📘 নেতৃত্বের মোহ > 📄 রাষ্ট্র ক্ষমতাপ্রীতির প্রতিকার

📄 রাষ্ট্র ক্ষমতাপ্রীতির প্রতিকার


রোগের সাথে সাথে তার ঔষধ বা প্রতিকারের ব্যবস্থা বান্দাদের উপর মহান আল্লাহ তা'আলার অসীম অনুগ্রহের অন্যতম। কাজেই রাষ্ট্র ক্ষমতাপ্রীতির ক্ষেত্রেও এমনটা প্রযোজ্য। নিম্নে তার কিছু প্রধান প্রধান চিকিৎসা উল্লেখ করা হ'ল।
১. আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য খাঁটি মনে কাজ করা :
ইবনু রজব বলেন, ওয়াহহাব ইবনু মুনাব্বিহ মাকহুলের নিকট একটি পত্রে লিখেছিলেন, 'আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও নবী করীম (ছাঃ)-কে ছালাত ও সালাম জানানোর পর তোমাকে বলছি, তুমি তো তোমার প্রকাশ্য বিদ্যা দ্বারা মানব সমাজে বেশ নাম-কাম ও মর্যাদা লাভ করেছ, এখন তোমার অপ্রকাশ্য বিদ্যা দ্বারা আল্লাহ্র নিকট মর্যাদা ও নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো। জেনে রাখ, উল্লিখিত দু'টি অবস্থানের একটি অন্যের জন্য বাধা স্বরূপ'।
প্রকাশ্য বিদ্যা বলতে এখানে শরী'আতের বিধি-বিধান, ফাতাওয়া, কিচ্ছা-কাহিনী, ওয়ায-নছীহত ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। এগুলো দ্বারা ঐ বিদ্বান ব্যক্তি মানব সমাজে একটি বিশেষ স্থান ও মর্যাদা তৈরী করতে পারে। পক্ষান্তরে অপ্রকাশ্য বিদ্যা মানুষের অন্তরে গচ্ছিত থাকে। যেমন মহান আল্লাহ্র পরিচয়, তাঁর ভয়, তাঁকে ভালবাসা, তাঁকে মুরাকাবা বা ধ্যান করা, তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় করা, তাঁর সাথে সাক্ষাতে আগ্রহী হওয়া, তাঁর উপর ভরসা করা, তাঁর ফায়ছালার উপর সন্তুষ্ট থাকা, নশ্বর দুনিয়ার সম্পদকে উপেক্ষা করা, অবিনশ্বর আখিরাতের প্রতি মনোনিবেশ করা ইত্যাদি। এসবই এ ধরনের বিদ্যার মালিককে আল্লাহ্র নিকট বিশেষ স্থান ও মর্যাদার অধিকারী করে দেয়। কিন্তু দু'টি অবস্থানের একটি অন্যের জন্য বাধা। সুতরাং যে তার প্রকাশ্য বিদ্যা দ্বারা পৃথিবীতে মর্যাদা বা উচ্চাসন চাইবে, তার লক্ষ্য হবে কী করে মানব সমাজে তার সম্মানের মুকুট ধরে রাখা যায়। সে পৃথিবীতে তার সম্মান ধরে রাখতে যা যা করার করবে এবং এ সম্মান কোন সময় চলে যায় তার আশঙ্কায় সে শঙ্কিত থাকবে। কিন্তু এতে করে মহান আল্লাহ্র নিকট তার কোন মূল্য থাকবে না; বরং আল্লাহ্র সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। এজন্যই জনৈক বিদ্বান বলেছেন, আল্লাহ্র সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বদলে যে দুনিয়া গ্রহণ করে তার জন্য বড়ই দুর্ভোগ।৪৮
২. দায়িত্ব লাভের আবেদন মঞ্জুর না করা :
عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَرَجُلَانِ مِنْ بَنِي عَمِّى فَقَالَ أَحَدُ الرَّجُلَيْنِ يَا رَسُولَ اللهِ أَمِّرْنَا عَلَى بَعْضٍ مَا وَلَاكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ. وَقَالَ الآخَرُ مِثْلَ ذَلِكَ فَقَالَ إِنَّا وَاللَّهِ لَا نُوَلِّى عَلَى هَذَا الْعَمَلِ أَحَدًا سَأَلَهُ وَلَا أَحَدًا حَرَصَ عَلَيْهِ -
আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি ও আমার চাচার সন্তানদের দু'জন লোক নবী করীম (ছাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করি। ঐ দু'জনের একজন বলে বসে, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আল্লাহ আপনাকে যে ক্ষমতা প্রদান করেছেন, তার কোন একটা দায়িত্ব আমাদের দিন। অন্যজনও তার মত বলে ওঠে। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ্র কসম! আমরা তো এই কাজের দায়িত্ব তাকে দেই না যে তার আবেদন করে এবং তাকে দেই না যে তা পাওয়ার লোভ করে'।৪৯
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, اتقوا الله فإن أَحْوَنَكُمْ عندنا من طلب العمل 'সাবধান! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। কেননা আমাদের হিসাবে তোমাদের মধ্যকার ঐ লোকই সবচেয়ে বড় খিয়ানতকারী, যে (সরকারী) পদ লাভের আবেদন করে।৫০
৩. পরামর্শ গ্রহণ করা :
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করবে কি করবে না এ প্রসঙ্গে পরামর্শ করার দু'টি জায়গা রয়েছে।
প্রথম জায়গা : যখন রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয় কিংবা তা চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন হিতাকাঙ্খী সত্যপন্থী লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে যে, সে এ কাজের যোগ্য কি-না?
