِي، وَلَا بَأْسَ عَلَيَّ، يُسِيءُ الْعَمَلَ، وَيَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ تَعَالَ
'মুমিন তো আল্লাহ তাআলা যা বলেছেন তা সত্য বলে জানে। উত্তম আমল করে। সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। পাহাড়-পরিমাণ দান করেও আল্লাহ তাআলার সাহায্যের আশা ত্যাগ করে না। তার আমল, সৎকর্ম ও ইবাদাত তার মাঝে খুব বেশি পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারে না। এতকিছুর পরও সে বলে, আমি তো মুক্তি পাব না, মুক্তি পাব না। আর মুনাফিক বলে, মানুষের অনেক অনেক গুনাহ। আমাকে তো শীঘ্রই মাফ করে দেয়া হবে। আমি সামান্য যা গুনাহ করেছি তাতে তেমন সমস্যা নেই। এসব বলে সে আল্লাহ তাআলার প্রতি ক্ষমার আশায় বসে থাকে।'
মুমিন জানে, আল্লাহ তাআলা বলেন :
مَن يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ وَلَا يَجِدْ لَهُ مِن دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا
'যে কেউ মন্দ কাজ করবে, সে তার শাস্তি পাবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া নিজের কোনো সমর্থক বা সাহায্যকারী পাবে না।'
মুমিন আল্লাহ তাআলার এই কথাও জানে:
وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
'এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।'
আল্লাহ তাআলার কালাম জানার পর কিয়ামতের দিন জান্নাত না পাওয়া পর্যন্ত মুমিন তার রবের আযাবের ভয় থেকে নিশ্চিত হতে পারে না। সে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে নিশ্চিত জান্নাতের আশায় গুনাহে জড়িয়ে অপদস্থ হতে চায় না। বরং আযাবের কথা বেশি বেশি স্মরণ করে তার ভয়ভীতি আরও বেড়ে যায়।
পক্ষান্তরে মুনাফিক বলে, আমি তো অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো। মানুষ আমার চেয়ে বড় বড় গুনাহ করছে। তারা জাহান্নামে যাবে। আমি জান্নাতে যাব। অথচ সে আল্লাহ তাআলার এই কথা বেমালুম ভুলে বসে আছে:
وَلَن يَنفَعَكُمُ الْيَوْمَ إِذ ظَلَمْتُمْ أَنَّكُمْ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ
'আজ এ কথা কিছুতেই তোমার কোনো উপকারে আসবে না, যেহেতু তোমরা সীমালঙ্ঘন করেছিলে। তোমরা শাস্তিতে একে অন্যের অংশীদার।'
গুনাহকে সামান্য মনে করা এবং ইবাদাতকে খুব কঠিন কিছু মনে করা আমাদের সময়ের অন্যতম একটি সমস্যা। অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছে যে, মানুষ সামান্য ইবাদাত বন্দেগী করে আল্লাহু জাল্লা জালালুহুকে খোঁটা দিয়ে বসছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَمُنُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا قُل لَّا تَمُنُّوا عَلَيَّ إِسْلَامَكُم بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ لِلْإِيمَانِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
'তারা মুসলমান হয়ে আপনাকে ধন্য করেছে মনে করে। বলুন, তোমরা মুসলমান হয়ে আমাকে ধন্য করেছ মনে কোরো না। বরং আল্লাহ ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদেরকে ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকো।'

টিকাঃ
৩৬৭. সূরা আনআম ৬: ৯১
৩৬৮. সূরা কাহফ ১৮: ৩৬
৩৬৯. সূরা হা-মীম ৪১ : ৫০
৩৭০. তাফসীরে ইবনে কাসীর ৫/৪১৪। সূরা মুমিনুন ২৩ : ৫৭-৬১ এর ব্যাখ্যায়। আযযুহদু ওয়ার রাকাইক (ইবনুল মুবারক), ১/৩৫০। হাদীস নং ৯৮৫।
৩৭১. ইরশাদু আকলিস সালীম ইলা মাযায়াল কিতাবিল কারীম (তাফসীরে ইবনে সাউদ), ২/২৩৫। সূরা নিসা ৪ : ১২৩ এর ব্যাখ্যায়। তবে উল্লেখিত উক্তি নিয়ে আপত্তি রয়েছে। প্রথমত পুরো মন্তব্যটি হাসান বসরী থেকে প্রমাণিত নয়। প্রথম অংশটুকু প্রমাণিত। তাও সনদে আপত্তি রয়েছে। ফাইযুল কাদীর: ৫/৩৫৫। হাদিস নং ৭৫৭০।
৩৭২, সূরা হাদীদ ৫৭: ১৪
৩৭৩. সহীহ বুখারি: ৬৩০৮। অধ্যায়: দুআ। অনুচ্ছেদ: তাওবা করা।
৩৭৪. সহীহ বুখারী: ৬৪৯২। অধ্যায়: সদয় হওয়া। অনুছেদ: গুনাহ তুচ্ছ মনে করা হতে বিরত থাকা।
৩৭৫. সূরা আরাফ ৭: ১৬৯
৩৭৬. আয যুহদু ওয়ার রাকাইক (ইবনুল মুবারক): ১/১৮৭। হাদীস নং ৫৩২।
৩৭৭. সূরা নিসা ৪: ১২৩
৩৭৮. সূরা যিলযাল ৯৯:৮
৩৭৯. সূরা যুখরুফ ৪৩: ৩৯
৩৮০. সূরা হুজুরাত ৪৯ : ১৭