عَنْ أَبِي ذَرِّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَلاَ تَسْتَعْمِلُنِي؟ قَالَ فَضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى مَنْكِبِى ثُمَّ قَالَ يَا أَبَا ذَرِّ إِنَّكَ ضَعِيفٌ وَإِنَّهَا أَمَانَةً وَإِنَّهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ خِزْى وَنَدَامَةً إِلَّا مَنْ أَخَذَهَا بِحَقِّهَا وَأَدَّى الَّذِي عَلَيْهِ فِيْهَا -
আবু যার (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আপনি কি আমাকে আমেল বা কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন না? তখন তিনি আমার কাঁধে আঘাত করে বললেন, 'আবু যার তুমি দুর্বল মানুষ। আর (রাষ্ট্রীয়) পদ একটি আমানত। ক্বিয়ামতের দিন এ আমানত অপমান ও অনুশোচনার কারণ হবে। কেবল তারাই রক্ষা পাবে, যারা যথাযথভাবে আমানত রক্ষা করবে এবং স্বীয় কর্তব্য পালন করবে'।৫১
অন্য বর্ণনায় এসেছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে বললেন, يَا أَبَا ذَرِّ إِنِّي أَرَاكَ ضَعِيفًا وَإِنِّي أُحِبُّ لَكَ مَا أُحِبُّ لِنَفْسِي لاَ تَأَمَّرَنَّ عَلَى اثْنَيْنِ وَلَا تَوَلَّيَنَّ مَالَ يَتيمٍ 'আবু যার! আমার দৃষ্টিতে তুমি একজন দুর্বল মানুষ। আর আমি নিজের জন্য যা ভালবাসি তা তোমার জন্যও ভালবাসি। তুমি কখনই দু'জন লোকেরও শাসক হ'তে যেও না এবং কখনই ইয়াতীমের মালের অভিভাবকত্ব করো না'।৫২
ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আবু যার (রাঃ)-কে শাসন কর্তৃত্ব গ্রহণ করতে নিষেধ করেছিলেন। কেননা তিনি তাকে দুর্বল মনে করেছিলেন। অথচ তিনি নিজে তাঁর সম্বন্ধে বলেছেন, مَا أَظَلَّتِ الْخَصْرَاءُ وَلَا أَفَلَتِ الْغَبْرَاءُ أَصْدَقَ مِنْ أَبِي ذَرِّ - ‘আকাশের নীচে মাটির উপরে আবু যার থেকে অধিক সত্যভাষী আর কেউ নেই'।৫৩
দ্বিতীয় জায়গা : রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর পরামর্শ গ্রহণ করা। যাতে করে ক্ষমতাসীন ব্যক্তি স্বৈরাচারী না হয়ে যায় এবং তার চিন্তা-চেতনাকে সে তীক্ষ্ণ করতে পারে। আল্লাহ বলেন, وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ‘আর কাজে-কর্মে তাদের পরামর্শ গ্রহণ কর' (আলে ইমরান ৩/১৫৯)।
৪. রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার খারাপ ফল স্মরণ করা :
ইবনু হিব্বان (রহঃ) বলেছেন,
رؤساء القوم أعظمهم هموما وأدومهم غموما وأشغلهم قلوبا وأشهرهم عيوبا وأكثرهم عدوا وأشدهم أحزانا وأنكاهم أشجانا وأكثرهم في القيامة حسابا وأشدهم إن لم يعف الله عنهم عذابا
'দেশ ও জাতির নেতার দুশ্চিন্তা সবার চেয়ে বেশী। তার দুঃখের মাত্রা সর্বাধিক। তাকেই সবচেয়ে বেশী ব্যস্তমনা থাকতে হয়। তার বদনামও দেশজোড়া। শত্রুর সংখ্যা তার সবার উপরে। পেরেশানীও তাকে বেশী পেয়ে বসে। বিব্রতকর পরিস্থিতিও তাকে বেশী সামলাতে হয়। ক্বিয়ামতে তাকেই সবচেয়ে বেশী হিসাব দিতে হবে এবং আল্লাহ তা'আলা মাফ না করলে সেই ক্বিয়ামতে কঠিন আযাব ভোগ করবে'।৫৪
ইবনু রজব বলেছেন, 'মানুষের কোন ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়। কাজেই অস্থায়ী ও বিচ্ছিন্ন ক্ষমতা যা আগামী দিনে তার মালিকের জন্য আফসোস, অনুশোচনা, অপমান, লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা বয়ে আনবে তার ভাবনাই ক্ষমতা লাভের চিন্তা থেকে মানুষকে দূরে রাখতে পারে। এভাবে ক্ষমতা থেকে দূরে থাকার অনেক উপায় ভেবে বের করা যায়। যেমন, যে মানুষ পৃথিবীতে শাসন ক্ষমতা লাভের পর শাসনকেন্দ্রিক ইসলাম নির্দেশিত দায়িত্ব পালন করে না, ক্বিয়ামতে তার ভয়াবহ পরিণতি কী হবে তা ভাবা যেতে পারে। আবার পৃথিবীতেও অত্যাচারী, স্বৈরাচারী, অহঙ্কারী শাসকদের পরিণতি লক্ষ্য করা যেতে পারে।
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الدَّرِّ فِي صُوَرِ الرِّجَالِ يَغْشَاهُمُ الذُّلُّ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَيُسَاقُوْنَ إِلَى سِحْنٍ فِي جَهَنَّمَ يُسَمَّى بُوْلَسَ تَعْلُوْهُمْ نَارُ الأَنْبَارِ يُسْقَوْنَ مِنْ عُصَارَةِ أَهْلِ النَّارِ، طَيِّنَةِ الْخَبَالِ
আমর ইবনু শু'আইব কর্তৃক তার পিতা হ'তে তিনি তার দাদা হ'তে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, 'ক্বিয়ামত দিবসে অহঙ্কারীদেরকে পিঁপড়ার মত ক্ষুদ্র করে মানুষের আকৃতিতে তোলা হবে। চারদিক থেকে অপমান তাদের ঘিরে ধরবে। তারপর তদেরকে জাহান্নামের একটি জেলখানার দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যার নাম বুলাস। আগুন তাদের ঘিরে ধরবে। জাহান্নামীদের রক্ত, পুঁজ তাদের পান করতে দেওয়া হবে'।৫৫
এক ব্যক্তি ওমর (রাঃ)-এর নিকট জনগণের মাঝে কিচ্ছা-কাহিনী বলে বেড়ানোর অনুমতি চাইল। তিনি তাকে বললেন, আমার ভয় হয় যে, তুমি তাদের মাঝে কিচ্ছা বা ইতিহাস বলতে গিয়ে নিজেকে তাদের থেকে বড় মনে করবে। তারপর ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তোমাকে তাদের পায়ের তলা দিয়ে পিষবেন।৫৬
ইমাম ইবনু তায়মিয়া (রহঃ) বলেছেন, পৃথিবীতে ক্ষমতাধর শাসকরা তাদের ক্ষমতা লাভে সাহায্যকারীদের প্রতি অনুগত দাস হয়ে থাকে। তাদের নেতা ও গণ্যমান্য মনে হয়। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে তারা তাদের অধীনস্ত সহযোগীদের সহযোগিতা আশা করে এবং অসহযোগিতার ভয়ে ভীত থাকে। এ কারণে তাদের জন্য তারা অর্থকড়ি, রাষ্ট্রীয় পদ ও সুযোগ-সুবিধা ব্যয় করে। তাদের সকল দোষ ও অপরাধ তারা মাফ করে দেয়। যাতে তাদের নিরঙ্কুশ আনুগত্য ও সহযোগিতা বজায় থাকে। সুতরাং খোলা চোখে তাদের রাষ্ট্র প্রধান ও মহামান্য মনে হ'লেও প্রকৃতপক্ষে তারা তাদের অনুগত দাস ছাড়া কিছু নয়।
মোটকথা, শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীরা একে অপরের দাস। তারা উভয়েই আল্লাহ্র প্রকৃত ইবাদত বর্জনকারী। তারা যেহেতু যমীনের বুকে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা লাভে একে অপরের সহযোগী তাই উভয় পক্ষই অশ্লীল কাজে কিংবা চুরি-ডাকাতিতে পরস্পর সাহায্যকারীর মত। ফলে উভয় শ্রেণীই খেয়াল-খুশির দাসত্ব করতে গিয়ে পরস্পরের দাস হয়ে যায়।৫৭
৫. সর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা, তওবা ও আত্মসমালোচনা করতে থাকা :
ইবনু হিব্বান বলেছেন, যে মুসলমানদের শাসনকাজের দায়িত্ব বহন করে প্রতি মুহূর্তে তার আল্লাহ্র দিকে প্রত্যাবর্তন করা অবশ্য কর্তব্য। যাতে ক্ষমতার ব্যাপারে তার কোন বাড়াবাড়ি হয়ে না যায়। সে আল্লাহ্র বড়ত্ব, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির কথা স্মরণ করবে। আল্লাহ্ই তো যালিমের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী এবং নেককারদের প্রতিদান প্রদানকারী। সুতরাং শাসক তার কাজে অবশ্যই এমন আচরণ করবে, যাতে তার ইহলোক-পরলোক সবলোকেই কল্যাণ হয়। সে যেন তার পূর্ববর্তী শাসকদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। কেননা সে যে দায়িত্ব পেয়েছে সেজন্য অবশ্যই তাকে আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করতে হবে। একইভাবে এজন্য তাকে ক্বিয়ামতে অবশ্যই আল্লাহ্র দরবারে হিসাব দিতে হবে।৫৮
৬. বিদ্যা চর্চায় ব্যস্ত থাকা, কোন সময় তা বন্ধ করে না দেওয়া :
ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, تَفَقَّهُوْا قَبْلَ أَنْ تُسَوَّدُوا ‘নেতা হওয়ার আগে তোমরা বিদ্যা অর্জন কর'। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, নেতা হওয়ার পরেও তোমরা বিদ্যা অর্জন করতে থাক। নবী করীম (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণ তো বৃদ্ধ বয়সে বিদ্যা শিখেছেন।৫৯
হাসান বিন মানছুর আল-জাচ্‌ছাছ বলেন, আমি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কত বছর পর্যন্ত একজন মানুষ লেখা পড়া শিখবে? তিনি বললেন, মৃত্যু পর্যন্ত।৬০
৭. দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হয়ে আখেরাতের প্রতি আসক্ত হওয়া এবং আখেরাতের কাজে প্রতিযোগিতা করা :
ইবনু রজব বলেছেন, জেনে রাখ মানুষের মন সমকালীন সকল মানুষের উপর প্রাধান্য লাভ করতে ও তাদের উপর কর্তৃত্ব করতে ভালবাসে। এখান থেকেই উৎপত্তি ঘটে অহঙ্কার ও হিংসার। কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ স্থায়ী উচ্চতা লাভের চেষ্টা চালিয়ে যায়। যাতে রয়েছে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি, নৈকট্য ও সাহচর্য। নশ্বর ও অস্থায়ী উচ্চতায় তার কোনই আগ্রহ থাকে না। যার পেছনে থাকে আল্লাহ্র অসন্তোষ, ক্রোধ তার থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং মানুষের অবনতি। এই দ্বিতীয় প্রকার উচ্চতারই নিন্দা করা হয়েছে। এ উচ্চতা অবাধ্যতামূলক এবং ভূপৃষ্ঠে অন্যায়ভাবে অহংকার প্রদর্শন মাত্র।
পক্ষান্তরে প্রথম প্রকার উচ্চতা লাভের জন্য লোভ করা প্রশংসার যোগ্য। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُوْنَ 'এতে বিজয়ী হওয়ার জন্য সকল প্রতিযোগী যেন প্রতিযোগিতা করে' (মুতাফফিফীন ৮৩/২৬)।৬১
ইমাম ইবনু তায়মিয়া (রহঃ) বলেছেন, وَأَمَّا الدُّنْيَا فَأَمْرُهَا حَقِيرٌ وَكَبِيرُهَا صَغِيرٌ، وَغَايَةُ أَمْرِهَا يَعُودُ إِلَى الرِّيَاسَةِ وَالْمَالِ، وَغَايَةُ ذِي الرِّيَاسَةِ أَنْ يَكُونَ كَفِرْعَوْنَ الَّذِي أَغْرَقَهُ اللَّهُ فِي الْيَمِّ انْتِقَامًا مِنْهُ، وَغَايَةُ ذِي الْمَالِ أَنْ يَكُونَ كقارون الَّذِي خَسَفَ اللَّهُ بِهِ الْأَرْضَ فَهُوَ يَتَجَلْجَلُ فِيهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ 'দুনিয়া বিষয়টাই তুচ্ছ। তার বড়ও ছোট। তার চূড়ান্ত লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং ধন-সম্পদ লাভ। আর রাষ্ট্রের কর্ণধারের চূড়ান্ত লক্ষ্য ফেরাউনের মত (খোদায়ী দাবী) যাকে কিনা প্রতিশোধ স্বরূপ আল্লাহ তা'আলা সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন এবং সম্পদশালীর লক্ষ্য কারূনের মত হওয়া। তাকে আল্লাহ মাটির নীচে পুঁতে দেবেছিলেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত সে মাটির নীচে যেতে থাকবে'।৬২