📘 নিফাক থেকে বাঁচুন > 📄 তাওবা করতে অনীহা প্রকাশ করা

📄 তাওবা করতে অনীহা প্রকাশ করা


মুনাফিকদের আরেকটি স্বভাব বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ لَوَّوْا رُؤُوسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّونَ وَهُم مُّسْتَكْبِرُونَ
'যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা এসো, আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন তারা মাথা ঘুরিয়ে নেয় এবং আপনি তাদেরকে দেখেন যে, তারা অহংকার করে মুখ ফিরিয়ে নেয়।'
ব্যাপারটা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। ইতিপূর্বে আমরা জেনেছি যে, মুনাফিকের দল রাসূল -এর সাথে অভদ্র আচরণে অভ্যস্ত। গুনাহকে সামান্য মনে করে। এবং আল্লাহ তাআলাকে যথাযথ সম্মান করে না। তাহলে আর তাওবা কিসের? কেন তারা তাওবা করবে?
তারচেয়ে বরং আল্লাহ তাআলার মাগফিরাত সম্পর্কে তাদের আপত্তি তুচ্ছতাচ্ছিল্যের অবস্থাও লক্ষ করুন। জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাসূল -এর এক ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَصْعَدُ الثَّنِيَّةَ، ثَنِيَّةَ الْمُرَارِ، فَإِنَّهُ يُحَطَّ عَنْهُ مَا حُطَ عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالَ: فَكَانَ أَوَّلَ مَنْ صَعِدَهَا خَيْلُنَا، خَيْلُ بَنِي الْخَزْرَج، ثُمَّ تَتَامَّ النَّاسُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَكُلُّكُمْ مَغْفُورُ لَهُ، إِلَّا صَاحِبَ الْجَمَلِ الْأَحْمَرِ» فَأَتَيْنَاهُ فَقُلْنَا لَهُ: تَعَالَ، يَسْتَغْفِرْ لَكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: وَاللَّهِ لَأَنْ أَجِدَ ضَالَّتِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لِي صَاحِبُكُمْ، قَالَ وَكَانَ رَجُلُ يَنْشُدُ ضَالَّةً لَهُ،
'রাসূলুল্লাহ বলেছেন, মুরার ঘাঁটিতে (হুদাইবিয়ার নিকটে) কে আরোহণ করবে? যে আরোহণ করবে, তার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, যেমন বনী ইসরাঈলকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল। জাবির বলেন, প্রথমে ওই ঘাঁটিতে আরোহণ করল আমাদের বনী খাযরাজের ঘোড়াগুলো। তারপর লোকেরা পেছনে এল। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, তোমাদের সকলকেই ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, লাল উষ্ট্রের মালিক ব্যতীত। (লোকটি মুনাফিক ছিল। সে গুনাহ মাফের সুযোগটি কাজে লাগাতে আগ্রহী ছিল না।) তখন আমরা ওই লোকটির নিকট গিয়ে বললাম, এসো, রাসূলুল্লাহ তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। সে বলল, আমি যদি আমার হারানো উটটি পেয়ে যাই তবে তা অবশ্য আমার জন্য তোমাদের সঙ্গীর দুআ থেকে শ্রেয়। জাবির বলেন, এ লোকটি তার হারানো উষ্ট্রী তালাশে ছিল।’
চিন্তা করে দেখুন! এই মুনাফিকের কাছে আল্লাহ তাআলার রাসূল -এর পক্ষ হতে মাগফিরাতের দুআর চেয়েও হারানো প্রাণী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল।
আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের স্বভাব বর্ণনা করতে গিয়ে আরও বলেন:
أَوَلَا يَرَوْنَ أَنَّهُمْ يُفْتَنُونَ فِي كُلِّ عَامٍ مَّرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ لَا يَتُوبُونَ وَلَا هُمْ يَذَّكَّرُونَ
'তারা কি লক্ষ করে না, প্রতিবছর তারা দু-একবার পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছে, অথচ তারা এরপরও তাওবা করে না কিংবা উপদেশ গ্রহণ করে না।'
বিপদাপদের বেসামাল ধাক্কাও তাদেরকে তাওবার পথে নিতে পারেনি!
কিয়ামতের দিন যখন মুমিন আর মুনাফিকদের মাঝে প্রাচীর দাঁড় করানো হবে। সেদিন অন্যান্য কারণের পাশাপাশি এই তাওবা-বিমুখ মানসিকতার জন্যও তাদেরকে তিরস্কার করা হবে। ইমাম ইবনুল কাসীর বলেন,
وَتَرَبَّصْتُمْ أَيْ أَخَرْتُمُ التَّوْبَةَ مِنْ وَقْتٍ إِلَى وَقْتٍ
'আর তোমরা প্রতীক্ষা করেছ। অর্থাৎ তাওবা করতে কালক্ষেপণ করেছ।'
দুনিয়ার জীবনে একদিনের জন্যেও কি তাদের তাওবার সুযোগ হয়নি?
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ جاؤُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
'বস্তুত আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয়। আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রাসূলও যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন। অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত।'
এমনিভাবে যারা তাওবা করতে গড়িমসি করছেন। তারা নিফাকের স্বভাবের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।
আরেক দল মানুষ আছেন যাদেরকে গুনাহ ত্যাগের উপদেশ দিলে বলে, 'শাইখ, আল্লাহ তাআলার দরবারে আমাদের জন্য হিদায়াতের দুআ করুন'। নিচের আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাদের উদাহরণ তুলে ধরেছেন।
سَيَقُولُ لَكَ الْمُخَلَّفُونَ مِنَ الْأَعْرَابِ شَغَلَتْنَا أَمْوَالُنَا وَأَهْلُونَا فَاسْتَغْفِرْ لَنَا يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِم مَّا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ لَكُم مِّنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ نَفْعًا بَلْ كَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
'মরুবাসীদের মধ্যে যারা গৃহে বসে রয়েছে, তারা আপনাকে বলবে, আমরা আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার- পরিজনের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। অতএব, আমাদের পাপ মার্জনা করান। তারা মুখে এমন কথা বলবে, যা তাদের অন্তরে নেই। বলুন, আল্লাহ তোমাদের ক্ষতি অথবা উপকার সাধনের ইচ্ছা করলে কে তাকে বিরত রাখতে পারে? বরং তোমরা যা করো, আল্লাহ সে বিষয় পরিপূর্ণ জ্ঞাত।'
ইস্তিগফার অর্থাৎ ক্ষমা প্রার্থনার প্রশ্নে তারা যদি আসলেই সত্যবাদী হতো, তাহলে অবশ্যই গুনাহ ত্যাগ করত। তাদের বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِم مَّا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ 'তারা মুখে এমন কথা বলবে, যা তাদের অন্তরে নেই।'
পক্ষান্তরে মুমিনের অবস্থা দেখুন:
إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَواْ إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِّنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُواْ فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ
'যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের ওপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে ওঠে। '