৮. রাষ্ট্রক্ষমতা ত্যাগের বদলে আল্লাহ যে নে'মত দেবেন তা নিয়ে চিন্তা করা :
ইবনু রজব বলেছেন, মহান আল্লাহ তাঁর আধ্যাত্মিক সাধক বান্দাদেরকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সম্পদ ও মর্যাদার বদলে দুনিয়াতেই তাক্বওয়া ও আধ্যাত্মিক শক্তি দান করেন। যার ফলে অন্য সব মানুষ তাদের সমীহ করে চলে। এতো গেল তাদের বাইরের দিক, আর ভিতর দিক থেকে আল্লাহ্র মা'রেফাত, ঈমান ও আনুগত্যের মজা উপভোগ করেন। এটাই সেই পবিত্র জীবন যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক নর-নারীকে দিয়েছেন। এ জীবনের স্বাদ দুনিয়াতে কোন রাজা-বাদশাহ ও রাষ্ট্রীয় পদাধিকারীরা কখনো পায়নি। এজন্যই ইবরাহীম ইবনু আদহাম (রহঃ) বলেছেন, لو يعلم الملوك وأبناء الملوك ما نحن فيه لجالدونا عليه بالسيوف –‘রাজা-বাদশাহ ও তাদের সন্তানেরা যদি আমরা কী মজা ও সুখে-শান্তিতে আছি তা জানত, তাহ'লে তারা তা লাভের জন্য তলোয়ার নিয়ে আমাদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হ'ত।৬৩
৯. মানুষের লক্ষ্য হবে দ্বীনের খেদমত এবং সর্বাবস্থায় সৃষ্টির কল্যাণ সাধন করা:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ وَعَبْدُ الدَّرْهَم وَعَبْدُ الْخَمِيصَةِ، إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ، وَإِنْ لَمْ يُعْطَ سَخِطَ، تَعِسَ وَانْتَكَسَ، وَإِذَا شِيكَ فَلَا انْتَقَشَ، طُوبَى لِعَبْدِ آخِذٌ بِعِنَانِ فَرَسِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَشْعَثَ رَأْسُهُ مُغْبَرَّةٍ قَدَمَاهُ، إِنْ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ، وَإِنْ كَانَ فِي السَّاقَةِ كَانَ فِي السَّاقَةِ، إِنِ اسْتَأْذَنَ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ، وَإِنْ شَفَعَ لَمْ يُشَفَعْ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'দীনারের দাস ধ্বংস হোক, দিরহামের দাস ধ্বংস হোক, রেশমী বস্ত্রের দাস ধ্বংস হোক। তাকে দেওয়া হ'লে সে খুশী হয়। আর না দেওয়া হ'লে নাখোশ হয়। সে ধ্বংস হোক, ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তার পায়ে কাঁটা ফুটলে তা বের করা না যাক। সুখময় হোক সেই মানুষের জীবন, যে তার ঘোড়ার লাগাম ধরে আল্লাহ্র পথে সংগ্রাম ও যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তার মাথার চুলগুলো হয়ে যায় আলু থালু, আর পা দু'টো হয়ে যায় ধূলিমাখা। যদি সে নিরাপত্তারক্ষী দলে থাকে তো সেই দলেই থাকে, আবার পশ্চাৎবাহিনীতে থাকে তো পশ্চাৎবাহিনীতেই থাকে। (সে এতটাই অখ্যাত যে) সে কোন কিছুর অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেওয়া হয় না এবং কোন সুফারিশ করলে তার সুফারিশ গৃহীত হয় না'।৬৪
ইবনু হাজার বলেছেন, 'যদি নিরাপত্তারক্ষী দলে প্রয়োজন বেশী দেখা দেয় তাহ'লে সে সেখানে কাজ করে। আর যদি পশ্চাৎ বাহিনীতে প্রয়োজন বেশী পড়ে তো সে সেখানে কাজে লেগে যায়'।
ইবনুল জাওযী বলেছেন, إِنْ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ কথাটির অর্থ সে অখ্যাত-অজ্ঞাত মানুষ। কোন সময় সে বড় বা উঁচু পদ চায় না। সুতরাং তাকে সফর করতে বলা হলে, সফর করে। অর্থাৎ যখন যে কাজের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন সে সে কাজ করতে শুরু করে। অতএব যেন সে বলে, যদি নিরাপত্তারক্ষী দলে থাকা প্রয়োজন হয়, তো আমি নিরাপত্তারক্ষী দলে থাকব। আর যদি পশ্চাৎবাহিনীতে থাকার প্রয়োজন হয়, তো আমি সেখানেই অবস্থান করব। রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী, إِنِ اسْتَأْذَنَ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ وَإِنْ شَفَعَ لَمْ يُشْفَعْ এ কথার মধ্যে রাষ্ট্রক্ষমতাপ্রীতি, খ্যাতি লাভের মানসিকতা পরিত্যাগ করা এবং অখ্যাতি ও বিনয়-নম্র জীবনের মাহাত্ম্য ফুটে উঠেছে'।৬৫
১০. রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করতে চেষ্টা করা :
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَسْتَرْعِى اللهُ عَبْداً رَعِيَّةً قَلَّتْ أَوْ كَثُرَتْ إِلَّا سَأَلَهُ اللهُ عَنْهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَقَامَ فِيهِمْ أَمْرَ اللَّهِ أَمْ أَضَاعَهُ حَتَّى يَسْأَلَهُ عَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ خَاصَّةً -
ইবনু ওমর (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, 'আল্লাহ তা'আলা কোন বান্দাকে কোন জাতির- চাই তাদের সংখ্যা কম হোক কিংবা বেশী হোক, শাসক বানালে ক্বিয়ামতের দিন তিনি অবশ্যই তাকে তাদের সম্পর্কে একথা জিজ্ঞেস করবেন যে, সে কি তাদের মধ্যে আল্লাহ্র বিধান বাস্তবায়ন করেছিল, না করেনি? এমনিভাবে শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে বিশেষভাবে তার বাড়ীর লোকদের বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন'।৬৬
আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) (ছাহাবীদেরকে লক্ষ্য করে) বলেন, إِنْ شِئْتُمْ أَنْبَأْتُكُمْ عَنِ الْإِمَارَةِ، قَالُوا: وَمَا هي؟ قَالَ : أَوَّلُهَا مَلَامَةً ، وثَانِيهَا نَدَامَةً ، وثَالِتُهَا عَذَابٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، إِلَّا مَنْ عَدَلَ 'তোমরা চাইলে আমি তোমাদেরকে রাষ্ট্রনায়কের প্রদত্ত দায়িত্ব ও তার অবস্থা বর্ণনা করতে পারি। এ পদের প্রথমে রয়েছে তিরষ্কার। দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে অনুশোচনা এবং তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে ক্বিয়ামত দিবসের মহাশাস্তি। তবে যে ইনছাফ বা ন্যায়নীতি অবলম্বন করবে সে এসব থেকে রেহাই পাবে'।৬৭
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, لَيَتَمَنَّيْنَّ أَقْوَامٌ وُلُّوْا هَذَا الأَمْرَ أَنَّهُمْ خَرُّوا مِنَ الثَّرَيَّا وَأَنَّهُمْ لَمْ يَلُوْا شَيْئًا 'শাসকের দায়িত্ব পালনকারী বহু মানুষ (ক্বিয়ামত দিবসে) এই কামনা করবে যে, শাসকের কিছুমাত্র দায়িত্ব পালন না করার জন্য যদি তাদের সপ্তর্ষিমণ্ডল থেকেও নীচে ফেলে দেওয়া হয়। তাহ'লে সেটাও তাদের জন্য অনেক ভাল'।৬৮
১১. ব্যক্তির নিজের মর্যাদা জানা :
ক্ষমতালিপ্স ব্যক্তি যদি নিজের মর্যাদা বা যোগ্যতা যাচাই করতে পারে, তাহ'লে সে বুঝতে পারবে যে, এই কাজের ভার বহনের ক্ষমতা তার আছে কি-না? যদি সে বুঝতে পারে যে, সে এ দায়িত্ব পালনের যোগ্য নয়, তাহ'লে সে অগ্রসর হবে না।
عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا أَبَا ذَرٍّ إِنِّي أَرَاكَ ضَعِيفًا وَإِنِّي أُحِبُّ لَكَ مَا أُحِبُّ لِنَفْسِي لَا تَأَمَّرَنَّ عَلَى اثْنَيْنِ وَلَا تَوَلَّيَنَّ مَالَ يَتِيمِ -
আবু যার (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, 'হে আবু যার! আমার দৃষ্টিতে তুমি একজন দুর্বল মানুষ। আর আমি তোমার জন্য ভালবাসি, যা নিজের জন্য ভালবাসি। সুতরাং তুমি কখনই দু'জন লোকেরও নেতা বা শাসক হয়ো না এবং কখনই ইয়াতীমের মালের তত্ত্বাবধায়ক হয়ো না'।৬৯
ইমাম কুরতুবী (রহঃ) বলেছেন, এখানে দুর্বল অর্থ আমীরের উপর জনগণের জাগতিক ও দ্বীনী কল্যাণমূলক যে যে দায়িত্ব রয়েছে তা পালন সম্পর্কিত দুর্বলতা। তাঁর এ দুর্বলতার কারণ দুনিয়ার প্রতি তাঁর অনাসক্তি এবং ইবাদত-বন্দেগীতে অধিক মনোনিবেশ। এ ধরনের লোক জনকল্যাণ ও দুনিয়ার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগী হ'তে পারে না। অথচ এই দু'টি জিনিসের রক্ষণাবেক্ষণের উপর দ্বীন ইসলামের কার্যকারিতা (বহুলাংশে) নির্ভর করে। নবী করীম (ছাঃ) যখন তাঁর এ অবস্থা জানলেন তখন তাঁকে নছীহত করলেন এবং নিষেধ করলেন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন ও ইয়াতীমের মালের তত্ত্বাবধান করতে।৭০
১২. শাসক নিজে আল্লাহ্র অধিক প্রশংসা ও গুণগান করবেন এবং অন্যদেরও তা করতে আদেশ দিবেন :
ইবনু রজব বলেছেন, রাসূলগণের খলীফাগণ এবং তাঁদের অধীনস্থ ন্যায়পরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচারকমণ্ডলী কখনই নিজেদের সম্মান-ইয্যত করার দাবী করতেন না। বরং মানুষ যাতে এক আল্লাহ্র তা'যীম করে; একমাত্র তাঁরই ইবাদত-বন্দেগী করে সে দাবীই জানাতেন। বরং অনেকে তো কেবলমাত্র আল্লাহ্র দিকে আহ্বান জানাতে সহযোগিতা লাভের মানসে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করতেন।
কোন কোন ন্যায়পরায়ণ লোক বিচারকের পদ গ্রহণ করতেন এবং বলতেন, আমি কেন বিচারকের পদ গ্রহণ করব না? আমি তো এ পদের দ্বারা সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধে সাহায্য করতে পারি।
এ কারণে রাসূলগণ ও তাঁদের অনুসারীরা আল্লাহ্র রাস্তায় মানুষকে আহ্বান জানাতে সকল প্রকার কষ্টে ধৈর্যধারণ করতেন। তাঁরা আল্লাহ্র বিধানাবলী বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মানুষের দেওয়া সীমাহীন কষ্ট বরদাশত করতেন এবং তারা ধৈর্যধারণ করতেন। বরং তাতে তাঁরা খুশীই হ'তেন। প্রেমিক তো প্রেমাস্পদের সন্তোষ লাভ করতে গিয়ে যে কষ্ট পায় তাতে সে মজাই উপভোগ করে। যেমনটা ওমর ইবনু আব্দুল আযীয তাঁর খিলাফতকালে আল্লাহ্র অধিকার ও ইনছাফ প্রতিষ্ঠায় তৎপর হন তখন তাঁর পুত্র আব্দুল মালিক তাঁকে বলেন, 'আব্বু, আমার মন চাই যে, আল্লাহ্র ভালবাসায় আমি ও আপনি ডেগচিতে সিদ্ধ হই'। [অর্থাৎ আল্লাহ্র জন্য আগুনে পোড়ার মত কষ্টও সহ্য করি। আল্লাহ্র বিধান বাস্তবায়নে নানাবিধ বাঁধার মুকাবিলা করতে গিয়ে তিনি এমনটা বলেছিলেন]।৭১
১৩. নিজের পদ ও সুনাম-সুখ্যাতিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা :
আর সেটা মুখাপেক্ষী মানুষদের জন্য সুফারিশ এবং তাদের প্রয়োজন পূরণের চেষ্টার মাধ্যমে। ইবনু আবু ইয়া'লা বলেন, আবু মুযাহিম মূসা ইবনু ওবায়দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খাক্বান বলেছেন যে, আমাকে আমার পিতা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমি হাসান ইবনু সাহলের নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি এসে তার একটি প্রয়োজন পূরণার্থে হাসানকে সুফারিশ করতে বলল। হাসান তার প্রয়োজন পূরণ করলেন। লোকটি তখন তাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে গেল। তখন হাসান ইবনু সাহল তাকে বললেন, কি জন্য তুমি আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছ? আমরা তো মনে করি পদ-পদবীর যাকাত রয়েছে। যেমন করে অর্থ-কড়ির যাকাত রয়েছে। তারপর তিনি আবৃত্তি করলেন,
فُرِضَتْ عَلَيَّ زَكَاةُ مَا مَلَكَتْ يَدِي ... وَزَكَاةُ جَاهِي أَنْ أُعِينَ وَأَشْفَعَا
فَإِذَا مَلَكْتَ فَجُدْ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ ... فَاجْهَدْ بِوُسْعِكَ كُلِّهِ أَنْ تَنْفَعَا
'আমার সম্পদে আমার উপর যাকাত ফরয করা হয়েছে। অন্যদিকে আমার পদের যাকাত হ'ল অন্যের সহযোগিতা ও সুফারিশ করা। সুতরাং তুমি যখন রাজা-বাদশাহ হবে তখন দান করবে। তা না পারলে তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বতোভাবে অন্যের উপকার করতে চেষ্টা করবে'।৭২
১৪. আল্লাহ বান্দার অন্তরে পদের প্রতি যে ভালবাসা সৃষ্টি করেছেন তা সঠিক ক্ষেত্রে ব্যয় করা :
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, পদের ক্ষমতা কাজে লাগানোর যথার্থ স্থান রয়েছে। তা হচ্ছে আল্লাহ্র বিধি-বিধান ব্যস্তবায়নে কাজ করা, দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা, অত্যাচারিত ব্যক্তির সহযোগিতা, দুর্বলদের সাহায্য করা, আল্লাহ্র শত্রুদের উৎখাত করা ইত্যাদি। এরূপ হ'লে রাষ্ট্রক্ষমতা ও পদ প্রীতি ইবাদত বলে গণ্য হবে।৭৩
১৫. পূর্বসূরি নেককারদের জীবনী অধ্যয়ন ও শিক্ষা গ্রহণ :
আমের ইবনু সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ) তাঁর উটের পাল চরাচ্ছিলেন। এমন সময় তাঁর ছেলে ওমর তাঁর কাছে আসল। তাকে দেখে সা'দ বলে উঠলেন, এই আরোহীর অনিষ্টতা থেকে আমি আল্লাহ্র আশ্রয় চাচ্ছি। সে বাহন থেকে নেমে বলল, আপনি ছাগল, উট নিয়ে পড়ে আছেন। আর জনগণকে ছেড়ে দিয়েছেন, যারা রাষ্ট্র নিয়ে ঝগড়া করছে? সা'দ (রাঃ) তার বুকে তখন করাঘাত করে বললেন, চুপ কর। আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعَبْدَ التَّقِيُّ الْغَنِيُّ الْخَفِيَّ 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা সেই বান্দাকে ভালবাসেন, যে পরহেযগার, ধনী এবং নির্ঝন্‌ঝাট জীবন যাপন করে'।৭৪
ইমাম নববী (এ হাদীছের ব্যাখ্যায়) বলেছেন, এখানে ঐশ্বর্য বলতে মনের ঐশ্বর্যকে বুঝানো হয়েছে। এই ঐশ্বর্যই কাম্য। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, وَلَكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ অর্থাৎ 'মনের প্রাচুর্যই আসল প্রাচুর্য'।৭৫
আর الخفي শব্দের অর্থ অপরিচিত, অজ্ঞাত মানুষ যে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল আল্লাহ্র ইবাদতে এবং নিজের ব্যক্তিগত কাজকর্মে মশগুল থাকে।৭৬
কখনও কেউ বড় কোন কল্যাণার্থে নিজে পদত্যাগ করেন এবং অন্যকে পদ লাভের সুযোগ করে দেন। যেমন হাসান ইবনু আলী (রাঃ) খিলাফতের দাবী মু'আবিয়া (রাঃ)-এর অনুকূলে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এক ভবিষ্যদ্বাণীতে নবী করীম (ছাঃ) এজন্য তার প্রশংসা করে গিয়েছেন।
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ إِلَى جَنْبِهِ، وَهُوَ يُقْبِلُ عَلَى النَّاسِ مَرَّةً وَعَلَيْهِ أُخْرَى وَيَقُولُ إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ، وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُصْلِحَ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ عَظِيمَتَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ -
আবু বাকরা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে মিম্বরের উপর দেখেছি। এমতাবস্থায় হাসান ইবনু আলী তার পাশে ছিলেন। একবার তিনি জনতার দিকে তাকাচ্ছিলেন, আরেকবার তার দিকে। এমতাবস্থায় তিনি বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আমার এই পুত্র একজন নেতা। সম্ভবতঃ আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলমানদের দু'টি বড় দলের মধ্যে সমঝোতা করে দিবেন'।৭৭
আব্দুর রহমান মুবারকপুরী (রহঃ) বলেছেন, এটি নবী করীম (ছাঃ)-এর একটি বড় মু'জিযা। তিনি যেমনটা বলে গিয়েছিলেন, তেমনই ঘটেছিল।৭৮
পূর্বসুরি নেককারদের কেউ কেউ তার থেকে উপযুক্ত কাউকে দেখলে নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া থেকে বহু বহু দূরে রাখতেন। যেমন আবুবকর (রাঃ)-এর খলীফা হওয়া এবং ছাহাবীদের তাঁর হাতে বায়'আত হওয়ার ঘটনার মধ্যে এর বড় প্রমাণ রয়েছে।