টিকাঃ
৩৮১. সূরা মুমিনুন ২৩:৬০
৩৮২. সুনানে ইবনে মাজা: ৪১৯৮। সনদ সহীহ। অধ্যায়: যুহদ (ভোগবিলাসে অনাসক্তি)। অনুচ্ছেদ: আমল সম্পর্কে আশঙ্কা。
৩৮৩. সহীহ বুখারী। অধ্যায়: ঈমান। অনুচ্ছেদ: ২, অজান্তে মুমিনের আমল নষ্ট হওয়ার ভয়。
৩৮৪. সূরা মুনাফিকুন ৬৩: ৫
৩৮৫. সহীহ মুসলিম: ২৭৮০। অধ্যায়: মুনাফিকদের আচরণ এবং তাদের সম্পর্কে বিধান। * হাদীসের মাঝে বন্ধনীতে থাকা বাক্যগুলো গ্রন্থকার কর্তৃক সংযুক্ত। অবশ্য মুসলিম শরীফের যেকোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থে এসবের সত্যতা মিলবে।
৩৮৬. সূরা তাওবা ৯: ১২৬
৩৮৭. তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৮/৫১। সূরা হাদীদ ৫৭: ১৩-১৫ এর ব্যাখ্যায়।
৩৮৮. সূরা নিসা ৪: ৬৪
৩৮৯. সূরা ফাতাহ ৪৮: ১১
৩৯০. সূরা আরাফ ৭: ২০১

📘 নিফাক থেকে বাঁচুন > 📄 স্বেচ্ছায় ফিতনা ফাসাদে জড়ানো

📄 স্বেচ্ছায় ফিতনা ফাসাদে জড়ানো


হাশরের ময়দানে ঈমানদার ও মুনাফিকদের মাঝে দেয়াল দাঁড় করানোর পর মুনাফিকরা প্রবল আপত্তি জানাবে। তখন তাদের আপত্তির উপযুক্ত জবাবও দেয়া হবে। প্রথমেই যা বলা হবে তা হলো:
بَلَى وَلَكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ
'হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ।'
যার অন্তরে নিফাক রয়েছে সে গুনাহের চারিপাশে এমনভাবে ঘুর ঘুর করে যেমন ময়লা আবর্জনার চারিপাশে মাছি ভোঁ ভোঁ করে ওড়ে।
গুনাহের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে মুনাফিকের দল অনেক সময় উলামায়ে কেরামের মতবিরোধকে ঢাল বানায়। বলে, এটা তো স্পষ্টভাবে হারাম নয়। নিজেকে এবং মানুষকে তারা এই বলে প্রবোধ দেয় যে, 'তার নিয়‍্যাত বা উদ্দেশ্য ভালো'। যেমন: গ্রহণযোগ্য কোনো শরঈ কারণ ছাড়াই এরা ব্যাপকহারে পরনারীদের সাথে সাক্ষাৎ করে। মুখে মুখে 'মন ভালো আছে' বললেও অন্তরে কামনা ও বাসনা ঠিকই জাগে।
এ কারণেই তারা এমনসব জিনিস দেখে যা আল্লাহ তাআলা হারাম করে দিয়েছেন। যেমন: বিভিন্ন নাটক-সিরিয়াল ও অশ্লীল গান-বাজনা ইত্যাদি। এসব দেখে দেখে তাদের অন্তর এমন বিগড়ে যায় যে, এরপর তাদের কাছে গুনাহবিরোধী কথাবার্তা ভালো লাগে না এবং আল্লাহ তাআলার বিভিন্ন নিদর্শন ও নির্দেশের প্রতি তারা বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠে। তখন তারা নিজেদেরকে আর অন্যদের মতো ভাবতে পারে না। এবং এভাবেই নিজেদের গভীর বিপদে ফেলে দেয়।
হাশরের ময়দানে যেদিন বাধার প্রাচীর দাঁড় করানো হবে। ঈমানের নূরে পথ চলার জন্য তীব্র হাহাকার দেখা দেবে। তার আগে মুনাফিকদের বোধোদয় হবে না। তবে মুমিন কঠোরহস্তে এমন বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যায়।