ওমর (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আবুবকর (রাঃ) ভাষণ দিলেন। তখন তিনি বললেন, وَقَدْ رَضِيتُ لَكُمْ أَحَدَ هَذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ ، فَبَايِعُوا أَيُّهُمَا شِئْتُمْ. فَأَخَذَ بِيَدِي وَبِيَدِ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ وَهُوَ جَالِسٌ بَيْنَنَا، فَلَمْ أَكْرَهُ مِمَّا قَالَ غَيْرَهَا ، كَانَ وَاللَّهِ أَنْ أَقَدَّمَ فَتُضْرَبَ عُنُقِى لا يُقَرِّبُنِي ذَلِكَ مِنْ إِثْمٍ، أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَأَمَّرَ عَلَى قَوْمٍ فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ - ‘আমি তোমাদের জন্য খলীফা হিসাবে এই দু'জনকে পসন্দ করছি। তোমরা তাদের যাকে পসন্দ কর তার হাতে বায়'আত কর। তিনি আমার ও আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ-এর হাত ধরলেন। এর আগে তিনি আমাদের (দু'জনের) মাঝে বসা ছিলেন। তিনি যদি এ কথা বাদে অন্য কিছু বলতেন তাহ'লে হয়ত আমার তা অপসন্দ হ'ত না। আল্লাহ্র কসম! যে জাতির মধ্যে আবুবকর রয়েছেন সেই জাতির আমীর বা রাষ্ট্রপ্রধান আমাকে নির্বাচন করার তুলনায় যদি আমার গর্দানও কাটা যায় আর তাতে আমার কোন পাপ না হয়, তবে সেটাই আমার নিকট সবচেয়ে ভাল লাগত'।৭৯
এমনই আরেকটি ঘটনা- ওমর ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) যখন খলীফার আসনে আসীন হ'লেন, তখন পুলিশ প্রধান ভূতপূর্ব খলীফাদের যেভাবে বর্শা হাতে কর্ডন করে মসজিদে নিয়ে যেতেন নিয়মমাফিক তাকেও সেভাবে নিতে এলেন। ওমর (রহঃ) তাকে দেখে বললেন, আমাকে তোমার কী প্রয়োজন? তুমি আমার নিকট থেকে সরে যাও। আমি তো একজন সাধারণ মুসলিম বৈ কিছুই নই। তারপর তিনি যাত্রা শুরু করলেন। তারাও তাঁর সাথে সাথে চলল। অবশেষে মসজিদে ঢুকে তিনি মিম্বরে দাঁড়ালেন। লোকেরা তাঁর পাশে জমা হ'লে তিনি বললেন, হে লোক সকল! খিলাফতের এ গুরুদায়িত্ব আমার কাঁধে চেপে বসেছে। অথচ এ ব্যাপারে আমার কোন মতামত নেয়া হয়নি। আমার পক্ষ থেকে কোন দাবীও তোলা হয়নি। আবার মুসলমানদের সাথেও কোন পরামর্শ করা হয়নি। আমি আমার প্রতি তোমাদের বায়'আতের যে বাধ্যবাধকতা আছে তা প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। সুতরাং তোমাদের ইচ্ছামত একজনকে তোমরা তোমাদের নিজেদের ও দেশ পরিচালনার জন্য নির্বাচন করে নাও। সমবেত মুসলমানরা তখন চিৎকার করে এক বাক্যে বলল, আমরা আপনাকেই আমাদের জন্য ও দেশ পরিচালনার জন্য নির্ধারণ করলাম। আমরা সবাই আপনার প্রতি রাযী-খুশী। তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং তাদের সামনে ভাষণ দিলেন।৮০
একবার খলীফা ওমর ইবনু আব্দুল আযীযের স্ত্রী ফাতিমা তাঁর সাথে দেখা করেন। তিনি তখন তাঁর ছালাতের পাটিতে গালে হাত দিয়ে বসা ছিলেন। তাঁর দু'গাল বেয়ে চোখের পানি ঝরে পড়ছিল। তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, আমীরুল মুমিনীন, কোন কারণ বশত কি এরূপ করছেন? তিনি বললেন, হে ফাতিমা! মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উম্মাতের শাসনের গুরুদায়িত্ব আমার কাঁধে নিয়েছি। আমি ভাবছি দেশের আনাচে-কানাচে সর্বত্র কত ক্ষুধার্ত, অভাবী, মুমূর্ষু রোগী, কষ্ট-ক্লেশভোগী বস্ত্রহীন, লাঞ্ছিত, অত্যাচারিত, পরদেশী বন্দী, বৃদ্ধ, পোষ্যভারাক্রান্ত ইত্যাদি কত অসহায় মানুষ যে আছে! আমি জানি যে, আমার প্রভু অচিরেই আমাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। আর তাদের পক্ষে আমার বিরুদ্ধে বাদী হবেন স্বয়ং নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)। আমার ভয় হচ্ছে- তাঁর এই মামলার সময় আমার পক্ষ থেকে জবাব দেওয়ার মত কোনই দলীল-প্রমাণ আমার থাকবে না। তাই আমার নিজের উপর করুণা করে আমি কাঁদছি।৮১
১৬. দো'আ :
عَنْ مَعْقَلِ بْنِ يَسَارٍ قال : انْطَلَقْتُ مَعَ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ: يَا أَبَا بَكْرٍ ! لَلشَّرْكُ فِيكُمْ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ. فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَهَلِ الشَّرْكُ إِلَّا مَنْ جَعَلَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَلشَّرْكُ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ، أَنَا أَدُلُّكَ عَلَى شَيْءٍ إِذَا قُلْتَهُ ذَهَبَ عَنْكَ قَلِيلُهُ وَكَثِيرُهُ؟