টিকাঃ
৩৯১. সূরা হাদীদ ৫৭: ১৪

📘 নিফাক থেকে বাঁচুন > 📄 ঝগড়া-বিবাদের সময় গালাগালের মতো অশ্লীল ও অন্যায্য পথ অবলম্বন করা

📄 ঝগড়া-বিবাদের সময় গালাগালের মতো অশ্লীল ও অন্যায্য পথ অবলম্বন করা


রাসূল বলেছেন,
أَرْبَعُ خِلَالٍ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا: مَنْ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النَّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا
'চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে খালিস মুনাফিক বলে গণ্য হবে। যে ব্যক্তি কথা বলার সময় মিথ্যা বলে, আর অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে, প্রতিশ্রুতি দিলে বিশ্বাসঘাতকতা করে, যখন ঝগড়া করে গালাগালি করে। যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি স্বভাব পাওয়া যাবে, তার মধ্যে নিফাকের একটি স্বভাব পাওয়া গেল, যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে।'
'ফুজুর' তথা অন্যায় অপকর্ম বা গালাগাল করা একটি জঘন্য বদ স্বভাব। এই স্বভাবটি মানুষকে মিথ্যায় অভ্যস্ত করে তোলে। সত্যের প্রতি অনাসক্তি তৈরি করে। ন্যায়নীতি ও অন্যের অধিকার ভুলিয়ে দেয়। গুনাহের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে। এ সবই এমন স্বভাব যা ঝগড়ার সময় মুনাফিকের আচরণে প্রকাশ পেয়ে থাকে।
অশ্লীল গালিগালাজ মূলত আখিরাতের প্রতি সন্দেহের প্রমাণ বহন করে। কারণ ঈমানদার ব্যক্তি কোনো কারণে বিবাদে জড়ালেও অন্যের হক নষ্ট করার মতো ভাষা ব্যবহার না করে নিজের হক ছেড়ে দেয়। সে নিজেকে এই বলে প্রবোধ দেয় যে, 'এর বিনিময়ে কিয়ামতের কঠিন প্রয়োজনের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট 'গোপন পুরস্কার' লাভ করবে।
কিন্তু দুর্বল ঈমানের মানুষ বিষয়টাকে এভাবে বুঝতে পারে না। তাই সে নিজের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয়ে কঠোর ভাষায় রাগের প্রকাশ ঘটায়। ঝগড়া-বিবাদে নিজের প্রতিপক্ষের ওপর চরম প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে চড়াও হয়।
আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থায় দাম্পত্যজীবনে ঝগড়া-বিবাদের এই চিত্র প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদে গড়ানোর জন্য এই সমস্যার ভূমিকা মারাত্মক ও অনস্বীকার্য। এসব ক্ষেত্রে লোকজন পারিবারিক দায়বদ্ধতার কোনো পরোয়া তো করেই না, এমনকি আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত বাণী থেকেও কিছু শিখতে চায় না :
وَلَا تَنسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
'আর পারস্পরিক সহানুভূতির কথা বিস্মৃত হোয়ো না। নিশ্চয় তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ সেসবই অত্যন্ত ভালো করে দেখেন।'

টিকাঃ
৩৯২. সহীহ বুখারী: ৩১৭৮। আব্দুল্লাহ বিন আমর হতে। অধ্যায়: জিযিয়া। অনুচ্ছেদ: যারা অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে তাদের গুনাহ।
৩৯৩. আল মুনাজ্জাদু ফিল লুগাতি: ৫৬৯। 'فجْز' শব্দের অর্থে। তবে মূল গ্রন্থে যেভাবে আছে অভিধানে হুবহু সেভাবে নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00