হযরত মা'কাল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আবুবকর ছিদ্দীক্ব (রাঃ)-এর সাথে নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেন, হে আবুবকর! পিঁপড়ার গতির ক্ষীণ শব্দ থেকেও অতি সংগোপনে শিরক তোমাদের মাঝে লুকিয়ে থাকতে পারে। আবুবকর (রাঃ) বললেন, শিরক তো কেবল তারাই করে যারা আল্লাহ্র সঙ্গে অন্যকে মা'বৃদ বা প্রভু গণ্য করে। নবী করীম (ছাঃ) তখন বললেন, যার হাতে আমার জীবন তার শপথ! পিঁপড়ার ক্ষীণ শব্দ থেকেও অতি সংগোপনে শিরক তোমাদের মাঝে লুকিয়ে থাকতে পারে। আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাতলে দেব, যাতে তোমার কাছ থেকে তার কম-বেশী সবই দূর হয়ে যাবে? তারপর তিনি বললেন, তুমি বলবে اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أَشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ 'হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি আমার জ্ঞাতসারে তোমার সঙ্গে শিরক করা থেকে এবং তোমার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি আমার অজ্ঞাতসারে শিরক করা থেকে'।৮২
কথা এ পর্যন্তই। আর আল্লাহ্র নিকট আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদেরকে আমাদের জন্য যে কাজটা যথাযথ তা করতে ক্ষমতা দেন।

টিকাঃ
৪৮. শারহু হাদীছ মা যিবানে জায়ে'আনে, পৃঃ ৮০।
৪৯. বুখারী হা/৭১৪৯; মুসলিম হা/১৭৩৩ (১৪); মিশকাত হা/৩৬৮৩।
৫০. আলবানী, ছহীহুল জামে হা/১০৩, সনদ হাসান।
৫১. মুসলিম হা/১৮২৫; মিশকাত হা/৩৬৮২।
৫২. মুসলিম হা/১৮২৬; আবুদাঊদ হা/২৮৬৮; নাসাঈ হা/৩৬৬৭; মিশকাত হা/৩৬৮২।
৫৩. তিরমিযী হা/৩৮০১ আলবানী, হাদীছ ছহীহ; মিশকাত হা/৬২২৯; ইবনু তায়মিয়াহ, আস-সিয়াসাতুশ শারঈয়াহ, পৃঃ ১৬।
৫৪. ইবনু হিব্বান, রাওযাতুল উকালা ওয়া নুযহাতুল ফুযালা, পৃঃ ২৭৫।
৫৫. তিরমিযী হা/২৪৯২ আলবানী, হাদীছ হাসান; আহমাদ হা/৬৬৭৭; মিশকাত হা/৫১১২।
৫৬. শারহু হাদীছ মা যিবানে জায়ে'আনে, পৃঃ ৭৩-৭৫।
৫৭. মাজমূ' ফাতাওয়া ১০/১৮৯।
৫৮. রাওযাতুল উকালা ওয়া নুযহাতুল ফুযালা, পৃঃ ২৭৭।
৫৯. বুখারী 'ইলম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ১৫, ১/১৪০।
৬০. ত্বাবাকাতুল হানাবিলাহ ১/১৪০।
৬১. শারহু হাদীছ মা যিবানে জায়ে'আনে, পৃঃ ৭২।
৬২. মাজমূ' ফাতাওয়া ২৮/৬১৫ পৃঃ।
৬৩. শারহু হাদীছ মা যিবানে জায়ে'আনে, পৃঃ ৭৬।
৬৪. বুখারী হা/২৮৮৭; মিশকাত হা/৫১৬১।
৬৫. ফাহুল বারী ৬/৮২-৮৩, হা/২৭৩০-এর আলোচনা।
৬৬. আহমাদ হা/৪৬৩৭, শু'আইব আরনাউত, হাদীছ ছহীহ।
৬৭. ত্বাবারাণী হা/৬৭৪৭; ছহীহুল জামে' হা/২৩০০; ছহীহাহ হা/১৫৬২।
৬৮. আহমাদ হা/১০৭৪৮; ছহীহ তারগীব হা/২১৮০; ছহীহাহ হা/২৬২০।
৬৯. মুসলিম হা/১৮২৬; মিশকাত হা/৩৬৮২।
৭০. সুনানুন নাসাঈ (সুয়ূত্বীর টীকা সহ) ৬/২৫৫।
৭১. শারহু হাদীছে মা যিবানে জায়ে'আনে, পৃঃ ৪৫-৪৬।
৭২. অফায়াতুল আ'য়ান ২/১২০।
৭৩. আত-তিবইয়ান ফী আকসামিল কুরআন, পৃঃ ২৫৯।
৭৪. মুসলিম হা/২৯৬৫; মিশকাত হা/৫২৮৪।
৭৫. বুখারী হা/৬৪৪৬; মুসলিম হা/১০৫১; মিশকাত হা/৫১৭০।
৭৬. নববী, শরহে মুসলিম হা/২৯৬৫-এর ব্যাখ্যা, ১৮/১০০।
৭৭. বুখারী হা/২৭০৪; মিশকাত হা/৬১৩৫।
৭৮. তুহফাতুল আহওয়াযী ১০/১৮৯।
৭৯. বুখারী হা/৬৮৩০।
৮০. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৯/২৩৮।
৮১. যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৫/১৩১।
৮২. ইমাম বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৭১৬, আলবানী, হাদীছ ছহীহ।

📘 নেতৃত্বের মোহ > 📄 শেষ কথা

📄 শেষ কথা


আমাদেরকে যেন তিনি তাদের দলভুক্ত করেন, যারা তাকে মান্য করে এবং তার সন্তোষ লাভের আশায় কাজ করে। সকল প্রশংসা তো আল্লাহ্রই, যিনি তামাম সৃষ্টির প্রতিপালক।

**শেষ কথা :**
বড়ই আফসোস! আমরা দেখতে পাচ্ছি, বর্তমানে বহু লোক রাষ্ট্রক্ষমতা, উঁচু পদ ও মর্যাদা লাভের জন্য নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-লড়াইয়ে লিপ্ত। তাদের এখন একটাই চিন্তা দাঁড়িয়েছে কী করে তারা প্রেসিডেন্ট, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ইত্যাদি শীর্ষপদ অধিকার করবে। এসব লাভ করতে তারা এমন সব হীন কৌশল অবলম্বন করছে যাতে মুসলমানদের মাঝে বিচ্ছিন্নতা, বিশৃঙ্খলা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে।
রাষ্ট্রক্ষমতা প্রীতির এহেন ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ায় নিঃসন্দেহে জাতির শক্তি ক্ষয় হচ্ছে। বিরোধের সীমা বেড়ে চলেছে। ব্যক্তিগত কল্যাণ ও সুযোগ-সুবিধার চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ গৌণ হয়ে পড়ছে। যার ফলে আজ ব্যক্তি, সমাজ ও মুসলিম উম্মাহ বড়ই দুর্ভোগ ও মহাক্ষতির শিকার হয়ে পড়েছে।
এহেন পতনদশা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে আল্লাহ তা'আলার গ্রন্থ আল-কুরআন, তাঁর নবীর সুন্নাত এবং প্রথম যুগের নেককার মানুষদের জীবনধারায় ফিরে যেতে হবে।
আল্লাহ তা'আলার নিকট আমরা সত্যপথ ও সঠিক কর্মপন্থার জন্য প্রার্থনা জানাই। আল্লাহ যেন রহমত ও শান্তি বর্ষণ করেন আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ), তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর ছাহাবীদের সকলের উপর।
--0--
سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك، اللهم اغفر لي ولوالدي وللمؤمنين يوم يقوم الحساب
***

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00